ঢাকা শিকাগো

 

পর্বঃ দ্বিতীয়ার্ধ

 

 

প্রথমার্ধ

 

শিকাগো শহরে ৯১১ কল করার পর পুলিশ আসার জন্য সর্বোচ্চ সময় ধরা হয়ে থাকে দুই মিনিটঅবশ্য সেটা তারা যাত্রা শুরু করবার পরপ্রথম দিকে এ-তথ্য পেয়ে মনে মনে আপ্লুত হয়ে পড়তামআহা! এ-যেন এক ইউটোপিয়ান রাজ্য, সিস্টেম বলে কিছু যদি থাকে সেতো এখানেইকিন্তু আমি ভুলেই গিয়েছিলাম, ‘চোরের উপর বাটপারিবলে বাংলায় একটা কথা আছেঅপরাধী সবসময় পুলিশের থেকে স্মার্ট হয় -এটা বলতে গেলে অপরাধের নিত্যতা সূত্রশেষদৃশ্য ছাড়া অন্য সব দৃশ্যে দেবতার চেয়ে শয়তান বেশি স্মার্ট, নায়কের চেয়ে ভিলেন বেশিবাংলা সিনেমা, হিন্দি ফিল্ম কিংবা ইংলিশ ম্যুভি যেখানেই দেখি না কেন, ভিলেনের আধিপত্য সবসময়কেবল শেষদৃশ্যে পরিচালক জোর করে ভিলেনকে হারিয়ে দেয় -নায়কের সাথে নায়িকার বিয়ে দেবার জন্যমিলিসেকেন্ডের আর ন্যানোসেকেন্ডের এই যুগে দুই মিনিট যে কতটা বিশাল সময় সেটা অনেক আগেই প্রমাণ করে রেখছেন এখানকারই বিখ্যাতরাশিকাগোর রবিনহুড্‌খ্যাত একসময়কার ব্যাংক ডাকাত জন ডিলিঞ্জারকে একবার আটক হবার পর সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করেন, ‘একটা ব্যাংক ডাকাতি করার জন্য আপনারা কতটুকু সময় নিয়ে থাকেন?’ তখন তার আত্মবিশ্বাসমাখানো বিদ্রূপাত্মক উত্তর ছিল, ‘উমমম্ঠিক এক মিনিট চল্লিশ সেকেন্ডঅতএব দুই মিনিট যে এখানে আপত্তিকর রকমের দেরী হয়ে যাওয়া তাতে আর কোন আপত্তি থাকবার কথা নয়

 

পুলিশ অফিসাররা গাড়ী থেকে নেমে এসে জানতে চাইলো, কেউ একজন পুলিশ কল করেছি কি নাআমি হ্যাঁ বলতেই, কাগজ কলম নিয়ে প্রস্তুতআমার কাছ থেকে ছিনতাই এর সব বর্ণনা শুনলো, বিভিন্ন তথ্য লিখে নিলোতারপর জিজ্ঞেস করলো, ‘ঘটনা ঘটেছে এত আগে, তুমি এতক্ষণ পর পুলিশ কল করলে কেন?’ আমি ভাবলেশহীনভাবে বললাম, ‘আমার ক্লাস ছিলোএরকম একটা উত্তর পাবার জন্য মনে হয় তারা কেউই প্রস্তুত ছিলো নাতাই কিছুক্ষণ আমার মুখের দিকে নির্বাক হয়ে বোকার মত তাকিয়ে থেকে, কি বলবে বুঝতে না পেরে বলে উঠলো, ‘We appreciate Sir.’ তারপর একটা ফর্মে আমাকে একটা রেফারেন্স নাম্বার দেয়া হলো, দেয়া হলো একটা ফোন নাম্বারওবলা হলো, কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যদি এরপরও আমার মনে পড়ে তাহলে যেন তাদের দেয়া ফোন নাম্বারে সাথে সাথে ফোন করে জানিয়ে দেইপরবর্তীতে যেকোনো সময় অপরাধীদের কাউকে দেখলে বা চিনতে পারলে, আমাকে দেয়া রেফারেন্স নাম্বার দিয়ে যেন পুলিশ কল করিআরো বলা হলো, আমার সেল ফোন যেন আমি কাস্টমার সার্ভিসে ফোন করে বন্ধ না করিআমি তথাস্তুবলে তখনকার মত তাদের কাছ থেকে বিদায় নিলাম

 

বাসায় পোঁছতে না পৌঁছতেই আবার পুলিশএবার UIC Police, এরা আমার বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অ্যাট শিকাগোর সমস্ত ক্যাম্পাসে জুড়ে প্রায় ১৫০০ ইমারেজেন্সি বক্সবসানো হয়েছে, যেখান থেকে বাটন প্রেস করলে সাথে সাথে ক্যাম্পাস পুলিশ চলে আসার কথাগত সাত-আট মাসে ক্যাম্পাসে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কম করে হলেও বিশটিকিন্তু কাউকে এরেস্ট করতে পারবার সুসংবাদ শোনার সৌভাগ্য এখনো আমাদের হয়ে উঠেনিপ্রতিবার-ই অপরাধ সংঘটিত হবার পর ক্যাম্পাস পুলিশের কাজ হচ্ছে সবার কাছে একটা করে ই-মেইল পাঠিয়ে দেয়াপ্রায় প্রতিটা ই-মেইলই আবার একই ধরণেরকিছুটা বাংলাদেশে ‘RAB এর সাথে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলেই তিন সন্ত্রাসীর ক্রসফায়ারে মৃত্যুহবার ঘটনার মতসে-রকম ই-মেইলগুলির একটি এখানে তুলে দিলাম    

 

On January 11, at 6:48 p.m., a UIC student was the victim of a strong-arm robbery at 811 S. Wood St., between the Administrative Office Building and the College of Pharmacy. The victim stated that two offenders pushed him to the ground demanding his property.  The victim complied, and the offenders took his property and fled southbound on Wood Street. The victim was not injured.

 

UIC Police offer the following security tips:

 

–be aware of your surroundings

–try to travel in groups when possible, particularly after dark

–use well-lit walkways

–on campus, look for the location of the nearest emergency call box (there are more than 1,500 across campus)

–the emergency number for UIC Police is *-**** or ***-***-****, which should be set on speed-dial on your cell phone

–report crime promptly to police

 

The UICPD/CPD Joint Robbery Task Force will conduct the follow-up investigation.

 

Both offenders are described as black males, 17 to 20 years old, 5-6 to 5-7 in height, 120 to 150 pounds, with light complexions. Both were wearing blue jeans, and one had a black top.

 

Anyone with information is asked to call UIC Police at ***-***-****.

 

 

ক্যাম্পাস পুলিশ সব কিছুর বর্ণনা নিয়ে বাসা থেকে বের হবার কিছুক্ষণ পরেই আবার আসলো শিকাগো পুলিশতারা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে এরেস্ট করেছে, তাই বলতে এসেছে, আমি রাত দশটার দিকে অপরাধী সনাক্ত করার জন্য একবার যদি পুলিশ স্টেশানে যেতে পারি, তাহলে তাদের আনন্দের আর সীমা থাকবে নাআমি একপায়ে খাড়া, বললাম, আমার গাড়ী নেই, তোমরা এসে নিয়ে যেতে হবেতাতে তাদের আপত্তি নেই, যেন তারাই বিপদে পড়েছে

 

এই এরেস্ট হওয়া নিয়ে বাংলাদেশে একটা কাহিনী প্রচলিত আছেকোন এক পুলিশের বড় কর্মকর্তা -অবশ্য বাংলাদেশ পুলিশে কোন ছোট কর্মকর্তা নেই, সেখানে সবাই বড় কর্তা, সূর্যের থেকে বালি গরম টাইপ অবস্থা- কোনো এক অনুষ্ঠান থেকে আসার পর বুঝতে পারেন, তার পকেট থেকে দামী ঘড়িটা চুরি হয়ে গেছেরাগে কাঁপতে কাঁপতে থানায় এসে জুনিয়র অফিসারদের বললেন, ‘যে-করেই হোক চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে আমার ঘড়ি ফেরত চাইনিম্নস্থরা ইয়েস স্যারবলেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে অপারেশানে বেরিয়ে পড়লোওদিকে বড় সাহেব রাতে ঘুমোতে যাবার আগে দেখলেন, ঘড়িটা আসলে চুরি হয়নি, তার কোটের পকেটেই রয়েছে, শাওয়ার নেবার আগে আগে খুলে রেখেছিলেন, পরে হাতে পরতে ভুলে গেছেনতিনি থানায় ফোন করে খবরটা দিতেই, ঘড়ি উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে থাকা অফিসার বললেন, ‘বলেন কি স্যার, আমরা এর মধ্যেই সাতজনকে এরেস্ট করেছি, যার মধ্যে তিনজন স্বীকারও করেছে যে, তারাই আপনার ঘড়িটা চুরি করেছেবস্তুত, আটকের পর বাংলাদেশে এমন পরিমাণ নির্যাতন করা হয় যে, অনেকে মিথ্যা করে হলেও অপরাধ স্বীকার করে তৎক্ষণাৎ কষ্টের হাত থেকে বাঁচতে চায়

 

অবশ্য এই একই কাহিনীর অন্য আরেকটি পুরুষতান্ত্রিক সংস্করণও আছেএক ভদ্রলোকের স্ত্রী রাতে বাড়ি না ফেরায় সকাল বেলা স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন, রাতে কোথায় ছিলোভদ্রমহিলা বললেন, ‘আমার বান্ধবীর বাসায় ছিলামভদ্রলোকের সন্দেহ দূর না হওয়ায় তিনি একে একে তার দশজন ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলেন, রাতে তার স্ত্রী ওদের বাসায় ছিলো কি না? একে একে দশজন বান্ধবীই উত্তরে নালে দিলো, সবচেয়ে ঘনিষ্ঠজন বললো, গত এক সপ্তাহেও তার সাথে তার বান্ধবীর দেখা হয় নিএকইভাবে, ভদ্রলোক একদিন বাড়ী না ফেরায় সকাল বেলা তার স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, রাতে কোথায় ছিলোভদ্রলোকও একইভাবে উত্তর দিলো আমার এক বন্ধুর বাসায় ছিলামসন্দেহের বশবর্তী হয়ে ভদ্রমহিলা তখনি তার ঘনিষ্ঠ দশজন বন্ধুকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলো, রাতে তার হাজব্যান্ড তাদের সাথে ছিলো না কিদেখা গেলো, দশজন বন্ধুর মধ্যে পাঁচজনই বললো, রাতে তার বন্ধু তার সাথেই তার বাসায় ছিলোবাকী পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বললো, তাদের বন্ধু এখনো তাদের বাসায়, তাদের সাথে বসেই চা খাচ্ছে

 

 

সে যাই হোকএদিকে শিকাগো পুলিশ কাদেরকে যে এরেস্ট করে নিয়ে এসেছে সে তারাই জানেরাত সাড়ে দশটার দিকে আমাকে পুলিশ স্টেশানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছেঅফিসার আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি এখানে কি করছো?’ আমি বললাম, ‘পিএইচডি করছিশুনে দুইপয়সার দামও দিলো নামনে হলো, সে মনে মনে বলছে, ‘বোকা কোথাকার, মাথায় তিল পরিমাণ বুদ্ধি থাকলেও কেউ পিএইচডি করেতারপর জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি ঠিক আছো তো? এই ঘটনার কারণে নার্ভাস হয়ে যাচ্ছো না তো?’ সাথে সাথে আমার বাঙ্গালিত্ব জেগে উঠলোআমরাতো আবার সেই জাতি, যারা না-কি জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার হয়ে গেলেও মাথা নোয়ায় নাতাকে শুনিয়ে দিলাম আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, এগুলো আমাদের কাছে ডাল-ভাত, বরং তোমরাই বেশি অস্থির হয়ো নাতারপর সে আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তোমাদের দেশে ছিনতাইকারীরা কি ধরণেরে অস্ত্র ব্যবহার করেএইবার আমার মনে হলো, এটা একটা স্ট্যাটাসের ব্যাপারছুরি-টুরির কথা বলা যাবে নাভালো কোন পিস্তলের নাম না জানায় নিজের উপর একটু রাগই হলোআমি শুধু একে৪৭এর নাম জানিকিন্তু সেটা দিয়েতো আর বলতে পারছি না যে, আমাদের দেশে ছিনতাইকারীরা ছিনতাইয়ের সময় একে৪৭ব্যবহার করেতারপরও বললাম, বেশিরভাগ সময় গান্ব্যবহার করেতার মুখ দেখে এবার মনে হলো, পিএইচডি করছি বলে যে সন্মানটুকু হারিয়েছি এবার তার কিছুটা হলেও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলোঠিক সেই মুহূর্তে বাংলাদেশের সকল ছিনতাইকারীর প্রতি আমি বেশ অনুরক্তই হয়ে পড়লাম

 

পুলিশ স্টেশানে যেতে না যেতেই, আমাকে একটা ফোন সেট দেখিয়ে বলল, ‘দেখতো এটা তোমার কি না?’ আমি কিছুটা অবাকই হলাম, বললাম দেখেতো তাই মনে হচ্ছেতারা বলে, ‘নিশ্চিত করতে হবেমনে হলে হবে নাআমি বলি, ‘তাহলে আমাকে কল করতে হবেকল করতে না করতেই রিং বেজে উঠলোআমি মহা খুশিতারপর তারা আমাকে একটা এমপিথ্রি প্লেয়ার দেখিয়ে বলে, ‘দেখো এটা তোমার না কি?’ আমি বলি, ‘নাতারা বলে, ‘ভালো করে দেখ, নিশ্চিতও করতে হবে নাবললেই হবে তোমারআমরা তোমাকে দিয়ে দিচ্ছিতারপর সবাই একসাথে হাসতে শুরু করলোএখানকার ছিনতাইকারীরা মোবাইল সেট কিছুদূর নিয়েই ফেলে দেয়, কারণ সেটা খুব একটা কাজে লাগাতে পারে নাবরং মোবাইল সিগন্যাল থেকে অনেক সময় তাদের অবস্থান খুঁজে বের করা সম্ভব হয়শিকাগো পুলিশ আমাকে অবশ্য জানায়নি তারা সেটটা কি করে খুঁজে পেয়েছেকিছুক্ষণ পরেই বুঝতে পারি, এখানে খাজনার থেকে বাজনা বেশিএকজন অফিসার এসে হ্যান্ডশেক করে পরিচয় দিলো, সে ডিটেকটিভ অমুক-তমুকবুঝলাম মশা মারতে এরা কামানের ব্যবস্থা করেছেকাগজপত্র প্রস্তুত করতে আরো কিছুক্ষণ সময় লাগবে, তাই ডিটেকটিভ্ শার্লক হোমস্ আমাকে চিপস্ আর কফি ধরিয়ে দিয়ে একটা কক্ষে বসতে বলে কাগজপত্র প্রস্তুত করতে চলে গেলেন

 

তারপর যথারীতি এলো আমার সই করবার পালাকতগুলো জিনিস যে আমি বুঝতে পেরেছি, সেটা স্বীকার করে কাগজে অঙ্গীকার প্রদানএই যেমন, আমি বুঝতে পেরেছি, যাদেরকে আমাকে দেখানো হবে তাদের থেকে একজনকে যে সনাক্ত করতেই হবে, এমন কোন কথা নেইআমি আরো বুঝতে পেরেছি এবং বিশ্বাস করি যে, অফিসারদের কেউ অপরাধী কোনজন সেটা আগ থেকে জানেন নাএই-সেই অনেক কিছু করার পর, রাত একটার সময় আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো মহামান্যদের সামনেআমি গ্লাসের ভিতর দিয়ে চারজনকে একে একে দেখে নিলামখুব কম বয়সী কিছু আফ্রিকান-আমেরিকান বালকতারা ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে আছেকিন্তু নাহ, তাদের কেউই নাআমাকে সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে দেখতে বলা হলোআমি নিশ্চিত করলাম যে, এদের কেউই নয়কিন্তু এখানেই শেষ নয়অফিসার অনেক সুন্দর করে আমাকে বুঝাতে চেষ্টা করলেন যে, আমাকে আরেকটু বসতে হবেকারণ, তাদের কাছে এরেস্ট হওয়া কিশোর অপরাধীও আছেআমার দেয়া বর্ণনা অনুযায়ী একজনের বয়স যেহেতু ১২ বছর, তাই তাকেও সনাক্ত করার চেষ্টা করতে হবেকিন্তু তার বয়স যেহেতু অত্যধিক কম, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী তাকে সরাসরি সন্মুখে গিয়ে সনাক্ত করা যাবে নাআমাকে বসতে হবে, কারণ তারা এখনি ফটো তুলে প্রিন্ট করবে এবং পূর্বের অনেকের ফটোর সাথে মিশিয়ে তার পর আমার হাতে দেয়া হবেযাই হোক ফটো দেখেও আমি সনাক্ত করতে ব্যর্থ হলামএদের কেউই আসলে নাশার্লোক হোমস্ সাহেবের সাথে ধন্যবাদ বিনিময়ের পর অবশেষে রাত দুইটার সময় শিকাগো পুলিশ আমাকে আমার বাসায় নামিয়ে দিয়ে গেলো, আর বলে গেলো, ‘be safe, be careful.’

 

সমস্ত বিকাল-রাত অভিযান চালিয়ে শিকাগো পুলিশ কয়েকশো ডলার সমমানের সময়, প্রযুক্তি ও জনশক্তি ব্যয় করে আমার বিশ ডলারের সেটখানা উদ্ধার করে নিজেদের মান-সন্মান বাঁচালোঘটনার ঠিক একমাস পর, একই ধরণের পোশাক পরে, ঠিক একই তিনজন, একই স্টাইলে হেলে দুলে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে যাচ্ছে, আমার ছিনতাই হওয়ার ঠিক একই জায়গার দিকেসাথে আছে ১২ বছরের সেই ক্ষুদ্র বালকওআমার বাসার জানালায় দাঁড়িয়ে তাদেরকে চিনতে আমরা এতটুকু কষ্টও হয়নিকিন্তু তারা থেমে থাকছে না, হাঁটছেতো হাঁটছেইদ্রুত আমার ঘটনার রেফারেন্স নাম্বার দেখে নিলাম, মোবাইল হাতে নিয়ে ৯১১ চাপলাম, সেন্ড বাটনটা ঠিক আমার বুড়ো আঙ্গুলের নীচেহেঁটে চলে যাচ্ছে তিনজনভাবতে থাকলাম এদেরকে ধরিয়ে দেবার পরবর্তী সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা, ভাবতে থাকলাম শিকাগো পুলিশের দেয়া সম্ভাব্য পুরষ্কারের কথাওআর ভাবতে থাকলাম, এখনি কি আমার সেন্ড বাটনটা প্রেস করা উচিত? 

 

(সমাপ্ত)

 

 

           জন ডিলিঞ্জার  সম্পর্কে ধারণা পাবার জন্য দেখে নিতে পারেন জনি ডেপ্ অভিনীত পাবলিক অ্যানিমিজম্যুভিটি

           শিকাগো পুলিশসম্পর্কে ধারণা পাবার জন্য দেখে নিতে পারেন হ্যারিসন ফোর্ড অভিনীত  দ্যা ফিউজিটিভ্ম্যুভিটি

 

[email protected]

১৮ এপ্রিল ২০১০

 

[57 বার পঠিত]