আগের পর্বে লিখেছিলাম কোরানে বর্নিত নানা অসংগতির কথা যা নাকি প্রচন্ডরকম অবৈজ্ঞানিক। যেমন- কোরানের বর্ননা মতে ,পৃথিবী সমতল, আকাশ কঠিন পদার্থের ছাদ, উল্কারা হলো ছুটন্ত তারা যা নাকি আবার শয়তানদের ধাওয়া করে, পাহাড় পর্বত পৃথিবীকে কাত হয়ে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে ইত্যাদি। এবারের পর্বে আমি মনোযোগ দিয়েছি মুলতঃ বিভিন্ন সাইটে কিছু অশিক্ষিত আর মূর্খ কর্তৃক অপবিজ্ঞানকে বিজ্ঞানে পরিনত করার অচেষ্টার কসরতকে তুলে ধরতে। প্রথমেই খুজছিলাম কি কি তত্ত্ব ও ঘটনা ধান্ধাবাজ ইসলামী তথাকথিত স্কলাররা বিভিন্ন সাইটে প্রকাশ করেছে। খুজতে খুজতে পাওয়া গেল কয়েকটা।

কৌতুহলী হয়ে বিজ্ঞানের কোন্ কোন্ তত্ত্ব ও ঘটনা কোরানের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে তার তালাশে গুগলের শরনাপন্ন হলাম এবং www.quranmiracles.com এই সাইটটি পেলাম। সাইটটি খুলে দেখার সাথে সাথেই চোখ কপালে তোলার পালা। কারন দেখলাম বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরন তত্ত্ব থেকে শুরু করে হেন কোন তত্ত্ব নেই যা সাইটটির মালিকেরা কোরানে খুজে পায় নি। আমি তো ভীষণ পুলকিত এবং একই সাথে নিজেকে বেশ অপরাধী বোধ করলাম কারন এ পর্যন্ত মনে করে এসেছি কোরান কোন আল্লাহর বানী না, ফলতঃ মোহাম্মদ কোন আল্লাহ প্রেরিত নবী না, বরং নিতান্তই অশিক্ষিত কিন্তু অত্যন্ত ধুরন্ধর এক আরব, আর তাই বিজ্ঞান সম্পর্কিত কোন তত্ত্ব নেই বা থাকার কথাও না। যাইহোক , পুলক ও অপরাধবোধকে পেছনে ফেলে অবশেষে সাইটটির প্রতিটি বিষয়ের ওপর নজর বোলানো শুরু করলাম।

১ম তত্ত্বঃ WE LIVE IN AN EXPANDING UNIVERSE

অর্থাৎ কোরানে বর্নিত আছে মহাবিশ্ব প্রসারমান। তথা আধুনিক মহাবিশ্ব বিজ্ঞান যা বলছে হুবহু তাই কোরানে আছে।

সাইটে লিখিত আয়াত –With power did We construct heaven. Verily, we are expanding it 51:47

সোজা বাংলা অর্থ আমরা ক্ষমতার দ্বারা আকাশ সৃষ্টি করেছি আর তাকে করেছি প্রসরমান।

সাথে সাথে আমি অনলাইনের বাংলা কোরানের একটা সাইটে গেলাম যা হলো www.quraanshareef.org
সেখানে লেখা Ñআমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মান করেছি এবং আমি অবশ্যই ব্যপক ক্ষমতাশালী। ৫১: ৪৭
অন্য সাইট www.islamdharma.com,সেখানেও একই রকম অনুবাদ।
http://quranexplorer.com/তে নিুরূপ অনুবাদ পাওয়া গেল এক সাথে-

Dr. Mohsin : With power did We construct the heaven. Verily, We are Able to extend the vastness of space thereof.
Pickthal : We have built the heaven with might, and We it is Who make the vast extent (thereof).
Yusuf Ali : With the power and skill did We construct the Firmament: for it is We Who create the vastness of Space

