@মুক্তমনার প্রোসায়েন্স সদস্যবৃন্দ-

হয়তো অন্যান্য সহসদস্যদের চিত্তবিনোদনের দিকটা খেয়াল করেই হবে, মুক্তমনা দেখা যাচ্ছে দু-একটি ধর্মবাদী মাপেটের অবাধ-স্বাধীন বিচরণ ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করে সবসময় এখানে। এইরকমই একটি মাপেট কিছুদিন আগে বিশাল বড় এক গালভর্তি দাবী নিয়ে হাজির হয়েছিলো। তার দাবীটি ছিলো নিন্মরূপ-

“কোরান বলে নুহু ৯০০ বছর বেঁচে ছিলেন আবার আধুনিক বিজ্ঞানের বলে আমরা জানি এটা কোনভাবেই সম্ভব নয় (বস্তুত একশো ট্রিলিয়ন কোষসম্বৃদ্ধ মানবশরীরকে গড় আয়ু ৭৭ বছর বেঁচে থাকার জন্য ১০^১৬ টি কোষ বিভাজনের ভেতর দিয়ে যেতে হয়, প্রতি মাইটোসিসে মিউটেশনের হার গড়ে চারটি তাই ৪x১০^১৬ টি মিউটেশন জমে জমে মানুষের গড় আয়ুষ্কাল ৭৭ বছরের মধ্যে অর্জন করে অন্তত একটি ম্যালিগ্নেন্ট ক্যান্সার জন্ম দেওয়ার এতোটাই শক্ত সম্ভাবনা যে প্রতি তিন জনে একজন আমরা ক্যান্সারের সাথে বসবাস করতে যাচ্ছি এবং ক্যান্সারে মারা পড়তে যাচ্ছি প্রতি পাঁচ জনে একজন। আয়ুষ্কাল ৯০০ বছর হলে কয়শোবার নুহু ক্যান্সারে মারা পরতো সেটা মাপেটই বরং হিসাব করে বের করুক)। কিন্তু আমার প্রাণের গ্রন্থ কোরান তো ভুল বলতে পারে না। একইভাবে ভুল বলতে পারেনা বিজ্ঞানও, আমি চাই কি না চাই নির্বিশেষে যেটি কিনা আমাকে দিয়েছে পর্যাপ্ত খাদ্য, বাসস্থান, যানবাহন, ভ্যাক্সিন ও এন্টিবায়োটিক এবং আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে আর যা যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছুই। তাই এমন একটি ফঁন্দি নিয়ে আমি হাজির হয়েছি যেটা একইসাথে কোরান ও বিজ্ঞান এই দুটি কুলই রক্ষা করে। আমার ফঁন্দিটি হচ্ছে- আগের যুগে যদি পৃথিবী সূর্যের চারপাশে আরও জোরে বাইবাই করে ঘুরতো, তবেতো বছরের দৈর্ঘ্য হতো অনেক কম। ফলে আমার নুহুর পক্ষে সম্ভব হতো বিজ্ঞানকে লঙ্ঘন না করেই ৯০০ বছর বেঁচে থাকা, আমারও রক্ষা পেতো দুই কুল। এবং যেহেতু বিজ্ঞান এখনও অপ্রমান করেনি আমার অলস মস্তিষ্কের এই অদ্ভুত ফ্যান্টাসি যে- আগের যুগে সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর বাইবাই গতি ঠিক ততোটাই বেশী ছিলো যতোটুকু বেশী হলে কিনা আমার নুহুর পক্ষে সম্ভব হয় খাপেখাপে ঠিক ৯০০ বছর বেঁচে থাকা, তাই আমার এই ফ্যান্টাসিই এখনও পর্যন্ত সত্য। কোনকালে আমার ফ্যান্টাসি মিথ্যা প্রমানিত হলে, ওয়েল ঠিক একইরকমই আরেকটি নতুন ফ্যান্টাসি ফেঁদে হাজির হবো আমি।”

আমি মরে যাচ্ছিলাম মাপেটকে এই তথ্যটা জানিয়ে দিতে যে, ভূগোলে যথেষ্ট দখল নেই বলে আমি যদি এমনকি সম্পুর্ণ অগ্রাহ্যও করি যে- বছরের দৈর্ঘ্যের যেমন খুশী তেমন বাড়া কমা সম্ভব হলে আমাদের পরিবেশের উপর সেটার যেই ভয়ঙ্কর একটি প্রভাব পড়তো; তারপরও এটা সম্ভব নয় শুধুমাত্র শুষ্ক তাপগতিসূ্ত্রের কারণেই। যেকোন বলের প্রভাবে একটি কেন্দ্রের পাশে ঘূ্র্ণায়মান একটি বস্তু তার কক্ষপথ পরিবর্তন করতে পারবে কেবলই যদি ওই ব্যাবস্থা শক্তিপ্রদত্ত হয়। ধনাত্নক শক্তি প্রদান করা হলে ঘূ্র্ণায়মান বস্তু নিন্মশক্তি কক্ষপথে প্রবেশ করবে বা ঘূ্র্ণনকেন্দ্র হতে দূরে সরে যাবে আর ঋণাত্নক শক্তি প্রদান করা হলে বা শক্তি অপসারণ করা হলে সেটা উচ্চশক্তি কক্ষপথে প্রবেশ করবে বা ঘুর্ণনকেন্দ্রের কাছাকাছি সরে আসবে, সাধারণ তাপগতিসূ্ত্র। সূ্র্যের চারপাশে ঘূ্র্ণায়মান পৃথিবী ব্যাবস্থাটিতে পৃথিবী কোথা হতে শক্তিপ্রদত্ত হচ্ছে যে এটি সময়ে সময়ে চাওয়ামাত্রই নিজের কক্ষপথ পরিবর্তন করতে পারছে সেটি জিজ্ঞেস করার মতো একটি প্রশ্নই বটে, যদি কিনা আমরা শক্তির সংরক্ষণ সূ্ত্রের সাথে পরিচিত হয়ে থাকি এবং পরিচিত হয়ে থাকি এই তথ্যের সাথে যে সৌরব্যাবস্থায় (বস্তুত সকল স্টেলার সিস্টেমেই) শক্তির একমাত্র উতস সূর্যই। তারপরও যদি আমরা ধরে নেই, শক্তিমান আল্লার যাদুকরী মন্ত্রপাঠ সূচীত রেজোনেন্স শক্তি সেই সময় শক্তির একটি উৎস রূপে কার্যকর ছিলো, তারপরও কিন্তু একটি বিশাল বাগড়া সাধে নিউটোনিয় বলবিদ্যার কেন্দ্রবাদী বল তত্ব।

পৃথিবীর ভর ৬x১০^২৪ কেজি, সূর্যের ভর ২x১০^৩০ কেজি এবং এদের মধ্যকার গড় দুরত্ব ১.৫x১০^১১ মিটার হলে তাদের মধ্যকার মহাকর্ষ বল হবে ৩.৫x১০^২২ নিউটন(f=G.m1.m2/r^2)। এবং নুহুকে ৯০০ বছর বেঁচে থাকতে হলে পৃথিবীকে সূ্র্যের চারপাশে ৯০০ বার ঘুর্ণন সম্পন্ন করতে হবে। এবং মাপেটের মতানুসারে এখনকার এক বছর সময়দৈর্ঘ্যকয়ে নুহের যুগের ৯০০ বছরের সমান হতে হলে সূর্যেকয়ে প্রদক্ষীণরত পৃথিবীর গতিবেগ হতে হবে বর্তমান সময়ের চেয়ে ৯০০ গুন বেশী যা কিনা দাঁড়ায় সেকেন্ডে ২.৭x১০^৫ মিটারে, সাধারণ পাটীগনিত। এখন, একটি নির্দৃষ্ট ভরের একটি বস্তু একটি নির্দিষ্ট গতিবেগে যদি সূর্যকয়ে কেন্দ্র করে ঘুরতে চায় তবে তার কক্ষপথ ঐ বিন্দু থেকে কতো দূ্রে হবে সেটা কিন্তু আমরা এই f=m.v^2/r সূ্ত্র ধরে নির্ণয় করতে পারি। ফলে সেকেন্ডে ২.৭x১০^৫ মিটার গতিবেগে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরতে চাইলে তার কক্ষপথ হবে সূর্য থেকে ১.২x১০^১৩ মিটার দূরে, যেটা কিনা প্লুটোর কক্ষপথের চেয়েও এক অর্ডার অফ ম্যাগ্নিচিউড বেশী দূ্রে, সূর্য থেকে প্লুটোর গড় দুরত্ব ৬x১০^১২ মিটার। আসলেই যদি নুহুর গল্পকে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে মিলিয়ে দিতে চাওয়া হয় তবে ফলাফল হয় গিয়ে এটা। এখানে লক্ষণীয় মাপেটের দুটি চলকের উপরই কাচি চালানোর অধিকার আছে মাত্র, পৃথিবীর কেন্দ্রবাদী ভর ও গতিবেগ। গতিবেগের উপর কাচি চালালে আমরা যেমন সৌরজগতের বাইরে চলে যাই, একইভাবে ভরের উপর যদি মাপেট কাচি চালায় তবে হয়তো আমরা বুধেরও কাছাকাছি চলে যাবো সূ্র্যের। নুহুকে বিজ্ঞানের সাথে মিলালে হয় আমরা পাবো তরল নাইট্রোজেন তাপমাত্রায় শীতলায়িত নুহু অথবা ৪০০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ভাজা কুড়কুড়ে মুড়মুড়ে নুহু।

এই আংশিক তবে কষ্টার্জিত ও মূ্ল্যবান জ্ঞানের উপর আমরা ১০০% আত্নবিশ্বাস স্থাপন করতে পারি। এই মূ্লনীতির কারণেই সৌরজগত টিকে আছে; এই মূ্লনীতির কারণেই ইউরেনিয়ামের যথাযোগ্য আইসোটোপ মিশ্র আঁকড় থেকে আলাদা করা সম্ভব হয় আল্ট্রাসেন্ট্রিফিউজ যন্ত্রে, পারমানবিক চুল্লী এবং দুঃখজনক হলেও সত্যি, পারমানবিক বোমা বানানোর কাজে; এই মূ্লনীতির কারণেই একটি লাইসকৃত কোষের মিশ্রণ হতে আর্গানেল আলাদা করা সম্ভব; এমনকি বর্ণালীবিশ্লেষন করে ভর নির্ধারণ করা গেছে এমন প্রোটিনও আমরা মিশ্রণ থেকে আলাদা করতে পারি নির্দৃষ্ট জি’তে কেন্দ্রবাদী বল প্রয়োগ করে এই মূ্লনীতির কল্যানে। তথাপিও এই সাধারণ গনিতটি আমি ঐ মাপেটকে দেখাইনি। আমি এটা করিনি কারণ, ইসলাম হচ্ছে এমন একটি ধর্ম বেঁচে থাকার জন্য যার কিনা নিশ্বাসে নিশ্বাসে বিজ্ঞানবিরোধীতা করতে হয়। নানা ধরণের হোকাস পোকাস যুক্তি ফেঁদে তারা তাদের মধ্যযুগীয় রূপকথার গল্পগুলিকে বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেবার চেষ্টা করে শুধুমাত্র এই আশায় যে পরিমাপযোগ্য বাস্তবতায় তাদের ফ্যান্টাসিটি ঠিক কি রূপ ধারণ করবে এটা গণিত কষে দেখার মতো উতসাহী ও শিক্ষিত লোকের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এই জিনিষটা বিক্রি করেই ইসলামকে টিকে থাকতে হয়। এবং ঘৃণ্য, জঘণ্য, আস্তাকুঁড়ের কীট ইসলাম এই জিনিষ বিক্রি করে সেইসব মানুষের কাছে যারা কিনা নির্দোষ সাধারণ মানুষ, উপকারী তথ্যের জন্য একে অপরের বিচক্ষণতার উপর নির্ভর করার জন্য যারা কিনা বিবর্তনতাত্বিকভাবে নির্বাচিত!

কিংবা আমি যদি মাপেটকে দেখাতামও যে তার বিবৃতি বাস্তবতার সাথে কতোটা বাজেভাবে সংঘর্ষে লিপ্ত, মাপেটকি তার অলস কল্পনাবিলাস পরিত্যাগ করে গণিতকে গ্রহন করতো? নাকি লজ্জাহীনভাবে ঘোষণা দিতো আজ থেকে একশো বছর পরে তোমার গণিতই ভুল প্রমানিত হবে, আমার আল্লার কথাই ঠিক থাকবে? কিংবা সে যদি এমনকি গণিতকে গ্রহনও করতো কিভাবে লাভজনক হতো সেটা গণিতের জন্য? যদি কিছু লাভ হয়েও এমনকি থাকতো, তার বিপরীতে ক্ষতি যতোটুকু হতো লাভ-খরচ অনুপাতকে কিকরে সেটা সন্তুষ্ট করতো? কি ক্ষতি হতো? বেশ, ইসলাম তখন বলতো ‘এইযে দেখো ইসলাম কতোটা দাপটশালী যে এর মাথা মুড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় কেন্দ্রবাদী বলতত্বের মতো যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের।’ মাথাটা তার মুড়িয়ে দেওয়া হলেও বিজ্ঞান দিয়ে যে ইসলামকে মোকাবেলা করা হয়েছে নিছক এই ঘটনাটাই ইসলামকে জাতে তুলে দিতো। ব্যাপারটাকে তুলনা করতে পারেন রাজা অষ্টম হেনরী যদি এসে সদরুদ্দি মোল্লার মাথা কামিয়ে দিয়ে যায় তাতে সদরুদ্দির যতোটুকু মূ্ল্যবৃদ্ধি হয় তার সাথে।

বিজ্ঞানকে জাতে উঠতে হয়েছে সাগরের পর সাগর অশ্রু, রক্ত আর ঘাম ঝরিয়ে; তাকে হতে হয়েছে উতপাদনশীল; মহাশূণ্যে রকেট পাঠাতে হয়েছে, কৃত্রিম সার আবিষ্কার করতে হয়েছে, আবিষ্কার করতে হয়েছে যেই কাপড়টি আপনি এখন পড়ে আছেন তা তৈরী করতে পারার প্রযুক্তি, যেই ভ্যাক্সিনপ্রদত্ত প্রতিরোধীতা আপনি আপনার শিরা আর ধমনীতে বয়ে বেড়াচ্ছেন তা, আধুনিক গাইনিকোলজি না থাকলে আপনার জন্ম সম্ভবত হতোনা, আপনি মরে যেতেন এবং খুব সম্ভবত নিজের মাকে সাথে নিয়ে মরতেন, শুধুমাত্র একটি ঔষধ আস্পিরিন আবিষ্কার না হলে আপনার জীবন কতোটুকু যন্ত্রনাদায়ক হতো ভেবে দেখুন, এমনকি এখন যদি আপনি মরেও যান এটা হবে বিজ্ঞান যে কিনা নির্ধারণ করবে কেনো আপনি মারা গেলেন, আপনার মৃত্যু অস্বাভাবিক হলে বিচারালয়ে এর প্রতিবিধান করবে। এটা আপনি পছন্দ করুন আর নাই ই করুন আপনার জীবন দোলনা হতে কবর পর্যন্ত বিজ্ঞানের উপর করুণ করুণভাবে নির্ভরশীল। এবং মানুষকে জীবন্ত পুড়ে মরতে হয়েছে যাতে আপনার জীবন এতোটা স্বাচ্ছন্দপূর্ণ হয়। এর বিপরীতে ইসলামের উতপাদনশীলতা হয়েছে কি? বেশ, ৯/১১ থেকে এই পর্যন্ত ১৬,৩০০ বোমাহামলা। সোজাসাপ্টাভাবে এতো সাধনার বিনিময়ে যেই আধুনিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এসেছে তাকে আমি ইসলামের মতো একটা অকর্মার ঘটি, ঠুঁটো জগন্নাথের মুখোমুখি করিয়ে ইসলামকে বিজ্ঞানের সমান জাতে তুলে দিতে পারি না। এতোটা বর্বর আমি নই।

আমি একজন নব্যনাস্তিক (new atheist) যে কিনা অন্তরের অন্তস্থল হতে সমুন্নত করে ডকিন্স, হিচ্চেন্স, ড্যানেট, হ্যারিস দলের নব্যনাস্তিকতাবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদর্শটি যে বিজ্ঞান বিষয়ে কোন অবস্থাতেই কোন বিজ্ঞানবিরোধীর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া যাবে না। শুধুমাত্র ইসলাম নয় কোন নাস্তিক মাপেটও যদি থেকে থাকে (এবং আছে) অস্থিমজ্জাগতভাবে যে কিনা বিজ্ঞানবিরোধী, তার সাথেও আমি কোন তর্ক করবো না, অন্য কোন বিষয়ে করতে পারি কিন্তু বিজ্ঞান বিষয়ে নয়। একটা ইসলামিস্ট বিজ্ঞানবিরোধীর চেয়ে আমার অন্তর নিংড়ানো ঘৃণা সে বরং খানিকটা বেশীই পাবে। এখানে উল্লেখ্য যে পুরুষদের মধ্যে এদের প্রতি ২৫ জনে একজন যখন একরাতে ঘুমভেঙ্গে উঠে এঞ্জিনা পেক্টোরিসের ব্যাথায় কোঁ কোঁ করতে করতে এম্বুলেন্সে ফোন দিবে যে ‘আমার হার্টএটাক হয়ে যাচ্ছে’ এম্বুলেন্স রাস্তার সব ট্রাফিক থামিয়ে দিয়ে কিন্তু ঠিকই তার কাছে ছুটে আসবে এবং তার কাছের হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগ ঠিকই তৈরী থাকবে তাদের সমস্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে। বিজ্ঞান তাদের নাক বরাবর উষ্টা দিয়ে খেদিয়ে দিয়ে বলবে না ‘মরো গিয়ে এইবার পাষন্ড’ (যদিও সেটা করলেও অন্তত আমার অভিযোগ করার কিছু থাকবে না, অভিযোগ করার থাকবেনা এইরকম দুই-একটা গুঁইসাপকে যন্ত্রনাদায়ক প্যারাসিটামল ওভারডোস করে মেরে ফেললেও) বরং ঠিকই মাতৃস্নেহে জড়িয়ে নিবে এবং সর্বশক্তি নিয়োগ করবে সমাজের একজন সহসদস্যের মৃত্যুকে রোধ করতে।

সর্বপ্রকার বিজ্ঞানবিরোধীতাকে অসন্মান করতে এবং বিজ্ঞানকে ডিফেন্ড করতে আমি যা যা করতে পারি তার একটি সংক্ষিপ্ত সারমর্ম আমার উপরের বক্তব্য। তবে আমার এই কার্যক্রম সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে যে ক্রমবিবর্তমান ইসলামের সাথে পেরে উঠছে না। ইসলামের একটি সাম্প্রতিক অভিনব অভিযোজন হচ্ছে ঠিক বিজ্ঞানেরই ভাষায়, বিজ্ঞানের টার্ম ব্যাবহার করে, ছবি ব্যাবহার করে বিজ্ঞানের মুখে মূত্রত্যাগ করা। এদের সাথে তর্কে লিপ্ত না হয়েই কি এদের নিবারণ করা সম্ভব কোনভাবে? উত্তর হচ্ছে না। এতে যদি তাদের মূ্ল্যবৃদ্ধিও এমনকি হয় তারপরও না। এইখানে আবারও আপনাকে লাভ-খরচ অনুপাত পুনঃপর্যালোচনা করতে হবে। তারা যখন বিজ্ঞানের ভাষাতেই বিজ্ঞানবিরোধীতা করছে তখন কিন্তু বিজ্ঞানকে বিতর্কে না ডেকেই তারা বিজ্ঞানের কাঁধে ভর করে জাতে উঠে যাচ্ছে, আর সাধারণ মানুষকে এটা প্রদর্শন করছে যে দেখো আসল বিজ্ঞান কতোটা ভুল, আর কতোটা সঠিক হচ্ছে আমার এই সুডোবিজ্ঞান। সাধারণ মানুষের কি প্রতারিত হবার যথেষ্ট সম্ভাবনাই থেকে যায় না এই ফাঁদে পা দিয়ে যেই পন্য ইসলাম বেঁচতে চায় তা কিনে ফেলার মধ্য দিয়ে? আবর্জনা ছোঁব না বলে এই ঝঞ্জাট থেকে গুঁটিয়ে থাকা হচ্ছে দুর্ঘটনাবশবর্তী হয়ে শরীর গর্ভবতী শূঁয়োরের প্রসবপরবর্তী প্লাসেন্টা, মিউকাস, পুস আর রক্তে স্নাত হয়ে গেলে পরে ‘ছিঃ নোংড়া’ বলে সেটি ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলা হতে গুঁটিয়ে থাকারই নামান্তর।

হোরাস কিছুদিন আগে ইসলামের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানের অস্ত্রধারণ করে একটি জ্বালাময়ী পোস্ট লিখে। বিজ্ঞানের সহচর্যে ইসলামের জাতে উঠে যাওয়া রোধ করতে আমার মনে হয়েছিলো সেই পোস্টটিকে হতে হতো একটি ‘লাঠি হাতে’ পোস্ট। কিন্তু, এদিকে সনাতন নাস্তিক হোরাসের নিজের অবস্থানটাই এমন একটা পর্যায়ে উঠে গিয়েছে যে চাইলেও তার পক্ষে ‘লাঠি হাতে’ পোস্ট লেখা সম্ভব না। তবে এটা কোন নির্বাচনী চাপের সূচনা করছিলো না এতোদিন কেননা আমারব্লগে হোরাসের লাঠিবিহীন পোস্টের হাতে লাঠি তুলে দেওয়ার জন্য সবসময়ই দুই একজন লাঠিধারী উপস্থিত থাকে। কিন্তু মুক্তমনায় তো এমন কেউ নেই, মুক্তমনার মেজাজটাই যে এরকম। ওদিকে আবার হোরাসের মতো একজন লেখকের পোস্ট যেন ইসলামকে জাতে তুলে না দেয় এটাও নিশ্চিত করা ছিলো অত্যাবশ্যক। তাই আমি দুই একটি মন্তব্য করে পোস্টটিতে ইসলাম যেনো কোন ছাড় না পেয়ে যায় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিলাম এবং অপ্রত্যাশিতভাবে লীনা রহমানের সহায়তাও পেয়ে গিয়েছিলাম সেই কাজে। এর ফলাফল হয়েছে কি? বেশ, সাম্প্রতিক সময়ে আপনি যদি সদালাপে গিয়ে থাকেন তবে দেখবেন একটি পোস্টে ৩৫ টি মন্তব্য পড়ে আছে। সদালাপের সক্রিয় সংখ্যা যদি আমরা এমনকি পাঁচ জনও ধরে নেই এরমানে প্রত্যেকের সাতটি করে মন্তব্য করতে হয়েছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে ফলাফল হচ্ছে এই হাইপারএকটিভ সদালাপ।

সদালাপ কি কেউ যদি না জেনে থাকেন, এটা হচ্ছে বাংলা ব্লগস্ফিয়ারের সবচেয়ে ঘৃণ্য কয়েকটি ইসলামিস্টের ‘সদানী’র আলাপ করতে সমবেত হওয়ার স্থান you guess what it rhymes with। তারা তাদের দূর্বল এবং আত্নবিশ্বাসহীন ধার্মিক দেহ আর চিত্ত নিয়ে সবচেয়ে নোংড়া আঘাতটাই হানে সকল নাস্তিকদের প্রতি এবং মুক্তমনার প্রতি। তারা বুলিয়িং করার জন্য বেঁছে নেয় মুক্তমনার মহিলা সদস্যদেরকে শুধুমাত্র এটা জেনে যে এরাই অস্ত্রহাতে নিজেরদের ডিফেন্ড করার লক্ষ্যে সবচেয়ে কম উতসাহী হবার জন্য বিবর্তনতাত্বিকভাবেই নির্বাচিত। এছাড়াও তারা আক্রমন করে সবচেয়ে ভদ্র, সবচেয়ে পলিটিকালি কারেক্ট, সবচেয়ে সহনশীল ও উদারমনা নাস্তিকদেরকেও উপরোক্ত একই কারণে। কিন্তু নাস্তিকরা যদি আবার কালেভদ্রে উল্টোকামড় দেয় তবে নাঁকিকান্না কেঁদে এরা অন্যান্য সকল নাস্তিককে মনে করিয়ে দেয় যে পলিটিকাল কারেক্টনেসের আমিয়পথ হতে কতোটা পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ছে নাস্তিক সমাজ। তারা এটা করে কেননা তারা জানে নাস্তিক যদি পলিটিকাল কারেক্টনেসের মূ্র্তিমান অবতার হিসেবে নিজেদের ডিফেন্ড করার জন্য ‘কি লাভ’ বলে অনিচ্ছায় মুখ গুটিয়ে থাকে, তবে তারাই সবচেয়ে বেশী লাভবান হয়, যা তারা বিক্রি করতে যায় তা সহজে বাজারে ওঠে। আমি দুঃখিত এইরকম পলিটিকাল কারেক্টনেসের রাজদন্ডধারী, অভিজাত, ঘি-মাখনের আদুল-বাদুল নাস্তিক তো আমি না, হতেও চাই নি কোনকালে, যে কিনা স্বার্থপরের মতো মনোভাব প্রকাশ করবে ‘ইসলাম একটি ফাট্টাফাটি ধর্ম যদি কিনা এটা আমার একশো মিটার গোলার্ধে প্রবেশ করা হতে বিরত থাকে’, আর বিজ্ঞান নিয়ে, সাহিত্য, দর্শন নিয়ে গুরুগম্ভীর তাত্বিক আলোচনায় মনোনিবেশ করবে যখন কিনা ইসলাম তার গলার চারপাশে চক দিয়ে দাগ কাটছে, দর্জি যেমন দাগ কেটে নেয় কাপড় কাটার আগে। তাই কালেভদ্রে আমার মতো দু-একটা রাদার হার্শ নাস্তিক যদি কিনা দৃশ্যপটে উঠে আসে মুসলমানেরা তখন নাঁকিকান্না কাঁদে আর বলে যুক্তি দিয়ে তাদের মোকাবিলা করতে। হায়! কোথায় ছিলো ইসলামের এতোটা দৃষ্টিগ্রাহ্য সাবমিশন; তাদের উলম্ফ আস্ফালন ছেড়ে কি কারণে হঠাত হয়ে উঠলো তারা এতটা সাবমিসিভ, প্রশ্ন করা যেতে পারে। আর উত্তরটিও খুবই সহজ ‘অন্ডকোষে ক্যাঁচা খেয়ে।’ পৃথিবীটাই এরকম।

এক দুই লাইনের অবান্তর, হাস্যকর ও নিন্মমানের পোস্ট মুক্তমনায় যেটি পড়লে কিনা এবিউস খেয়ে লেখক হয়রান হয়ে যেতো, তারা সদালাপে অহরহ ছাপায়। একবার না ছাপিয়ে ছাপায় শতবার, অন্যের পোস্টে মন্তব্য হিসেবে। কিন্তু আমরা নাস্তিকরা আমাদের জগতে তাদের নিয়ে একটু হাসি-ঠাট্টা করলে বরাবরের মতোই ঘোঁতঘোঁত করতে করতে জানান দেয় ক্যাঁচাটা তাদের লেগেছে কোথায় এবং অনুনয় বিনুনয় করে যুক্তি ভিক্ষা মাগে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাদেরকে যুক্তি দিবো। আমার যুক্তি দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই বার্তাই আমি সকল ইসলামিস্টের কাছে পৌছাতে চাই যে- যদিও ইসলাম সবচেয়ে ভয় পায় অট্টহাস্যকে; তথাপিও আমার মতো নির্দয় নাস্তিকও কালেভদ্রে তাদের যুক্তির চাহিদাটুকু পুরণ করতে সচেষ্ট অ সহৃদ হতে পারে। আমার যুক্তি হতে যাচ্ছে সদালাপের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট মোর্শেদের সাম্প্রতিক সময়কার বিজ্ঞানবিরোধী অশিক্ষিত আস্ফালনের বিরুদ্ধে। আমি জানিনা আমি কতোটুকু বুঝাতে পারলাম কেনো আমি এটা করছি। তবে সত্যি হচ্ছে করছি। এটার জন্য আমার যদি কোন আবিউস প্রাপ্য থাকে, সেটা মেনে নেওয়ার মতো সৎসাহস ধারণ করি; এটা যদি বাজেভাবে পাঠকের রিজেকশনের সম্মুখীন হয় সেটাও মেনে নিতে কোন সমস্যা বোধ করি না।

@ মোর্শেদ-

প্রথমেই অবগত হও একফোঁটা সন্মান প্রদর্শন করতে রাজি না আমি তোমার প্রতি, তুমি একটা সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন ছেলে। চোখ মেলে চেয়ে তোমাকে দেখতে পেয়ে তোমার মতো অনুজীবের অস্তিত্ব যে আমি স্বীকার করে নিয়েছি এই জন্য তোমার অন্তত পাঁচ ছয় ওয়াক্ত নফল নামাজ তো অবশ্যই পড়তে বসে যাওয়া উচিত। তুমি তোমার কথায় বার্তায় আচরণে হিন্দু ধর্মের লোকজনদের প্রতি শুধু ঘৃণাই ছড়াও না, এমনকি সেই ধর্মটি যারা কিনা ত্যাগও করেছে তাদের প্রতিও ঘৃণা ছড়াও নির্বিচারে। আর এই সবকিছু তুমি করো একবারও চিন্তা না করে যে তুমি নিজে কি। আসলেই তো তুমি নিজে কি, তুমি একটা লোলাইফ মুসলমান জানোয়ার, যেই ধর্মটির নাম শুনলেই কিনা ঘৃণা এবং ভয়ে কুঁচকে কুঁকড়ে যায় সমগ্র পৃথিবীর পাঁচ মহাদেশের মানুষ; যেই ধর্মের নাম উচ্চারিত হলে দৃষ্টিপটে ভেসে উঠে দুটি যমজ শততল ভবন আগুনে জ্বলছে আর তাপ থেকে দূ্রে সরে যাওয়ার জীবগত রিফ্লেক্সে সেই ভবন থেকে শত শত মানুষ ঝাপিয়ে পড়ছে মাটিতে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও, ক্রোধে আর ঘৃণায় যেই ধর্ম ভরিয়ে তোলে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মন, পলিটিকাল কারেক্টনেসের তোড়ে যেইসকল মানুষের মস্তিষ্ক হতে কিনা আমিগডালা হাপিশ হয়ে যায়নি, আবেগ রেসপন্স এখনও অটুট রয়েছে যেসকল মানুষের। আমি জানি কি কুকর্ম করে তুমি মুক্তমনা হতে এতোটা বাজেভাবে উষ্টা খেয়েছিলে যে এখন তোমাকে সদালাপে তোমার হয়রান বাবার ট্রান্সভার্স কোলনের ভেতর বসবাস করতে হয় হেলিকোব্যাক্টার আর স্ট্রেপ্টোকক্কাস, ই.কোলাইদের সাথে। দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থিত ওপেনিংটি দিয়ে কল্লা বাড়িয়ে মাঝে মাঝে তুমি জানানও দেও যে সেখানে বসবাস করে কতোটা ভালো গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি শিখেছো তুমি। আমার মতে, এইসব গ্যাস্ট্রো-ফ্যাস্ট্রো শিকেয় তুলে তুমি যদি তোমার নামাজি মায়ের কোলে বসে দাজ্জালের গল্প শেখো এবং ইংরিজিতে সেই গল্প বর্ণনা করো তোমার সহসদালাপিদের সাথে, দেশ ও দশের খু-উ-ব খু-উ-ব উপকার হয় তাহলে। তুমি বিতর্ক করতে চাও অভিজিত হোরাসের সাথে? অভিজিত হোরাসকে আমি যদি তোমার মতো একটা কোলোস্টমি ব্যাগের সাথে বিতর্ক করতে দেখি তবে সবচেয়ে নোংড়া আঘাতটা হানবো আমিই, এবারও লাভ-খরচ অনুপাত হিসেব করেই। অভিজিত হোরাস পারে না তোমার সাথে বিতর্ক করতে; তুমি হচ্ছো এমন একটা নর্দমার কীট যাকে কিনা বাংলাব্লগস্ফিয়ারের সকলেই ঘৃণা করে, অপরপক্ষে অভিজিত হোরাসকে তোমার মতো দুই একটা জানোয়ার ছাড়া বাংলা ব্লগস্ফিয়ারের সবাই শ্রদ্ধা করে, অপছন্দ করলেও সমীহ করে। ওরা তোমার সাথে তর্ক করলে তুমি তো বলবে ওয়েল এখন থেকে আমি কোন নর্দমার কীট নই, কেননা অভিজিত হোরাসের মতো ব্যক্তিবর্গও আমার সাথে তর্ক পর্যন্ত করে আজকাল। কে জানে এইটাই হয়তো তোমার মতলব। তোমার কি বিতর্ক লাগবে? নাহ লাগবে না, তোমার লাগবে একটা সুশিক্ষা। এবং এই নেও সেটা। আমি চাই এখান হতে তুমি এই বার্তাই লাভ করো, তালগাছটি নিজের বগলে রেখে দেওয়ার অসদুদ্দেশ্যে হাইপারএকটিভ উচ্ছাস দেখিয়ে নিজের উপসঙ্ঘার বসাতে গিয়ে কোথায় কোথায় তুমি শোচনিয়ভাবে ভুল করেছো। আমি যা বলছি তার প্রত্যেকটি কথাই তুমি গ্রেইস এনাটমিতে পাবে বিনামূ্ল্যে http://education.yahoo.com/reference/gray/, আমি চাই যা তমাকে বলা হচ্ছে তা যেনো তুমি আসলেই এর সাথে মিলিয়ে দেখো-

……………………………………………………………………………………

তুমি জানতে চাচ্ছো থাইমাসকে কেনো আমরা ভেস্টিজ বলি। ওয়েল, থাইমাসকে আমরা ভেস্টিজ বলি একই কারণে যেই কারণে আমরা কিনা আপেন্ডিক্সকে ভেস্টিজ বলি। একটি নির্দিষ্ট সময়ে এটা নিজের প্রাথমিক কার্যক্রম হারিয়ে ফেলে। শুধু প্রাথমিক কার্যক্রম হারিয়ে ফেলে যদি এটা সন্তুষ্ট থাকতো আমাদের কোন অভিযোগ ছিলো না। সমস্যা হচ্ছে প্রাথমিক কার্যক্রম হারিয়ে এটা কুকার্যক্রম সম্পন্ন করা শেখে যা কিনা জীবের ফিটনেস কমায় এমনকি জীবের মৃত্যুর কারণও হতে পারে। উদাহারণ? অটোইমিউন রোগ যেমন- টাইপ১ পলিএন্ডোক্রিনোপ্যাথি, মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস, হাইপোথাইরইডিজম ইত্যাদি। তারপরও যখন কিনা তুমি মাতৃগর্ভে ছিলে, কিংবা শিশু বা কিশোর ছিলে তখন তোমার থাইমাস কিন্তু ভেস্টিজ ছিলো না। এটি কাজ করছিলো তোমার প্রাইমারি টি লিম্ফোসাইটের বিদ্যালয় হিসেবে যেখান থেকে ফরেন এন্টিজেন চিনে নিয়ে কিনা তারা সেকেন্ডারি টি লিম্ফোসাইটে পরিণত হয়ে ঘাটি গাড়তো তোমার বর্ণীত লালবাগের কেল্লা লিম্ফনোডের টিস্যুতে অথবা সেল্ফ এন্টিজেন চিনে নিয়ে মারা পড়তো এইপপ্টোসিস প্রক্রিয়ায়। থাইমাসের কোর্টিকোমেডুলার বাউন্ডারিতে এক্সপ্রেসড হয় আয়ার (aire) নামক একটি জিন যা কিনা কোড করে একটি ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর। এই ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টরের ক্ষমতা রয়েছে এমন সব জিনের ট্রান্সক্রিপশন সূচনা করার যেই জিনগুলো কিনা কোর্টিকোমেডুলার বাউন্ডারিতে এক্সপ্রেসড হবার কথা নয়। যেমন- অগ্নাশয়ের আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহার্নের বেটা ও আলফা কোষে যথাক্রমে এক্সপ্রেসড হবার কথা ইনসুলিন ও গ্লুকাগন। কিন্তু, থাইমাসের কোর্টিকোমেডুলার বাউন্ডারিতে এই জিনগুলো এক্সপ্রেসড হবার ফলে টি লিম্ফোসাইট এদের সাথে বন্ধন করার সুযোগ পাচ্ছে। যদি বন্ধন করে তবে এইপপ্টোটিক সঙ্কেত লাভ করে মরে যাচ্ছে। তোমার নিজের শরীরের বিরুদ্ধেই আর প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া সূচনা করার সুযোগ পাচ্ছে না টি লিম্ফোসাইট। কিন্তু কোন কারণে যদি তোমার সেল্ফ এন্টিজেন চিনে নিয়ে নেগেটিভ সিলেক্সন প্রক্রিয়ায় মারা না যায় টি লিম্ফোসাইট তবে তুমি হতে যাচ্ছ অটোইমিউনিক। তোমার আকোয়ার্ড প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তোমার নিজের শরীরকেই আক্রমন করবে তখন। এখন মজার ব্যাপার হচ্ছে ১৬ বছর বয়সের মধ্যেই থাইমাস নিজের সকল সেল্ফ এন্টিজেন এক্সপ্রেস করে টি লিম্ফোসাইটকে শিখিয়ে দেয় যে এই জিনিষগুলোকে আক্রমন করো না। ১৬ বছরের পর এটি সুকার্যক্রম সম্পুর্ণই হারিয়ে ফেলে এট্রফিক হয়ে পড়ে, সাধারণ অবস্থার চারভাগের একভাগে নেমে আসে তার আয়তন।

একারণেই, বয়োপ্রাপ্তির পর থাইমাস একটি ভেস্টিজ কেননা তখন তোমার টি লিম্ফোসাইটের এন্টিজেন চেনার দরকার নাই কোন। অসংখ্য নাইভ টি লিম্ফোসাইট তোমার সারা শরীরে ছড়িয়ে রয়েছে যারা কিনা চাহিবামাত্রই তোমার শরীরের সমস্ত চাহিদা মেটাতে পারে। এখন তোমার থাইমাস যা যা এন্টিজেন প্রদর্শন করছে তার একটিও তোমার একটা কোন লিম্ফোসাইটকে আগের চেয়ে বেশী যোগ্য করে তুলেনা, তবে ভুলক্রমেও তোমার কার্যক্রম হারিয়ে ফেলা এট্রফিক থাইমাসে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়া একটি টি লিম্ফোসাইট যদি সেলফ এন্টিজেন চেনা সত্তেও এইপপ্টটিক সংকেত লাভ না করে কিংবা সঙ্কেতে সাড়া দিতে না পারে, সেই লিম্ফোসাইট বিপর্যয় ডেকে আনবে। সেটি যদি সিডি৪ পজিটিভ হেল্পার টি লিম্ফোসাইট হয় তবে এটি সাথে সাথে নাইভ বি লিম্ফোসাইটকে সঙ্কেত দিবে প্লাজমা কোষে ডিফ্রেন্সিয়েট হওয়ার জন্য। আর নাইভ বি লিম্ফোসাইটের প্লাজমা কোষে ডিফ্রেন্সিয়েট হওয়া মানেই অটোএন্টিবডির একটি কারখানা স্থাপিত হওয়া শরীরের ভেতর যা কিনা তোমাকেই আক্রমন করে শেষ করে দিবে। চিন্তা করো অটোইমিউন রোগ মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসের কথা। লোয়ার মোটর নিউরনের পোস্টসিনাপ্টক ক্লেফ্টে এক্সপ্রেসড এসিটিলকোলিন রিসেপ্টর অটোএন্টিবডি দ্বারা ইনহিবিট করে যেটি কিনা তোমার মাংসপেশীর সঙ্কোচন বাধাগ্রস্থ করছে। কোথা থেকে আসছে এই অটোএন্টিবডি? প্লাজমা কোষ বানাচ্ছে? ওয়েল প্লাজমা কোষকে সংকেত দিচ্ছে কে যে এই এন্টিবডি বানাও? হেল্পার টি সেল কি? আর হেল্পার টি সেল এই বুদ্ধি কোথা থেকে পাচ্ছে যে একটি অটোএন্টিবডি বানাবো? ওয়েল তোমার থাইমাস থেকে।

