অবিশ্বাসের যত গল্প

জবানবন্দী শব্দটি আমার মোটেও পছন্দ নয়। শব্দটি শুনলে নিজেকে মনে হয় একজন আসামী তার জবানবন্দী দিচ্ছে। অবিশ্বাসের জন্য নিজেকে সেরকম আসামী ভাবতে পারি না। পছন্দ হোক বা না হোক, জবানবন্দী হোক বা অবিশ্বাসের গল্পই হোক, সেটা বলার জন্যই আজ কলম ধরেছি। আমাদের সকলের অবিশ্বাসের গল্প বেশ কাছাকাছি। আবার জীবনের গল্পও কম বেশি কাছাকাছি। একই গল্প শুনতে সব সময় ভাল লাগে না, তারপরেও লিখে রাখছি নিজের চিন্তাগুলো, যদি কেউ তাতে অনুপ্রাণিত হয়।

ছোটবেলার গল্প বেশি নেই আমার, তেমন আহামরি/চমকপ্রদ কোন কিছুই নেই। আর নেই বলেই কিনা, তেমন কিছু মনেও নেই। আর দশটা সাধারণ শিশুর মত জন্ম নিয়েছিলাম সাধারণ মুসলিম পরিবারে। বাবা/মা দু’জনেই প্রচন্ড ধার্মিক মানুষ। বাবা প্রায় প্রতিটি নামাজ চেষ্টা করতেন মসজিদে যেয়ে পড়তেন আর মাও প্রতি বেলাতেই নিয়মিত নামাজ পড়তেন। এমন পরিবারে স্বাভাবিক ভাবেই বাসায় সপ্তাহে তিন দিন হুজুর আসতেন আরবী পড়াতে। বেশ বয়ষ্ক একজন হুজুর আমাদের পড়াতেন। হুজুর যতদিন বেঁচে ছিলেন আমাদের বাসায় নিয়মিত আসতেন।

ছোটবেলা হতেই গণিত, বিজ্ঞান খুব টানতো আর ঘৃনা করতাম ইংরেজী/বাংলা ব্যাকারণকে। বিজ্ঞানের বিষয়গুলো সব সময় খুব ভাল লাগতো। সপ্তম বা অষ্টম শ্রেনীতে আমার একটি প্রিয় বিষয় ছিল পৃথিবী যে গোল সেটার প্রমানের বিষয়গুলো। এখনো ভুলতে পারি না, সেই মাস্তুলের ছবিগুলো, যেখানে জাহাজ ধীরে ধীরে ফুটে উঠে যত তীরের কাছাকাছি আসে। আরেকটি প্রিয় বিষয় ছিল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে সেই বিষয়টী। এগুলো এখনো চোঁখের সামনেই ভাসে। যে জিনিস বুঝতে পারতাম তা কখনো ভুলতাম না, আর যে জিনিস বুঝতে পারতাম না তা হাজার বার পড়েও মনে রাখতে পারতাম না। পরবর্তীতে যখন বুয়েটে পড়তে আসি এই বুঝার ব্যাপারগুলো খুব ভাল কাজে দিয়েছে। তবে আমি সবচেয়ে ভাল বুঝতাম যখন কাউকে বুঝাতে যেতাম। দেখা যেত বন্ধুদের কোন বিষয় বুঝাতে গিয়েই সবচেয়ে বেশি নিজে বুঝেছি এবং নিজেও উপকৃত হয়েছি। তাই সে কাজটিই করতাম। একা একা পড়ার অভ্যেস করতে পারিনি।

কলেজে থাকাকালিন সময়ে বই পড়ার আগ্রহ ছিল বেশ। তখন শরৎচন্দ্রের উপন্যাসগুলো বেশি টানতো। কলেজে আমাদের বেশ ভাল একটি লাইব্রেরী ছিল। প্রায় সব ধরণের বইই পড়তাম। এর মাঝে একটি বই পড়ি ডেল কার্নেগীর “দুঃশ্চিন্তাহীন জীবন”। বইটির প্রায় প্রতিটি কথা মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। নিজেকে সকল চিন্তা হতে দুঃশ্চিন্তা মুক্ত রাখার জন্য এই বইটির কাছে আমি ভীষণভাবে ঋনী। এর মাঝে একটি পন্থা ছিল সব সময় সবচেয়ে খারাপ কি হতে পারে চিন্তা করা। যে কোন বিপদে যদি সবচেয়ে খারাপটি কল্পনা করেন এবং যদি দেখেন যে তত খারাপ আসলে হচ্ছে না তখন দুঃশ্চিন্তা অনেক কমে যায়। কারণ অধিকাংশ সময়ে সবচেয়ে খারাপটি কিন্ত হবে না, প্রব্যাবিলিটি কিন্তু তাহাই বলে। এই ক্ষুদ্র জীবনে অনেক সমস্যাই মোকাবেলা করেছি, কিন্তু মানসিক ভাবে বিপর্যস্থ হইনি, তার পেছনে ডেল কার্নেগীর এই বইয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। এর ফলে আরেকটি যেটি লাভ হয়েছে যে কোন কিছুতে ধারাবাহিক যুক্তির ব্যবহার করার অভ্যেস হয়েছে।

অন্যান্য যে কোন কিশোরের মত প্রচুর সেবার বই পড়তাম। সেবার অনুবাদ, তিন গোয়েন্দা, ওয়েস্টার্ন সবই মুগ্ধের মত পড়তাম। জীবনে সবচেয়ে বেশি বই পড়েছি ইন্টারমিডিয়ট পরীক্ষার পর। কোথায় ভর্তি হবো এই নিয়ে চিন্তিত ছিলাম না। কোচিং এ যেতাম আর আসার সময় সিনেমা হলে ঢুঁ মেরে আসতাম। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় কাটিয়েছি তখন। এর মাঝে বুয়েটে সুযোগ পেয়ে যাই কিন্তু ক্লাস শুরু হয় দেড় বছর পর। এই সময়টা টিউশনি করে আর বই পড়েই কাটাই। ততদিনে তিন গোয়েন্দা ছেড়ে ফেলুদা আর শার্লক হোমস গিলছি। শার্লক হোমসের অমনিবাস কিনে একের পর এক পড়ে যাচ্ছি। গোয়েন্দা কাহিনীই আমাকে বেশি টানতো। তবে সমরেশ, সুনীল, বুদ্ধদেব, শঙ্কর, শীর্ষেন্দু, আরো কত যে ওপারবাংলার লেখকের বই পড়েছি সব মনে করতে পারছি না। আশ্চর্যজনক ভাবে বুয়েটে ক্লাস শুরুর পর বই পড়া বলতে গেলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তখন বছরে এক বা দু’টোর বেশি বই পড়িনি। যা পড়ার সব বুয়েটের ক্লাস শুরুর আগেই পড়েছি।

বুয়েটের জীবনটা বেশ চমৎকার কেটেছে। সারাদিন ক্লাস করতাম, বিকেলে ফটুবল খেলতাম, রাতে কার্ড খেলতাম। ক্লাস টেস্টের আগের দিন কিছুটা পড়তাম, বিকেলের সেশানাল ক্লাসের আগের এক ঘন্টায় কারোর ল্যাবের খাতা হতে চোথা মারতাম। প্রিপারেশন লিভের সময় রাতদিন পড়ে সারা টার্মের ফাঁকি পোষাতাম। এরকম সহজ সমীকরণের মাঝেই বুয়েট জীবন পার করে দিলাম। চোখের পলকে যেন পাঁচটি বছর চলে গেল। তারপর মাষ্টার্স করি পরবর্তী তিন বছরে। এই সময়টি আমি মুলত আর দশটা মুসলিমের মতই ছিলাম। প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে মুসলমানিত্ব বজায় রাখতাম, আর রোজার মাসে উপোস করতাম এবং ঈদের নামাজে যেতাম। বাড়ী গেলে বাবার পীড়াপিড়তে মাঝে মাঝে ফজরের নামাজেও বাবার সাথে শামিল হতাম। একটি বিষয়ে আমি ভাগ্যবান ছিলাম যে বাবা/মা সব সময় আমাকে নামাজের জন্য বলতেন, এখনো বলেন। কিন্তু কট্টর মৌলবাদীদের মত আমাকে বাধ্য করার জন্য চাপ দিতেন না।

বুয়েটের জীবনটা খুব উপভোগ করেছি। আড্ডা, সিনেমা দেখা, কার্ড খেলা, ফুটবল খেলা, ফাঁকে ফাঁকে পড়াশুনা করা, এই ছিল মূলত জীবন। আমার চারজন রুমমেটের মাঝে দু’জন ছিল হিন্দু রুমমেট। এর মাঝে একজন হচ্ছে আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু। তাঁদের বাসায় যেয়ে থেকেছি, মাসীর হাতের কবুতরের মাংসের তরকারীর কথা জীবনে ভুলবার নয়। বরাবরই আমি ধর্মের এই বিভেদকে উপেক্ষা করে চলে এসেছি। ধর্মের কারণে বিধর্মীকে ভিন্ন জাত হিসেবে কল্পনা করা এক প্রকার অসম্ভব ছিল আমার কাছে। সেভাবে ধর্ম নিয়ে চিন্তা না করলেও প্র্যাক্টেসিং ভাবে মনে হয় সংশয়বাদের কাছাকাছি ছিলাম। বরং যারা বিধর্মীদেরকে ভিন্ন ভাবে নিতেন তাঁদেরকেই অমানুষ মনে করতাম।

বুয়েট জীবন শেষে চলে আসি বিদেশে উচ্চ-শিক্ষার্থে। বিদেশ জীবনের শুরুর সময়টা বিশেষ সুবিধের ছিল না। ঠান্ডার দেশে আসার পর আমার আর্থ্রাইটিস ধরা পড়ে। এক পর্যায়ে আর্থ্রাটাইসের কারণে নিজের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে, আমার ঘাড়ের মাছে মেরুদন্ডের একটি হাঁড় ক্ষয় হয়ে জয়েন্টটি খুলে যায়। সার্জারী করে সেই জয়েন্টটিকে ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। খুব বেশি জটিল সার্জারী না হলেও সার্জারীটি রিস্কি ছিল। আর বিদেশে বসে একা একা সার্জারীর ধকল সামলানো সব মিলিয়ে একটি কঠিন অবস্থার মাঝ দিয়ে অতিক্রম করি। ডেল কার্নেগীকে আবারো উপলব্ধি করি। জীবনকে নুতন ভাবে চিন্তা করার সুযোগ পাই। এক প্রকার নুতন এক জীবন হিসেবে নেই এটিকে। জীবনের উদ্দেশ্য কি নিজের মাঝে আবার প্রশ্নটি মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠে। মূলত এই প্রশ্নের খুঁজেই আমার অবিশ্বাসের জীবন শুরু করা।

এর মাঝে ব্লগ নামক বস্তুটির দেখা পাই মাত্র এক বছর আগে। লেখালেখির প্রতি টান ছিল সব সময়, কিন্তু লেখালেখি করার জন্য যে পরিমান জ্ঞান প্রয়োজন তা কখনোই ছিল না। এর মাঝে আমার গ্র্যাজুয়েট কোর্স ওয়ার্ক শেষ, শুধু গবেষণার কাজ করি। গবেষণার কাজ মূলত কম্পিউটারে প্রোগ্রামিং ভিক্তিক হওয়াতে বাড়তি সময় সব সময় থাকতো, এই মুহুর্তে অফিসে বসেই লিখছি। আমার ব্লগের নব্বইভাগ অফিসেই বসে লেখা। নিজের বই পড়াশুনার আগ্রহ আবার শুরু হয়। প্রথমে মূলত ব্লগ পড়তাম। নানান ব্লগ দেখে সচলায়তন ব্লগটিকে পছন্দ হলো পরিবেশের জন্য। মুক্তমনা ব্লগও দেখতাম। কিন্তু অনেকদিন পড়ে মনে হল সচলে না লিখলে কোন সদস্য পদ দেওয়া হবে না, তাই একটি লেখা লিখেও ফেললাম। সেই শুরু। রাজনৈতিক দর্শনেই মূলত আগ্রহ আমার। এই আগ্রহ কিভাবে এসেছে বলা মুশকিল। প্রকৃতিগত ভাবেই আমি এই চরিত্রের অধিকারী বলে মনে হয়। মূলত মানুষের জন্য কিছু করার প্রেরণা থেকেই মনে হয় রাজনৈতিক দর্শনে আগ্রহ। কারণ আমার মতে একমাত্র রাজনৈতিক শক্তিই পারে মানুষের বৈপ্লবিক পরিবর্তন করতে।

এই রাজনৈতিক দর্শনটি খুঁজতে গিয়ে নানান পথে চলতে হয়েছে। কখনো ইতিহাসের পাতায় ঘুরতে হয়েছে, কখনো বিজ্ঞানের পাতায় ঘুরতে হয়েছে। ছোটবেলায় গোয়েন্দাকাহিনী যেমন টানতো এখন আমাকে ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শনের গল্প সেভাবে টানে। শুরুটা করি ইতিহাস দিয়েই। বই পড়ার নেশা দীর্ঘবিরতীর পর যেন বাঁধ ভেঙ্গে এসেছে। সেই সাথে কিছু লেখার প্রেরণা তো আছেই। নিজের গবেষণা করতে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর কিভাবে ধারাবাহিক ভাবে খুঁজতে হয় সেটাও শিখেছি। সব মিলিয়ে প্রায় ধারাবাহিক ভাবে নিজের নানান প্রশ্নের জবাব খুঁজতে থাকলাম। ধর্ম নিয়ে প্রথম একটি উপলব্ধি ছিল কিভাবে ধর্মের উৎপত্তি হয়। সে নিয়ে লেখাটি ছিল ধর্ম সমাজ ও দর্শন। একদম আদিম সমাজে ধর্ম কেমন ছিল কল্পনা করার চেষ্টা করি। যদি শুধুমাত্র মানব সভ্যতার ইতিহাসের দিকেই তাকাই দেখতে পাই যে ধর্ম এসেছিল আগে নাকি মানুষ এসেছিল আগে। অবশ্যই প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম অনেক অনেক অনেক পরে এসেছিল। অবাক করা ব্যাপার হলো যে পুরোপুরি কৃষিকাজ শিখেছে মানুষ এই মাত্র প্রায় আট হাজার বছর আগে। প্রথম লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে মাত্র প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে। এখন যদি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলোর দিকে দেখি তবে দেখনে যে ইহুদী ধর্ম এসেছে মাত্র প্রায় ২৬০০ বছর আগে, ইসলাম এসেছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে। অথচ আমাদের শেষ বরফ যুগ শেষ হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার বছর আগে। তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলোর আগে কি মানুষের ধর্ম ছিল না? তাঁদের কি ঈশ্বরের ভয় ছিল না, মৃত্যুর ভয় ছিল না। সবই ছিল। সেই সব ধর্ম ছিল লোকজ ধর্ম। তারা পুঁজো করতো সূর্য, বাতাস, সাগর, পাহাড়, অতিকায় প্রাণী এই সবের। তাঁদেরও গোষ্ঠী নেতা ছিলা, সবই ছিল। এ কারণে হঠাৎ করে কিছু মানুষের দাবী করা যে তাদের ধর্মই সত্য, বাকী সবাই মিথ্যে, সেটা মেনে নেওয়া কষ্টকর আমার যুক্তিতে। আমার মতে শুধুমাত্র মানুব সভ্যতার নৃ-তাত্বিক ইতিহাসই সক্ষম প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের দাবীকে অসাড় প্রমান করার জন্য।

তারপরেও ধর্মকে বাতিল করে দেওয়াটা এত সহজ নয়। সেখানে বিশ্বাস আছে, সেখানে নানান কু-যুক্তি রয়েছে। বিশ্বাসকে সত্যের মর্যাদা দেওয়ার জন্য আমাদের মনে নানান ধারণা নানান সময়ে পেয়ে এসেছি পরিবার হতে, সমাজ হতে, রাষ্ট্র হতে। সবচেয়ে আধুনিক ধর্ম হচ্ছে ইসলাম এবং নিজেও জন্মগত ভাবে ইসলাম ধর্মই পেয়ে এসেছি। ইসলামের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং বিশ্বাস – কোরান হচ্ছে আল্লাহর বাণী। যদি শুধুমাত্র প্রমান করা যায় যে কোরান আল্লাহর বাণী নয় এটি কোন মানুষের রচণা তাহলে ধর্মকে অস্বীকার করা অনেক সহজ হয়ে উঠে। এই বিষয়ে মুক্তমনায় পেলাম আকাশ মালিকের লেখা “যে সত্য বলা হয়নি”, বইটির মাধ্যমে ইসলামের অনেক ইতিহাসই জানতে পারি। অধিকাংশ মুসলমানদের মাঝে একটি বিশ্বাস যে মুহাম্মদ একজন নিরক্ষর ব্যক্তি এবং কোরানে যে সব বর্ণিত রয়েছে একজন নিরক্ষর মানুষের পক্ষে ১৪০০ শত বছর আগে সে গুলো বলা বা লেখা সম্ভব নয়। আবারো যদি শুধু মাত্র ইতিহাসই দেখি তবে দেখবো যে, মুহাম্মদ ছাড়াও তার আগে উনার মত আর কোন বিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন কিনা? যদি ইতিহাস পড়ি তবে দেখি মুহাম্মদ এর জন্মের প্রায় ১২০০ শত বছর আগে কনফুসিয়াস, জরাথ্রুষ্ট, গৌতম বুদ্ধ, সক্রেটিসের মত দার্শনিক, ধর্ম অবতারদের জন্ম। নীতির কথা তারাও বলে গিয়েছেন। সভ্যতার ইতিহাস যদি দেখি খ্রীষ্টপূর্ব ৩০০০ বছর আগে মিশরীয়রা মমি বানানোর পদ্ধতি বের করে। সেই সময় ব্যাবলীনিয় সভ্যতা, পারস্য সভ্যতাও অনেক উন্নতর ছিল। তাঁদের নিজস্ব সেঁচ ব্যবস্থা ছিল। এমনকি উপমহাদেশের সভ্যতার ইতিহাস দেখলেও দেখবেন যে মহাঞ্জোদারো, হরোপ্পা সভ্যতাগুলোও অনেক উন্নত ছিল। এই ইতিহাস বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে যে চৌদ্দশত বছর আগে নয়, প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বেও মানব সভ্যতা অনেক উন্নত ছিল। তাই চোদ্দশত বছর পূর্বের একজন মানুষের পক্ষে উন্নতর দর্শন রচণা অসম্ভব নয়।

বিশেষ করে ২৩০০ শত বছর আগে যদি গ্রীক সভ্যতার দিকে একটু তাকাই, তবে দেখি যে সেখানে থেলিস, ডেমোক্রিটাস এরিস্টটলের মত দার্শনিক এবং বিজ্ঞানীরা গণিত, জীববিজ্ঞান, রাষ্টবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেছেন। এরিষ্টটলের লেখা পলিটিক্স আজো রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একটি অবশ্যপাঠ্য পুস্তক। সেই সময় এরিষ্টটল স্বৈরতন্ত্র, গণতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র এই সব তন্ত্রের যে ব্যাখ্যা দিয়ে গিয়েছেন সেগুলো আজো পরিবর্তন হয়নি। এরিষ্টটল জীববিজ্ঞানে যে অবদান রেখেছেন তার জন্য আমরা তাকে জীববিজ্ঞানের জনক বলি। একজন মানুষ যদি ২৩০০ বছর আগে রাজনীতি, জীববিজ্ঞানে এই পরিমান অবদান রাখতে পারেন তবে কেন ১৪০০ বছর আগের একজন মানুষ পারবেন না কোরানে বিজ্ঞানের মত বিষয়, রাষ্টনীতির মত বিষয় এবং নীতি কথার মত বিষয় নিয়ে লিখতে। মুহাম্মদ নিরক্ষর হতে পারেন, কিন্তু তিনি ২৫ বছর হতে ৪০ বছর পর্যন্ত ব্যবসার উদ্দেশ্য ভ্রমন করেছেন। তাই তিনি লিখতে না পারেন, কিন্তু তিনি একজন জ্ঞানী নন সেটা বলা যাবে না। উনি নিজে এই সব বিষয়ে চিন্তা করতেন, নিজের মনে কিছু প্রশ্নের জবাব খুঁজতেন। এবং সেভাবে তিনি উনার নিজস্ব দর্শন খুজে পেয়েছেন, যা ছড়িয়ে দিয়েছেন ইসলাম ধর্ম নামে। এখন যদি কোরানের ভেতরে দেখি তবে দেখবেন কোরানে এমন কিছু নেই যা তখনকার মানুষ বা আগেরকার মানুষ জানতো না। মিশরীয় সভ্যতার কাহিনী বলি, বা নূহের বন্যার কাহিনীর বলি, লুত সভ্যতার কাহিনী বলি সবই আমাদের মুখে মুখে রচিত পূঁথিকাহিনীর মত আরবে ছড়িয়ে ছিল। আর সেগুলো ইহুদী এবং খ্রীষ্টান ধর্মগ্রন্থেই লিপিবদ্ধ ছিল। কোরানে যে সব বৈজ্ঞানিক দাবী করে থাকে সেগুলো নুতন কিছু নয়, বরং কিছু ভুলও রয়েছে। সেই সময়কার জ্ঞানে ভুল থাকাটাই স্বাভাবিক বরং না থাকাটাই মিরাকল হতো। তাই কোরান বা বাইবেল বা তাওরাত বা ইঞ্জিলকে আমি কোন ঐশ্বরিক গ্রন্থ বলে মনে করি না। মনে করি না তাঁদের ঈশ্বরই পৃথিবীর সকল কিছুর স্রষ্টা।

বাকি থাকলো ঈশ্বর বলে কি কিছু আছে? এই প্রশ্নের সঠিক জবাব দেওয়ার মত অবস্থায় আমরা এখনো নেই। এর জবাব খুঁজার চেষ্টা চলছে মাত্র। তবে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক গবেষনায় ঈশ্বর অথবা আত্মার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যতক্ষন বৈজ্ঞানিক ভাবে কোন কিছু প্রমানিত না হচ্ছে ততক্ষন সেটার অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দিহান থাকবো। এই সেই দিন মাত্র স্টিফেন হকিং তার গ্রান্ড ডিজাইনে অবশেষে বলেছেন যে সৃষ্টিকর্তা ছাড়াও বিগ ব্যাং হওয়া সম্ভব। সুতরাং একদিন বিজ্ঞান সম্পুর্ণভাবে বুঝতে সক্ষম হবে বিশ্বের সৃষ্টি রহস্য। ধর্মকে বিবর্তনের দৃষ্টিতে দেখা সম্ভব। কিভাবে মানুষের মস্তিষ্কে বিশ্বাস নামক বস্তুটির সৃষ্টি হয় এবং সেটাকে কিভাবে এবং কেন আমরা ছড়িয়ে দেই প্রজন্ম হতে প্রজন্মে সেটা আমাদের বুঝতে হবে। কেন মানুষ সামাজিক জীব, কেন মানুষ গ্রুপে চলাচলে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে, কিভাবে গ্রুপ তাকে টিকে থাকতে সাহায্য করে এই বিষয়গুলো আমাদের বুঝতে হবে যদি আমরা প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের চরিত্র বুঝতে চাই। ধর্মকে মানুষই রক্ষা করে। ধর্ম বলে আলাদা কিছু নেই- এটা সংঘবদ্ধ একদল মানুষের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। একদল মানুষ সেটাকে লালন করছে। কিন্তু কেন তারা লালল করছে সেটাকে বুঝতে হবে যদি তাঁদেরকে সেই চিন্তা থেকে সরিয়ে আনতে চান। সেটা না বুঝে তাঁদেরকে জোর করে আপনি/আমি সেই বিশ্বাস হতে মুক্ত করতে পারবো না। এই মানুষগুলোর যদি সেই বিশ্বাসের প্রয়োজন না থাকে তবে সেটাকে লালনেরও প্রয়োজ়ন থাকতো না।