তো পাঠক বুঝতে পারবেন বাংলা অনুবাদ ও ইংরেজী অনুবাদের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। তার মধ্যে পিকথাল ও ইউসূফ আলীর অনুবাদের সাথে কোন এক ড. মোহসিনের (সম্ভবত নব্য ইসলামি কোন পন্ডিত) অনুবাদে আকাশ পাতাল তফাৎ। ড. মোহসীন বোঝাই যাচ্ছে বিজ্ঞানের সাথে মিলানোর জন্য ইচ্ছা মত অনুবাদ করেছেন যা হলো – ডব We are Able to extend the vastness of space thereof. আর www.quranmiracles.com সাইটে তো অনুবাদক সরাসরি বলে ফেলেছেন- With power did We construct heaven. Verily, we are expanding it এখন পাঠকরাই বিচার করবেন উপরোক্ত সূরাতে মহাবিশ্বের সম্প্রসারনের কথা বলা হচ্ছে কিনা। মহাবিশ্বের প্রসারনের এ ধারনা এসেছে আজ থেকে প্রায় ৮০ বছর আগে মার্কিন জ্যোতির্বিদ এডউইন হাবলের মাধ্যমে । কিন্তু এত কাল চলে গেল কেউ কোরানে প্রসরমান মহাবিশ্ব পেল না , হঠাৎ করে ইদানিং কালে তারা তা কোরানে আবিষ্কার করে ফেলছে। আর তাই নব্য ইসলামী পন্ডিতরা সেভাবেই কোরানকে অনুবাদ করছে বা কাটা ছিড়া করছে। প্রকারান্তরে তারা কোরান তো বটেই আল্লাহর বিরুদ্ধাচরন করছে কারন আল্লাহ নিজেই বলেছেন তিনি নিজেই কোরানের হেফাজতকারী।এখন যুক্তির খাতিরে যদি ধরে নেই যে কোরানে প্রসরমান বিশ্বের কথা বলা আছে তাহলে কিন্তু আর একটা সমস্যার উৎপত্তি ঘটে। যেমন আমাদের বিশ্ব হলো সাত আসমানের সর্ব নিম্ন আসমানের নীচে অবস্থিত। আগেই দেখেছি কোরান বলছে আসমান হলো কঠিন পদার্থ দিয়ে গঠিত একটা ছাদ বিশেষ(৭৯ঃ২৭-৩০,২ঃ২২,১৩ঃ২)। আধুনিক বিজ্ঞান বলছে মহাবিশ্ব চতুর্দিকে সমভাবে প্রসারিত হচ্ছে যা আবার এখন ইসলামী পন্ডিতও সমর্থন করছে ও বলছে খোদ কোরানেই তা আল্লাহ লিখে রেখে গেছেন। অর্থাৎ মহাবিশ্ব অনেকটা ফুটবলের মত গোলাকৃতিতে চারিদিকে প্রসারিত হচ্ছে যাকে সততঃ প্রসরমান বিশাল ফুটবল হিসাবে ধরা যায়। তাহলে সর্বনিম্ন আসমান যা আবার মহাবিশ্বের শেষ প্রান্ত তা অবশ্যই ফুটবলের মত গোলাকার হবে। গোটা মহাবিশ্বকে একটা প্রসরমান ফুটবল বা গোলাকার বেলুনের মত কল্পনা করা হলে তার ভিতরের অংশ হলো মহাবিশ্ব আর তার বাইরের আবরন হবে সর্বনিম্ন আসমান। কিন্তু কোরানের মতে, সে আসমান কঠিন পদার্থ দ্বারা গঠিত । এখন ফুটবল বা বেলুনের মধ্যে যদি আমরা ক্রমাগত বাতাস ঢুকাতে থাকি তাহলে একসময় তা ফেটে যাবে। তাই যেহেতু মহাবিশ্ব সেই শত শত কোটি বছর ধরে প্রসারিত হচ্ছে তার অর্থ সর্ব নিম্ন আকাশ যা মহাবিশ্বের প্রান্ত সীমা তা কঠিন পদার্থ দ্বারা গঠিত বিধায় অনেক আগেই ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ার কথা। অর্থাৎ এত দিনে সর্ব নিম্ন আকাশ সহ বাকি ছয়টি আকাশও ফেটে চৌচির হয়ে ধ্বংস হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্ত ইসলামী পন্ডিতেরা মনে হয় এত দুর চিন্তা করে দেখে নি। নইলে কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ করে প্রসরমান মহাবিশ্বের আবিষ্কার তারা কোরানের মধ্যে করত না। প্রসারমান মহাবিশ্ব সমর্থন করা যে প্রকারান্তরে কোরানে বর্নিত সাত আসমানের সমাধি রচনা করা তা গাধার দল বুঝতে পারেনি। প্রকৃত বিজ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে যা হয় তাই আর কি। তাই কোরানের মধ্যে বিজ্ঞান খুজতে গিয়ে রীতি মতো তাল গোল পাকিয়ে ফেলেছে।

২য় তত্ত্বঃ BLACK HOLES:MIGHTY OATH
পন্তিতরা কোরানে ব্লাক হোলের সন্ধান পেয়েছেন।

তাদের সাইটে কোরানের উদ্ধৃতিঃ So, I swear by the place where the stars fall. And that is indeed a mighty oath, if you but knew. 56, 75-76

অতএব আমি তারকারাজির অস্তাচলের শপথ করছি। নিশ্চয় এটা এক মহা শপথ যদি তোমরা জানতে।৫৬:৭৫-৭৬ http://www.quraanshareef.org সাইট থেকে অনুবাদ।

