গেরিলা নেতা এমএন লারমা

mn-larma

[পৃথিবীতে যুদ্ধ দুই ভাগে বিভক্ত; একটি ন্যায় যুদ্ধ, আরেকটি অন্যায় যুদ্ধ। আমরা ন্যায় যুদ্ধের পক্ষে। — মাওসেতুং।]

১। সেই সাতের দশকের নকশালী আন্দোলন থেকে শুরু করে এ দেশে যত গেরিলা যুদ্ধ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে, চরম আত্নত্যাগ থাকা সত্বেও জনবিচ্ছিন্নতা, গোষ্ঠি বিপ্লবী মানসিকতাসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এর সব কয়টি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পরিনত হয়েছে– একমাত্র মানবেন্দ্র নারায়ন (এমএন) লারমার প্রতিষ্ঠিত সাবেক গেরিলা গ্রুপ শান্তিবাহিনী ছাড়া।

এর কারণ জনসংহতি সমিতির রাজনৈতিক শাখা শান্তিবাহিনী আদর্শের ভিত্তিতে সত্যিকার অর্থেই পাহাড়ি জনগণের ভেতর থেকে গড়ে ওঠা একটি সফল জনযুদ্ধ গড়ে তুলতে পেরেছিলো। সব ধরণের সামরিক- বেসমারিক নিপীড়ন (এমন কি অসংখ্য গণহত্যা) সত্বেও, উপদলীয় কোন্দলে এমএন লারমা মারা যাওয়ার পরেও তার অনুজ, সাবেক শান্তিবাহিনী প্রধান, বর্তমানে আঞ্চলিক পরিষদ ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হন।

এরই ধারাবাহিকতায় এরশাদ, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক শান্তি-সংলাপের পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি। ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রূযারি প্রায় দুহাজার সদস্যর অস্ত্র সমর্পণের মধ্যে বিলুপ্ত ঘটে শান্তিবাহিনীর। একই সঙ্গে পাহাড়ে অবসান ঘটে সেনা বাহিনীর সঙ্গে শান্তিবাহিনীর প্রায় দুদশকের রক্তক্ষয়ী বন্দুক যুদ্ধের। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সুবাদে ভারতের ত্রিপুরার একযুগের গ্লানিময় জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরেন প্রায় ৭০ হাজার পাহাড়ি শরণার্থী।
nat-gio-1972
এর আগে সেই ১৯৬০ সালে রাঙামাটিতে কাপ্তাই জলবিদ্যুত কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় বাধ নির্মাণের কারণে পাহাড়ে প্রায় ৫৪ হাজার একর জমি পানিতে তলিয়ে যায়। প্রায় এক লাখ পাহাড়ি মানুষ বাস্তুভিটা ও চাষবাসের জমি হারিয়ে রাতারাতি পরিনত হন পাহাড়ে উদ্ধাস্তুতে। বহু পরিবার জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান ভারতের ত্রিপুরা, অরুণাচল ও মিজোরামে।

উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ণের এই নগ্ন হামলার এই ঘটনাটি তরুণ এমএন লারমাকে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছিলো। এ কারণে ১৯৭০ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর, স্বাধীনতার বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবের কাছে 'পাহাড়ে আঞ্চলিক স্বায়ত্ত্বশাসনের' চার দফা দাবি তুলে ধরেন। সে সময় শেখ মুজিব ঘৃণাভরে এই দাবি উপেক্ষা করেন। একই বছর ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশের সংবিধানে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভাষাগত সংখ্যালঘু পাহাড়িদের 'বাঙালি' বাঙালি হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রতিবাদে তিনি গণপরিষদ অধিবেশন বর্জন করেন। এ সময় এমএন লারমা তার ভাষণে বলেছিলেন:
 

বাংলাদেশের কোটি কোটি জনগণের সঙ্গে আমরা জড়িত। সবদিক দিয়েই আমরা একসঙ্গে বাস করছি। কিন্তু আমি একজন চাকমা। আমার বাপ, দাদা, চৌদ্দ পুরুষ, কেউ বলেন নাই, আমি বাঙালি!…

বাংলাদেশ নামক বাংলা ভাষাভাষীর রাষ্ট্রর জন্মলগ্নেই এমএন লারমা বুঝেছিলেন, আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসন ছাড়া ভাষাগত সংখ্যালঘু পাহাড়ি আদিবাসীর মুক্তি নেই। তাই তিনি সেই ’৭৩ সালেই স্বতন্ত্র সাংসদ ও জনসংহতি সমিতির আহ্বায়ক হিসেবে সংসদ অধিবেশনে তুলে ধরেছিলেন পাঁচ দফা দাবি নামা। এগুলো হচ্ছে:

… ক. আমরা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সমেত পৃথক অঞ্চল হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পেতে চাই। খ. আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের অধিকার থাকবে, এ রকম শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন চাই। গ. আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব সংরক্ষিত হবে, এমন শাসন ব্যবস্থা আমরা পেতে চাই। ঘ. আমাদের জমি স্বত্ব জুম চাষের জমি ও কর্ষণ যোগ্য সমতল জমির স্বত্ব সংরক্ষিত হয়, এমন শাস ব্যবস্থা আমরা পেতে চাই। ঙ. বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল হতে এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে যেনো কেহ বসতি স্থাপন করতে না পারে, তজ্জন্য শাসনতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন চাই।…
 

এ সব দাবিনামার স্বপক্ষে এমএন লারমা সংসদের তার ভাষণে বলেছিলেন:
 

…আমাদের দাবি ন্যায় সঙ্গত দাবি। বছরকে বছরকে ধরে ইহা একটি অবহেলিত শাসিত অঞ্চল ছিলো। এখন আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ পার্বত্য চট্টগ্রামকে পৃথক শাসিত অঞ্চল, অর্থাৎ আঞ্চলিক স্বায়ত্ব শাসিত অঞ্চলে বাস্তবে পেতে চাই।…
 

কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, এমএন লারমার দাবি সে সময় চরম অবজ্ঞা করে  শেখ মুজিব সরকার।
guerrilla_leader_santu_larmars_hide-out-_duduk_chora-_khagrachiri-_may_5-_1994-_biplob_rahman
২। এমএন লারমাই বাংলাদেশে প্রথম পাহাড়ি আদিবাসী গোষ্ঠিকে সশস্ত্র করে তাদের মুক্তির পথ দেখান। তিনিই প্রথম গেরিলা যুদ্ধকে সঠিকভাবে এ দেশের প্রেক্ষাপটে সূত্রায়ন, নেতৃত্বদান ও পরিচালিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

অন্যদিকে, নানা সীমাবদ্ধতা এবং বিভ্রান্তির কারণে অন্যান্য মাওবাদীরা এ ক্ষেত্রে হয়েছিলেন চরম ব্যর্থ।

লক্ষ্যনীয়, সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত এমএন লারমার ওই পাঁচ দফাই আরো পরে সংশোধিত ও পরিমার্জিত আকারে জনসংহতি সমিতির পাঁচ দফায় পরিনত হয়। এই সংশোধিত পাঁচ দফার ভিত্তিতেই এমএন লারমার মৃত্যূর (১০ নভেম্বর, ১৯৮৩) পরেও অনুজ সন্তু লারমার নেতৃত্বে শান্তিবাহিনী গেরিলা যুদ্ধ অব্যহত রাখে।

একই সঙ্গে শান্তিবাহিনীর মূল দল জনসংহতি সমিতি সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথও খোলা রেখেছিলো; এর সূত্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিলো এমএন লারমার জীবন দশাতেই।

আগেই বলা হয়েছে, শান্তিবাহিনীর প্রায় দুদশকের রক্তক্ষয়ী বন্দুক যুদ্ধ আর পাহাড়ি – বাঙালির রক্তের মধ্য দিয়ে অবশেষে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তিচুক্তি। এই শান্তিচুক্তিরও মূল কথা, পাহাড়ে সীমিত আকারে আঞ্চলিক শাসত্ব শাসন প্রতিষ্ঠা করা। তবে ভূমি সমস্যার সমাধানসহ শান্তিচুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো এখনো বাস্তয়ন না হওয়ায় পাহাড়ি আদিবাসী জীবনের ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তনই আসেনি।… সেটি অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গ।
cht-accord_1997
৩। যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে বৃহত্তর বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রবল জোয়ারের বিপরীতে এমএন লারমাই প্রথম জুম্ম (পাহাড়ি) জাতীয়বাদী চেতনায় পাহাড়ের ১৩টি ক্ষুদ্র জাতীস্বত্বাকে সংগঠিত করেছিলেন; যাদের ব্রিটিশ ও পাকিস্তান সরকার তো মানুষই মনে করেনি, ‘উপজাতি’ বানিয়ে রেখেছিলো। আর স্বাধীন বাংলাদেশে শেখ মুজিব সরকার তো তাদের বাঙালিই হয়ে যেতে বলেছিলেন!

এ কারণে পাহাড়ি নেতা এমএন লারমাকে বলা হয়, জুম্ম (পাহাড়ি) জাতীয়তাবাদের অগ্রদূত।

পরিশিষ্ট: সংবাদপত্রের খবরে এমএন লারমার জীবন, সংগ্রাম ও মৃত্যূ সংবাদ:

                            ‘শান্তিবাহিনী’ প্রধান মানবেন্দ্র লারমা নিহত

    বাংলাদেশ জাতীয় পরিষদের প্রাক্তন সদস্য, তথাকথিত শান্তিবাহিনীর প্রধান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান মি: মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা নিহত হইয়াছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়া গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত্রে আমাদের রাঙ্গামাটি সংবাদদাতা জানান, মি: লারমা গত ১০ই নভেম্বর সীমান্তের অপর পারে ভারতে ইমারা গ্রামে বাগমারা নামক স্থানে শান্তিবাহিনীর কল্যানপুর ক্যাম্পে প্রতিদ্বন্দ্বী শান্তিবাহিনীর ‘প্রীতি’ গ্রুপের সদস্যদের হামলায় নিহত হইয়াছেন।

    বিভক্ত শান্তিবাহিনীর মধ্যে মি: মানবেন্দ্র চীনপন্থী ও ঘাতক প্রীতদলের নেতা প্রীতি চাকমা ভারতপন্থী বলিয়া পরিচিত।

    মানবেন্দ্র লারমার সহিত তাঁহার বড় ভাইয়ের শ্যালক মনি চাকমা, খাগড়াছড়ি হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক অপর্ণা চরম চাকমা, কল্যানময় চাকমা ও লেফটেনেন্ট রিপনসহ শান্তিবাহিনীর আটজন সদস্য ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। শান্তিবাহিনীর ছয়-সাতজন কেন্দ্রীয় নেতাও এ হামলায় আহত হয়।

    ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত এই ক্যাম্পে শান্তিবাহিনীর কেন্দ্রীয় নেতা সন্তু লারমা, রূপায়ন দেওয়ান, ঊষাতন তালুকদারসহ অন্যান্য নেতার ভাগ্যে কি ঘটিয়াছে, তাহা এখনো জানা যায় নাই। সন্তু লারমাকেই মানবেন্দ্র লারমার পর শীর্ষ নেতা বলিয়া মনে করা হইত।

    কল্যাণপুর ক্যাম্প অপারেশনের ঘটনা সম্পর্কে জানা গিয়াছে যে, ক্যাপ্টেন এলিনের নেতৃত্বে প্রীতিগ্রুপের আট-দশজনের একটি সুইসাইডাল স্কোয়াড লারমা গ্রুপের শিবিরে সশস্ত্র অভিযান চালায়। প্রীতি কুমার চাকমা বর্তমানে তাহার দলবল লইয়া পানছড়ি এলাকায় লারমা গ্রুপের সদস্যদের খুঁজিয়া বেড়াইতেছে।

    উল্লেখ্য, গত ১০ই নভেম্বর মতিবান পুলিশ ক্যাম্পের এক মাইল পূর্বে প্রীতি গ্রুপ লারমার মামার বাড়িতে অবস্থানরত শান্তিবাহিনীর সদস্যদের উপর আক্রম চালায়। উক্ত আক্রমনে অবশ্য কেহ হতাহত হয় নাই।

    মি: মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয়দের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামে একটি সংগঠন গড়িয়া তোলেন। সাবেক সংসদ সদস্য মি: রোয়াজা ছিলেন উক্ত সংগঠনের সভাপতি এবং মি: লারমা ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। ইতিপূর্বে পাহাড়ি ছাত্র সমিতির মাধ্যমে মানবেন্দ্র লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষত তরুণদের সংগঠিত করেন।

