সত্যের সন্ধান (লৌকিক দর্শন) – ০৫

সত্যের সন্ধান
ভূমিকা
মূলকথা
প্রথম প্রস্তাব
দ্বিতীয় প্রস্তাব
তৃতীয় প্রস্তাব

চতুর্থ প্রস্তাব অনেক বড়। পুরোটা একসাথে টাইপ করে পোস্ট করতে অনেক দেরী হয়ে যাবে। ভাগে ভাগে প্রকাশ করাটাই ভাল হবে। আজ প্রথম অংশ দিলাম।

* অনুগ্রহপূর্বক কোন প্রকার ভুল পেলে তা মন্তব্যে প্রকাশ করুন।

চতুর্থ প্রস্তাব
— আরজ আলী মাতুব্বর
[ধর্ম বিষয়ক-১]

১। আল্লাহ মানুষকে পরিবর্তন না করিয়া ঝঞ্ঝাট পোহান কেন?
      আল্লাহ সর্বশক্তিমান। তিনি ইচ্ছা করিলে অসম্ভবও সম্ভব করিতে পারেন। মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য যদি ইহাই হয় যে, মানুষ তাঁহার এবাদত বন্দেগী করিবে, তাহা হইলে তিনি সমস্ত মানবকে দিয়া তাঁহার উদ্দেশ্য পালন করাইতে পারেন না কি? পারিলে তাহা না করিয়া তিনি মানুষের দ্বারা হেদায়েতের ঝঞ্ঝাট পোহান কেন? ইহাতে কি তাঁহার আসল উদ্দেশ্যের ব্যাঘাত ঘটিতেছে না? হযরত ইব্রাহিম, মুসা, ও মোহাম্মদ (দ.)-কে কোন মানুষ হেদায়েত করে নাই, করিয়াছেন আল্লাহতায়ালা। কিন্তু নমরুদ, শাদ্দাদ, ফেরাউন, আবু জাহেল ইত্যাদি কাফেরদিগকে তিনি হেদায়েত করিলেন না কেন? তিনি স্বেচ্ছায় হেদায়েত করিলেন না, না, করিতে পারিলেন না?

২। ভাগ্যলিপি কি অপরিবর্তনীয়?
      যদিও মানুষ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অজ্ঞ, তবু কর্মফলে বিশ্বাস আছে বলিয়াই সে জগতের সকল রকম কাজকর্ম করিয়া যাইতেছে্ সমাজ ও রাষ্ট্র কর্মফলকে ভিত্তি করিয়াই গঠিত হইয়াছে এবং ‘কর্মফল আছে’ বলিয়াই উহারা টিকিয়া আছে। রাষ্ট্র ও সমাজ মানুষকে শিক্ষা দিতেছে – কর্ম কর, ফল পাইবে। কিন্তু ধর্ম শিক্ষা দিতেছে ইহার বিপরীত। ধর্ম বলিতেছে – কর্ম করিয়া যাও, ফল অদৃষ্টে (তকদীরে) যাহা লিখিত আছে, তাহাই পাইবে। এক্ষেত্রে মানুষ কর্ম করিল বটে, কিন্তু ফল রহিল ভগবানের কাছে ভাগ্যলিপিতে নিবদ্ধ। মানুষ জানিল না যে, সে তাহার কাজের ফল পাইবে কি না। কর্মফলের নিশ্চয়তা থাকিলে সন্দিগ্ধ মনেও কাজ করা চলে। যেহেতু তাহাতে মানুষ ভাবিতে পারে যে, হয়ত সে তাহার কাজের ফল পাইতেও পারে। কিন্তু ধর্ম বলে – কর্ম যা কিছুই কর না কেন, ফল নির্ধারিত যাহা আছে, তাহাই পাইবে, একটুও এদিক ওদিক হইবে না। তাহই যদি হয়, অর্থাৎ কর্মের দ্বারা ভাগ্যলিপি পরিবর্তিত না হয়, তবে কর্ম করিয়া লাভ কি? বিশেষত মানুষের কৃত ‘কর্মের দ্বারা ফলোৎপন্ন’ না হইয়া যদি ঈশ্বরের নির্ধারিত ‘ফলের দ্বারা কর্মোৎপত্তি’ হয়, তবে ‘সৎ’ বা ‘অসৎ’ কাজের জন্য মানুষ দায়ী হইবে কেন?