Verse:075.,76
Dr. Mohsin : So I swear by the setting of the stars. And verily, that is indeed a great oath, if you but know
Pickthal : Nay, I swear by the places of the stars – And lo! that verily is a tremendous oath, if ye but knew
Yusuf Ali : Furthermore I call to witness the setting of the Stars―: And that is indeed a mighty adjuration if ye but knew― http://quranexplorer.com সাইট থেকে অনুবাদ।

সহৃদয় পাঠক/পাঠিকা, উপরোক্ত সূরার মধ্যে কোথাও ব্লাক হোলের সন্ধান পাচ্ছেন নাকি? আপনি না পেলেও তথাকথিত ইসলামী পন্ডিতরা কিন্তু সে খোজ অনেক আগেই পেয়ে গেছেন। তারকারাজির অস্তাচল এর অর্থ তারা আবিষ্কার করেছেন ব্লাক হোল। এটা তো স্রেফ রাত শেষে সকল তারা অস্ত যায় সে কথাই সোজা ভাবে বলছে, তাই বলছে তারকারাজির অস্তাচল। তো সেই চোদ্দ শ বছর আগে নবী মোহাম্মদ দেখত রাতের পর সব তারা অস্ত যায় , দিনে একটাকেও দেখা যায় না তার কারন তার ধারনা হয়েছিল আল্লাহর ইচ্ছাতেই তাদেরকে দেখা যায় না ,যা তার কাছে আল্লাহর অসীম কুদরত মনে হতো। কারন আল্লাহ তো তাদেরকে আকাশের প্রদীপ রূপে সজ্জিত করেছেন তাই রাতের শেষে তিনি তাদেরকে নিভিয়ে দেন,তখন আলোর দরকার নাই, যেমন দিনের বেলাতে আমরা বাতি নিভিয়ে দেই।এখন এই অতি সহজ সরল ঘটনা থেকে তথাকথিত ইসলামী পন্ডিতরা ব্লাক হোল আবিষ্কার করে ফেলেছে। আমার ধারনা ব্লাক হোল আসলে কি জিনিস সেটাই তারা জানে না। ইদানিং কালে তারা মনে হয় পত্র পত্রিকা বা বিভিন্ন সায়েন্টিফিক টেলিভিশনে এ বিষয়ে শুনেছে কিন্ত জানে না বিষয়টি আসলে কি। জানলে এ ধরনের ফাতরামি করত বলে মনে হয় না। তবে ফাতরামির একটা সীমা থাকা উচিৎ। তারপরেও অবগতির খাতিরে ব্লাক হোল কি তা জানাচ্ছি। যখন একটা তারা ( সাধারনত আমাদের সূর্যের চাইতে প্রায় দুইগুন বড়) তার জ্বালানী পুড়িয়ে শেষ করে ফেলে তখন সে আর তার আকার ধরে রাখতে পারে না, তার সমস্ত পদার্থ বা ভর তারকাটির মাধ্যাকর্ষন বলের কারনে সংকুচিত হতে থাকে। সংকুচিত হতে হতে এমন এক পর্যায়ে চলে যায় যে তারাটি একটা ছোট বিন্দুতে পরিনত হয়ে পড়ে। বিষয়টি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ও পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রের দ্বারা অনুমোদিত ও প্রমানিত। তবে প্রথমেই বিন্দুতে পরিনত হয় না ,প্রথমে লাল তারা( বেশ ছোট আকার)তারপর নিউট্রন তারা( আরও ছোট আকার যেমন কয়েকশ কিলোমিটার ব্যাসের) এবং পরিশেষে ছোট বিন্দু তথা ব্লাক হোলে পরিনত হয়। যেহেতু তারাটির সমস্ত ভর একটি ছোট বিন্দুতে কেন্দ্রিভুত হয়ে পড়ে , তাই তারাটির সমস্ত মাধ্যাকর্ষন বল সেই বিন্দুতেই ক্রিয়াশীল থাকে এবং তা এত শক্তিশালী হয় যে কোন পদার্থ কনিকা তো দুরের কথা এমন কি আলোর কনিকা পর্যন্ত সেখান থেকে প্রতিফলিত হতে পারে না। অকল্পনীয় মাধ্যাকর্ষন বল তাকে আটকে রাখে। কোন বস্তু থেকে আলোর কনিকা প্রতিফলিত না হওয়ার অর্থ তা আমাদের চোখে দৃশ্যমান হবে না। কারন আমরা কোন বস্তুকে দেখতে পারি তখনই যখন তার ওপরে পতিত আলোক রশ্মি প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে আসে। যেহেতু তা আমরা দেখতে পারি না তাই তাকে বলে ব্লাক হোল বা কাল গহ্বর । আদৌ তা কাল কি না তা কিন্তু আমরা জানি না কারন তা তো দেখাই যায না । বিজ্ঞান জগতে এই কালো গহ্বর নামটি বেশ জনপ্রিয় । তবে দেখা না গেলেও তার অস্তিত্ব আমরা আবিষ্কার করতে পারি। তার অকল্পনীয় আকর্ষন বলকে আমরা আমাদের আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা নির্নয় করতে পারি। যদি মহাশূন্যের কোন অঞ্চলে দেখা যায় যে সেখানে বিপুল পরিমান আকর্ষন বলের অস্তিত্ব রয়েছে যার দ্বারা আশ পাশের মহাজাগতিক বস্তুসমূহ তথা ধুলি, মেঘ ইত্যাদি আকৃষ্ট হচ্ছে , অথচ সেই আকর্ষনকারী বস্তুটিকে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না তখন বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে আসেন যে সেখানে একটা কাল গহ্বর বা ব্লাক হোল আছে। মজার কথা হলো সে কাল গহ্বরকে ইদানিং কিছু লোক মহাশূন্যের মধ্যে খোজাখুজি না করে কোরানের মধ্যে হন্যে হয়ে খুজে ফিরছে এবং তা তারা পেয়ে গিয়ে বানরের মত লাফালাফি করছে। হায় সেলুকাস, কি বিচিত্র এই মুসলিম জাতি!