    ১৯৭০ এর নির্বাচনে মি: লারমা স্বতন্ত্র প্রার্থী রূপে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিত পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনেও মি: লারমা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। গণপরিষদে তিনি একটি খসড়া সংবিধান উপস্থাপন করিয়াছিলেন। লারমা সংসদ সদস্য হিসাবে নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিচালনাকালে পাহাড়ি ছাত্র সমিতিসহ তরুণদের সহিত তাহার ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

    ১৯৭৪ সালে মি: লারমা জনসংহতি সমিতির একটি সশস্ত্র গ্রুপ গঠন করেন, পরে উহা শান্তিবাহিনী রূপে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭৬ সালে শান্তিবাহিনীর মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। মি: লারমা চীনাপন্থী ও প্রীতি কুমার চাকমা ভারতপন্থী নীতি গ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে শান্তিবাহিনী সম্পূর্ণ রূপে দ্বিধা-বিভক্ত হয়। এই সময় আত্নকলহে শান্তিবাহিনীর শতাধিক সদস্য নিহত হয়। ১৯৮১ সালের সেপ্টেম্বরে, ১৯৮২ সালের আগস্টে এবং ১৯৮৩ সালের জুলাই মাসে দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরণের সংঘর্ষ হয়।

    মি: মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা ছাত্রাবস্থা হইতেই বামপন্থী রাজনীতির সহিত জড়িত ছিলেন। তাঁহার পিতার নাম চিত্তকিশোর লারমা। তাঁহাদের আদিবাড়ি ছিলো কোতয়ালী থানার মহাপুরম গ্রামে। কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে ওই এলাকা প্লাবিত হওয়ায় তাহারা পানছড়ি এলাকায় চলিয়া যান। মি: লারমার স্ত্রীর নাম পঙ্কজিনী লারমা। তাহার দুই পুত্র রহিয়াছে। কিন্তু তাহাদের নাম জানা যায় নাই।

    মি: লারমা ১৯৫৮ সালে মেট্রিক পাস করেনএবং ১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ হইতে আইএ এবং ১৯৬৩ সালে বিএ পাস করেন। এ সময় সরকার বিরোধী কার্যকলাপের দায়ে তাহাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু নবীন অপরাধী হিসাবে তাহার দণ্ড হ্রাস করিয়া নির্দিষ্ট সময়ে থানায় হাজিরা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় তিনি দীঘিনালা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং পরে বিএড ও এলএলবি পাস করেন।

    –দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ নভেম্বর, ১৯৮৩, প্রথম পৃষ্ঠা, দুই কলাম–


ছবি: ১. এমএন লারমা, অন্তর্জাল, ২. জুমঘর, ন্যাট জিও ম্যাগাজিন, ১৯৭২, ৩. গেরিলা নেতা সন্তু লারমার হাইড আউটে, ৫ মে ১৯৯৪, লেখক, ৪. ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর, ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭, সংগৃহিত।

আরো পড়ুন::

শান্তিবাহিনী, ইউকিপিডিয়া।
এমএন লারমার প্রোফাইল।
এমএন লারমার ছিন্নপত্র: একটি ঐতিহাসিক দলিল, লেখকের ই-বুক, রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে, মুক্তমনা ডটকম।
ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি, ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৮।

পাহাড়, ঘাস, ফুল, নদী খুব পছন্দ। লিখতে ও পড়তে ভালবাসি। পেশায় সাংবাদিক। * কপিরাইট (C) : লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত।

মন্তব্যসমূহ

  1. বব লারমা সেপ্টেম্বর 16, 2011 at 8:06 অপরাহ্ন - Reply

    ধন্যবাদ! লেখাটা পাবত্য চট্টগ্রামের জুম্ম এবং সমতলের অন্যান্য আদিবাসিদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে প্রেরণা হয়ে থাকবে।

  2. কালো ওঝা মে 20, 2010 at 8:28 অপরাহ্ন - Reply

    লেখাটি দারুণ হয়েছে :yes:

    • বিপ্লব রহমান মে 21, 2010 at 7:22 অপরাহ্ন - Reply

      @কালো ওঝা,

      পাঠ প্রতিক্রিয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। :rose:

  3. দীপেন ভট্টাচার্য মে 20, 2010 at 10:16 পূর্বাহ্ন - Reply

    @বিপ্লব রহমান,

    হ্য়তো বোঝার ভুল হয়ে থাকতে পারে, সে জন্য আমি দুঃখিত। বুঝতেই পারছেন আপনার আত্মনিষ্ঠ গবেষণা ও সত্যান্বেষণকে ভিত্তি করেই আমার মন্তব্য, আশা করি সহৃদয় চিত্তে তা গ্রহণ করবেন। 🙂

    যেহেতু চিন আছে বলেই চিনপন্থী ও মাও ছিল বলেই মাওবাদী, সেহেতুই মাওএর চরিত্র অবতারনা। মানবেন্দ্র লারমা কেন মাওবাদী ছিলেন সেটা তার পাঁচ দফা দাবি নামা থেকে বোঝা যায় না, কারণ সেই দাবিগুলির (ছয় দফা দাবিগুলোর মতই, যদিও তাদের ঐতিহাসিক চরিত্র ভিন্ন) ভিত্তিভূমি জাতীয় প্রতিষ্ঠা, স্বায়ত্তশাসন ও বৈদেশিক শোষণের অবসান। সেক্ষেত্রে জুম্ম জাতীয় সত্তা রক্ষায় মাওবাদের ভূমিকা কি সেটা স্পষ্ট নয়।

    দুটো ব্যাখ্যা হতে পারে (কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক, তবে অভিজ্ঞতার আলোকে আপনার যে কোন মন্তব্য হবে ইন্টারেস্টিং)।

    ১. শোষক শ্রেণী ও রাষ্ট্রীয় গঠনের বিরুদ্ধে যে কোন যুদ্ধকে মাওবাদী আখ্যা দেয়া যেতে পারে। [কিন্তু সঠিক মাওবাদী যুদ্ধের নায়করা হবে শোষিত শ্রেণী। যদি শোষক শ্রেণী বিদেশী হয়, তবে একই সাথে দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে হবে – বিদেশী ও দেশী শোষকদের বিরুদ্ধে। বিদেশী বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় কি মানবেন্দ্র লারমা স্বদেশী শোষকদের চিহ্নিত করেছিলেন? জুম্ম জাতির সামাজিক অবস্থা দেখে এই প্রশ্নটা অ্যাবসার্ড মনে হয় (আপনি ভাল জানবেন)। দ্বিতীয়তঃ মানবেন্দ্র লারমা কি পাহাড়ে এক কমিউনিস্ট ভবিষ্যত দেখতেন?]

