হজরত আয়েশার (রাঃ) সাথে এক রজনী

আকাশ মালিক

পূর্ব প্রকাশিতের পর-

৫ম পর্ব

– মালিক সাহেব, জেনে শুনে মাঝে মাঝে এমন সব প্রশ্ন করেন, যার উত্তর আমার জানা নেই, অথবা জানা থাকলেও মুখে বলা যায়না।
– আই এম স্যরি আয়েশা। আপনাকে কোন প্রকার বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলার বা কোন ব্যাপারে অভিযুক্ত করার ইচ্ছে আমার মোটেই নেই। আমি বুঝি আপনার আর আমার মাঝে সময়ের ব্যবধান অনেক যুগ। তো, আমি জানতে চেয়েছিলাম, ইসলামের জন্যে এতোসব নিবেদিত প্রাণ, যারা ইসলামের জন্যে নিজের জীবন দিলেন, ঘর-বাড়ি, স্ত্রী-পুত্র ধন-সম্পদ উজাড় করে দিলেন, যারা সারা জীবন কোরান নিজ হাতে লিখে আল্লাহ ও নবীকে সাহায্য করলেন, তাদের কারো নাম কোরানে স্থান পেলোনা আর জয়নবের স্বামী যায়েদের নাম পেলো, কারণটা কী?
– কোরান আমি লিখিও নাই, আমার উপর কোরান নাজিলও হয় নাই। আর যখন নবীজী তাঁর পুত্রবধু জয়নবকে বিয়ে করেন, ইসলাম তখন একটি শক্তিশালী রাস্ট্রের নাম, এক পরিপূর্ণ জীবন বিধান। সে সময় আল্লাহ এবং নবীর কোন সিদ্ধান্তের উপর প্রশ্ন করার সাহস খুব কম মানুষেরই ছিল। সুরা আহ্জাব যার কারণে লেখা হয়েছিল, লাল ওয়ার্নিংটা সেখানেই লেখা আছে- ‘আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন সিদ্ধান্ত নিলে, কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশের ক্ষমতা নেই, যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়। (সুরা আহজাব আয়াত ৩৬)
– আচ্ছা আয়েশা, সুরা আহ্জাবে যাওয়ার আগে প্রাসঙ্গিক হিসেবে একটা প্রশ্ন করি। জয়নবের ঘরে নবীর মধু খাওয়া নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছিল, তার সাথে সুরা আত্ তাহরিমে বর্ণীত ম্যারিয়ার কি কোন সম্পর্ক আছে?
– কোথায় সুরা আহ্জাব আর কোথায় সুরা আত্ তাহরিম, কোথায় জয়নব আর কোথায় ম্যারিয়া। ভেবে আশচর্য হই, আপনারা এসব তাফসীর কোথায় পান? হাফসার বেডরুমে যারা মধু খাওয়ার ঘটনা আবিষ্কার করতে পারেন, তারা বোধ হয় আপনাদের ভাষায় কুড়ালকে খ্যাতা বলেন। এক সময় নবীজী যখন আমার প্রতি বেশী মনযোগী ছিলেন, আমার সতীনগণ তাতে ঈর্ষান্নিত হতেন, জয়নবকে বিয়ে করে নবীজী যখন তার প্রতি বেশী মনযোগী হলেন তখন আমিও ঈর্ষান্নিত হই, ম্যারিয়ার সময়েও একই ঘটনা ঘটে। এ শুধু সতীনদের মধ্যে সাধারণ নারীসুলভ প্রতিক্রীয়া ছাড়া আর কিছু নয়। জয়নবের ঘরে মধু খাওয়া নিয়ে আমরা সকলে মিলে নবীজীর সাথে হাসিঠাট্টা করেছি, এ ঘটনা নবীর সকল স্ত্রীগন জানতেন। কিন্তু হাফসার ঘরে ম্যারিয়ার ঘটনা আমি আর হাফসা ছাড়া কেউ জানতোনা। তুচ্ছ মধু খাওয়া নিয়ে নবীজী কেন কসম খাবেন, আবার কাউকে বলতে নিষেধ করবেন, আবার আল্লাহর কথায় কসম ভাঙ্গবেন, আবার এই কসমের কথা একজনের কাছে কিছু গোপন রাখবেন আর অন্যজনের কাছে কিছু প্রকাশ করবেন? এসমস্ত জগাখিছুড়ি মার্কা তাফসীর আমাদের যুগে ছিলনা। তারপর সুরা আহজাব ও সুরা তাহরিম নাজিলের সময়-কাল, এবং জয়নব ও ম্যারিয়ার বিয়ের সময়-কালের ব্যবধান কতো, তা লক্ষ্য করলেই আসল সত্যটা বেরিয়ে আসে, ঠিক না?
– থ্যাঙ্ক ইউ আয়েশা, বিষয়টা ক্লিয়ার করার জন্যে। তবে আমি একটা কথা এখানে যোগ করি- ম্যারিয়া যখন নবীজীর জীবনে আসেন, ততক্ষণে জয়নবের মধু শুকিয়ে যাওয়ার কথা, কী বলেন?
– তা আপনি বলতে পারেন, আমিতো বলতে পারিনা।
– আচ্ছা, যায়েদ মানুষটা কেমন ছিলেন?
– আয়ানকে তো আপনি নিশ্চয়ই চিনেন?
– আয়ান! কোন্ আয়ান?
– কমলাবতীর মেয়ের স্বামী আয়ান।
– কমলাবতীকেও তো চিনলাম না।
– মথুরা কোথায় জানেন?
– জ্বী জানি।
– বৃন্দাবন?
– কোনদিন যাই নাই তবে নাম শুনেছি।
– শ্রীমতি রাধিকার স্বামীর নাম আয়ান।
– বলেন কি! আয়েশা আপনি ভুল করছেন। আমি জানি গোপীকুলের সুন্দরী রাধা রাণীর স্বামীর নাম ভগবান শ্রী কৃষ্ণ।
– হায়, হায়, হায়, আপনি আসলেই বুদ্ধু।
– তা কি আর বলতে হয় আয়েশা? তো, আয়ান তার সুন্দরী স্ত্রী রাধাকে তালাক দিল কেন?
– বলবোনা। কৃষ্ণলীলা শিখে আসুন তারপর বলবো।
– তো, এখন আমি কার কাছ থেকে জানবো?
– সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করুন।
– দরকার নাই আমার কৃষ্ণলীলা শেখার।
– আচ্ছা মালিক সাহেব, আমরা যে রাতের শেষ প্রহরে চলে এসেছি তা খেয়াল করেছেন? আপনি বলেছিলেন সুরা আহজাব নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবেন। লেটস মুভ অন।
– আচ্ছা ঠিক আছে। এবার বলুন জয়নবকে আপনি কতটুকু চেনেন।
– উবায়দুল্লাহ বিন জাহসের বোন জয়নব বিনতে জাহস সাংঘাতিক অহংকারী মহিলা ছিলেন। উবায়দুল্লাহ তার স্ত্রী উম্মে হাবিবাকে (মুয়াবিয়ার বোন) নিয়ে আবিসিনিয়ায় যাওয়ার পর ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহন করেন এবং সেখানেই মারা যান। এই উম্মে হাবিবাই পরবর্তীতে আমার সতীন হয়ে, একদিন আমার ঘরে আস্ত বকরী রান্না করে পাঠিয়ে দিয়ে ব্যঙ্গ করেছিলেন।
– আচ্ছা আচ্ছা, উম্মে হাবিবা এক সময় জয়নবের ভাবী ছিলেন? নবীর স্ত্রীগণ কি যায়েদকে পুত্রতুল্য মনে করতেন?
– অবশ্যই। সমাজে তার পরিচয় ছিল যায়েদ ইবনে মুহাম্মদ। সুরা আহজাব নাজিল হওয়ার আগ পর্যন্ত সকলেই যাযেদকে, যায়েদ ইবনে মুহাম্মদ বলে ডাকতেন। সুতরাং যায়েদের স্ত্রী জয়নব, নবী পত্নীগণকে মা হিসেবে দেখবেন এটাইতো স্বাভাবিক। জয়নব এ ঘরের বৌ-মা হয়ে এসেছিলেন। বিশেষ করে বিবি খাদিজাকে তো যায়েদ তার আসল মায়ের চেয়েও বেশী সম্মান করতো।
– কি আশচর্য আল্লাহর লীলা খেলা। মা, বৌ-মা, ভাবী-ননদ, সবাই এক ঘরে! জয়নবের আর কোন বোন ছিলেন না?
– ছিল, এক নাগিনী।
– নাগিনী কেন? তার কোন নাম নাই?
– হাম্মানাহ। সব সময় মানুষের গীবত খুঁজে বেড়াতো। হিংসা পরনিন্দা ছাড়া তার আর কোন কাজ ছিলনা। তার নামটা মনে রাখবেন পরে আলোচনায় আসতে পারে। কারণ আমি জানি, আপনি ঘুরে ফিরে একবার ঐ জায়গায় আমাকে নিয়ে যাবেন।
– কোন্ জায়গায়?
– এখন বলবোনা।
– জ্বী আচ্ছা। এবার সুরা আহজাব থেকে জয়নবের সাথে নবীজীর বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ের আয়াতগুলো তেলাওত করে একটু শুনান প্লীজ।
– পড়ুন, (সুরা আহজাব আয়াত ৩৬) আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশের ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়। (আয়াত ৩৭) আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন; তাকে যখন আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর। আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন, আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর যায়েদ যখন জয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সে সব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকে।
– আয়েশা এখানে একটু তাফসিরের প্রয়োজন আছে। নবী একদিকে যায়েদকে বললেন ‘তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর’ অপর দিকে নবী অন্তরে একটা জিনিষ গোপন করছিলেন, যা তিনি লোক নিন্দার ভয়ে প্রকাশ করছিলেন না। আপনি একটু দাঁড়ান আমি তাফসিরে জালালাইন খুলে এই জায়গাটা একটু দেখে নিই। ‘When you said to him, ‘Retain your wife for yourself and fear God’, before divorcing her. But you had hidden in your heart what God was to disclose, [what] He was to manifest of your love for her and of [the fact] that should Zayd part with her you would marry her, and you feared people, would say, ‘He has married his son’s wife!’, though God is worthier that you should fear Him, in all things, so take her in marriage and do not be concerned with what people say. Zayd subsequently divorced her and her [obligatory] waiting period was completed. God, exalted be He, says: So when Zayd had fulfilled whatever need he had of her, We joined her in marriage to you — the Prophet consummated his marriage with her without [the customary] permission [from her legal guardian] and gratified the Muslims with [a feast of] bread and meat — so that there may not be any restriction for the believers in respect of the wives of their adopted sons, when the latter have fulfilled whatever wish they have of them. And God’s commandment, that which He has decreed, is bound to be realised. এখানে তো দেখা যায় জয়নবের প্রতি আগ্রহ বা জয়নবকে পেতে নবীর মনে বাসনা জেগেছিল আয়াত নাজিল হওয়ার আগে। আপনারা সতীনদের কথা না হয় বাদই দিলাম, কম্যুনিটির মানুষ তথা নবীর সাহাবীগণও কি এ বিয়েকে মেনে নিতে রাজী ছিলেন না?
– কানাঘুসা চলছিল সর্বত্রই। কারণ যায়েদ একজন ক্রীতদাস হলেও অত্যন্ত সুপরিচিত ব্যক্তি ছিল। আট বৎসর বয়স থেকে এই পরিবারে বড় হয়েছে। তার মা বাবা যখন তাকে ফেরত নিতে এসেছিলেন তখন নবীজী লোকের সামনে তাকে পালক পুত্র হিসেবে ঘোষণা দিয়ে গ্রহন করেছিলেন।
– তো এতোদিন যাবত মানুষ যে যায়েদকে, যায়েদ ইবনে মুহাম্মদ বলে ডেকে আসছিল, আর যায়েদ যে নবীকে বাবা বলে সম্বোধন করলেন, নবী কি কোনদিন অবজেকশন করেছিলেন?
– না, তবে জয়নবকে বিয়ে করার পরে ওহীর মাধ্যমে তা নিষেধ করে দেয়া হয়, যেমন- ‘মুহাম্মদ তোমাদের কোন ব্যক্তির পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত ‘। (সুরা আহজাব, আয়াত ৪০)
– কিন্তু আয়েশা, এর বহু পরে ম্যারিয়ার গর্ভে যখন মুহাম্মদের পুত্র সন্তান জন্ম নিল, আর জিব্রাইল এসে নবীকে ডাকলেন- ‘ইয়া আবি ইব্রাহীম’ তখন কি নবী জিব্রাইলকে নিষেধ করেছিলেন তাকে ইব্রাহীমের বাবা না ডাকার জন্যে?
– না।
– তাহলে তো জিব্রাইল এবং নবী উভয়েই কোরান অমান্য করলেন। আচ্ছা থাক সে কথা। আয়েশা আমার কাছে সহীহ মুসলিম শরীফ আছে, জয়নবের বিয়ের বিষয়টা আরেকটু ভালভাবে বুঝার জন্যে হজরত আনাসের (রাঃ) বর্ণীত একটা হাদীস আমরা দেখে নিই- When the ‘Iddah (ঋতুস্রাব) of Zainab was over, Allah’s Messenger said to Zaid to make a mention to her about him (Muhammed). Zaid went on until he came to her (Zainab) and she was fermenting her flour. He (Zaid) said: As I saw her I felt in my heart an idea of her greatness so much so that I could not see towards her (simply for the fact) that Allah’s Messenger had made a mention of her. So I turned my back towards her, and I turned upon my heels, and said: Zainab, Allah’s Messenger has sent (me) with a message to you. She said: I do not do anything until I solicit the will of my Lord. So she stood at her place of worship and the (verse of) the Qur’an (pertaining to her marriage) was revealed, and Allah’s Messenger came to her without permission… (Sahih Muslim, Book 008, Number 3330 ) তাহলে কি আমরা বুঝে নিব যে, বিয়ের প্রস্তাবটা আসলে নবীজী যায়েদের মাধ্যমে জয়নবের কাছে পাঠিয়েছিলেন? জয়নব কেন বললেন যে তিনি আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কিছু করেন না? তিনি কি যায়েদকে বিশ্বাস করেন নাই, না কি জয়নব জানতেন, শীঘ্রই আল্লাহর আদেশ হয়ে বিয়ের প্রস্তাব তৈরী হচ্ছে?

– প্রস্তাবটা যখন তৈরী হয় তখন আমি সামনেই ছিলাম। ঘটনাটা তাবারী সাহেব তার বইয়ে লিখে রেখেছেন, দেখুন- “Zayd left her, and she became free. While the Messenger of Allah was talking with Aisha, a fainting overcame him. When he was released from it, he smiled and said, ‘Who will go to Zaynab to tell her the good news? Allah has married her to me.’ Then the Prophet recited [Qur’an 33] to the end of the passage. Aisha said, ‘I became very uneasy because of what we heard about her beauty and another thing, the loftiest of matters, what Allah had done for her by personally giving her to him in marriage. I said that she would boast of it over us.'” (Tabari VIII:3) অহংকারী জয়নব বিয়ের পরে বারবার বলেছেন যে, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের কাছে তার সম্মান নবীপত্নীগণের সকলের চেয়ে বেশী, কারণ একমাত্র তারই বিয়ের প্রস্তাব কোরানে ডকুমেন্টেড করা আছে।

– আয়েশা আপনি যেহেতু তাবারীর নামটা উল্লেখ করেছেন, তিনি এ ব্যাপারে আর কিছু কি লিখে রেখেছেন?
– হ্যাঁ, এই অংশটুকু দেখতে পারেন- “One day Muhammad went out looking for Zayd. Now there was a covering of haircloth over the doorway, but the wind had lifted the covering so that the doorway was uncovered. Zaynab was in her chamber, undressed, and admiration for her entered the heart of the Prophet. After that Allah made her unattractive to Zayd.'” (Tabari VIII:4)

– আয়েশা এবার আমরা জয়নব পর্ব ছেড়ে দিয়ে এই সুরায় বর্ণীত অন্য প্রসঙ্গে চলে যাবো। নিন্দুকেরা বলে, এই সুরায় নাকি আল্লাহ নবীজীকে বিয়ের ফ্রী লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছেন, কোন্ সে আয়াতটা?

– ফ্রী লাইসেন্স কিনা বলতে পারবোনা তবে যে আয়াতটার দিকে ইঙ্গিত করা হয় তা হলো- ‘হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু’। (আয়াত ৫০)

– এতো স্ত্রীগণ মিলেও নবীর অসুবিধা আপনারা দূর করতে পারলেন না, যার জন্য আল্লাহকে বলতে হল- ‘আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে’। আপনারা যদি নবীর চাহিদা মেটাতে না পারেন তাহলে আল্লাহকে তো একটা ব্যবস্থা করতেই হবে, তাই না?

– এই সুরায় এসে আল্লাহ নবী পত্নীগণের প্রতি এক্সট্রীম পজিশনে চলে যান। বেশ কিছু কড়াকড়া আইন আমাদের জন্যে তৈরী হয়। আমাদের অন্তরে কী আছে তা তো আল্লাহ জানেন তাই বলেছেন- ‘আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন। আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে তাতে আপনার কোন দোষ নেই। এতে অধিক সম্ভাবনা আছে যে, তাদের চক্ষু শীতল থাকবে; তারা দুঃখ পাবে না এবং আপনি যা দেন, তাতে তারা সকলেই সন্তুষ্ট থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে, আল্লাহ জানেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল ’। (আয়াত ৫১)

– ‘আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন। আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে তাতে আপনার কোন দোষ নেই, ’ এই যদি হয় আল্লাহর আইন তাহলে আপনাদের আর কী বা করার আছে? আপনাদের কোন চয়েস, সুবিধা অসুবিধা, চাওয়া না চাওয়ার তো দেখি কোন মুল্য নাই। আচ্ছা আয়েশা আমরা সুরা আত তাহরিম আর সুরা আল আহজাব থেকে আলোচনা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পারলাম। এবার আমরা আলোচনা করবো আপনার জন্যে যে সুরাটি নাজিল হয়েছিল অর্থাৎ সুরা আল নূর নিয়ে।

– আমি বলছিলাম না, আপনি একবার ঘুরে ফিরে এই জায়গায় আসবেন?
– আচ্ছা! এই জায়গা কি সেই জায়গা যেখানে জয়নবের বোন হাম্মানার সাক্ষাৎ মিলবে? আয়েশা, আপনি দেখি আমার মাইন্ড রিড করতে জানেন।
– আপনার মাইন্ড রিড করতে সাইকিক হতে হয় না কি?

চলবে-
শেষ পর্ব

১ম পর্ব
২য় পর্ব
৩য় পর্ব
৪র্থ পর্ব

[703 বার পঠিত]