আবিষ্কার

By |2010-08-29T01:07:22+00:00আগস্ট 29, 2010|Categories: ই-বই, গল্প|5 Comments

রাতুল পাল
আবিষ্কার


গভীর অরণ্য মাঝে তিনি হেঁটে চলেছিলেন অতি অদূর ভবিষ্যতের এক ক্রান্তিলগ্নের সম্মুখে, কিন্তু সে সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থেকে। তার পায়ের ধীর কিন্তু অক্লান্ত গতি নিঃসন্দেহে প্রতিকায়িত করে চলেছে এক নিগূঢ় গভীর অর্থ – এই যাত্রা শুরু হয়েছিল কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে, যার সন্ধান লাভ হয় নি এখনো। সুঠাম-সবল কিন্তু ক্ষত-বিক্ষত শরীরের উপর জমাট বাঁধা রক্ত স্মরণ করিয়ে দেয়- চেতনা-অবচেতনার পার্থক্য তার কাছে লুপ্ত হয়েছে বহু পূর্বেই, এবং মনোজগতে তিনি বিচরণ করে চলেছেন এই শ্বাপদসংকুল অরণ্য ছাড়িয়ে সুদূর-অচেনা কোন রাজ্যে। তার পথ চলার এ-রূপ দুর্বার প্রকৃতি হয়তো নিমেষে উদ্বুদ্ধ করতো যে কোন দুর্বল-হীনচেতা কাপুরুষকে; কিন্তু সঙ্গী হিসাবে তার পাশে অবস্থান করছে না কেউ; একাই তিনি, তিনি একাই হেঁটে চলেছেন। মেঘমুক্ত নীল আকাশে উড়ে চলা এক ঝাঁক পাখি, স্পষ্ট ও প্রায় নিষ্পলক তার দুই চোখে স্বচ্ছ প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে লক্ষ্য-জয়ের যে আগাম বার্তা দিচ্ছে, তার দর্শন প্রাপ্তিতে যে কোন কবি হয়তো রচনা করতে পারতেন একটি কালজয়ী কবিতা; কিন্তু অরণ্য কবির আরাধ্য-ভূমি, বাসস্থান নয়; তিনি একাই, একাই তিনি হেঁটে চলেছেন। নিঃসঙ্গতাকে একমাত্র সঙ্গী করে তিনি হেঁটে চলেছেন…
যাত্রা পথে তিনি বহুবার আক্রান্ত হয়েছেন ভয়ঙ্কর সব বন্য প্রাণী কর্তৃক; কিন্তু প্রতি বারই সৈনিকের দক্ষতায় পরাস্ত করেছেন তাদের। তিনি যখন হাঁটেন, মনে হয় যেন হেঁটে চলেছে সদ্য ধ্যান শেষে উঠে আসা কোন তপস্বী; কিন্তু আক্রান্ত হবার সাথে সাথেই জেগে ওঠে তার ঘুমন্ত পেশীবহুল শরীর, প্রবল আক্রোশে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন শত্রুর উপর, অসামান্য দক্ষতায় নিশ্চিহ্ন করেন নিমেষে। প্রায়ই তার আক্রমনের তেজ স্বাভাবিকতা ছাড়িয়ে চলে যায় অতিমানবীয় শক্তির পর্যায়ে, মনে হয় যেন যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছেন কোন পৌরাণিক দেবতা; কিন্তু পর মুহূর্তেই, শত্রু পরাজিত হলে, তিনি ফিরে আসেন স্বাভাবিক রূপে। নিজেও তিনি বিস্মিত হয়ে যান তার শক্তির প্রাবল্যে, সদ্য পরাজিত ও রক্তাক্ত পশুর দিকে তাকিয়ে একই সাথে অবাক ও পুলকিত হন । লক্ষ্যে সমগ্র একাগ্রতা দিয়ে অবিচল থাকলেই কেবল সম্ভব এ-রূপ অলৌকিক ক্ষমতা প্রাপ্তি, যে একাগ্রতা তাকে দীর্ঘকাল ধরে পরিচালিত করে চলেছে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে। একটি বারের জন্যও তিনি লক্ষ্যচ্যুত হন নি, ধৈর্য হারা হন নি, আতঙ্কিত হন নি, শঙ্কাগ্রস্থ হন নি। দীর্ঘ পদচারণা তাকে সামান্যতমও বিচলিত করতে পারে নি; বরং যতই তার যাত্রা অনন্ত হবার সম্ভবনা জেগেছে, ততই তিনি হয়ে উঠেছেন অদম্য সাহসী। প্রতিনিয়ত বর্ধিষ্ণু সাহসকে লক্ষ্য জয়ের একমাত্র হাতিয়ার করে তিনি হেঁটে চলেছেন…
তিনি নিজ অস্তিত্বের প্রশ্নে আক্রান্ত এক আদিম তরুণ। তিনি কোন দুঃখি মানুষ নন, পরাজিত মানুষ নন, ব্যর্থ মানুষ নন; জাগতিক প্রাপ্তির প্রায় সকল কিছুই তার মুষ্ঠিবদ্ধ। কালের বৈশিষ্ট্য হেতু তিনিও ছিলেন একটি গোষ্ঠীর অর্ন্তভুক্ত, সবার কাছে পরিচিত ছিলেন একজন কর্মদক্ষ যুবক হিসাবে। শুধুমাত্র কর্মদক্ষই নন তিনি, কৈশোর হতেই একই সাথে গভীর চিন্তাশীল। উর্বর মস্তিষ্কের প্রয়োগে বহু দূরুহ ব্যবহারিক সমস্যার সমাধান করেছেন তিনি, এবং চিন্তাশীল থেকেছেন নিত্য নতুন বিষয় নিয়ে। কিন্তু অস্তিত্ব সম্বন্ধে চিন্তাশীল হবার মানসিক উৎকর্ষতা তিনি অর্জন করেছিলেন কিছু কাল পূর্বে, এবং সেই থেকে তার চিন্তা নিমোজ্জিত থেকেছে একটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই। তার গোষ্ঠীতে চিন্তাশীল মানুষের সংখ্যা অতি নগণ্য, বহু জনের কাছে প্রশ্ন করেও তিনি পান নি কোন গ্রহণযোগ্য উত্তর, আর তাই স্বভাবতই হয়ে উঠেছেন অস্থির। ‘‘ তিনি কে? তিনি কেন? তিনি কোথায় ?…’’ ইত্যাদি প্রশ্ন তার মনোজগতে তৈরি করে মাত্রাধিক আন্দোলন, আর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে তার জাগতিক ঔদাসীন্য ও উত্তর খোঁজার বাসনা।
তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, সমগ্র জীবনব্যাপী প্রয়াস চালাবেন প্রশ্নের যথাযোগ্য উত্তর সন্ধানের, কিন্তু এক পর্যায়ে উপলব্ধি করেন – তার সমগ্র জীবনই পতিত হয়েছে প্রশ্নের অসীম গভীরত্বের মাঝে। প্রশ্নই যেন তার জীবন হয়ে উঠেছে, আর আকাঙ্খিত উত্তর হয়ে উঠেছে মুক্তি।
কিছু কাল পূর্বে, অমাবস্যার নিকষ-কালো রাতে, তিনি জোয়ার প্লাবিত এক স্রোতস্বীনি নদীর পাড়ে বসেছিলেন আকাশ পানে তাকিয়ে; সেই মুহূর্তেই, ভাবনার এক পর্যায়ে, তিনি চূড়ান্ত আক্রান্ত হন প্রশ্নটির অবাধ্য-প্রবল জোয়ার কর্তৃক। জোয়ারের প্রাবল্য এতই বেশি ছিল যে, নিশ্চুপ বসে থাকতে পারেন নি তিনি; ক্ষনিকের পার্থক্যে উঠে দাঁড়ান সটান হয়ে, নিগূঢ় আঁধারে দিশার পরোয়া না করে দ্রুত বেগে এগিয়ে যেতে থাকেন সম্মূখ পানে। উন্মাদের মতো তিনি ছুটতে আরম্ভ করেন, কিন্তু উন্মাদনা তার মস্তিস্ককে স্পর্শ করেনি কখনো; কারণ ইতোমধ্যে স্থির হয়ে গেছে তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য। তার সমগ্র চেতনায় তখন একটি লক্ষ্যই ভর করছে সমগ্র প্রভাব বিস্তার করে- অস্তিত্বের পূর্ণ উপলব্ধি না হওয়া পর্যন্ত আর থামবেন না তিনি, সমস্ত বিশ্ব প্রকৃতির অনন্ত বৈচিত্র্যের মাঝে উপলব্ধি করে যাবেন নিজেকে, আর এভাবেই উপনিত হবার চেষ্টা চালাবেন নিজ অস্তিত্বের পরম সংজ্ঞায়।
সেই যাত্রার গতি আজও থেমে যায় নি, তিনি ক্লান্তও হন নি সামান্য পরিমাণে। বৈচিত্র্যের সন্ধানে তিনি সময় অতিবাহিত করেছেন নিস্তব্ধ গুহার মাঝে, উত্তপ্ত ধূ-ধূ প্রান্তরে, সুগন্ধী ফুলের বিস্তীর্ণ মাঠে, ঝঞ্ঝা কবলিত ভয়ঙ্কর রাতে; তিনি অবস্থান করেছেন এমন অসংখ্য বৈচিত্র্যপূর্ণ স্থানে, এবং একাগ্র চিত্তে প্রয়াস চালিয়েছেন অস্তিত্ব অনুধাবনের। কিন্তু প্রশ্নের উত্তর এখনও পেতে সমর্থ্য হন নি তিনি; যদি পারতেন, পূর্বেই থেমে যেত যাত্রা। তবে যাত্রা সম্পূর্ণ নিরর্থকতায় পর্যবসিত হয় নি তাঁর, দীর্ঘ ভ্রমনের অশেষ অভিজ্ঞতা হেতু তিনি অর্জন করেছেন দুর্লভ সব উপলব্ধি। ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর সীমাবদ্ধ গোন্ডির সংকীর্ণতা তার মনোজগৎ হতে বিদায় নিয়েছে; তিনি উদার হয়েছেন, দৃঢ় হয়েছেন, নির্ভীক হয়েছেন।
আরও এক গভীর উপলব্ধি হয়েছে তার, যা সম্পর্কে তিনি পূর্বে সামান্যতমও অবগত ছিলেন না। তিনি যাত্রা পথে যে স্থানে বা যে প্রান্তেই ছিলেন, কখনোই ব্যতিক্রম ঘটেনি একটি উপলব্ধির – নিজ অস্তিত্ব সম্বন্ধে সজ্ঞান হবার পূর্বশর্ত হল অপর কোন কিছুর অস্তিত্বের অলঙ্ঘনীয় উপস্থিতি। গুহার মাঝে অবস্থান করে তার উপলব্ধি হয়েছে – গুহার সাথে অবিচ্ছেদ্দ্য এক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন, উত্তপ্ত ধূ-ধূ প্রান্তরে অবস্থান করে তার উপলব্ধি হয়েছে – ধূ-ধূ প্রান্তরের সাথে অবিচ্ছেদ্দ্য এক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন, সুগন্ধী ফুলের বিস্তীর্ণ মাঠে অবস্থান করে তার উপলব্ধি হয়েছে – বিস্তীর্ণ মাঠের সাথে অবিচ্ছেদ্দ্য এক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন, ঝঞ্ঝা কবলিত ভয়ঙ্কর রাতের মাঝে অবস্থান করে তার উপলব্ধি হয়েছে – রাতের সাথে অবিচ্ছেদ্দ্য এক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। কিন্তু