      মনে করা যাক – কোন এক ব্যক্তির ভাগ্যলিপিতে লেখা আছে যে, সে ‘নারকী’। এখন সে নির্ধারিত ঐ ফলোৎপাদক কার্য, যথা – চুরি, ডাকাতি, নরহত্যা ইত্যাদি করিবে না কি? যদি করে, তবে তাহা সে কাহার ইচ্ছায় করে? নিজের ইচ্ছায়, না ভগবানের ইচ্ছায়? আর যদি সে কোন পাপ-কর্ম না করিয়া পুণ্য কর্মই করে, তবে তাহার ভাগ্যলিপির ‘নারকী’ শব্দটি কাটিয়া, স্বর্গবাসী এই শব্দটি লেখা হইবে কি? যদি না-ই হয়, তবে হেদায়েতের তম্বিটি কি লৌকিক? আর যদি হয়, তবে ভবিষ্যৎজান্তা ভগবান এই পরিবর্তনের সংবাদ পূর্বাহ্নে জানিয়া প্রথমবারেই অকাট্য তালিকা প্রস্তুত করেন নাই কেন?

      ভাগ্যলিপি অপরিবর্তনীয় হইলে স্বয়ং ভগবানও উহা মানেন কি না। যদি না মানেন, তবে তিনি উহা লিখিয়াছিলেন কেন? আর যদি মানেন, তবে তিনি লিপি প্রস্তুতির সময় স্বাধীন হইলেও বর্তমানে স্বাধীন হন কিরূপে? ভগবানের বর্তমান কর্তব্য কি শুধু তালিকা দেখিয়া দেখিয়া জীবকুলকে দিয়ে কার্য করান? তাহাই যদি হয়, তবে বিশ্বস্রষ্টার আশু কর্তব্য কিছুই নাই?

৩। আদমের পাপ কি?
      আলেমগণ বলিয়া থাকেন যে, আদম সৃষ্টির উদ্দেশ্য হইল এই যে, আল্লাহ তাঁহার দ্বারা পৃথিবী মানুষপূর্ণ করিবেন এবং শেষপয়গম্বর হযরত মোহাম্মদ (দ.)-এর দ্বারা ইসলাম প্রচার করাইবেন ইত্যাদি। এই সমস্ত পরিকল্পনাই নাকি ভাগ্যলিপির অন্তর্ভুক্ত। আদমকে বেহেস্তে রাখিয়া তাঁহাকে গন্দম খাইতে যে নিষেধ করা হইয়াছিল, সে নিষেধ কি খোদাতা’লার আন্তরিকতাপূর্ণ ছিল? আদম গন্দম খাইয়া প্রকারান্তরে আল্লাহর ইচ্ছাই পূর্ণ করিলেন। যে কাজ ভাগ্যলিপির অনুকূল এবং আল্লাহর ইচ্ছাকে পূর্ণ করে, তাহাতে পাপ কি? পক্ষান্তরে আদম যদি গন্দম না খাইতেন, তাহা হইলে মাহফুজের (লিপিফলকের) যাবতীয় লিপিই বরবাদ হইত না কি? অর্থাৎ পৃথিবীতে মানবসৃষ্টি, বেহেস্ত, দোযখ, হাশর ময়দান ইত্যাদির পরিকল্পনা সমস্তই মাঠে মারা যাইত না কি?

৪। শয়তান কি?
      শয়তানের সহিত কোন মানুষের প্রত্যক্ষ পরিচয় না থাকিলেও তাহার নামটির সাথে যথেষ্ট পরিচয় আছে। ‘শয়তান’ – এই নামটি এত ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হইতেছে যে, হাটে, মাঠে, কোর্ট-কাছারীতে, দোকান, স্কুল-কলেজ, ওয়াজের মাহফিল ইত্যাদির সবর্ত্র এবং নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ, এমনকি অনেক হিন্দুও ‘শয়তান’ নামটি ব্যবহার করিয়া থাকেন। কেহ, কেহ, এমনও বলিয়া থাকেন যে, “ব্যাটা ভারী শয়তান”।

      ‘শয়তান’ কথাটির ধাতুগত অর্থ যাহাই হউক, উহাকে সমাজের যাবতীয় দুষ্কর্মের কারক হিসাবেই লোক ব্যবহার করিতেছে।