৩য় তত্ত্বঃ ALL AFLOAT IN ORBITS
সব কিছু অর্থাৎ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে তার সবই কক্ষ পথে ঘোরে এ তত্ত্বের সন্ধান পেয়েছেন তারা।
তাদের সাইটে কোরানের উদ্ধৃতিঃ
It is He who created the night and the day, and the sun, and the moon; each of them floating in an orbit. 21: 33

http://www.quraanshareef.org সাইট থেকে অনুবাদ।
তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষ পথে বিচরন করে। ২১: ৩৩

http://quranexplorer.comসাইট থেকে অনুবাদ
Verse:033
Dr. Mohsin : And He it is Who has created the night and the day, and the sun and the moon, each in an orbit floating.
Pickthal : And He it is Who created the night and the day, and the sun and the moon. They float, each in an orbit.
Yusuf Ali : It is He Who created the Night and the Day, and the sun and the moon: all (the celestial bodies) swim along each in its rounded course.

এ বিষয়ে আমি পূর্বেই বিষদ ব্যাখ্যা করেছি যে এখানে সাদা চোখে সূর্য ও চাদের যে ঘোরাঘুরির(যদিও আসলে সূর্য ঘোরে না) ব্যপারটা আমরা প্রত্যেক দিন দেখি স্রেফ সেটাই বর্ননা করা হয়েছে এখানে অন্য কোন মাহাত্ম নাই। তার পরও সংক্ষেপে বলি- কোরানের পৃথিবী একটি সমতল ক্ষেত্র তার ওপরে ছাদ সদৃশ কঠিন আসমানসমূহ, সর্ব নিম্ন আসমানের নীচে আছে চাদ সূর্য . তারকারাজি ইত্যাদি। সুর্যের কাজ হলো প্রতিদিন পুর্ব দিকে উঠে সারা দিন সূর্য কিরন ও তাপ দিয়ে বিকেলে অস্ত যাওয়া তারপর আল্লাহর সিংহাসনের নীচে গিয়ে পূনরায় উদিত হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা, তার প্রার্থনা কবুল হয় না তবে রাতের শেষে তাকে পূর্বের স্থানে গিয়ে আবার উদিত হতে আল্লাহ হুকুম করেন( বুখারী শরিফ, খন্ড-৪. বই-৫৪, হাদিস নং- ৪২১), চাদের কাজ হলো রাতে আকাশে আলো দেয়া ও মাস বছরের হিসাব রাখা এই সব। পরিশেষে শুধু চন্দ্র ও সূর্যের ঘোরাঘুরির বর্ননার দ্বারা মহাবিশ্বের সব কিছুই যে কক্ষ পথে ঘোরা ঘুরি করে এমন তরো সিদ্ধান্তে তারা কিভাবে এলো ? নাকি এটা এখন জ্যোতির্বিজ্ঞানের কল্যানে জানা গেছে বলেই এ ধরনের সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে? তার পরেও এ সূরার একটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকত যদি সূরাটা এরকম হতো- পৃথিবী , চাদ ও সূর্য নিজেদের কক্ষে পরিভ্রমন করে। তাহলে পৃথিবী ঘোরার বর্ননা থেকে এর মাহাত্ম হতো অপরিসীম কারন সেই নবীর যুগে কেউ পৃথিবী ঘোরে এ কথাটি জানত না। ভন্ডামি ও ধাপ্পা বাজির একটা সীমা আছে। তথাকথিত ইসলামি পন্ডিততের ভন্ডামি ও ধাপ্পা বাজির দেখি কোন সীমা পরিসীমা নেই।

