ঢাকা শিকাগো – পর্বঃ প্রথমার্ধ

ঢাকা শিকাগো

পর্বঃ প্রথমার্ধ

 

 

মালিবাগ মোড়ের একটু আগে, ঠিক টুইন টাওয়াররের সামনেভাবুনতো কি হতে পারে? কি আর হবে? এই জায়গাটাতে একটা জিনিসইতো হওয়া সম্ভবজ্যামের মধ্যে আটকা পড়ে রিক্সায় বসে থাকাব্যস্ত ঢাকা শহরের ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত মানুষগুলো ফুটপাতের ভীড় সরিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ঘরে ফেরার চেষ্টা করছেঘর, ছোট্র ঘর; পানি নেই, গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই; তবু কিছু আছে, আছে ভালোবাসা; তার টানেই সব পাখি ঘরে ফিরে, সব মানুষ ঘরে ফিরে, জীবনের সব লেনদেন ফুরিয়ে দিয়ে, মিটিয়ে দিয়েসন্ধ্যার একটু আগে, দিনের আলো তখনো পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নিরাস্তার একপাশ থেকে উস্কোখুস্কো চেহারার কয়েকটা ছেলে থেমে থাকা বাসের সামনে দিয়ে রাস্তার অন্যপাশে যাচ্ছেযেমন করে অন্য আর আট-দশটা মানুষ প্রতিনিয়ত ঢাকা শহরের রাস্তা পার হয়, তারাও তেমন করে পার হয়ে যাচ্ছেআমার রিক্সার সামনে এসে একটা ছেলে পিছন ফিরে আমার দিকে তাকিয়ে দেখলোমুহূর্তের মধ্যে দুইটা ছেলে আমার ঠিক সামনের সিএনজির দুইপাশে উঠে গেলোথেমে আছে সিএনজিপ্রকাশ্যে আরেকজন ধারালো ছুরি নিয়ে ড্রাইভারের পাশের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলোসিএনজির ভিতর থেকে শুধু শুনতে পাচ্ছি, কেউ একজন ভয়ে কাতরাচ্ছে; আতঙ্কের এক তীব্র যাতনা যেন বের হয়ে আসছে মৃত্যুপথযাত্রী কোন মুমূর্ষু রোগীর ভিতর থেকে

 

আমাকে যদি স্বাভাবিক সময়ে জিজ্ঞেস করা হতো, এমন পরিস্থিতিতে আমি কি করবোআমি অবশ্যই বলতাম, যে-করেই হোক সাহায্য করবার চেষ্টা করবো, চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জানাতে চেষ্টা করবকিন্তু বাস্তবতা একদমই ভিন্নকেন জানি নিজেকে খুব অসহায় মনে হলোঘটনার আকস্মিকতায় নিজেও হতবাক হয়ে যাইঅস্ত্রের মুখে হয়তো কোন যুক্তিই কাজ করে নাবুঝতে পারি আমার ভিতরে ভয় কাজ করছেকিছুক্ষণের মধ্যে রিক্সা, বাস, সিএনজি সব কিছুই আগের মত করে চলতে শুরু করলোকেউ জানতেও পারলো না, এই একটু সময়ের মাঝেই কত বড় এক অপরাধ হয়ে গেলোহয়তো একটু পরেই সেই একই ছিনতাইকারীর দল, একই জায়গায় একই ঘটনা ঘটাবে, নয়তো একটু দূরে গিয়ে ঘটাবেঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পরও আমি আমার ভেতরকার অস্বস্তি কাটিয়ে উঠতে পারিনিঅন্যদিকে, ভুক্তভোগীরতো আসল যন্ত্রণা শুরু হয় ঘটনার পরভুক্তভোগী ব্যাক্তি খুব ভালো করেই জানে, কিছুই করবার নেইকোথাও থেকে কোনো সাহায্য পাবার আশা নেইপুলিশি সহায়তা পাবার আশা করাটাতো হাস্যকরতাই ব্যর্থতা আর অসহায়ত্ত্বের গ্লানি বুকে নিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষজন ফিরে যায় ঘরে, ঢাকা শহরের বুকে তাদের ছোট্ট বাসায়পানি ছিল না, গ্যাস ছিল না, বিদ্যুৎ ছিল না; তবু কিছু ছিল, ছিল ভালোবাসাএমন গ্লানি আর কষ্টকর সব অভিজ্ঞতায় তিক্ত হয়ে উঠে সে অবশিষ্ট ভালোবাসাটুকুও