      ধর্মাধ্যায়ীগণ বলিয়া থাকেন যে, শয়তান পূর্বে ছিল ‘মকরম’ বা ‘ইবলিস’ নামক বেহেস্তবাসী একজন প্রথম শ্রেণীর ফেরেস্তা এবং অতিরিক্ত মুসল্লি। মকরম সেখানে খোদাতালার হুকুমমত আদমকে সেজদা না করায় ‘শয়তান’ আখ্যা পাইয়া চিরকাল মানুষকে অসৎ কাজের প্ররোচনা দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করিয়া পৃথিবীতে আসে এবং সে অদ্যাবধি নানাবিধ উপায়ে অসৎ কাজে প্ররোচনা বা দাগা দিয়া বেড়াইতেছে।

      আদম ও বিবি হাওয়াকে দাগা দিয়াছিল শয়তান একা। কিন্তু আদমের বংশবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শয়তানেও কি বংশবৃদ্ধি হইতেছে? না হইলে দাগাকাজ সুচারুরূপে চলে কি রকম?

      কেহ কেহ বলেন যে, শয়তানেও বংশবৃদ্ধি হয় এবং উহা মানুষের চেয়ে দশগুণ বেশী। কারণ প্রতিগর্ভে সাধারণত মানুষ জন্মে একটি, আর শয়তান জন্মে দশটি করিয়া। তাহাদের নাম হয় যথাক্রমে – জ্বলিতন, ওয়াছিন, নফছ, আওয়াম, আফাফ, মকার, মহুদ, দাহেম, ওল-হান ও বার্ ইহারা ক্ষেত্রবিশেষে থাকিয়া বিশেষ বিশেষ দাগাকার্য সম্পন্ন করিয়া থাকে। অধিকন্তু ইহাদের মানুষের মত মরণ নাই। কেয়ামতের দিন মানবজাতি যখন কায় পাইবে তখন ইহাদের মৃত্যু ঘটিবে।

      জন্ম-মৃত্যুর ঠেকাঠুকিতেও বর্তমানে পৃথিবীতে মানুষ টিকিয়া আছে প্রায় তিনশ কোটি। আর মানুষের চেয়ে দশগুন বৃদ্ধি পাইয়া শয়তানের সংখ্যা কত? আদম হইতে আজ পর্যন্ত যত লোক জন্মিয়াছে তাহারা যদি সকলেই জীবিত থাকিত, তাহা হইলে লোকসংখ্যা যত হইত, বোধ হয় যে, কোন ভাষার সংখ্যা দ্বারা তাহা প্রকাশ করা যাইত না। পৃথিবীতে বর্তমানে শয়তানের সংখ্যা তাহারই দশগুণ বেশী নয় কি? ইহাতে মনে হয় যে, পৃথিবীর জলে, স্হলে ও বায়ুমন্ডলে শয়তান গিজগিজ করিতেছে এবং প্রতিটি মানুষের পিছনে লাখ লাখ শয়তান দাগা দিয়া বেড়াইতেছে।

      এত অসংখ্য শয়তান মানবসমাজকে পাপের পথে অহরহ প্ররোচিত করিতেছে, কিন্তু শয়তানের সংখ্যা চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পাইলেও অসৎকাজের মাত্রা ঐ অনুপাতে বাড়িতেছে না, বরং মানবিক জ্ঞান ও সভ্যতা বৃদ্ধিরর সাথে সাথে অসৎকাজের মাত্রা ক্রমশ হ্রাস পাইতেছে। এখনও দেখা যায় যে, শিক্ষিতের সংখ্যা ও শিক্ষায়তনের সংখ্যা ক্রমশ বাড়িতেছে বৈ কমিতেছে না। ন্যায়নিষ্ঠ সাধুপুরুষদের সংখ্যাও নগণ্য নহে। লন্ডন শহরে নাকি এমন দোকানও আছে, যেখানে বিক্রেতা নাই। অথচ ক্রেতাগণ উচিত মূল্য দিয়াই জিনিসপত্র ক্রয় করিতেছে। আবার কোন রকম হারান জিনিস প্রাপ্ত হইয়াও কেহ তাহা আত্মসাৎ করে না। বরং লন্ডন ট্রান্সপোর্ট লস্ট প্রপার্টি অফিসে উহা জমা দিয়া থাকে, সেখান হইতে জিনিসের মালিক তাহা ফেরত পাইয়া থাকে।১০ সেখানে কি শয়তান কম?

