জীবন যেখানে যেমন

জীবন যেখানে যেমন

মোজাফফর হোসেন

বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে; হাত বাড়িয়ে দিই – ছুঁতে ইচ্ছে করছে প্রচন্ড। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো হুড়িমুড়ি খেয়ে হাতে এসে পড়ছে তারপর পাল্লা দিয়ে গলে পড়ছে হাতের ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে-ইট বিছানো মাটিতে: চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে প্রতিটির দেহ; শেষ বারের মতন ককিয়ে উঠছে তীব্র বেদনায়; মাটি শুষে নিচ্ছে বৃষ্টির বেদনাগুলো – গভীর মমতায়, নাকি গোগ্রাসে গিলছে বৃষ্টির গোপন বেদনাগুলো, মেটাচ্ছে জন্মের পিপাষা! মানুষ হওয়ার এই এক অসুবিধে – কারণ অকারণে অনেক ভাবনায় মাথায় আসে। ট্রেনটা নিশ্চয় এমন করে ভাবছে না!

ট্রেন ভেড়া মারাই এসে থামল; একটা জোড়া নারী-পুরুষ আমার সামনের আসনে এসে তড়ি-ঘড়ি করে বসল। ট্রেন ছেড়ে দিল। বাম পাশের সিটে যে মানুষটি এতক্ষণ বকর বকর করে মাছের হাট বানিয়ে রেখেছিল কামরাটি, সে তড়িৎ গতিতে ট্রেন থেকে নেমে গেল; লোকটি গল্পে এতটাই মশগুল ছিল যে আর অল্পক্ষণ গত হলেই এখানে আর নামতে হত না তাকে। হঠাতই আমার মনে হল মাছের বাজার থেকে চলে এসেছি কাঁচামালের বাজারে যেখানে লোক সমাগমের ঘাটতি নেই বটে তবে জিনিসপত্রের দাম শুনে যেন বাকশুন্য জনতা ফ্যালফেলিয়ে চাইছে ইতি-উতি! পাশে বসা ছেলেটি আমার মাথার উপর দিয়ে বৃষ্টিতে নেয়ে ওঠা প্রকৃতি দেখায় মহাব্যস্ত, যেন গোগ্রাসে গিলছে বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতির আটসাট যৌবন। পৃথিবীতে লম্বা হওয়ার যতগুলো সুবিধা আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অনায়াশে অনেক কিছু দেখতে পাওয়া; ও যে আমার থেকে অনেক লম্বা এই বিষয়টি আমাকে বোঝানোর জন্য থেকে থেকে আমার মাথার ওপর দিয়ে হাত চালিয়ে দিচ্ছে জানালার দিকে

ট্রেন চলতে শুরু করেছে; আমি বাইরে চোখ মেলে দিলাম। বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতি এখন শান–শব্দহীন যেন সদ্য জন্ম নেওয়া শিশু এই মাত্র পেট পুরে খেল এখন সে শান্তি করে ঘুমাবে। প্রকৃতির এই নিষ্পাপ চেহারা আজই প্রত্যক্ষ করছি তা কিন্তু নই; ইতিপূর্বে বহুবার করেছি, তবে আজকের এই অনুভূতি আজই প্রথম। ট্রেনের শব্দটা এখন আমার কাছে মনে হচ্ছে ঘুম পাড়ানি গান; প্রকৃতিকে ঘুম পাড়াতে ব্যস্ত সে। এই মুহূর্তে মার কথা মনে পড়ছে খুব করে। মা গান জানতেন না। সংসারের সাতকাহন সামলাতে গিয়ে গান গাওয়া কিম্বা শোনার ফুসরত মেলেনি তাঁর। সাতবোকার একটি গল্প জানতেন এবং এই একটি গল্প দিয়েই তাঁর ৯ টি সন্তানকে ঘুম পাড়িয়েছেন।

সামনের আসনে বসা নারী পুরুষ দুটি পরস্পরের হাত ধরে একটি করে কথা বলছে আর অট্রহাসিতে একে অন্যের গায়ে ঢলে পড়ছে। দুজনেরই বয়স ২৮ থেকে ৩৫ এর মধ্যে হবে; আচরনে মনে হচ্ছে সদ্য বিবাহ হয়েছে। সদ্য বলছি এ জন্য যে বেশি দিন সংসার করা নারী পুরুষেরা বাইরে এসেও সংসারের গাণিতিক হিসাব মেলাতে ব্যস্ত থাকেন; ভালোবাসা তাদের কাছে মধ্যরাতের বিছানাতেই শোভা পায়। তবে এরা প্রেমিক-প্রেমিকাও হতে পারে। চার্লস ল্যাম্ব আজীবন ব্যাসেলর ছিলেন। তাঁর একটি রচনায় লিখেছিলেন যে তিনি কোন বিবাহিত বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গেলে তারা স্বামী স্ত্রী মিলে তাঁর সামনে এমন ভান করে যেন তারা প্রচন্ড ভাবে একে অপরকে ভালোবাসে এবং তারা ল্যাম্বকে বলতে চায়, দেখ ব্যাটা তুই কত অসুখী! এরা দুজন কি এখন আমাদেরকে সুযোগ পেয়ে সেরকম-ই কিছু বলতে চাইছে, না হলে বউকে নিয়ে তো ঘরের মধ্যে যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে লটর-পটর করতে পারে! এভাবে ট্রেনের তালে তালে একে অন্যের গায়ে হেলে পড়ার মানে কি! আমার বামদিকের কোনায় মাঝবয়সী এক হুজুর বসে আসে। হুজুরটি সুবিধা মত এঙ্গেলে আমার সামনের মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে; তাকানোর ভঙ্গিমাটা এমন যেন ক্ষুধার্ত মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে হোটেলে কাচ দিয়ে ঘেরা মিষ্টি দেখছে, পেলেই টপাটপ গিলে ফেলবে। মেয়েরা যদি খাদ্য হয় তবে আমরা যাকে চরিত্রহীন বলে তাকে ভোজনরসিক বললেও চলে। শুনতে খারাপ লাগলেও অনেকে এক মত হবে- মেয়েরা পুরুষদের কাছে খাবারই বটে। পার্থক্য হচ্ছে, এদেরকে ডাইনিং টেবিলে পরিবেশন না করে বিছানাতে করা হয়। আমাদের দেশে হুজুরদের বিনোদনের মাধ্যম বলতে শুধুমাত্র স্ত্রী মানে নারী আর কি, ফলে হুজুরদের বৌ’দের বেশ ধকল সহ্য করতে হয়। আমার দূর সম্পর্কের এক ভাবীকে, যার স্বামী বেশ নামকরা হুজুর ছিলেন, বলতে শুনেছিলাম যে তার স্বামীর ভালোবাসা এখন তার কাছে অত্যাচারের মতন মনে হয়। দিন নেই রাত নেই যখন তখন…!

একটু ঝিমুনি এসেছে মাত্র এমন সময় একটা হাতের আলতো পরশে হচকচিয়ে উঠলাম; দেখি একজন অর্ধ উলংগ ভিখারী, সমস্ত হাত জুড়ে খ্যাত খ্যাতে ঘা, বৃষ্টির পানিতে ভিজে হাতটির দশা বর্ষায় আমার পাড়ার গলির মতন- গরুর গোবর, চুনার সাথে টয়লেটের ট্যাংক উপচে পড়া নোংরা আর ড্রেনের পানির এক অদ্ভূদ মিশ্রন! লোকটির চারিদিকে মাছি ভন ভন করছে। আমার তো প্রায় বমি হবার উপক্রম। আমি দ্রুততার সাথে চোখ ঘুরিয়ে নিই। লোকটি হাত প্রসারিত করে বলতে থাকে, ভাই-আপারা আমার শরীরে কঠিন ব্যামো, আল্লাহর বান্দা, দু’এক টাকা দিয়ে সাহায্য করেন; আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করবে। মনে হচ্ছে এই ব্যামোটাই ওর ব্যাবসায়ের মূলধন। ভিক্ষাবৃত্তিকে যদি একধরনের ব্যবসা বলা হয় তবে আমাদের দেশে এই ব্যবসায়ে শুধুমাত্র আল্লাহর নাম এবং আল-কুরআনের দু’একটি লাইন জানা থাকলেই চলে। আমার মন বলছে আরেকবার লোকটির হাতের দিকে তাকাতে, কিন্তু আমি জানি তাকালে এই মনই ভেতর থেকে বমি খিচিয়ে বের করে আনবে। মনের একই সাথে এই দ্বিমুখী আচরনে আশ্চর্য না হয়ে পারি না। এই বিশ্রি জিনিসটার প্রতি তার এত টান কিসের!
ফকিরটা যেতে না যেতেই এক হকার এসে শুরু করলো তার তোষামুদে বক্তৃতা। কথা বলা যে লোক ঠেকানোর এবং ঠকানোর জন্য খুবই কার্যকরী এক শিল্প তা এই হকার এবং রাজনীতিবিদদের বক্তব্য শুনলে বোঝা যায়। একজন চকলেট বিক্রেতা আমাদের কামরায় প্রবেশ করল। ‘ভাই-বোনেরা আমার, আমি অন্ধ মানুষ, চকলেট বিক্রি করি পেট চালাই; সবাই একটি করে চকলেট কিনি সাহায্য করেন’- বলে বিক্রেতা এদিক ওদিক হাত বাড়িয়ে দিল। লোকটিকে আমার বেশ ভাল লাগল। এমনিতেই মানুষ অলস জাতের প্রাণী; বসার অবকাশ পেলেই ঘুমানোর চিন্তা করে। কিন্তু এই মানুষটার কন্ঠে কি যেন একটা পেলাম যা আমাকে…। সৃষ্টিকর্তা লোকটির দেখার শক্তি কেড়ে নিলেও মনের শক্তি কেড়ে নিতে পারেননি। সৃষ্টিকর্তার এই পরাজয়ে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও খুশি হবেন নিশ্চয়।

ট্রেন সমান মমতায় সকলকে তার বুকে আশ্রয় দিয়েছে। ট্রেনের কাছে জাত-ধর্ম ভেদাবেদ নেই। হয়ত নিজের কোন জাত-ধর্ম নেই বলে…! আর আমরা মানুষরা ১০ জন একজায়গায় হলেই একটি শ্রেনী গড়ে তুলি। তাইতো কৌশলে ট্রেনের ভেতরটাকে বিভক্ত করা হয়েছে- ১ম শ্রেনী, ২য় শ্রেনী, ৩য় শ্রেনীতে। দারিদ্র্যকে এত ভয় কিসের! সমাজের সকলে যদি সত্যি সত্যিই চাই তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম দারিদ্র্যকে দেখতে জাদুঘরে যাবে, কোন সন্দেহ নেই তাতে।। কিন্তু দারিদ্র্য আর ধর্ম এই দুটো জিনিস না থাকলে যে ওদের বড় ধরনের সর্বনাশ হয়ে যাবে! মানুষ হয়ে মানুষকে ঠকানোর এর থেকে মস্ত হাতিয়ার যে এখনো আবিষ্কার হয়নি।