যদি আজ বিশ্বের সকল মানুষ ইশ্বরে অবিশ্বাসী হয়েও যায় তাতে কি শোষণ বন্ধ হবে? তাতে কি অন্যায় বন্ধ হয়ে যাবে, মানব হত্যা বন্ধ হয়ে যাবে? যাবে না। কারণ ধর্মই দ্বন্দ্বের মূলে নয়। টিকে থাকার সংগ্রাম দ্বন্দ্বের মূলে। যতদিন চাহিদা এবং সম্পদের মাঝে ব্যবধান থাকবে ততদিন দ্বন্দ্ব থাকবে। ধর্ম একদলকে এই টিকে থাকায় বাড়তি সহায়তা করেছে, তাই তারা ধর্মকে লালন করছে। জাতীয়তাবাদ নামক সংঘবদ্ধতা এই টিকে থাকায় সাহায্য করেছে তাই নানান জাতি গোষ্ঠী দেখি। এ কারণে আজ দেখি বিশ্বে বিশ্বাসীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। নদী এবং সাগরের পানির উচ্চতা যখন সমান হয়ে যাবে তখন পানির আর কোন প্রবাহ হবে না। তেমনি চাহিদা এবং উৎপাদনের বিভেদ যেদিন থাকবে না, দ্বন্দ্বও সেদিন থাকবে না। সমস্যা হল সেই বিভেদ পুরোপুরি কমানো অসম্ভব। এমন কোন সাধারণ গাণিতিক মডেল নেই যেটা দিয়ে বলতে পারবেন যে এভাবে চলিলে বিভেদ থাকবে না। এর পেছনে বড় বাঁধা হচ্ছে মানুষের চরিত্রের বিবর্তনীয় ক্ষমতা। পুরো ব্যবস্থাটি নির্ভর করছে আরেকজন মানুষ কিভাবে স্টেপ নেয় তার উপর। একজন মানুষের নেওয়া একশ্যানের উপর নির্ভর করে অন্যজনের কাজ, এভাবে হাজার কোটি মানুষের চরিত্রকে ডিটারমিনিস্টিক মডেলের আওয়তায় আনা এখনকার জ্ঞানে অসম্ভব। কিন্তু একেবারেই কি অসম্ভব? যদি আমরা মানুষের মস্তিষ্ক কিভাবে কাজ করে সেটা একদিন পরিপূর্ণভাবে বুঝতে পারি তবে হয়তোবা ক্ষুদ্র একটি সমাজে একটি নুতন আইন করা হলে তার ফলাফল কি হবে সেটা আমরা কম্পিউটারে বসেই বের করতে পারবো। তখন আফ্রিকা বা এশিয়ার কোন দেশে কোন অর্থনীতির মডেল হাতে নিলে, স্বল্প সম্পদ ব্যবহার করে , কিভাবে পুরো বিশ্বের জীবন ধারায় উন্নতি আনবে দিয়ে সেটা মডেল করে জানতে পারি। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াকে চলমান রাখাই আমাদের কর্তব্য । কম্পিউটার একদিনে আবিষ্কার হয়ে যায়নি। আমেরিকার আদম শুমারীতে ব্যবহৃত হতো এমন একটি সাধারণ গণনা যন্ত্র হতে ধীরে ধীরে কম্পিউটার আসে। এভাবে স্টীম ইঞ্জিন কিংবা এরোপ্লেন বা নিউটনের সুত্র কোন কিছুই হঠাৎ করে আবিষ্কৃত হয়নি। প্রতিটি গবেষণাতেই দেখা যায় পূর্বের গবেষণাকে উন্নত রুপ দিয়েই নুতন সুত্র আসে। থেলিস, সক্রেটিস, প্লেটো, এরিষ্টটল, কনফুসিয়াস, বৌদ্ধ, যিশু, মুহাম্মদ, হাইপেশিয়া, কোপার্নিকাস, ভলতেয়ার, গ্যালিলিও, রুশো, হেগেল, মার্ক্স, লিবনিজ, নিউটন, শেক্সপিয়ার, ডারউইন, আইন্সটাইন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, হকিং, ডকিন্স এরা কেউ হঠাৎ করেই কিছু আবিষ্কার করে ফেলেননি। সভ্যতার ক্রমবিকাশের পথেই তাঁদের আগমন। সভ্যতা এভাবেই এগিয়ে যাবে। এই মুক্তমনা হতেই হতেই অভিজিত, বন্যা, আকাশ মালিকরা মানব সভ্যতায় নুতন কিছু দিয়ে যাবে। মানব সভ্যতা গুঁটি গুঁটি পায়ে এগিয়ে যাবে। জয় হোক মুক্তমনার।

নোটঃ বলা যায় এক টানে লিখে ফেলা। বানানে অনেক টাইপো আছে। ধীরে ধীরে সেগুলো ঠিক করবো।

About the Author:

নিজের সম্পর্কে তেমন বলার মত কিছু নেই। একদম সাধারণ মানের জীব। রাজনৈতিক দর্শন বিষয়ে আগ্রহ আছে, সেটা নিয়েই নাড়াচড়া করি সময় পেলে। পছন্দ করি খেলাধুলা করতে, বই পড়তে, মুভি দেখতে, ব্লগ পড়তে। সময়ের বড় অভাব, আর কিছুর অভাব নেই।

মন্তব্যসমূহ

  1. ভুইফোঁড় জানুয়ারী 8, 2011 at 1:16 অপরাহ্ন - Reply

    ”ধর্ম বলে আলাদা কিছু নেই- এটা সংঘবদ্ধ একদল মানুষের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। একদল মানুষ সেটাকে লালন করছে। কিন্তু কেন তারা লালল করছে সেটাকে বুঝতে হবে যদি তাঁদেরকে সেই চিন্তা থেকে সরিয়ে আনতে চান। সেটা না বুঝে তাঁদেরকে জোর করে আপনি/আমি সেই বিশ্বাস হতে মুক্ত করতে পারবো না। এই মানুষগুলোর যদি সেই বিশ্বাসের প্রয়োজন না থাকে তবে সেটাকে লালনেরও প্রয়োজ়ন থাকতো না। ”

    বেশ লাগল কথাটা! 🙂
    লেখাটাও বেশ সাবলীল,পড়তে ভাল লেগেছে।

  2. আফরোজা আলম অক্টোবর 7, 2010 at 1:36 অপরাহ্ন - Reply

    বাকি থাকলো ঈশ্বর বলে কি কিছু আছে? এই প্রশ্নের সঠিক জবাব দেওয়ার মত অবস্থায় আমরা এখনো নেই। এর জবাব খুঁজার চেষ্টা চলছে মাত্র। তবে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক গবেষনায় ঈশ্বর অথবা আত্মার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

    দারুণ একটা সত্য কথা অকপটে লিখে গিয়েছেন, এমন ভাবে মন ছুয়ে গেল যে অনেক্ষণ চিন্তা করছিলাম কি বলব আপনাকে কী লিখব। কেবল বলে যাই আতো লিখুন। :rose2:

    • স্বাধীন অক্টোবর 7, 2010 at 8:26 অপরাহ্ন - Reply

      @আফরোজা আলম,

      ধন্যবাদ আপনাকেও মন্তব্যের জন্য ও পড়ার জন্য।

  3. মাহফুজ অক্টোবর 5, 2010 at 11:25 অপরাহ্ন - Reply

    @ স্বাধীন ভাই,
    আপনার মত আমারও জবানবন্দী শব্দটি ভালো লাগে না। এর চেয়ে বিশ্বাসের বিবর্তন শব্দটি পছন্দ করি।

    ভালো লাগলো আপনার জীবনকাহিনী।

    নিচের কথাগুলো আরো ভালো লাগলো।

    এই মুক্তমনা হতেই হতেই অভিজিত, বন্যা, আকাশ মালিকরা মানব সভ্যতায় নুতন কিছু দিয়ে যাবে। মানব সভ্যতা গুঁটি গুঁটি পায়ে এগিয়ে যাবে। জয় হোক মুক্তমনার।

    • স্বাধীন অক্টোবর 6, 2010 at 2:25 পূর্বাহ্ন - Reply

      @মাহফুজ,
      অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

  4. নৃপেন্দ্র সরকার সেপ্টেম্বর 26, 2010 at 3:40 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনার চোখ মেলে দেখার শক্তি আছে। সেই দেখাটাই আপনি সবাইকে দেখিয়েছেন। ভাল লেগেছে।

    তবে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক গবেষনায় ঈশ্বর অথবা আত্মার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

    অস্তিত্বহীনদের নিয়ে বিজ্ঞানীরা সময় নষ্ট করে না। যারা ঈশ্বর আছে বলে দাবী করে তাদেরই দায়িত্ব ঈশ্বর দেখানো। এরা শুধু অন্যের চোখে ধূলো দিয়েই যাচ্ছেন।

    • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 26, 2010 at 7:10 পূর্বাহ্ন - Reply

      @নৃপেন্দ্র সরকার,

      ধন্যবাদ নৃপেন্দ্র’দা।

  5. রনবীর সরকার সেপ্টেম্বর 25, 2010 at 4:25 পূর্বাহ্ন - Reply

    সতর্কীকরণঃ লেখাটি অনেক অনেক বড়। সময় হাতে নিয়ে পড়া ভাল।

    খুব বেশি বড় বলেতো মনে হল না। আপনার চমৎকার সাবলীল লেখা এর দ্বিগুন হলেও বোধহয় বেশি মনে হতো না। 🙂 🙂

    সভ্যতার ইতিহাস যদি দেখি মিশরীয় সভ্যতা খ্রীষ্টপূর্ব ৩০০০ বছর আগেও যে মমি বানিয়েছে আমরা সেটার কেমিষ্টির আজো উদ্ধার করতে পারিনি।

    আসলেই! কি মীরাকল দিয়ে তারা সেই মমি বানিয়েছিল যে তা আজো জানা সম্ভব হলো না?