      ধর্মপ্রচারকদের বর্ণনা শুনিয়া মনে হয় যে, ফেরেস্তাগণ সবাই নপুংসক। মকরমও তাহাই ছিল ‘লানত’ বা অভিশাপ প্রাপ্তির সময়ও মকরম একাই ছিল এবং নপুংসক ছিল। তৎপর তাহার বংশবৃদ্ধির জন্য লিঙ্গভেদ হইল কখন? শুধু ইহাই নহে, শয়তানের বংশবৃদ্ধি সত্য হইলে, প্রথমত তাহার ক্লীবত্ব ঘুচাইয়া পুংলিঙ্গ গঠনাস্তে একটি স্ত্রী-শয়তানেরও আবশ্যক ছিল। বাস্তবিক কি শয়তানেও স্ত্রী আছে/ আর না থাকিলে্ই বা তাহার বংশবৃদ্ধির উপায় কি?

      ‘শয়তানের দাগা’ বলিতে কি শুধু রোজা-নামাজের শৈথিল্যই বুঝায়, না চুরি, ডাকাতি, বদমায়েশী, নরহত্যা ইত্যাদিও বুঝায়? যদি যাবতীয় অসৎকার্য শয়তান কর্তৃকই অনুষ্ঠিত হয়, তবে জাতিভেদে অসৎ কাজের মাত্রাভেদ হয় কেন? অর্থাৎ, যে কোন দেশের সম্প্রদায়সমূহের জনসংখ্যার অনুপাতে অপরাধী বা কারাবাসীর সংখ্যা হওয়া উচিত। কিন্তু তাহা না হইয়া সম্প্রদায় বা জাতিবিশেষের মধ্যে কারাবাসীর সংখ্যাধিক্য কেন?

      জীবজগতে দেখা যায় যে, মাংসাশীগণ উগ্রস্বভাববিশিষ্ট এবং নিরামিষাশীরা শান্ত। গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ, হাঁস-মোরগ, কবুতর, ইত্যাদি প্রাণী মাংসাশী নহে, ইহারা শান্ত। অথচ ব্যাঘ্র, সিংহ, শৃগাল, কুকুর, কাক, চিল ইত্যাদি প্রাণীকূল মাংসাশী এবং উগ্রস্বভাববিশিষ্ট। এ কথাও স্বীকার্য যে, স্বভাবের উগ্রতায় নানা প্রকার অঘটন ঘটিয়া থাকে। ইহাও দেখা যায় যে, মানব সমাজের ভিতর যে জাতি অতিরিক্ত মাংসাশী, সেই জাতির মধ্যেই অতিরিক্ত দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও নরহত্যা অনুষ্ঠিত হয়। এই সকল গর্হিত কাজের উৎপাদক কি শয়তান, না মাংস আর উত্তেজক মসল্লা?

      বলা যাইতে পারে যে, কোন কোন দেশের মানুষ মাংসাশী হইয়াও বেশ শান্ত-শিষ্ট ও সংযমী। ইহার কারণ এই নয় যে, সে দেশে শয়তানের উপদ্রব কম বা সে দেশের মাংসে উত্তেজনাশক্তি নাই। ইহার কারণ এই যে, এইরুপ কোন জাতি নিরক্ষাঞ্চলের অধিবাসী নহে। অধিকাংশই হিমাঞ্চলের বাসিন্দা। দেশের শীতকালই তাহাদের স্বভাবের উগ্রতা প্রশমিত করিয়া রাখে।

      সুধীগণ বলেন যে, মানুষের মধ্যে ছয়টি আধ্যাতিক শত্রু আছে। উহারা ষড়রিপু নামে পরিচিত। যথা == কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য। ইহাদের তাড়নায় মানুষ নানাবিধ অসৎকাজ করিয়া থাকে। যে কোন উপায়ে হউক, ইহাদিগকে দমন করিতে পরিলে মানুষ নিষ্পাপ হইতে পারে।