পিছনের কামরায় একজন তিলেখাজা বিক্রেতা একটা বাচ্চা মেয়ের পাশে অনেকক্ষণ থেকে ঘুর ঘুর করছে। মেয়েটির বোধহয় তিলেখাজা পছন্দের না। বিক্রেতা আমাদের কামরাই চলে আসলো। নেবেন ভাই, কুষ্টিয়ার বিখ্যাত তিলেখাজা- লোকটি গড় গড় করে বেশ কয়েকবার বলল। আমি লোকটাকে চিনি, বাড়ি ফরিদপুরে। তিলেখাজাও ওখানকার। আমার চোখে চোখ পড়তেই দ্রুত অন্য বগিতে চলে গেল। একবার এক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পৃথিবীর কোন জিনিসটা আপনার দেখতে সবথেকে বেশি ভালো লাগে? অপরাধ ধরা পড়ার পর একজন অপরাধীর চেহারা- উত্তরে ভদ্রলোকটি বলেছিলেন।
ট্রেনটি এইমাত্র পাকশি ব্রিজের ওপর পা রাখলো। ট্রেনের ক্ষেত্রে পা না বলে চাকা বলাই ভালো। তবে আজকে এ Personification-টা বেশ গুরুত্ব বহন করে, অন্তত আমার কাছে। এখন বর্ষাকাল। নদীর ভরা যৌবন উতলে পড়ছে। প্রকৃতিকে যারা ভোগ করতে জানে তাদের কাছে এ এক অসম্ভব শুভ সময়। ওয়ার্ডওয়ার্থ যদি আজ ট্রেনে থাকতেন আমি নিশ্চিৎ করে বলতে পারি এখনই জন্ম হয়ে যেত বেশ কিছু কবিতার। আমার এই মুহূর্তে ইচ্ছে করছে নদীর বুকে লাফিয়ে পড়ি। প্রকৃতির কাছে এর থেকে সুথের আত্মসমর্পণ আর হতে পারে না! উঁচুতে উঠেলেই মানুষের মনে একধরনের লাফ দেয়ার প্রবণতা কাজ করে। দর্শনের ভাষায় একে বলা হয়- Antipathitic-Sympathy, Sympathetic-Antipathy। শেষ পর্যন্ত লাফ আর দেয়া হল না। ট্রেন এখন স্থলদেশে।এখানে লাফ দেওয়ার মাঝে কোন রোমান্টিকতা নেই। মাঝখান থেকে শুধু শুধু দেহের হাড়গোড় গুলো হারানো। ট্রেন এখন ঈশ্বরদীর খুব কাছাকাছি। ওখানে গিয়ে ট্রেনটি কিছুটা সময় জিরিয়ে নেবে। সেই সাথে আমি চা গেলার কাজটি সেরে নেবো। চা খেলে নাকি বুদ্ধি খোলে-এই কথাটি কবে যেন শুনেছিলাম! কথাটি শোনার পর থেকে চা পান করার পর নিজেকে বেশ বুদ্ধিমান মনে হয়।

কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহী অভিমুখে ছেড়ে যাবে। আমার সামনে বসা জুটি’টা এখন বাদাম খাচ্ছে। আমার দূর সম্পর্কের এক মামা বাদামকে বলতেন প্রেমফল; এদের দু’জনার খাওয়ার ভঙ্গিমা দেখে আজ তার সত্যতা মিললো। মহিলাটি আমার দিকে বাদামের ঠোঙাটি এগিয়ে ধরে বললেন, নেন ভাই বাদাম খান। আমি বিনয়ের সাথে প্রত্যাক্ষান করতে গেলে পাশের জনটি বলল, আপনার আপা এত করে যখন বলছে নেন না। কয়েকটা বাদাম ঠোঙা থেকে উঠিয়ে নিলাম। না এরা বোধহয় বিবাহিত না। বিবাহিত হলে লোকটি ‘আপনার আপা’ না বলে বলত ‘আপনার ভাবী’; এক্ষেত্রে সচরাচর এমনটিই ঘটে। এখন মনে হচ্ছে আমার দ্বিতীয় ধারণাটাই ঠিক।

একটা অল্প বয়স্কা মেয়েকে কয়েকজন ধরে আমাদের বগিতে উঠালো। মেয়েটি চিৎকার দিয়ে, বুক চাপড়িয়ে কাঁদছে। কান্নার ভাষা বোঝার চেষ্টা করলাম। বিশেষ কিছু বোঝা যাচ্ছে না তবে প্রতিটা বাক্যের আগে অথবা পিছনে মা শব্দটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। মেয়েটির মা মারা গেছে- বিষয়টি বুঝতে বেশি সময় লাগেনি। বেশ দুংখের কথা, কিন্তু আমি কেমন জানি একটা স্বস্তি অনুভব করলাম। অনুভবে- যে মারা গেছে সে অন্য কেউ, আমি না! ইভান ঈলিচের মৃত্যুর সংবাদ পড়ে তার বন্ধুদের এমনটি মনে হয়েছিল। মহিলা কাঁদছে বিরতিহীন। আসে পাশের সকলে মেয়েটির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দেখে পাশের মা গোছের মহিলাটি মেয়েটির খসে পড়া বুকের কাপড় ঠিক করে দিলেন। আমার যখন মা মারা গিয়েছিল আমিও তখন এমনি করে কেঁদেছিলাম, আমার নানি মারা গেলে মা কেঁদেছিল; এ কান্না বংশ পরম্পরায় হয়ে আসছে- খুবই স্বাভাবিক, খুবই চিরন্তন এই কান্না। একেক কান্নার আপিল আবার একেক রকমের হয়; শিক্ষকদের পিটুনি খেয়ে যে কান্না তাতে থাকে অপমান, বাবার বকুনি খেয়ে যে কান্না তাতে থাকে জেদ, মার বকা খেয়ে যে কান্না তাতে থাকে অভিমান, স্বামীর বকুনি খেয়ে যে কান্না তাতে থাকে জ্বালা, আর আপনজন হারানোর যে কান্না তাতে থাকে বিস্ময়কর আবেদন। যে আবেদনে সাড়া দিতে গিয়ে আমার মতন অনেকের চোখ দিয়েই বৃষ্টি ঝরে পড়ে। সমস্ত ট্রেনটিকে যেন এখন আমাবশ্যা গ্রাস করেছে। সন্ধ্যার সমস্ত নিরাবতাকে ভেদ করে মানব জীবনের সবচেয়ে অসহায়ত্বটি ট্রেনেরে কামরায় কামরায় উত্তর খুঁজে ফিরছে! বিস্বাসীরা অস্থির হয়ে উঠেছে, সংশয়বাদীরা নড়ে চড়ে বসছে, অবিস্বাসীরা চুপচাপ বসে আছে।

ট্রেনটি রাজশাহী বিভাগ ক্রস করে চারুকলা বিভাগের সামনে এসে থামলো; এখানে থামবার করা নই, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটা ছাত্র চ্যেন টেনেছে। আমার পাশের লম্বুটি প্রথমবারের মত রাজশাহী আসছে, ও ভেবেছে এটাই রাজশাহী স্টেশন- আমি খুব মজা পাইছি!

ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ করছে; অল্পক্ষণের মধ্যে আমরা নেমে পড়বো। আমার জায়গায় অন্য কেউ আসবে, অন্যভাবে ভাববে সবকিছু, বাস্তবের চরিত্রগুলোর কোন একটি মুহূর্ত বন্দি থাকবে চিরদিনের জন্য।
মাস কতক পরে কুষ্টিয়ার একটি মার্কেটে আমার সামনে বসা লোকটির সাথে দেখা হয়েছিল। আমি জানতে চেয়েছিলাম, আপা কেমন আছে। ‘ও এখন শশুর বাড়ীতে, ভালো আছে’- লোকটি হাসতে হাসতে বলেছিল। ওনাদের সম্পর্কটা শেষ পর্যন্ত রহস্যই থেকে গেল।

জন্ম সন : ১৯৮৬ জন্মস্থান : মেহেরপুর, বাংলাদেশ। মাতা ও পিতা : মোছাঃ মনোয়ারা বেগম, মোঃ আওলাদ হোসেন। পড়াশুনা : প্রাথমিক, শালিকা সর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং শালিকা মাদ্রাসা। মাধ্যমিক, শালিকা মাধ্য বিদ্যালয় এবং মেহেরপুর জেলা স্কুল। কলেজ, কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন। স্নাতক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি অনার্স, ফাইনাল ইয়ার)। লেখালেখি : গল্প, কবিতা ও নাটক। বই : নৈঃশব্দ ও একটি রাতের গল্প (প্রকাশিতব্য)। সম্পাদক : শাশ্বতিকী। প্রিয় লেখক : শেক্সপিয়ার, হেমিংওয়ে, আলবেয়ার কামু, তলস্তয়, মানিক, তারাশঙ্কর প্রিয় কবি : রবীন্দ্রনাথ, জীবননান্দ দাশ, গ্যেটে, রবার্ট ফ্রস্ট, আয়াপ্পা পানিকর, মাহবুব দারবিশ, এলিয়ট... প্রিয় বই : ডেথ অব ইভান ঈলিচ, মেটামরফোসিস, আউটসাইডার, দি হার্ট অব ডার্কনেস, ম্যাকবেথ, ডলস হাউস, অউডিপাস, ফাউস্ট, লা মিজারেবল, গ্যালিভার ট্রাভেলস, ড. হাইড ও জেকিল, মাদার কারেজ, টেস, এ্যনিমাল ফার্ম, মাদার, মা, লাল সালু, পদ্মা নদীর মাঝি, কবি, পুতুল নাচের ইতিকথা, চিলে কোঠার সেপাই, ভলগা থেকে গঙ্গা, আরন্যক, শেষের কবিতা, আরো অনেক। অবসর : কবিতা পড়া ও সিনেমা দেখা। যোগাযোগ : 01717513023, [email protected]

