এলোমেলো রাজনৈতিক ছড়া- এক
[আলোচিত বিষয়ঃ ঘুষখোর, মন্ত্রী, সচিব, রাজাকার, ফারাক্কা বাঁধ]


ফিসফাস, উসখুস
খাই আমি শুধু ঘুষ;
মুখে কিছু বলিনা
ফাইলও যে ছাড়িনা।
গলা দিয়ে খাঁকারী
ইঙ্গিতে-আকারি
বোঝানোর চেষ্টা
করি যে প্রচেষ্টা
ঘুষের কি তেষ্টা!

টাকার যে বৃষ্টি-
শুধু কি তা মিষ্টি?
দ্যাখোনা একটু চেখে
রস যেন আছে মেখে;
দেখলেই আসে লালা
উঁচালে ব্রিফকেস ডালা-
গন্ধেতে মৌ মৌ
খুশী হবে সোনা বউ
আহা! যৌবনে লাগে ঢেউ!

শাড়ি-চুড়ী, গয়না
আরও কি কি বায়না…
বউ শুধু একা নাকি?
শালা-শালী আছে বাকি।
সাথে আছে ভাইবোন
ভরে নাকো কারো মন।
দেদারছে খাচ্ছি-
ঘুষ আর লাচ্ছি;
খেয়ে খেয়ে হাঁপাচ্ছি!


ঘর-দোর চিকচিক
তাতে, ছোঁপ ছোঁপ পানের পিক।
ছেলেগুলো রসহীন, সাথে কষ ছাড়া-
পি.এ. হবে মেয়ে শুধু, একটু বেয়াড়া;
খুনসুঁটি করবে, সাথে নেবে নোট
তবে না খুলবে মাথা- কোথা জাল ভোট!
ভূঁড়িখানা তেলতেলে, ফোঁলা ফোঁলা গাল;
মেয়েছেলে দেখলেই ঝরে মুখের লাল।

পড়ালেখা কম অতি, নেই প্রয়োজন
টাকা আছে রাশি রাশি, শর্ত প্রথম।
আর আছে মাস্তান পোষা একপাল;
ভোট চুরি করে লেখে নিজের কপাল।

সংসদে খুশী নয়, সাথে চায় পদ
ভাগাভাগি নিয়ে বাঁধে মস্ত বিপদ।
“পদখানা ক্ষমতার, ছাড়ছিনা আমি
প্রয়োজনে নেত্রীর করবো গোলামী”।
চিনতে পেরেছো কি- তার পরিচয়?
‘মাননীয় মন্ত্রী’, যার লাজলজ্জা নাই।


নির্দেশ আছে দেয়া- ‘টপ টু বটম’
ভাঙ্গলে চাকরি শেষ, করবো খতম।
পিওনের পাঁচ ভাগ, কেরানীর দশ
সহকারী পঁচিশ হলে, যুগ্ম পঞ্চাশ।
আমি ‘ফুল’- তার মানে পুরোই সচিব;
আমার বেলায় নিই টাকা বেহিসেব।
ভাগাভাগি, পার্সেন্ট ওদের বেলায়
বড়সড় মক্কেল আমি সামলায়।
বসা আমি এই পদে কত সিঁড়ি বেয়ে!
অন্যায় হবে অতি, না নিলে পুষিয়ে।
এর নাম ‘গিফ্‌ট্‌’ শুধু, আমি নই চোর
তবু কেন মিছেমিছি ডাকো ঘুষখোর?
সচিব আমি, মুঠো হাতে ধরা সচিবালয়
বউ খুশী, সাথে খুশী পুরো শ্বশুরালয়।


রাজা নেই রাণী আছে, দেশে হাহাকার
জ্ঞানী-গুণী সব গেছে; শুধু, আছে রাজাকার।
শীষভরা ধান গাছ, ধান ভরা শীষ
বাংলার মাটিতে মেশালো যে বিষ;
স্বার্থের রাজনীতি, নোংরা শাষন-
রাজাকার করলো পুনর্বাসন।
দাড়ি-টুপী-সুরমা, চেহারাটা মায়া
দ্বারখানা খুলে দিল ‘বিশ্ব বেহায়া’*;
পা’র নীচে মাটি পেল, হয়ে গেল গতি
শুরু হলো ধর্মের নামে রাজনীতি।
তবু, খুশী নয় রাজাকার- “চাই মওকা”
মাঝ নদে ঠাঁয় দিল ভরা নৌকা;
ফিসফাস আলোচনা সাথে রাজাকার
মিটিং বসালো সবে ঘরে রুদ্ধদ্বার;
“কেউ নয় শত্রু- করি রাজনীতি”
পদতলে মাড়ালো, সেক্যুলার নীতি।
পরাজয় কার হলো? সেতো বাংলার
জয় পেল কারা জানো? যারা রাজাকার।

[*নোটঃ বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘বিশ্ব বেহায়া’ উপাধীটি কেবল একজন শাষকই পেয়েছিলেন। পাঠকদেরকে নতুন করে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার বোধহয় প্রয়োজন নেই।]


বাঁধটি দিল ফারাক্কা
নদীগুলো পেল অক্কা;
পানি শুকিয়ে মক্কা
মরুভূমির ঐ যক্ষ্ণা
ধরলে তো নেই রক্ষা।

দাদা টানছেন হুক্কা
পেয়ালা ভর্তি দ্রাক্ষা
নাচে নর্তকী সুবক্ষা
দরকষাকষি বেখাপ্পা।

পানি হিস্যার ব্যাখ্যা
চাওয়ায়, দাদাটি হলেন খাপ্পা-
“ফের, মাঙ্গছে জলের ভিক্ষা!
হয়নি কি তবে শিক্ষা?”
গুরুনানকের দীক্ষা-
“করতে জলের সুরক্ষা
খেলাও খেলা- ‘প্রতীক্ষা’
চালো, কথার খেলা… টরে-টক্কা
পেটাও রাজনীতির ছক্কা”।

[শীঘ্রই আসিতেছেঃ এলোমেলো রাজনৈতিক ছড়া-দুই। পরবর্তী আলোচিত বিষয়- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ, রাজনীতিবিদ,… ইত্যাদি]

আব্দুর রহমান আবিদ
রচনাকালঃ এপ্রিল, ২০১০

[130 বার পঠিত]