    ২. চিনপন্থী আখ্যাটি হতে পারে নিতান্তই ভূগোল-রাজনীতির একটি অবরোহ। এর সাথে প্রলেতারিয়ের লড়াইয়ের সম্পর্ক নেই। শান্তি বাহিনীর শুরু আওয়ামি লিগ আমলে, ধরে নিই আওয়ামি লিগ যদি ভারত পন্থী হয়, তবে শান্তি বাহিনীকে চিনা পন্থী হতে হবে। [জিয়াউর রহমানের আমলে এই অঙ্কের ওলোট-পালট হয়, বলতে গেলে এই সময়েই পাহাড়িদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা চরম ছিল।] ইত্যাদি।

    বড় লেখা আহ্ববানের জন্য ধন্যবাদ, আপনার মত করে dedication সৃষ্টি করতে পারলে দেব। ভাল থাকবেন।

    • বিপ্লব রহমান মে 21, 2010 at 7:19 অপরাহ্ন - Reply

      @দীপেন ভট্টাচার্য,

      এমএন লারমা ওই দুটির কোনটির অর্থেই মাওবাদী নন। আমি তার সর্ম্পকে যতটুকু জেনেছি, তা হচ্ছে:

      ১। শান্তিবাহিনীর গেরিলা যুদ্ধটি মাওসেতুং নির্দেশিত পন্থায় হয়েছিল। [লিংক]
      ২। এমএন লারমা একই সঙ্গে কমিউনিজমে তথা মাওসেতুং নির্দেশিত দর্শনে বিম্বাসী ছিলেন। তবে তিনি বুঝেছিলেন, পাহাড়িদের অস্তিত্ব রক্ষা করা না গেলে কাঙ্খিত শোষণমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব নয়। তাই শান্তিবাহিনীর গেরিলা যুদ্ধ ছিল একমাত্র জাতিগত অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।…[দ্র. গেরিলা নেতা সন্তু লারমার সাক্ষাৎকার, লেখকের ই-বুক, মুক্তমনা ডটকম, লিংক]

      আবারো আপনাকে ধন্যবাদ। 🙂

  4. দীপেন ভট্টাচার্য মে 19, 2010 at 2:08 অপরাহ্ন - Reply

    বিপ্লব রহমানকে তথ্যবহুল ও সুলিখিত এই প্রবন্ধের জন্য ধন্যবাদ। পাহাড়ী মানুষের জীবন ও অধিকার সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষকে অবহিত করানোর জন্য এই ধরনের লেখার দরকার আছে।

    আমার মন্তব্য শুধু মা-সে-তুং এর ব্যাপারে, বিশেষতঃ যখন বিপ্লব ভাই একদম প্রথমে নমঃ নমঃ করে মাও-এর নাম নিয়ে শুরু করেছেন।

    পৃথিবীতে যুদ্ধ দুই ভাগে বিভক্ত; একটি ন্যায় যুদ্ধ, আরেকটি অন্যায় যুদ্ধ। আমরা ন্যায় যুদ্ধের পক্ষে। — মাওসেতুং।

    মা-সে-তুংকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের অতি বাম এবং তাদের হঠকারিতায় বিভ্রান্ত বঞ্চিত মানুষের রোমান্টিকতার কোন আগা ও মাথা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বিশেষতঃ যখন মাওএর নামের সাথে কোটি কোটি মানুষের নিধন যুক্ত। লাল সন্ত্রাসের যা অন্যতম বৈশিষ্ট্য তা হল নিজের আপন জনকে প্রতিবিপ্লবী, গুপ্তচর ইত্যাদি নামে আখ্যায়িত করে হত্যা করা। ট্রটস্কী মেক্সিকোতে পালিয়ে গিয়েও স্টালিনের হাত থেকে রেহাই পান নি, রুশ বিপ্লবের প্রতিটি নেতাকে – জিনোভিয়েভ, কামেনেভ, কিরোভকে স্টালিন হত্যা করেছে। এই ফর্মুলায় মা-সে-তুং এর হাতে খড়ি একদম প্রথম থেকেই যখন ১৯৩০ সালে মাও নেতৃত্ব বজায় রাখতে নিজেরই লাল বাহিনীর অন্ততঃ হাজার পাঁচেক সৈন্যকে ট্রটস্কীপন্থী বলে হত্যা করে (ফুতিয়ান হত্যকাণ্ড)। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে ক্ষমতায় আসার পরে শুরু হয় প্রতিবিপ্লবী নিধন অধ্যায়। ন্যূনকল্পে কয়েক লক্ষ লোক এতে মারা যায়। এই মূহুর্তে হাতের কাছে কোন রেফারেন্স না থাকায় আমি উইকিপিডিয়া থেকেই উদ্ধৃতি দিচ্ছিঃ

    Mao insisted upon public executions, in order to have maximum impact upon the population. In Beijing alone there were some 30,000 execution rallies attended by over 3 million people.[5] An eyewitness interviewed by Jung Chang describes one such rally, in which 200 people were paraded in such a way that when they were shot their blood and brains splattered out onto the bystanders.[5] Chang notes that those who did not attend the rallies witnessed such things as trucks carrying corpses through the streets dripping blood.[5]

    এবার নিচের প্যারাটা পড়ে দেখুন, গায়ের রক্ত হিম হয়ে যাবে।

    On 21 January 1951, Mao sent a telegram to party members in Shanghai: “In a big city like Shanghai, probably it will take one to two thousand executions during this year to solve the problem. In the spring, three to five hundred executions will be needed to suppress the enemy’s arrogance and enhance the people’s morale. In Nanjing, the East China Bureau should direct the party’s municipality committee . . . and strive to execute one to two hundred of the most important reactionaries in the spring.”[1]

    On 22 January 1951, Mao told the communists in Guangdong: ‘‘It is very good that you have already killed more than 3,700. Another three to four thousand should be killed . . . the target for this year’s executions may be eight or nine thousand.”[1]

    http://www.wikipedia.org Campaign to Suppress Counterrevolutionaries তে রেফারেন্সগুলো দেখে নেবেন।

    আর সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় কি হয়েছে তা নয় এখানে নাই উল্লেখ করলাম (নিকট বন্ধু লিও শাও চি’র পরিণতি ট্রটস্কীর মতই হয়েছিল)।

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মাও বেঁচে ছিল। ১৯৭১এ বাংলাদেশে হত্যাযজ্ঞ হচ্ছে জেনেও পাকিস্তানের পক্ষে চিনারা ওকালতি করেছে, বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের সদস্য হতে চাইলে চিন ভেটো দিয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা কি ন্যায়ের ছিল না?

    অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তমন সৃষ্টি করতে কমিউনিস্ট চিন্তাধারা যথেষ্ট অবদান রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে, কিন্তু কোন কারণে অনেক সশস্ত্র কমিউনিস্ট, বিশেষতঃ নেতারা (বিশেষতঃ যখন তারা ক্ষমতায় আসে) এক মেগালোম্যানিয়াক দানবে পরিণত হয়। তখন তাদের যুদ্ধ ন্যায় যুদ্ধ থাকে না।

    • বিপ্লব রহমান মে 19, 2010 at 8:13 অপরাহ্ন - Reply

      @দীপেন ভট্টাচার্য,

      আপনার পাঠ প্রতিক্রিয়ার জন্য ধন্যবাদ।

      আমার মন্তব্য শুধু মা-সে-তুং এর ব্যাপারে, বিশেষতঃ যখন বিপ্লব ভাই একদম প্রথমে নমঃ নমঃ করে মাও-এর নাম নিয়ে শুরু করেছেন।

      পৃথিবীতে যুদ্ধ দুই ভাগে বিভক্ত; একটি ন্যায় যুদ্ধ, আরেকটি অন্যায় যুদ্ধ। আমরা ন্যায় যুদ্ধের পক্ষে। — মাওসেতুং।

      মা-সে-তুংকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের অতি বাম এবং তাদের হঠকারিতায় বিভ্রান্ত বঞ্চিত মানুষের রোমান্টিকতার কোন আগা ও মাথা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। …

      একটু বোধহয় বোঝার ভুল থেকে যাচ্ছে। মাওসেতুং’কে উদ্ধৃত করা হয়েছে, এ কারণে গেরিলা নেতা এমএন লারমা মাওবাদী ছিলেন। এবং এই লেখায় যেমনটি বলা হয়েছে:

      ১। সেই সাতের দশকের নকশালী আন্দোলন থেকে শুরু করে এ দেশে যত গেরিলা যুদ্ধ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে, চরম আত্নত্যাগ থাকা সত্বেও জনবিচ্ছিন্নতা, গোষ্ঠি বিপ্লবী মানসিকতাসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শেষ পর্যন্ত এর সব কয়টি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পরিনত হয়েছে– একমাত্র মানবেন্দ্র নারায়ন (এমএন) লারমার প্রতিষ্ঠিত সাবেক গেরিলা গ্রুপ শান্তিবাহিনী ছাড়া।

      এর কারণ জনসংহতি সমিতির রাজনৈতিক শাখা শান্তিবাহিনী আদর্শের ভিত্তিতে সত্যিকার অর্থেই পাহাড়ি জনগণের ভেতর থেকে গড়ে ওঠা একটি সফল জনযুদ্ধ গড়ে তুলতে পেরেছিলো।….

      এবং

      …২। এমএন লারমাই বাংলাদেশে প্রথম পাহাড়ি আদিবাসী গোষ্ঠিকে সশস্ত্র করে তাদের মুক্তির পথ দেখান। তিনিই প্রথম গেরিলা যুদ্ধকে সঠিকভাবে এ দেশের প্রেক্ষাপটে সূত্রায়ন, নেতৃত্বদান ও পরিচালিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

      অন্যদিকে, নানা সীমাবদ্ধতা এবং বিভ্রান্তির কারণে অন্যান্য মাওবাদীরা এ ক্ষেত্রে হয়েছিলেন চরম ব্যর্থ।…

      প্রাসঙ্গিকতার কারণেই আমার মনে হয়েছে, উদ্ধৃতিটির মাধ্যমে এমএন লারমার আদর্শ এবং রণোনীতি স্পষ্ট করা হয়। মোটেই মাওসেতুং কে নম: নম: করা হয়নি।

      আমার ফোকাস পয়েন্টটিই তো আপনি ধরতে পারেন নি, বরং এরই জের ধরে আপনি যে দীর্ঘ বয়ান দিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক ও মুক্তিযুদ্ধ তথা জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে সর্ম্পকিত…এই লেখার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। …

      এ পর্যায়ে এমন করে পাতে ঝোল টেনে কমিউনিস্ট নেতাদের লেজ আবিস্কারের এই প্রবনাতা কতটুকু বাঞ্ছনীয় তা ভেবে দেখার বিনীত অনুরোধ করি। সবচেয়ে ভাল হয়, আপনার এই সব বিশ্লেষণসমূহ তুলে ধরে যদি আলাদা লেখা দিন। সেখানে না হয় নরখাদক মাওসেতুং-এর কুকর্ম নিয়ে জমিয়ে বিতর্ক করা যাবে! 😉

  5. রাহাত খান মে 19, 2010 at 10:01 পূর্বাহ্ন - Reply

    @ বিপ্লব রহমান, এ ধরণের বিষয়গুলো নিয়ে খুব কম লেখকই লিখে থাকেন। এর অনেক কিছুই ভাসাভাসাভাবে জানতাম, অনেক কিছুই জানতাম না বা জানলেও ভুলে গেছিলাম। আপনার লেখাগুলোর কারণেই আজকে দেশের বাইরে থেকেও আদিবাসীদের সম্পর্কে জানতে পারছি। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

    • বিপ্লব রহমান মে 19, 2010 at 6:24 অপরাহ্ন - Reply

      @রাহাত খান,
      পাঠের জন্য সবিশেষ কৃতজ্ঞতা। :yes:

