পাপের শাস্তি, জেহাদ ও অলৌকিক ঘটনার বিশ্লেষণ (উত্তর পুরুষ)

By |2010-09-01T09:51:06+00:00সেপ্টেম্বর 1, 2010|Categories: ব্লগাড্ডা|11 Comments

পাপের শাস্তি ও বিবেকের কর্তব্য
উত্তর পুরুষ

হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা আর মুসলমান সমাজে পাথর ছুড়ে হত্যা করা কিংবা গৃহের মধ্যে আটক রেখে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার মধ্যে ব্যবধান কি ? একজন অলক্ষী,(অর্থাৎ দুর্ভাগ্যের ধারক) অপরজন যৌনকামী, এই তাদের পাপ। এ পাপের জন্য কুসংস্কারকে আশ্রয় করে যে সমাজ নিষ্ঠুর পৈশাচিকতাকে ধর্মের অঙ্গ বলে অট্টহাসি করে তারা কেমন ধরনের মানুষ ? কারণ তাদের ভগবান, তাদের আল্লাহ আকাশে থাকেন বলেই তাদের মধ্যে ঐ পৈশাচিকতা। কিন্তু যার আল্লাহ অন্তরে থাকেন কিংবা গ্রীবাদেশের চেয়েও সহ্নিকটে থাকেন সেইতো প্রকৃত ধার্মিক ও বিবেকবান। পাপ পুণ্যের জন্য যেখানে রয়েছে স্বর্গ নরকের পুরস্কার। রয়েছে বিচার ব্যবস্থা, রয়েছে আমলনামা, রয়েছে পুঙ্খানুপুঙ্খু হিসেব। সেখানে বিচারের কিছু অংশের দায়িত্ব “মোল্লা মামাদের” হাতে আল্লাহ তুলে দিয়েছেন তা ভাবতেও অবাক লাগে। এবং সে বিচার এমন এক বিচার, যা একজন মানুষের পৈশাচিক মৃত্যু দিয়ে নির্ধারিত। (যা পৃথিবীর বুকে চুড়ান্ত বা ফাইনাল বিচার বলে বিবেচিত।) যদি তা সত্যি হয় তাহলে ঐ নির্মম শাস্তির দ্বারা একজন মানুষ নিষ্পাপ ও পবিত্র হয়ে যাবার কথা। সুতরাং ঐলোক নিষ্পাপ হিসেবে নির্দ্বিধায় স্বর্গে যাওয়ারও কথা। কিন্তু এ সার্টিফিকেট বা নিশ্চয়তা কে দেবে ? এমনকি কেউ প্রমাণ দিয়ে বলতে পারেন যে, পাপীর পাপের জন্য শাস্তির বিধান মানুষের হাতে, আর স্বর্গে যাওয়ার বিধান আল্লাহর হাতে ?
কারণ শাস্তি হয়ে গেলে একজন মানুষ তো আর অপরাধী থাকে না। অথচ এ সার্টিফিকেটটি “মোল্লা মামাদের” হাতে নেই। তারা যুক্তি আওড়ান সমাজে ঐ পাপটিকে দমন করার জন্য ঐ শাস্তি আল্লাহর বিধানে নির্ধারিত। পাপ দমনের জন্য শত প্রকার বিচারের বিধান থাকা সত্ত্বেও যদি মানুষকে পৈশাচিক মৃত্যু দিয়ে তার মীমাংসা করতে হয়। তাহলে পৃথিবীতে যত পাপ আছে সবটির জন্য মৃত্যুদণ্ড দিয়ে পৃথিবী থেকে সহজেই সকল পাপ নির্মূল করা যায়। তাহলে ওটা হয় না কেন ? লঘু পাপের সম্মিলিত ফলাফল যে কোন গুরু পাপকেও হার মানায়। কাজেই লঘু পাপকে প্রশ্রয় দেয়া কিংবা অল্প শাস্তিতে ছেড়ে দেয়া বিবেকের দৃষ্টিতে কি অন্যায় নয় ?
আল কোরানের সুরা ‘নুর” এর ৪নং আয়াতে আছে “এবং যারা সতী সাধ্বী রমনীকে অপবাদ দেয় আর স্বপক্ষে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে পারেনা তাদেরকে তোমরা আশীটি বেত্রাঘাত করবে। তাদের সাক্ষ্য কখনও গ্রহণ করবেনা, আর এরাইতো সত্য ত্যাগী” আল্লাহ যেখানে তাঁর পবিত্র কোরআনে বলছেন চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন সেখানে কোন সাক্ষী ছাড়াই আমাদের সমাজে একজন নারীকে কিংবা পুরুষকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সমাজে তার মানহানি করা হয়। এবং এই মানহানির কলঙ্ক জীবনেও ঘুচেনা। দু’জন নারী পুরুষ একটি ঘরে দরজা বন্ধ করে সেখানে যে শুধু যৌন কর্মে লিপ্ত হবে তার কি কোন নিশ্চয়তা আছে ? আর চারজন সাক্ষীই বা কি ভাবে দেখবে যে তারা যৌনকাজে লিপ্ত ছিল ? (তাহলে তো গোপন ক্যামেরা ফিট করে রাখার প্রয়োজন) আজকের পৃথিবীতে মানুষ নানা সমস্যা নিয়ে জর্জরিত। অনেক সময় পারিবারিক সমস্যা নিয়ে দুজন নারী পুরুষ গোপনে পরামর্শে নিযুক্ত হতে পারে। ঘরের মূল্যবান গহনাদি বা নগদ টাকা পয়সার হিসেবের কারণে, নিরাপত্তার কারণে দরজা বন্ধ করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। মামলা মকদ্দমার ব্যাপারে ও পরামর্শের জন্য গোপনে মিলিত হতে পারে। কিংবা একজন আরেকজনকে ভালবাসার ব্যাপারে কে কতটুকু কাকে (কাহাকে) বিশ্বাস করে এই পরীক্ষার জন্য খোশ গল্পে মত্ত থাকতে পারে। এছাড়া ব্যবসার হিসেব নিকেশ এর জন্য গোপনে একত্রিত হতে পারে, এমননি লেখালেখির জন্য পান্ডুলিপি সাজানো, পরিচ্ছেদ আত্রানো, বানান শুদ্ধিকরণ ইত্যাদির কারণেও দু’জন নারী পুরুষ একত্রিত হতে পারে। সুতরাং না জেনে, আন্দাজ অনুমান করে মানুষের উপর যারা মিথ্যে অপবাদ করে তারাইতো অশান্তির হোতা। এই আন্দাজ অনুমানের উপরে আমি পবিত্র কোরানের আরও একটি আয়াতের মর্ম তুলে ধরবো। ৪৯ নং ছুরা হুজুরাত, আয়াত নং ১২ “হে মুমিনরা! তোমরা বহু ধারণা (বা অনুমান ) থেকে দুরে থাকো কেননা কিছু কিছু ধারণা পাপ-জনক হয়ে থাকে। আর তোমরা কারো দোষ অনুসন্ধান করনা , একে অপরের গীবত (বা দুর্নাম) করোনা। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংশ ভক্ষণ করতে পছন্দ করবে ? তোমরা তো অবশ্যই তা ঘৃণা কর । অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু”। আমি আমার পঞ্চাশ বৎসরের জীবনে কখনও শুনিনি যে একজন মিথ্যাবাদীকে আশীটি বেত্রাঘাত করা হয়েছে। অথচ এদেশের মানুষেরা ইসলাম ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে অহেতুক শান্তনা দেয়।
আমাদের সমাজে যাকে (যাহাকে) অবৈধ যৌনাচারের জন্য মৃত্যু শাস্তি দিতে হয়। তার ঐরকম শাস্তিতে সেই পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ধুলিসাৎ হয়ে যাবে। সবাই আত্মীয় স্বজনদের কাছে খোঁচা মেরে কটুক্তি করবে। এমন কি উক্ত পরিবারের সাথে অনেকে সম্পর্ক ও করতে চাইবেনা। অতএব এই পরিবারটি কি তা হলে সমাজের কাছে তিলে তিলে ধ্বংস হয়ে যাবে ? এমন তো হতে পারে যে ঐ দোষী লোকটি বা মহিলাটি হয়তো পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। কাজেই ঐ পরিবারটিকে যদি যৌন পাপের শাস্তি দিয়ে আবার তাকে সামাজিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা না হয় তবে সভ্য জাতি হিসেবে দাবীদার মানুষ ও সমাজের কর্তব্য কি ?

জেহাদ ও অলৌকিক ঘটনার বিশ্লেষণ

যে ধর্ম তুখোড় সমালোচনার ভয়ে ভেসে যায়না কিংবা হেরে যায়না, সেই ধর্ম প্রকৃত ধর্ম। যে ধর্মে প্রতিটি প্রশ্নের জবাব রয়েছে বাস্তবতার ভিত্তিতে (অলৌকিক ফাকিবাজীর ভিত্তিতে নয়) সেই ধর্ম প্রকৃত ধর্ম। যে ধর্মের জবাব জোড়াতালিতে পরিপূর্ণ সেই ধর্ম মানুষের’ই সৃষ্টি। যে ধর্মের সমালোচনা করা নিষিদ্ধ সেই ধর্ম ফাঁকিজুকি।
সৃষ্টিকর্তার রূপ কি ? এবং তাঁর ইচ্ছা বা বাসনা সম্মন্ধে কেউ বাস্তব প্রমাণ দিয়ে কিছু বলতে পারেনা। এটাই গভীর রহস্যময়। এর উর্ধে যত গল্প ও কাহিনী আছে তা সমপুর্ণই মানুষের কল্পনা ও দর্শন যুক্তিতে তৈরি। মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই এক অবর্ণনীয় বিশাল শক্তি। এই শক্তির অস্তিত্ব সর্বত্র বিরাজমান, একারণে সৃষ্টিকর্তাকে জাত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বিশ্বাস করে। কেউ কেউ বাহ্যিক ভাবে বিশ্বাস না’ও করতে পারে। কিন্তু জীবনের বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন ঘটনাবলীতে সেই অবিশ্বাসী মানুষটিও তার অন্তরে সত্যের প্রতিধ্বনি শোনতে পায়। সৃষ্টিকর্তার উপরে বিশ্বাসকে মূলধন করে পৃথিবীর বড় বড় দার্শনিকরা বিভিন্ন রকম নিয়ম নীতির মশল্লাতে তৈরি করেছেন ধর্মীয় আইন। যা সমপুর্ণই তাদের মগজ থেকে তৈরি। অতএব যে উর্বর মগজ থেকে ধর্ম বেরিয়ে আসে ঐ মগজের সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই মহাবিশ্বের অধিকর্তা। অতএব ওটা সৃষ্টিকর্তার ধর্ম বলে চালানো কোন অপরাধ নয়, অন্যায়ও নয়, যেহেতু তাদের মানসিক উদ্দেশ্য হচ্ছে মানব কল্যাণ। অথচ এই মানব কল্যাণের আড়ালে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্যকে বজায় রাখার জন্য তারা একনায়কতন্ত্রী ভুমিকা পালন করেন। ভবিষ্যতে এর ফলাফল কি হবে তা তারা তলিয়ে দেখতে চাননা। এতে এটাই প্রমাণিত হয় তাঁরা ধর্মের নামে মানুষের মনোজগতে এক চিরকালীন স্থায়ী ধর্মরাজ্য গড়তে চান। উদাহরণ স্বরূপ কোরানের ছুরা “মায়িদাহ” এর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। যার জের ধরে বাংলাদেশের ‘জামাত’ ও তাদের লালিত ক্যাডার ‘শিবির গ্রুপ’ মানুষের রগ কাটে, হাত পা কর্তন করে বা শরীর ছেদন করে। ছুরা মায়িদাহের সেই তেত্রিশ নং আয়াতটি হচ্ছে “যারা আল্লাহ ও তার রাছুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে (এমনকি সমালোচনা করলেও সেটা তাদের দৃষ্টিতে যুদ্ধের সমান হয়ে যায়) এবং পৃথিবীতে হাঙ্গামা সৃষ্টি করে বেড়ায় তাদের শাস্তি হলো ; তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হবে অথবা দেশ থেকে তাদের নির্বাসিত করা হবে। এ হলো তাদের জন্য দুনিয়ার লাঞ্ছনা আর আখেরাতে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি”। একজন লোকের হাত পা কেটে আজীবন পঙ্গু করে তাকে দারিদ্রতার চরম কষ্টে ফেলে দিয়ে ও রেহাই নেই। তারউপর পরকালেও রয়েছে মহাশাস্তি। প্রিয় পাঠক, এরকম আয়াতকে যদি আমরা আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তার আয়াত হিসেবে বিশ্বাস করি তাহলে আল্লাহ সম্বন্ধে আমাদের হৃদয়ে কিরূপ পৈশাচিক ভাবমূর্তির উদ্রেক হয় একটু চিন্তা করুন। কিংবা জেহাদের কথাই ভাবুন !
ছুরা আল-ইমরান, আয়াত ১৪২ এ বলা হয়েছে “তোমারা কি ধারণা কর যে, তোমরা এমনিতে বেহেশতে প্রবেশ করবে অথচ আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেননা তোমাদের মধ্যে কাহারা জিহাদ করেছে ? এবং কারা ধৈর্যশীল ? ”
ছুরা আনফাল এর ১২ ও ১৩ আয়াতে বলা হয়েছে ” স্মরণ কর, তোমার রব ফেরেশতাদের প্রত্যাদেশ করেন – নিশ্চয় আমি তোমাদের সাথে আছি সুতরাং তোমারা মুমিনদের দৃঢ় চিত্ত রাখো। অচিরেই আমি অবিশ্বাসীদে অন্তরে আতঙ্ক সঞ্চার করে দেবো, অতএব আঘাত করো তাদের গর্দানের উপর এবং আঘাত কর তাদের অঙ্গুলীর জোড়ায় জোড়ায়। তা একারণে যে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাছুলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে এবং কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাছুলের বিরুদ্ধাচরণ করলে আল্লাহ তো শাস্তিদানে কঠোর”।
ছুরা আনফাল এর ৩৯ আয়াতে বলা হয়েছে “আর তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকো যতক্ষণ না ফেতনা শেষ হয়ে যায় এবং দ্বীন সামগ্রিক ভাবে আল্লাহর জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তবে যদি তারা বিরত হয়, তাহলে তারা যা করে আল্লাহ তা উত্তমরূপে দেখেন”। এই আয়াতের আলোকে দীর্ঘ চৌদ্দশত বৎসরের প্যালেস্টাইন যুদ্ধকে আমরা কোন যুক্তিতে বিচার করবো ? ধর্ম প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মের আধিপত্যকে বজায় রাখার জন্যই তো সৃষ্টি হয়েছিল এজাতীয় যুদ্ধ এবং সামপ্রদায়িকতা।
তদ্রূপ ছুরা আনফালের ৬৫ আয়াতে বলা হয়েছে ” হে নবী! আপনি মুমিনদেরকে যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করুন। যদি তোমাদের মধ্যে বিশজন (২০) ধৈর্যশীল লোক থাকে, তবে তারা দুশোর (২০০) উপর জয়লাভ করবে। আর তোমাদের মধ্যে এক হাজার থাকলে আল্লাহর হুকুমে তারা দু’হাজারের উপর জয়লাভ করবে। কেননা তারা এমন ধরনের লোক তারা (আল্লাহর মহাত্ম্য) বুঝেনা”। আমরা জানি এসব ছুরার জন্য ওহী নাজিল হয়েছিল সেই অতীতের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে। যুদ্ধাদের মনোবলকে দ্বিগুণ বহুগুণ উসাহিত করার জন্যে। এতদ্ব্যতীত রাছুল মোহাম্মদ (সঃ) নিজ ধর্ম “ইসলামকে” প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে অন্য ( তৎকালের সমাজে প্রচলিত ধর্মকে মিথ্যা হিসেবে সমালোচনা বা অপবাদ দিয়ে) ধর্মের অনুভুতিতে আঘাত দিয়েছিলেন। তখন রছুল মোহাম্মদ জীবিত ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধারচরণ করার জন্য উহা নাজিল হয়েছিল। (বা নিজ মগজ থেকে তৈরি করা হয়েছিল) উহা নাজিল হয়নি চিরকালের জন্য। অথচ এসব আয়াতের অক্ষর ধুয়ে ধুয়ে ইসলামী সমাজ আজও যুদ্ধ করতে চায়, জেহাদ করতে চায় সর্বত্র ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য। এটা কি জোর পুর্বক চাপিয়ে দেয়া মতামত নয় ?
ছুরা আনফালের ৭৪ আয়াতে আছে ” আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে, আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয়দান করেছে ও সাহায্য করেছে তারাই সত্যিকার মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা। ছুরা তওবা’র ১৬ আয়াতে বলা হয়েছে ” তোমরা কি মনে করো যে তোমাদেরকে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে ? যতক্ষণ না আল্লাহ ঘোষণা (প্রকাশ) করেন যে তোমাদের মধ্যে কে যুদ্ধ করেছে এবং কে অন্তরঙ্গ বন্ধুরুপে গ্রহণ করেনি আল্লাহ, তার রাছুল মুমিনদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ? আর তোমরা যা কর তা আল্লাহ সম্যক অবহিত”।
ছুরা তওবা’র ২৪ আয়াতে বলা হয়েছে ” (হে মুহম্মদ) আপনি বলে দিন: তোমাদের কাছে যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের স্বগোত্রীয় লোক, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসায় যার ক্ষতির আশঙ্কা করো এবং তোমাদের বাসগৃহ যা তোমরা পছন্দ করো (ঐসব), আল্লাহ, তার রাছুল এবং তাঁর পথে জেহাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয় হয় তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত। আল্লাহ ফাসেক লোকদেরকে হেদায়েত করেন না।