      মানোবিজ্ঞানীগণ বলেন যে, সভ্যতার ঊষালোক পইবার পূর্বে আহার-বিহারে মানুষ ও ইতর জীবের মনোবৃত্তির বিশেষ পার্থক্য ছিল না। সে সময়ের মানুষের মন ছিল কৃত্রিমতাহীন, সরল ও স্বাধীন। তখন মানুষ তাহার যে কোন ইচ্ছা বা প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করিতে পারিত। তখন প্রবৃত্তিই ছিল মানুষের যথাসর্বস্ব। জ্ঞান উন্মেষের সাথে সাথে মানুষ প্রথম দলবদ্ধ ও পরে সমাজবদ্ধ হইয়া বসবাস করিতে শুরু করে। এই দল বা সমাজকে রক্ষা করিতে আবশ্যক হইল ত্যাগ ও সংযমের। আদিতে এই ত্যাগ ও সংযম ছিল স্বেচ্ছাধীন। ক্রমে যখন সভ্যতা বৃদ্ধি পাইতে লাগিল, তখন তাহার দল বা সমাজের বন্ধন দৃঢ় করার জন্য সংযমকে বাঁধিল নীতি ও নিয়মের শৃঙ্খলে। ইহাতে মানুষের সেই স্বাধিন প্রবৃত্তিগলিকে সু ও কু – এই দুইভাগে বিভক্ত করিয়া সু প্রবৃত্তিগুলিকে স্বাধীনই রাখা হইল, কিন্তু কু প্রবৃত্তিগুলিকে করা হইল কারারুদ্ধ। কারাবাসী কুপ্রবৃত্তিগুলিকে মনের অন্ধকার কারাকক্ষে ঘুমাইয়া রহিল। মনের যে অংশে সেই রুদ্ধপ্রবৃত্তি বাস করে, বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় তাহাকে বলা হয় অচেতন মন বা নির্জ্ঞান মন (Unconscious Mind)।

      মানুষ তাহার জাতিগত জীবনের হাজার হাজার বৎসরের পুরাতন অচেতন মন স্বরুপ মূলধন (উত্তরাধিকার সূত্রে) লইয়া প্রথিবীতে জন্মগ্রহণ করে এবং ব্যক্তিগত জীবনে মানুষ যে সকল অশুভ কামনা সমাজের নীতি, ধর্মের বিধান ও রাষ্ট্রের শাসনের ভয়ে চরিতার্থ করিতে পারে না, তাহাও ক্রমে বিস্মৃতির অতুলগর্ভে ডুবিয়া গিয়া অচেতন মনে স্হান লয়। অচেতন মনে রুদ্ধপ্রবৃত্তিগুলি সময় সময় জাগ্রত হইয়া কারারক্ষীকে ফাঁকি দিয়া বাহিরে আসে এবং সুপ্রবৃত্তিগুলিকে যে শক্তি অবরুদ্ধ করিয়া রাখে, তাহাকে কারারক্ষী (Censor) বলা হয়। কারাবন্দী কুপ্রবৃত্তিগুলি সময় সময় জাগ্রত হইয়া কারারক্ষীকে ফাঁকি দিয়া বাহিরে আসে এবং সুপ্রবৃত্তিগুলির সহিত মেলামেশা করিয়া তাহাদিগকে বিপথে চালিত করে। ইহা হইতে মানব সমাজের যত কিছু বিড়ম্বনা। মানুষের যাবতীয় অশুভচিন্তা ও অসৎকাজের উদ্যোক্তা এই অচেতন মন।

      এতদ্বিষয পর্যালোচনা করিলে বুঝা যায় যে, যাবতীয় অসৎকাজের উদ্যোক্তা মানুষের অভ্যন্তরীণ রিপুসমূহ, বাহিরের কিছু নয়। তবে কি মানুষের কু-প্রবৃত্তিগুলিকেই শয়তান বলা হয়, না মানবদেহাতিরিক্ত স্বতন্ত্র সত্তাবিশিষ্ট শয়তান-এর কোন প্রমাণ পাওয়া যায়?

মুক্তমনার সৌজন্যে ইউনিকোড বাংলায় লিখিত।
নিশাচর

টীকাসমূহ
১০. বিলেতে সাড়ে সাতশো দিন, মু. আ. হাই, পৃষ্ঠা. ১৪১, ১৪২

About the Author:

বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র।

মন্তব্যসমূহ

  1. Asadul Kabir এপ্রিল 25, 2014 at 1:14 অপরাহ্ন - Reply

    বই গুলো কোথায় পাওয়া যায়?

