বিবর্তনের ফলে মানব দেহে রয়ে যাওয়া কয়েকটি অপ্রয়োজনীয় অঙ্গ এবং মাস্‌ল।

By |2010-09-22T02:52:39+00:00সেপ্টেম্বর 21, 2010|Categories: জৈব বিবর্তন|Tags: |30 Comments

লেখাটি আগে আমারব্লগ এবং সামহয়্যারইন ব্লগে প্রকাশিত।

বিবর্তনের চিহ্ন হিসাবে এখনও আমাদের দেহে বেশ কয়েকটি অঙ্গ এবং মাসল্‌ রয়ে গেছে যেগুলা কিনা আমাদের কোন কাজেই লাগে না। এদের মধ্যে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে এ্যাপেনডিক্স। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্তের সংযোগ স্হলে থলের মত অঙ্গটির (সিকাম) শেষপ্রান্তে টিস্যু দ্বারা গঠিত চিকণ পেন্সিলাকৃতির যে অংশটি দেখা যায় তারই নাম এ্যাপেনডিক্স। বিবর্তনের রেখে যাওয়া অন্যান্য অঙ্গ/মাসলের মত আমাদের দেহে এ্যাপেনডিক্সের আকারও বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। মানুষের দেহে এটি ১ ইঞ্চি থেকে শুরু করে ১ ফুট পর্যন্ত লম্বা পর্যন্ত হতে পারে। আবার কেউ কেউ এ্যাপেনডিক্স ছাড়াই জন্মগ্রহণ করে থাকে তবে তাদের সংখ্যাটা খুবই অল্প।

Appendix

কোয়ালা, খরগোশ কিংবা ক্যাঙ্গারুর মত তৃণভোজী প্রাণীদের সিকাম এবং এ্যাপেনডিক্স আমাদের তুলনায় অনেক বড় হয়ে থাকে। তৃণভোজী প্রাইমেটদের যেমন লিমার, লারিসেস, এবং স্পাইডার মাঙ্কি ক্ষেত্রেও একথাটা সত্যি। বৃহদাকৃতির এই থলে বা সিকাম প্রাণীদের ক্ষেত্রে সেলুলোজকে ভেঙ্গে শরীরের জন্য উপযোগী শর্করায় পরিণত করতে সাহায্য করে। যে সমস্ত প্রাইমেটদের খাদ্যাভাসে পাতার পরিমাণ কম থাকে যেমন ওরাং উটাং বা ম্যাকি, তাদের সিকাম এবং এ্যাপেনডিক্সের আকার অনেক ছোট হয়। আর আমরা যেহেতু তৃণভোজী না বা সেলুলোজ হজম করতে পারিনা তাই আমাদের দেহে এ্যাপেনডিক্সের আকার খুবই ছোট। একটা প্রাণী যত কম তৃণভোজী হবে তার এ্যাপেনডিক্সের আকারও তত ছোট হয়ে থাকে। আমাদের দেহের এ্যাপেনডিক্স হলো আমাদের তৃণভোজী পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া একটি অঙ্গ যার গুরুত্ব আমাদের পূর্ব পুরুষদের কাছে থাকলেও আমাদের কাছে এখন একেবারেই নেই।

এ্যাপেনডিক্সের আদৌ কোন গুরুত্ব কি আছে? যদি থেকেও থাকে তবে তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। এ্যাপেনডিক্স কেটে ফেললে তার কোন খারাপ প্রতিক্রিয়া আমাদের শরীরে হয় না। বরঞ্চ মলাশয়ের বিভিন্ন রকমের সমস্যার পরিমাণ অনেক কমে যায়। প্রত্নতত্ববিদ আলফ্রেড রোমার তার বিখ্যাত টেক্সট ব্ই “The vertebrate Body”তে এ্যাপেনডিক্স নিয়ে আলোচনা করতে যেয়ে কৌতুক করে বলেছেন, “এ্যাপেনডিক্সের সবচাইতে বড় উপকারীতা হলো এটা শল্য চিকিৎসকদের অর্থ উপার্জনে সহায়তা করে।” বর্তমানে কিছু গবেষক মনে করেন যে আমাদের দেহে পরিপাক তন্ত্রে ইনফেকশন হলে কখনও কখনও কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া হয়ত এ্যাপেনডিক্সে আশ্রয় নিয়ে থাকে।