৪র্থ তত্ত্ব: DIAMETERS OF THE EARTH AND SPACE

অর্থাৎ কোরানে পৃথিবী ও মহাশূন্যের ব্যাস এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সাইটের কোরানের আয়াত O society of jinns and men, cross the diameters of the heavens and the earth, if you have the ability, then pass beyond them. But you cannot, unless you acquire an authorization.55: 33

http://www.quraanshareef.org সাইটের অনুবাদ-
হে জীন ও মানব কুল, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু ছাড়পত্র ব্যতিত তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না । ৫৫ : ৩৩

http://quranexplorer.comসাইটের অনুবাদ-
Verse:033
Dr. Mohsin : O assembly of jinn and men! If you have power to pass beyond the zones of the heavens and the earth, then pass beyond (them)! But you will never be able to pass them, except with authority (from Allâh)!
Pickthal : O company of jinn and men, if ye have power to penetrate (all) regions of the heavens and the earth, then penetrate (them)! Ye will never penetrate them save with (Our) sanction.
Yusuf Ali : O ye assembly of Jinns and men! if it be ye can pass beyond the zones of the heavens and the earth, pass ye! Not without authority shall ye be able to pass!

পাঠক পাঠিকা বৃন্দ আপনারাই চেষ্টা করতে পারেন উপরোক্ত সূরা ও তার বিভিন্ন অনুবাদ থেকে পৃথিবী বা আসমান সমূহের কোন ব্যাস বের করতে পারেন কি না । তাছাড়া ভূমন্ডলের প্রান্ত বলতে কি বুঝায় ? আসলে এধরনের বক্তব্য কিন্ত সমতল পৃথিবীর পক্ষেই যায়। তা হলো পৃথিবী একটা সমতল ক্ষেত্র হলেই তার একটা প্রান্ত সীমা থাকবে। পৃথিবী তথা ভূমন্ডল ফুটবলের মত গোলাকার হলে কিন্তু তার কোন প্রান্ত সীমা থাকবে না। কোরানেই কিন্তু বলা আছে পৃথিবীর প্রান্ত সীমা আছে। সেই জূলকারনাইন নামক এক কাল্পনিক জীব কিন্তু পূর্ব ও পশ্চিমের প্রান্ত সীমা পর্যন্ত গিয়ে সূর্যের উদয় ও অস্ত স্থল দেখে এসেছিলেন। সুতরাং ভূমন্ডলের প্রান্ত আছে এ ধরনের আজগুবি কথা বলে কোরান আবারও নিশ্চিতভাবে প্রমান করছে পৃথিবী সমতলীয় ক্ষেত্র। সমতলীয় ক্ষেত্রের কোন ব্যাস থাকতে পারে না। থাকে দৈর্ঘ্য বা প্রস্ত বা ক্ষেত্রফল। ব্যাস থাকে কোন বৃত্তের বা গোলাকার বস্তুর। কেন্দ্র থেকে পরিধি পর্যন্ত দুরত্বের দ্বিগুন দুরত্বকে বলে ব্যাস।সুতরাং ভূমন্ডলের প্রান্ত আছে একথা বলে পৃথিবীকে যেমন সমতল ক্ষেত্র হিসাবে প্রমানিত করেছে তেমনি মহা গাধামি করেছে এধরনের সমতল ক্ষেত্রের ব্যাস মাপার চিন্তা ভাবনা ক’রে যা একমাত্র উন্মাদরাই করতে পারে। প্রথমোক্ত অনুবাদে সরাসরি ব্যাস শব্দটি লেখা আছে যা অন্য কোন অনুবাদে নেই তার মানে প্রথমোক্ত অনুবাদক নিজের মত করে অনুবাদ করেছে তথা কোরানকে পরিবর্তন/বিকৃত করে ফেলেছে পৃথিবীকে গোলাকার প্রমান করার ধান্ধায়। কিন্তু এ পরিবর্তন যে আসলে জায়গামত হয়নি তা আবার বুঝতে পারেনি। বিষয়টি অনুবাদককে আরও হাস্যকর প্রমান করেছে।তথাকথিত ইসলামী পন্ডিতরা কি কোরানকে বিজ্ঞান প্রমান করতে গিয়ে উন্মাদ হযে গেল নাকি ? আপাত অর্থহীন বা স্রেফ একটা আধিভৌতিক বক্তব্যকে কেমন জটিল করে তুলেছেন তারা। ওদের ব্রেন আছে বটে ! তবে ওদের যে জাহান্নামের ভয় নেই তা বেশ বোঝা যায়।কোরানকে বিকৃত করার শাস্তি যে জাহান্নাম বাস তা ওরা ভুলে গেছে।

