chokh_muchile_jol_mochena

রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আমাদের দেশে অনেক অপপ্রচার রয়েছে। এগুলো নেড়ে চেড়ে দেখার উদ্দেশ্যে অন্য আলোয় দেখা রবীন্দ্রনাথ শিরোণামে একটি সিরিজ শুরু করি। একটি একটি করে অপপ্রচারের ভেতরের আলো ও অন্ধকারে প্রবেশ করার স্টাইলটা এ লেখায় গ্রহণ করি।
লেখাটি প্রথমে সচলায়তনে এবং পরবর্তীতে ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়।
মুক্তমনায় লক্ষ করেছি–অন্যত্র প্রকাশিত নোট কোনো কোনো বন্ধু প্রকাশ করেন। সেগুলো নিয়ে কোনো আপত্তি হয়েছে–চোখে পড়ে নি। বরঞ্চ যুক্তিবাদীদের ব্লগ হওয়ায় এখানে ভীন্ন ধারায় আলোচনা জমে উঠেছে। আমি সে উদাহরণটি অনুসরণ করেছি মাত্র। এবং এক পর্যায়ে চোখে পড়েছে মুক্তমনার নীতিমালাটি–যেখানে বলা হয়েছে অন্য ব্লগে প্রকাশিত লেখা এখানে প্রকাশে নিরুৎসাহিত করা হয়। নিরুৎসাহিত শব্দটির মধ্যে কঠোর সিদ্ধান্ত নেই। বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হলে সেটা রাখলেও রাখা যেতে পারে এ ধরনের একটি ঝোঁক শব্দটির মধ্যে আছে।

অন্য আলোয় দেখা রবীন্দ্রনাথ সিরিজটির প্রথম পর্ব শুরু হলে কোনো বন্ধু এটা সরিয়ে না দেওয়ার অনুরোধ করেন। বন্যা আহমেদ পরামর্শ দেন–লেখাটি সংযোজন-বিয়োজন করে পোস্ট দিতে। ওনার পরামর্শটির থেকে বোঝা গেল লেখাটির উদ্দেশ্য উনি বুঝতে পেরেছেন এবং লোখাটির চলুক তিনি চেয়েছেন। সেজন্য ওনাকে ধন্যবাদ। ওনার পরামর্শ মোতাবেক–দ্বিতীয় পর্বটিতে একটি অংশ সংযোজন করি, লেখাটির টাইটেলটাও পাল্টে দেই এবং কিছু অংশ সম্পাদনাওও করা হয়। দ্বিতীয় পর্বটিতে রবীন্দ্রনাথের জমিদারিত্ব মিথটিতে প্রবেশ করা হয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মিথ।

এবং লক্ষ করি তিনটি মন্তব্য পড়ার পর পরই এডমিন লেখাটিকে প্রথম পাতা থেকে ঘোষণা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছেন। এবং আইনটি নিরুৎসাহিত নীতিমালার আলোকেই এটা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যারা নোটটি প্রথম পাতায় থাকুক বলে অনুরোধ করেছিলেন—তাঁদের ইচ্ছের কোনো মুল্য দেওয়া হল না।

এ প্রসঙ্গে মনে পড়ল আমার আরেকটি নোটে মুক্তমনার অন্যতম মডারেটর ফরিদ আহমেদের মন্তব্য–

কুলদা রায়ের অনেক ভাগ্য যে আমি কিছু নীতি মেনে চলি। মুক্তমনায় আমার সাথে কারো কোনো ঝামেলা হলে আমি কখনোই মডারেটরের ক্ষমতা প্রয়োগ করি না। ফলে, মুক্তমনায় আমাকে গালি দেওয়াটা সবচেয়ে সহজ কাজ। যে গালিগুলো কুলদা রায় আমাকে দিয়েছেন, সেই একই গালিগালাজ যদি তিনি আমার অন্য কোনো সহব্লগারকে দিতেন, এতক্ষনে মুক্তমনা থেকে তাঁর নাম নিশানাও মুছে দিতাম আমি। লেখকের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলেও কোনো লাভ হতো না সেখানে।

ফরিদ আহমদের মন্তব্য থেকে যা শিখেছিলাম–

প্রথম বাক্য থেকে—-যুক্তিবাদিরা আজকাল ভাগ্যেও বিশ্বাস করতে ভালবাসেন।
চতুর্থ বাক্য থেকে—-ইচ্ছে করলে কারো নাম নিশানাও মুছে দেওয়া যায়।
পঞ্চম বাক্য থেকে—-লেখকের স্বাধীনতা নামে যে মতটি আছে—তাকে ব্যক্তিগত কাজে অকার্যকর করা জায়েজ।