  2. নিশাচর ডিসেম্বর 15, 2010 at 11:14 অপরাহ্ন - Reply

    সবাইকে ধন্যবাদ। :rose:

  3. সংশপ্তক নভেম্বর 14, 2010 at 9:29 পূর্বাহ্ন - Reply

    মানুষ যেমন কষ্ট করিয়া সংগম করিয়া তৃপ্তি লাভ করে।আল্লাহ তদ্রুপ মানুষকে হেদায়েত না করিয়া তৃপ্তি লাভ করিয়া থাকেন।simple.

  4. সুমিত দেবনাথ নভেম্বর 13, 2010 at 3:01 অপরাহ্ন - Reply

    আরজ আলি মাতুব্বরকে মানুষের কাছে পরিচিত করে দেওয়ার প্রয়াসকে আমি সাধুবাদ জানাই। উনাকে এবং উনার সত্যের সন্ধানকে মানুষ আরও ভাল করে জানুক। আর যারা উনাকে অশিক্ষিত চাষা ভূষা বলে তাদের মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়ুক।

  5. সৈকত চৌধুরী নভেম্বর 13, 2010 at 1:25 অপরাহ্ন - Reply

    :yes: চালিয়ে যান। আপনার এই শ্রম বৃথা যাবার কোনোই কারণ নেই। :rose:

    • নিশাচর নভেম্বর 13, 2010 at 1:43 অপরাহ্ন - Reply

      @সৈকত চৌধুরী,

      আপনাদের অনুপ্রেরণাই আমার চালিকাশক্তি। ধন্যবাদ।

  6. জয়েন্টু নভেম্বর 13, 2010 at 12:00 অপরাহ্ন - Reply

    আরজ আলী মাতুব্বব্রের কথা শুনিনি, কখনো উনার বই পড়িনি ও বটে। গত বছর ঘটনাচত্রুএ এক বন্ধু বলল যে আরজ আলী মাতুব্বব্রের কথা, যিনি নাকি প্রায়ই মানবতা নিয়ে কথা বলতেন, মনুষত্ববোধকে গুরুত্ব দিতেন। তারপর উনার প্রকাশিত “সত্যের সন্ধান (১৯৭৩)” বইটি পড়ি -আমার চিন্তার সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। বুঝতে কি আর বাকি -এক সত্যিকার মানুষতো শুধু এক মানুষ হিসেবে মনুষ্যত্ববোধকে খুজঁতে চান আটাঁবিহীনভাবে। এসব মানুষেরা দূঃখকে সঙ্গী বানিয়ে আসল জীবনে উদ্দেশ্যকে জানতে এবং বুঝতে চেষ্টা করেন। এসব মানুষদেরকেই সুধী কিংবা গুণীজন বলা যেতে পারে। এনারাই মানুষের আসল স্বার্থকতাকে উপলদ্ধি করেন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে।

    :yes: চলুক –ভালো লাগে এসব পড়লে।

  7. স্বাধীন নভেম্বর 12, 2010 at 11:03 অপরাহ্ন - Reply

    আরেকটি কথা, প্রতিটি লেখা আরজ আলী মাতুব্বর হিসেবে ট্যাগ করে দিতে পারেন। তাহলে পরে কেউ ট্যাগ দিয়ে সবগুলো পর্ব একসাথে পেয়ে যাবে। মডারেটররা আগের পর্বগুলোতে ট্যাগটি করে দিতে পারেন। মডারেটরদের একটি ইমেইল করে জানিয়ে দিলে উনার ব্যবস্থা নিতে পারবেন আশা করি। অথবা এই ট্যাগটি একটি ট্যাগ হিসেবে তৈরি করে দেওয়া যেতে পারে।

    • নিশাচর নভেম্বর 15, 2010 at 1:06 পূর্বাহ্ন - Reply

      @স্বাধীন,

      সবগুলো পোস্ট ট্যাগ করে দিয়েছি। ধন্যবাদ।

  8. স্বাধীন নভেম্বর 12, 2010 at 10:59 অপরাহ্ন - Reply

    চলুক সিরিজটি :yes: ।

    • নিশাচর নভেম্বর 13, 2010 at 1:41 অপরাহ্ন - Reply

      @স্বাধীন,

      চলবে। 🙂

  9. লীনা রহমান নভেম্বর 12, 2010 at 10:03 অপরাহ্ন - Reply

    অনেক দিন পর এই পর্ব পেলাম। পেয়ে ভাল লাগল। 🙂

    • নিশাচর নভেম্বর 13, 2010 at 1:40 অপরাহ্ন - Reply

      @লীনা রহমান,

      আপনাকে ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

  10. অভিজিৎ নভেম্বর 12, 2010 at 10:22 পূর্বাহ্ন - Reply

    চলুক সিরিজটি…

    • নিশাচর নভেম্বর 12, 2010 at 12:19 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎদা,