৫ম তত্ত্ব: FORMATION OF PETROLEUM
অর্থাৎ কোরানে পেট্রোলিয়াম সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
সাইটের আয়াত-
He brings out the pasture Then turns it into a blackish floodwater. The Most High, 87:4-5

http://www.quraanshareef.orgসাইটের অনুবাদ-
এবং যিনি তৃনাদি উৎপাদন করেছেন, অতঃপর করেছেন তাকে কাল আবর্জনা। ৮৭: ৪-৫

http://quranexplorer.com সাইটের অনুবাদ-
Verse:004, 005
Dr. Mohsin : And Who brings out the pasturage, And then makes it dark stubble
Pickthal : Who bringeth forth the pasturage, Then turneth it to russet stubble
Yusuf Ali : And Who bringeth out the (green and luscious) pasture. And then doth make it (but) swarthy stubble.

.

পাঠক পাঠিকা বৃন্দ, আপনারা কি এখানে কোন পেট্রোলিয়াম খুজে পান ? এটা তো স্রেফ একটা সাধারন ঘটনার বর্ননা যা মানুষ প্রাগৈতিহাসিক আমল থেকেই জানে। তা হলো- গাছ পালা বা তৃন উদ্ভিদ মাটিতে পড়ে থাকলে তা পচে অনেকটা কাল রং এর আবর্জনায় পরিনত হয়। আর মরুভূমির মধ্যে পড়ে থাকলে পচার সুযোগ না পেলে রোদে পুড়ে পুড়ে তা অনেকটা কালো রং ধারন করে। তো এধরনের একটি সাধারন ঘটনা যা নবী তো বটেই ,এমনকি নবীর আমলের কাফিরাও জানত খুব ভালভাবেই, সেরকম বর্ননা পড়ে ইসলামী পন্ডিতদের উর্বর মস্তিষ্কে মহা তত্ত্বের আবিষ্কার ঘটল আর তা হলো এ সূরাতে পেট্রোলিয়াম তৈরীর কথা বলা হয়েছে সেই ১৪০০ বছর আগে। লক্ষ্য করুন কিভাবে এ মহাতত্ত্ব আবিষ্কার করল তারা ? তাদের অনুবাদে তারা বলছে blackish floodwater যা কিন্তু অন্য অনুবাদকের অনুবাদে নেই যদিও তারা দুনিয়া জোড়া বিখ্যাত ও গৃহীত কোরানের অনুবাদক। আসলে blackish floodwater তো কোরানে বলা হয়নি ওটা ইসলামী নব্য পন্ডিতদের মাথার ঘিলু পচে গলে বের হচ্ছে। তবে এখানে একটা মজার বিষয় মনে হচ্ছে আমার কাছে। । সূরাটাকে ব্যাখ্যা করে আসলে বলতে পারত- যে গাছপালা এক সময় কয়লায় পরিনত হয় যা হতো অনেকটাই যুক্তি যুক্ত। কিন্ত আরব দেশে তো কয়লা খনি নেই আছে তেলের খনি। তাই ব্যাখ্যাটাকে তেলের খনিতে রূপান্তরিত করতে হবে। তাই কাল আবর্জনার পরিবর্তে তারা অনুবাদ করল কাল তরল পদার্থ। কিন্ত ওরা ওটাকে কয়লা খনি বললেও তো বেশ দারুন তত্ত্ব হতো। তা না করে তেল করতে গেল কেন ? এটা হলো নবীর জন্মস্থান আরব দেশকে মহিমাহ্ণিত করার জন্য। আসলেই ইসলামী চিন্তাবিদদের মাথায় বুদ্ধি আছে বটে। এভাবে আসল অর্থকে বিকৃত করে অন্যকে ধাপ্পা দিতে না পারলে কিসের পান্ডিত্য ?

৬ষ্ট তত্ত্ব: THE UNIVERSE IN GASEOUS STATE অর্থাৎ মহাবিশ্বের গ্যসীয় অবস্থা।
www.quranmiracles.com – সাইটের আয়াত-
Then He turned to the heavens, and it was in a gaseous state. And said to it, and the earth; “Come into existence, willingly or unwillingly.” They said, “We come willingly.” 41:11

This is news of the unseen which we reveal to you, which neither you nor your people knew before. So, be patient. Surely the end is for the dutiful. 11:49

http://quranexplorer.com পড়স সাইটের আয়াত-
Verse:011
Dr. Mohsin : Then He rose over (Istawâ) towards the heaven when it was smoke, and said to it and to the earth: “Come both of you willingly or unwillingly.” They both said: “We come, willingly.”
Pickthal : Then turned He to the heaven when it was smoke, and said unto it and unto the earth: Come both of you, willingly or loth. They said: We come, obedient.
Yusuf Ali : Moreover, He Comprehended in His design the sky, and it had been (as) smoke: He said to it and to the earth: “Come ye together willingly or unwillingly.” They said: “We do come (together), in willing obedience.”

www.quraanshareef.org সাইটের আয়াত

অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীর দিকে নজর দিলেন যা ছিল ধুম্র কুঞ্জ, তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন , তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। তারা বলল আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম। ৪১: ১১

আকাশ মন্ডলীর দিকে তাকিয়ে দেখলেন ধুম্র কুঞ্জ। পাঠক.পাঠিকা বৃন্দ আপনারা ঠিক এই মুহুর্তে যদি আকাশের দিকে তাকান তাহলে কি দেখবেন ? হয় পরিষ্কার আকাশ নয়তো মেঘময় আকাশ যাকে ধুম্র কুঞ্জও বলা যায়। কারন মেঘ তো জলীয় বাষ্পের ধুম্র কুঞ্জই। মোহাম্মদ স্রেফ সেকথাই একটু ভাব নিয়ে বলেছেন , আর কিছু নয়। এ কথা বলেই এর সাথে একটু আধি ভৌতিক ভাব জুড়ে দিয়েছেন যার কোন অর্থ হয় না , স্রেফ অযৌক্তিক ও অবাস্তব, কারন আল্লাহ বলছেন তিনি আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীকে কাছে আসতে বা কোন এক জায়গায় আসতে বললেন যা একটা অবাস্তব কথা ছাড়া আর কিছু নয়। কেউ কি কোনদিন শুনেছেন যে আকাশ বা পৃথিবীকে কথা বললে তারা তা শুনতে বা বুঝতে পারে ? তবে আল্লাহ বলে কথা ! তিনি বললে নিশ্চয়ই পাথর ও তার কথা শুনবে , তাই না ? আর কত পাগলামি দেখব? মনে রাখতে হবে যে কোরান কিন্তু কোন রূপকথার গল্প নয় বা নয় ইসপ্ এর নীতি বোধক গল্প যে সেখানে আকাশ পাহাড় পর্বত বা শিয়াল কুকুর পাখি এরা সব কথা বলতে পারবে । এটা আল্লাহর বানী যা তিনি বলেছেন মানুষকে সঠিক পথ নির্দেশের জন্য। তো এখন আল্লাহ মনে হচ্ছে সে কথা ভুলে রূপকথার গল্প জুড়ে দিয়েছেন আর তাই তার কথা শুনে আকাশ আর পৃথিবী স্বেচ্ছায় কাছে চলে এসেছে। এ থেকে আরও একটা বিষয় বেশ পরিষ্কার বোঝা যায় তা হলো কোরানের বিশ্ব আসলেই খুবই ছোট আর তা হলো আমাদের দৃষ্টিসীমা যতদুর যায় ঠিক ততটুকুই। কারন আকাশ তো সাদা চোখে দেখা যায় অর্থাৎ যা আমরা উপরের দিকে তাকালেই দেখতে পাই।এবারে পরের বিষয়ে যাই। বলা বাহুল্য আগেই তা বিশদ ব্যাখ্যা সহকারে বলা হয়েছে। তা হলো- মহা বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে আজ থেকে প্রায় ১৫০০ কোটি বছর আগে আর তখন পৃথিবী তো দুরের কথা আমাদের সৌরজগতেরও কোন অস্তিত্ব ছিল না। এর ও প্রায় ১০০০ কোটি বছর পরে আমাদের সূর্যের সৃষ্টি ও সেই সাথে তার গ্রহ উপগ্রহ তথা আমাদের পৃথিবীর সৃষ্টি। তো সোজা অর্থ হলো পৃথিবীর বয়স বড়জোর প্রায় ৫০০ কোটি বছর। তাহলে সেই ১৫০০ কোটি বছর আগে গ্যাসীয় মহাবিশ্বের মধ্যে আল্লাহ পৃথিবীকে কিভাবে দেখলেন এবং আকাশ ও পৃথিবীকে এক সাথে ডাক দিলেন যখন পৃথিবীরই কোন অস্তিত্ব ছিল না ?আসলে কোরানের এ সব ফালতু বর্ননার সাথে তুলনা হিসাবে মহাবিশ্বের গঠন ও আকার ইত্যাদি নিয়ে কোন আলোচনাই করা যায় না কারন তা করতে গেলে নিজেকেই অনেকটা উজবুক মনে হয়। কিন্তু ইদানিং ইসলামী মহাবিজ্ঞানীদের অতি মাত্রায় বাড়াবাড়ির কারনে তা কিছুটা না করেও পারা যাচ্ছে না। ইসলামী পন্ডিতরা উন্মাদ হয়ে গেল নাকি সবাই ? এভাবে লাগামহীন কথা বার্তা বলে যাচ্ছে বিজ্ঞানের সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু ভালভাবে জানার বা বোঝার তোয়াক্কা না করেই । আল্লাহ কোরানে বলেছেন তিনি সীমা লঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেন না, কিন্তু তথাকথিত ইসলামী মহাবিজ্ঞানীরা তো আল্লাহর বানীকেও তোয়াক্কা করছে না। তাদের কি জাহান্নামেরও ভয় নেই?

