শাশ্বতিকী : অনুবাদ সংখ্যা

By |2010-06-02T20:13:34+00:00জুন 2, 2010|Categories: ই-বই, ম্যাগাজিন|2 Comments

শাশ্বতিকী : অনুবাদ সংখ্যা
প্রিয়…
আশা করি ভালো আছেন…

শাশ্বতিকীর পরবর্তী সংখ্যার কাজ শুরু করেছি। এবারের সংখ্যা হবে অনুবাদের (…to bangla) ওপর। আমাদের ইচ্ছে, চলতি সময়ের বিশ্ব সাহিত্যের সাথে বাংলাদেশের পাঠকদের যোগসূত্র স্থাপন করে দেওয়ার। তাই, একটু ব্যতিক্রম ধর্মী গল্প/কবিতা/প্রবন্ধ/তুলনামূলক আলোচনার পাশাপাশি সাক্ষাৎকার, পত্র, বক্তৃতা, দর্শনচিন্তা প্রভৃতির অনুবাদে গুরত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও থাকছে নিয়োমিত আয়োজন : দর্শন, মুক্তিযুদ্ধ, চলচ্চিত্র, ও নাটক বিষয়ক লেখা

আপনার সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ করা আমাদের পক্ষে একেবারে অসম্ভব। তাই, আপনার কাছ থেকে উল্লেখিত যে কোন বিষয়ের অনুবাদ প্রার্থণা করছি।

অনুবাদের অপেক্ষায় রইলাম।
মোজাফফর হোসেন
সম্পাদক, শাশ্বতিকী
[email protected]
০১৭১৭-৫১৩০২৩

এছাড়াও ধমনি সাহিত্য পত্রিকার গল্প সংখ্যার কাজ চলছে। গল্প ও গল্প বিষয়ক লেখা পাঠিয়ে সহযোগিতা করার জন্য আহবান করা যাচ্ছে।

আগের সংখ্যা পড়তে ভিজিট করুন :
http://shashwatiki.mywibes.com/

শাশ্বতিকী, নাটক সংখ্যা (এখন পাওয়া যাচ্ছে)
সম্পাদকীয়

ফেব্রুয়ারি ২০১০। মাসিক রুটিনে এটা বাঙ্গালীদের ভাষা উদ্যাপনের মাস। বটেই। উদ্যাপন চলছে মাঠে-ঘাটে, অলিতে-গলিতে। দেখে বুঝবার উপায় নেই, এদের অনেকেই আবার এই ভাষার জন্যই প্রতিনিয়ত নিজের ভাগ্যকে দুষে থাকে