মন্তব্যসমূহ

  1. অসামাজিক নভেম্বর 24, 2010 at 9:31 অপরাহ্ন - Reply

    আমি মুগ্ধ।যেমন করে ট্রেন তার পথে চলে,সহজ ও সুন্দর তালে,আপনার লেখা ও তেমন।আপনার লেখার সাথে সাথে আমি সেই ট্রেনের একজন হয়ে গিয়েছিলাম।আপনার চোখ কে নিজের মনে হল,আপনার লেখা ও নিজের ভাষা মনে হল।বাংলার রুপ দেখতে যে চায় সে অবশ্যই ট্রেনের কথা বলবে, আর ট্রেনের মানুষদের মাঝেও দেখেছি যে,বাস যাত্রীদের তুলনায় তাদের চরিত্রে সাহিত্যমান বেশি। হয়ত,বড় পরিসর ও একাগ্র গতি একটি কারন। অনেক কথা বলতে ইচ্ছে করছে, মনে হচ্ছে নিজের দৃষ্টির সাথে আপনারটা মিলাই, তবে কিছুটা সংকোচ বোধ করায় এ যাত্রায় তা করছি না তবে আপনার সব লেখায় নজর থাকবে সুযোগ মত মিলিয়ে নেব তখন। চালিয়ে যান, নয়তো বেশ কিছু পাঠক বন্চিত হবে ভাল লেখা না পেয়ে।
    রাতের ট্রেনের একটা জিনিষ হয়ত আপনার চোখে পড়েছে যে,ট্রেনের কামরার লাইট গুলো অসাধারন,চারদিক আলোকিত করে এবং ঘুমানো ও যায় আর তির্যক নয় মোটেও সে কারনে লাইটে সরাসরি তাকানো যায় এবং আমার মাঝে মাঝে মনে হয় ট্রেনের ছাদে একটি পূর্ণ চাঁদ।
    এমন সুন্দর লেখার জন্য আবারো ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নিলাম।
    ভাল থাকবেন।

  2. মোজাফফর মে 20, 2010 at 3:45 অপরাহ্ন - Reply

    আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। চেষ্টা চালিয়ে যাবো

  3. মাহবুব সাঈদ মামুন মে 20, 2010 at 2:27 অপরাহ্ন - Reply

    ওনাদের সম্পর্কটা শেষ পর্যন্ত রহস্যই থেকে গেল।

    UN:F [1.4.6_730]

    আসলেই মানব জীবনের মানব-মানবীর মধ্যে যে কত বৈচিত্রময় সম্পর্কের বাসা বাঁধে—————-আপনার লেখার সাবলীলতা গুনমুগ্ধকর। :rose:

  4. সাইফুল ইসলাম মে 20, 2010 at 1:06 অপরাহ্ন - Reply

    অসাধারন লাগল। সত্যি বলছি আপনার লেখার হাত খুবই চমৎকার।
    আপনি আরও অনেক অনেক লিখুন।

  5. আফরোজা আলম মে 17, 2010 at 12:33 অপরাহ্ন - Reply

    ভালো লাগলো। এমন  লেখা খুব কম দেখি।আপনি আরো লিখুন।
     

মন্তব্য করুন