 

১৫ই মার্চ, ২০১০, শিকাগোবিকাল ৫টার ক্লাস করবার জন্য আমি বাসা থেকে বের হয়ে ইউনিভার্সিটি যাচ্ছিঢাকা শহরে সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে আমরা অন্ধকার রাস্তা হয়তো এড়িয়ে চলি, ছিনতাই এর ভয় থাকে বলেকিন্তু গ্যাংস্টারদের জন্য বিশ্ববিখ্যাত বা কুখ্যাত অ্যামেরিকার শিকাগো শহর এখনো পুরোনো অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসতে পারেনিক্রাইম অর্থাৎ অপরাধ সংঘটিত হবার জন্য এখানে দিন-রাত কিংবা আলো-অন্ধকার ব্যাপার নয়সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তার লালসালুতে লিখেছিলেন, ‘শস্যের চেয়ে টুপি বেশিশিকাগো শহরে থাকলে হয়তো তিনি লিখতেন, ‘মানুষের চেয়ে পুলিশ বেশিআমেরিকার অন্য শহরগুলোর মত এখানেও বেশিরভাগ অপরাধের কেন্দ্রবিন্দুতে তথাকথিত ব্ল্যাকমানুষগুলোএখানকার বাঙ্গালিরা এখন আর এদেরকে কালোকিংবা ব্ল্যাকবলে নাকারণ তারা ইতিমধ্যে এই শব্দগুলো শিখে ফেলেছেব্ল্যাক এর বাংলা এখন শ্যামলতাই যখন শুনবেন, ‘শ্যামলকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলো’ –তখন চিন্তিত হবার কোন কারণ নেইকারণ এই শ্যামল আপনার দেশের সহজ সরল ভদ্র ছেলেটি নয়, ব্ল্যাকদের মধ্যকার কোন এক গর্বিত মানুষ

 

গর্বিত ব্ল্যাক বলবার কারণ আছে; কথিত আছে যে, এখানকার প্রতি চার জন ব্ল্যাকএর মাঝে তিনজনই জীবনের কোন না কোন সময় কয়েদখানায় কাটিয়েছেজীবনের কোন একটা সময় কয়েদখানায় না কাটালে সমাজে তাদের মাথা হেঁট হয়ে যায়; অনেকে ঠাট্টা করে বলেন, তারা বিয়ের জন্য পাত্রীও খুঁজে পায় নাকি-জানি, সবাই হয়তো ভাবে, ক্রাইম করতে না পারলে সংসার চালাবে কি করে? তবে যেহেতু একটা বিশেষ বর্ণের মানুষকে নিয়ে লিখছি -যদিও আমি লিখতে চাই বা না চাই এ-সত্য এড়ানো সম্ভব নয় -তাই এখানে আমি শ্রদ্ধার সাথে ব্ল্যাকদের মধ্যকার সে-সমস্ত মানুষের কথা স্মরণ করছি, যাদের কাছে সমস্ত মানবজাতিই ঋণীবস্তুত গায়ের রঙের মাঝে কিংবা একটা বিশেষ গোত্র বা বর্ণ দিয়ে ভালো-খারাপ বিচার করা যায় নাকিন্তু আমি এখানে যা বলছি সেটা কেবলমাত্র পরিসংখ্যানের বিচারে    

 

আমার বাসার পাশের স্কুলের সামনে মহামান্যদের মধ্যকার তিনজন হাঁটাচলা করছেপুলিশকে দেয়া আমার পরবর্তী বর্ণনা অনুযায়ীই আনুমানিক একজনের বয়স ২২, আরেকজনের ১৮ এবং অবিশ্বাস্যভাবে একজনের বয়স ১২১২ বছরের এক বালককে দেখে আমার ভাববার যথেষ্ট কারণ ছিলো যে, এই স্কুলছাত্রকে বাসায় নিয়ে যাবার জন্য তার অভিভাবকদের কেউই এখানে এসেছেকিন্তু সেটা ছিলো একটা বিভ্রান্ত করবার কৌশল মাত্রস্কুলছাত্র হলে শুধুমাত্র একজন স্কুলছাত্র থাকতো নাকিছুক্ষণ গলির মধ্যে হাঁটবার পরই, ১৮ বছরের ছেলেটি পিছন থেকে দৌড়ে এসে আমার সামনেক্ষণিকের জন্য আমার মনে হলো, কি ব্যাপার কানা-মাছি খেলা শুরু হয়ে গেলো না কিকিছু বুঝে উঠবার আগেই তার ছোট্ট পিস্তলটি আমার সামনে ধরে কি সব যে বলতে শুরু করলোএদের ভাষা কিছুটা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিশেষ কিছু এলাকার আঞ্চলিক ভাষার মতওদের মধ্যকার কেউ না হলে বুঝাটা কষ্টকরকিন্তু তাতে কি, বিশ্বজুড়ে অস্ত্রের ভাষাতো একটাই