তবে এই ছোট উপকারটি এ্যাপেনডিক্স থাকার কারণে যে অসুবিধাগুলো হতে পারে তার তুলনায় কিছুই না। সংকীর্ণতার কারণে খুব সহজেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে যা কিনা ইনফেকশন এবং প্রদাহের কারণ হয়ে থাকে, যাকে আমরা বলি এ্যাপেনডিসাইটিস। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না হলে রোগীর মারা যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। উনিশ শতকে ডাক্তাররা এ্যাপেনডিক্স অপসারণের পদ্ধতি আবিস্কার করার আগে মৃত্যুর হার ছিলো ২০% এর উপরে। মোদ্দাকথা অপারেশন করে এ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করার আগে প্রতি ১০০ জনে ১’র অধিক মানুষ এ্যাপেনডিক্সের কারণে মারা যেত, যা কিনা প্রাকৃতিক নির্বাচনের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। মানব বিবর্তনের একটা বিশাল সময় (৯৯% এর বেশী সময়) ধরে এ্যাপেনডিক্স অপসারণের জন্য কোন শল্য চিকিৎসক ছিলোনা। বলতে গেলে তখনকার মানুষেরা পেটের ভিতর যেকোন সময় ফাটার অপেক্ষায় থাকা একটি টাইম বম্ব নিয়ে ঘুরে বেড়াতো, যার থেকে বাঁচার কোন উপায় ছিলো না। যদি এ্যাপেনডিক্সের উপকার এবং অপকারের মধ্যে একটা তুলনামূলক আলোচনা করি তবে দেখা যাবে আমাদের দেহে এটা থাকার কোন যৌক্তিকতা নেই। তবে সেই আলোচনা বাদ দিয়েই বলা যায় এ্যাপেনডিক্স হলো বিবর্তনের রেখে যাওয়া একটি অঙ্গ যা কিনা যে কাজের উদ্দেশ্যে এর উদ্ভব সেই কাজ এখন আর সে পালন করেনা। তাহলে কেন এটা এখনও আমাদের দেহে রয়ে গেল? একটা কারণ হতে পারে এটা বিবর্তনের মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। কিন্তু সার্জারীর কারণে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে এ্যাপেনডিক্স আছে এমন মানুষের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাতিল হয়ে যাওয়ার কারণে সেটা হয়ত এখন আর সম্ভব না।

coccyx

আমাদের দেহে এখনও এমন আরও কিছু মাস্‌ল দেখা যায় যা কিনা প্রাইমেট বা উঁচু স্তরের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের পূর্বপুরুষের দেহ থেকে আমাদের দেহে রয়ে গেছে। বিবর্তনের ফলে এরকমই আরেকটি রয়ে যাওয়া মাস্‌ল হলো কক্সিস (Coccyx) যা কিনা “Vestigial Tail” নামেও পরিচিত। মেরুদন্ডের শেষপ্রান্তে বেশ কয়েকটি হাঁড় সংযুক্ত হয়ে যে ত্রিভূজাকৃতির একটি অস্হিকাঠামো তৈরী করে সেটাই কক্সিস নামে পরিচিত। এই অঙ্গটি এক সময় আমাদের প্রাইমেট পূর্ব পুরুষদের দেহে লেজের অংশ হিসাবে অনেক কাজে লাগলেও এখন তা আমাদের কাছে শুধুই স্মৃতিচিহ্ন। আশ্চর্য্যজনক হলেও একথা সত্যি যে কিছু কিছু মানুষের দেহে খুবই বেসিক লেভেলের লেজের মাস্‌ল পাওয়া যায় যা কিনা বানর এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লেজের সাথে হুবুহু মিলে যায়। যেহেতু আমাদের হাঁড়ের অংশটা নড়েনা তাই এই মাস্‌ল গুলোও কোন কাজে আসে না। আর যাদের মধ্যে এই মাস্‌ল গুলি আছে তারা নিজেরাও হয়ত জানেনা যে এই মাস্‌ল নিয়ে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখানে কয়েকদিন আগে ব্লগে দেখা একটা ইন্টারেস্টিং পোস্টের লিঙ্ক দিলাম। চাইলে দেখে আসতে পারেন। আমি নিশ্চিত বেশিরভাগ ব্লাগারেরই এসম্পর্কে কোন আইডিয়া ছিলোনা বা নাই।

hair muscle

এরকম আরেকটি মাস্‌লের উপস্হিতি টের পাওয়া যায় শীতকালে অথবা খুব বেশী ভয় পেলে। এদের বলা হয় এরেক্টর পিলি (Arrector Pili)। অতি ক্ষুদ্র এই মাসলগুলো দেহের প্রতিটা লোমের নিম্নাংশে সংযুক্ত থাকে। এরা যখন সংকুচিত হয় তখন লোমগুলি দাড়িয়ে যায়, আমরা যেটাকে বলি “Goose Bump”। এরকম বলার কারণ হলো দেখতে অনেকটা পালক ওঠা হাঁসের মত লাগে বলে। “Goose Bump” কিংবা এই মাস্‌ল গুলোর কোন কার্যকারীতা আমাদের দেহে নেই। অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে খুব ঠান্ডার সময় এগুলো তাদের লম্বা পশমকে উত্থিত করে তাদেরকে ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা করে। অনেক সময় অন্য প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত বোধ করলে তাদের প্রকৃত আকার থেকে বড় দেখাতে সাহায্য করে। বিড়ালের কথা চিন্তা করলে ব্যাপারটা বুঝতে সুবিধা হবে। বিড়াল যখন আক্রান্ত বোধকরে তখন ওদের লোমগুলি ফুলে ফেপে ওঠে। আমাদের দেহেও স্মৃতি হিসাবে রয়ে যাওয়া “Goose Bump” ঠিক একই হরমোন বা উদ্দীপকের কারণে ঘটে থাকে; ঠান্ডা অথবা অতিরিক্ত এড্রেনালিন বৃদ্ধির কারণে।

ear muscle

আরেকটি উদাহরণ হলো: আপনি যদি আপনার কান নাড়াতে পারেন তবে তার মানে হলো আপনি বিবর্তনের স্বাক্ষী। আমাদের মাথার চামড়ার নিচে তিনটি মাস্‌ল কানের সাথে সংযুক্ত থাকে। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই এই মাসলগুলো অকেজো। বিড়াল এবং ঘোড়ার মত অন্যান্য প্রাণীরা এই একই মাস্‌ল ব্যবহার করে তাদের কান নাড়াচাড়া করে থাকে শব্দের উৎসস্হল নির্দিষ্ট করার জন্য। এই সমস্ত প্রাণীদের ক্ষেত্রে কান নাড়ানোর এই টেকনিকটা শিকারী প্রাণী অথবা তাদের বাচ্চাদের উপস্হিতি টের পাওয়া সহ আরো কিছু কাজে সাহায্য করে থাকে। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এটা শুধুমাত্রই অন্যদের মজা দেয়া ছাড়া আর কোন কাজে লাগে না।

নীচের ছবিটাতে উপরে উল্লেখিত অঙ্গ এবং মাস্‌লগুলো ছাড়াও মানব দেহের আরও বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য চিহ্নিত করা হয়েছে যেগুলাকে মনে করা হয় আমাদের দেহে বিবর্তনের ফলে রয়ে যাওয়া কিছু অপ্রয়োজনীয় বৈশিষ্ঠ্য।

vestigial organs

শুধুমাত্রই বিবর্তনের আলোকে দেখলেই অপ্রয়োজনীয় এই অঙ্গগুলোর মানে খুঁজে পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফলে অপ্রয়োজনীয় অঙ্গের ক্রমান্ময়ে বিলীন হয়ে যাওয়া বা নতুন কোন কাজের উপযোগী করে পরিবর্তিত হতে হলে যেরকমটি হওয়া দরকার এই অঙ্গগুলিও ঠিক সেরকম এক অবস্হায় আছে। আমরা যদি ধরে নেই যে কেউ আমাদের স্পেশাল ডিজাইনের মাধ্যমে বানিয়েছে তবে আমাদের দেহে ক্ষতিকর এ্যাপেন্ডিক্স কিংবা সিলি (Silly) কানের মাস্‌লের উপস্হিতি কোনভাবেই ব্যাখ্যা করা যায় না।

সূত্র:
১) Why Evolution is true: Jerry Coyne, Professor of Ecology and Evolution, University of Chicago
২) গুগল ইমেজ

About the Author:

মুক্তমনা ব্লগ সদস্য।

মন্তব্যসমূহ

  1. এম এস নিলয় মার্চ 1, 2014 at 10:46 পূর্বাহ্ন - Reply

    বুকমার্ক করে রাখলাম।

    যদিও অভিজিৎ দার “অবিশ্বাসের দর্শনে” এই বিষয়ে বিস্তর আলোচনা আছে তবুও অল্প কথায় অনেক কিছু হিসেবে আপনার লেখাটি বুকমার্ক দিলাম 😀

    খুব ঘনঘন দরকার হয় তাই 🙂

  2. ফারুক ফেব্রুয়ারী 14, 2011 at 5:13 অপরাহ্ন - Reply

    বিবর্তনের চিহ্ন হিসাবে এখনও আমাদের দেহে বেশ কয়েকটি অঙ্গ এবং মাসল্‌ রয়ে গেছে যেগুলা কিনা আমাদের কোন কাজেই লাগে না। এদের মধ্যে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে এ্যাপেনডিক্স।

    http://en.wikinews.org/wiki/Appendix_has_purpose:_Scientists

    Appendix has purpose: Scientists
    From Wikinews, the free news source you can write!
    UncheckedJump to: navigation, search
    Sunday, October 7, 2007

    Illustration showing make-up of the human appendix.Researchers at Duke University in Durham, North Carolina, United States believe that they have found the purpose of the vermiform appendix, long thought to be useless. The theory, published in the Journal of Theoretical Biology this week, is that the appendix creates and protects helpful microorganisms for a person’s digestive system.

    For years, scientists believed that the appendix served no purpose, and wondered why it was even present in the human body. Surgeons removed them regularly, and it seemed to have no ill effects on the health of patients.

    In addition, when infected the appendix became harmful and even deadly. Inflammation occurs quickly and can cause death if the infected organ is not removed in time. According to the Centers for Disease Control and Prevention (CDC), in 2005 321,000 Americans were stricken with appendicitis. On average, 300 to 400 Americans die of appendicitis each year.

    The new theory, proposed by surgeons and immunologists at the Duke University School of Medicine, says that people throughout most of human history lived in small, spread out groups. As a result, their contact with other people was far more limited than it is today in modern industrialized societies. Today, if a person’s digestive tract lacks helpful bacteria, they can regain the needed germs from contact with large numbers of other people. In times when populations were less dense, and cholera epidemics purged large numbers of people’s useful digestive bacteria, the appendix was able to restore the digestive system’s supply of helpful germs.

    “[The appendix] acts as a good safe house for bacteria,” said Duke surgery professor Bill Parker, a co-author in the study. He said the appendix’s location–below the one-way passage of food and germs through the large intestine in a digestive cul-de-sac–helps validate the theory. The worm-shaped appendage also acts to manufacture these helpful germs, Parker said.

    Parker added that in less developed societies with lower population densities, the appendix may still be useful and rates of appendicitis are lower. However, regardless of the appendix’s apparent function, Parker confirmed that those suffering from appendicitis should still have it removed.

    Scientists not affiliated with the study have come out in favor of the theory. Brandeis University biochemistry professor Douglas Theobald said the idea was the most likely purpose of the appendix. “It makes evolutionary sense.”

  3. তানিয়া কামরুন নাহার সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 8:33 অপরাহ্ন - Reply

    ভাল লাগল। অনেক অজানা কিছু জানতে পারলাম।

  4. আসরাফ সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 1:56 পূর্বাহ্ন - Reply

    এই লেখাটা বেশকিছু দিন আগে কোথায় যেন পড়েছি।
    সামুতে হতে পারে।

    হুম !
    ঠিক তাই।
    এক আবাল সার্জনের সাথে এ নিয়ে তর্কও হয়েছিল।

    কিন্তু…. এখানে এত পরে কেন??? :yes:

    • আদিল মাহমুদ সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 2:27 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আসরাফ,

      আসলেই এ লেখাটি আগে আমুতে প্রকাশিত হয়েছিল।

      হোরাস ভাই,

      মূল লেখার উপর আমুর এই তথ্যসহ লিংকটি দিয়ে দেবেন। এটা মনে হয় মুক্তমনার নিয়মের মধ্যে পড়ে। আর সেই লিংকের কমেন্টগুলি পড়লে অনেকেই নির্মল আনন্দ পাবেন 🙂 । পয়সা খরচ করেও তেমন আমোদ মিলবে না।

      • হোরাস সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 2:49 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ, ঠিকাছে, আপডেট করে দেব। ধন্যবাদ জানানোর জন্য।

    • হোরাস সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 2:45 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আসরাফ, ঠিকই ধরেছেন। আপনার স্মৃতি আপনাকে বিভ্রান্ত করেনি। আমি আসলে মুক্তমনায় আগে নিয়মিত ছিলাম না। নিয়মিত হবার চেষ্টা করছি। আর অভিজিতের বিশেষ আগ্রহে পোস্টটি এতদিন পর এখানে দিলাম।

      • বিপ্লব রহমান সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 3:19 অপরাহ্ন - Reply

        @হোরাস,

        সহজ ভাষায় একটি দরকারী লেখা। শাবাশ! :yes:

  5. amman সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 11:36 অপরাহ্ন - Reply

    হোরাস,
    অনেক অজানারে জানাইলেন আপনি………….
    ধন্যবাদ :rose2: :rose2:

    • হোরাস সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 2:35 পূর্বাহ্ন - Reply

      @amman, আপনাকেও ধন্যবাদ সময় নিয়ে লেখাটি পড়বার এবং কমেন্ট করবার জন্য। :rose2:

  6. Mong Sano Marma সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 11:13 অপরাহ্ন - Reply

    Appendix is considered as a remnant of our evolutionary past which has been past down from our primate ancestors due to change in diet habits. It is indeed a physical evident of how our bodies have been evolved over many thousand years. Naturally (and naively) people thought that it is an unneccesary body parts for humans. There are surgical procedures doctors perfom for removing this useless body part. But recent studies on the appendix found that many symbiotic bacteria nestle inside it; they are very important for good health. So it is not wright any more to call it as “useless body part”.

    • অভিজিৎ সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 2:03 পূর্বাহ্ন - Reply

      @Mong Sano Marma,

      আসলে অ্যাপেন্ডিক্সের কিছু কাজ পাওয়া গেছে দাবী করা হলেও আসলে সেগুলো এমন কিছু নয় যে যার কারনে সৃষ্টিবাদীরা প্রানীদেহের ‘ডিজাইনগত সার্থকতা’ দাবী করতে পারে। তিমির পেছনের পা, ডলফিনের পেছনের ফিন, ঘোড়ার অতিরিক্ত আঙ্গুল বিশিষ্ট পা-এর মতই এপেনডিক্স, পুচ্ছ অস্থি, আঁক্কেল দাঁত, কান নাড়ানোর পেশী, চোখের নিক্টিটেটিং ঝিল্লি, পুরুষের স্তনবৃন্ত বিবর্তনের সাক্ষ্য হিসেবে মানব দেহে রয়ে গেছে। এগুলোর কোন কোনটি কোন ধরণের দৈহিক কাজ করলেও সেটা ‘ডিজাইনের’ সাথে সম্পর্কযুক্ত কাজ নয়। যেমন, পুরুষদের স্তনবৃন্ত আছে। কিন্তু পুরুষদের তো গর্ভ ধারণ করতে হয়না, কিংবা বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে হয় না। তারপরেও পুরুষদের স্তনবৃন্ত থাকার অর্থ কি? হয়তো সেটা দেহে অন্য কোন ফাংশন সার্ভ করলেও সৃষ্টিবাদীদের ‘ডিজাইন’ এর আর্গুমেন্ট অনুযায়ী তা ভুল ডিজাইন নিঃসন্দেহে।

      অ্যাপেন্ডিক্স আগে আমাদের পূর্বপুরুষদের কাজে লাগলেও এখন আর সেভাবে লাগে না। শুধু তাই নয় – অ্যাপেন্ডিক্সের কারণে এপেন্ডিসাইটিস হয় – যা প্রদাহজনিত রোগ, এটি হয় কেবলমাত্র দেহে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ এপেন্ডিক্স থাকার কারণেই। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এপেন্ডিক্স না থাকলে মানুষের কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু এপেন্ডিক্স থাকলে সারা জীবনে অন্ততঃ ৭% সম্ভাবনা থেকে যায় এপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হবার। কোন অঙ্গের উপযোগিতা আছে কি নেই এটা বের করার সহজ পদ্ধতি হল এই উপাঙ্গটি ছাড়া কারো বেঁচে থাকতে বা চলতে ফিরতে বা স্বাভাবিক জীবন কাটাতে কারো কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা, কিংবা অঙ্গটির অনুপস্থিতিতে কারো ‘সারভাইভাল ভ্যালু’ হ্রাস পাচ্ছে কিনা। যদি না পায়, তা হলে বুঝতে হবে এই প্রত্যঙ্গটির কোন বাড়তি উপযোগিতা নেই।

      আমাদের আর্কাইভ থেকে এই লিঙ্কটি দেখতে পারেন –

      বিবর্তনের সাক্ষ্য হিসেবে যে নিষ্ক্রিয় অংগগুলোর কথা বলা হয় সেগুলো নিষ্ক্রিয় নয়, অতি সূক্ষ্ম কোন জৈবনিক কর্মকান্ড তারা করে থাকে যা এখনও বিজ্ঞানীরা বের করতে পারে নি। – এই দাবীর উত্তর।

      আরেকটি ব্যাপার, বাংলা হরফে মন্তব্য করতে পারেন, নইলে মডারেটররা মন্তব্য আটকে দিতে পারেন। অভ্র ডাউনলোড করে নিন। বাংলায় লেখা ঙ্কিন্তু একেবারেই সোজা।

      • রাসেল আহমেদ সেপ্টেম্বর 28, 2010 at 8:50 পূর্বাহ্ন - Reply

        @অভিজিৎ,

        এই ব্লগটির বিষয়বস্তু নিয়ে আমার এক ধার্মিক বন্ধুর (উনি ‘হিযবুত তাহরীর’ নামক সংঘটনের সাথে বেশ কিছুদিন জড়িত ছিলেন) সাথে আলোচনা হচ্ছিল, হঠাৎ সে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে যা বলেছিল তা এইরূপ-

        “হ, একদিন তো বলবি মানুষের হাতের পাঁচ আঙ্গুলও একটা ব্যাড ডিজাইন। বিবর্তনের ধারায় মানুষের দুই হাতে আঙ্গুল একটা হলেই বরং আজকালকার জন্য যথেষ্ট। এক আঙ্গুলে বটন টিপে রোবট দিয়েই তো সব করান যায়…যত্তসব!”

        তাহার মন্তব্যে কোনো প্রত্তুতর দেবার প্রয়োজন বোধ করিনি কেননা প্রবাস জীবনে আমার এই পোড়া মুখ খুলে বহুবার হাসতে পারলেও মন খুলে হাসিনি বহুদিন, ওই মুহূর্তে দু’য়ের সমন্বয় ঘটাতে যে বিমল আনন্দ পেয়েছিলাম তাই শেয়ার করলাম।
        ধন্যবাদ।

    • হোরাস সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 2:32 পূর্বাহ্ন - Reply

      @Mong Sano Marma,

      আপনি বলছেন,

      But recent studies on the appendix found that many symbiotic bacteria nestle inside it; they are very important for good health. So it is not wright any more to call it as “useless body part”.

      পোস্টেও কিন্তু আমি এই ছোট্ট উপকারটির কথা স্বীকার করে নিয়েছি।

      বর্তমানে কিছু গবেষক মনে করেন যে আমাদের দেহে পরিপাক তন্ত্রে ইনফেকশন হলে কখনও কখনও কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া হয়ত এ্যাপেনডিক্সে আশ্রয় নিয়ে থাকে।

      তবে এই ছোট উপকারটি এ্যাপেনডিক্স থাকার কারণে যে অসুবিধাগুলো হতে পারে তার তুলনায় কিছুই না। আর এর সাথে সাথে সম্পূরক বক্তব্য হিসাবে অন্য একটি ব্লগে আল্লাচালাইনার করা একটি কমেন্টের কিছু অংশ এখানে হুবুহু তুলে দিলাম।

      থাইরয়েড ক্যান্সার হলে থাইরয়েড কেটে ফেলতে হয়। থাইরয়েডহীন রোগীকে পরবর্তী সারাজীবন প্রতিদিন থাইরয়েড কর্তৃক যোগান দেওয়া হরমোন যেমন থাইরক্সিন সাপ্লিমেন্ট হিসেবে নিয়ে যেতে হয়। আগ্নাশয়ের ক্যান্সার হলে অগ্নাশয় কেটে ফেলা হয় এবং অগ্নাশয়হীন রোগীকে সারাজীবন ইনসুলিন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে যেতে হয়। সাপ্লিমেন্টের অভাবে এরা মরে যাবে। অ্যাপেন্ডিক্স কেটে বাদ দিলে কি সাপ্লিমেন্ট নেওয়া লাগে? অ্যাপেন্ডিক্সের অভাব জীবের ফিটনেসের উপর ঠিক কি প্রভাব ফেলে? কিছুই না। ডাইজেসচনে অংশগ্রহন করে না অ্যাপেন্ডিক্স। ক্রিয়েশনিস্ট অনেকে বলে থাকেন অ্যাপেন্ডিক্স এন্টিবডি উতপাদন করে। সত্য নয়, বি লিম্ফোসাইট ছাড়া অন্য কোন কোষের বাবারও সাধ্য নেই এন্টিবডি বানানোর। তখন ক্রিয়েশনিস্ট বলে ওয়েল, অ্যাপেন্ডিক্স বিপুল পরিমানে ব্যাক্টেরিয়া হার্বার কোরে এন্টিজেনের যোগান দিয়ে এন্ডিবডি উতপাদন মেডিয়েট করে। তার মানে কি ব্যাক্টেরিয়া হার্বার করে খালি অ্যাপেন্ডিক্সই? মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ট্রাক্টে যেই এক ট্রিলিয়ন ব্যাক্টেরিয়া রয়েছে তারা পর্যাপ্ত এন্টিজেনের যোগান দিতে পারে না?

      • Mong Sano Marma সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 10:32 অপরাহ্ন - Reply

        Thanks. Its wonderful to read such articles in Bengali; you communicate science with lucid Bengali terms. Great work indeed. Thanks Avijit for his comments too.

        My comment was based on the growing concerns – how limitted knowledge we have on the roles of ‘microbiomes’ playing in our body such as in the microenvironments in the appendix/ their roles in evolution/how much they could manipulate our body function so on so forths. An adult human can have ~10X microbes than the number of his own body cells. For them, every little space in stomach, intestines etc are unique environments (for them actually a continent) where they can flourish. If they are symbiomes, they could play importants roles that we may not aware of. Now a day, people even take intestine bacteria for treatment of stomach ailement! Proven benefits are there.

        Other points:

        There are few people born without an appendix (as you mention in your article). They should have higher survival rates and over the millenia they should outnumber over the people with an appendix. Why still people with an appendix are majority?
        Is it possible that we are seeing a snap shot of a continuing process of appendix shrinking. Or is it possible that shrinking has already stoped due to some benefits it offer to human body?