      ধন্যবাদ। চলবে।

      • গোলাপ নভেম্বর 13, 2010 at 7:01 পূর্বাহ্ন - Reply

        @নিশাচর,
        আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এমন একটি শ্রমসাধ্য কাজ হাতে নেয়ার জন্য। নেটে প্রকাশের ফলে আরজ আলী মাতুব্বরের জ্ঞানগর্ভ লিখা হাজার হাজার পাঠকের কাছে পৌঁছতে পারবে। আপনাকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন।

        • মুক্তমনা এডমিন নভেম্বর 13, 2010 at 10:15 পূর্বাহ্ন - Reply

          @গোলাপ,

          আপনি লগ ইন করে মন্তব্য করতে পারেন। আপনার ইমেইলে লগ ইন করার তথ্য পাঠানো হয়েছিল, যদি না পেয়ে থাকেন কিংবা লগইন করতে সমস্যাবোধ করে থাকেন, তবে মডারেটরের সাথে যোগাযোগ করুন।

          লগইন করে মন্তব্য করলে মন্তব্য মডারেশনে এপ্রুভের জন্য পড়ে থাকে না, সাথে সাথে এপ্রুভ হয়ে যায়।

          • গোলাপ নভেম্বর 13, 2010 at 10:24 অপরাহ্ন - Reply

            @মুক্তমনা এডমিন,
            আপনার পাঠানো পাস ওয়ার্ডে লগ ইন করতে পারছি না, জানাচ্ছে “ভুল পাস ওয়ার্ড”। সমাধান জানান, প্লীজ।

          • গোলাপ নভেম্বর 13, 2010 at 10:43 অপরাহ্ন - Reply

            @মুক্তমনা এডমিন,
            এখন মনে হয় ‘পাস ওয়ার্ড’ কাজ করছে।
            Test করছি।

  11. মোজাফফর হোসেন নভেম্বর 11, 2010 at 11:42 অপরাহ্ন - Reply

    বেশ ভালো বিশ্লেষণ। প্রশ্নগুলো সবার ভেবে দেখা দরকার। ধন্যবাদ।

  12. নিশাচর নভেম্বর 11, 2010 at 1:15 অপরাহ্ন - Reply

    পুনশ্চ: রাসেল (Russell) ভাই কোন একটি অংশ টাইপ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। আপনি কি আদৌ কোন অংশ টাইপ করছেন? :-/ করে থাকলে মেইল করে দিলে খুব উপকার হয়। আর ইদানীং শুরু করলে পঞ্চম প্রস্তাব থেকে করুন।

    • Russell নভেম্বর 13, 2010 at 2:32 পূর্বাহ্ন - Reply

      @নিশাচর,

      আন্তরিকভাবে দুঃখিত, আমি নতুন কাজ পেয়েছিলাম তার কয়েকদিন পরেই, আর কাজের এত চাপ -সকালে যেয়ে রাতে ঘরে ফিরা, …পরবর্তিতে আর লেখার কথাটা মনেও ছিলনা, আমি প্রথম দুইদিনে তিন পৃষ্ঠা শেষ করেছিলাম। সম্ভবত আমার লেখা ছিল ১৭ পৃষ্ঠার।

      আমাকে ক্ষমা করবেন, কথা দিয়ে কথা রাখতে পারিনি। আমি তাও চেষ্টা করছি বাকিটুকু আপনাকে লিখে দিতে।

      ধন্যবাদ

      • নিশাচর নভেম্বর 13, 2010 at 1:38 অপরাহ্ন - Reply

        @Russell,

        আপনি যতদূর করবেন, ততটুকু আমাকে পাঠিয়ে দেবেন। কয়েক পৃষ্ঠা শেষ করেছেন শুনে ভাল লাগল। আপনি পঞ্চম প্রস্তাব হতে টাইপিং চালিয়ে যান যখন সময় পান।

        আপনাকে ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন