পলাতক (শেষ পর্ব)

By |2010-05-15T17:13:22+00:00মে 13, 2010|Categories: গল্প, ব্লগাড্ডা|15 Comments

পর্ব -৩
দ্রুত গতিতে গাড়িটা চালিয়ে ঝড়ের বেগে চলে এল খোকা। নাম তার আতাউল হক।
আপন মনেই হাসে, মা বাবা নাম খুঁজে পায়নি।
ছয় সাতটা সন্তান প্রসব করে ক্লান্ত। সে জন্মাবার পর বোধ করি তাই নাম খুঁজেই পায়নি। “খোকা”
আদর করে ডাকতে ডাকতে নামটাই তার এখন এই দাঁড়িয়েছে। যার কোনো মানে হয়না।
আচ্ছা আগেকার দিনে কি ফ্যামিলি প্ল্যানিং ছিলনা ?

কোনো মতে নিজের ঘরে ঢুকতেই দেখে নীরা ঠায় বসে আছে। বাথরুমের দরজা খোলা
রেখেই ছড়ছড়িয়ে প্রাকৃ্তিক কাজ সারলো খোকা। মুখটা অন্য দিকে সরিয়ে নিল নীরা।
-আমি খাবোনা, খেয়ে এসেছি। সম্পূর্ণ দিগম্বর হয়ে সোজা শুয়ে পড়ল।
নীরার অসহ্য লাগে ।মেয়েরা বড় হচ্ছে এতোটুকু যদি কাণ্ডজ্ঞান থাকতো।
দ্রুত একটা প্যান্ট এনে খোকাকে পরাতে পরাতে বলল –
এমন করে শুয়ে পড়লে কেনো? ভালো করে শোও।
ভারি দেহটা টানতে তার কষ্ট হচ্ছে।
-ধ্যাত! শান্তিতে ঘুমাতে দেবেনা তুমি? চড়া গলা খোকার। জানো ঘুমের জন্য কত টাকা
খরচ করি আমি? নেশার চোখ আধবোঁজা প্রায়।
নীরা হতভম্ব !
-তুমি ঘুমাওনা কেন বলতে পার? গলা হিসহিসিয়ে ওঠে খোকার।
–আমায় পাহারা দাও তুমি ?আমি বুঝিনা?
নীরার মাথার শিরাটা হঠাৎ দপ করে ওঠে।
-তুমি কেন পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করছ? সারাদিন একটা খোঁজ নাই। ফোন করলে ধরোনা।
আমারও তো একটা চিন্তা থাকে।
বলে নীরা শুয়ে পড়ল। জানে কথা বললেই কথা বাড়বে। ঘুম না এলেও তাই চোখ বন্ধ করে থাকল।
অথচ এই খোকা এমন ছিলনা। যত রাতেই আসুক নীরাকে প্রগাঢ় আদর করত।

তখন অভাবের সংসার ।দুজনেই কষ্ট করত। ছোট একটুকরা জমি ছিল।একের পর এক ব্যবসায় অবনতি।
খোকা সিধান্ত নিল জায়গাটা বিক্রি করে দেবে। নীরা তা হতে দেয়নি। নিজের গয়না বিক্রি করে
জায়গাটা রক্ষা করে। অল্প পুঁজি নিয়ে আবার দু’জনা মিলে মহাউৎসাহে ব্যবসায় মন দিল।একটার
পরে একটা টেন্ডার ধরে।ছোট খাট,তাতেই ব্যবসার উন্নতি হতে শুরু করে। কত স্মৃতি –।
নীরা সিলিং ফ্যানটার দিকে তাকিয়ে থাকে। তিথী কোল জুড়ে এল। ফুটফুটে মেয়ে।
দেখলে নিজের বাচ্চা মনে হয়না। তাকেই বুকে তুলে নিল নীরা।
পর্দার ফাঁক দিয়ে আকাশটা দেখল।ম্লান জোছনা। কোথায় একটা কুকুর অনবরত কেঁদেই চলেছে।
পাশ ফিরে নীরা ঘুমানোর ব্যর্থ চেষ্টা করল।

পর্ব-৪

খুব ভোরে ঘুম ভাংলো নীরার।বেশ ভোর।ভাবল হেঁটে আসি। রাতের কাপড়টা বদলে নিল।
সালোয়ার কামিজ পরে হাল্কা চপ্পল পায়ে লিফটে দাঁড়াল। কি ভেবে পাশের শিঁড়ি দিয়ে তরতরিয়ে
নামতে লাগল। গেইট পেরাতে গিয়ে থমকে গেলো। নাইট গার্ডটা অকাতরে ঘুমাচ্ছে।
নীরার মৃদু পায়ের শব্দ পেয়ে লাফিয়ে উঠল।
-ম্যাডাম দাঁড়ান তালাটা খুইলা দিতাসি।
গেইট পেরিয়ে নীরা হাঁটতে লাগল। রাস্তায় বের হয়ে দেখে একদল কুকুর জটলা করছে।
হাঁটার গতি একটু দ্রুত করল। রাস্তাটা পেরিয়েই দ্রুত পায়ে চলে এল লেকের কিনারে সরু পায়ে
হাঁটা সুন্দর রাস্তায় ।
বুক ভরে নিঃশ্বাস নিল। সকালটা বড্ড চমৎকার। একটু একটু কুয়াশা পড়া শুরু হয়েছে।
ঘাসের গায়ে বিন্দু বিন্দু শিশির কণা। বেশ কিছু দূর হাঁটার পর মানুষের সমাগম শুরু হল।
বাড়ী ফেরার পথে দেখল ব্যস্ত শহরের যানবাহন চলাচল শুরু হয়ে গেছে। । বাড়ীর কাছাকাছি
এসে হাঁটার গতি কমিয়ে দিল নীরা । মৃদু গতিতে হাঁটতে হাঁটতে রাস্তা পার হয় ।
মানুষজন কেমন ছুটাছুটি শুরু করেছে। যেনো দিকবিদিক জ্ঞান শূন্য। বাস গুলো কে কার আগে যাবে। সবাই এত অস্থির কেন? বুঝে উঠেনা নীরা। যেনো কোথায় কি ঘটে যাচ্ছে।
পারলে দু’পায়ে চাকা লাগিয়ে হাঁটতে শুরু করে লোকজন।
বাড়ী ফিরে আস্তে করে দরজাটা বন্ধ করল। এখনো সবাই ঘুমে অচেতন।
রান্না ঘরে গিয়ে দেখে আমেনা চা বসিয়ে দিয়েছে। কাপড় বদলে দাঁত ব্রাস করে টেবিলে বসে নীরা। নাহ! আজকাল হকার খুব দেরী করে পেপার দিচ্ছে।চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ভাবে।
পেপারটা সকালে না পড়লে পুরো দিনটা আর পড়া হয়না।

আজকে শরীরটা বেশ ঝরঝরে লাগছে। রাতের কথা বেমালুম ভুলে নীরা দরজা খুলে নিজের
শোবার ঘরে ঢোকে। খোকা ঘুমে বিভোর।
সান্তপর্নে দরজাটা ভেজিয়ে তিথীর ঘরে ঢুকে ডাকে,
-তিথী ওঠ, দেরী হয়ে গেল। পর্দাটা সরিয়ে দিল। আলো না পেলে ঘুম ভাংতে চায়না ।
দেখে দু’বোনে গলাগলি করে ঘুমুচ্ছে। নীরার স্নেহের ডাকে ঘুম আরো গাঢ় হয়ে গেল।
সকালে কি নাস্তা হবে। টিফিন কী কী নেবে তিথী আর বিথী, আমেনাকে বলে টুকিটাকি
কাজে ব্যস্ত হয়ে গেল সে। পেপার এখন ও দিয়ে গেলনা। নাহ এটাকে বদলাতে হবে।
ঘর দোর ঠিক ঠাক করে ঘুরে দাঁড়াতেই দেখে খোকা ঘর থেকে ডাইনিং এ এলো।
রাতের রাগের বিন্দুমাত্র লেশ নেই চেহারায়। হাল্কা গলায় বলে –
-চা দিতে বলতো?কাল কতো রাতে এসেছিলাম? নীরা প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকাল।
বুঝল মনে নেই। কিছুই মনে নেই খোকার।
মৃদু হেসে বলল –তুমি বসো আমি চা আনি –
চা আনতে গিয়ে দেখে রান্না ঘরে একফালি রোদ জানালা গলে ভিতরে এসে পড়েছে।
রোদ এত সুন্দর হয়?

পেপার পড়তে পড়তে আড় চোখে একবার নীরার দিকে তাকাল খোকা। কাল রাতের কথা
এক ফোটাও ভুলেনি খোকা। কিন্তু নীরা ভেবেছে সে ভুলে গেছে। কিন্তু খোকা জানে
আজকাল মদ খেলেও সে ভুলেনা কিছুই ভুলে যাবার অভিনয়টা করতে হয়।
-তিথী ঘুম থেকে উঠেছে? খোকা জিজ্ঞেস করে।
–হ্যা এইতো বাথরুমে ঢুকল। তোমার বিথীকে নিয়ে সমস্যা। ঘুম যে তার ভাংতেই চায়না।
খোকা পেপার সরিয়ে বিথীকে ডাকে –ওঠো মা,এতো বেলা পর্যন্ত ঘুমায়না।স্কুল যেতে হবে।
–আমার ড্রেস কই? তিথীর চিৎকার । নীরা ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে যায় । — দেখ তুমি বড়ো হয়েছ
নিজে কলেজের ড্রেসটা ঠিক করে রাখবেনা? ওয়ার্ড্রোব হাঁতড়িয়ে ড্রেস বের করে দ্রুত ইস্তিরি
করে দেয় নীরা। মেয়ে দুটো হয়েছে একদম অলস। তিথী তৈরী হয়ে বেরিয়ে যায়।

খোকার কাপড়জামা সব বের করে দেয় নীরা । তৈরি হচ্ছে খোকা
অফিস যাবে ।
-নীরা তুমি রাত জেগোনা,দেরী হলে ঘুমিয়ে পড়ো। নীরা মুখ তুলতেই আমতা আমতা করে বলে
খোকা –না মানে ইয়ে রাত জেগে কি হবে বল ? আমার রাজ্যের কাজ, সব শেষে ফিরতে দেরী হয়। আয়নায় চুলে চিরুনী বুলাতে বুলাতে আড় চোখে দেখে, নীরা আরো কতগুলো কাপড় ইস্তিরি করেই চলেছে ।
-আমার তো কষ্ট হয়না , তুমি ভাবছো কেন? নীরা আপন মনেই কাপড় ইস্তিরি করে।
এমন কতো রাতই তো জেগেছে। গল্প করতে গিয়ে ভোর হয়ে যেত। তখন অভাব ছিল কিন্তু, এমন ছিলনা খোকা। আজ গাড়ী বাড়ী সবই আছে, কিন্তু কোথায় একটা শূন্যতা অনূভব করে।
কি জানি হয়ত খোকা ব্যস্ত। নিজকে প্রবোধ দিতে বারান্দায় দাঁড়াল।
ফেরিওয়ালার ডাক কানে আসছে। কতগুলো কাকের বিচ্ছিরি আওয়াজে ডেকে উঠে ডানা ঝাপ্টিয়ে
উড়ে গেল। রেইলিঙ্গে ঝুঁকে দেখল একটা মহিলা বাটীতে করে কিছু খাবার তার শিশুর মুখে তুলে
দিচ্ছে। বিথীকে স্কুলে পৌঁছে দিতে গেছে আমেনা। নীরার আজকে কেনো জানিনা বাড়ীতে থাকতেই ভাল লাগছে। দারোয়ানকে দিয়ে কতগুলো রজনীগন্ধার গোছা এনেছিল। একটা একটা করে ফুলদানিতে সাজাতে লাগল।
শুঁকে দেখে একফোঁটাও সুগন্ধ নেই। আজকাল সু-গন্ধি ফুলেও সৌ্রভ থাকেনা।

পর্ব -৫
বেলা বাড়তে থাকে। ঢাকা শহরের ব্যস্ততাও বাড়তে থাকে। গাড়ীতে বসে খোকা ড্রাইভারকে এসিটা বাড়িয়ে দিতে বলে। বাইরে তাকায় সুর্যের যেন রাগী আর তেজী ভাব। মনে আছে খোকার,
বিয়ের পরে প্রথম হানিমুনে গেল।নীরার মতে ওটা গনহানিমুন।কেননা, খোকার এককালীন প্রেমিকা
কাজিন ছিল, ছিল তার বড় বোন আর তার স্বামী। অতএব গনহানিমুন বৈকী ।
খোকার কতগুলো অদ্ভুত আচরণের মাঝে একটা হল এমন একজন মানুষকে মদ্য পান করাবে যে মানুষটা জীবনে মদ চোখে দেখেনি । সেবার কক্সবাজার গেছিল হানিমুনে । এক বিচিত্র খেয়ালে
সে এক গ্লাস জীন আর বিয়ার মিলিয়ে নীরাকে এক রঙ্গীন গ্লাসে দিয়ে বলে ,
–খেয়ে ফেল এক চুমুকে। নীরার কত বয়স হবে? সে যাই হোক নীরা ভাবে। খোকা তাকে
যত্ন করে জুস খাওয়াচ্ছে।ঢকঢক করে খেতে গিয়ে ত্রাহী অবস্থা। পরে নীরার আর কিছু মনে নেই।
কেবল মনে আছে গভীর রাতে হড়হড়িয়ে বমি করছিল আর প্রচন্ড কান্নাকাটি।
সকালে নীরার ঘুম ভাংতেই হোটেলের ড্রেসিং টেবিলে গিয়ে চমকে ওঠে সারা মুখে লাল লাল গোটা।
দৌড়ে খোকার কাছে যায়। দ্রুত ডাক্তার দেখায় খোকা। অবশেষে ডাক্তারের কাছে প্রচন্ড ধমক খেল।

অফিসে এসে দেখে দোতালার বারান্দায় মাঝারি সাইজের পিওনটা ঢুলছে। –কি রে ঘুমাচ্ছিস ? চোখ কচলিয়ে লাফিয়ে উঠল টুল থেকে।
–আসালামুয়ালাইকুম স্যার , হুঁ –জবাব দিয়ে নিজের কামরায় এল খোকা। চেয়ারটায় বসেই দোল
খেল একপাক। রিভলভিং চেয়ারে বসলেই এ কাজটা করে খুব মজা পায় খোকা।ড্রয়ার খুলে
দেখে সিগারেট আছে কিনা। না নেই –
–রহিম –উফফ ছোঁড়াটা কানেও কম শোনে নাকি? কলিং বেলে টিপ দিল।
–জী স্যার, দৌড়ে এল রহিম।
–যা এক প্যাকেট বেনসন আন। আর শোন তুই দাঁত মাজিস না? রহিম পিটপিট করে তাকায়।
-যা যা সামনে থেকে দূর হ –আর হ্যাঁ ভাল দেখে একটা মাজন কিনবি বাকী টাকা দিয়ে।খোকা বলে –জী স্যার – ঘাড় কাত করে একছুটে চলে গেল।
ফাঁকা অফিসটা মুহুর্তে ভরে গেল। ব্যবসার কাজে ডুবে গেল খোকা ।
ফাইলপত্র দেখা শেষ করলো তখন দেখে দুপুর গড়িয়ে বিকেল ছুঁই ছুঁই।

নীরার গান শোনা একটা বলতে গেলে নেশা। কাজ করতে করতে,
বই পড়তে পড়তে গান শোনে। এই গান শোনা নিয়ে কতো কথা। তবু ছাড়তে পারেনা। গান গাইতো এক সময়, এখন সে সব স্মৃতি হয়ে গেছে। আগে খুব অবাক হতো এই পরিবারের এমন
অদ্ভুত আচরণে এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আর এখন তো বলতে গেলে নিজের একলা সংসার।
খোকার কখন ভালো মেজাজ, কখন খারাপ মেজাজ তাল সামলাতে পারেনা মাঝে মাঝে।
দুপুরে খাবারের পর্ব চুকানোর আগে ফোন করেছিল নীরা — “সর্ষে ইলিশ এসে পড়ো” ,
–না খাবার সময় নেই ।ক্ষিধে লাগলে খাবার আনিয়ে নেব। নীরা কিছু না বলে ফোন নামিয়ে রাখল। জানে যে বাইরের খাবার সহ্য হয়না। এই নিয়ে জোর করলে রেগে যাবে।
একটা সুনীলের বই হাতে নিয়ে ডুবে যায় নীরা বইটার মাঝে।

খোকা কিন্তু অফিসে একা বসে। ভাবল বাড়ীতে খেয়ে এলে পারত। কিন্তু বাড়ী গেলে আর আসা হবেনা, ভাতঘুম দিতে ইচ্ছে করবে।অনেক কাজ আছে তার।
মাথাটা একটু খোলাসা করতে চায়। নীরার মুখোমুখি হলেই তার হৃদপিন্ডটা ধড়াস করে ওঠে।
কেনো তা জানেনা। কালকের ঘটনা কিছুতেই ভুলতে পারছেনা। যতোবার ভাবছে নিষিদ্ধ চুম্বকের
মতো আকর্ষন করছে। অথচ কেনো চলে এলো নিজেও জানেনা। পালিয়ে এল খোকা।
প্রথম যৌবনে কৌমার্য হারানোর স্মৃতিটা ভেসে উঠল। আর একটা সোফায় পা তুলে চোখ মুদে
ভাবার চেষ্টা করল।খালার বাড়ির ড্রাইভার তাকে একবার নিয়ে গিয়েছিল এক জায়গায়। খোকার
তখন ড্রাইভিং শেখার প্রবল আকাঙ্খা। ভোর বেলা খালু ঘুমিয়ে থাকতে ড্রাইভারকে নিয়ে লুকিয়ে
গাড়ী চালান শিখছে তখন। খালু ওঠার আগেই গাড়ী গ্যারাজে।

একদিন ড্রাইভার তাকে বলল একজাগায় নিয়ে যাবে। খোকা তখন সবে HSC পড়ছে।
দেখতে শুনতে সুন্দর বলে সব সময় বড়োবড়ো মেয়েরাও তাকে ছোট্ট বেলায় গাল টিপে আদর
করত। খোকার লজ্জা লাগত। ক্লাস এইটে পড়লে কি হবে ,সে যে বুঝতে পারত কি করে বোঝাবে তাদের ?
ক্লাস টেনে পড়ার সময় প্রেমে পড়ল মামাতো বোনের। আহা –কী যে ভালো লাগত।
গ্রামের বাড়ী গেলে কে কার খবর রাখে।তিন বছরের বড়ো বোনটাকে বেশ ভাল লাগত। প্রতিদিন
খেলত। লুকোচুরি। একদিন খুঁজতে গিয়ে হয়রান। সন্ধ্যা ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বিশাল উঠোন।
আকাশের লাল আভা মিলিয়ে কালো ছোপ ফেলতে শুরু করেছে। শেষটা বাকী গোয়াল ঘর।
হঠাৎ খপ করে খোকার হাত ধরল বেলা। তার মামাতো বোন।
–খোকা দ্যাখ বুকে হাত দিয়ে কেমন ধড়ফড় করছে।
–আমি ?খোকা হকচকিয়ে গেল। — দেখনা কেমন বুক কাপছে –বলে হাতটা টেনে নিল।
ভরাট বুকে হাতটা পড়তেই শরীরটা দুলে উঠল খোকার । কোথায় একটা গোপন ভাষা কথা বলে
উঠল। জাপ্টে ধরে মুখটা গুঁজে দিল খোকা । সুর্যের প্রথম কিরণ যেনো তার গায়ে
স্পর্শ করল। বেলাও যেনো অজানা ঘ্রান শুকলো খোকার চুলের । স্পর্শ করল তার মুখটা ।কেমন একটা আছন্ন ভাব। শিরশিরে অনুভুতিটা মাথা থেকে তলপেট ঠেলে নীচে নামতে শুরু করল।
গোয়াল ঘরের খড়ের গাদার কোনা থেকে গরুটা হঠাৎ হাম্বা বলে ডেকে উঠল। মুহুর্তে
স্বর্গীয় অনুভুতিটা কেটে গেল। দু’জনা দু’দিকে ছিটকে চলে গেল।

পর্ব -৬
নীরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে রঙ্গীন মুকুট পরা আকাশ দেখল। ক্রমে তা আবছা হতে হতে কাল বর্ণ ধারণ
করল। ঠায় দাঁড়িয়ে মানুষজন দেখল। দ্রুতগামী গাড়ী গুলোকে গোনার ব্যর্থ চেষ্টা করল।
মেয়ে দুটো (বিথী ,তিথী ) বার ক’এক ঘুরপাক দিয়ে গেল। বাবার আজকে তাদের নিয়ে বেড়াতে যাবার কথা। কী জানি হবে হয়তো।নীরা জানেনা, নীরা আজকাল অনেক কিছুই জানেনা।

খোকা কখন যে ফ্রিজে রাখা তার নিজস্ব সংগ্রহ মদ খাচ্ছে মনে নেই।
পড়ন্ত বিকেলে অতীতের ঝাঁপি, সেই সাথে বোতলের ছিপি খুলে ফেলে। যতো নিষিদ্ধ জিনিষের প্রতি
ছোটো বেলা থেকেই তার প্রচন্ড আগ্রহ। শেষ না দেখে ছাড়বেনা। সিগারেটের ধোঁয়ায় ভরে গেছে অফিস ঘর। দু’জন মানুষ আর দু’টি মেয়ে পাশের ঘরে।খোকা তার কল্পনাকে বিস্মৃত করে।সে খবর দিয়েছিল। মোবাইল নং আর মেয়ের ছবি সবই সে পকেটে নিয়ে এসেছিল। ভাগ্যিস নীরা আজ জামা প্যান্ট ধুতে নেয়নি।খোকার অনেক দিনের ইচ্ছে সমকামী মেয়ে বা পুরুষ দেখে। জানেনা সে কেমন ব্যপারটা।
কেবল ভিডিওতে দেখেছে ।–আরে ধুত! ওটা তো এমনই বানানো। খোকা দেখতে চায় আসল ।
কোথায় পাবে? বিদেশে জানে আছে। মন চায়না বাইরে গিয়ে দেখতে।
–কী ব্যপার তখন থেকে বসে আছেন। আসবেন না ? লোকটার মাথাটার মধ্যে ঘাড় বলে কোনো বস্তু নাই। আস্ত একটা ফুটবল বসানো।
–দেখলাম তো।আহা মরি কী, বলে কাঁধ ঝাঁকায় খোকা।
–আহা দেখুননা একজনতো একদম নতুন ,ছুঁতেই দেয়না।লোকটা বলে ।
-হুঁ মনেমনে বলে হাসল খোকা।এ ধরনের মাল সে আগেও দেখেছে।সতীপনা! যত্ত সব নাটূকে ব্যপার। সিগারেটে একটা রিং বানিয়ে ছুঁড়ে দিল। নিজের খাস কামরায় ঢুকে খোকা। দু’টী মেয়ে।
বেশ পেশাদার মনে হয়।খোকার মোটেই ভালো লাগলোনা । সে চায় প্রথম যৌবনের মতো ভালবাসা
ভালবাসা খেলতে।ধীরে সুস্থ্যে বড়শীতে গাঁথবে। বয়সের কাছে হার মানতে রাজী না সে। দু’হাত দু’দিকে দিয়ে দরজা ধরে দাঁড়ায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলো মেয়েদুটি কে ।

পর্ব -৭

ড্রাইভারের শরীর খারাপ বলে গাড়ী গ্যারাজে রেখে চাবি দিতে এল। নীরা প্রশ্ন করতেই বলল
-ম্যাডাম সার কইসে চইলা যাইতে।শরিলডা বালানা,জ্বর আইসে।
–কিন্তু তোমার স্যার আসবে কি করে?নীরার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ড্রাইভার চাবি রেখে চলে গেল।
রাত গভীর হতেই নীরা ভাবলো –মানুষটা আসবে কি করে? পর পর কয়েকবার এক্সিডেন্টের পরে নীরার মন অজানা আশঙ্কা করে। কয়েকবার ফোন করে চেষ্টা করল। কেউ ধরলনা ।শেষবার
খোকাকে পেল ।খোকার জড়ানো কন্ঠ। তার মানে? নীরা বুঝে গেল । দ্রুত ভেবে নিল ক’দিন ধরেই খাচ্ছে।
গভীর হতে চলল রাত।নীরা একবার চাবি’টা নিয়ে ভাবল নিজেই গাড়ী নিয়ে যাবে। খোকার কয়েকবার দুর্ঘটনার পরে গাড়ী চালানোটা সে শিখে নিয়েছে। কেন জানিনা নীরার ভালো লাগছেনা। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ী চালাতে গিয়ে খোকা দু’দুবার পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল।
খোকার এক ঘনিষ্ট বন্ধুকে ফোন করে নীরা কাপড় পরে বের হয়ে গেল। বন্ধু জানাল তার গাড়ী বের করে আসতে আসতে কম পক্ষে ঘন্টাখানেক লাগবে।
রিকশায় উঠে নীরা হুড তুলে দিলো। আহা বেচারা কি নির্যাতন করে নিজের শরীরকে।মনে মনে ভেবে খোকার জন্য মনটা হা-হাকার করে উঠে। সরু পায়ের রিকসাওয়ালা প্রাণপনে টেনে নিয়ে চলে
রিকসাকে।
অফিসের নীচে পৌছে ভাড়াটা চুকিয়ে পা বাড়ালো দোতালায় ।জানে নীরা এ সময় খোকা কোন ঘরে থাকবে। রেস্ট রুমেই বিশ্রাম নেয়।জানে নীরা।বন্ধ দরজা ধাক্কা দিতেই খুলে গেল।
নীরা যা দেখল স্থবির হয়ে গেল। মনে হল তার পা দু’টো আটকে গেছে।
একটা মেয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে।উপুড় হয়ে খোকা।তার শরীরটা মেয়েটার উপরে। মেয়েটিকে দলিত মথিত করছে। নীরার মনে হল হয়তো সে ভুল জাগায় এসেছে।এতো তাদের অফিস না।
মাথাটা কেমন ফাঁকা মনে হচ্ছে। বিস্ফারিত,স্তম্ভিত নীরা! কানের মাঝে মনে হচ্ছে ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকছে। । কয়েকটা জন্তুর তাড়া খেয়ে যেনো নিজকে ফিরে পায়।
একটা অস্ফুট শব্দে চমকে ওঠে খোকা।
এক লাফে উঠে দু’হাতে মুখ ঢাকে। নীরা দেখে মেয়েটা দ্রুত কাপড় ঠিক করতে ব্যস্ত।
নীরা পাগলের মতো চিৎকার করে উঠে।খোকা এসে দ্রুত নীরার মুখ চেপে ধরে।খোকার হাতের
স্পর্শে ছিটকে যায় নীরা,
-আমাকে ছোঁবেনা –
–প্লিস শোনো – খোকা ব্যকুল ভাবে বলে –
-আমাকে তুমি ছোঁবেনা। নীরার শরীরটা কাঁপতে থাকে।পড়ন্ত দেহটা পাক খেয়ে দেয়ালের খুঁটিতে বাড়ী খায়। আস্তে জ্ঞান হারায় নীরা।
প্রচন্ড জোরে কে যেনো দরজা ধাক্কাচ্ছে।
খোকা এগিয়ে দ্রুত দরজা খুলে দেয়। সুদীপ।তার বন্ধু।
-এ কী ভাবীকে কি করেছিস তুই ? এক নজরে বুঝে যায়। জলের ঝাপ্টায় জ্ঞান ফিরে আসে নীরার। । সুদীপ নীরাকে ধরে গাড়ীতে তোলে। নীরার দেহে স্পন্দন নাই। কপালটা ফুলে একাকার।
প্রচন্ড রাগ নিয়ে খোকাকে বসতে ইঙ্গিত করে গাড়ীতে সুদীপ।
কখন নিজের ঘরে এলো নীরা জানেনা । তিথী বলে –মম কী হয়েছে তোমার কপালে ?
শিউরে উঠে সে।
-পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছি ।নীরা বলে। শুয়ে পড়ে ।
ঘুমে জাগরণে স্বপ্ন দেখে।উঠে পড়ে।সারা শরীর ঘামে ভেজা। নীরা দেখে একটা সাদা কাপড়ে মোড়ানো মানুষ । নীরা মুখ ফিরিয়ে নেয়।সাদা কাপড়ে মোড়ানো মানুষকে চিনতে চেষ্টা করে, ব্যর্থ হয়। নীরার ভালোবাসার অপমৃত্যু ঘটল আজ।
নীরা পালাতে চায়।ঘুমের মাঝে হচ্ছে কে যেনো তাড়া করছে। নীরা বাঁচতে চায়।
হুমড়ি খেয়ে পড়ে। নীরা জানে এই ঘাতক তাকে সারা জীবন তাড়া করবে। কী করবে নীরা ?
কিছুই জানেনা সে। ধীরে ধীরে অন্ধকারের গভীর অতলে তলিয়ে যায় সে।
—- শেষ —

About the Author:

মুক্তমনা সদস্য এবং সাহিত্যিক।

মন্তব্যসমূহ

  1. দীপেন ভট্টাচার্য মে 14, 2010 at 1:44 অপরাহ্ন - Reply

    আফরোজা আলম,
    অন্য সবার সাথে একমত হয়ে বলি আপনার লেখনী সাবলীল ও স্বচ্ছন্দ গতিময়। ধূমায়িত লৌহবর্ত্ম অনিবার্য পরিণতির দিকে ছুটে গেছে, পড়ে মন খারাপ হলেও তার বাস্তবতাকে অস্বীকার করা যায় না। কেউ কেউ আগে মন্তব্য করেছেন এখানে উপন্যাসের সামগ্রী আছে, ভেবে দেখতে পারেন। আর নিয়তির কাছে তাদের সমর্পণ না করে আপনার নায়িকাদের একটু বলিষ্ঠ চরিত্র দিতে পারেন।

    • আফরোজা আলম মে 14, 2010 at 7:37 অপরাহ্ন - Reply

      @দীপেন ভট্টাচার্য,
      হ্যাঁ,এইকানে দ্বিতীয় খন্ড আছে। পরে তা পোস্ট করব। আপনাকে আমার তরফ থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। 🙂

  2. ব্রাইট স্মাইল্ মে 14, 2010 at 6:56 পূর্বাহ্ন - Reply

    @আফরোজা আলম,

    আপনার গল্প বলার ষ্টাইলটি চমতকার। সাবলীল বর্ণনায় পাঠক ধরে রাখতে সক্ষম। পড়ে ভালো লাগলো।

    • আফরোজা আলম মে 14, 2010 at 8:48 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ব্রাইট স্মাইল্,

      আপনার গল্প বলার ষ্টাইলটি চমতকার। সাবলীল বর্ণনায় পাঠক ধরে রাখতে সক্ষম। পড়ে ভালো লাগলো। ‘

      আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ! 🙂 সাহিত্যের পাঠক মুক্তমনায় কম। (এটা আমার ভুল ধারণাও হতে পারে )

      • প্রদীপ দেব মে 14, 2010 at 4:01 অপরাহ্ন - Reply

        @আফরোজা আলম, সাহিত্যের পাঠক মুক্তমনায় কম – কথাটা মনে হয় ঠিক নয়। সবাই হয়তো মন্তব্য করেন না।

        • ফরিদ আহমেদ মে 14, 2010 at 6:48 অপরাহ্ন - Reply

          @প্রদীপ দেব,

          সেটাই। আর যদিও পাঠক কম থেকেও থাকে তবে যারা সাহিত্য নিয়ে লেখালেখি করেন তাদেরও কিছুটা দায়িত্ব রয়েছে পাঠক তৈরি করার। কাব্যমাধুর্যসম্পন্ন কবিতা, ছিপছিপে তন্বী তরুণীর মত ছড়া, গতিময় গল্প আর উচ্চ মার্গের উপন্যাস দিলে পাঠক তা পড়তে বাধ্য। এর বাইরে সুমধুর সাহিত্য আলোচনাও থাকতে পারে।

          মুক্তমনা শুধু মৃত এক ঈশ্বরকে নিয়ে মাতম করুক সেটা আমি অন্তত চাই না। এর বিস্তৃতি হোক বিশাল বারিধারার মত। সকল স্রোতস্বিনী যেমন সমর্পিত হয় সমুদ্রবক্ষে, মুক্তচিন্তার মনলোভা মাতাল হাওয়াগুলোও তেমন করে এসে মাতিয়ে দিক মুক্তমনাকে।

          • আফরোজা আলম মে 14, 2010 at 7:39 অপরাহ্ন - Reply

            @ফরিদ আহমেদ,

            আপনার কথা মনে রাখলাম।

        • আফরোজা আলম মে 14, 2010 at 7:34 অপরাহ্ন - Reply

          @প্রদীপ দেব,
          আপনার মন্তব্যকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি,
          সাহিত্যের পাঠক মুক্তমনায় কম। (এটা আমার ভুল ধারণাও হতে পারে ) “

          আমি কিন্তু,এই কথাটাও বলেছি । 🙂

      • আকাশ মালিক মে 14, 2010 at 5:09 অপরাহ্ন - Reply

        @আফরোজা আলম,

        সাহিত্যের পাঠক মুক্তমনায় কম।

        হতে পারে, তবে বানান পুলিশের অভাব বোধ হয় নেই। আমিও সেরকমই একজন পুলিশ, যদিও নিজেই ক্রিমিন্যাল। অন্ধ স্তুতিতে বিশ্বাস করিনা বিধায়, সমালোচনার তিক্ত ভাষাকে সাদরে গ্রহন করি। এতেই আমার মঙ্গল, হয়তো আপনারও। এবার নীচের বাক্যগুলো এডিট করে নিন।

        ড্রাইভারের শরীর খারাপ বলে গাড়ী গ্যারাজে রেখে চাবী দিতে এল।
        ফরিদের অফিসে এসে গাড়ি পার্কিং এ রেখে চাবি দোলাতে দোলাতে—–

        যেনো দিকবিদিক জ্ঞান শুন্য
        খোকার মাথাটা শূণ্যে উড়তে লাগল।

        আয় বোস না, দেখ দেখি। আজাদের ইঙ্গিতপূর্ণ হাঁসি
        থেকে থেকে খিলখিলানো হাসির আওয়াজ।

        সে যে বুঝতে পারত কি করে বোঝাবে তাদের?

        খোকা সিধান্ত নিল জায়গাটা বিক্রি করে দেবে।

        নীরার মুখোমুখি হলেই তার হৃদপিন্ডটা ধড়াস করে ওঠে।
        কী ব্যপার তখন থেকে বসে আছেন।
        সরু পায়ের রিকসাওয়ালা প্রাণপনে টেনে নিয়ে চলে

        আমি বহু বাসনায় প্রাণপণে চাই,
        বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে।
        এ কৃপা কঠোর সঞ্চিত মোর
        জীবন ভ’রে

        • আফরোজা আলম মে 14, 2010 at 7:35 অপরাহ্ন - Reply

          @আকাশ মালিক, ভাই
          আপনাকে আমি বানানের ব্যপারে ভয় পাই। 🙁

  3. আবুল কাশেম মে 14, 2010 at 4:59 পূর্বাহ্ন - Reply

    আফরোজার লেখায় আকর্ষণ আছে।

    লেখাটা আমি বিরতিহীন পড়লাম।

    মনে হয় খোকার মত চরিত্র বিশ্বের সর্বস্থানেই আছে।

    • আফরোজা আলম মে 14, 2010 at 9:19 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আবুল কাশেম, ভাই

      আমি যতোদুর জানি ( অনেকের লেখায় যে বক্তব্য দেখেছি,)আপনি একটানা পড়তে পারেন না,সে ক্ষেত্রে
      আমার লেখা যখন পড়লেন আমার লেখার আরো সমৃদ্ধি বাড়ল। আপনি গুরুজন আপনাকে তাই ধন্যবাদ
      দিয়ে ছোট করার সাহস আমার নেই। কেবল অনুরোধ,মাঝে মধ্যে এতো কঠিন কঠিন প্রবন্ধের ফাঁকে
      সাহিত্য কেও দেখুন। আপনারা না পড়লে উৎসাহ বাড়েনা। 🙂

  4. লাইজু নাহার মে 14, 2010 at 2:32 পূর্বাহ্ন - Reply

    ভাল লাগল!
    জীবন বড় বাস্তব!

    • আফরোজা আলম মে 14, 2010 at 8:40 পূর্বাহ্ন - Reply

      @লাইজু নাহার,
      আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।বিশেষ করে আপনি বেশীর ভাগ লেখারই একনিষ্ঠ পাঠক।এমন কদাচিত দেখা যায়। 🙂

  5. আফরোজা আলম মে 13, 2010 at 8:52 অপরাহ্ন - Reply

    শেষ পর্বটাও দিয়ে দিলাম। এখন পাঠকদের মতামতের অপেক্ষায়। 🙂

মন্তব্য করুন