ক্ষনিকের জন্যও তার উপলব্ধি হয় নি- তিনি আছেন, কিন্তু অপর কোন কিছুর অস্তিত্ব অনুপস্থিত। এমন এক উপলব্ধির পর স্বভাবতই বিস্মিত হয়ে যান তিনি, যে বিস্ময় শেষ পর্যন্ত মুগ্ধতায় মিশে বিলীন হয়ে যায়। সেই অপার মুগ্ধতা তাকে নিজ অস্তিত্বের চেয়ে ‘‘অপর’’ অস্তিত্ব সম্বন্ধে চিন্তাশীল হতে প্রবৃত্ত করে, বারবার ‘‘অপর’’ অস্তিত্ব মাঝে তার চেতনা থমকে দাঁড়ায়। মুগ্ধতায় ক্রমশ আচ্ছন্ন হতে থাকেন তিনি, যার সমাপ্তি ঘটে সর্ব ‘‘অপর’’-এর সামষ্টিক ব্যপ্তির একক বিশালতার মাঝে নিজেকে সমর্পণের মধ্য দিয়ে। তার যাত্রা নতুন গতি পায়, তিনি এগোতে থাকেন; সমগ্র ‘‘অপর’’ অস্তিত্বের, যার সাথে তিনি আবদ্ধ সংজ্ঞাহীন এক সম্পর্কসূত্রে, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য আবিষ্কার তার লক্ষ্য হয়ে ওঠে।
হেঁটে চলেছিলেন তিনি, স্থবিরতা তার কাছে কাম্য নয় কখনোই; কারণ তিনি চান প্রমাণ, মনোলোকে আবিষ্কৃত হওয়া এক দৃপ্ত বোধের প্রত্যক্ষ প্রমাণ। তবে এখনো পর্যন্ত প্রমাণের সম্মুখীন হন নি তিনি, তাই যাত্রা চলছেই…।
এভাবেই যাত্রা পথে তিনি এসে পড়েছেন অরণ্য ছাড়িয়ে এক পর্বতবেষ্টিত স্থানে, যদিও তাঁর নিমগ্ন চিত্তে স্থানের প্রভেদ ধরা পড়েনি। আরও একটি প্রভেদ ধরা পড়েনি তার কাছে – মুগ্ধতা তাকে ক্রমশ বিশ্বাসী করে তুলেছে, এবং প্রতিনিয়ত তিনি প্রত্যক্ষ প্রমাণের প্রত্যাশ্যায় অধৈর্য্য হয়ে উঠছেন। হঠাৎ-ই বিশ্বাস দুর্দমনীয় হয়ে অগ্নুদ্গারের মতো তাঁর মুখগহবর হতে বেরিয়ে আসে গগন বিদারী চিৎকার হয়ে – ‘‘ বলো, আছি-ই-ই-ই-ই-ই….’’। সেই চিৎকার পর্বতের গায়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে – ‘‘ বলো, আছি-ই-ই-ই-ই-ই…. ’’। কিন্তু ততক্ষণে বিশ্বাসী মন তার শ্রবণ ইন্দ্রিয়কে করে ফেলেছে একান্ত অনুগত, তাই দু’টি শব্দ পরিস্রুত হয়ে প্রবেশ করে শুধুমাত্র ‘‘ আছি-ই-ই-ই-ই-ই…. ’’ হয়ে, এবং নিজ কন্ঠের প্রতিদ্ধনিও সেই ক্রান্তিলগ্নে মনে হয় অতিপ্রাকৃতিক। তিনি নিশ্চিত! তিনি সফল! তিনি বিজয়ী! তিনি আবিষ্কর্তা! আনন্দের প্রাবল্যে মূর্চ্ছা যান তিনি।
সম্বিত ফিরে পেলে দীর্ঘকাল পর পেছন ফিরে তাকান তিনি, মুহূর্তেই রুদ্ধশ্বাসে ছুটতে আরম্ভ করেন নিজ গোষ্ঠীর কাছে ফিরে যাবার উদ্দেশ্যে – তাঁর মহান আবিষ্কারের কথা সবাইকে জানাতে হবে যে! তিনি ছুটতে থাকেন, প্রবল বেগে ছুটতে থাকেন; পড়ে থাকে পর্বতবেষ্টিত সেই স্থা্ন, অতি অদূর ভবিষ্যতে শ্রেষ্ঠ পূণ্য ভূমি হবার অধীর অপেক্ষায়।
(শাশ্বতিকী ৫ম সংখ্যা থেকে..)

রাতুল পাল
সহ-সম্পাদক, শাশ্বতিকী

জন্ম সন : ১৯৮৬ জন্মস্থান : মেহেরপুর, বাংলাদেশ। মাতা ও পিতা : মোছাঃ মনোয়ারা বেগম, মোঃ আওলাদ হোসেন। পড়াশুনা : প্রাথমিক, শালিকা সর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং শালিকা মাদ্রাসা। মাধ্যমিক, শালিকা মাধ্য বিদ্যালয় এবং মেহেরপুর জেলা স্কুল। কলেজ, কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন। স্নাতক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি অনার্স, ফাইনাল ইয়ার)। লেখালেখি : গল্প, কবিতা ও নাটক। বই : নৈঃশব্দ ও একটি রাতের গল্প (প্রকাশিতব্য)। সম্পাদক : শাশ্বতিকী। প্রিয় লেখক : শেক্সপিয়ার, হেমিংওয়ে, আলবেয়ার কামু, তলস্তয়, মানিক, তারাশঙ্কর প্রিয় কবি : রবীন্দ্রনাথ, জীবননান্দ দাশ, গ্যেটে, রবার্ট ফ্রস্ট, আয়াপ্পা পানিকর, মাহবুব দারবিশ, এলিয়ট... প্রিয় বই : ডেথ অব ইভান ঈলিচ, মেটামরফোসিস, আউটসাইডার, দি হার্ট অব ডার্কনেস, ম্যাকবেথ, ডলস হাউস, অউডিপাস, ফাউস্ট, লা মিজারেবল, গ্যালিভার ট্রাভেলস, ড. হাইড ও জেকিল, মাদার কারেজ, টেস, এ্যনিমাল ফার্ম, মাদার, মা, লাল সালু, পদ্মা নদীর মাঝি, কবি, পুতুল নাচের ইতিকথা, চিলে কোঠার সেপাই, ভলগা থেকে গঙ্গা, আরন্যক, শেষের কবিতা, আরো অনেক। অবসর : কবিতা পড়া ও সিনেমা দেখা। যোগাযোগ : 01717513023, [email protected]

মন্তব্যসমূহ

  1. মোজাফফর হোসেন আগস্ট 30, 2010 at 12:45 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমার বন্ধু রাতুলের পক্ষ থেকে আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।

  2. আফরোজা আলম আগস্ট 29, 2010 at 2:38 অপরাহ্ন - Reply

    বানান ভুল হয়ে গিয়েছে হড়বড় করে লেখাতে। মেডিটেশন হবে।

  3. আফরোজা আলম আগস্ট 29, 2010 at 8:04 পূর্বাহ্ন - Reply

    গভীর অরণ্য মাঝে তিনি হেঁটে চলেছিলেন অতি অদূর ভবিষ্যতের এক ক্রান্তিলগ্নের সম্মুখে, কিন্তু সে সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থেকে। তার পায়ের ধীর কিন্তু অক্লান্ত গতি নিঃসন্দেহে প্রতিকায়িত করে চলেছে এক নিগূঢ় গভীর অর্থ – এই যাত্রা শুরু হয়েছিল কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে, যার সন্ধান লাভ হয় নি এখনো। সুঠাম-সবল কিন্তু ক্ষত-বিক্ষত শরীরের উপর জমাট বাঁধা রক্ত স্মরণ করিয়ে দেয়- চেতনা-অবচেতনার পার্থক্য তার কাছে লুপ্ত হয়েছে বহু পূর্বেই, এবং মনোজগতে তিনি বিচরণ করে চলেছেন এই শ্বাপদসংকুল অরণ্য ছাড়িয়ে সুদূর-অচেনা কোন রাজ্যে

    এই যুগের কারো কথা কী? মনে হয় আপনি মেডিটেশন নিয়ে লিখেছেন। কদিন আগে এমন একটা মেদিটেসন ক্লাস করলাম।২৫ মিনিট ধরে চলে মেডিটেশন,সবশেষে বলতে হয়,এমন করে দিনে ৬।৭ টা ক্লাস। অবশেশে বলতে হয় জেগে উঠে।
    ” আমরা সবাই ভালো আছি-ই-ই-ই”
    এবং চারদিন পরে পেলাম গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী। এমন তো আজকাল অনেকেই শিখছে,উপকারও পাচ্ছে।
    আগেকার দিনে যা করে মানে”ধ্যান”চর্চা করতে বুদ্ধ বা অন্যান্যরা যেতেন পাহাড়ে গুহায়।কাউকে সেই সাফল্যের চাবী দিতেন না।না নবী,না বুদ্ধ না অন্যান্য ধর্মের অবতারগন।আপনি কী তাদের কারো কথা লিখেছেন? বোধগম্য হলনা। কিছুটা আভাস দিলে ভালো লাগত। আমার বিদ্যে খুব কম কিনা। তবে লিখেছেন দারুণ।

  4. ভবঘুরে আগস্ট 29, 2010 at 3:00 পূর্বাহ্ন - Reply

    বর্ননাটা অনেকটা গদ্য কবিতার মত। ভাল হয়েছে।

  5. সাইফুল ইসলাম আগস্ট 29, 2010 at 2:48 পূর্বাহ্ন - Reply

    ঈশ্বরকে খুজে পাওয়ার জায়গাটা নিশ্চই মাজার টাজার করা হবে?? 😀
    ভালো লাগল।

মন্তব্য করুন