ইভ-টিজিং (Eve-Teasing) এর আদিকথা

By |2010-11-07T17:34:55+00:00নভেম্বর 6, 2010|Categories: ধর্ম, ব্লগাড্ডা, সমাজ|26 Comments

ইভ-টিজিং (Eve-Teasing) এর আদিকথা

আকাশ মালিক।

ইভ-টিজিং এর দ্বিতীয় স্তরের নাম সেক্সুয়েল হ্যারাসমেন্ট (Sexual Harassment) বা যৌন-হয়রানি। আজ বাংলাদেশে যা হচ্ছে তা মোটেই ইভ-টিজিং নয় এটা পূর্ণ সেক্সুয়েল হ্যারাসমেন্ট। বাংলাদেশের বখাটে যুবকদের ইভ-টিজিং আর ইংল্যান্ডের বখাটে ছেলেদের ইভ-টিজিং এক নয়। পশ্চিমা দেশের বেকার বখাটেদের দলে শুধু কিশোর যুবকেরাই নয় কিশোরী যুবতিরাও আছে। একই দলে কিশোর কিশোরীর উপস্থিতিই প্রমান করে এরা Eve Teasing আর Sexual Harassment এর পার্থক্য বুঝে। পশ্চিমের যুবকেরা Sexual Offence কী, এবং এর পরিণতি বা শাস্তি সম্মন্ধেও সচেতন।

ভারতবর্ষে ১৮৩৭ সাল পর্যন্ত রাস্ট্রের দন্ড-বিধিতে Sexual Harassment এর কথা উল্লেখ ছিলনা, এমন কি এ নিয়ে পশ্চিমেও তেমন কোন আলোচনা হতো না। ভারতবর্ষে Sex শব্দটাই ছিল অশ্লীল, ঘৃণীত, প্রকাশের ও আলোচনার টেবিলে তুলার অনুপযুক্ত। ১৯৭৩ সালে ডঃ মেরি রো (Dr Mary P. Rowe) ততকালীন আমেরিকার Massachusetts Institute of Technology (MIT) এর প্রেসিডেন্ট ও চ্যান্সেলার (Jerome Bert Wiesner) কে দেয়া এক রিপোর্টে লিঙ্গ-বৈষম্যের বিভিন্ন বিষয়ের সাথে Sexual Harassment বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করেন। এর কিছু আগে ষাটের দশক থেকে নারী নির্যাতন ভারত উপমহাদেশে আলোচনার টেবিলে আসে, এবং খবরের কাগজে বিভিন্ন সংস্থায়, প্রতিষ্ঠানে, সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারী নির্যাতন, লীঙ্গ বৈষম্যের বাস্তব চিত্র প্রকাশিত হতে থাকে। তখনো ইভ টিজিংকে যৌন হয়রানি বা Sexual Harassment হিসেবে ধরা হতো না। ১৮৩৭ সালের ১৪ অক্টোবর টমাস বাবিংটন ও তার সহযোগীদের প্রস্তাবিত (২৩ বছর পর ১৮৬০ সালে গৃহীত) ইন্ডিয়ান Penal Code এ ইভ টিজিং আর সেক্সুয়েল হ্যারাসমেন্ট ব্যাপারটির কোন উল্লেখই ছিলনা। সেখানে তিন ক্যাটাগরিতে যে ভাবে যৌন নির্যাতনকে সঙ্গায়িত ও তদানুসারে শাস্তির বিধান করা হয়েছিল তাতে ইভ টিজিং বা Sexual Harassment কিংবা যৌন হয়রানির উল্লেখ না থাকারই কথা। মনে করা হতো, জোর পূর্বক দৈহিক মিলন বা ধর্ষণ অথবা গায়ে হাত না দেয়া পর্যন্ত Sexual Offence হয় না। অর্থাৎ ইভ টিজিং কোন অপরাধ হিসেবেই গণ্য হতো না। সুতরাং আইনের চোখে এর কোন শাস্তিও নেই।

অপরাধ আইনের দন্ড-বিধি, শাস্তির বিধান, সেই বৃটিশ আমল থেকে ভারত, তারপর পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত প্রায় অপরিবর্তিতই থেকে গেছে। সময়ের পরিবর্তনে অপরাধের আকার-ধরণ, রূপের পরিবর্তন ও বিস্তৃতি যেমন ঘটেছে, তেমনি আইনি পুস্তকে বা বিধানেও উভয় কুল (শ্যম ও ঘর) বজায় রেখে কিছুটা পরিবর্তন সংযোজন হয়েছে। মূলত ভারতে ৬০ সালেই ইভ টিজিং এর কুৎসিত চেহারা প্রকাশ হতে থাকে যদিও মুসলিম প্রধান দেশ পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ বা নীতিনির্ধারকগণ তা দেখতে সক্ষম হন নি, অথবা সচেতন ভাবেই তারা বিষয়টি আলোচনার বাইরে রেখেছিলেন। বলা বাহুল্য তারাও যে একই সিস্টেম বা ধারায়, একই কুসংস্কার ও প্রথায় বিশ্বাসী ছিলেন, এবং আজও আছেন। ভাবখানা এ রকম যে, আদমের পুত্র, ইভের মেয়েকে টিজিং করবে, এ এমন অপরাধ কি?

httpv://www.youtube.com/watch?v=dv052M99HWI

১৯৮৮ সালে সর্বপ্রথম ভারতে দ্যা নিউ দিল্লি প্রভিন্সিয়েল পার্লামেন্ট ‘The Delhi Prohibition of Eve-teasing Act- 1988’ নামে ‘ইভ টিজিং’ এর উপর একটি নতুন আইন পাস করেন। ৯৮ থেকে ভারতের প্রত্যেক প্রদেশই ‘ইভ টিজিং’ রোধে সক্রীয় হয়ে উঠে। ‘যৌন হয়রানি’ কে ‘বেইলের-অযোগ্য’ অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশে ১৯৭৬ সালে ‘দ্যা ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ অর্ডিন্যান্স’ (DMPO) ইভ টিজিং নাম পরিবর্তন করে ‘ওমেন টিজিং’ নাম দিয়ে একে সঙ্গায়িত করেন এভাবে – “willful and indecent exposure of ones person in any street or public place within sight of, and in such manner as may be seen by, any woman, whether from within any house or building or not, or willful pressing or obstructing any woman in a street or public place or insulting or annoying any woman by using indecent language or making indecent sounds, gestures, or remarks in any street or public place”. ‘ওমেন টিজিং’ এর শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছর কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানা। উল্লেখ্য জাতীয় পর্যায়ে এলাকা ভিত্তিক এই অধ্যাদেশের কোন কার্যকারিতা নেই।

২০০০ সালে এসে বাংলাদেশ সরকার নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্ত কঠিন! আইন প্রণয়নের উদ্দ্যোগ নেন। তখনই সর্বপ্রথম যৌন-হয়রানি বা sexual harassment এর ব্যাপারটি আলোচনায় তুলা হয়। ‘যৌন-হয়রানি’কে সঙ্গায়িত করা হয় এভাবে- “if a man, with a view to fulfilling his illegal sexual desire outrage a woman’s modesty or makes erotic gesture, such act of the man will amount to sexual harassment”. এই প্রথম বারের মত নীতিনির্ধারকগণ বুঝতে পারলেন, গায়ে হাত না দিয়েও নারীকে অপমান করা যায়। ২০০৩ সালে ‘যৌন-হয়রানি’র কারণে আত্মহত্যার ঘটনা সরকারের নজরে আসে। বলা হলো-‘যৌন-হয়রানি’র কারণে কোন নারী যদি আত্মহত্যা করে তাহলে অপরাধীর শাস্তি হবে সর্ব নিম্ন ৫ বছর ও সর্বোচ্চ দশ বছর কারাদন্ড। তবে শর্ত হলো অপরাধীর শাস্তি ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর করা হবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত না আত্মহত্যাকারী মৃত্যবরণ করেছে। যথার্থ আইনই বটে!

‘ইভ টিজিং’ এর শা’নে নুজুল-

সাপের (শয়তান) পরামর্শে আদি মাতা হাওয়া (ইভ) পিতা আদমকে ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করে জ্ঞানবৃক্ষের ফল ভক্ষণ করতে প্ররোচিত করেছিলেন। আদেশ অমান্য করার কারণে ঈশ্বর আদমকে চাষাবাদ করে খাওয়ার শাস্তি দিলেন আর হাওয়াকে দিলেন কঠিন প্রসব বেদনা। হাওয়াকে টিজিং শুধু ঈশ্বরই করেন নি, আদমও তাকে জয়তুন গাছের ডাল দিয়ে প্রহার করেছিলেন। আদিপুস্তক থেকে শুরু করে শেষ পুস্তক কোরান পর্যন্ত শত-সহস্র বৎসর যাবত সকল ধর্মগ্রন্থ এই শিক্ষাই মানুষকে দিয়ে আসছে যে, নারী হাওয়া, পুরুষ আদমের সেবিকা। আদমের ভোগ্য সম্পত্তি হিসেবে সৃষ্ট নারী ইভ একজন প্রতারণাকারিনী, নির্বোধ, আদেশ অমান্যকারিণী, অশুচী, অপবিত্র, ছলনাময়ী যার পাপের প্রায়শ্চিত্ব করতে স্বর্গসুখ ত্যাগ করে মানুষের পৃথিবীতে আগমন। যেদিন থেকে ধর্মগ্রন্থ ইভের জন্ম দিয়েছে, সেদিন থেকে ইভ-টিজিং এরও জন্ম। ধর্ম যেমন সারা বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে আছে তেমনি যুগে-যুগে দেশে-দেশে প্রতিটি সমাজে এই ইভ-টিজিং ছিল আজও অব্যাহত আছে। ইভকে আদম ও ঈশ্বর কর্তৃক টিজিং করার এই হলো শানে নুজুল।

ইভের কলংক দিয়ে রচিত কাহিনী যে মিথ্যা নাটক তা পৃথিবীর অন্যান্য যায়গায় যখন জানাজানি হয়ে গেছে, ধর্ম যাজকেরাও এ ব্যাপারে মুখ বন্ধ করে ফেলেছেন, মুসলিম দুনিয়ায় পুরোদমে তখন ইভের কলংককে সত্য বলে প্রমান করার জোর চেষ্টা চলছে। বলা হলো, রাস্তায় ইভকে দেখে পয়গাম্বরের বীর্যস্কলনের উপক্রম হয়, এ হতে পারেনা। ইভকে গৃহে বন্দী করে রাখা হউক। অগত্যা কোন কারণে যদি বাহিরে যেতে দিতে হয়, তাকে যেন বস্তা-বন্দী করে পাঠানো হয়। বোরকা, হিজাব, নিকাব না পড়া যদি ইভ টিজিং এর কারণ হতো, তাহলে পশ্চিমা দেশের সকল নারীরা আত্মহত্যা করে ফেলতো, সে সব দেশ এতদিনে নারীশুণ্য হয়ে যেত। বাংলাদেশে প্রকাশ্যে মাঠে ময়দানে হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ইভকে তুলনা করা হয় মুল্যবান সম্পদ স্বর্ণালংকারের সাথে, কুকুরের লেজের সাথে, দুধাল গাভীর সাথে। দুধাল গাভী বাহিরে আসলে বুড়োরাও চোখ ফিরে তাকায়, যুবকেরা তো হাত দিয়ে ছুঁতে চাইবেই। ইভ হলো গাছের পাকা বরই, পাহারাহীন বরই গাছে যে কেউ ঢিল ছুঁড়তে পারে। এখানে যুবকদের আর কতটুকু দোষ দেয়া যায়? ১৯৮০ সালে সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে যে মৌলানা বাংলাদেশ মহিলা পু্লিশদেরকে অশ্লীল যৌনউত্তেজক নোংরা ভাষায় টিজিং করলেন তিনিই পরবর্তিতে হলেন এ দেশের সাংসদ। জন্ম থেকে যে যুবকটি তার সমাজ তার ধর্ম তার দেশ কর্তৃক ইভকে টিজিং করতে দেখেছে, তাকে ইভ টিজিং এর অপরাধে শাস্তি দেয়ার আগে আসল দোষীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিৎ নয় কি?

httpv://www.youtube.com/watch?v=aJTWwmilkQ0

About the Author:

আকাশ মালিক, ইংল্যান্ড নিবাসী লেখক। ইসলাম বিষয়ক প্রবন্ধ এবং গ্রন্থের রচয়িতা।

মন্তব্যসমূহ

  1. অচেনা নভেম্বর 2, 2011 at 9:00 অপরাহ্ন - Reply

    ১৯৮০ সালে সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে যে মৌলানা বাংলাদেশ মহিলা পু্লিশদেরকে অশ্লীল যৌনউত্তেজক নোংরা ভাষায় টিজিং করলেন তিনিই পরবর্তিতে হলেন এ দেশের সাংসদ।

    এটা বাংলাদেশ না? যেখানে ৭১ এর বেইমান রা মন্ত্রি হয় আর তাদের গাড়ি তে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ে?কাজেই ঐ মৌলানা সাহেব সাংসদ হবেন, এতে অবাক হবার কি আছে? না হলেই বরং অবাক হতে হবে।

    “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি সকল দেশের ………… সে যে, আমার জন্মভুমি” :-Y

  2. গোলাপ নভেম্বর 9, 2010 at 9:13 পূর্বাহ্ন - Reply

    @আকাশ মালিক,

    আদিপুস্তক থেকে শুরু করে শেষ পুস্তক কোরান পর্যন্ত শত-সহস্র বৎসর যাবত সকল ধর্মগ্রন্থ এই শিক্ষাই মানুষকে দিয়ে আসছে যে, নারী হাওয়া, পুরুষ আদমের সেবিকা। আদমের ভোগ্য সম্পত্তি হিসেবে সৃষ্ট নারী ইভ একজন প্রতারণাকারিনী, নির্বোধ, আদেশ অমান্যকারিণী, অশুচী, অপবিত্র, ছলনাময়ী যার পাপের প্রায়শ্চিত্ব করতে স্বর্গসুখ ত্যাগ করে মানুষের পৃথিবীতে আগমন।

    ধর্মগ্রন্থে যতগুলো ‘কিছসা’ কাহিনীর বর্ননা আছে তার মধ্যে এই গল্পটা সবচেয়ে বেশি Disgusting. ধর্ম গ্রন্থগুলোর লেখক যে মর্তের এক শ্রেনীর ‘ধুরুন্ধর’ মানব সন্তান তার প্রমান এই গল্পটি।

    তথ্যবহুল প্রবন্ধটির জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

  3. আদিল মাহমুদ নভেম্বর 7, 2010 at 7:33 অপরাহ্ন - Reply

    ইভ টিজিং এর আইনী দিক বা বিকাশ আগে জানতাম না। ভাবতে অবাক লাগে মাত্র ৭৬ সালীতাকে অপরাধ হিসেবে গন্য করা শুরু হয় এবং ২০০০ সালে শাস্তির বিধান আসে!

    তবে আদম ঈভের কাহিনী ধর্মওয়ালা ব্রাদারদের মহিলাদের নীচু চোখে দেখার অনুপ্রেরনা দিলেও এই জন্য আজকাল রাস্তা ঘাটে ইভ টিজিং মনে হয় চলে না। ইভ টিজার দল কোন নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসে বিভক্ত না।

    লেখাটা আমার ব্লগে দিতে পারেন। ওখানেই বেশী দরকার।

    • আকাশ মালিক নভেম্বর 8, 2010 at 3:34 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,

      লেখাটা আমার ব্লগে দিতে পারেন। ওখানেই বেশী দরকার।

      না কি এখানে দেবো যারা আমাদেরকে নিয়ে গবেষণা করেন প্রবন্ধ লিখেন?

      বাংলা ডকিন্স মুরিদ “গগণ অধিপতি” সম্প্রতি ঝিকে মেরে বৌকে শেখানোর স্টাইলে বাইবেলের সাপ আর ইভের গল্প দিয়ে শুরু আর শেষ করে ইভ-টিজিং এর দোষ ইসলামের উপর চাপালেন। আহারে যুক্তি!!! নেকড়ের মেষশাবক খাবার ওজোর কিংবা নদী রচনায় গরুকে নদীতে ফেলে হাস্যকর কৌশলে গরু রচনা লেখার চেষ্টা। হাসবো না কাঁদবো।

      ক্রীতদাসেরা নাকি জানে প্রভুদেরকে কীভাবে সন্তুষ্ট করতে হয়। সেই ‘গগণ অধিপতি ক্রীতদাস’ যদি ঝিকে মেরে বৌকে শেখানোর নোংরা জোচ্চুরিটা ইসলামের বিরুদ্ধে না করে অন্য কোন ধর্মের বিরুদ্ধে করত তাহলে তার দাস-মনোবৃত্তির মুখের দিকে তাকিয়ে পিঠের ছাল তোলা না হলেও এতক্ষণে নিদেনপক্ষে তার জোচ্চুরিটা ধরিয়ে দেয়া হতো।

  4. হোরাস নভেম্বর 7, 2010 at 11:11 পূর্বাহ্ন - Reply

    শানে নযুল পড়ে ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার কিছু মুসলিম তরুণ কতৃক ১৬ বছরের এক নন মুসলিম মেয়েকে রেপ করার কাহিনী মিডিয়াতে আসার পর সেদেশের সর্বোচ্চ ইমাম শেখ তাজ আল-দীন এলাহির করা কিছু উক্তির কথা মনে পড়ে গেল। উনি বলেছিলেন:

    “If you take out uncovered meat and place it outside on the street, or in the garden or in the park, or in the backyard without a cover, and the cats come and eat it whose fault is it, the cats or the uncovered meat?” the sheik said in his sermon. “The uncovered meat is the problem. If she was in her room, in her home, in her hijab, no problem would have occurred.

    • লীনা রহমান নভেম্বর 8, 2010 at 6:11 অপরাহ্ন - Reply

      @হোরাস,

      “If you take out uncovered meat and place it outside on the street, or in the garden or in the park, or in the backyard without a cover, and the cats come and eat it … whose fault is it, the cats or the uncovered meat?” the sheik said in his sermon. “The uncovered meat is the problem. If she was in her room, in her home, in her hijab, no problem would have occurred.“

      :guli: :guli: :guli:

  5. মোজাফফর হোসেন নভেম্বর 7, 2010 at 9:03 পূর্বাহ্ন - Reply

    ‘ইভ টিজিং’ সম্পর্কে এতো কিছু জানতাম না। শা’নে নুজুল-এ যে ব্যাখ্যাটা দিয়েছেন তা দুর্দান্ত হয়েছে। ধন্যবাদ লেখাটি শেয়ার করার জন্য।

  6. বন্যা আহমেদ নভেম্বর 7, 2010 at 9:01 পূর্বাহ্ন - Reply

    আকাশ মালিক, ধন্যবাদ আপনাকে এই বিষয়টা নিয়ে লেখার জন্য।

    বলা হলো-‘যৌন-হয়রানি’র কারণে কোন নারী যদি আত্মহত্যা করে তাহলে অপরাধীর শাস্তি হবে সর্ব নিম্ন ৫ বছর ও সর্বোচ্চ দশ বছর কারাদন্ড। তবে শর্ত হলো অপরাধীর শাস্তি ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর করা হবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত না আত্মহত্যাকারী মৃত্যবরণ করেছে। যথার্ত আইনই বটে!

    নির্লজ্জতার মনে হয় কোন সীমা নেই এই পৃথিবীতে :-Y ।

    ইভের কলংক দিয়ে রচিত কাহিনী যে মিথ্যা নাটক তা পৃথিবীর অন্যান্য যায়গায় যখন জানাজানি হয়ে গেছে, ধর্ম যাজকেরাও এ ব্যাপারে মুখ বন্ধ করে ফেলেছেন,

    তাই কি? এবিষয়ে আপনার সাথে একটু দ্বিমত করছি। আমেরিকায় অর্ধেকের চেয়েও বেশী মানুষ এখনো বুক ফুলিয়ে আদম ইভকেই আদি পিতামাতা বলে চেঁচিয়ে বেড়ায়। এরাও কিন্তু এখানে ইভ টিজিং করে না। আমাদের দেশে ইভ টিজিং এর পিছনে ধর্ম একটি বড় কারণ এটা নিয়ে সন্দেহ নেই, নারী পুরুষের সম্পর্ক সংক্রান্ত মূল্যবোধগুলোও ধর্ম দিয়ে প্রভাবিত হয় এ নিয়েও সন্দেহ নেই। তবে আমার কাছে মনে হয় এক্ষেত্রে আর্থ সামাজিক কাঠামোর উপর ভিত্তি করে তৈরি মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রীয় আইনগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুঁজিবাদী সমাজের অগ্রগতি আমাদেরকে নারী পুরুষের সম্পর্কগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। যেটা আমাদের দেশে এখনও সেভাবে ঘটেনি।
    বেশ কয়েকটা বানান ভুল এবং টাইপো আছে (যেমন, সন্মন্ধেও, যথার্ত, রাস্থায়, বিরোদ্ধে) ঠিক করে দিবেন কি?

    • আকাশ মালিক নভেম্বর 7, 2010 at 9:23 অপরাহ্ন - Reply

      @বন্যা আহমেদ,

      আমেরিকায় অর্ধেকের চেয়েও বেশী মানুষ এখনো বুক ফুলিয়ে আদম ইভকেই আদি পিতামাতা বলে চেঁচিয়ে বেড়ায়। এরাও কিন্তু এখানে ইভ টিজিং করে না।

      আদম আর ইভকে আদি পিতামাতা বলা এক কথা, আর মাতার কলংক প্রচার করা, মাকে অশুচী, অপবিত্র, নির্বোধ, প্রতারণাকারিণী, ছলনাময়ী, বেশীরভাগ ইভ নরকের বাসিন্দা এই সমস্ত অহরহ মানুষকে বলে বেড়ানো নিশ্চয়ই এক কথা নয়। এদের ধর্মগ্রন্থই তো সকল আবর্জনার মূল। কিন্তু তারা তাদের মনমানসিকতা থেকে এই আবর্জনার অনেকটাই দূর করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এটা এখানে ইভ টিজিং না করার অন্যতম কারণ। এর সাথে অর্থনৈতিক বিষয়টা কতটুকু জড়িত তা নিয়ে তর্ক করা যায়, কিন্তু আমি মনে করি প্রথা, বিশ্বাস, চেতনা, ধারণা অর্থাৎ মানসিক দিকটাই প্রধান। আগে অন্য লেখার একটি মন্তব্যে আমি বলেছিলাম, বেশ কয়েকটি বৎসর ইংল্যান্ডে গরিব, অন্ন-বস্ত্রহীন, গৃহ হারা, বাস্তুহারা যুবকদের সমাজে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কাজ করেছি। অর্থের অভাবে নানাবিধ আকাম-কুকাম, অপকর্মে এরা জড়িত হয় কিন্তু কই, এরা তো ইভ টিজিং করেনা।

      আচ্ছা যাক, আপনি যে আমার লেখা পড়ে মন্তব্য করলেন যা, এ জনমে আর কোনদিন দেখেছি বলে মনে পড়েনা, তা কি ঐ দিনের আপনার তাগিদ পালনের প্রাসাদ। আর তো কেউ বানানগুলো দেখিয়ে দিলেন না। কথা দিলাম আপনার প্রেরণা পেলে আরো লিখবো।

  7. আল্লাচালাইনা নভেম্বর 7, 2010 at 12:20 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনার প্রবন্ধের এই ‘ইভ টিজিং’ এর শা’নে নুজুল- অংশটাতো দেখা যাচ্ছে একেবারে আকাশ মালিকের লেখার মতো হয়েছে! এইরকম লেখা আরও চাই।

    রাস্থায় ইভকে দেখে পয়গাম্বরের বীর্যস্কলনের উপক্রম হয়, এ হতে পারেনা। ইভকে গৃহে বন্দী করে রাখা হউক। অগত্যা কোন কারণে যদি বাহিরে যেতে দিতে হয়, তাকে যেন বস্তা-বন্দী করে পাঠানো হয়।

    তাও ভাগ্য ভালো যে- ৫৭০ সালে লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া আবিষ্কার হয়নাই। হলে হয়তো পিয়ারের নবী কোরানের আয়াত নামিয়ে ফেলতেন যে- “মুমিনগন তাহাদের স্ত্রীদিগের সাথে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হতে পারবে। তবে সঙ্গমের পূর্বে স্ত্রী পার্টনারটির (পার্টনার না বলে বরং রিসিপেন্ট বলি আমরা) জেনিটালিয়া লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া প্রদান পূর্বক অবশ করে নিতে হবে।” :lotpot:

  8. লাইজু নাহার নভেম্বর 6, 2010 at 9:26 অপরাহ্ন - Reply

    ১৯৮০ সালে সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে যে মৌলানা বাংলাদেশ মহিলা পু্লিশদেরকে অশ্লীল যৌনউত্তেজক নোংরা ভাষায় টিজিং করলেন তিনিই পরবর্তিতে হলেন এ দেশের সাংসদ। জন্ম থেকে যে যুবকটি তার সমাজ তার ধর্ম তার দেশ কর্তৃক ইভকে টিজিং করতে দেখেছে, তাকে ইভ টিজিং এর অপরাধে শাস্তি দেয়ার আগে আসল দোষীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিৎ নয় কি?

    এটাই চরম বাস্তবতা বাংলাদেশে!
    এগুলো আসলে হাজার বছরের মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা আবর্জনার পঁচা দূর্গন্ধ!
    আমরা বাস্তবতাকে এড়িয়ে গেছি শত শত বছর ধরে।
    কোন প্রতিবাদ করিনি, উপযুক্ত ব্যবস্থা নেইনি, তাই নিজেদের তৈরী ফ্রাঙ্কেসটাইন আমাদের বিষদাঁত দিয়ে কামড়ে রক্ত ঝড়াচ্ছে!

    • আকাশ মালিক নভেম্বর 7, 2010 at 8:58 পূর্বাহ্ন - Reply

      @লাইজু নাহার,

      তাফসির মাহফিলে এক মৌলানা কিচ্ছা বললেন-
      পাকিস্তান আমলে সুট-কোট পরা এক শিক্ষিত ভদ্র লোক ঢাকার রাস্থায় গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ট্রাফিক পুলিশ হুইসেল ফুঁকে গাড়ি থামায়ে দিলো। পুলিশ বললো-
      – ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখান।
      – লাইসেন্স তো ঘরে রেখে এসেছি।
      – পাশে বসা উনি কে?
      – জ্বী, উনি আমার স্ত্রী।
      – কিয়া বোলতা হ্যায়, জিস চিজ ঘর মে রাখনা হ্যায়, উসকো বাহার লে আয়া, আওর জিস চিজ গাড়ি মে রাখনা হ্যায়, ও ঘর চুড়কে আয়া। আপ মুসলমান নেহি, বেকুব হ্যায় কিয়া?

      সেদিন আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে মৌলানা সাঈদী সাহেব বলেছিলেন-
      শহরের চৌ-রাস্থার পয়েন্টে দেখলাম এক পুলিশ রমণী, ভরা যৌবনের ষোড়ষী, তরুণী-তন্নী, সুডৌল বক্ষ উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছেন ১২ কোটি মানুষের পাহারার দায়ীত্বে। তার নিজের পাহারা দিতে পুরুষ লাগে ১০জন, সে দিবে মানুষের নিরাপত্তা? এ হলো তা-গুতি মতবাদের উন্নয়নের নমুনা।

      • লীনা রহমান নভেম্বর 8, 2010 at 6:05 অপরাহ্ন - Reply

        @আকাশ মালিক,

        তাফসির মাহফিলে এক মৌলানা কিচ্ছা বললেন-
        পাকিস্তান আমলে সুট-কোট পরা এক শিক্ষিত ভদ্র লোক ঢাকার রাস্থায় গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ট্রাফিক পুলিশ হুইসেল ফুঁকে গাড়ি থামায়ে দিলো। পুলিশ বললো-
        – ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখান।
        – লাইসেন্স তো ঘরে রেখে এসেছি।
        – পাশে বসা উনি কে?
        – জ্বী, উনি আমার স্ত্রী।
        – কিয়া বোলতা হ্যায়, জিস চিজ ঘর মে রাখনা হ্যায়, উসকো বাহার লে আয়া, আওর জিস চিজ গাড়ি মে রাখনা হ্যায়, ও ঘর চুড়কে আয়া। আপ মুসলমান নেহি, বেকুব হ্যায় কিয়া?

        সেদিন আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে মৌলানা সাঈদী সাহেব বলেছিলেন-
        শহরের চৌ-রাস্থার পয়েন্টে দেখলাম এক পুলিশ রমণী, ভরা যৌবনের ষোড়ষী, তরুণী-তন্নী, সুডৌল বক্ষ উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছেন ১২ কোটি মানুষের পাহারার দায়ীত্বে। তার নিজের পাহারা দিতে পুরুষ লাগে ১০জন, সে দিবে মানুষের নিরাপত্তা? এ হলো তা-গুতি মতবাদের উন্নয়নের নমুনা।

        :guli: :guli: :guli:
        ইসলামী সভা সমিতি ও ঘরোয়া আলোচনায় অহরহ নারীর আসল ও একমাত্র জায়গা ঘর বলে প্রচার করা হয়।অনেকে এজন্যই রাস্তায় নারীর অপমানকে তাদের বেহায়ার মত ঘরের বাইরে বের হওয়াকে মনে করে। হায়্রএ এসব দেখলে মেজাজের কি অবস্থা হয় তা আর নাই বা বললাম :-X

  9. বিপ্লব রহমান নভেম্বর 6, 2010 at 7:32 অপরাহ্ন - Reply

    ইভটিজিং বা যৌন নিপীড়ন যা-ই বলি না কেন– এটি মূলত লিঙ্গীয় সন্ত্রাসেরই একটি রূপ। লিঙ্গীয় বৈষম্য ও সন্ত্রাস নির্মূল করেই সব ধরণের যৌন নিপীড়নের অবসান ঘটাতে হবে। এ জন্য চাই মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।

    লেখককে বিষয়টি ফোকাস করার জন্য ধন্যবাদ। :rose:

  10. লীনা রহমান নভেম্বর 6, 2010 at 3:25 অপরাহ্ন - Reply

    ধন্যবাদ এ বিষয়ে লেখার জন্য। কারণ এটা খুবই জরুরি বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে। পুরো সমাজের মূল্যবোধকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন নারী-পুরুষের সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে।

    তবে শর্ত হলো অপরাধীর শাস্তি ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর করা হবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত না আত্মহত্যাকারী মৃত্যবরণ করেছে। যথার্ত আইনই বটে!

    :-Y

    বাংলাদেশে প্রকাশ্যে মাঠে ময়দানে হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ইভকে তুলনা করা হয় মুল্যবান সম্পদ স্বর্ণালংকারের সাথে, কুকুরের লেজের সাথে, দুধাল গাভীর সাথে। দুধাল গাভী বাহিরে আসলে বুড়োরাও চোখ ফিরে তাকায়, যুবকেরা তো হাত দিয়ে ছুঁতে চাইবেই। ইভ হলো গাছের পাকা বড়ই, পাহারাহীন বড়ই গাছে যে কেউ ঢিল ছুঁড়তে পারে।

    আজ একটি ঘটনায় খুব দুঃখ পেলাম। আজ আমার সামনে আমার মা আর বান্ধবী বলছিল যে মেয়েদের উগ্র কাপড় পরার কারণেই নাকি ইভ টিজিং হয় তাদের সাথে। আমার ঐ বান্ধবীও একমত হল আর ঐ সুযোগে আমাকে বয়ান দিয়ে দিল যে বোরকা পরা ইহকাল ও পরকাল উভয়ের জন্যই কত জরুরি (আমি যে এখন বোরকা পরিনা এবং নামাজ পড়িনা এজন্য আমার মা খুবই ক্ষিপ্ত আমার উপর)। মা বলল যারা বোরকা পরে তাকে নাকি যুবকেরা সম্মান করে সাইড দেয় রাস্তায় আর যারা পরেনা তাদেরই গায়ে হাত দেয়। আমি তখন প্রশ্ন করলাম সৌদি আরবে কেন ইভ টিজিং হয়?, আমি যখন বোরকা পরতাম তখন কেন আমাকে টিজ করা হত? তখন মা গেল ক্ষেপে।প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সে বলল আমি নাকি নাফরমান হয়ে গেছি ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন আমি তাকে প্রশ্ন করলাম “তোমাকে কেন ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় ছেলেরা বিয়ের প্রস্তাব দিত?তুমি কি উগ্র ছিলে? তাহলে ঐ ছেলের প্রস্তাবের কারণে তোমার স্কুলে পড়া কেন বন্ধ হয়ে গেছিল প্রায়? তুমি কেন মার খেতে গিয়েছিলে মামাদের হাতে?” বলাই বাহুল্য সে একথার জবাব দিলনা। মা সবসময়ই বলে মেয়ে রাস্তার ধারের বরই গাছের মত যাকে পথের লোক ঝাকি দেবেই :-X
    আমার নিজের ঘরে যখন এই অবস্থা দেখি তখন মাঝে মাঝে আমার এখানে লেখালেখি ফাকা বুলির মত লাগে। আমার মা-বোন-বান্ধবীদেরকেই তো বোঝাতে পারলামনা আজো 😥 😥

    • রৌরব নভেম্বর 6, 2010 at 6:08 অপরাহ্ন - Reply

      @লীনা রহমান,

      মেয়েদের উগ্র কাপড় পরার কারণেই নাকি ইভ টিজিং হয় তাদের সাথে।

      :-X :-X সহ্য করা মুশকিল। এই inverted নৈতিকতা আর কতদিন?