মনে পড়ছে–এই নোটে মুক্তমনার একজন সদস্য সাদ কামালীর রবীন্দ্রনাথের বিষয়ে একটি লেখার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছিল। সাদ কামালী লেখেন মন্দ নয়। তবে সেটা নেগেটিভ লেখা। উদ্দেশ্য রবীন্দ্রনাথকে সাম্প্রদায়িক, শোষক, প্রতিক্রিয়াশীল ইত্যাদি অভিধান প্রচার দেওয়া। এটি তাঁর মগজ থেকে উৎপন্ন নয়। পাকিস্তান আমলে এ কাজগুলি পাকিস্তানপন্থীরা করেছিলেন এবং বর্তমানে তাদের অনুসরণকারীরা করছেন। সিরিজটিতে এ বিষয়গুলিকে কেঁচো খুড়ে দেখার মত একটি প্রচেষ্টা আছে। রবীন্দ্রনাথকে মানুষ রবীন্দ্রনাথ হিসাবেই দেখার ইচ্ছে আমার। দেবতা বা নবী হিসাবে নয়।

কদিন আগে সাদ কামালী টরেন্টোতে আমার এক স্বজনকে হুমকী দিয়েছেন আমাকে কুলাঙ্গার বলে। তাকে বলেছেন–আমার সঙ্গে স্বজনতা ত্যাগ করতে হবে। এটা একজন সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি করতেই পারেন। তাঁর বানী প্রকাশের স্বাধীনতাকে সাধুবাদ দেই। তার হুমকীর খবর শুনে মজা পেয়েছি। এর বিপরীতে আমার যা কিছু বলার আমি আমার লেখাতেই বলব। আর ব্যক্তিমানুষের ক্ষোভ নিয়ে আমার কোনো কথা নেই। আমি ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়ি না। তাঁর বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলি। কারণ সাদ কামালী, ফরিদ আহমেদ, বা অভিজিৎ রায় এরা ব্যক্তিগত বন্ধু হতেই পারেন–ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের সঙ্গে আমার কোনো বন্ধুতা বা শত্রুতা নেই। তাঁদের বিশ্বাস নিয়ে আমার শ্রদ্ধা বা সন্দেহ আছে। সেখানেই কথা বলা প্রয়োজন মনে করি। তাই-ই করেছি।

এই ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা বন্ধুতার দায় দায়িত্ব ব্লগের মত একটি সামাজিক গ্রুপে কেন প্রতিফলিত কেন হবে? কিভাবে একজন মডারেটর আমার লেখা নাই করে দেওয়ার হুমকী দেন? ব্যক্তির কাছে সমষ্টি কেন পরাজিত হবে মুক্তমনায়? এই প্রশ্নগুলো ভাবছি। ভাবছি–তাহলে ফরিদ আহমেদের হুমকীটাই বাস্তবায়িত হল মুক্তমনায়। কারো কারো বন্ধু সাদ কামালীর ইচ্ছেটাকেই প্রকারন্তরে প্রতিফলিত হল মুক্তমনাতে।
২.
দুঃখ কষ্টের প্যাঁচাল বাদ দেই। আসুন মজা করি। বটতলার সাহিত্য থেকে একটি উদ্ধৃতি উপভোগ করি–

ছাগল কিন্তু জলে নামতে ভয় পায়। এ কারণে ছাগলগণ স্মাতক হতে পারে না। ফলে তারা ব্যাচেলর ডিগ্রী পায় না। এই বিষয়টি খুব গভীরভাবে আমি ভেবে দেখেছি। খুব দুঃখিত হয়ে দেখেছি–তারা মাঝে মাঝে বিড়ি টানে– মৎকারধ্বনিসহযোগে স্নাতক হতে পারে না। তারা বলে ডিগ্রী দিয়ে কী হবে। ডিগ্রী কি আমাদের ভাত দেয়? ভাত খেলে কি বিপ্লব হয়?
বিপ্লব হতে পারে এই আনন্দে ছাগলগণ জলে নামে না। তাদের চুলও ভেজে না। যেমন বেনী তেমনই রয়ে যায়।

৩.
টিকা :
আসলে পাঁচ সিকার ছাগলে লাখ টাকার বাগান খেয়ে ফেলে–এই প্রবাদটি আমাদের দেশে কী করে যেন মাঝে মাঝে সত্য হয়ে ওঠে।

[32 বার পঠিত]