এসব ‘জেহাদিবাণী’ ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) ‘লুক্কায়িত ওহী নামক’ কৌশলের মাধ্যমে এনেছেন। তিনি এনেছেন তাঁর ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠা করে চিরকাল নিজের নাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য। অথচ এই ধর্ম এসেছে কেবল মাত্র সৌদি আরব ও তৎসংলগ্ন আসে পাশের অধিবাসীদের জন্য। সমস্ত পৃথিবীর মানুষের জন্য নয়। তার প্রমাণ ছুরা “আনআম” এর ৯২ আয়াত। ঐ আয়াতে বলা হয়েছে ” এ কোরান এমন কিতাব যা আমি নাযিল করেছি, যা বরকত ময়, পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যতা প্রমাণকারী এবং এজন্য যে, আপনি ভয় প্রদর্শন করেন মক্কাবাসী ও তার পাশ্ববর্তী লোকদেরকে। আর যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে এর প্রতি ঈমান আনে এবং তারা নিজেদের নামাজের হেফাজত করে”।
এসব আয়াতের তাথপর্য যথাযত ভাবে না বুঝে কিংবা ধর্ম বিস্তারের লোভে তৎকাল থেকে ইসলামের নামে শান্তির সাম্রাজ্য বিস্তৃত করা হয়েছে যুদ্ধ ও রক্তপাতের বিনিময়ে। সুতরাং ঐসব ওহী বা আয়াতগুলোকে অনুসরণ করে আজকে বিশ্ব জুড়ে ইসলামী বিভিন্ন সংগঠন এবং জামাত সমুহ অত্যন্ত আগ্রাসনী ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। এসব আয়াতের দ্বারা উদ্দীপনায় ও উত্তেজনায় আবেগপ্রবণ হয়ে তারা আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার নামে সর্বত্রই আস্ফালন ও ত্রাস সৃষ্টি করে যাচ্ছে। এখানে মানব কল্যাণের কোন দিক নির্দেশনা নেই। তারা শান্তির কথা বলে, অথচ আজকাল শান্তি বলতে খাদ্যদ্রব্যের ন্যায্য দাম, সহজলভ্য চিকিৎসা, অর্থনৈতিক শ্রম বা চাকুরী এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য উত্তম শিক্ষা ব্যবস্থাকে বুঝায়।
বিজ্ঞান অনেক অবিশ্বাস্য ব্যাপারকে যুক্তি প্রমাণ ও বাস্তব ব্যাখ্যার দ্বারা প্রমাণিত করে, (ধর্মে সেরকম কিছু নেই) অথচ অনেক কিছু ব্যাখ্যা করা সত্ত্বেও আমাদের কাছে ব্যাপার বোধগম্য হয়না। আমাদের মনে প্রশ্ন থেকে যায় তা কেমন করে সম্ভব ? তদ্রূপ নবীদের এহেন প্রচেষ্টা সংগ্রাম ধৈর্য এবং কোন কোন অলৌকিক ঘটনা আমাদের কাছে প্রশ্ন রাখে তা কেমন করে সম্ভব ? এই অসম্ভবকে যিনি সম্ভব করেছেন তিনি নিশ্চয়ই কোন মহাশক্তির অধিকারী। এই আত্মবিশ্বাস তাঁদেরকে এক মহামানবের সিংহাসনে পৌছে দেয়। মানুষ যখন কাউকে তার নানা গুণাবলীর জন্য ভালোবাসতে শুরু করে, সে তখন অন্যদিকের সত্যাসত্য বিচারের যুক্তি হারায়। সে ভাবে গদগদ হয়ে ভাসতে থাকে স্রোতের অনুকুলে। সে তার ভালোবাসার মানুষের গুণকীর্তনে হয় পঞ্চমুখ। ক্ষুদ্র তুচ্ছ ভালোমানুষিকে, সততাকে, ন্যায়পরায়নতাকে, সে বিরাট বড় করে দেখে। সে তিলকে তাল করে গল্প করতে ভালোবাসে। যা সামান্য তা’ই তার কাছে অসামান্য বলে বিবেকে ধরা দেয়। অনেকটা আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় ‘সম্মোহনী শক্তির’ আবেশে মগ্ন থাকার মতো। এমতাবস্তায় যা নিজে দেখেনি তা সে এমনভাবে বর্ণনা করবে, শোনলে মনে হবে সে নিজেই দেখে এসেছে। এটা মানুষের একটা ভাবের প্রবণতা এবং দ্বৈত্ত সত্তার ক্রিয়া। এতে প্রয়োজন হলে সে মিথ্যা কথা বলতে দ্বিধা করেনা। তার নিজের মুখ দিয়ে যেকথা ফসকে বেরিয়ে গেছে, তা ‘চরম সত্য’ এটাই সে যেকোন যুক্তিতে বুঝাতে চায়। অনাধুনিক যুগের মানুষ ছিল সরল বিশ্বাসী । শিশুসুলভ ছিল তাদের হৃদয়। কাজেই তর্কাতর্কিতে না জড়িয়ে তারা সরল শিশুদের মত বিশ্বাস করতো নানা অলৌকিক ঘটনাকে। কোন দৈব শক্তিকে মানুষ যখন বিশ্বাস করে তখন সেই দৈব শক্তির অপারগতা কিছু নেই এহেন বিশ্বাস তাঁদেরকে সহজেই অলৌকিক ঘটনার দিকে আকৃষ্ট করতো অনেক বেশী। আধুনিক জীবনের মত তাদের কর্ম ব্যস্ততা ছিলনা। অলৌকিক ঘটনার কেচ্ছা কাহিনী তাদের কাছে ছিল মহাসুখকর ও রোমাঞ্চকর অনুভুতি। এমন অনুভুতিতে অবগাহন করা ছিলো তাদের মুক্ত ঘুমন্ত সখ। যে সমস্ত অলৌকিক ঘটনার কথা ধর্ম পুস্তকে পাওয়া যায় তার “বাস্তব সত্যতার” কোন প্রমাণ নেই। নেই ঐতিহাসিক কোন তারিখ কিংবা সাক্ষী।
