ভুল করে ভুল করা

তথ্যের সাগরে ভাসছি আমরা। টেলিভিশন, পত্রিকা, বই, ব্লগ, ইয়ুটিউব, ইন্টারনেট হাজারো মাধ্যম প্রতি মুহূর্তে আমাদের তথ্য দিয়ে চলছে। কিন্তু এর মধ্যে কোন তথ্যটি সঠিক? কোন তথ্যটি আমরা গ্রহণ করবো? গত কয়েকদিন যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে কয়েকজনের বক্তব্যের পর বাকরুদ্ধতা কাটিয়ে তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে একটা ব্লগ লেখার চিন্তা মাথায় আসলো। এটি যুদ্ধাপরাধী বিষয়ক তথ্যের সঠিকতা কীভাবে নিরুপন হবে তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, মূলত মানুষের বিভিন্ন আজগুবি জিনিসে বিশ্বাস এবং আর অসারতা নিয়ে আলোচনা করা হবে। মনের প্যাঁচটা ধরতে পারলে তথ্যের প্যাঁচ আমাদের মনে গিট্টু লাগাতে পারবেনা, পারবেনা আমাদের অজান্তে মগজ ধোলাই করে দিতে।

বুঝলাম, কিন্তু তোমার কথা বিশ্বাস করবো কোন দুঃখে?

অবশ্যই আমার কথা আপনাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে হবেনা। আমি আপনাকে কিছু কথা বলবো, আপনি সেটা নিজে যাচাই করবেন। আর সবচেয়ে বড় কথা আমি আপনাকে এইটা জিনিসটা ভালো, এইটা জিনিসটা মন্দ এভাবে কোনো জিনিস সম্পর্কে বলবো না। আমি বলবো একটা কাজ বা জিনিস ভালো না মন্দ, একটি তথ্য সঠিক না ভুয়া, সেটা কীভাবে আপনি যাচাই করতে পারবেন সেই প্রক্রিয়ার কথা।

আপনি একটি দাবী করলেন, সেই দাবী আপনি একটি তথ্য দেখে করেছেন। দাবীটি জনসমক্ষে প্রকাশ করার আগে পরীক্ষা করুন আপনার তথ্যসূত্র কতটা নির্ভরযোগ্য

ক্যাডেট কলেজ ব্লগে আদনান তার পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যু নিয়ে লেখা ব্লগে একটি মন্তব্য করেছিল যার প্রধান সূত্র ছিল নয়াদিগন্ত পত্রিকা। এছাড়াও ভারত বন্দনা নামে একটা পোস্ট এসেছিল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর, সেখানকার সকল তথ্যের মূল সূত্র ছিল জামাতি মিডিয়া। ভুল ধরিয়ে দেবার পর লেখক তার অজ্ঞানতা স্বীকার করেছিলন। তিনি বলেছিলেন তিনি ঠিকমতো যাচাই করে দেখেন নি। সুতরাং কিছু বলার আগে আপনার তথ্যসূত্রের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করুন।

প্রতিটি খবরের পরিবেশিত তথ্যে ভুল ভ্রান্তি থাকা স্বাভাবিক। যেহেতু মানুষ মাত্রই ভুল এবং ভুল করার সময় সে বুঝতে পারে না সে ভুল করেছে তাই ভুলগুলো হবে ড়্যান্ডম। কিন্তু যদি কোন খবরে পরিবেশিত তথ্যে ভুলগুলো একই দিকের হয় এবং এই ভুলগুলো যদি একটি নির্দিষ্ট উপসংহারকে জাস্টিফাই করে তাহলে বুঝতে হবে ঘাপলা আছে। নীচের ছবিটি দেখুন।

ভুল

ভুল

এই ধরণের ঘাপলা সমৃদ্ধ তথ্যসূত্র এড়িয়ে চলুন।

কীভাবে বুঝবো এই তথ্যসূত্র ঘাপলা

ইতিহাস দেখুন। অন্যান্য বিষয়গুলোতে তারা একটি নির্দিষ্ট মানসিকতার প্রতিনিধিত্ব করছে কীনা সেটা যাচাই করুন।

প্রথমেই উপসংহারে যাবেন না

আদনানের বক্তব্য এবং বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে নয়াদিগন্তের লিংক ব্যবহারের কারণ নিয়ে আলোচনা করা যাক। পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে আদনান এর একটি বক্তব্য আছে এবং এই বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ও নেটে বিভিন্ন লেখা খুঁজে দেখেছে। এর মধ্যে নয়াদিগন্ত তার মতো করে কথা বলেছে, তাই সে নয়াদিগন্তের রেফারেন্স ব্যবহার করেছে।

খুবই ভুল প্রক্রিয়া। ধরা যাক, একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেদের কমন সেন্সের উপর আস্থা রেখে আমরা একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম। এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সেটা অন্য সবার সামনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য স্বাভাবিকভাবেই প্রাপ্ত ডাটাকে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে পৌছানোর উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় টেম্পারিং করবো, ফলে সিদ্ধান্ত একপেশে হবে। নিজের কমন সেন্সের উপর আমাদের অনেক আস্থা, আমাদের মনে যা হয় সেটাকেই আমরা সাধারণত সত্য বলে ধরে নেই, যা ঠিক নয়। হিটলার নিজের মনকে সত্য বলে ভেবেছিলেন, সে হিসেবে সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষ হত্যা করেছিলেন। সুতরাং কমনসেন্সের উপর থেকে আস্থা কমান। একজন বুদ্ধিমান মানুষ হিসেবে আমরা প্রথমে ডাটা সংগ্রহ করবো, সংগৃহিত ডাটা এনালাইস করবো এবং যে কোন উপসংহারের জন্য প্রস্তুত থাকবো। সেই উপসংহার আমার মনের ধারণার বিরুদ্ধে যেতে পারে কিন্তু যেহেতু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিরুদ্ধমতটাই এসেছে সুতরাং সেটাই সঠিক হবার সম্ভাবনা বেশি।

উপসংহার

উদাহরণ হিসেবে আরও বলা যায় কোপারনিকাসের কথা। তিনি যখন বলেছিলেন পৃথিবী গোল এবং তা সূর্যের চারিদিকে ঘোরে তখন সেটা তৎকালীন কেউ মেনে নেয়নি। কেন নেয়নি? কারণ সূর্যের প্রতিদিন একপাশ থেকে আরেকপাশে ভ্রমন দেখে মানুষের কমন সেন্স বলেছিল, সূর্যই ঘোরে, পৃথিবী নয়। সুতরাং কোপারনিকাস পাগল। পৃথিবীর ঘূর্নন আবিষ্কার করে কোপারনিকাসও মানসিক ভাবে আঘাত পেয়েছিলেন কিন্তু তিনি তার পরীক্ষালব্ধ উপসংহার থেকে সরে আসেন নি।

অপ্রাকৃতিক ব্যাখ্যায় যাবার আগে প্রাকৃতিক ব্যাখ্যা খুঁজুন

বিবর্তনের কারণে আমরা মানুষেরা সবকিছুতে প্যাটার্ন খুঁজে বেড়াই। প্যাটার্ন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ন। আমাদের বাসায় ক্যালেণ্ডারে সৌদিআরবের কোন এক জংগলে কয়েকটি গাছের সারি সম্বলিত ছবি আছে, যেগুলোর ডালপালা সুসজ্জিত ভাবে বিস্তৃত হয়ে লা ইলাহা ইল্লাহ লেখা তৈরী করেছে। আমাদের অনেকের কম্পিউটারেই ইসলামী মিরাকল ফোল্ডার আছে। যেখানে আল্লাহ লেখা মাছের ছবি আছে, আল্লাহ লেখা মাংশের ছবি আছে। পরিচিত এক ভাই একবার হতাশা নিয়ে বলেছিলেন, বাঙালি হইলো মাছের গায়ে আল্লাহ নিজের নাম খোদাই করে দিয়েছেন তার অস্তিত্ব প্রমানের জন্য এটা বিশ্বাস করা জাতি। কথাটা ভুল, সারা দুনিয়ার অসংখ্য মানুষ এগুলো বিশ্বাস করে। তবে তাদের সাথে আমাদের পার্থক্য হলো, তারা দেখে যীশূ খ্রিস্ট ও কুমারী মেরিকে। চিজ কেক থেকে শুরু করে, পাথর, বিল্ডিং নানা জায়গায় তারা যীশুর, মেরির প্রতিকৃতির সন্ধান পেয়েছে। ধর্মকারী সাইটে মেরি, যীশুর ছবিটি দেখুন।

সুতরাং অপ্রাকৃতিকভাবে আল্লাহ, যীশু, মেরী এগুলো খোদাই করেছেন না প্রাকৃতিক ভাবে ফটোশপে তৈরী করা হয়েছে সেটা ভাবুন।

ছবি না। আপনি নিজের চোখে দেখেছেন? তাহলে আমাকেও একদিন দয়া করে দেখাবেন। আপনি কেন দেখেছেন তার প্রাকৃতিক কারণ আপনাকে ব্যাখ্যা করে দেবো।

এক্সট্রাঅর্ডিনারী ক্লেইম রিকয়ারস এক্সট্রাঅর্ডিনারী এভিডেন্স

বিশ্বখ্যাত জ্যোতির্বিদ কার্ল সাগান উপরের বাক্যের জনক। ধরা যাক, দুবাই থেকে বাংলাদেশ আসা এক বিমানের পাইলট রিপোর্ট করলেন, দুবাই থেকে একশ কিলোমিটার দূরে ভয়ংকর ঘূর্নিঝড় হয়েছে। তার এই দাবী আমরা মেনে নিতেই পারি। কিন্তু তিনি যদি বলেন, দুবাই থেকে ঢাকা আসার পথে তিনি একটি ফ্লাইং সসার দেখেছেন তাহলে আমরা বলবো, দারুন। কিন্তু প্রমান কই?

সকল ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করতে হবে এমন নয়

ধরা যাক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান সময়ে জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় কী কী অগ্রগতি হয়েছে তা নিয়ে সেমিনারে বক্তারা বক্তব্য রাখছেন। এখন এই সভার মধ্যে ঢুকে আমি যদি বলি, ট্রটেস্কি নামে এক এলিয়ান বিয়ার জ্বাল দিতে দিতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ফলে কড়াই উত্তপ্ত হয়ে এক মহাবিস্ফোরণ ঘটার মাধ্যমেই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে কেমন হবে? মঞ্চে উপবিষ্ট পদার্থবিদদের কি উচিত হবে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কিত আমার মতামতকে শ্রদ্ধা দেখানো। তাদের তত্ত্বের পাশাপাশি আমারটাও পদার্থবিজ্ঞানে বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা?

আপনি কথা বলতে পারেন। তারমানে এই না, যা ইচ্ছা তাই বলবেন। আপনাকে যুক্তি দিয়ে কথা বলতে হবে।

দুনিয়াবী নিয়ম বিবেচনা করুন

আমি নাইজেরিয়ার ব্যাংক বোকাদিচুর সিইও বরকতুল্লাহ মদন বলছি। আমাদের ব্যাংকের এক ক্লায়েন্ট সম্প্রতি তার একাউণ্টে এক বিলিয়ন ডলার রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার কোন ওয়ারিশ না থাকায় টাকাটি এখন একাউন্টে পড়ে আছে। আমি তাই আপনার সাথে যোগাযোগ করছি, কারণ আমি জানি আপনি বুদ্ধিমান এবং বিশ্বস্ত। আপনি আমাকে একটি এপ্লিকেশন এবং সবকিছু প্রসেসিং করার জন্য ছয় হাজার ডলারের চেক প্রেরণ করলেই আপনার ঠিকানায় এক বিলিয়ন ডলারের ৫০ ভাগ চলে যাবে।

হাসছেন? এমন গাধামি কেউ করে নাকি? আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি- জ্বী করে।

নাইজেরিয়ার ব্যাংকে বিলিয়ন ডলার পাবার লোভে আমার পরিচিত কেউ টাকা পাঠায়নি সত্য, তবে প্রায় একই ধরণের কাজ একজন করেছে। বুয়েট মেকানিক্যাল ০৫ এ আমার পরিচিত এক বন্ধুকে একদিন মোবাইলে ফোন করে জানানো হয় সে মোবাইলের নম্বরের একটা লটারিতে লক্ষ টাকা জিতেছে। তবে টাকাটা পাওয়ার জন্য তাকে একটি নির্দিষ্ট মোবাইলে নম্বরে ফ্যাক্সিলোড করে কিছু টাকা পাঠাতে হবে। টাকার অংক বেশি না, মাত্র ছত্রিশ হাজার। আমার সেই মেধাবী বন্ধুটি টাকা পাঠিয়েছিলো।

দুনিয়া কি এভাবে চলে? মাগনা মাগনা আপনাকে কেউ এভাবে টাকা দিবে? কাম অন।

বৃত্তাধীন যুক্তি মোটেও যুক্তি নয়

উদাহরণঃ

আল্লাহ আছেন।
– কীভাবে জানো?
কারণ কুরআন শরীফে বলা আছে তিনি আছেন।
– কিন্তু কোরাআন যে সত্যি বলছে এইটা কীভাবে বুঝলা?
কারণ আল্লাহ বলছেনে, কুরআন তাঁর বাণী, এর প্রতিটি বাক্য সত্য।

নিজামী একাত্তরে কিছু করেন নি। তিনি ছাত্র ছিলেন, পড়ালেখায় ব্যস্ত ছিলেন।
– তাই নাকি? কে বললো?
গোলাম আযম বলছে।
– কিন্তু আমি তো জানি গোলাম আযম ও খারাপ লোক।
না, নিজামী বলছেন, সে খুবই পরহেজগার আদমী।

যুক্তি এবং কুযুক্তির পার্থক্য বুঝুন।

ফাইনেস্ট ডাজনট মিন ইনোসেণ্ট

ক্ষমাপ্রার্থনা পূর্বক আরেকটি ইংরেজি টাইটেল। এটা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত আমার কয়েকবন্ধুর মতামত (অনেকের না, কয়েকজনের)। তাদের মতে, গোলাম আযমের ছেলে সেনাবাহিনীর অন্যতম ফাইনেস্ট অফিসার। তাকে বরখাস্ত করে সরকার অপরাধ করেছে। বাপের বোঝা ছেলের কেন টানতে হবে?

প্রথম কথা, আমরা সবাই জানি, সেনাবাহিনীতে উচ্চপদে উঠতে হলে কী পরিমান রাজনৈতিক ধান্ধাবাজ হওয়া প্রয়োজন হয়। অনেক পারফরমার অফিসার মেজর হবার পর জমাখানায় চলে যান, কারণ তারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তা পোষণ করেন না বা কোনও ধরণের রাজনৈতিক চিন্তাই পোষণ করেন না। সুতরাং ফাইনেস্ট অফিসার হবার জন্য, অনেক অনেক ড়্যাংক পাবার জন্য গোলাম আযমের ছেলে কী করতে হয়েছে তা ভাবুন। একজন ফাইনেস্ট অফিসার হতে পারে কিন্তু সেটা কোনোভাবেই প্রমান করেনা তিনি ইনোসেণ্ট। সেনাবাহিনী প্রধান হয়ে তিনি যে দেশের ইয়ে মেরে দিবেন না, তা বুকে হাত দিয়ে কেউ বলতে পারবে না। থুক্কু পারবে, বরাহপোনা ও তাদের আব্বা বরাহ শাবকেরা।

আর বাপের দোষ ছেলে কেন বহন করবে? তিনি দোষী না কে বললো? তার সাথে জামায়াত ইসলামীর রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে। বরখাস্তের পর জামাতি ওয়েবসাইটে তার চিঠি প্রকাশিত হয়েছিল।

অন্ধবিশ্বাস থেকে দূরে থাকুন

অন্ধবিশ্বাস করার গুনটাও আমরা বিবর্তনের কারণে পেয়েছি। বাবা মাকে অন্ধবিশ্বাস না করলে ছোট বেলায় আমাদের টিকে থাকাটা সমস্যাসংকুল হতো। বিনা দ্বিধায় আমরা মেনে নিয়েছি আগুনে ঝাঁপ দিতে হয়না, পুকুর দেখলেই তাতে লাফ দিতে হয়না।

কিন্তু মনে রাখবেন, বাবা মা যাই বলে তাই সঠিক না। আপনার বড় ভাই এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন যেখানকার ছাত্র ছিলেন হকিং। তারমানে এই না দুনিয়াবী সকল বিষয়ে তিনি যাই বলবেন তাই সঠিক। তার ক্রেডেনশিয়াল অতি উচ্চ পর্যায়ে তাই তাকে অন্ধবিশ্বাস করতে হবে এমন কথা নেই। তিনি যেই বাক্যটি বলবেন, সেটাকে যুক্তিযুক্ত হতে হবে। বাবা- মা সহ যাবতীয় সবার ক্ষেত্রেই তাই। অন্ধবিশ্বাস করবেন না। আপনার কোম্পানি কমাণ্ডার অনেক দারুন একজন মানুষ কিন্তু তার সকল ধ্যান ধারণা সঠিক নাও হতে পারে। আপনি যদি যাচাই না করে তার সব কথাকে বেদ বাক্য বলে হজম করে ফেলেন তাহলে লোকে আপনাকে চামচা বলবে, আর বলবে সিও আপনার মগজ ধোলাই দিয়েছে। সুতরাং সাবধান।

শেষকথাঃ

উপরের উদাহরনের অনেকের কাছেই জানা এবং অনেকেই সেটা প্র্যাকটিস করেন। তবে জেনে রাখুন, আপনার পাশেই মগজ ধোলাই হওয়া একজন আছে যে বিশ্বাস করে একাত্তরে জামাতের আচরণ ছিল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, তারা খুন হত্যার সাথে জড়িত ছিলোনা, তারা কেবল ইসলাম রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্বাসঘাতক হিন্দুকে হত্যা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের বাঙালি মারা গিয়েছিল দশ হাজার আর বিহারী মারা গিয়েছিল এক লাখ।

উদ্ভট জিনিসে আমরা বিশ্বাস করি। হয়তো সবাই একটাতে না, ভিন্নরূপে, ভিন্ন আঙিকে। তাই চিন্তাভাবনায় যৌক্তিক হওয়া প্রয়োজন। আমাদের সবার জীবন দীপান্বিত হোক।

জন্মেছি ঢাকায়, ১৯৮৬ সালে। বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী সমাজের স্বপ্ন দেখি। সামান্য যা লেখালেখি, তার প্রেরণা আসে এই স্বপ্ন থেকেই। পছন্দের বিষয় বিবর্তন, পদার্থবিজ্ঞান, সংশয়বাদ। লেখালেখির সূচনা অনলাইন রাইটার্স কমিউনিটি সচলায়তন.কম এবং ক্যাডেট কলেজ ব্লগে। এরপর মুক্তমনা সম্পাদক অভিজিৎ রায়ের অনুপ্রেরণায় মুক্তমনা বাংলা ব্লগে বিজ্ঞান, সংশয়বাদ সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা শুরু করি। অভিজিৎ রায়ের সাথে ২০১১ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় শুদ্ধস্বর থেকে প্রকাশিত হয় প্রথম বই 'অবিশ্বাসের দর্শন' (দ্বিতীয় প্রকাশ: ২০১২), দ্বিতীয় বই 'মানুষিকতা' প্রকাশিত হয় একই প্রকাশনী থেকে ২০১৩ সালে। তৃতীয় বই "কাঠগড়ায় বিবর্তন" প্রকাশিতব্য। শৈশবের বিদ্যালয় আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং এসওএস হারমান মেইনার কলেজ। কৈশোর কেটেছে খাকিচত্বর বরিশাল ক্যাডেট কলেজে। তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করি ২০০৯ সালে, গাজীপুরের ইসলামিক প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (আইইউটি) থেকে। এরপর দেশের মানুষের জন্য নিজের সামান্য যতটুকু মেধা আছে, তা ব্যবহারের ব্রত নিয়ে যোগ দেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে। প্রথিতযশা বিজ্ঞানী অধ্যাপক সিদ্দিক-ই-রব্বানীর নেতৃত্বে আরও একদল দেশসেরা বিজ্ঞানীর সাথে গবেষণা করে যাচ্ছি তৃতীয় বিশ্বের মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি উদ্ভাবনে।

মন্তব্যসমূহ

  1. তানভী এপ্রিল 8, 2010 at 10:05 অপরাহ্ন - Reply

    @পথিক ভাই,
    নীতিমালা পইড়া আমিও চ্রম ধাক্কা খাইলাম!!! এইসব ভালু কথা না। একটা ব্লগে কয়েক দিন ঘোরাঘুরি করলে, কমেন্ট পড়লে, কমেন্ট করলে… ঐ ব্লগের পরিবেশ আর চরিত্র সম্পর্কে ধারনা হয়ে যায়। এই কাজের জন্য এত সব নীতিমালা কখনোই পড়া বা মানা লাগেনা। দুনিয়ার কোন দেশের একেবারে সকল মানুষ তার দেশের সব আইন কানুন সংবিধান সম্পর্কে যানে?? তবুও কি মানুষ সব মানছে না? আইনের প্রয়োগ কড়া হলে এমনিতেই পাবলিক সোজা হয়ে যায়। মুক্তমনা তেই শব্দের বানান এবং ভূল উচ্চারনের উপর কড়াকড়ি জারী করার কারনে ফুয়াদ ভাইয়ের মত মানুষও নিজের বানানের দিকে এখন সদা সর্বদা নজর রেখে লেখেন। এই গুলার জন্য তো নীতি মালার দরকার নাই।

    তবুও আনুষ্ঠানিকতার জন্য হয়তো কিছু নীতিমালা দরকার, তাই পুরাপুরি রাগ ও করা যাচ্ছে না!!!!

  2. সৈকত চৌধুরী এপ্রিল 8, 2010 at 9:05 অপরাহ্ন - Reply

    ছোট খাটো বিষয়গুলো নিয়ে অনিয়ত কিন্তু সুন্দর, প্রাসংগিক ও প্রয়োজনীয় লেখা। দারুণ উপস্থাপন।

  3. পথিক এপ্রিল 8, 2010 at 8:41 অপরাহ্ন - Reply

    এই লেখাটা তো আগে দেখি নাই। এই লেখার লেখক আমারে থ্যাংকু দেয় নাই কেনু!
    :guli: আমি উনারে ব্যালুনি ডিটেকশন কিট এর ভিডিও দিসিলাম। দেশি উদাহরণগুলো দারুণ হয়েছে রায়হান ভাই। :yes: এইটার বাংলা ভিডিও করার কথাটা যে আমরা ঠিক করেছিলাম সেই কাজে সবার সাহায্য চাইতেছি। আগ্রহীরা ইউটিউবে মাইকেল শেরমারের ব্যালুনি ডিটেকশন কিট টা দেখুন আর এই কাজে হাত লাগান। এই পোস্টেই এটার ভিডিও বাংলা অনুবাদের ফাইনাল আলাপ হয়ে যাক।

  4. রামগড়ুড়ের ছানা এপ্রিল 8, 2010 at 8:41 অপরাহ্ন - Reply

    রায়হান ভাই মানুষ দুইটার ছবি কি আপনি একেছেন? :hahahee:

  5. তানভী এপ্রিল 8, 2010 at 8:11 অপরাহ্ন - Reply

    দারুন একটা লেখা হয়েছে!! এই সমস্যা গুলো আগে আমার প্রায়ই হতো। এখনো পুরোপুরি ছাড়তে পারি নি। তবে ধর্ম ছাড়ার পর অন্য সব ব্যপারেও যুক্তি নিয়ে খেলতে শিখেছি। তবে সিনিয়র দের মতের বিরোধিতা করতে এখনো ভালোভাবে শিখতে পারি নি। সামনা সামনি তর্কে এজন্য প্রায়ই ধরা খেয়ে যাই।

    অনেক দিন নানা কারনে লম্বা বিরতির পর আবার সব গুছিয়ে আজকে আবার শুরু করলাম। অনেক গুলো পোস্ট পড়া হয়নি। সব পড়তে হবে।

    • অভিজিৎ এপ্রিল 8, 2010 at 8:19 অপরাহ্ন - Reply

      @তানভী,

      অনেকদিন পরে মন্তব্য দেখলাম তানভী। কই গা ঢাকা দিছিলা? কালকেও ভাবতেছিলাম… তোমার লেখা দেখি না ক্যান। ভাব্লাম তুমিও আবার রাগ করসো নাকি! 🙂

      • তানভী এপ্রিল 8, 2010 at 8:51 অপরাহ্ন - Reply

        @অভিজিৎ,
        রাগ করুম!!!! ধুরো !! কি যে কন না!!

        আসলে ফেব্রুয়ারীর মাঝা মাঝি থেকে মার্চের ১৯-২০ তারিখ পর্যন্ত স্কুলের রি-ইউনিয়নের কাজ নিয়া ব্যস্ত ছিলাম। এর পর যখন স্কুলের ঝামেলা কাটায়া বাসায় সময় দেয়া শুরু করলাম, তখন দেখি আমার বাসার অ্যান্টিক কম্পিউটার নষ্ট!!! তো আর কি করা, আবার বসে থাকা। এরপর যখন কম্পু ঠিক হইল, তখন দেখি যে লোডশেডিং এর যন্ত্রনায় নেটে বসার যো নাই!! রাত দুইটায় ও কারেন্ট যায়!!! এইই হইল অবস্থা। কোন কাজেই হাত দেয়া যাইতেসে না। এই কম্পুও মনে হয় ভাইয়া বিরক্ত হয়ে আর কয় দিনের মধ্যেই বিক্রি করে দিবে। তারপর আবার নতুন কম্পু না আসা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকা। তবে এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে টানা বেশ কিছু বই পড়ছি। একটা পোস্ট ও দেয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু লোডশেডিঙ্গের যন্ত্রনায় লেখার কাজে হাত দিতে ভরসা পাচ্ছি না।

        কষ্টের ব্যপার হলো যে এর মধ্যে অনেক গুলো ভালো ভালো পোস্ট মিস করে গেছি, আর বেকার সময়টা কাজে লাগাতে পারছি না। সময়টা শেষ প্রায়। 😥

        • পথিক এপ্রিল 8, 2010 at 9:03 অপরাহ্ন - Reply

          @তানভী, সাবধান মন্তব্য করার আগে মুক্তমনা নীতিমালার চাপটার ও ভার্স গুলো দেখে নিন।নইলে কিন্তু…। :guli: ।

          মুক্তমনা নীতিমালা পড়ে আমি খুব ভয় পেয়েছি। প্রায় মার্শাল ল টাইপ।
          হায় হায় এই মন্তব্য করার জন্য আবার কোন শাস্তি হবে না তো :-/

  6. বকলম এপ্রিল 7, 2010 at 11:35 অপরাহ্ন - Reply

    মূল বিষয়টা হল নৈর্ব্যক্তিক হওয়া। বিশেষ করে তথ্য ও এর বিশ্লেষণে। আর নৈর্ব্যক্তিকতা একটি কঠিন বিষয়। আবার সব বিষয়ে নৈর্ব্যক্তিকতা ঠিক কিনা তাও আরেকটি বিতর্কের বিষয়। ধরুন অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাংলাদেশের ওয়ান ডে ম্যাচ হচ্ছে। যুক্তি বলছে যে বাংলাদেশ হারবে। কিন্তু এই ফলাফল মেনে নিতে আবার মন সায় দিচ্ছে না। কাজেই এই আবেগের রেশ কাটানো যেমন কঠিন তেমনি কিছু আবেগের রেশ বোধহয় ভালো ও।

    • ধ্রুব এপ্রিল 7, 2010 at 11:42 অপরাহ্ন - Reply

      @বকলম, আবেগের রেশ কাটানো কঠিন হতে পারে, কিন্তু যুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক এমন কোনো আবেগের রেশ দেখান যা আসলে ভালো। নিতান্তই জিজ্ঞাসামাত্র।

      • বকলম এপ্রিল 8, 2010 at 12:07 পূর্বাহ্ন - Reply

        @ধ্রুব,
        সব ক্ষেত্রে আবেগ অবশ্যই ভালো নয়। তাতে মানুষ ভারসাম্যহীন হয়ে যায়। তাছাড়া আবেগ ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে থাকলেই ভাল। আমি খেলার যে উদাহরনটা দিলাম সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। এসবে আবেগ যুক্তির সাথে অনেক সময় জিতে যায়। তবে সামাজিক বিষয় বা যেসব বিষয়ে ব্যক্তিকতার বাইরেও যায় সেগুলো যথাসম্ভব যৌক্তিক হওয়াটাই বাঞ্চনীয়

        • ধ্রুব এপ্রিল 8, 2010 at 12:45 পূর্বাহ্ন - Reply

          @বকলম, :yes:

          ভালো খারাপ এমনিতেই ঘোলা ব্যাপার। ব্যক্তিকতার বাইরের যেমন সামাজিক বিষয়গুলোতে সেগুলোর একটা সংজ্ঞা দেয়ার চেষ্টা করা যায় বটে, কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয়ে ভালো মন্দ জিনিসটা পুরোপুরিই ধোঁয়াশা। ওখানে আবেগ আর যুক্তি একটা চয়েজ মাত্র।

  7. ধ্রুব এপ্রিল 7, 2010 at 11:31 অপরাহ্ন - Reply

    আসুন এম্পিরিসিজম+ভেরিফিক্যাশানিজমে হাত মিলে। কোনো তত্ত্বের যদি বারংবার-পর্যবেক্ষণ-দ্বারা-যাচাইযোগ্য-পূর্বানুমান করার ক্ষমতা না থাকে, তবে সেটা অর্থহীন, বাতিল।

    একটা দার্শনিক চিন্তা: ইতিহাসের কিছু বিষয় নিয়া আমার মনে হয় একটা প্যাঁচ আছে। ইতিহাসের সব গল্প ভেরিফায়েবল না। ইতিহাসের পর্যবেক্ষণ সবসময় রিপ্রডিউসিবলও না, ফলে কিছু ইতিহাসের ডাটার অপ্রতুলতা আছে।

    ফলে ঐসব ইতিহাস নিয়ে মানুষের আনফলসিফায়েবল, মেটা-তত্ত্ব খাঁড়া করার সুযোগ থাকে।

    একান্তই প্রাকল্পিক চিন্তা-ভাবনা এইটা, এই চিন্তা ধইরা ডাটা-প্রতুল-ইতিহাসকে ডিনাই করার বরাহ-প্রচেষ্টার সুযোগ নাই।

মন্তব্য করুন