’৪৭, ’৫২, ’৭১ খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। ’৫২-এ যে ভাষাকে অর্জন করা হল রক্ত দিয়ে, আজ সেই ভাষাতে কথা বললে নিজেকে ‘ক্ষ্যাত’ মনে হয়। যে দেশকে আমরা পেয়েছি লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে, সুযোগ পেলেই সেই দেশ ত্যাগ করে আমরা বাবা-মার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করছি। এ দেশ মেধার কদর (মূল্য!) বোঝে নাকি! খুবই সত্যি কথা; যে দেশে কাকের মত ফকিরের উৎপাত, চলতে ফিরতে হোঁচট খেতে হয় চাষা-ছোটলোকদের নোংরা শরীরের সাথে, সে দেশে বাস করা যায়?
দেশ যেদিন স্বাধীন হল, পরদিনই বাঙ্গালী উপলব্ধি করলো তারা এখন কি পেলো- একটি তৈলাক্ত কাঁথা, যার মধ্যে আবার অনেকগুলো ছিদ্র- স্যাঁতসেঁতে, দুর্গন্ধযুক্ত! বুদ্ধিদীপ্ত বাঙ্গালী জেগে উঠল, শুরু হল বাঙ্গালীর শিল্প-সংস্কৃতির রিমিক্স বানানো। ইউরোপীয় কালচার এখন স্বদর্পে লেফট্-রাইট করতে করতে এসে আমাদের সংস্কৃতিকে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করে যাচ্ছে; আমরা হাত তালি দিয়ে উপভোগ করছি। জন্ম হচ্ছে একটি বিকৃত কালচারের। সবথেকে বেশি ধর্ষণ করা হচ্ছে আমাদের ভাষাকে। আমরা আমাদের ঐতিহ্য হারাচ্ছি, ভাষাহীন হয়ে পড়ছি ক্রমশ। প্রগ্রেসিভ(!) বাঙ্গালী বিশ্ববাজারে মাতালের মত টলে বেড়াচ্ছে- বেওয়ারিশ, পরিচিতিহীন। ‘বাঙ্গালি হয়ে উঠছে সংস্কৃতিগত ভাবে জারজ।’
আজকের প্রজন্ম ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশুনা করে বাংলাও বলছে ইংরেজী এ্যকসেন্টে। রেডিও-টেলিভিশন-এ তরুণ উপস্থাপকদের ভাষা চিনতে আমাদের কষ্ট হয়- ইংরেজী না হিন্দি, বাংলা তো নাই-ই! ইংরেজী অবশ্যই শিখতে হবে, এটা এখন প্রয়োজনের ভাষা। প্রয়োজনের তাগিদেই একে আত্মস্থ করতে হবে। ইংরেজী শেখা কখনো প্যাশন হতে পারে না, এটা চূড়ান- পর্যায়ের ভন্ডামি।
আমরা (শাশ্বতিকীর শুরুর দিকের সব কর্মী) ইংরেজী বিভাগের ছাত্র হওয়ার সূত্র ধরে অনেকেই বলেন, আমরা ইংরেজীতে লিখছি না কেন? কেন বাংলা পত্রিকা করছি? অনেক শুভাকাঙ্খী এটা দেখে বেশ কষ্টও পান। আমি তাদেরকে পাল্টা প্রশ্ন করে বলব, কেনো এবং কাদের জন্য ইংরেজীতে লিখবো? কি পেলেন মাইকেল? আর, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, অমীয় চক্রবর্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এঁরা যদি ইংরেজীতে লিখতেন তাহলে কি দশা হত বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির?
২০১০ সালের শুরু থেকে আমরা শাশ্বতিকীর বেশ কয়েকটি বিশেষ সংখ্যা করার কথা ভাবছি। নাটকের মাধ্যমে তার সূচনা হল। বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে অবহেলিত শাখা এটি। নাটক নিয়ে আরো কাজ দরকার। বর্তমানে কবিতা নিয়ে যে ভাবে কাজ হচ্ছে সেই ভাবে গল্প-নাটক নিয়ে কাজ করা হচ্ছে না। সাহিত্য ময়দানে এখন শুধুই কবিদের উল্লাসধ্বনি। অনেকের ভালো গল্প লেখার হাত থাকলেও কবিতা (যা-তা) লিখে মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘গল্প লিখবো, এত সময় কোথায়?’ কেনো? কবিতা লেখাটা কি এতই সহজ? হ্যাঁ, বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই এতটা সহজ হয়ে গেছে কবিতা লেখা। এজন্যে, যাঁরা মেধা খাটিয়ে, পরিশ্রম করে কবিতা লিখছে, তাঁদেরকে চিনতে আমাদের বেশ সময় লেগে যাচ্ছে।
অনেকের সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে শাশ্বতিকীর দ্বিতীয় বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হল। প্রাপ্তিতে প্রত্যাশা বাড়ে; তাই ভবিষ্যতে আরো সহযোগিতা কামনা করছি।

