নিমজ্জন

By |2010-06-25T20:58:19+00:00এপ্রিল 12, 2010|Categories: গল্প|0 Comments

নিমজ্জন

 

শায়লার দেয়া  আরো একটি একঘেয়ে এবং অর্থহীন ককটেল পার্টির মাঝামাঝি  সময়ে ইফতেখার এবং রাশেদ তাদের ব্যবসার আলোচনা শেষ করার  জন্য সুপ্রশস্ত বারান্দায় চলে এলোতারা দুজনে একসাথে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রিক এন্ড ইলেক্ট্রনিকসের উপর ডিগ্রি নিয়েছেপাশ করার পরে দুজনেই আলাদাভাবে ইলেক্ট্রনিকস জিনিস আমদানী রপ্তানীর ব্যবসায় নেমে পড়েঅসাধারন ব্যবসায়িক বুদ্ধির কারনে অল্প দিনেই সফলতার শীর্ষে চলে গেছে দুজনেছাত্র জীবনে প্রগাঢ় বন্ধুত্ব থাকলেও বর্তমানে ব্যবসার প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারনে বেশ কিছুটা  চিড় ধরেছে সেই সম্পর্কে  

 

ইফতেখারের এই পেন্টহাউজ এপার্টমেন্টটি নিউ ইস্কাটনের অভিজাত এলাকায় অবস্থিতবিশতলার এই বারান্দায় দাড়ালে ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিকের এক বিশাল অংশ  নজরে  চলে আসে

 

গরমের এই রাতে এতো উঁচুতে ঢাকা শহরের কোন দূষণই পৌঁছাতে পারেনিশায়লার লাগানো বারান্দার চারপাশের ছোট্ট  লাইলাকের ঝোপগুলো থেকে বের হয়ে মিষ্টি একটা সুবাস বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে চারিদিকে হুইস্কির গ্লাস হাতে নিয়ে দুজনে বারান্দার রেলিং এর পাশে এসে দাড়ালো

 

শোন”, ইফতেখার  বললো, আমাদের  দুই কোম্পানীকে মার্জ করতেই  হবেব্যবসার খাতিরেই এটা করতে হবে আমাদেরএই সহজ জিনিষটা তুই কেন বুঝতে পারছিস না, রাশেদ

 

কেন বুঝতে পারব নানা বোঝারতো কিছু নেইতুই কি ভাবিস আমি কিছু বুঝি নাজড়ানো গলায় রাশেদ বললোএর মধ্যেই খানিকটা  মাতাল  হয়ে গেছে  সে হাতের গ্লাসটাও ঠিকমতো সামলাতে  পারছে না কিন্ত কথা হচ্ছে যে আমি  তো তোকে  ঘেন্না করি চরমভাবে  ঘেন্না করি তোর সাথে লাভ ভাগাভাগি  করার  কোন ইচ্ছাই যে আমার নেই, শালা

 

আমিও তোকে ঘেন্না করি ইফতেখার  তিক্তস্বরে বললোকিন্তু সেটা নিয়ে চিন্তা না করলেও চলবে ব্যবসার   জন্য ওটা  অপ্রাসঙ্গিক

 

অপ্রাসঙ্গিক? তাই বুঝি?”

 

হ্যাঁ, তুইও তা জানিসচায়না, জাপান, তাইওয়ান, কোরিয়া, ইন্ডিয়া যেভাবে সস্তায় মার্কেটে জিনিস  ছাড়ছে  তাতে এখন ব্যবসায় টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়ছেতা  ছাড়া সরকারী ভর্তুকিও  তুলে নেওয়া হয়েছে এই অবস্থায় একটাই  মাত্র কোম্পানী টিকে  থাকতে  পারবে বাংলাদেশে বুঝতে পারছিস, উজবুক কোথাকার

 

ঠিক  তাই বুকে হাত ঠুকলো রাশেদ এই শর্মারটাই টিকে থাকবে, তোরটা না

 

গাধামি করিস নাযতক্ষন আমি আমার কোম্পানী চালু  রাখছি ততক্ষন তুই লসই খাবি অবশ্য আমারও লস হবে ইফতেখার  তার দুহাত ছড়িয়ে দিয়ে কিছুটা রাগ আর কিছুটা অনুনয়ের সুরে বললো, “দেখ, তোর আর আমার  কোম্পানীত দেশের  সবচেয়ে সেরা  ইঞ্জিনিয়াররা রয়েছেআয় ওদেরকে  একসাথে  জড়ো করিঅপ্রয়োজনীয় লোকজন, যন্ত্রপাতি, জায়গা-জিরাত কমিয়ে ফেলিদেখবি এক বছরের মধ্যেই বিরাট লাভ করতে পারবো

 

বললাম না তোর সাথে লাভ ভাগাভাগি করার কোন ইচ্ছাই নেই আমারআরো জড়ানো স্বরে রাশেদ বলে

 

নেই?” অবাক হয়ে ইফতেখার  কিছুক্ষনের জন্য রাশেদকে পর্যবেক্ষন করলোআমি বুঝতে পারছি না এতে তোর সমস্যাটা কোথায়শায়লাকে ভাগাভাগি  করতেতো তোর কোন সমস্যা দেখছি না

 

এধরনের বিষয়ে যে কথা উঠবে রাশেদ এটা একেবারেই আশা করেনিবিস্ময়ে চমকে উঠলো সেইফতেখারের  দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে গ্লাসে দীর্ঘ চুমুক দিলোইফতেখার  ঠান্ডা চোখে রাশেদের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো 

 

ফালতু প্যাচাল পারিস নাদীর্ঘক্ষন পরে রাশেদ বললো

 

প্যাচাল? ক্যাদরামি করিস নাঝাজের সাথে ইফতেখার বললোতোর আর শায়লার বিষয়টা আমি শুরু  থেকেই  সব জানতাম

 

তুই বানিয়ে বানিয়ে বলছিস এসব

 

ইফতেখার কাধ ঝাকিয়ে নীরব হয়ে গেলোরেলিং এ হেলান দিয়ে আলোকিত ঢাকা শহরের দিকে তাকিয়ে রইলোসে খুব ভাল করেই জানে যে রাশেদ তার দিকে তাকিয়ে আছেমনে মনে হাসলো ইফতেখাররাশেদ চুপ করে থাকার  মত  বান্দা নাবিশেষ করে এরকম বিষয়ে  যে চুপ করে থাকতে পারবে না তা সে ভালো করেই জানে

 

আধ মিনিট যাওয়ার আগেই রাশেদ কথা বলে উঠলো, “ইফতি, তুই যদি শায়লা আর আমার মধ্যে কিছু সন্দেহই করে থাকিস তাহলে আগেই বলিস নাই কেন

 

তার কোন প্রয়োজন আমি দেখি নাইতুই শায়লার প্রথম শিকার না

 

রাশেদ আগুন চোখে ইফতেখারের  দিকে তাকিয়ে বললো, “এটা তোর আরেকটা নোংরা মিথ্যা কথা, শালা

 

না, মিথ্যা না

 

শায়লা ওরকম মেয়েই না

 

শায়লা শুধু ওরকমেরই না, তার চেয়েও খারাপ মেয়েতুই ওকে আমার চেয়ে বেশী চিনিস না

 

আমি তোর কোন কথা বিশ্বাস করি না

 

ঠিক আছে, বিশ্বাস করতে না চাইলে না করিস না

 

এবার নীরবতার পরিমান হলো আরো কমপনেরো সেকেন্ড পরেই রাশেদ বললো, “তুই যা বলছিস তা যদি সত্যিই হয় তাহলে তুই ওকে ডিভোর্স দিচ্ছিস না কেনো?”

 

আমি দিতে চাইলেইতো হবে না  আমাকে ডিভোর্স দেবে নাআমি ওকে অসংখ্যবার বলেছিকিন্তু সে  রাজী নাআমার মনে হয় আমাকে যন্ত্রনা দিয়ে ও সুখ পায়যদিও  শায়লা  সেটা  স্বীকার করে না

 

তুই এমনভাবে বলছিস যেন শায়লা একটা……রাশেদ পুরোটা বাক্য শেষ করলো না

 

শায়লা একটা কি? বল শুনি শায়লা একটা কি

 

রাশেদ উত্তর না দিয়ে মাথা ঝাকালো

 

শোন, শায়লা কি আমি বলছিব্লাক উইডো মাকড়শার  নাম শুনেছিস কখনোমাদী মাকড়শাসেক্সের পর এরা পুরুষ  সঙ্গীকে খেয়ে ফেলেশায়লা  হচ্ছে ওই মাদী মাকড়শাব্লাক উইডো

 

রাশেদ ইফতেখারের দিকে হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার ভাবভঙ্গিই বলে দিচ্ছে যে ইফতেখারের  কথায় তার ভেতরে তোলপাড় চলছে

 

তুই যেহেতু ওর সাথে এখন জড়িয়ে গেছিস  কাজেই এতোদিনে নিশ্চয়ই সম্ভবত বুঝে গেছিস  ও কি রকমকে জানে তুই হয়তো এখন ওকে বাতিলের খাতায় নাম লেখাতে  চাইছিসওর কবল থেকে মুক্ত হতে চাইছিসকিন্তু ও তোকে মুক্তি দেবে নাদেবে কি? নিজে থেকে না ছাড়া পর্যন্ত হাজার চেষ্টা করলেও ওর হাত থেকে নিস্তার নেই তোরইফতেখার বললো

 

রাশেদ কাঁপা কাঁপা হাতে কপালের ঘাম মুছলো

 

মারুফের কথা তোর মনে আছে?”

 

মারুফ? কোন মারুফ? “

 

মারুফ হাসানবছর দুয়েক আগে আমি যে একটা অল্পবয়েসি ইঞ্জিনিয়ার ছেলেকে চাকরি দিয়েছিলামতোর রিকমেন্ডেশনেএকদিন রাতে মাতাল হয়ে একশো কিলোমিটার গতিতে গাড়ী নিয়ে ইলেক্ট্রিকের খাম্বার সাথে  ধাক্কা খেয়ে পটল তুলেছিলোমনে আছে তোর?”

 

মনে হয় কিছুটা মনে পড়ছে

 

তুই কি জানিস কি জন্য মারুফ ওরকম বেহেড মাতাল হয়ে গাড়ী চালাচ্ছিলো

 

তুই কি বলতে চাস ওটা শায়লার জন্য হয়েছে…

 

একেবারে ঠিকঠিক ওই কথাটাই আমি বলতে চাচ্ছিশায়লার আরো অনেক শিকারের একটা শিকার হচ্ছে মারুফ তবে অন্যদের চেয়ে  ছোকরা অনেক বেশি দুর্বল আর দুর্ভাগা এই যা

 

গরমের রাত হওয়া সত্ত্বেও রাশেদের গায়ে  হালকা কাঁপুনি এসে গেলো

 

তুই আমাকে এই সব বলছিস কেন? তুই যদি ভেবে থাকিস এগুলো বললেই আমি  শায়লার কাছ থেকে সরে যাবো তা হলে ভুল করছিস

 

না, তা ভাবছি নাইফতেখার বললোআমি তোকে এগুলো বলছি শুধুমাত্র একটাই কারনেমার্জারআমাদের দুই কোম্পানীর এক হয়ে যাওয়াতুই যে আমার প্রস্তাবে রাজী হচ্ছিস না তা যে শায়লার কারনে সেটা পরিস্কারশায়লা কোন এক অজ্ঞাত কারনে  আমাদের মার্জারের পুরোপুরি বিপক্ষেআমি নিশ্চিত যে সে তোর সাথে এ ব্যাপারে কথা বলেছেএ ছাড়া আমার ধারনা  গোপন প্রেমিকার স্বামীর সাথে পার্টনারশীপের ব্যবসা করার ব্যাপারে তোর খুব একটা উৎসাহ থাকারও কথা না

 

রাশেদ চুপ করে রইলো

 

দেখছিস  ও তোকে কিভাবে অক্টোপাসের মতো বেঁধে ফেলেছে?” ইফতেখার বললো

 

শুধুমাত্র ওর জন্য তোর ব্যবসার লালবাতি ঠেকানোর যে একমাত্র পথ আছে সেটাও তুই ছুড়ে ফেলে দিতে চাচ্ছিস

 

ইফতেখার হঠাৎ করে কথা বলা থামিয়ে দিলচোখের কোন দিয়ে দেখতে পেয়েছে শায়লা এদিকেই এগিয়ে আসছেরাশেদের দিকে তাকিয়ে দেখলো সেও আড়ষ্ঠ হয়ে গেছেনীল রঙ এর শাড়ীর সাথে হাতা কাটা  একটা সাদা ব্লাউজ পরে সারা শরীরে বঙ্গোপসাগরের  ঢেউ তুলে দুজনের মাঝখানে এসে দাড়ালো শায়লাঢেউ খেলানো লালচে চুলগুলো ছড়িয়ে আছে তার নগ্ন কাধেশায়লার অসাধারণ সৌন্দর্য্য দেখে মনে মনে প্রশংসা না করে পারলো না ইফতেখাররাশেদের আর কি দোষএরকম আগুন ঝরানো রূপ যৌবন দেখলে ছেলেরাতো পাগল হবেই

 

কোন ফাকে দুজনে পার্টি থেকে সটকে পড়েছোঠিকই ভেবেছিলাম  বারান্দায় পাওয়া যাবে দুজনকেনিশ্চয়ই দুই কোম্পানী এক করা নিয়ে শলা পরামর্শ হচ্ছে ।” ভ্রু কুচকে শায়লা বললো

 

সেরকম কিছু নারাশেদের সাথে টুকটাক ব্যবসার আলাপ করছি, এই আর কি।” ইফতেখার  হালকা গলায় বললো

 

শায়লা ইফতেখারের কথা কিছু শুনেছে কিনা বোঝা গেলো নাসে তার আগের কথারই জের ধরলো

 

আমি এখনো মনে করি এটা একটা ভুল সিদ্ধান্ততুমি কি আমার সাথে এ ব্যাপারে একমত না, রাশেদ?”

 

আ-আ- আমি ঠিক শিওর না।” শায়লার দিকে না তাকিয়েই রাশেদ বললোশায়লা তার পাশেই বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে দাড়িয়েছেঅস্বস্তি বোধ করছে রাশেদআড়চোখে ইফতেখারের দিকে তাকালোভাবলেশহীন চেহারা করে রেখেছে সে

 

অবশ্যই তুমি শিওরকিন্ত বলতে চাচ্ছো নাতোমাদের দুজনের পার্টনারশিপে ব্যবসা করার মতো সম্পর্ক নেইএকজন আরেকজনকে দুই চোখে দেখতে পারো না তোমরাকিভাবে একসাথে ব্যবসা করবে।” হালকা গলায় রিনরিন করে হাসলো শায়লা

 

শায়লার ঠান্ডা হাসিতে অশুভ একটা কিছু ছিলোঘাড়ের সব লোম খাড়া হয়ে গেলো ইফতেখারেরশক্ত গলায় সে বললো, “মার্জারই একমাত্র সমাধান।”

 

বুদ্ধু কোথাকার।” ধমক দিলো শায়লারাশেদের আরো কাছে ঘেসে দাড়ালো সেতার নগ্ন কাঁধ রাশেদের বাহুতে গিয়ে ঠেকেছে

 

এটাই আমাদের একমাত্র আশা।” ইফতেখার জোর দিয়ে বলার চেষ্টা করলোতবে, এখন সে আর শায়লার সাথে কথা বলছে নারাশেদের সঙ্গে কথা বলছে। ” ব্যবসায় টিকে থাকতে গেলে এটা আমাদের করতেই হবে ।”

 

না।” তীক্ষ্ণস্বরে প্রতিবাদ করলো শায়লা

 

এক মুহুর্তের জন্য সব কিছু নীরব হয়ে গেলোকেউ কোন কথা বলছে নাইফতেখারই প্রথম নৈশব্দ্য ভাঙলোঠান্ডা চোখে ধীর স্বরে রাশেদের দিকে তাকিয়ে বললো “রাশেদ, তুই নিশ্চয়ই বুঝতে পারছিস আমি কি বলছিতাই না?”

 

হ্যাঁ।” বড় একটা নি:শ্বাস ছাড়লো রাশেদ। “বুঝতে পারছি তুই কি বলছিস।”

 

দুই বন্ধু পরস্পরের দিকে নি:শব্দে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষনতারপর একই সাথে দুজনের চোখ চলে গেলো শায়লার দিকেরেলিং এ হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে শায়লা এক হাতে শ্যাম্পেনের গ্লাসহালকা বাতাসে অল্প অল্প করে উড়ছে শায়লার লালচে চুল

 

বিশ তলা থেকে পড়ে শায়লার মৃত্যুকে পুলিশ নিছক দুর্ঘটনা হিসাবেই মেনে নিলোরাশেদ এবং ইফতেখার হুবহু একইভাবে শায়লা কিভাবে রেলিং এ বেশি ঝুকতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলো তার সবিস্তার বর্ননা দিলো পুলিশকেসন্দেহ করার মতো পুলিশের অবশ্য কোন কারণও ছিলো নাপার্টির কোন অতিথিই  যে কিছু দেখেনি বা শোনেনিপার্টিটা যতই একঘেয়ে হোক না কেন, হই হট্টগোলের তো কোন অভাব ছিলো না সেখানে

 

শায়লার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর সাকুরা বারে বসে আছে ইফতেখার ও রাশেদবোতল খুলে প্রথমে রাশেদের গ্লাসে হুইস্কি ঢাললো ইফতেখারতারপর নিজেরটাও ভরে নিলো

 

আমরা সোমবারেই মার্জারের কাজটা সেরে ফেলবোকি বলিস তুই?” সে বললো

 

রাশেদ গম্ভীরভাবে মাথা নাড়লো “শুভস্য শীঘ্রম।”

 

ক্লান্তভাবে হাসলো ইফতেখারহুইস্কির গ্লাস তুলে ধরে চিয়ার্স করলো, “ব্যবসার খাতিরে।”

 

রাশেদ ও তার গ্লাস তুলে ইফতেখারের গ্লাসে ঠুকে দিয়ে পাল্টা চিয়ার্স করলো, “ব্যবসার খাতিরে।”

About the Author:

মন্তব্য করুন