      • বিপ্লব রহমান নভেম্বর 6, 2010 at 7:35 অপরাহ্ন - Reply

        @রৌরব,

        আজ আমার সামনে আমার মা আর বান্ধবী বলছিল যে মেয়েদের উগ্র কাপড় পরার কারণেই নাকি ইভ টিজিং হয় তাদের সাথে। আমার ঐ বান্ধবীও একমত হল আর ঐ সুযোগে আমাকে বয়ান দিয়ে দিল যে বোরকা পরা ইহকাল ও পরকাল উভয়ের জন্যই কত জরুরি…

        বোরখাও লিঙ্গীয় তথা যৌন নিপীড়নের একটি ধর্মীয় রূপ।

    • আকাশ মালিক নভেম্বর 7, 2010 at 8:10 পূর্বাহ্ন - Reply

      @লীনা রহমান,

      আমার নিজের ঘরে যখন এই অবস্থা দেখি তখন মাঝে মাঝে আমার এখানে লেখালেখি ফাকা বুলির মত লাগে। আমার মা-বোন-বান্ধবীদেরকেই তো বোঝাতে পারলামনা আজো

      এখানে আক্ষেপ করার কিছু নেই। আপনার মা-বোন-বান্ধবীদের তো কোন দোষ দেখিনা। সিস্টেম, প্রথা, কুসংস্কারের ভিকটিম এরা সবাই, আপনার আমার আরো অনেকের আত্মীয়-স্বজন। এ প্রথা ভেঙ্গে নতুন সমাজ গড়া, নতুন প্রজন্মকে নতুন সুন্দর দিনের সপ্ন দেখানো আমাদের দায়ীত্ব। আমাদের লেখনী এ দায়ীত্ব পালনের একটি অন্যতম পন্থা।

  11. সুমিত দেবনাথ নভেম্বর 6, 2010 at 1:21 অপরাহ্ন - Reply

    ইভটিজিং নিয়ে বেশী করে আলোচনার প্রয়োজন। তখনই সমাধান ব্যর হয়ে আসবে। আকাশ মালিককে ধন্যবাদ এই গুরুত্বপূর্ণ লেখাটি উপস্থাপনের জন্য।

  12. গীতা দাস নভেম্বর 6, 2010 at 12:38 অপরাহ্ন - Reply

    ইভের কলংক দিয়ে রচিত কাহিনী যে মিথ্যা নাটক তা পৃথিবীর অন্যান্য যায়গায় যখন জানাজানি হয়ে গেছে, ধর্ম যাজকেরাও এ ব্যাপারে মুখ বন্ধ করে ফেলেছেন, মুসলিম দুনিয়ায় পুরোদমে তখন ইভের কলংককে সত্য বলে প্রমান করার জোর চেষ্টা চলছে।

    এ প্রচেষ্টা কিন্তু মন্ত্রী আর সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে এখনো অহরহ ঘটছে। আর ঘটবে ই বা না কেন? যেখানে

    ১৯৮০ সালে সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে যে মৌলানা বাংলাদেশ মহিলা পু্লিশদেরকে অশ্লীল যৌনউত্তেজক নোংরা ভাষায় টিজিং করলেন তিনিই পরবর্তিতে হলেন এ দেশের সাংসদ।

    যাহোক, ঈভ টিজিং প্রতিরোধে জন সচতনতার বিকল্প নেই। কাজেই এর প্রতিবাদে লিখুন। অন্যক জানান। নিজে জানুন। পড়ুন।
    ধন্যবাদ আকাশ মালিককে তার ঈভ টিজিং এর আদিকথা বিষয়ক লেখাটির জন্য।

  13. নিটোল নভেম্বর 6, 2010 at 11:51 পূর্বাহ্ন - Reply

    শুধুমাত্র শাস্তি নয়, ছেলেদের মানসিকতাও যাতে সুস্থভাবে গড়ে উঠে সে দিকে প্রথমে নজর দিতে হবে। যারা ‘ইভ টিজিং’, বা যে নামে ডাকিই না কেনো, করে তারা মনেই করে না যে তারা একটি অন্যায় করছে। বেশিরভাগ সময়ই তাদের দাবি- তারা স্রেফ মজা করার জন্যই নাকি কোনো মেয়েকে টিজ করে। তাদের মজা করে করা কর্মকান্ড যে অপর এক মানুষের জীবন বিপন্ন করে ফেলতে পারে- এই মানসিকতা তাদের মধ্যে গড়ে উঠে নি বা গড়ে তোলা হয় নি। তাই নতুন প্রজন্মের সামাজিকীকরণে ইভ টিজিং এর উপর সুস্পষ্ট শিক্ষা দেয়াটা এখন সময়ের দাবি।

    আকাশ মালিককে ধন্যবাদ এমন একটি লেখা উপহার দেয়ার জন্য।

    • সুমিত দেবনাথ নভেম্বর 6, 2010 at 1:17 অপরাহ্ন - Reply

      @নিটোল, আমি আপনার সাথে একমত, শুধু আইন প্রণয়ন বা শাস্তি নয় সঠিক শিক্ষাদানের একটা বড় ভূমিকা রয়ে গেছে।

    • আকাশ মালিক নভেম্বর 6, 2010 at 9:17 অপরাহ্ন - Reply

      @নিটোল,

      শুধুমাত্র শাস্তি নয়, ছেলেদের মানসিকতাও যাতে সুস্থভাবে গড়ে উঠে সে দিকে প্রথমে নজর দিতে হবে। যারা ‘ইভ টিজিং’, বা যে নামে ডাকিই না কেনো, করে তারা মনেই করে না যে তারা একটি অন্যায় করছে।

      এই হলো আমার কথা। ছেলে, মা বাবাকে আবদার করে নাই তাকে জন্ম দেয়ার জন্য, মা বাবা নিজের সখেই তাকে জন্ম দিয়েছেন। ছেলে, বখাটে হয়ে বড় হতে চায় নি, আমরাই তার জন্যে এ ভাবে বড় হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছি। ছেলে ইভ টিজিং কী জানতোই না, আমরা ছোত বেলায়ই তার মনে মানসে ইভ টিজিং এর বীজ বোপন করে দিয়ছি। এ অপরাধের শাস্তি সে একা কেন ভোগ করবে?