একারণেই মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস ও এরকম আরও অনেক অটোইমিউন রোগেরই প্রথম চিকিতসা হচ্ছে থাইমেক্টোমি করে থাইমাস কেটে ফেলা। এখানে লক্ষ্যণীয় হচ্ছে শিশু রোগীদেরকে কিন্তু আমরা এই থেরাপী দিচ্ছি না, শিশুদেরকে আমরা দিচ্ছি কোলিনেস্টারেজ ইনহিবিটর ঔষধ যেমন এড্রোফোনিয়াম ও আম্বিনোনিয়াম, যাতে এসিটিলকোলিনের ক্ষয় হ্রাস পেয়ে এর ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্য দিয়ে পোস্ট সিনাপ্টক ক্লেফটে এসিটিলকোলিনের পর্যাপ্ত ঘনত্ব বজায় থাকে। আর খেয়াল করো থাইমেক্টোমি অস্ত্রপচার কিন্তু কাজ করে, এটি মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস যেই স্টেজে আছে সেই স্টেজ থেকে এর প্রগ্রেশন আটকিয়ে দেয়। আর কি কি লস অফ ফাঙ্কশন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে এটা থাইমাস হারিয়ে? উত্তর হচ্ছে কিছুই না। ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট ঔষধ যেগুলো নিজেরাই কিনা রিকম্বিনেন্ট মনোক্লোনাল এন্টিবডি যেমন- রিটুক্সিমাব ব্যাবহার করে যে আমরা অটোইমিউন রোগের চিকিতসা করি এটারও কিন্তু রয়েছে একটি বেশ শক্ত শক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিন্তু থাইমাসের যে কোন লস অফ ফাঙ্কশন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এই কথা তোমাকে বললে তুমি বলবা- ওয়েল সবকিছুতো এখনও জানা হয়ে যায়নাই, হয়তো ভবিষ্যতে আসলেই এর কোন লস অফ ফাঙ্কশন প্রতিক্রিয়া আবিষ্কার করে ফেলবে বিজ্ঞানীরা। বেশ, এমনকি সেটা যদি সত্যিও হয় তারপরও কিন্তু এই কথা তার চেয়েও বেশী সত্য হিসেবে থেকে যায় যে ‘গেইন অফ ফাঙ্কশন প্রতিক্রিয়া অর্জন করে অটোএন্টিবডি বানিয়ে বানিয়ে তোমার মৃত্যুর কারণ হতে পারে তোমার থাইমাস।’

আর এটা তোমার মনগড়া তথ্য যে থাইমাস এট্রফিক হয়ে পড়ার কারণে বয়ষ্ক লোক সংক্রমনে আক্রান্ত হয় বেশী। এটা সত্যি হলে সবচেয়ে বেশী সংক্রমনের শিকার হতো তারা যাদের থাইমাস কিনা থাইমেক্টোমি করে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বয়ষ্ক লোকের তো তাও এট্রফিক থাইমাস রয়েছে, থেইমেক্টোমি রোগীদেরতো তাও নেই। বয়স ১৬ ছাড়িয়ে গেলে থাইমাস কোনই ভূমিকা পালন করে না তোমার রোগ প্রতিরোধে, ভূমিকা পালন যা করার আগেই সে সেটা করে ফেলেছে। যাই হোক, অটোইমিউন রোগই একমাত্র জটিলতা নয় যা জন্ম দিতে পারে থাইমাস। থাইমাস একটি গ্লান্ড অর্থাৎ এর মেডুলা আবরিত এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা যারা কিনা সর্বদাই বিভাজিত হচ্ছে এবং তোমার বয়স বাড়ার সাথে সাথে মিউটেশন জমিয়ে যে কোন মুহুর্তে এটা টিউমারে রূপ নিতে পারে। এবং প্রাথমিক পর্যায়ে থাইমোমা প্রায় কোন উপসর্গই প্রদর্শন করেনা, তুমি জানবেও না যে তুমি টিউমারাস, তোমার অজান্তে সেই টিউমার একসময় ম্যালিগ্নেন্সি অর্জন করে পরিণত হবে ক্যান্সারে।

তারপর তুমি লাগলে সিকাম নিয়ে। সিকামকে তোমার কাছে কমোডের মতো মনে হলো। কমোড মনে না হয়ে যদি বেলীফুলের মতোও মনে হতো অভিযোগ করার কিছু থাকতো না। এটা তোমার ব্যক্তিগত সৌন্দর্যবোধ। খাদ্যের যতো অপ্রয়োজনীয় অবশিষ্টাংশ সিকামে গিয়ে জমা হয়না, সিকামে বরং জমা হয় এমন তরল যারা কিনা ধারন করে সমস্ত অপরিহার্য লবন। যদিও বেশীরভাগ তরলই শোষিত হয় ক্ষুদ্রান্তেই, তারপরও বৃহদান্ত্র প্রতিদিন যেই ২ লিটার পানি আমরা খাই তার মধ্য থেকে .৪ লিটার শোষণ করে। এবং যেহেতু ধাতব আয়ন শোষণ পানি শোষণের সাথে কাপল্ড তাই এটা শোষণ করে সেই ধাতব আয়নও। এছাড়াও ধারণ করে প্রচুর ব্যাক্টেরিয়া। এই ব্যাক্টেরিয়া সংশ্লেষিত করে ভিটামিন থাইমিন, কোবালামিন ও রিবোফ্লাভিন যা কিনা বৃহদান্ত্রে শোষিত হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ব্যাক্টেরিয়ারা সংশ্লেষ করে ভিটামিন কে, যেই ভিটামিন কে এর যোগান পর্যাপ্তরূপে দিতে পারে না আমাদের খাবার। তাই ভিটামিন কে এর জন্য আমরা আমাদের বৃহদান্ত্রে বসবাসকারী ব্যাক্টেরিয়ার উপর নির্ভরশীল। তাই বলাই বাহুল্য যে, সংক্রমনবিরোধী যুদ্ধে যখন আমরা এন্টিবায়োটিক ছুড়ি তখন রোগী হয়ে পরে ভিটামিন কে পুষ্টিহীন। এবং ভিটামিন কে কোয়াগুলেশন বা রক্তজমাটবদ্ধকারী গমনপথের প্রায় সবগুল এনযাইম সংশ্লেষেই অপরিহার্য বিধায় রোগী হয়ে পড়ে অ্যানিমিক বা রক্তশূণ্য। এই বিষয়ে তাই আমাদের সদাসতর্ক থাকতে হয় এন্টিবায়োটিক থেরাপি প্রদানের সময়।

তারপর তুমি বলছো ইলিওসিকাল স্ফিঙ্কটার না থাকলে বলে ক্ষুদ্রান্তের কাইম সব বৃহদান্ত্রে না এসে উল্টা পথে দৌড় লাগাতো। এটা কেনো সঠিক নয় বোঝার জন্য তোমাকে জানতে হবে কি করে খাবার অন্ত্রে পরিবাহিত হয়। খাবার কি মধ্যাকর্ষণ বলের কারণে অন্ত্রে প্রবাহিত হয়? উত্তর হচ্ছে না, খাবার প্রবাহিত হয় এন্টেরিক নার্ভাস সিস্টেম অনুঘটিত পেরিস্টালসিস নামক একটি প্রক্রিয়ায় যেটি কিনা অন্ত্রের দেয়াল আচ্ছাদনকারী স্মুথ-মাংশপেশীর সিনক্রোনিক সংকোচন প্রসারণ। পেরিস্টালসিস যদি ভাটিতে হয় খাবারের সাধ্যই নেই উজানে প্রবাহিত হবার। একেবারেই যে নেই তা নয়, লোয়ার ইসোফেগাল স্ফিঙ্কটারের সিঙ্ক্রোনী বাধাগ্রস্থ হলে পাকস্থলীর আম্লীয় তরল দেখে থাকবে ইসোফেগাসে ঢুকে পড়ে, যেটাকে বলে কিনা হার্টবার্ন, যেটার জন্য আমরা এন্টাসিড সেবন করি। তবে পেরিস্টালসিসের উল্টাদিকে খাবার উঠে আসার ঘটনা খুবই বিরল, দৌড় লাগানোর ঘটনা অসম্ভব। এটা হতে পারে একমাত্র যদি কিনা ব্রেইনস্টেমের বমন কেন্দ্র (vomitting centre) ফায়ার করে তাহলেই বমির মধ্য দিয়ে। আর বমিতে উঠে আসা তরল বৃহদান্ত্র থেকে আসে না বলাই বাহুল্য, সেটা হবে লন্ডন ঘুরে মক্কা যাওয়ারই নামান্তর তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণভাবে সেটা হবে একটা নোংড়া নোংড়া ব্যাপার! নাকি তুমি চাও তোমার বমি বৃহদান্ত্র থেকে উঠে আসুক?

এছড়াও তুমি যে বলেছো সিকাম না থাকলে কাইম সোজা পায়ুপথের দিকে দৌড় দিতো এটাও ঠিক না। কেননা আমাদের বৃহদান্ত্রে পেরিস্টালসিস হয় ঘন্টায় মাত্র দুইবার, এছাড়াও সিকাম অন্ত্রের একটি ছোট অংশ, সিকামের পরও ১.৫ মিটার লম্বা বৃহদান্ত্রের সম্পুর্ণটুকুই বাকী থেকে যায় আরোহী, ট্রান্সভার্স ও অবরোহী কোলন এবং মলাশয় রূপে। এই দুরত্ব পাড়ি দিতে কাইমের লাগে ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা। বৃহদান্ত্রে কাইমের চো চো দৌড় দেওয়া সম্ভব শুধু মাত্র তখনই যখন কিনা গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্স সূচিত হয়। নতুন করে খাবার খেলে এই রিফ্লেক্স সূচীত হয়, নতুন খাবারের জায়গা দেওয়ার জন্য বৃহদান্ত্র দ্রুত কয়েকটি পেরিস্টালসিসের মাধ্যমে খাবার মলাশয়ে পাঠিয়ে দেয়। তারপর যে বললে মল সিকামের দেয়ালে চাপের সৃষ্টি করে মলত্যাগ রিফ্লেক্স সূচীত করে এটাও ভুল। সিকামের সাথে মলের কোন সম্পর্কই নেই। সিকাম সহ সম্পুর্ণ বৃহদান্ত্রের মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়ে কাইম মলাশয়ে এসে মলে পরিনত হয়। এবং মলাশয়ের গায়ে রয়েছে সেই প্রেসার রিসেপ্টরগুলো যেগুলোর কথা তুমি বলছিলে যে সক্রিয় হয়ে মলত্যাগ রিফ্লেক্স সূচীত করে। তারপরও মলত্যাগ রিফ্লেক্সকে ওভাররাইট করতে কিন্তু মানুষ শিখে যায় দুই বছর বয়সের মধ্যেই। দুই বছর বয়সের পর থেকে আমরা আর রিফ্লেক্সে মলত্যাগ করি না আমরা সেটা স্বেচ্ছায় করি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে সিকামের কাজ কি? ওয়েল সিকামের কাজ আর আপেন্ডিক্সের কাজ একই, এরা ব্যাক্টেরিয়া হার্বার করে। স্তন্যপায়ীদের সেলুলোজ শর্করা ভাঙ্গার কোনই ক্ষমতা নেই। কিন্তু তৃণভোজীদের খাবারের আবার একটা উল্লেখযোগ্য অংশই সেলুলোজ। মানুষের মতো তারা যদি সেলুলোজ না ভেঙ্গে মলের সাথে বের করে দেয় জীব পর্যাপ্ত পুষ্টি পাবে না, কেননা এমনিতেই তৃণ মাংসের চেয়ে অনেক কম পুষ্টিকর। এজন্যই দেখবে তৃণভোজীদের সারাদিনই খাদ্যগ্রহন করতে হয়। এটা সত্যি এমনকি জীবেদের ক্ষেত্রেও ট্যাক্সোনমিগতভাবে যারা কিনা মাংশাসী কিন্তু ভিন্ন নির্বাচনী চাপ যাদেরকে তৃণসম্বৃদ্ধ খাদ্যগ্রহনে অভিযোজিত হতে বাধ্য করেছে যেমন পান্ডা। মানুষ খুব একটা তৃণভোজী নয়, হলেও মানুষের উপর এমন কোন নির্বাচনী চাপ নেই যে এদের সব সেলুলোজ ভেঙ্গে পুষ্টি আহরণ করতে হবে। তাই নলাকৃতির বৃহদান্ত্রে সিকাম, আপেন্ডিক্সের মতো থলে আকৃতির এমন কোন অঙ্গেরও প্রয়োজন আমাদের নেই যেটাতে কিনা আমাদের ব্যাক্টেরিয়া হার্বার করতে হবে সেলুলোজ ভাঙ্গার জন্য। সেলুলোজ ভেঙ্গে আমাদের যেই লাভ হবে এর চেয়ে অনেক অনেক বেশী ক্ষতি হবে কোনভাবে যদি আপেন্ডিক্স প্রদাহি হয়ে পড়ে। আর আপেন্ডিক্স প্রদাহী হলেই কেনো ডাক্তার আর অন্য কোন কথা চিন্তা না করে সোজা আপেন্ডিক্স কেটে ফেলে জানতে চাও? ওয়েল। প্রদাহী আপেন্ডিক্স প্রথমত যন্ত্রনাদায়ক; আর দ্বিতীয়ত প্রদাহ ছড়িয়ে পড়, শক্তিশালী হয়। আপেন্ডিক্সের প্রদাহ যদি কোনভাবে তোমার পেরিটোনিয়াম ফাটিয়ে দেয় মৃত্যু ছাড়া আর কন গতি নেই প্রায় ১০০% ক্ষেত্রেই। তোমার আবদার কি, প্রদাহী আপেন্ডিক্স রোগীর শরীরে রেখে দিতে হবে, বর্বর? আর আপেন্ডিক্স ফেলে দিলে কি কি লস অফ ফাঙ্কশন প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় মানব-ফিজিওলজিতে? ওয়েল, কিছুই না। সেলুলোজ ভাঙ্গার আরেকটি সমস্যাও রয়েছে। ব্যাক্টেরিয়া কর্তৃক সেলুলোজের ভাঙ্গন উতপাদন করে কার্বনডাইঅক্সাইড, মিথেন ও হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস। মানে হচ্ছে গিয়ে it produces lots of air! এবং হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি সেই এয়ারের গন্ধটাও কিন্তু সাজেস্ট করে। ন্যাচারাল সিলেক্সনে না হলেও এই ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে সেলুলোজ ভাঙ্গা মনে হয় সেক্সুয়াল সিলেক্সনই নাবোধকভাবে নির্বাচিত করতো, কি বলো? অথবা হতে পারে এয়ার তুমি খুব পছন্দ করো, কোন হাদিস থেকে থাকতে পারে তোমার এই পছন্দের সমর্থনে হয়তো, যেমন উষ্ট্রমূত্র পছন্দকারীদের সমর্থনে রয়েছে।

এছাড়াও ভাবো কোলোস্টমি শল্যচিকিতসার কথা। কোলনের যে কোন অংশ আমরা বাইপাস করতে পারি অথবা জোড়া দিতে পারি। যদিও বেশীরভাগ কোলোস্ট্রোমিই করা হয় লোয়ার কোলনে, তারপরও আপার কোলনেও কিন্তু কোলোস্ট্রোমি সমানভাবেই কাজ করবে। তোমার দাবী যে সিকামের অভাবে আমরা সবাই কুঁইই করে মরে যেতাম সত্য কেনো নয় এটাও কিন্তু প্রমান করে। সিকামের ব্যাক্টেরিয়া হারিয়ে আলাদা কোন ফিটনেসের ঘাটতি হয়না আমাদের। যা ঘাটতি হয় তা কোলনের অন্য যে কোন অংশে কোলোস্টমি করলে যেই ঘাটতি হতো ঠিক তারই সমান। কলোরেক্টাল ক্যান্সারের একটি প্যালিয়েটিভ চিকিতসা এই কোলোস্টমি। এখন তুমি যদি গো ধরো যে তুমি কলরেক্টাল ক্যান্সারে মরবে তাও তোমার ব্যাক্টেরিয়া হারাবে না, ওয়েল এতে বিশ্বজগতের উপকার বৈ অপকার তো কিছু হয় বলে মালুম হচ্ছে না।

তারপর তুমি ইমিউনোলজি নিয়ে লাগলে। প্রথম কথা হচ্ছে লিম্ফ টিস্যু বলে কোনকিছু নেই, লিম্ফ হচ্ছে তরল যা কিনা দুটি কোষের মধ্যবর্তী স্থান দখল করে থাকে। সঠিক শব্দটি হবে লিম্ফ্যাটিক বা লিম্ফইড টিস্যু। কোষ জীববিজ্ঞানীরা যেই তরলকে বলে ইন্টারস্টিশিয়াল তরল, আনাটমিস্টরা সেটাকেই বলে লিম্ফ। আমাদের সঞ্চালন ব্যাবস্থাকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। ১। রক্তসঞ্চালন ব্যাবস্থা ২। লিম্ফ সঞ্চালন ব্যাবস্থা। রক্তসঞ্চালন ব্যাবস্থা যেমন একক কোষলেয়ার আচ্ছাদিত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নালী ক্যাপিলারিতে বিভক্ত হয়ে কোষে কোষে পুষ্টি পৌছে দেয় ও বর্জ সংগ্রহ করে, লিম্ফ্যাটিক সঞ্চালন ব্যাবস্থাও তেমনি কোষেদের মধ্যবর্তী ইন্টারস্টিশিয়াল তরল লিম্ফ্যাটিক ক্যাপিলারিতে গ্রহন করে পরিবাহিত করে দুই ঘাড়ের কাছে অবস্থিত দুটি থোরাসিক ডাক্টের মাধ্যমে রক্তে ফেরত পাঠায়, লিম্ফ্যাটিক সঞ্চালন না থাকলে অস্মোটিক প্রেসারেই আমাদের টিস্যু ফেটে যেতো। লিম্ফ্যাটিক সঞ্চালনের কোন পাম্প নেই, রক্ত সঞ্চালনের যেমন রয়েছে হৃতপিন্ড। লিম্ফ পরিবাহিত হয় কঙ্কালগত মাংশপেশীর সঙ্কোচন প্রসারণের জন্য। বিজ্ঞানীরা যে বলে শরীরচর্চা করার জন্য, একারণেই বলে। পাম্পহীনতার কারণে অনিরবিচ্ছিন্ন লিম্ফ সঞ্চালন ব্যাবস্থায় তাই দরকার হয় নির্দিষ্ট স্থান পর পর একটি সংগ্রহকারী থলে যেটাকে কিনা বলে লিম্ফ নোড। এই লিম্ফ নালীতে এবং নোডেই থাকে লিম্ফইড টিস্যু যেগুলো কিনা নিছকই সাধারণ কানেক্টিভ টিস্যু যেমন স্মুথ-মাংশপেশী। পার্থক্য শুধু একটাই এই কানেক্টিভ টিস্যু জালের মতো নিজের মধ্যে ধরে রাখে বহু সংখ্যক শ্বেতরক্তকোষ যেমন লিম্ফইড ও মাইলয়েড কোষ। আর মানবদেহের সার্বিক প্রতিরক্ষার দায়িত্বও লিম্ফ টিস্যুদের উপর অর্পিত থাকে না। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থার কোন একটি কিছুকেই যদি সার্বিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলা লাগে, সেটি হবে রক্ত। রক্তপ্রবাহই সঞ্চালিত করে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক শ্বেতকোষ। এছাড়াও রক্তসঞ্চালন পাম্পচালিত বিধায় রক্ত অনেক অনেক বেশী তরল অনেক বেশী সহজগম্য। খুবই অল্পসময়ে এটা অসংখ্য এন্টিবডি একটি এন্টিজেনের মুখোমুখী করার মধ্য দিয়ে এন্টিবডি এন্টিজেন বন্ধন সূচনা করে প্রতিরোধ রেসপন্স চালু করতে পারে। লিম্ফ্যাটিক সঞ্চালনের এই সুযোগগুলো নেই। আমাদের প্রতিরোধ ব্যাবস্থার ক্যাপ্তেনই যদি বলা লাগে, ক্যাপ্টেন বলতে হবে আমাদের ইনেট প্রতিরোধ ব্যাবস্থাকেই। ইনেট প্রতিরোধ ব্যাবস্থার অভাবে আকয়ার্ড প্রতিরোধ ব্যাবস্থা একটি চাকা বিহীন গাড়ি ছাড়া কিছু নয়। আর আকোয়ার্ড প্রতিরোধ ব্যাবস্থাতেও তুমি যদি আরেকটি ক্যাপ্টেন চাও সেটা হবে এন্টিবডি অনুঘটিত হিউমোরাল প্রতিরোধ ব্যাবস্থা। এই অস্ত্রগুলো ব্যর্থ হলেই কেবল আমাদের টি লিম্ফোসাইট অনুঘটিত কোষীয় প্রতিরোধ ব্যাবস্থা যেটার কথা তুমি বললে সেটা কাজে নামে।

তারপর তুমি বলছো টি লিম্ফোসাইট টিউমার কোষ আর ভাইরাসকে হত্যা করে। না, ভাইরাসকে হত্যা করে না, ভাইরাসকে হত্যা করার কোন কার্যকর প্রক্রিয়া আমাদের নেই, সিডি৮+ সাইটোটক্সিক টি লিম্ফোসাইট হত্যা করে হচ্ছে ঐসকল কোষকে যারা কিনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়েছে। আর টি লিম্ফোসাইট লিম্ফ নোডকে বি লিম্ফোসাইট তৈরীর প্রেরণাও দেয় না। লিম্ফ নোড না লিম্ফ নোডের বাবারও সাধ্য নেই বি লিম্ফোসাইট বানানোর যতোই প্রেরণা, উতসাহ ও উদ্দীপনাই তাকে দেওয়া হোক না কেনো। যে কোন লিউকোসাইট, লিম্ফোসাইট, মনোসাইট, এরিথোসাইট সবই বানায় হচ্ছে গিয়ে বোনম্যারোতে প্রতি ১০,০০০ এ ১ টি করে যেই হিমাটোপোইটিক স্টেম সেলগুলো থাকে তারা। আনডিফ্রেন্সিয়েটেড লিম্ফোসাইট মাইগ্রেট করে লিম্ফনোড সহ অন্যান্য বহু জাগায়, বি লিম্ফোসাইট এখানে অবস্থান করে নাইভ সেল হিসেবে। এই নাইভ সেলকে প্লাজমা সেলে ডিফ্রেন্সিয়েট করতে হয় এন্টিবডি বানাতে হলে, এই ডিফ্রেন্সিয়েশনের সঙ্কেত পায় নাইভ সেল একটিভেটেড সিডি৪+ টি লিম্ফোসাইট থেকে। আর এন্টিবডি জড়ানো বি লিম্ফোসাইটের ছবি কোথা থেকে পেলে হে? বি লিম্ফোসাইট যেটি কিনা প্লাজমা কোষের একটি প্রজেনিটর কোষ, তা এন্টিবডি বানিয়ে নিজের শরীরে জড়িয়ে রাখে না, রাখলে তোমার ইমিউন রেসপন্স কাজ করতো না। প্লাজমা সেল মানেই হচ্ছে সিক্রিটরি সেল, এটা এন্টিবডি রক্তে সিক্রিট করে এক্সোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায়। জেনে থাকবে হয়তো এন্টিবডি আর ইমিউনোগ্লবুলিন একই প্রোটিন হলেও একই জিনিষ নয়, ইমিউনোগ্লবুলিন থাকে ঝিল্লীর সাথে বন্ধনরত অবস্থায় আর এন্টিবডি হচ্ছে সিক্রিটেড ইমিউনোগ্লবুলিন যেটা কিনা চোখের পানি, লালা, রক্ত ইত্যাদি দেহজ তরলে প্রবাহিত হয়। তোমার এই দাবিটিও সঠিক না যে পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাগায় লিম্ফ্যাটিক টিস্যু থাকে, তুমি নিজেই তার একটু আগে বলেছো যে লিম্ফ্যাটিক টিস্যু থাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত সারা শরীর জুড়ে, যেটা কিনা সত্যি। বস্তুত লিম্ফ নোড যেখানে আছে সেখানেই লিম্ফ্যাটিক টিস্যু আছে, আর লিম্ফ নোড আছে সারা শরীর জুড়ে তাই লিম্ফ্যাটিক টিস্যুও আছে সারা শরীর জুড়েই। শুধু খালি তোমার আপেন্ডিক্সকে আলাদা করে বলার কারণ কি শুনি?

তারপর তুমি আপেন্ডিক্সের রক্তসংবহনতন্ত্র দেখিয়ে বলছো এই নিষ্ক্রিয় অঙ্গে এতো রক্তসঞ্চালন কেনো। ওয়েল, শুধু আপেন্ডিক্সেই নয় এপিডার্মিস (চামড়ার সবচেয়ে উপরের অংশ পায়ের পাতায় যার সর্বোচ্চ পুরুত্ব হতে পারে .৫ মিমি) ছাড়া তোমার শরীরের আর সমস্ত টিস্যুতেই রক্তসংবহনতন্ত্র রয়েছে। ফিজিওলজি এই বলে কাজ করে না যে- ‘এই টিস্যুর কাজ নেই কোন, একে রক্তনালী দিবো না’ ইত্যাদি। একটি টিস্যু .৫ মিমির চেয়ে বড় হলেই এটা আর পার্শ্ববর্তী কোষের ডিফিউসন দ্বারা চলতে পারে না, এটি অক্সিজেন পাবে না, পুষ্টি পাবে না, বর্জ নিষ্কাশন করতে পারবে না। ফলে তার প্রয়োজন হবে নিজস্ব রক্তনালী। এজন্য .৫ মিমি অতিক্রম করলেই একটি টিস্যু হাইপক্সিক বা অক্সিজেনস্বল্প হয়ে পড়ে এবং একটি সংকেত সংবহন গমনপথ সক্রিয় করে যাকে বলা হয় ভাস্কুলার এন্ডোথিলিয়াল গ্রুথ ফ্যাক্টর গমনপথ। এই ভাস্কুলার এন্ডোথিলিয়াল গ্রুথ ফ্যাক্টর প্রথমত একটি কিমোআট্রাক্টেন্ট যার টার্গেট হয় কিনা সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা ক্যাপিলারির এন্দোথিলিয়াল কোষগুলো। এবং যেহেতু এটি একটি গ্রুথ ফ্যাক্টর তাই বলাই বাহুল্য যেই সংকেত এটি সংবহন করে সেটি একটি প্রলিফেরেটিভ বা বিভাজনসূচণাকারী সঙ্কেত। এই সংকেতের চূড়ান্ত ফল হয় গিয়ে- ক্যাপিলারির এন্ডোথিলিয়াল কোষ বিভাজিত হয় এবং যেহেতু ভাস্কুলার এন্ডোথিলিয়াল গ্রুথ ফ্যাক্টর একটি কিমোআট্রাক্টেন্ট, বিভাজিত হয় সেই দিকে যেই দিক থেকে কিনা এই সঙ্কেতটি আসছে। ফলে ক্যাপিলারি হাইপক্সিক টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। এটাই স্বাভাবিক যে একটি টিস্যু সংবহনতন্ত্রের দুই ধরণের ক্যাপিলারি যথা- এন্ডোথিলিয়াল ক্যাপিলারি ও লিম্ফ্যাটিক ক্যাপিলারি দ্বারা যোগানপ্রাপ্ত হবে। এরা হচ্ছে টিস্যুর সাপ্লাই লাইন, এরা না থাকলেতো টিস্যু মরেই যাবে। লিম্ফ্যাটিক ক্যাপিলারিও এই একই লিম্ফ্যাঞ্জিওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে পারে উপযুক্ত সঙ্কেত পেলে। একটি টিস্যুর ক্যাপিলারি থাকবেই, তুমি যদি বরং এমন কোন টিস্যু পাও যেটার কিনা এঞ্জিওজেনিক বা লিম্ফ্যাঞ্জিওজেনিক ক্ষমতা নেই তাহলেই বরং তুমি বিবর্তনকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারো। অপ্রয়োজনীয় টিস্যুতে যদি শরীরের ক্যাপিলারি না দেওয়ার ক্ষমতাই থাকতো তবে আমরা আর ক্যান্সারে আক্রন্ত হতাম না, ম্যালিগ্নেন্সি .৫মিমি এর চেয়ে বড় হয়ে গেলে পুষ্টিশূণ্যতাতেই এর চেয়ে বড় হতে পারতো না আর। বলাই বাহুল্য এই একই ভাস্কুলার এন্ডোথিলিয়াল গ্রুথ ফ্যাক্টর গমনপথ ব্যাবহার করে টিউমারও নিজের ক্যাপিলারি প্রাপ্তি নিশ্চিত করে, তাই ভাস্কুলার এন্ডোথিলিয়াল গ্রুথ ফ্যাক্টর রিসেপ্টর ইনহিবিটর যেমন- বিভাসিযুমাব(ট্রেডমার্ক-আভাস্টিন)ব্যাবহার করি আমরা এন্টিক্যান্সার ড্রাগ হিসেবে। তারপর তুমি জানতে চাইলে আপেন্ডিক্সের সাথে বৃহদান্ত্র না ক্ষুদ্রান্তের মিল বেশী। ওয়েল আপেন্ডিক্স যেহেতু বৃহদান্ত্রেরই একটি অংশ, বলাই বাহুল্য বৃহদান্ত্রের সাথেই এর মিল বেশী হবে।

যাই হোক, ভেস্টিজ নিয়ে যে তুমি এতোবড় লেখা লিখে ফেললে একবারও ভেস্টিজ কাকে বলে তার সংজ্ঞা কেনো দিলেনা শুনি? সংজ্ঞাটাকি আমি দিবো? ওয়েল,ভেস্টিজ হচ্ছে এমন কার্যক্ষম একক (যেমন- অঙ্গ, অঙ্গানু, জিন, প্রোটিন ইত্যাদি) যা কিনা তার প্রাথমিক কার্যক্রম হারিয়েছে। শুধু অঙ্গ না আমাদের শরীরে হাজার হাজার ভেস্টিজ জিন রয়েছে। আমার প্রোফাইলে গিয়ে আমার লেখা দ্বিতীয় পোস্টটিতে দেখবে এইরকম একটি ভেস্টিজ জিন সুডোজিটা গ্লবিন নামে, যেটি কিনা আলফা গ্লবিন ক্লাস্টারে এখনও রয়ে গিয়েছে সুডোজিন রূপে। এছাড়াও রয়েছে ভেস্টিজ প্রোটিন। যেমন- ইঁদুরের মায়োগ্লবিন নকআউট করে আমরা দেখেছি এটা ফিটনেস একফোঁটাও কমায় না। কমানোর কথাও না। ভেস্টিজ অঙ্গের ব্যাপারতো তোমার কাছ থেকে শিখলাম, এইবার ভেস্টিজ আরও কিছু জিন ও প্রোটিন নিয়ে লিখো আমরা দেখি, কেমিস্ট্রিতে তোমার দখল কতো। উইকিপিডিয়া পড়েতো আনাটমি শিখে ফেলেছো সুন্দর দেখি কেমিস্ট্রি তুমি কি করে উইকিপিডিয়া পড়ে শেখো।

তুমি বলেছো একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বা মেডিসিন ছাত্র নাকি ভেস্টিজের কথা শুনলে মরেই যাবে। তোমাকে আমি একটা হোমওয়ার্ক দিচ্ছি। পাবমেড.কমে যাও, লাইফ সায়েন্স আর বায়মেডিকাল সায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি যতো উপাত্ত উতপাদন করে তার সব এইখানে জমা হয়। এখানে পাবমেড একটি আলাদা ডাটাবেইজ রক্ষণাবেক্ষণ করে যেটিকে কিনা বলা হয় পাবমেড সেন্ট্রাল, এটি মূ্লত একটি সাইটেশন ডাটাবেইজ। বের করতো এখান থেকে চার্লস ডারউইনের অরিজিন অফ স্পিসিসের চেয়ে বেশী সাইটেশনপ্রাপ্ত কয়েকটি (অন্তত পাঁচটি) বই কিংবা পেপার। আমি বলছি না যে অরিজিনের চেয়ে বেশী সাইটেশন আর কোন সৃষ্টকর্ম পায়নি, আমি শুধু চাই তুমি নিজে খুঁজে দেখো কতোটি সাইটেশন অরিজিন পেয়েছে এবং কতোটা খাটনি তোমার করা লাগে অরিজিনের চেয়েও বেশী সাইটেশনপ্রাপ্ত চার-পাঁচটি সৃষ্টকর্ম খুঁজে পেতে। এবার বের করো এই সাইতেশনগুলির কয়টি নেইচারে বা সায়েন্সে; যেই পেপারটি অরিজিন সাইট করেছে তার প্রথম অথার কে, তার ব্যক্তিগত ইম্প্যাক্টফ্যাক্টর কতো সেটাও বের করে আমাকে বল দেখি তোমার মতো একটি গ্যাস্ট্রএন্টরোলজিস্টের স্পেকুলাম যন্ত্রের কথা ঐসকল গবেষকদের কথার চেয়ে বেশী গ্রহনযগ্য হয়ে যায় কিভাবে? নেইচারের প্রতি সংখ্যায়ই তো অরিজিন ডজনখানেকবার সাইটেড হয়। আমি জানি এখন তুমি কি বলবে। তুমি এখন বলবে নেইচার হচ্ছে হাক্সলিদের মতো অস্ত্রধারী বিবর্তনবাদী নাস্তিকদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। হ্যা সেটা ঠিক, তারপরও নেইচার কিন্তু পৃথিবীর সর্বোচ্চ ৩৪ ইম্প্যাক্টফ্যাক্টরপ্রাপ্ত একটি জার্নাল। অপরপক্ষে তোমার জার্নাল অফ কার্ডিওলজির ইম্প্যাক্টফ্যাক্টর কতো? ওয়েল ৩.১। ৩.১ ইম্প্যাক্টফ্যাক্টরপ্রাপ্ত একটি জার্নাল ‘আল্ল আছে’ শিরোনামে পেপার লিখবে এটাই স্বাভাবিক না লিখলেই বরং সেটা অস্বাভাবিক হতো। আর এটা দেখে তোমাদের মতো কয়েকটি মাপেটের আনন্দে ওর্গাজম হয়ে যাবে সেটাও স্বাভাবিক। এই ধরণের জার্নালে লেখা হয় এই ধরণেরই পেপার যেমন- পাপ, অসুস্থতা ও পাপমুক্তি (http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/16864136), এইচআইভি শাস্তি হলে অপরাধীটা কে (http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/11961699) ইত্যাদি।

যাই হোক উপসঙ্ঘারে তোমাকে কি একটা অনুরোধ করতে পারি? তোমাদের দলনেতা হয়রান আমাদের মতো বিবর্তনবাদিদের উপর নাকি শুনেছি ওর পাঁচ বছরের সন্তানকে লেলিয়ে দিতে চায়। এই ব্যাপারটাতো হুমকীজনক নাকি? কেনো এটা হুমকীজনক বুঝতে হলে তোমাকে খানিকটা মেন্ডেলিয়ান জেনেটিক্স জানতে হবে। হয়রান বলছে যে সে এমন একটা জীব আমাদের উপর লেলিয়ে দিবে যেই জীবটির সাথে কিনা তার জেনেটিক সাদৃশ্য পাক্কা ৫০% যদি কিনা অন্যান্য সকল অনুমিতি ঠিকঠাক থাকে। এই জীবটির বয়স পাঁচ বছর হোক আর পাঁচশো বছর হোক we don’t care! এটা কি একটু বেশী নির্দয় সিদ্ধান্ত হয়ে যায় না? মানে এখনই একটা হয়রানের যন্ত্রনায় আমাদের নাভীশ্বাস, এটির সাথে যদি আরও অর্ধেকটা হয়রান এসে যোগ হয় তাহলে আমরা ইফেক্টিভলি পেতে যাচ্ছি দেড়টি হয়রান, আমরাওতো মানুষ নাকি, এইরকম একটা নির্দয় সিদ্ধান্ত নিতে ওকে মানা কোরো।

তোমার বিতর্ক তো তুমি পেলে। খুব সম্ভবত এইবার এটা তোমার দৃষ্টি এড়িয়ে যাবে যে তোমার হোকাস পোকাস বিজ্ঞানের জবাব দিতে গিয়ে একজন মুক্তমনা হাতে কাদা লাগিয়েছে, যদিও আমি জানি এই পোস্ট তুমি আর তোমার সাঙ্গপাঙ্গরা প্রত্যেকেই দেখছো। অথবা তালগাছটা তুমি তোমার বগলে রেখে দিয়েই ঘোষণা দিবে যে সহস্র মানুষের বর্ণনাতীত পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই জ্ঞানের চেয়ে কেনো তোমার অলস মস্তিষ্কের অকর্মা ফ্যান্টাসিই বেশী মূ্ল্যবান। যেটিই তুমি করোনা কেনো মানুষজন কিন্তু প্রত্যেকেই দেখেছে কতোটুকু তুমি জানো, কতোগুলো ভুল তুমি করেছো আর কি বেরিয়ে এসেছে তোমার লেখা থেকে। এইসব বিশ্লেষণ করে আমার এই একমুখী আদান-প্রদানকে তুমি যদি তোমার সাথে বিতর্কও এমনকি বলো, কি মনে হয় তোমার এই বিতর্কে কার জয়লাভ হয়েছে? তোমার ভবিষ্যতের যে কোন একটি অনাগত সকালে ঘুম থেকে উঠে একটি অমানুষের খোলস ভেঙ্গে তুমি যদি একটা মানুষ হয়ে উঠো, আমার চেয়ে খুশী আর কেউ হবেনা। সেইরকম একটি সকাল তোমার জীবনে আসুক এই প্রতীক্ষায়- আল্লাচালাইনা।

[628 বার পঠিত]