দেখা যায় কোরানের মহাজ্ঞানী ও সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তার নিজেরই সৃষ্টি করা মহাবিশ্ব সম্পর্কে আজকের যুগের একটা প্রাইমারী স্কুলের বাচ্চার মতও বর্ননা দিতে পারেন নাই। কোরানে তার বর্ননাটা সেই চোদ্দ শ’ বছর আগেকার মানুষের অতি সীমিত জ্ঞানের চাইতে বেশী কিছু নয়। যার সোজা অর্থ হলো কোরানে মহাবিশ্ব সম্পর্কে যে বর্ননা আমরা পাই তা মোটেই আল্লাহর না, স্রেফ মোহাম্মদের নিজের কথা। আবার তাও তিনি বলেছেন তার নিজের চোখের পর্যবেক্ষনের ওপর ভিত্তি করেই। মরুভুমির ওপর দাড়িয়ে কেউ যদি চারদিকে তাকায় সে দেখবে পৃথিবী একটা বিস্তৃত সমতল ভূমি শুধু এখানে ওখানে বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু পাহাড় পর্বত আছে, আবার ঐসব পাহাড় পর্বত না থাকলে পৃথিবী যে আরও সমতল দেখাত তাও কিন্তু পরিষ্কার ভাবে কোরানে বলা হয়েছে। একই ভাবে মরুভুমির ওপর দাড়িয়ে কেউ যদি সকাল বেলাতে দেখে সে সাদা চোখে সূর্যকে পূর্ব দিকে উদিত হতে দেখবে ও সন্ধায় পশ্চিম দিকে অস্ত যেতে দেখবে। একই সাথে মরুভূমিতে দাড়িয়ে রাতের আকাশের দিকে তাকালে আকাশে অজস্র তারা দেখা যাবে যাদেরকে মনে হবে ছোট ছোট মিটমিটে প্রদীপ, মাঝে মাঝে দেখা যাবে দু একটি উল্কা ছুটে চলে যাচ্ছে যাকে নাকি আবার ছুটন্ত তারা বলে মনে হবে।কোরানে সে রকম একটা বর্ননাই কিন্তু খুব সোজা সাপ্টা ভাবে বলা হয়েছে কোনরকম অতিরঞ্জন ছাড়াই। যা নবী মহম্মদ ছাড়াও যে কোন কাফেরও তখন বর্ননা করতে পারত খুব ভালভাবেই।একটু খোলা মন নিয়ে কেউ যদি কোরান পড়ে তাহলে সে এটাই বুঝবে , অন্য কিছু নয়। তারা জাকির নায়েকদের মত অশ্ব ডিম্ব খুজতে যাবে না। এখন বিচারের ভার পাঠক/পাঠিকাদের ওপর রইল যে কোরান আল্লাহর কিতাব নাকি মোহাম্মদের কিতাব ? সাথে সাথে এ বিচার করারও অনুরোধ জানাই যার ভূগোল ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান নেই বা যে জ্ঞান তিনি আল্লাহর কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন না সে কি আল্লাহর নবী নাকি একটা অতি ধুর্ত ও চালাক লোক ? বলা বাহুল্য, মুসলমানরাই কিন্তু বলে যে মোহাম্মদ একজন নিরক্ষর লোক ছিলেন, কিন্তু তার কোরানে যেহেতু দুনিয়ার যাবতীয় জ্ঞান আছে তাই তা অলৌকিক ও বলা বাহুল্য তাই তিনি আল্লাহর প্রেরিত রসুল। পাঠক/পাঠিকাবৃন্দ আপনারা নিশ্চয়ই নিজেদেরকে সেই ১৪০০ বছর আগের অসভ্য আরবদের সমতুল্য জ্ঞান করেন না , তাহলে আপনাদের ওপর মোহাম্মদের নবুয়ত্বের দাবির সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের বিচারের ভার রইল॥ আশা করি আপনারা আপনাদের সাধারন জ্ঞান ও বুদ্ধি প্রয়োগ করে তা করবেন।

[523 বার পঠিত]