  7. সৈকত চৌধুরী সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 10:48 অপরাহ্ন - Reply

    আপনার লেখা সব সময়ই ভাল লাগে। :rose2:

    • হোরাস সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 2:25 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সৈকত চৌধুরী, আপনাদের অনুপ্রেরণাই আমার লেখার উৎসাহ যোগায়। ধন্যবাদ। :rose2:

  8. হিমু ব্রাউন সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 10:26 অপরাহ্ন - Reply

    ভাল লাগল…. :rose:

    • হোরাস সেপ্টেম্বর 22, 2010 at 2:20 পূর্বাহ্ন - Reply

      @হিমু ব্রাউন, ধন্যবাদ। :rose2:

  9. লাইজু নাহার সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 8:23 অপরাহ্ন - Reply

    @হোরাস,

    মনে হয় ওরাং ওটাং হবে!

    • হোরাস সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 9:35 অপরাহ্ন - Reply

      @লাইজু নাহার, ইংরেজীটা হচ্ছে “Orangutan” আর আমি বেশ কিছু ডকুমেন্ট্রিতেও “উটান” উচ্চারণটা শুনেছি। বোধহয় দুটো উচ্চারণই সঠিক।

  10. লাইজু নাহার সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 8:16 অপরাহ্ন - Reply

    @হোরাস,

    লেখাটা বেশ সাবলীল ও সহজ হয়েছে!
    পড়তে ভাল লাগল!

    • হোরাস সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 9:33 অপরাহ্ন - Reply

      @লাইজু নাহার, অনেক অনেক ধন্যবাদ। :rose2:

  11. অভিজিৎ সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 8:11 পূর্বাহ্ন - Reply

    ধন্যবাদ হোরাস লেখাটির জন্য। আমাদের বিবর্তনের আর্কাইভের জন্য এ ধরণের লেখাগুলো প্রয়োজনীয় রসদ যোগান দেবে নিঃসন্দেহে।

    ব্যাড ডিজাইন নিয়ে মুক্তমনায় কিছু লেখা আছে। এগুলোও এই সুযোগে দিলাম –

    ব্যাড ডিজাইন :pdf:
    (লেখাটি ভিন্ন একটি শিরোনামে ইউনিকোডে রাখা আছে এখানে)

    নির্ধর্মকথা- এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানি

    অনেক ধন্যবাদ আবারো।

    • হোরাস সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 9:31 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ, লিঙ্ক দুটির জন্য ধন্যবাদ। লেখাগুলো প্রিন্ট করে নিলাম। :rose2:

  12. আদিল মাহমুদ সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 5:31 পূর্বাহ্ন - Reply

    ডকিন্স ভাই,

    লেজওয়ালা মানুষ নিয়েই পুরা একটা পোষ্ট দেন। আসল মজা দেখি। এপেন্ডিক্স নিয়েই যেই মজাটা দেখা গেছে 🙂 ।

    • হোরাস সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 7:48 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ, মান ইজ্জত আর রাখবেন না। আমুরটা আমুতেই থাক। 🙂

      • আদিল মাহমুদ সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 8:32 পূর্বাহ্ন - Reply

        @হোরাস,

        :laugh:

        চিন্তার কারন নাই, আপনার আসল পরিচয় আপাততঃ ফাঁস করছি না। তবে লেজ ওয়ালা লেখা না দিলে সহসাই ফাঁস করে দিব।

        • হোরাস সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 9:25 অপরাহ্ন - Reply

          @আদিল মাহমুদ, ব্লাকমেইল করা খুবই খারাপ কথা। কানেডিয়ান পুলিশ এ ব্যাপারে খুবই কঠোর। পরে আবার বলতে পারবেন না যে আমি আপনাকে বলিনি। 😛

          • আদিল মাহমুদ সেপ্টেম্বর 21, 2010 at 11:17 অপরাহ্ন - Reply

            @হোরাস,

            ব্ল্যাকমেইল কেমনে হয়?

            সত্য কথা হতে পারে তা গোপন বলে দেওয়া কি ব্ল্যাকমেল নাকি!

মন্তব্য করুন