 

প্রথমে পিস্তলের দিকে তাকিয়ে দেখে নিলাম খেলনা কি-না, বাংলা সিনেমায় অনেক সময় দেখেছি পিস্তলের ট্রিগার চাপ দিলে লাইটারের কাজ করছে, আর মহানায়ক সেটা দিয়ে সিগারেট ধরাচ্ছেইদানিংতো আবার দেখি পিস্তলের ট্রিগার চাপলো, আর সাথে সাথে বের হয়ে আসলো কাঁটালাগা…’, এমপিথ্রি প্লেয়ারকিন্তু সেটা হবার কোন কারণ নেই, এখানে অনলাইনে পিস্তলের বিজ্ঞাপণ দেখেছি, মাত্র ২৫ ডলারঅতএব চালাকি করবার চিন্তা করাটাই বোকামিখুব দ্রুত চিন্তা করে বের করার চেষ্টা করলাম, এমন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ কি করণীয় হতে পারেচিন্তা ভাবনা করে বীরপুরুষের মত তাকে বললাম, ‘সবকিছু দিয়ে দিচ্ছি, একেবারেই কোন সমস্যা নেই, শুধু আমার আইডি গুলো নেবার দরকার নেইবারবার বললাম, ‘তোমার কোন সমস্যাই নেই, আমি কোন ধরণের সমস্যাই সৃষ্টি করবো নাআসলে সত্যিকারের অনুবাদ করলে কোনভাবেই বাক্যটা তোমার কোন সমস্যাই নেইহবে না, বাক্যটা হবে মহারাজ, আপনার কোন সমস্যাই নেই, সব নিয়ে যান, চাইলে আমি আপনার বাসায়ও দিয়ে আসতে পারিঅত্যন্ত উচ্চবংশীয় এবং কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন এই মহান ছিনতাইকারী আমার মানিব্যাগ থেকে খুঁজে শুধু ৩৭ ডলার নিয়ে নিলোসে পকেটে খুঁজে দেখবার আগেই আমি কিন্ডার গার্টেনের বালকের মত আমার নিজের মোবাইল সেট খানা হুজুরের নিকট সমর্পণ করলামমনে পড়ে গেল, আমার পরিচত এক বড়ভাইকে উস্কো খুস্কো চেহারার এক যুবক গ্রিন রোডের ফুটপাথে জিজ্ঞেস করেছিলো, “ভাই, কয়টা বাজে?” সেই বুদ্ধিমান বড়ভাই কথা না বাড়িয়ে, কালক্ষেপণ না করে, নিজ হাতে ঘড়ি খুলে সেই যুবকের হাতে তুলে দিয়ে বলল, ‘ধরেন নিয়ে যানসেই যুবক কিছুই বুঝতে না পেরে শুধু বোকার মত তাকিয়ে থেকেছিলোকারণটা কিছুই নয়; এই বড়ভাই আরো বেশ কয়েকবার ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলো যার প্রতিটা ঘটনার শুরুই, ‘ভাই কয়টা বাজেদিয়ে    

 

বড়জোর ১৮বছরের বালক এমনসব করছে, আমার কিছুটা হাসিই পেলসে আমার সবগুলো পকেট, আমার ব্যাগের ভিতরে সব কিছু খুঁজে দেখলোবাকী দুজন সামনেই আসলো নাপুরো ঘটনার পর, তিনজন মহান ছিনতাইকারী বীরের মত হেঁটে চলে যাচ্ছিলোযাওয়ার সময় আমি শুধু বললাম, ‘সেল ফোনটা তোমাদের কোন কাজে আসবে না, সেটা কি দিয়ে দেয়া যায়বিনিময়ে তারা এফদিয়ে শুরু বিখ্যাত সেই চার অক্ষরের ইংরেজী শব্দটা দিয়ে হরেক রকমের বাক্য রচনা করে আমাকে উপহার দিতে লাগলতারা যাচ্ছে আমি পিছন থেকে তাকিয়ে আছি, কিছুক্ষণ পর দেখলাম ১২ বছরের বালক শুধু পিছনে ফিরে তাকালো, কি ছিলো তার মনে? কি সে ভাবলো? শৈশব পার হতে না হতেই তার ক্রাইমের সাথে জড়িয়ে পড়াঅপরদিকে এই তিনজন জানতেও পারলো না, ঘটনার পর-পরই অনাবিল আনন্দে আমার মন ভরে গেলোকারণ প্রতিদিন আমার ব্যাগে ল্যাপটপ থাকলেও সেদিন বাসা থেকে বের হবার সময় নিব নিব করেও ব্যাগে করে ল্যাপটপটা নেওয়া হয়নিদ্বিতীয়ত, ব্যাগের ভিতরে থাকা ছোট পকেটে সনি ডিজিটাল ক্যামেরা সমস্ত ব্যাগ খুঁজেও মহান অন্ধ ছিনতাইকারী পায় নিঅবধারিতভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপই হচ্ছে ৯১১-এ কল করা, পুলিশি সাহায্য চাওয়া, যেটা বাংলাদেশে নেই

 

আমি হিসেব করে দেখলাম সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ কি করে আরো কমানো যায়পুলিশকে ডাকা মানে আমার ক্লাসটা মিস্ক্লাস মিস্ করা কোন ঘটনা না, বরং আমার অন্যতম প্রিয় শখগুলোর মধ্যে একটিঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি ৬০% সময় ক্লাস করে নষ্ট করেছিএ ভুল যত পারা যায় কম করা উচিৎক্লাসটা আবার আমার পিএইচডি তত্ত্বাবধায়কেরযেই প্রফেসরের তত্ত্বাবধানে আমি পিএইচডি করবার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছিতিনি নিজে পিএইচডি সম্পন্ন করেন আমার জন্মেরও দশ বছর আগেজোর সম্ভাবনা আছে আমার পিএইচডি সম্পন্ন হবার আগেই তিনি ইহলোক ত্যাগ করবেনএখানকার একদল সিনিয়র ঠাট্টা করে বলেন, আমার নাকি পিএইচডির একটা ইন্স্যুরেন্স করিয়ে রাখা উচিৎ, কখন তিনি নাই হয়ে যানকিন্তু অন্যদল আবার মনে করেন যেহেতু চাইনিজ লোকজনের কই মাছের প্রাণ সেহেতু বরং সম্ভাবনা আছে তাঁর আগে আমার ইহলোক ত্যাগ করবারকে কখন ইহলোক ত্যাগ করি, সেই আশংকায় আমার ক্লাসটা মিস্ করতে ইচ্ছে হলো না

 

 

ভদ্রলোক প্রফেসর ক্লাসে এসে বোর্ডের এপাশ থেকে ওপাশে লিখতে শুরু করেন; আমাদের কাজ হচ্ছে সেগুলো খাতায় তুলে খাতা ভরিয়ে ফেলাক্লাস শেষ করে আমার ভিয়েতনামী বন্ধু অ্যান হুই বুই’, এর কাছ থেকে সেল ফোনটা নিলামতারপর ৯১১ কল করে ঘটনার হালকা বর্ণনা আর নিজের অবস্থান জানানোক্ষণিকেই দেখি, বিকালের শান্ত-সৌম্য পরিবেশটা নস্যাৎ করে দিয়ে, লাল-নীল বাতির নাচন তুলে, আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে, চতুর্দিকের সব রাস্তার সমস্ত গাড়ী দাঁড় করিয়ে দিয়ে, তারা আসছে আসছে সমস্ত অ্যামেরিকার বিখ্যাত শিকাগো পুলিশ

 

দ্বিতীয়ার্ধ

(চলবে…)

     

[email protected]

April 09, 2010

 

About the Author:

"যেই-না আকাশ মাথার উপর তোমার রঙিন দেশে, সেই-সে আকাশ আমার দেশেও উড়ছে একই বেশে; এক আকাশের নীচে যখন এই আমাদের ঘর, কেমন করে আমরা বলো হতে পারি পর।"

মন্তব্যসমূহ

  1. রানা জানুয়ারী 5, 2014 at 3:16 পূর্বাহ্ন - Reply

    সুন্দর লেখা, আমাদের এখানে (ফিনল্যান্ডে) এইরকম ঘটনা চিন্তাও করা যায় না।

  2. আদিল মাহমুদ এপ্রিল 15, 2010 at 6:51 অপরাহ্ন - Reply

    পাথর ভাই এর তো দেখি জব্বর অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। আদার সাইড অফ আমেরিকা। অনভিজ্ঞ হিসেবে দারুন হ্যান্ডল করেছেন বলতেই হবে। আমার এতদিনের বিদেশ বাসের অভিজ্ঞতায় এটা এখনো হয়নি। চলাফেরাও গাড়িতে। আমেরিকার কোন মেগা সিটিতে থাকিনি বলেই হয়ত। তবে নিউইয়র্কে/ডেট্রয়েটের লোকদের কাছে এগুলি ডাল ভাত। নিউইয়র্কের কাউলারা নাকি আবার বেজায় রসিক। তারা মাঝে মাঝে ছিনতাঈ ছাড়াও আমাদের মতন ভেতো বাংগালদের জুতমত পেলে আদর করে কিছু চড় থাপ্পড় দেয়। কে জানে, হয়ত অভ্যাস বজায় রাখে, উদ্দেশ্য তো খারাপ কিছু না।

    তবে সবকিছুর পজ়িটিভ দিকও আছে। কাউলা বাহিনীর সাথে ভাব সাব রাখলে নাকি শস্তায় দারুন দাও মারা যায়। ধরেন, সনির হাজার ডলারের ক্যামকর্ডার ২০০ ডলারে পেয়ে গেলেন! মন্দ কি? শুনেছি কাষ্টম অর্ডার ও দিতে পারেন। মানে কোন ব্রান্ডের জিনিস, মডেল এসবও বলে দিলেন আগে থেকেই, তারপর সে অনুযায়ী ন্যায্যমূল্যে জিনিস পেয়ে যাবেন। শিপিং এন্ড হ্যান্ডলিং এ একটু সময় লাগতে পারে এই যা।

    • আতিক রাঢ়ী এপ্রিল 15, 2010 at 7:17 অপরাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,

      পাথর ভাই, নামটা খুব পরিচিত মনে হইতাছে………

      • আদিল মাহমুদ এপ্রিল 15, 2010 at 7:33 অপরাহ্ন - Reply

        @আতিক রাঢ়ী,

        পাথর ভাই এর রহস্য জানেন না? আরে এইটা তো এই ভদ্রলোকের আগের ছদ্মনাম ছিল।

        জানি না মনে আছে কিনা, ৯১ এর দিকে একবার ইত্যাদীতে হানিফ সংকেত পাথর শাহ নামক একজন অলৌকিক ক্ষমতাধর ব্যাক্তির পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। যিনি পাথর আর চা ছাড়া আর কিছুই খেতেন না। কোমরের কোচড়ে কুচি কুচি পাথর থাকত, ক্ষিদে পেলে বা কেউ অনুরোধ করলেই টুপটুপ করে গিলে খেতেন। নিজের চোখে দেখা।

        • আতিক রাঢ়ী এপ্রিল 15, 2010 at 10:56 অপরাহ্ন - Reply

          @আদিল মাহমুদ,

          ঐযে পেটে বাড়ি দিলে ঝনঝন শব্দ হতো ? উনিতো খুব কামেল আদমি ছিলেন। দেশছাড়ার সাথে সাথে দুবাইতে গিয়ে যেদিন থেকে আস্ত বকরি খাওয়া শুরু করলেন, সেদিনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম উনার কারামত আর বেশিদিন নাই।

      • মইনুল রাজু এপ্রিল 15, 2010 at 10:31 অপরাহ্ন - Reply

        @আতিক রাঢ়ী,

        পরশপাথর নামে লিখতাম। পরে মুক্তমনার পুলিশ ফরিদ ভাইয়ের কাছে সব কিছু স্বীকার করে এখন আসল নামে লিখছি।

        • আতিক রাঢ়ী এপ্রিল 15, 2010 at 10:45 অপরাহ্ন - Reply

          @মইনুল রাজু,

          আকিকার খানাটা পাওনা থাকলো।

    • মইনুল রাজু এপ্রিল 15, 2010 at 10:30 অপরাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,

      🙂 ভালো বুদ্ধি দিয়েছেন। দেখি ওদের সাথে ভাব জমাতে হবে।
      ওরা যাতে রসিকতা করতে না পারে সে-জন্য সবসময় মানিব্যাগে কিছু ডলার ওদের জন্য আলাদা করে রেখে দেই। তারপরও যদি ওরা রসিকতা করবার লোভ সামলাতে না পারে, তাহলেতো আর কিছু করবার নাই।

      ভালো থাকুন।

      • আদিল মাহমুদ এপ্রিল 15, 2010 at 11:48 অপরাহ্ন - Reply

        @মইনুল রাজু,

        পারলে কাউলা এক্সেন্ট রপ্ত করেন। কামো ম্যান (Come on man) এই জাতীয়।

        আমার এক বন্ধু একবার আটলান্টায় ৪ মাস গ্যাস ষ্টেশনে কাজ করার সময় স্থানীয় কাউলাদের সাথে ভাল ভাব হয়েছিল। সে তখনো টের পায় নাই এরা কি চীজ। একবার এক কাউলা এসে তাকে সে সময়ের হাই ফাই একটা ল্যাপ টপ দেখায়, কিনা নাকি? দাম মোটে ৩০০ ডলার, বাজার দাম যেখানে তখন দশগুনের বেশী।

        বন্ধু স্বভাবতই বেশ খুশী। জিজ্ঞাসা করে ওয়ারেন্টি ইনফো কেমন? কাউলা চুপ। এরপর সে আরেকটু ঘাটাঘাটি করে দেখে এমেরিকান এয়ারলাইন্সের সিল মারা নীচে।

        • মইনুল রাজু এপ্রিল 16, 2010 at 4:17 পূর্বাহ্ন - Reply

          @আদিল মাহমুদ,

          ওদের এক্সেন্ট রপ্ত করতে পারলেতো আমি এখানকার সিনেটর-ই হয়ে যেতাম। এদের স্বভাব অদ্ভুত রকমের অস্বাভাবিক। কেনও যে বাচ্চা ছেলেগুলোও পারলে হাঁটুর কাছে বেল্ট লাগিয়ে জিন্স পরতে চায়, সেটাই আমি এখনো বুঝে উঠতে পারছি না। একটা এলাকা ধ্বংস হবার জন্য এরকম একটা গোষ্ঠি থাকলেই যথেষ্ট।

          কিছুদিন আগে দেখলাম রাস্তার মধ্যে টানা-হেঁচড়া করে একটা মেয়ের কাছ থেকে ল্যাপটপ ছিনিয়ে নিল, তবে সেখানে কালোদের সাথে হোয়াইট একটা ছেলেও ছিল। তারপর গাড়িতে করে পালালো। মূলতঃ ইউএসএর ইকনোমি এখন আপত্তিকর রকমের খারাপ। দিন দিন ক্রাইম বেড়েই চলছে।

          • আদিল মাহমুদ এপ্রিল 16, 2010 at 10:23 পূর্বাহ্ন - Reply

            @মইনুল রাজু,

            এইসব কিচ্ছা শুধুই শুনলাম, কয়দিন আগে এসে আপনিও কত কি দেখে ফেললেন, আমি এতদিন থেকেও কিছুই দেখলাম না! দূঃখ করছি ভাববেন না যেন আবার।

            এল কাপনের শহরে থাকেন, সে হিসেবে তো কিছুই দেখেননি। আরো ৮০ বছর আগে এলে টেরটি পেতেন শিকাগো কাহাকে বলে 🙂 ।

            খারাপ অর্থনীতিতে ক্রাইম অবশ্যই বেড়েছে, তবে অর্থনীতির স্বর্ণযুগেও এসব অপরাধের কোনই কমতি আমেরিকায় কোনদিন ছিল না।

  3. পৃথিবী এপ্রিল 13, 2010 at 12:34 অপরাহ্ন - Reply

    আপনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন নাকি? আমি ভেবেছিলাম আন্ডারগ্র্যাডের জন্য ওখানে এপ্লাই করব, এখন মনে হচ্ছে অন্য রাস্তা মাপতে হবে :-/

    • মইনুল রাজু এপ্রিল 13, 2010 at 1:00 অপরাহ্ন - Reply

      @পৃথিবী,

      আমি ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অ্যাট শিকাগোতে (www.uic.edu)।

      নির্দিষ্ট করে অপরাধ নিয়ে লিখছি, তাই আপনার কাছে এরকম মনে হচ্ছে। সব জায়গাতেই কিছু না কিছু অপরাধ হয়ে থাকে। পরিস্থিতি আসলে অতটা খারাপ নয়।

      তাছাড়া, শিকাগো পুলিশের কাহিনীতো এখনো জানলেনই না। পরবর্তী পর্বে পাবেন।

  4. গীতা দাস এপ্রিল 12, 2010 at 10:02 অপরাহ্ন - Reply

    রাজু,

    ক্ষণিকেই দেখি, বিকালের শান্ত-সৌম্য পরিবেশটা নস্যাৎ করে দিয়ে, লাল-নীল বাতির নাচন তুলে, আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে, চতুর্দিকের সব রাস্তার সমস্ত গাড়ী দাঁড় করিয়ে দিয়ে, তারা আসছে …আসছে সমস্ত অ্যামেরিকার বিখ্যাত ‘শিকাগো পুলিশ’।

    কিন্তু বাংলাদেশে আসতো আরেকদল সন্ত্রাসী। পার্থক্যটা এখানেই।
    দুই শহরের তুলনামূলক ঘটনা পড়ে ভাল লাগলো।
    আরও নয়টি লেখা পড়ার আশায় রইলাম।
    রাজু তো আবার সবই দশ পর্বের লিখে।

    • মইনুল রাজু এপ্রিল 12, 2010 at 10:35 অপরাহ্ন - Reply

      @গীতা দাস,

      গীতা’দি,

      আমি সাধারণত খুব কম লিখতে বসি। তাই কখনো লিখলে পর্ব করে লিখতে চেষ্টা করি। তাতে করে মনে হয়, একটা কাজ বাকী আছে, সেটা শেষ করতে হবে। কিছুটা রেগুলার হওয়া যায়।

      কিন্তু হঠাৎ করে মনে হলো, আমিতো নিজের সাথে চালাকি করছি, এত পর্ব করাও ঠিক না। ইচ্ছে করলেও যেন আর লিখতে না পারি, তাই এবার আগে থেকেই পর্বের নাম দিলাম ‘প্রথমার্ধ’। অতএব, আর একটা পর্ব লিখে ফেললেই আমার দায়িত্ব শেষ। 🙂

      ১৩ই মে বাংলাদেশে যাচ্ছি, তিন মাসের জন্য। ভাবছি ‘পশ্চিম থেকে পূর্ব’ নামের কিছু লিখে আবার সবাইকে অত্যাচার করা শুরু করবো না কি। 🙂

      ভালো থাকবেন।

      • লাইজু নাহার এপ্রিল 13, 2010 at 3:07 পূর্বাহ্ন - Reply

        @মইনুল রাজু,

        লেখাটা ভালো লাগল.
        তবে এসব অবস্থায় কেউ যেন না পরে।
        ইউরোপে এরকম অতো ভাবা যায়না।
        ঢাকায় খুব বেশিদিন থাকিনি।
        তাই ওসব অভিজ্ঞতা নেই।
        এরপর ওদের দেখলে উল্টো রাস্তা দিয়ে সোজা দৌড় দেবেন।
        একবার এক ড্রাগিস্টের পাল্লায় পরেছিলাম।
        সোজা দৌড় লাগিয়েছি।
        ভাল থাকুন।

        • মইনুল রাজু এপ্রিল 13, 2010 at 3:19 পূর্বাহ্ন - Reply

          @লাইজু নাহার,

          উল্টো‌ রাস্তায়ওতো তারা, ওদের ছেড়ে পালানোর উপায় নেই। 🙂

          ইউরোপের কোথায় থাকেন? ঢাকায় বেশিদিন থাকেন নি কেন?
          আমাকে দেখেন, প্রতিদিন সবাই বলছে, বিদ্যুৎ নেই, গরমে সবাই মারা যাচ্ছে, তারপরও আমি পুরো সামার’টা ঢাকায় কাটাতে ছুটে যাচ্ছি। বেঁচে থাকলেই হয়।