এ সংখ্যায় যা যা থাকছে
প্রবন্ধ

মাসুদ রহমান –নাট্যদর্শক/8
ফরিদ আহমদ দুলাল নাটকের সংগঠন ও নাট্যকর্মীর অঙ্গিকার/১৬
ড. মাহবুব সাদিক বুদ্ধদেব বসুর অনাম্নী অঙ্গনা : প্রসঙ্গ পুরাণ/১৯
ড. মুহম্মদ আবদুল জলিল লোকনাট্য : ধামের গান/২৯
সুজিত সরকার শহিদ মুনীর চৌধুরী ও তাঁর কবর নাটক/৩৪
স্নিগ্ধা মাধুরী বিনোদিনী নাটকে বিধৃত সমাজব্যবস’ায় নারী-পুরুষের শ্রেণী ও লিঙ্গভিত্তিক সম্পর্ক কাঠামো বিশ্লেষণ/৩৮
আবদুল্লাহ আল আমিন রবীন্দ্রনাথের বিসর্জন : প্রেমধর্মের জয়গান/৪৮
আল্ জাবির সেলিম আল দীনের নাটকে নারী নির্মিতি : বনশ্রী ও কালিন্দী/৫২
গোলাম শফিক সেলিম আল দীনের শেষ পুত্র/৫৭

নাটক
মলয় ভৌমিক প্রতিপক্ষ/৫৯
সাইমন জাকারিয়া সত্যের পক্ষে/৭০
ডাঃ পরিমল সরকার সম্পূর্ণ অসম্পূর্ণ (রেডিও নাটক)/৮৭
আসাদ রাংগা খোয়াব/১০৪ মোজাফ্ফর হোসেন লেখকের মৃত্যু/১২৮

সাহিত্য কাগজ পাঠ
রহমান রাজু শাশ্বতিকী পাঠ/২০০
মাহফুজ হুমায়ুন রাশেদ ধমনি : পাঠ সারল্য আখ্যান/২০৩

চলচ্চিত্র

আশরাফ শিশির বাংলাদেশে ডিজিটাল চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি ঃ সংকট ও সম্ভাবনা/১৪৪

চিত্র কর্ম:

শেখ আবদুস সাত্তার/১৪৮

গল্প
জাকির তালুকদার প্রতিজীবী কবিতার গল্প/১৮১
মনি হায়দার চন্দ্রভূকের মায়া ও হেরিকেনের গ্রাস/১৮৪
মুহাম্মদ মেহেদী হাসান রোদসীর প্রেমিকদ্বয়ের প্রথম জন/১৯০
রাতুল পাল আবিষ্কার/১৯৭

অনুবাদ

ফেরেঙ্ক মলনার এ ম্যাটার অব হাজবেন্ডস (নাটক)/১২৫
অনুবাদ : ফয়সাল রায়হান চার্লস সিমিকের সাক্ষাৎকার/১৪০
অনুবাদ : দুলাল আল মনসুর আইয়াপ্পা পানিকরের কবিতা/১৭৬ অনুবাদ : রায়হান রাইন
জন ফব্র্জ্-এর কবিতা/১৭৯ অনুবাদ : সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

সাক্ষাৎকার
শিমূল ইফসুফ/১৩৭

কবিতা

পৃথ্বীরাজ চৌধুরী পূর্ব পশ্চিম/১৫২ ; রহমান হেনরী একটি অনুযোগ/১৫৬; অপূর্ব সাহার কবিতা/১৫৮ ; হাসানআল আব্দুল্লাহ কবরের অভিজ্ঞতা/১৫৭; মুজিব মেহদীর কবিতা/১৬১; শামীম নওরোজের কবিতা/১৫৯; ওয়ালী কিরণের কবিতা/১৬৩; সিরাজুদ্দৌলাহ বাহারের কবিতা/১৬৫ ;মাসুদার রহমানের কবিতা/১৬৬ আসাদুজ্জামান খোকনের কবিতা/১৬৭; মো. রায়হান আলী কেলাসিত স্মৃতি/১৬৮; শাহ্নাজ শাম্মী অনে- আলোক বিন্দু/১৬৮; পরিতোষ হালদার পাখি, সমুদ্র ও শূন্যতত্ত্ব/১৬৯; নাজমুল হাসান বাবু আদিলিপি ও অশুদ্ধ ব্যাকরণ/১৬৯ ; অরবিন্দ চক্রবর্তী ভাঙনের মুখে ও সম্মোহে/১৭০ ; মঞ্জুর রহমান বাবু ছায়াপথ/১৭০; সুমন শামস পরজীবী সভ্যতা/১৭২; আমির আব্দুল্লাহ দিবাকে রাত্রির পথনির্দেশ/১৭২; মোজাম্মেল হক ব্যস- নটবর/১৭৪; হাসনাৎ শাহীন মন ভেঙ্গে যায় ! আরেকটি মন তার কারণ/১৭১; কামরুল বাহার আরিফ আদিনাথ এক বিশ্বাসরাজা/১৬৪; আবুল কাশেমের পল্লীগীতি/১৭৩ ; আমিনুল ইসলাম তুর্কী মেয়ের জন্য/১৭৫
লেখক পরিচিতি/২০৫
পৃষ্ঠা: ২০৮
মূল্য: ৫০ টাকা ।

মুখ্য পরিবেশক:
পাঠক সমাবেশ-
১৭/এ আজিজ সুপার মার্কেট, শাহ্বাগ, ঢাকা।
লিট্ল ম্যাগ প্রাঙ্গণ-
৭৯-আজিজ সুপার মার্কেট (২য় তলা), শাহবাগ, ঢাকা।

জন্ম সন : ১৯৮৬ জন্মস্থান : মেহেরপুর, বাংলাদেশ। মাতা ও পিতা : মোছাঃ মনোয়ারা বেগম, মোঃ আওলাদ হোসেন। পড়াশুনা : প্রাথমিক, শালিকা সর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং শালিকা মাদ্রাসা। মাধ্যমিক, শালিকা মাধ্য বিদ্যালয় এবং মেহেরপুর জেলা স্কুল। কলেজ, কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন। স্নাতক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি অনার্স, ফাইনাল ইয়ার)। লেখালেখি : গল্প, কবিতা ও নাটক। বই : নৈঃশব্দ ও একটি রাতের গল্প (প্রকাশিতব্য)। সম্পাদক : শাশ্বতিকী। প্রিয় লেখক : শেক্সপিয়ার, হেমিংওয়ে, আলবেয়ার কামু, তলস্তয়, মানিক, তারাশঙ্কর প্রিয় কবি : রবীন্দ্রনাথ, জীবননান্দ দাশ, গ্যেটে, রবার্ট ফ্রস্ট, আয়াপ্পা পানিকর, মাহবুব দারবিশ, এলিয়ট... প্রিয় বই : ডেথ অব ইভান ঈলিচ, মেটামরফোসিস, আউটসাইডার, দি হার্ট অব ডার্কনেস, ম্যাকবেথ, ডলস হাউস, অউডিপাস, ফাউস্ট, লা মিজারেবল, গ্যালিভার ট্রাভেলস, ড. হাইড ও জেকিল, মাদার কারেজ, টেস, এ্যনিমাল ফার্ম, মাদার, মা, লাল সালু, পদ্মা নদীর মাঝি, কবি, পুতুল নাচের ইতিকথা, চিলে কোঠার সেপাই, ভলগা থেকে গঙ্গা, আরন্যক, শেষের কবিতা, আরো অনেক। অবসর : কবিতা পড়া ও সিনেমা দেখা। যোগাযোগ : 01717513023, [email protected]

মন্তব্যসমূহ

  1. মোজাফফর হোসেন জুন 4, 2010 at 9:06 অপরাহ্ন - Reply

    thanks a lot, valo thakben

  2. রণদীপম বসু জুন 2, 2010 at 11:10 অপরাহ্ন - Reply

    আপনাদের উদ্যোগকে অভিনন্দিত করছি। এই চমৎকার প্রক্রিয়াটা বহমান থাকুক।

মন্তব্য করুন