  6. পথিক মে 19, 2010 at 2:00 পূর্বাহ্ন - Reply

    পাহাড়ী মানুষের মুক্তির প্রতীক এম এন লারমার প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা রইল। বংগবন্ধু কর্তৃক পাহাড়ী মানুষের দাবি প্রত্যাখ্যান ছিল এক ঐতিহাসিক ভুল। যার মাশুল দিতে হয়েছে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত পাহাড়ি,বাংগালী ও সেনাসদস্যদের। কিন্তু কিছুদিন আগে খাগড়াছড়ি ভ্রমণে গিয়ে এম এন লারমার স্মৃতি রক্ষার্থে এক 'লারমা স্কোয়ার' ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে নি। jonjonjjজনবিচ্ছিন্ন সশস্ত্র আন্দোলন নয় বরং জনগণের ন্যায্য দাবি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করলে ঐক্য ও সফলতা পাওয়া যায় তা দেখিয়ে গেছেন তিনি। বিপ্লব রহমান সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধে সুন্দরভাবে এই বিষয়টা তুলে ধরেছেন। কয়েকটা প্রশ্ন ছিলঃ
    ১।মুক্তিযুদ্ধকালীন এম এন লারমার ভূমিকা কি ছিল?
    ২।ভারতপন্থী প্রীতি গ্রুপটির পরবর্তীতে কি হল?
    ৩।এম এন লারমার স্মৃতি রক্ষায় কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কি?
    ৪।এম এন লারমার মৃত্যুর পর সন্তু লারমা যখন নেতৃত্বে এলেন তখন চীনপন্থী নাকি ভারতপন্থী অবস্থান গ্রহণ করেন?(জনশ্রুতি আছে,ভারত থেকেই মূলতঃ অস্ত্র সরবরাহ হত)
    ৫।অফটপিকঃ বর্তমানে পাহাড়ীদের মধ্যে এমন মারামারি ও খুনোখুনির কারণ কি?
    ৬।অফটপিকঃ পার্বত্য এলাকায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর বিস্তৃত এলাকায় তামাক চাষ ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে কি কোন লেখা আপনার চোখে পড়েছে বা আপনি লিখবেন কিনা?
    ৭।কয়েকদিন আগে বাঘাইঘাটে সংঘটিত ঘটনায় একটি এনজিও এর জড়িত থাকার কথা শুনেছি। পার্বত্য এলাকায় ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা এইসব এনজিও কি পার্বত্য চট্রগ্রামের উন্নয়নে  আদৌ কোন ভূমিকা রাখছে? 
    অনেকগুলো প্রশ্ন করে ফেললাম। আশা করি বিরক্ত হবেন না। সুলিখিত প্রবন্ধটার জন্য আবারো ধন্যবাদ।

    • বিপ্লব রহমান মে 19, 2010 at 6:22 অপরাহ্ন - Reply

      @পথিক,

      পাঠ প্রতিক্রিয়া ও আগ্রহ জানানোয় আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

      ১।মুক্তিযুদ্ধকালীন এম এন লারমার ভূমিকা কি ছিল?
      ২।ভারতপন্থী প্রীতি গ্রুপটির পরবর্তীতে কি হল?
      ৩।এম এন লারমার স্মৃতি রক্ষায় কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কি?
      ৪।এম এন লারমার মৃত্যুর পর সন্তু লারমা যখন নেতৃত্বে এলেন তখন চীনপন্থী নাকি ভারতপন্থী অবস্থান গ্রহণ করেন?(জনশ্রুতি আছে,ভারত থেকেই মূলতঃ অস্ত্র সরবরাহ হত)

      খুব সংক্ষেপে বলছি:

      ১। মুক্তিযুদ্ধে চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলেন। তবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতায় তার কোনো সক্রিয় অবস্থান ছিল না। যুদ্ধের শুরুতেই তিনি স্বপরিবারে পালিয়ে পাকিস্তানে চলে যান। রাজার এই অবস্থানের সঙ্গে পাহাড়ি জনগণ তো বটেই, এমএন লারমা ও সন্তু লারমার কোনো যোগসাজস ছিল না। এম এন লারমা তখন দুর্গম পাহাড়ে ( সে সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল খুবই নাজুক) পাহাড়ি ছাত্র সমিতি সংগঠিত করার কাজ করছিলেন। দুর্গমতার কারণে পাহাড়ে মুক্তিযুদ্ধের ঢেউ তেমনভাবে লাগেনি; একমাত্র ফেনি ও মীরসরাই সংলগ্ন খাগড়াছড়ির রামগড় ছাড়া।

      ২। আট ও নয়ের দশকে প্রীতি গ্রুপের অধিকাংশ সদস্য এইচ এম এরশাদ ও জিয়াউর রহমানের সাধারণ ক্ষমার সুযোগে অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। ফলে ভারতপন্থী প্রীতি গ্রুপটির বিলুপ্ত ঘটে। প্রীতি কুমার চাকমা এখন ভারতের ত্রিপুরায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে অবসর জীবন যাপন করছেন। ১৯৯৬-৯৭ সালে ত্রিপুরার শরণার্থী শিবিরগুলোতে একাধিকবার সরজমিন প্রতিবেদন করার সময় আগরতলায় তার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎও হয়েছে। কিন্তু তিনি কিছুতেই সাক্ষাৎকার দিতে এমন কি ছবি তুলতে রাজী হননি।

      ৩। এমএন লারমা স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের একজন সামান্য কর্মী হিসেবে বলছি, পরিষদের পক্ষ থেকে ২০০৯ সালে একটি সুলিখিত স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে (পরিবেশক : পাঠক সমাবেশ, আজিজ সুপার মার্কেট, ঢাকা)। প্রতিবছর ১০ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এছাড়া একাধিকবার এমএন লারমার প্রতিকৃতির চার রঙা পোস্টার প্রকাশ করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্মরণ সভা ও পাঠ চক্রে এম এন লারমার সহোদরা মিনু চাকমা, সহোদর সন্তু লারমা, সহযোদ্ধা উষাতন তালুকদার, গৌতম চাকমা প্রমুখ স্মৃতি চারণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন পাহাড়ি বুদ্ধিজীবি ও সহযোদ্ধাদের বিশ্লেষণমূলক লেখা নিয়ে প্রকাশ করা হয় একাধিক সংকলন।

      ৪। এমএন লারমা ও সন্তু লারমা বরাবরই চীনপন্থী তথা মাওবাদী ছিলেন। লেখায় যুক্ত ইত্তেফাকের সংবাদেও বলা হয়েছে সে কথা। লারমা গ্রুপকে ধ্বংস করার জন্যই ভারত ও এ দেশীয় সামরিক শক্তি সৃষ্টি করে প্রীতি গ্রুপ (দ্র. ২ নং জবাব)। এমএন লারমাকে হত্যার পেছনে ভারত সরকার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছিল বলে আমার বিশ্বাস। কাজেই ভারত থেকেই মূলত অস্ত্র আসার জনশ্রুতি সঠিক নয়। শান্তিবাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্প ও হাইড আউট ঘুরে দেখেছি, সে সময় গেরিলাদের প্রধানতম হাতিয়ার ছিল জি-থ্রি রাইফেল। এগুলো বিভিন্ন সময় বিডিআর ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাছাড়া ত্রিপুরা, অরুনাচল, মিজোরাম ও মিয়ানমারের একাধিক গেরিলা গ্রুপের কাছ থেকেও শান্তিবাহিনী অস্ত্র-শস্ত্র যোগাড় করে।

      ৫।অফটপিকঃ বর্তমানে পাহাড়ীদের মধ্যে এমন মারামারি ও খুনোখুনির কারণ কি?
      ৬।অফটপিকঃ পার্বত্য এলাকায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর বিস্তৃত এলাকায় তামাক চাষ ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে কি কোন লেখা আপনার চোখে পড়েছে বা আপনি লিখবেন কিনা?
      ৭।কয়েকদিন আগে বাঘাইঘাটে সংঘটিত ঘটনায় একটি এনজিও এর জড়িত থাকার কথা শুনেছি। পার্বত্য এলাকায় ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা এইসব এনজিও কি পার্বত্য চট্রগ্রামের উন্নয়নে আদৌ কোন ভূমিকা রাখছে?

      ওই তিনটি অফটপিক লেখার সঙ্গে তো বটেই, এমন কি একটি প্রশ্নের সঙ্গে আরেকটি সর্ম্পকিত নয়। প্রত্যেকটি অ/ট প্রশ্ন আপাত সরল মনে হলেও এগুলোর জবাব মন্তব্যের ছোট্ট ঘরে সংক্ষিপ্ত আকারে দেওয়াও সম্ভব নয়। এগুলো প্রশ্নের জবাব সম্ভব হলে পরে একাধিক লেখায় দেওয়ার চেষ্টা করবো। তবে প্রাথমিক কৌতুহল মেটাতে মুক্তমনায় প্রকাশিত আমার ই-বুক এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর লেখা আমার পুরনো লেখাগুলো পাঠ করার বিনীত অনুরোধ জানাই। :yes:

      • শালিখ অক্টোবর 6, 2012 at 12:15 পূর্বাহ্ন - Reply

        @বিপ্লব রহমান, আমি তো শুনেছিলাম এম এন লারমা মার্ক্সিস্ট লেলিনিস্ট ছিলেন। যে পন্থীই হোক না কেন তিনি ছিলেন মার্ক্সিজমের ছাত্র, সেকারণে রাষ্ট্রকে দেখেছেন ক্ষমতাসীনদের যন্ত্র হিসেবে, যার কাছ থেকে কি না গণমানুষের দাবীদাওয়া আদায় করে নিতে হবে। একারণে ভারতের প্রক্ষে প্রীতি গ্রুপকে ব্যাবহার করা সম্ভব হলেও, এক রাষ্ট্র ছেড়ে অন্য রাষ্ট্রের পদাবনত হতে লারমাকে রাজী করানো যায় নি। স্বাভাবিক ভাবেই ভারত চেয়েছে এমন একজন ব্যাক্তি যাকে পুতুল বানানো যাবে, লারমা যদিওবা তাদের থেকে অস্ত্র নিয়ে থাকেন, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল জুম্মজাতির সেলফ ডিটারমিনেশন… ভারতে নাগা/মিজোদের পরিস্থিতিও নিশ্চয়ই জানতেন, তাঁকে সরিয়ে অন্য কাউকে বসাতে ভারত স্বাভাবিক ভাবেই উৎসাহী হবে। বিপ্লবদার বইতে সন্তু লারমার প্রতি মানবেন্দ্রর চিঠিতে প্রীতির ব্যাপারে ভারতের ভূমিকা সম্পর্কে তাদের সন্দেহটা প্রকাশ পায়। এ কারণে লারমার হত্যাকান্ডে ভারতের হাত থাকা বিশ্বাসযোগ্য
        মুক্তিযুদ্ধের সময় লারমা রাঙ্গামাটি কমিউনিস্ট বাহিনী দাঁড়া করাচ্ছিলেন। আমি যতদূর জানি, গণমানষের আন্দোলন হিসেবে তিনি একপর্যায়ে অন্যান্য কমিউনিস্টদের মতোই যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধের পর অন্যান্য বাঙ্গালি কমিউনিস্টরা কিন্তু অনেক বছর ‘গণমানুষের যুদ্ধ’ হিসেবে রাষ্ট্রের বিপক্ষে (অর্থাৎ নতুন বাংলাদেশ) যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। মানবেন্দ্র প্রথমে সংসদে গিয়ে নিজ জনগণের প্রসঙ্গ তুলবার চেষ্টা করেন, এবং তৎকালীন রাজনীতিবিদদের মনোভাব (‘উপজাতিরা আস্তে আস্তে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে ‘জাতি’ বাঙালি হয়ে যাবে) বুঝে জনসংহতি সমিতি ও (বঙ্গবন্ধুর বাঙ্গালি পাঠাবার ধমক ও রাঙ্গামাটিতে মিটিং এ বাঙালি হয়ে যাওয়ার উপদেশ পরবর্তী সময়ে) শান্তি বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন।… আমার জানামতে।

        • বিপ্লব রহমান নভেম্বর 9, 2012 at 4:51 অপরাহ্ন - Reply

          @শালিখ,

          দুঃখিত, অনেক দেরীতে মন্তব্যটি দেখলাম। আপনার উল্লেখিত অধিকাংশ তথ্যই ভুল, না হয় অর্ধ-সত্ব।