    এই ইতিহাস বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে যে চৌদ্দশত বছর আগে নয়, প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বেও মানব সভ্যতা অনেক উন্নত ছিল। তাই চৌদ্দশত বছর পূর্বের একজন মানুষের পক্ষে উন্নতর দর্শন রচণা অসম্ভব নয়।

    আর মোহাম্মদের দর্শনে খুব একটা মৌলিকত্ব আমি দেখি না। যতটুকু মৌলিকত্ব আছে সেটুকুকে সম্ভবত উন্নত দর্শন বলা যায় না।

    যদি আমরা মানুষের মস্তিষ্ক কিভাবে কাজ করে সেটা একদিন পরিপূর্ণভাবে বুঝতে পারি তবে হয়তোবা ক্ষুদ্র একটি সমাজে একটি নুতন আইন করা হলে তার ফলাফল কি হবে সেটা আমরা কম্পিউটারে বসেই বের করতে পারবো।

    এই বিষয়টা মাঝে মাঝে আমাকে ভাবায়। হয়ত একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। প্রকৃতির গূঢ়রহস্য পুরোপুরি জেনে গেলেতো আমরা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ তৈরী করব। যদিও এখনও আমরা নিজেদের ভবিষ্যৎ অনেকক্ষেত্রে তৈরী করি। তবে সেটা প্রবাবিলিটির ভিত্তিতে। কিন্তু আমরা যদি আমাদের উৎপত্তির পুরো রহস্যটাই জেনে যাই, তবে যে বিবর্তনের ধারায় আমরা এসেছি সেটা কি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে না। মিউটেশনের ফলে যে সূক্ষ্ণ পরিবর্তন ঘটে চলছে সেটাকে যদি আমরা প্রভাবিত করি(এমনকি প্রকৃতিকেও যদি আমরা প্রভাবিত করা শুরু করি), তবে কি প্রকৃতিতে বৈচিত্র্য কমে যাবে না?

    ধন্যবাদ চমৎকার একটা লেখা পোস্ট করার জন্য। :rose2: :rose: :rose2:

    • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 25, 2010 at 11:24 অপরাহ্ন - Reply

      @রনবীর সরকার,
      ধন্যবাদ পড়া ও মন্তব্যের জন্য।

  6. রামগড়ুড়ের ছানা সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 11:37 অপরাহ্ন - Reply

    যদি আমরা মানুষের মস্তিষ্ক কিভাবে কাজ করে সেটা একদিন পরিপূর্ণভাবে বুঝতে পারি তবে হয়তোবা ক্ষুদ্র একটি সমাজে একটি নুতন আইন করা হলে তার ফলাফল কি হবে সেটা আমরা কম্পিউটারে বসেই বের করতে পারবো।

    আসিমভের ফাউন্ডেশন সিরিজের কথা মনে পড়ছে। আপনি কি সেরকম কিছুর কথা বলছেন?

    • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 11:50 অপরাহ্ন - Reply

      @রামগড়ুড়ের ছানা,

      আসিমভের ফাউন্ডেশন সিরিজের কথা মনে পড়ছে।

      আমার এটা সম্পর্কে ধারণা নেই কোন। কোন লিঙ্ক দিলে পড়ে দেখতে পারি।

      তবে আমি যেটা বলেছি এটা একটি সাধারণ ধারণা মাত্র। যদি একদিন বিজ্ঞানের কল্যানে আমরা এই প্রকৃতির সব কিছুকে ব্যাখ্যা করার মত গাণিতিক সুত্র পাই তখন তো কোন কিছু মডেল করা অসম্ভব নয়। কষ্টকর কাজ হচ্ছে গাণিতিক সুত্র বের করা। যেটা করতে হাজার বছরে লেগে যেতে পারে। আমি যেমন নদীর পানির প্রবাহের মডেলিং করি। কিন্তু পানির সব মেকানিক্স আমরা এখনো জেনে শেষ করতে পারিনি। এক্সপেরিমেন্ট, মেজারমেন্ট এই সবের সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু চেষ্টা তো জারি আছে। একদিন সবকিছুই আয়ত্তে আসবে বলে বিশ্বাস। ততদিন আমরা থাকব না, এই আর কি 😥 ।

      • রামগড়ুড়ের ছানা সেপ্টেম্বর 25, 2010 at 8:12 অপরাহ্ন - Reply

        @স্বাধীন,

        আমার এটা সম্পর্কে ধারণা নেই কোন। কোন লিঙ্ক দিলে পড়ে দেখতে পারি।

        এটা আসলে ৭খন্ডের একটি সায়েন্স ফিকশন,সর্বকালের সেরা সায়েন্স ফিক্শান হিসাবে স্বীকৃত। ফাউন্ডেশন সিরিজ না পড়লে তার জীবনটাই বৃথা,আমার ধারণা। আসিমভ এখানে এমন একটি থিওরীর কথা বলেছেন যা সমষ্টিগত ভাবে মানুষের আচরণ প্রেডিক্ট করতে পারবে।

  7. Anjan সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 5:33 অপরাহ্ন - Reply

    চমতকার,

  8. Anjan সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 5:32 অপরাহ্ন - Reply

    Buatiful autobiography & positive thinking, please continue, we are always with you. From New Delhi-India

    • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 10:41 অপরাহ্ন - Reply

      @Anjan,

      ধন্যবাদ পড়ার জন্য এবং মন্তব্যের জন্য।

  9. আকাশ মালিক সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 4:31 অপরাহ্ন - Reply

    চমৎকার, অসাধারণ মনমু্গ্ধকর একটি লেখা। অত্যন্ত সরল সাবলীল ভাষায় লেখা এই লেখাটি পড়ে, আমি একই সাথে এতই আনন্দিত ও অবাক হয়েছি যে আপনার অন্যান্য সবগুলো লেখা আরেকবার পড়লাম। প্রত্যেকটি লেখায়, মানব সভ্যতাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা, মানব কল্যাণে আপনার প্রাণের ব্যাকুলতা স্পষ্টই পরিলক্ষিত হয়।

    সময় করে বানানগুলো এডিট করে নিন। এ রকম লেখা নতুন প্রজন্মকে জগত ও জীবন নিয়ে ভিন্নভাবে ভাবতে অনুপ্রাণীত করবে, এ সকল লেখা তাদের ভবিষ্যতের পথের দিশারী হয়ে থাকবে।

    • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 10:40 অপরাহ্ন - Reply

      @আকাশ মালিক,

      প্রত্যেকটি লেখায়, মানব সভ্যতাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা, মানব কল্যাণে আপনার প্রাণের ব্যাকুলতা স্পষ্টই পরিলক্ষিত হয়।

      আপনি একদম আসল জায়গায় হাত দিয়েছেন 😀 । আপনার কি মনে হয়, আমাদের সকলের লক্ষ্য কি সেটাই হওয়া উচিৎ নয়? ধর্ম বলেন, অধর্ম বলেন, দর্শন বলেন, বিজ্ঞান বলেন সকলেই কি একই লক্ষ্যে কাজ করছে না? তাহলে নিজেদের মধ্যকার বিভেদ কমিয়ে কি একটি ইউনিফাইড থিউরি ধরে সকলের এগিয়ে যাওয়া উচিৎ নয়? যারা নিজেদের অবস্থান সঠিক বলে একই স্থানে থাকতে চাইবে, লেট দেম ডু ইট। বাকিরা এগিয়ে গেলে তারা এমনিতেই পেছনে পরে থাকবে। এই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকলকে একত্র করাটাই আমার লক্ষ্য, নিজেদের মধ্য যুদ্ধ নয়। যে কারণে মুক্তমনার মূল শ্লোগানের সাথে একমত। কে অবিশ্বাসী, কে কম অবিশ্বাসী কিংবা কে কম বিশ্বাসী, কে বেশি বিশ্বাসী, সেই তর্কে আমার আগ্রহ কম। যদি একজন বিশ্বাসীও সভ্যতাকে এগিয়ে নেওয়ায় অবদান রাখতে আগ্রহী হয় আমি তাকে পাশে নিব। আস্তিক হোক, বা নাস্তিক হোক, যে সভ্যতাকে পেছনে নিয়ে যেতে চাইবে, তাকে আমি সভ্যতার জন্য শত্রু হিসেবেই দেখবো।

      ধন্যবাদ আকাশ মালিক ভাই আপনার উৎসাহের জন্য। আপনার বইটি “যে সত্য বলা হয়নি”, আমার মত অনেকেরই চোখ খুলে দিবে বলে বিশ্বাস করি। সে জন্য বিশেষ ধন্যবাদ রইল।

      • ভবঘুরে সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 10:54 অপরাহ্ন - Reply

        @স্বাধীন,

        মানব সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রথম যে কাজটা নির্ধারন করা দরকার তা হলো নীতি । কোন নীতিতে এগোতে হবে। আপনাদের মত বিদেশে শিক্ষাপ্রাপ্ত ইঞ্জিনীয়ার রা যদি সভ্যতার কথা বাদ দিয়ে তাবলিগ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাহলে আর যাই হোক তাদেরকে দিয়ে সভ্যতা এগোন তো দুরের কথা দিন দিন পিছোতেই থাকবে বলে মনে হয়।

        • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 11:21 অপরাহ্ন - Reply

          @ভবঘুরে,

          আপনার চিন্তা শক্তি যথেষ্ট প্রকট যা আপনার লেখনিতে অনুধাবন করি। সে শক্তিটুকু যেন অপাত্রে ব্যবহৃত না হয় সে জন্যেও সচেষ্ট থাকার অনুরোধ রইল।

          বিদেশে শিক্ষাপ্রাপ্ত ইঞ্জিনীয়াররা যদি সভ্যতার কথা বাদ দিয়ে তাবলিগ নিয়ে ব্যস্ত থাকে তবে সেটা তাঁদের শিক্ষার অপচয়, এই বিষয়ে কি করতে পারি, লেট দেম ডু ইট। কিন্তু চিন্তা করে দেখুন এরা কি সংখ্যাগরিষ্ঠ? আপনার আশেপাশের হিসেবে কি বলে? বুয়েটের শিক্ষকদের মাঝে ৫% কি হবে যারা এভাবে তাবলিগ করে? কিংবা ছাত্রদের মাঝে কি ৫% হবে যারা তাবলিগ করে? খেয়াল করে দেখুন, বিশ্বাসী আর তাবলিগ গোষ্ঠী এক নয়। এখন যদি আপনি আপনার সমূহ শক্তি তাবলিগদের নিয়ে চিন্তার পেছনেই ব্যয় করেন সেটাও এক প্রকার অপচয় হবে।

          আবার যদি সকল বিশ্বাসীদেরকেও তবালীগের কাতারে দেখতে থাকেন সেটাও ভুল এসাম্পশান হবে। এটা ঠিক যে সেই সব বিশ্বাসীরা আক্রান্ত হলে তারাও মৌলবাদীদের মত আচরণ করে। সাপ/বা যে কোন প্রিডেটর কিন্ত মানুষকে দেখা মাত্রেই আক্রমন করে না। নিজে যদি আক্রান্তবোধ করে তবেই সে আক্রমন করে বসে, অনেক সময় ভয়েই আক্রমন করে বসে। তাই এরকম প্রতিআক্রমন বেশ স্বাভাবিক, যেটা একজন বিশ্বাসীও করবে। তাই আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কিভাবে বিশ্বাসী মানুষটার সাথে ডিল করবেন। সরাসরি আক্রমন করে তাকে প্রথমেই ঘায়েল করে ফেলবেন, নাকি তাকে বুঝতে দিবেন যে না আপনার কাছে থেক কোন প্রকার বিপদের সম্ভাবনা নেই তার জন্য। এভাবে আপনি তার বিশ্বাসটুকু অর্জন করবেন যেন আপনার গোত্র বড় হয়।

          যুদ্ধ কিন্তু একা একা করা যায় না। আপনাকে আপনার গোত্রও আকারে বড় করতে হবে। যখন আপনার গোত্র বড় হয়ে যাবে, দেখবেন অন্যরা এমনিতেই আপনার গোত্রে এসে পড়ছে কোন প্রকার চেষ্টা ছাড়াই। দেখুন প্রতিটি চিন্তা/আইডিয়ার রকম হচ্ছে সে চায় তার চিন্তাকে ছড়িয়ে দেওয়ার, অন্যের মাঝে নিজের চিন্তাটুকু ইন্সেপশান করার। এখন তাবলিগ গোষ্ঠী তাদের কাজ করে যাচ্ছে, আপনি আপনার কাজ করে চলুন। সময় নির্ধারণ করে দিবে কোনটা টিকে থাকবে। দ্যাটস্‌ মাই স্ট্র্যাটেজী।

  10. ভবঘুরে সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 3:16 অপরাহ্ন - Reply

    আপনার লেখা সাবলীল হলেও তা পড়ে আসলে বোঝা গেল না আপনি কতটা অবিশ্বাসী। কিন্তু আমি একটা বিষয় ভেবে অবাক হচ্ছি , তা হলো- বর্তমানে আমাদের দেশে আমি দেখি এই পেশাগত শ্রেনীর লোকজন মানে ইঞ্জিনীয়ার, ডাক্তার এরাই সব চাইতে বেশী বিশ্বাসী লোকজন , এদের একটা বড় অংশই তাবলিগের সাথে জড়িত- অথচ আপনি সেটা হন নি। আমার যা ধারনা তাতে মনে হয়- এ ধরনের পেশাগত শিক্ষা করতে যেয়ে ছাত্ররা সাধারনত বাইরের জগতের জ্ঞান গম্যি তেমন আয়ত্ব করার সুযোগ পায় না বা দরকারও মনে করে না। তাই সার্টিফিকেট অর্জনের ক্ষেত্রে একটা মূল্যবান অর্জন করলেও মনোজগত প্রায় আদিম বা বদ্ধ রয়ে যায়। আর সে কারনেই তারা জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে মৌলবাদের প্রতি ধাবিত হয়। আবার দেখা যায় এদেরই কিছু লোক কোরানের মধ্যে যাবতীয় বিজ্ঞান আবিষ্কার করে বসে থাকে। একজন ডাক্তারকেও দেখি অবলীলায় কোরানের মধ্যে আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব আবিষ্কার করে ফেলছে। যদিও আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ডাক্তার কেন খোদ পদার্থ বিজ্ঞানে উচ্চ ডিগ্রী ধারী ব্যাক্তিরাও অনেকে ভালমতো এ তত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারে না।তত্ত্বটা জানা আর তা সম্যক উপলব্ধি করা ভিন্ন জিনিস মনে হয় আমার কাছে। ব্যাক্তিগত ভাবে আমার শিক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞানের ব্যাকগ্রাউন্ড থাকার পরও আইনস্টাইনের তত্ত্ব ভাল মতো বুঝতে আমাকে পড়াশুনা ছাড়ার পরেও বহুদিন লেগেছে। তাও ক্রমাগত চর্চা করার পর।যাহোক, আপনার কাছে প্রশ্ন- এসব ইঞ্জিনীয়ার বা ডাক্তার রা কেন বেশী বেশী ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বা কেন তারা বেশী করে তাবলিগে যোগ দিচ্ছে এর কারন আপনি কিছু বলতে পারেন ?

    • আদিল মাহমুদ সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 5:17 অপরাহ্ন - Reply

      @ভবঘুরে,

      কথায় কিছুটা হলেও সত্যতা আছে। আমার মনে হয়ে এটার ব্যাখ্যা হয়ত এভাবে দেওয়া যায়। ইঞ্জিনিয়ার ডাক্তার এই শ্রেনী মোটামুটি পেশাগতভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। একটা সময়ের পর এদের পার্থিব জীবন থেকে খুব বেশী আর চাওয়ার থাকে না। তখন পরকালের চিন্তায় পরকালের সংগ্রহ অর্জন বড় হয়ে দাঁড়ায়। এই দলে আমার নিজের বেশীরভাগ তবলীগি বন্ধুবান্ধব পড়ে যারা ছাত্র বয়সে ধর্ম কর্মের ধার তেমন ধারত না কিন্তু বিদেশে প্রতিষ্ঠা পাবার পর ধার্মিক হয়ে গেছে। এর সাথে পাশ্চাত্য সমাজের সাংস্কৃতিক ব্যাবধান থেকে নিজেদের বাঁচাতে ধর্মকে ঢাল হিসেবে একান্তই প্রয়োযন মনে করাও আরেকটি কারন। এদের টাইপ ছিল সারা জীবনই গুডি বয়।

      তবে এরা কোরানে বিজ্ঞান খোঁজার আবিষ্কারে কেউ মত্ত নেই, তবে অন্য কেউ আবিষ্কার করলে নিঃসন্দেহে খুশী হয় 🙂 ।

      • পৃথিবী সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 8:23 অপরাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ, পশ্চিমে কিন্তু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়াররা এরকম মৌলবাদী হয় না, সেখানেও কিন্তু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারদের অনেক পয়সা। আমার মনে হয় বাংলাদেশেও সব ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার গণহারে মৌলবাদী হয় না, গুটিকয়েকজনকে দেখেই আমরা সাধারণীকরণ করে ফেলছি।

        • ভবঘুরে সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 10:10 অপরাহ্ন - Reply

          @পৃথিবী,

          আমার মনে হয় বাংলাদেশেও সব ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার গণহারে মৌলবাদী হয় না, গুটিকয়েকজনকে দেখেই আমরা সাধারণীকরণ করে ফেলছি

          সবাই না।তবে অধিকাংশ। আপনি যদি নিজে একটা জরীপ করেন নিজেই সেটা টের পাবেন। মজার ব্যপার এটা খালি মুসলমানদের মধ্যে তা না, অমুসলিমদের ক্ষেত্রেও প্রজোয্য।

        • আদিল মাহমুদ সেপ্টেম্বর 25, 2010 at 12:18 পূর্বাহ্ন - Reply

          @পৃথিবী,

          আমি কিন্তু বাংলাদেশে বা বিদেশে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার মাত্রই সবাই মৌলবাদী হয়ে যায় তেমন কিছু বলিনি। ধার্মিক আর মৌলবাদী আমার কাছে অন্তত এক নয়।

          আমি বলেছি তবলীগি বা কঠিন ধার্মিকে পরিনত হয়।

    • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 10:27 অপরাহ্ন - Reply

      @ভবঘুরে,

      আপনার লেখা সাবলীল হলেও তা পড়ে আসলে বোঝা গেল না আপনি কতটা অবিশ্বাসী।

      এটা আমার লেখার ব্যার্থতা হিসেবে ধরে নিচ্ছি। তবে আমার কাছে আমি কতটা অবিশ্বাসী সেটার চেয়ে মূল্য বেশী আমি সভ্যতাকে কতটুকু দিতে পারছি। আরেকটা বিষয় হচ্ছে আমি সেটাই বলার চেষ্টা করি যেটা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত এবং যেটা আমি বুঝেছি। যা আমি বুঝিনি তা অন্যকে বুঝাতে গেলে নিজেই আটকে যাই। আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন নানান উদ্ভট প্রশ্ন শিক্ষকদের করতাম। সেই আমি যখন শিক্ষক হলাম তখন আমার চেয়ে সেই সব উদ্ভট প্রশ্ন কেউ বেশি জানতো না। নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করি এবং জবাব তৈরী করেই ক্লাসে যেতাম। এই ক্ষেত্রেও আমার কাছে আমি কতটা অবিশ্বাসী সেটা আমার কাছে মূখ্য নয়। মূখ্য হচ্ছে আব্রাহাম গড অথবা আব্রাহাম ধর্ম গ্রন্থ সত্য কিনা। যেটা স্পষ্ট করেই বলেছি এই বিষয়ে আমার অবস্থান কি।

      দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব অনেকটা আপনার নিজের মন্তব্যেই রয়েছে। উপরে পৃথিবীর মন্তব্যেও কিছুটা বলেছি যে ক্যাডেট বলেন, বুয়েট বলেন, ডাক্তার বলেন কিংবা শিক্ষক বলেন সবাই গতানুগতিক ভাবে বিশ্বাসী দলেই পড়ে। সবচেয়ে বেশি তাবলীগ মনে হয় বুয়েটের, ডাক্তার। এটার মূল কারণ হিসেবে হচ্ছে আমাদের প্রকৃত শিক্ষার অভাব। আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি পুরোপুরি মুখস্থ নির্ভর, ভাল একটি চাকুরী পাওয়া নির্ভর। সেখানে শেখার কিছু নেই, নিজে নিজে জানার কিছু নেই। নিজেকে বের করে আনার কিছু নেই। এটা সহজে পরিবর্তনও করা যাবে না। এর সাথে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সংস্কৃতিগত সমস্যাগুলো বিদ্যমান। এছাড়া ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি এই সকল শ্রেণী বেশি স্বার্থপর। এই স্বার্থপরতা আমাদের দেশে সংস্কৃতিগত ভাবেই এসেছে। যে দেশে এত মানুষ, এত চাহিদা সেখানে পরোপকারী হতে গেলে নিজেরই ক্ষতি। তাই স্বার্থপরতা শুধু বুয়েট/মেডিকেল না সকলের মাঝেই আছে এটা স্বীকার করেই এগুতে হবে। বুয়েট/মেডিকেলের কথা বাদ দিন বিদেশে এসে গ্রাডুয়েট স্টাডিতেও এসে দেখেছি সবাই শুধু ডিগ্রি/পেপার/ভাল চাকুরী এর জন্যেই গবেষণা করে। কয়জন গবেষণাকে ভালবেসে, নুতন কিছু জানার উদ্দেশ্যে গবেষণা করে। একই কথা প্রযোজ্য পাশ্চাত্যের ইঞ্জিনিয়ার/ডাক্তারদের ব্যাপারে। এদের বাল্য শিক্ষা/সংস্কৃতি যেহেতু ততটা গোঁড়া নয় তাই ধর্ম সম্পর্কে উদাসীন, কিন্তু তাই বলে সকলেই অবিশ্বাসী নয়, তারা উদাসীন। কিন্তু তারাও স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত নয়। আমি তো বলবো তারাও কম স্বার্থপর নয়। তারা নিজেরা ভাল থাকছে, কিন্তু তারা তৃতীয় বিশ্ব সম্পর্কে উদাসীন। এই উদাসীনতা এক প্রকার স্বার্থপরতা। আমার কাছে এই স্বার্থপরতাকে অস্বাভাবিক মনে হয় না বিবর্তনের দৃষ্টিতে। বরং চেষ্টা থাকা উচিত কিভাবে এই সকলের ইন্ডিভিজিউয়াল স্বার্থপরতাকে কাজে লাগিয়ে সামষ্টিক লক্ষ্য অর্জন করা যায়।

  11. পৃথিবী সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 10:46 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমি ক্যাডেট কলেজে সুযোগ পেয়ে সেখানে চলে যাই পড়তে। বিশেষ কিছু নয় এই কারণে যে ক্যাডেট কলেজে প্রতিবছর পাঁচশত ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি হয় মোট দশটি কলেজে। এর মাঝে সবাই যে আমার মত অবিশ্বাসী হয় সে রকম তো নয়। তবে আমার নিজের জীবনের প্রেক্ষাপটে ক্যাডেট কলেজে সুযোগ পাওয়া একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। আমার মনে হয়, যদি আমি ক্যাডেট কলেজে সুযোগ না পেতাম তবে আমি যে বৃত্তের ভেতরে বন্দী ছিলাম সেটা ভাঙ্গার মত শক্তি কখনো অর্জন করতাম না। ক্যাডেট কলেজে যাওয়ার কারণেই আমি আমার বাসার থেকে একটি উন্নত পরিবেশ পাই যেটা আমার নিজেকে বের করে আনার জন্য আবশ্যক ছিল। সে কারণে কলেজের প্রতি এই ঋণ সব সময় স্বীকার করি।

    আমি তো আরও ভাবছিলাম ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থীরা হয়ত একটু বেশি গতানুগতিক হয়(দু’ একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে)। ক্যাডেট কলেজের বন্ধ সিস্টেমে(কলেজের শিক্ষার্থীদের বাইরে নিশ্চয় অন্য কারও সাথে আলাপ-আলোচনা হত না যার কারণে রেডিক্যাল কোন চিন্তার সাথে সাক্ষাত ঘটতে পারে) এবং কঠিন ডিসিপ্লিনের মধ্যে থাকলে বাইরের বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা না করতে পারারই কথা। আপনাদের কি পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বই নেওয়ার ব্যাপারে নিয়ম-নীতি ছিল?

    • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 10:03 অপরাহ্ন - Reply

      @পৃথিবী,

      কথাটি একে বারে অসত্য নয়। বেশির ভাগই গতানুগতিক হয়। কিন্তু ব্যতিক্রমও রয়েছে, রায়হান, শিক্ষানবিস, আন্দালিব মুক্তমনাতেই লেখে। আমাদের ডিসিপ্লিন্ড জীবনের মাঝেও লাইব্রেরী থেকে বই এনে পড়ার সুযোগ ছিল। এ ছাড়া নিজের পড়াশুনা ফাঁকি দিয়েও লুকিয়ে অন্য বই পড়া যেত। ধরা খেলে শাস্তিও ছিল। কলেজে আসলে এগুলো কোন ব্যাপার না। বার বার শাস্তি খেলেও যা করতে ইচ্ছে করে সেটা করে যাওয়ার জেদ সবার মাঝেই কাজ করে। ব্যাপারটা নির্ভর করে আপনি কি করতে চান। আমি বই পড়ি, অন্যরা হয়তো ঘুমায়, নয় তো ছবি আঁকে। আর কলেজের জীবনটা তো একটি ক্ষুদ্র সময়। নির্ভর করছে কলেজের বাহিরে এসে আপনি কি করছেন। আমি সারাজীবনই কলেজের বন্ধু সার্কেল ব্যতীত আরো নুতন বন্ধু সার্কেল বানিয়েছি। তাই আমার স্থানীয় বাল্য বন্ধু, বুয়েটের গ্রুপ, বিদেশী বন্ধু, এখন ব্লগের বন্ধু গ্রুপ, এভাবে সব সময় নুতন মানুষের সংস্পর্ষে আসার চেষ্টা করেছি। তাই সবই সম্ভব। আবার এ কথাও ঠিক সবাই তো গতানুগতিক। কিন্তু কথাটি শুধু মাত্র ক্যাডেটদের জন্য বললে তাদের প্রতি অবিচার করা হবে বলে মনে করি। কারণ গতানুগতিকতা বুয়েটের, ডাক্তারী ছাত্র সবার মাঝেই রয়েছে। কিছু জবাব নীচে ভবঘুরের মন্তব্যে দিচ্ছি। ধন্যবাদ মন্তব্য এবং পড়ার জন্য।

  12. ফরিদ আহমেদ সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 9:23 পূর্বাহ্ন - Reply

    অকপট, অমায়িক এবং অসাধারণ একটি আত্মকথন। মুগ্ধতা মাখানো মূর্ছনায় মোহাচ্ছন্ন হলাম।

    • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 9:51 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ফরিদ আহমেদ,

      দিন দিন ভয় বাড়ছেই, কবে এই শব্দগুলো পরিবর্তিত হয়ে কপট, মায়িক, সাধারণ, অমুগ্ধতা, অমাখানো, অমূর্ছনা তে রূপান্তরিত হয় 😀 । ততদিন আমি ভাল থাকি 🙂 । পড়ার জন্য ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

      • ফরিদ আহমেদ সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 10:02 পূর্বাহ্ন - Reply

        @স্বাধীন,

        ভয়ের কিছু নেই। আপনার লেখার মান যতদিন অপরিবর্তিত থাকবে ততদিন এই বিশেষণগুলোও অরূপান্তরিত থাকবে।

        সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলা-ই শিখেছি আমি। কালোকে ধলা বলানো যাবে না আমাকে দিয়ে কিছুতেই। 🙂

  13. আদিল মাহমুদ সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 6:31 পূর্বাহ্ন - Reply

    আত্মকথা সবসময়ই ভাল লাগে, আরো যদি সরল ভাষায় হয়।

    ভেবেছিলাম ঈশ্বর বিশ্বাস বা অবিশ্বাস সম্পর্কে বেশ কিছু সুতীক্ষ্ম যুক্তি থাকবে। দেখা গেল অতটা নেই। সম্ভবত আপনি এখনো অজ্ঞেয়বাদী?

    • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 8:54 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,

      সুতীক্ষ্ণ যুক্তি আর পামু কই। যুক্তি যা আছে সবইতো সব আগেই বলা শেষ, নুতন কিছু বলতে হলে নুতন গ্রান্ড ডিজাইনের মত থিউরি বানাতে হবে 😥 । গ্রান্ড ডিজাইন বইটা আজকে হাতে পেলাম। দেখি হকিং কি থিউরি দেয়। এটা নিজের ছোট্ট ইতিহাসটুকুও লিপিবদ্ধ করে রাখা আর কি।

      মন্তব্য ও পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

      • আদিল মাহমুদ সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 5:13 অপরাহ্ন - Reply

        @স্বাধীন,

        ব্যাপার না। যুক্তি বাইর করা কোন বিষয় নাকি। তবে আরেকটু বয়স হইলে বুয়েট প্রোডাক্ট বেশীরভাগই তবলীগ লাইনে যায়, মনে রাইখেন 🙂 । আমার বন্ধু বান্ধব অনেকে গেছে গিয়া। ডিপার্টমেন্টেও বেশীরভাগ স্যার যাদের ছাত্র বয়সে তেমন ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে দেখতাম না এখন বেহেশতি লেবাস লাগায়া ঘুরে।

        নীচে ভবঘুরের কথায় কিছুটা হলেও সত্যতা আছে।

  14. ব্রাইট স্মাইল্ সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 6:08 পূর্বাহ্ন - Reply

    এক টানে লিখে ফেলা লেখাটির লেখক যে লেখালেখিতে শক্তিধর তা বুঝা গেলো। বড়ই আনন্দ পেলাম লেখাটি পড়ে। ধন্যবাদ।

    • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 8:55 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ব্রাইট স্মাইল্,

      পড়ার জন্য ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

  15. রৌরব সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 4:55 পূর্বাহ্ন - Reply

    এর পেছনে বড় বাঁধা হচ্ছে মানুষের চরিত্রের বিবর্তনীয় ক্ষমতা। পুরো ব্যবস্থাটি নির্ভর করছে আরেকজন মানুষ কিভাবে স্টেপ নেয় তার উপর। একজন মানুষের নেওয়া একশ্যানের উপর নির্ভর করে অন্যজনের কাজ, এভাবে হাজার কোটি মানুষের চরিত্রকে ডিটারমিনিস্টিক মডেলের আওয়তায় আনা এখনকার জ্ঞানে অসম্ভব।

    চমৎকার! লেখাটি বড়ই ভাল লাগল।

    • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 8:56 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রৌরব,

      পড়ার জন্য ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

  16. সাইফুল ইসলাম সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 2:57 পূর্বাহ্ন - Reply

    চমৎকার সাবলীল লেখা। পড়ে খুব ভালো লাগল। যদিও চাঞ্চল্যকর কোন কাহিনী নেই কিন্তু বর্ননার গতিময়তায় তার অভাব বোধ করিনি।
    আপনার সাথে গলা মিলিয়ে বলছি জয় হোক মুক্তমনার।

    • Golap সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 3:57 পূর্বাহ্ন - Reply

      িলখািট ভাল লাগলো ।
      মোহাম্মদ িক কখনো জহাজে ভ্রমন করেছিলেন?

      • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 8:56 পূর্বাহ্ন - Reply

        @Golap,

        মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। জাহাজ না হয় বাদ দিয়ে দিলাম।

    • স্বাধীন সেপ্টেম্বর 24, 2010 at 4:03 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সাইফুল ইসলাম,

      সাধারণ মানুষের জবানবন্দীতে আর চাঞ্চল্যকর কাহিনী কিভাবে পাবেন 😀 ? ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য এবং কষ্ট করে পড়ার জন্য।

মন্তব্য করুন