লোক মুখ থেকে লোক মুখে ছড়িয়ে (লেজেন্ড) তা বহু রকমের ফুল ফল দান করে এসেছে। কোন ঘটনার বিকল্পকে মানুষ সাজিয়ে দিয়েছে অদ্ভুত ও রঙিন কথামালার কেচ্ছায়। ধর্মবাদীদের সোজা কথা হলো ‘বিশ্বাস করনা নরকে পুড়বে, তখন মজা বুঝবে’। মানুষ মরণশীল, মৃত্যু সম্বন্ধে থাকে এক অজানিত ভয় ও মহাআতঙ্ক। এই আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে, মানুষকে পাপ ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত করা ছাড়া ধর্ম প্রচারকারীদের অন্য কোন হাতিয়ার ছিলনা।
তারা চিন্তা করে দেখেছেন মানুষ যে পাপ করে, তার সবটি সমাজে দৃষ্টিগোচর হয়না। এছাড়া সবল সর্বদাই দুর্বলদের প্রতি অন্যায় অবিচার করছে। অতএব এই অন্যায়কে এবং গোপন পাপ সমুহকে রহিত করা যায় কি ভাবে ? আধুনিক যুগের মত রাষ্ট্র এবং সমাজের শাসন ও বিচার পদ্ধতির প্রয়োগ ব্যবস্থা এত সহজ ছিলনা। ছিল গোষ্ঠীশক্তির প্রচণ্ড প্রভাব। অতএব এসব থেকে বাঁচতে হলে কৌশলের’ই প্রয়োজন। এই কৌশলকে আশ্রয় করে গড়ে উঠলো দ্বিমুখী বিচারের ধারা। এক: যাদেরকে পাপের জন্য শাস্তি দেয়া সম্ভব তাদের জন্য হলো সে ব্যবস্থা। আর যাদেরকে শাস্তি দেয়া সম্ভব নয়, তাদের জন্য থাকলো নরকের শাস্তির নিশ্চয়তা আর অভিশাপ। তুমি সবল কর্তৃক অত্যাচারিত হয়েছো অতএব সবুর করো। সবুর (ধৈর্য ধরা) করাই তোমার জন্য পুণ্য। তোমার ভালোমানুষী। তোমার সততার সার্টিফিকেট।
ধর্মগ্রন্থে যত অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে তার সত্যতার প্রমাণ সম্মন্ধে কেউ জানেনা। “সবাই শোনেছে” এই শোনে যাওয়াটাই মুল ঘটনা। না হয় তৎকালীন কোন ব্যক্তির মুখের ঘটনা আরেকজন সত্যবাদী চরিত্রবান তা দেখেছেন বলে উল্লেখ থাকে। এছাড়া আর কিছু নেই। যিনি সত্যবাদী এবং চরিত্রবান, তিনি মিথ্যে কিছু বলবেন না এটাই অলৌকিক ঘটনার মুল ভিত্তি। কোন ধর্ম গ্রন্থে’ই কোন ঘটনার সাল, তারিখ ও নির্দিষ্ট স্থান ইত্যাদির পুঙ্খানুপুঙ্খু হিসেব নেই। কোরআনে আছে “আল্লাহ হিসেবে অত্যন্ত তৎপর” তিনি পূর্ববর্তী নবীদের ঘটনা কাহিনী এসব উদাহরণ হিসেবে বার বার বলে থাকেন অথচ সাল, তারিখ, স্থান, এসব কিছুই ওহীর মাধ্যমে নবীকে বলেন না । (তা হলে “হিসাবে তৎপর” কথাটার সত্যতা থাকলো কোথায় ? )বলাটা কোন পাপ নয়, লজ্জ্বাও নয় বরং সত্যকে যাচাই করার জন্য কিংবা ইতিহাসকে দৃঢ় সত্যে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উহা অধিকতর প্রয়োজনীয়। কিন্তু মানুষ তা কোনদিনও জানতে পারেনি। এতে এটাই প্রমাণিত হয় ‘ধর্মগ্রন্থে যা কাহিনী বলা হয়েছে তা মানুষের’ই তৈরি’ অতীতের শোনা কাহিনী। একধর্মে নবীর সাথে সৃষ্টিকর্তার যোগাযোগ হয় স্বপ্নের মাধ্যমে। আরেক জনের সাথে দেখা হয় পাহাড়ের আড়ালে। আরেক জনের সাথে সাক্ষাত হয় মেঘ গর্জনের মাধ্যমে। আরেক জনের সাথে দেখা হয়নি অথচ সংবাদ আদান প্রদান হয় ফেরেশতার মাধ্যমে। আরেক জনের সাথে দেখা হয় সপ্ত আসমানে মাকামে কাবা কাও সাইন-এ। এভাবে একই সৃষ্টিকর্তা বার বার নবীদের কাছে আসেন নানা নমুনায়। এতে ব্যাপার বিশৃঙ্খল ও ঘোলাটে মনে হয়। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে যিনি এক নবীর সাথে সরাসরি আলাপ করতে পারেন তিনি দ্বিতীয় নবীর সাথে কথা বলতে নিশ্চয়ই ক্লান্তি বা অলসতা বোধ করার প্রশ্নই উঠেনা। অথচ ধর্মপ্রচারকারীদের কাহিনীতে ফুটে উঠেছে এমনি বহু অগোছাল কথাবার্তা। কথায় আছে ‘বানানো কথায় জোড়া লাগেনা’। অথচ সব কথার জোড়া দেয়া হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছে। সৃষ্টিকর্তার হুকুমকে টেনে এনে।

About the Author:

ক্যানাডা-প্রবাসী মুক্তমনা ব্লগ লেখক "উত্তর পুরুষ" নিজেই বলছেন, আমাকে জানার আগে আমার মানসিকতা এবং আমার বিশ্বাস ও দর্শনকে বুঝুন। ********************************************************************* পৃথিবীর কোন মানুষ যখনই সৃষ্টির পেছনে কোন এক শক্তি কাজ করছে বলে মনে মনে স্বীকার করে কিন্তু জানে না সেই শক্তির মূর্ত কিংবা বিমূর্ত রুপ কি ? সে কখনো নাস্তিক নয়। তার দৃষ্টিতে সেই শক্তি মোহাম্মদের আল্লাহ না হয়ে ছাগলের কল্লা'ই যদি হয় তবুও সে নাস্তিক হতে পারে না। যতক্ষন এই বিশ্বাস তার হৃদয়ে তিল পরিমাণ থাকে ততক্ষণ পযন্ত সেই লোক একজন আস্তিক। এশিয়ার শিক্ষা বঞ্চিত অসংখ্য গোড়া মুসলমানগণ এসব বুঝতেই রাজী না। যখনই কেউ ইসলাম নিয়ে নিগেটিভ কিছু বলে সে তখন তাদের দৃষ্টিতে হয়ে যায় নাস্তিক। অতএব এদের দ্বারা, এদের ধর্ম দ্বারা শান্তি ও মানব কল্যাণ কতটুকু সম্ভব ? শুধুই তো আশ্বাস আর ফাঁকা বুলি। আমার কথাগুলো যাচাই করবেন ? তাহলে আমার সব প্রবন্ধগুলো পড়ুন । চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি এই বলে "যুগে যুগে ধর্ম সব সময়েই মানুষের ব্রেইন থেকে সৃষ্ট বা তৈরি" এর সাথে ঐশ্বরিক কোন সম্পর্ক নেই।

মন্তব্যসমূহ

  1. টুটুল জুলাই 24, 2012 at 2:08 অপরাহ্ন - Reply

    সৃষ্টিকর্তাকে ভয় করুন। আজেবাজে কথা থেকে বিরত থাকুন। প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। মৃত্যু পরবর্তী সময় সম্পর্কে ভাবুন।

    • সাগর জুলাই 24, 2012 at 6:51 অপরাহ্ন - Reply

      @টুটুল, অই চিন্তা না করে বরং পুকুরে কি করে ইলিশ চাষ করা যায় তাই ভাবুন কাজে লাগ্লেও লাগতে পারে।অথবা বসে বসে বদনার বিভিন্ন ডিজাইন করতে পারেন।

      • টুটুল জুলাই 26, 2012 at 7:33 পূর্বাহ্ন - Reply

        @সাগর ভাই, জীবন একটাই, আপনি যদি চিন্তা করেন মৃত্যুর পরে আর কিছু নাই, তাহলে আপনার দ্বারা সব অপরাধ করা সম্ভব। কারণ আপনার কোন জবাবদিহিতার ভয় নেই। আপনার নিজের জন্যই তা ক্ষতিকর। আর সমাজের জন্য তো বটেই।… আশা করি আপনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এসব করছেন না।

        • রূপম (ধ্রুব) জুলাই 26, 2012 at 11:49 পূর্বাহ্ন - Reply

          @টুটুল,

          তাহলে আপনার দ্বারা সব অপরাধ করা সম্ভব।

          সম্ভাব্যতাকে ভয় করেন কেন? সম্ভাব্যতা সত্ত্বেও কি সব অপরাধই তিনি ঘটাবেন? বরং নিজের বিবেচনাবোধ থেকে তিনি ঠিকই নিজের ভালো বুঝবেন। নিজের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে নিজেই বিরত থাকবেন। স্বাভাবিক, চিন্তাভাবনাসম্পন্ন মানুষ তো তা-ই করে, তাই না?

  2. নৃপেন্দ্র সরকার সেপ্টেম্বর 4, 2010 at 2:54 পূর্বাহ্ন - Reply

    কারণ শাস্তি হয়ে গেলে একজন মানুষ তো আর অপরাধী থাকে না। অথচ এ সার্টিফিকেটটি “মোল্লা মামাদের” হাতে নেই। তারা যুক্তি আওড়ান সমাজে ঐ পাপটিকে দমন করার জন্য ঐ শাস্তি আল্লাহর বিধানে নির্ধারিত।

    বাক্য দুটো আমার দারূণ ভাল লেগেছে। “ধর্ম” মুক্তমনাদের আলোচনার একটি প্রিয় বিষয়। এক-দুই লাইনের একটা মন্তব্য করার সময় করে উঠতে পারিনি। তাই বলে বাক্যটি ভুলেও যাইনি।

    ধর্ম নিয়ে প্রায়শঃই মূল্যবান আলোচনা হয়। কিন্তু “সার্টিফিকেটে”র কথাটি উত্তরপুরুষই প্রথম বললেন। ধন্যবাদ, উত্তরপুরুষ।

    আল্লাহ মোল্লা মামাদের হাতে শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। সার্টিফিকেট লেখার দায়িত্ব দেননি। দায়িত্ব পালন করলে মোল্লাদের পুরস্কার বেহেস্ত। না করলে দোজখ। মোল্লা মামাদের কোন দোষ নেই। তারা শুধু নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে। দায়িত্ব পালন অবশ্য করনীয়। আর পাপীদের ইহকাল, পরকাল দুই কালই অন্ধকার।

    মোল্লারা কোন সার্টিফিকেট দেয় না, কিন্তু হিন্দু পুরোহিতরা দিয়ে থাকেন। বিষয়টি ভেবে দেখলে দারূণ মজার। ব্রাহ্মণরা এই সার্টিফিকেট wirelessly fax করে পাঠিয়ে দেন সরাসরি স্বর্গে ভগবান বা তার প্রতিনিধির কাছে। হিন্দু ধর্মে বিজ্ঞান অনাদি কাল থেকেই বিদ্যমান।

    বাবা মা মারা গেলে ব্রাহ্মণ পন্ডিতগন সামান্য processing feeএর বিনিময়ে মৃতের সৎকারের জন্য শ্রাদ্ধ শেষে wireless এ সার্টিফিকেটখানা স্বর্গে পাঠিয়ে দেন। মৃত ব্যক্তিটি স্বর্গারোহন করেন। হিন্দুদের নরকে যাওয়ার সুযোগ খুবই কম। আমার জানা মতে শুধু আমার বাবাই নরকের অধিবাসী। কারণ তাঁর মৃত্যুর পরে আমি তাঁর জন্য শ্রাদ্ধের ব্যবস্থাটি করিনি।

    দ্বিতীয় অধিবাসী হব আমি। কারণ আমার ছেলেও আমার শ্রাদ্ধ করবে না। কারণ সে নিজেই জানেনা সেই কোন ধর্মের মানুষ। ব্যাপারটি বুঝলাম মাত্র মাস দুই আগে। সে আমেরিক্যান এক মেয়ের প্রেম করতে দিয়ে ধরা খেয়েছে। আমার ধারণা মেয়েটি জিজ্ঞেস করেছে – তোমার ধর্ম কী? আমতা আমতা করে বলে এসেছে – হিন্দু। কিন্তু মনে জোড় নেই। আমাকে এসে জিজ্ঞেস করল তার ধর্ম কী?

    আমার এই গল্পটি বলার কারণ আছে। অনেক হিন্দু সহজেই নিজেকে নাস্তিক দাবী করে প্রফুল্ল বোধ করে। কিন্তু মা-বাবা মারা যাওয়ার পরে ব্রাহ্মণ দিয়ে শ্রাদ্ধ করে। আমি এক নাস্তিকদাবীদারকে মৃত কুকুরের ছাই সমুদ্রে নিক্ষেপ করতে শুনেছি। মন্দিরে যেয়ে সেই কুকুরের স্বর্গ প্রাপ্তির জন্য শ্রাদ্ধ করার গল্প শুনেছি।

  3. Russell সেপ্টেম্বর 2, 2010 at 4:16 পূর্বাহ্ন - Reply

    যাইহোক জানা গেল আপনার বয়স পঞ্চাশ।

    প্রশ্ন করলেত আপনে উত্তর দেননা তাই, আর আলোচনায় গেলামনা।
    লেখা ভাল লাগল।

  4. আদিল মাহমুদ সেপ্টেম্বর 1, 2010 at 6:51 অপরাহ্ন - Reply

    আসলে কোরানে যত কিছু আছে তার কতভাগ সাধারন মুসলমানেরা মানে বা বাস্তব জীবনে করে? মনে তো হয় না খুব বেশী কিছু মানে বা পালন করে বলে। যদিও তারা সেটা মুখে স্বীকার করতে চায় না, কারন এটা স্বীকার করে ফেলাটা মাঝে কোরান শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, কেয়ামত পর্যন্ত একমাত্র জীবন বিধান, প্রতিটা আয়াতই অবশ্য পালনীয় এইসব ধারনার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এটা সরাসরি স্বীকার করে ফেলাটাও বিরাট গুনাহর কাজই হবে। এই দ্বন্দ্ব এড়াতে মনকে প্রবোধ দিতেই নানান ধরনের যুক্তি দাঁড় করায়। কেউ আবার আশা প্রকাশ করেন যে এখন পালন করা যাচ্ছে না, হয়ত ১০০ বছর পর আবার কায়েম করা যাবে। বলাই বাহুল্য এনারা বাস্তবতা বুঝতে পারেন না, আবেগের জগতেই বাস করেন।

    এসব জেহাদী আয়াত দেখে অন্তত বাংলাদেশের মত দেশের সিংহভাগ মুসলমানকে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠায় কাউকে হত্যা করতে উদ্বুদ্ধু করা যাবে না। তারা মুখে স্বীকার না করলেও এসব আয়াত সে সময়কার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, কেবল আক্রান্ত হলেই হত্যা জায়েয এসব বলে এড়িয়ে যাবেন। সমস্যা হল কিছু উগ্রপন্থী লোকজন যারা এসব ব্যাবহার করে ব্রেন ওয়াশের চেষ্টা চালাবে। তাদের কিছু সমর্থকও জূটবে।

    সামাজিক বিবর্তনের অংশ হিসেবেই ধর্মগ্রন্থের উপযোগিতা দিনে দিনেই কমছে। কোরান এসেছে সবচেয়ে পরে, তাই বিবর্তনের দৌড়ে পিছিয়ে আছে। তবে অতি অবশ্যই হচ্ছে। এখন কিছু গোঁড়া মুসলমান প্রধান দেশ বাদে অন্য দেশগুলিতে ইসলাম মানে নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত নামক কিছু রিচুয়াল পালন ছাড়া আর তেমন কিছু না। আরো ৫০০ বছর পর বর্তমান বাইবেল ফলোয়ারদের মতই হয়ত হবে মুসলমানদের ধর্ম চর্চা।

    মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা, মৃত্যু এবং তার পরবর্তি জীবন সম্পর্কে অজ্ঞতা, জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সব সময়ই থাকবে। ধর্মও তাই টিকে থাকবে। তবে ধর্মের নামে জীবন যাত্রা নিয়ন্ত্রনের মাত্রা দিন দিনই কমবে।

    • উত্তরপুরুষ সেপ্টেম্বর 2, 2010 at 12:57 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,

      আপনার বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গীর মন্তব্য পড়ে খুবই ভাল লাগলো।
      আশা করি ভবিষ্যতেও মুল্যবান মন্তব্য দেখতে পাবো
      ধন্যবাদ আপনার সময় এবং মন্তব্যের জন্য
      উত্তর পুরুষ

  5. সুমিত দেবনাথ সেপ্টেম্বর 1, 2010 at 1:29 অপরাহ্ন - Reply

    ধর্মগ্রন্থগুলি তো মানুষের তৈরী আর মানুষকে বোকা বানানোর জন্য বলা হয়েছে তা আলাহ বা ইশ্বরের বাণী। এবং সাধারণ মানুষ তা যত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারে তাই পৃথিবীর জন্য মঙ্গল।

    • উত্তরপুরুষ সেপ্টেম্বর 2, 2010 at 12:58 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সুমিত দেবনাথ,
      সত্য অনুধাবনে আপনার মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ
      উত্তর পুরুষ

  6. সুমিত দেবনাথ সেপ্টেম্বর 1, 2010 at 1:18 অপরাহ্ন - Reply

    ধর্মগ্রন্থগুলিতো মানুষেরই তৈরী। আর সাধারণ মানুষ যেদিন বুঝবে ঐ সব আল্লা বা ইশ্বরের বাণী নয় সেদিন তারাই প্রতিবাদ করবে। আর মানুষকে যত তাড়াতাড়ি সচেতন করা যায় পৃথিবীর জন্য ততই মঙ্গল হবে।

মন্তব্য করুন