ছোটবেলা থেকে অনেক বাধা ধরা সংস্কার শুনেছি এবং মানুষকে সেইসব সংস্কার মানতে দেখেছি ।ছোটবেলায় এই সব সংস্কার না মানলে বড়রা বলত আজকালকের ছেলেমেয়েরা তা মানতে চায় না শুধু যুক্তি খোঁজে আমরা তো ছোটবেলায় তা করিনি বড়রা যা বলেছেন তাই মেনে নিয়েছি। একটু যখন বড় হলাম তখন বিভিন্ন সংস্কারের বৈজ্ঞানিক ব্যাখা শুনতে পেলাম কারণ আজকাল জনগন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ছাড়া কিছু গিলতে চায় না। তাই অনেক অবিজ্ঞানকেও বিজ্ঞান করতে হয়। কিছু রীতিনীতি আমি এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করব যার প্রত্যক্ষ ফলাফল আমি নিজের চোখে দেখেছি।
আমি ছোট বেলা থেকেই সবকিছূর উপর একটা অনুসন্ধান দৃষ্টি দিয়ে দেখার চেষ্টা করি যাচাই বাছাই করে দেখি সেই রীতিনীতির কোন সুফল মানব জীবনে আছে কিনা। যাই হোক প্রথমত আমি আসি বিড়াল চরিত্রে, বিড়াল নিয়ে একটা জনপ্রিয় রীতি আছে যে বিড়াল যদি রাস্তা পার হয় তা হলে পেছনে থাকা যানবাহন ও মানুষের দূর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী এবং তা থেকে উদ্ধারের পথ হল সেখানে সাথে সাথে ব্র্যাক কষে বা দাড়িয়ে থেকে অন্য যানবাহন বা মানুষের রাস্তা পার হওয়ার অপেক্ষা করা। পরবর্তী সময়ে বিবর্তনীয় ধারায় শুনতে পেলাম একটু সময় দাড়িয়ে যাত্রা শুরু করলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব সঙ্গে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পশুপাখী অগ্রীম অনেক কিছু জানতে পারে। আর জীবনে অনেক বিড়াল সামনে ক্রস করেছে কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়িনি। তো এই প্রসঙ্গে একটা ঘটনা বলি একবার ধর্মনগর থেকে আগরতলা যাওয়ার পথে কুমারঘাট নামক স্থানে যথারীতি বাস থামল। তো বাস থেকে নেমে খোলা হাওয়া খাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটা কমান্ডার জিপের কড়া ব্র্যাক কষা শুনলাম মুহুর্ত্যের মধ্যে পেছনে আসা মারুতি, জীপ, বাইকের একটা লন্ড ভন্ড কান্ড। কিছুক্ষনের মধ্যে এম্বুলেন্স এসে গুরুতর আহত অবস্থায় ৮ জনকে হাসপাতালে নিয়ে গেল। ঘটনার বিবরণ এই একটা বিড়াল রাস্তা দিয়ে পার হওয়ার ফলে সামনে থাকা কমান্ডার জীপটি প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ব্র্যাক কষে আর পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগতির গাড়িগুলি টাল সামলাতে না পেরে এই ঘটনা। সেই ঘটনাকে কি বলা যাবে? নিশ্চয়ই গাড়ীটি ব্র্যাক না কষলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা ছিল না। এর ব্যাখ্যা কুসংস্কারের ধারক ও বাহকরাই বেশী দিতে পারবেন। তারপর আছে এই বিড়াল নিয়ে ধুর্ত ব্রাক্ষণদের সাজানো রীতি যদি কোন অব্রাক্ষণ বিড়াল মারে তা হলে একটা সোনার বিড়াল ব্রাক্ষনকে দান করতে হয়। ভারতের গ্রামাঞ্চলে গেলে আজও এই রীতি আপনার চোখে পড়বে। গ্রামাঞ্চলে যদি কেউ সামাজিক নিয়ম না মানে তা হলে তাকে পাঁচের বাদ করা হয় অর্থাৎ সমাজ থেকে বহিষ্কার করে একা করে দেওয়া হয়। ব্যক্তি স্বাধীনতার সেখানে কোন দাম নেই। সমাজের অন্যায় নিয়মেরও প্রতিবাদ করা যায় না। আরেকটা সামাজিক বৈষম্য শুধু গ্রামাঞ্চলে নয় শহরাঞ্চলেও বিদ্ধমান তা হল ব্রাক্ষণ ভোজন কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্রাক্ষণদের আলাদা করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয় এবং দক্ষিণা দেওয়া হয়। তাতে আপনি অপমান বোধ করতে পারেন যখন আপনার সামনেই এই অনৈতিক অধ:পতন আপনি দেখবেন। যে ব্যাক্তি এই সন্মান পেলেন তিনি সমাজের কোন কুখ্যাত, মাতাল, দুশ্চরিত্র হতে পারেন। আর একজন জ্ঞানী সৎ ভদ্রলোক ওদের সামনে অপমানিত হতে পারেন অব্রাক্ষণ বলে। ভারতীয় বিবাহ ব্যবস্থার মধ্যে কুষ্ঠি, ঠিকুজি মিলিয়ে বিয়ে দিলে সুখী দাম্পত্য নিশ্চিত। তাতে পাত্র-পাত্রীর মনের মিল দেখার প্রয়োজন নেই।

কিন্তু বাস্তব এই অনেক বিয়ে কুষ্ঠি,ঠিকুজি মিলিয়ে দেওয়া হয় কিন্তু বিয়ের কিছুদিনে মধ্যে বিয়ে ভেঙ্গে যায়। আর যারা চিরাচরিত প্রথা ভেঙ্গে কুষ্ঠি, ঠিকুজি না মিলিয়ে বিয়ে করেন তাদের অনেকেই সুখে শান্তিতে জীবন কাটিয়ে দেন। এবার আসি গ্রহনের কোথায় গ্রহন নিয়ে নানা কুসংস্কার শিক্ষিত শহরাঞ্চলে বিদ্ধমান ছোটবেলা থেকেই দেখেছি গ্রহন হলেই গ্রহন ছাড়ার পর স্নান করতে হয়, ঘরের রান্না করা খাবার জল সব ফেলে দিতে হয়। তার কারণ হিসাবে বলা হয় গ্রহনে সময় জীবানু সংক্রমন নাকি বেশী হয়। সেখানে কিছু প্রশ্ন থেকে যায় তাহলে তো আকাশ মেঘলা হলে সব ফেলে দিতে হবে কারণ এই নীতি মানলে তো সেই ক্ষেত্রেও জীবানু সংক্রমন ঘটবে। আর দ্বিতীয় প্রশ্ন ঘরের জল বা খাবার ফেলার তো কোন যুক্তি নেই তা হলে তো পৃথিবীর সব জল আর খাবার ফেলে দিতে হবে। কিছুদিন আগে সূর্যগ্রহনের সময় কিছু বন্ধুকে নিয়ে রাস্তায় ঘুরতে ব্যর হয়েছি শহরে সমস্ত রাস্তা শুনশান অফিস টাইম হওয়া সত্ত্বেও একটা মানুষ রাস্তায় নেই। গ্রহনের সময়ের একটা সুন্দর প্রকৃতিতে উপভোগ করছিলাম যা ভাষা দিয়ে বলা সম্ভব নয়। যাই হোক মুসলিম অধুষিত পূর্ব বাজারে কিছু দোকান খোলা পেলাম সেখানে একটা বেকারী থেকে কেক কিনে খাচ্ছি। এর মধ্যে এক বন্ধুর ফোন বলল কোথায় আছিস? আমি বললাম পূর্ব বাজারে এক বেকারীতে বসে কেক খাচ্ছি। সাথে সাথে ও উত্তেজিত ভাবে বলল তোদের একটা সংস্কার বলতে কিছু নেই। আমি বললাম হ্যাঁ আমাদের কুসংস্কার বলতে কিছু নেই। বিজ্ঞান আঙ্গুল দিয়ে গ্রহনের কারণ দেখানো সত্ত্বেও যদি তুমি গ্রহনের কারণ রাহু ও কেতু বল তা হলে তোমার উচ্চ শিক্ষা গ্রহন দুর্ঘটনা ছাড়া কিছু নয়। তখন সে বলল কোটী কোটী মানুষ কি ভূল করছে? আমি বললাম কোটী কোটী মানুষ যদি সত্যকে অনুধাবন করতে না পারে তা হলে আমি সেই দলে নেই। হ্যাঁ তা ঠিক বাপ দাদার মেনে আসা চরাচরিত প্রথাকে অনেকে ভাঙ্গতে চায় না সত্যকে অনুধাবন করেও। ত্রিপুরা ভারতের উত্তর পূর্ব অঞ্চলের একটি ছোট পার্বত্য রাজ্য। পাহাড়ি বাঙ্গলীর বাস এখানে। পাহাড়ি অঞ্চলে গেলে বোঝা যায় কুসংস্কার কি? পত্রিকা খুললে প্রায় রোজই দেখা যায় ডাইনি সন্দেহে খুন এবং তা অধিকাংশ উপজাতি মনে করে এদের খুন করা নৈতিক কর্তব্য।গত কালকের পত্রিকায়ও দেখলাম স্ত্রীর অসুখ না সারায় ডাইনী সন্দেহে দেবরের হাতে বৌদি খুন। হ্যাঁ আজও উন্নত চিকিৎসা প্রবেশ করতে পারেনি উপজাতি গোষ্ঠির মনে। তাদের মধ্যে এখনও ওঝা, তুক-তাক, তন্ত্র-মন্ত্রই একমাত্র উপায়।

মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রমজান মাস আসলেই রোজা রাখার ধুম পড়ে যায়। এই রোজা আমার কাছে নিষ্ঠূর বলেই মনে হয়েছে। আর তার প্রমান পেলাম এক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গিয়ে সেই বাড়ীতে এক মুসলিম ভদ্রলোক মাটি কাটতে এসেছেন। তো তিনি রোজা রেখেছেন আবার পরিশ্রমী কাজ করছেন আবার জল টুকু পান করতে পারবেন না। আল্লার আইন বলে কথা। সেই আল্লার আইনের ফল দেখলাম দুপুর ১২টার দিকে। হঠাৎ ভদ্রলোক মাটিতে পড়ে গেলেন এবং মুখ দিয়ে ফেনা উঠতে লাগল। শেষ পর্যন্ত চোখে মুখে জল দিয়ে উনাকে হাসপাতালে পাঠানো হল। সাথে সাথে বন্ধুর মুখ থেকে মধুর বুলি শুনলাম দেখ তারা ধর্ম পালনে কত সচেতন! আর আমরা? মনে মনে ভাবলাম হায়রে ধর্ম। যারা ফরমান জারী করেন তারা তো দিব্বী ঘরে বসে ফেনের বাতাস খাচ্ছেন আর লুকিয়ে চুরিয়ে বোধ হয় রোজাও ভাঙ্গছেন। আর সাধারণ মানুষকে ভুলিয়ে এই কষ্ট দেওয়া। না মানার খবর পেলে আবার চাবুকের ঘা। আরেকটা ঘটনা বলি ২০০৮ সালের জুন মাস সেই সময় ত্রিপুরায় প্রচন্ড গরম পড়ে তো সেই দিনও প্রচন্ড গরম আর তীব্র সূর্য কিরণ তো আমি এস,ডি,ও অফিসে ফেনের নীচের বসে আছি তবুও গরম সহ্য করতে পারছি না। বাইরে পি,আর,টি,সি সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য লম্বা লাইন। তার মধ্যে দেখলাম কয়েকজন মুসলিম মহিলা বস্তা বন্ধি অবস্থায় মানে বোরকা পরিহিত অবস্থায় লাইনে এসে দাড়িয়েছেন। কিছুক্ষণ পরে ডিহাইড্রেশনের ফলে এক মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এবং উনাকে ফেনের নিচে বসিয়ে বরফ জল দিয়ে কিছূ সুস্থ করে তুলে উনার পরিবারে ফোন করে বাড়ীতে পাঠানো হয়। তবু বোরখা পরতে হবে। আল্লার আইন রক্ষা করতে হবে। তার পেছনে যুক্তি খাড়া করতে হবে তা নাকি ইভটিজিং রোধে সহায়ক। হায়রে যুক্তি! আর কোথায় যাই মুক্তমনার মুক্তমনের পাঠকরা যখন বোরখার সপক্ষ্যে মন্তব্য করে বসেন।

একদিন পূর্ব বাজারে একটা দোকানে গেছি জিনিষ কিনতে তো কিছু শিক্ষক সেখানে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। তার মধ্যে অনেকে একসঙ্গে পড়াশুনা করার সুবাধে আমার সঙ্গে পরিচিত। তো উনারা ইসলামের রীতি নীতি নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা করছেন তাদের আলোচনার সারমর্ম এই রোজা নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছেন রোজার একটা মহত্ব আছে কারণ সারাদিন উপোস করার পর খাওয়া তাতে পেট ভাল থাকে, পেট বিশ্রাম পায়। দাড়ি রাখা নিয়ে বারবার দাড়ি কাটলে নাকি চোখের দৃষ্টি কমে যায়, তকি পরলে অতি বেগুনি রশ্মি মাথায় পড়ে না তাই ক্যান্সার হয় না। এই রকম বিভিন্ন রীতির পেছনে যুক্তি উপস্থাপন। তো আমি নিরবে শুনলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম। মাষ্টার বাবুরা আমি একটু কম বুঝি আপনাদের কথা শুনলাম আর আমার মনে কিছু প্রশ্নের উদয় হল বলে সেই শ্রমিক ভদ্রলোকের রোজা রেখে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা বললাম। বললাম্ আপনারা তো মাসে মোটা অঙ্কের বেতন পাচ্ছেন আর মজ করে গল্প করছেন। ওদের দ্ররিদ্র লোকদের কথা আপনারা কি বোঝবেন? শেষে এক শিক্ষক আমায় বলেন যে রীতিগুলো ব্যাক্তির উপর ছেড়ে দেওয়া ভাল যার ইচ্ছা মানবে যার ইচ্ছা মানবে না। তারপর দাড়ি রাখলে চোখ ভাল থাকে তো যারা দাড়ি রাখেন তাদের কি চশমা নিতে হয় না বা চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখান না? আর যারা তকি পরে তাদের ক্যান্সার হয় না কোন সমীক্ষা থেকে জেনেছেন? সবাই চুপ কোন উত্তর নেই। ওদের ভাব আপদ বিদায় করলেই বাঁচেন। শেষ পযন্ত উত্তর না নিয়ে আসতে হয়েছে আমার। যাই হোক তবু ভারতীয় সমাজ ধীরে ধীরে বদলাছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই তা বোঝে কিন্তু প্রাণের মায়ায় এগিয়ে আসে না। আমি যতদিন বাচিঁ লড়াই করব। “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে………”

[74 বার পঠিত]