          এমএন লারমা শুধু মার্কসবাদী-লেনিনবাদীই ছিলেন না, একই সঙ্গে তিনি ছিলেন মাওবাদী। মাওসেতুং নির্দেশিত পথেই তিনি পাহাড়ে গেরিলা যুদ্ধ গড়ে তোলেন। এরআগে তিনি রাঙামাটি কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তুলেছেন, যার স্থায়ীত্ব ছিলো সামান্যই।

          মুক্তিযুদ্ধের সময় এমএন লারমার ভূমিকাসহ আরো কিছু অজানা তথ্য জানতে এই লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন।

          আপনার আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে তার একটি প্রোফাইল নীতি তুলে দিচ্ছি:

          এম.এন.লারমার সংক্ষিপ্ত জীবনী

          নাম : মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা
          ডাক নাম : মঞ্জু
          জন্ম : ১৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে
          জন্মস্থান : মহাপুরম্ (মাওরুম), বুড়িঘাট মৌজা, নানিয়ারচর থানা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা
          বিবাহ ::: :১৯৭১ সাল
          পিতার নাম : চিত্ত কিশোর চাকমা
          মাতার নাম : সুভাষিনী দেওয়ান
          স্ত্রীর নাম : পঙ্কজিনী চাকমা। ডাক নাম- মঞ্জু
          সনৱান : ১ ছেলে, ১ মেয়ে
          ১) ছেলে- জয়েস লারমা(জ্যেষ্ঠ সন্তান)
          ২) মেয়ে-পারমিতা লারমা(কনিষ্ট সন্তান)
          ভাইবোন : ১) জ্যোতিপ্রভা লারমা, ডাকনাম-মিনু (বড় বোন) ২)শুভেন্দু প্রভাস লারমা, ডাকনাম-বুলু (বড় ভাই) ৩)জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, ডাকনাম-সন’ (ছোট ভাই)
          শিক্ষাজীবন : ক) প্রাথমিক শিৰা- মহাপুরম জুনিয়র হাইস্কুল
          খ) ম্যাট্রিক- ১৯৫৮ সাল, রাঙ্গামাটি সরকারী উচ্চবিদ্যালয়
          গ) বি.এ.- ১৯৬০ সাল, চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ
          ঘ) বি.এড.- ১৯৬৮ সাল
          ঙ) এল.এল.বি.- ১৯৬৯ সাল

          কর্মজীবন : ক) ১৯৬৬ সালে দীঘিনালা উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিৰক পদে যোগদান
          খ) ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে কলোনী হাইস্কুলে প্রধান শিৰক ছিলেন
          গ) ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশনে আইনজীবি হিসেবে যোগদান

          রাজনৈতিক জীবন : ১৯৫৬ সাল থেকে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনে পদার্পন।
          ১৯৫৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম পাহাড়ি ছাত্র সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা।
          ১৯৫৮ সালে পূর্ব পাকিসৱান ছাত্র ইউনিয়নে যোগদান।
          ১৯৬০ সালে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনে যোগদান।
          ১৯৬০ সালে পাহাড়ি ছাত্র সমাজে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন।
          ১৯৬১ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের বিরম্নদ্ধে আন্দোলন সংগঠিতকরণ।
          ১৯৬২ সালে অনুষ্ঠিত পাহাড়ি ছাত্র সম্মেলনের প্রধান উদ্যোক্তা।
          ১৯৬৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী নিবর্তনমূলক আইনে আটক (চট্টগ্রামের পাথরঘাটাস’ পাহাড়ি ছাত্রবাস হতে)।
          ১৯৬৫ সালের ৮ মার্চ চট্টগ্রাম কারাগার থেকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি লাভ।
          ১৯৭০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন ও অন্যতম উদ্যোক্তা।
          ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত।
          ১৯৭২ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট ও ৪ দফা সম্বলিত আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসনের দাবিনামা পেশ।
          ১৯৭২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠন ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত।
          ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে বাঙ্গালি হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রতিবাদে গণপরিষদ অধিবেশন বর্জন।
          ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত।
          ১৯৭৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ।
          ১৯৭৪ সালে সরকারের পার্লামেন্টারি প্রতিনিধি হিসেবে কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগদান উপলৰে লন্ডন সফর।
          ১৯৭৪ সালে বাকশালে যোগদান।
          ১৯৭৫ সালের ১৬ই আগস্ট থেকে আত্মগোপন করেন ।
          ১৯৭৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রথম জাতীয় সম্মেলন এবং সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে পুনঃনির্বাচিত।
          ১৯৮২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ২য় জাতীয় সম্মেলন শুরম্ন এবং সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে পুনঃনির্বাচিত।

          মৃত্যু: ১৯৮৩ সালের ১০ই নভেম্বর ভোর রাতে বিভেদপন্থি গিরি-প্রকাশ-দেবেন-পলাশ চক্রের বিশ্বাসঘাতকামূলক অতর্কিত আক্রমণে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলার খেদারাছড়ার থুমে নির্মমভাবে নিহত হন।

          (Y)

  7. অভিজিৎ মে 18, 2010 at 8:55 অপরাহ্ন - Reply

    আরেকটি চমৎকার এবং শক্তিশালী প্রবন্ধ বিপ্লবের। মানবেন্দ্র লারমাকে নিয়ে আমারো বরাবরের আগ্রহ। বিপ্লবকে ধন্যবাদ তাকে নিয়ে এমন একটি ব্যতিক্রমধর্মী লেখার জন্য।
     
    আরেকটি ব্যাপার ভাল হল। বিপ্লবের লেখায় অসংখ্য ছবি আর উদ্ধৃতি থাকে। এটিও ব্যতিক্রম নয়। ভিজুয়াল এডিটরের নতুন ফিচারগুলো 'ইউজার এক্সেপ্টেন্স টেস্ট' করাও হয়ে গেল এর মধ্য দিয়ে।

    • বিপ্লব রহমান মে 19, 2010 at 5:32 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ দা,

      আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

      নতুন ফিচারগুলো ঠিকঠাক কাজ করছিল না, সবচেয়ে বেশী ঝামেলা হয়েছে, উদ্ধৃতি দেওয়া নিয়ে। লিংক দেওয়ার জটিল পদ্ধতি বুঝে উঠতে না পারায় প্রথমে লিংক দিতেই পারিনি। এখন পুরনো অপশনে লিংক দেওয়ার পদ্ধতি ফিরে আসায় সেগুলো যুক্ত করলাম। 🙂

মন্তব্য করুন