      ধর্ম সমাজের, রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, মানুষের রক্তে শিরা-উপশিরায় বিষ ঢেলে রেখেছে। এ থেকে পরিত্রাণের সহজ আশু উপায় নেই, তবে আমাদেরকে তো অবশ্যই চেষ্টা করে যেতে হবে।

  14. ধ্রুব নভেম্বর 6, 2010 at 11:45 পূর্বাহ্ন - Reply

    ইভ টিজিংয়ের মনস্তত্ত্ব নিয়ে মহান বুজুর্গ, আল্লামা গোলাম আজমের ব্যাখ্যামূলক এই ভিডিওটা ৫ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড থেকে দেখা যেতে পারে:

    httpv://www.youtube.com/watch?v=pBkueymLgEg#t=5m45s

  15. সংশপ্তক নভেম্বর 6, 2010 at 11:20 পূর্বাহ্ন - Reply

    @আকাশ মালিক,

    ১৮৩৭ সালের ১৪ অক্টোবর টমাস বাবিংটন ও তার সহযোগীদের প্রস্তাবিত (২৩ বছর পর ১৮৬০ সালে গৃহীত) ইন্ডিয়ান Penal Code এ ইভ টিজিং আর সেক্সুয়েল হ্যারাসমেন্ট ব্যাপারটির কোন উল্লেখই ছিলনা। সেখানে তিন ক্যাটাগরিতে যে ভাবে যৌন নির্যাতনকে সঙ্গায়িত ও তদানুসারে শাস্তির বিধান করা হয়েছিল তাতে ইভ টিজিং বা Sexual Harassment কিংবা যৌন হয়রানির উল্লেখ না থাকারই কথা। মনে করা হতো, জোর পূর্বক দৈহিক মিলন বা ধর্ষণ অথবা গায়ে হাত না দেয়া পর্যন্ত Sexual Offence হয় না। অর্থাৎ ইভ টিজিং কোন অপরাধ হিসেবেই গণ্য হতো না। সুতরাং আইনের চোখে এর কোন শাস্তিও নেই।

    ভারতীয় ফৌজদারী দন্ডবিধি ১৮৬০ (এবং বাংলাদেশ দন্ডবিধিতে এখনও বহাল আছে) -এর যে তিনটি ধারা অনুযায়ী আপনার মতে “জোর পূর্বক দৈহিক মিলন বা ধর্ষণ অথবা গায়ে হাত না দেয়া পর্যন্ত Sexual Offence হয় না ” – এটা সটিক নয় বরং বাংলাদেশ দন্ডবিধিতে এব্যপারে আইন রয়েছে । দেখা যাক ঐ তিনটি ধারায় কি বলা হয়েছে যদিও আপনি তা উল্লেখ করেননি । বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনের ব্যাখ্যায় ইংরাজী ব্যবহার করে বিধায় ফৌজদারী দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা তিনটি হুবুহু নিচে দেয়া হল :

    Assault or criminal force to woman with intent to outage her modesty

    Section 354
    Whoever assaults or uses criminal force on any woman, intending to outrage her modesty or knowing it likely that he will thereby outrage her modesty, shall be punished with imprisonment for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

    উপরে কোন নারীর উপর অসৎ উদ্দেশ্যে (শ্লীলতাহানির) সজ্ঞানে বলপ্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। সর্বোচ্চ দু বছর সাজাসহ অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে। এখানে ধর্ষন কোন বিষয় নয়।

    Word, gesture or act intended to insult the modesty of a woman

    Section 509
    (Word, gesture or act intended to insult the modesty of a woman) This is included in Chapter 22 entitled ‘Of Criminal Intimidation, Insult and Annoyance’, and is cognisable, bailable and triable by any magistrate. It holds: ‘Whoever, intending to insult the modesty of a woman, utters any word, makes any sound or gesture, or exhibits any object, intending that such word or sound shall be heard, or that such gesture is seen by such woman, or intrudes upon the privacy of such woman, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.’

    উপরের বক্তব্য পুরো পরিস্কার এবং তাতেও না কুলোলে রয়েছে নীচের ধারাটি :

    Obscene acts and songs

    Section 294
    Whoever, to the annoyance of others, (a) does any obscene act in any public place, or (b) sings, recites and utters any obscene songs, ballads or words, in or near any public space, shall be punished with imprisonment of either description for a term that may extend to three months, or with fine, or with both.’ This provision is included in Chapter XVI entitled ‘Of Offences Affecting Public Health, Safety, Convenience and Morals’ and is cognisable, bailable and triable by any magistrate.

    ফৌজদারী দন্ডবিধি ছাড়াও বাদীকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার দায়ে দেওয়ানী মামলা করা যেতে পারে। সুবিচার নিশ্চিত করতে অাদালতের কাছে বাদী-বিবাদী সবাই সমান এবং কোন prima facie মামলা না হলে বাদীকেই burden of proof বহন করতে হয়। পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করলেই কাহিনী শেষ নয়। এছাড়া পুলিশের দেয়া সাক্ষ্য নিম্ন আদালত মানলেও হাইকোর্ট অথবা উচ্চতর আদালতে না টেকার সম্ভাবনাই বেশী। অপরাধীকে সাজা দেয়ার জন্য বাদীকেই অগ্রনী ভুমিকা নিতে হবে , সাক্ষ্য দিতে হবে যা সারা বিশ্বেই এক। এসব না মানলে যৌতুক আইনের মত এর ব্যপক অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

    • আকাশ মালিক নভেম্বর 6, 2010 at 7:19 অপরাহ্ন - Reply

      @সংশপ্তক,

      মূল সুরটা ছিল ইভ টিজিং বা সেক্সসুয়েল হ্যারাসমেন্ট শব্দের অনুপস্থিতি। তারপর যতটুকুই আছে বা ছিল সেই আইনের যথাযত প্রয়োগ থাকলে আজ হয়তো ইভ টিজিং এই মহামারি আকার ধারণ করতো না।

      ধন্যবাদ, আপনার বিশ্লেষণাত্বক মন্তব্যের জন্যে।

মন্তব্য করুন