          ভালো থাকুন।

          • তানভী এপ্রিল 13, 2010 at 3:35 পূর্বাহ্ন - Reply

            @মইনুল রাজু,
            আপনিও দ্যাশে আইসা নাই নাইই করবেন। দেশের কান্ডকারবার দেইখা এই দেশের কিছুই হইবোনা কয়া কপাল চাপড়াইবেন!! কিন্তু পরে আবার সময় মত চান্স পাইলেই এই পোড়া দেশে আসার জন্যই দৌড় দিবেন!!

            মনে পড়ে গেল, আমার পরিচত এক বড়ভাইকে উস্কো খুস্কো চেহারার এক যুবক গ্রিন রোডের ফুটপাথে জিজ্ঞেস করেছিলো, “ভাই, কয়টা বাজে?” সেই বুদ্ধিমান বড়ভাই কথা না বাড়িয়ে, কালক্ষেপণ না করে, নিজ হাতে ঘড়ি খুলে সেই যুবকের হাতে তুলে দিয়ে বলল, ‘ধরেন নিয়ে যান’। সেই যুবক কিছুই বুঝতে না পেরে শুধু বোকার মত তাকিয়ে থেকেছিলো। কারণটা কিছুই নয়; এই বড়ভাই আরো বেশ কয়েকবার ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলো যার প্রতিটা ঘটনার শুরুই, ‘ভাই কয়টা বাজে’ দিয়ে।

            এই অংশটা পড়ে চেয়ার থেকে পইড়া যাবার দশা হইতে লাগসিল!! :hahahee:

            • মইনুল রাজু এপ্রিল 13, 2010 at 5:43 পূর্বাহ্ন - Reply

              @তানভী,

              আমিতো মাত্র কয়দিন হলো দেশ ছেড়ে আসলাম। দেশে কি আছে কি নেই সবই জানি। সময়ের সাথে সাথে নিজের কি বা কতটুকু পরিবর্তন হয় জানি না। কিন্তু এখন অন্তত এইটুকু বলতে পারি, যত কষ্টেই থাকি না কেন নিজের দেশের থেকে বড় সুখের জায়গা আর কোথাও নেই।

          • লাইজু নাহার এপ্রিল 13, 2010 at 4:02 পূর্বাহ্ন - Reply

            @মইনুল রাজু,

            নেদারল্যান্ডে থাকি।
            উত্তরবঙ্গে বড় হওয়া ওখানেই পড়াশোনা তাই।
            আশা করি ঢাকায় ভাল কাটবে!

      • আফরোজা আলম এপ্রিল 13, 2010 at 4:49 অপরাহ্ন - Reply

        @মইনুল রাজু,

        “পুলিশকে দেয়া আমার পরবর্তী বর্ণনা অনুযায়ীই আনুমানিক একজনের বয়স ২২, আরেকজনের ১৮ এবং অবিশ্বাস্যভাবে একজনের বয়স ১২। ১২ বছরের এক বালককে দেখে আমার ভাববার যথেষ্ট কারণ ছিলো যে, এই স্কুলছাত্রকে বাসায় নিয়ে যাবা”

        মোটেই এরা নিরীহ না, আমার একবার নারায়ণগঞ্জ যাবার পথে ,এমন একি বয়সি ছেলে গাড়ীর কাঁচের ভেতরে (অল্প খোলা ছিল) হাত ঢুকিয়ে আমার ২ টা সোনার চেইন নেবার চেষ্টা করে।আমি হাত চেপে ধরায়, এক দৌড়ে পালিয়ে যায় , এদের বিরাট চক্র থাকে । ছেলেটাকে ধরা গেলেও চেইন পেতাম না ।
        সুন্দর বিষয় নিয়ে লিখেছেন ।

        • মইনুল রাজু এপ্রিল 13, 2010 at 8:26 অপরাহ্ন - Reply

          @আফরোজা আলম,

          ঠিকই বলেছেন, এদের চক্র অনেক বড়। আর চেইন যে পেতেন না সেটাও নিশ্চিত, চোখের পলকে হাওয়া করে দেবে।

          অনেক ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন