অনার কিলিং এর তত্ত্ব তালাশ

নিষ্ঠূর ও অমানবিক অনার কিলিং প্রথা সম্পর্কে নন্দিনী ও শাফায়েত সম্প্রতি দুটি চমতকার নিবন্ধ লিখেছে। এ লেখা বলা যায় সেই লেখাগুলির ধারাবাহিকতার পথে এক ধাপ সংযোজন। ঐ লেখা দুটির মন্তব্য বিভাগে লক্ষ্য করেছিলাম যে অনার কিলিং এর জন্য আসলে ধর্ম দায়ী কিনা বা দায়ী হলে কতটুকু সেটা নিয়ে বেশ প্রানবন্ত তর্ক জমে উঠেছিল। এই লেখাটিতে আমি মূলতঃ চেষ্টা করব অনার কিলিং এর পেছনের কার্যকারন, ধর্মের কতটুকু ভূমিকা বা আদৌ কোন ভূমিকা আছে কিনা, আইন আদালতের ভূমিকা এসব বিষয়ের একটু ভেতরে যেতে।

অনার কিলিং কি তা আমরা সবাই নিশ্চয়ই জানি। খুব সংক্ষেপে; পরিবারের কোন সদস্যের কারনে পরিবারের সম্মানহানি হলে পরিবারেরই অপর কোন সদস্যের হাতে সেই কথিত ‘অপরাধী’র হত্যাকান্ডকে অনার কিলিং বলে। এর কারন হতে পারে বহুবিধ, তবে মূল শিকার বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই মহিলা। কথিত সম্মানহানির কারন হতে পারে ধর্মীয় ড্রেসকোড না মানা, ধর্ষিতা হওয়া, নিজের ইচ্ছায় স্বামী পছন্দ করা, অন্য জাত বা গোত্রে বিবাহ করা, স্বামীর অত্যাচারে ডিভোর্স চাওয়া, এক্ষেত্রে এমনকি বাপের বাড়িতে ফিরে গেলে তারাও নিজের মেয়ে বা বোনকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করতে পারে। মেয়ে পরপুরুষের সাথে শুধু কথা বললে সেটাও হত্যার যোগ্য অপরাধ বলে ধরা যেতে পারে যেমনটা সম্প্রতি ঘটেছে সৌদী আরবে। এক কিশোরী মেয়ে ফেসবুকে কোন ছেলের সাথে চ্যাট করার অপরাধে বাবার হাতে খুন হয়েছে। স্থানীয় এক শীর্ষ মুফতী এ ঘটনায় হত্যাকান্ডের কোন নিন্দা করেননি, তবে ফেসবুকের নিন্দা করেছেন [১]।

অনার কিলিং প্রথা অনেক প্রাচীন। ঠিক কবে বা কোন যায়গায় এই প্রথার উৎপত্তি তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও প্রাচীনকাল থেকেই বিশ্বের অনেক অঞ্চলেই এই প্রথা ব্যাপক পরিমানে প্রচলিত ছিল। তবে বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে প্রধানত সীমাবদ্ধ। উল্লেখযোগ্য দেশগুলির মধ্যে আফগানিস্তান, ভারত , পাকিস্তান, লেবানন, মিশর, সিরিয়া, ইয়েমেন, মরক্কো, তুরষ্ক, ইসরাইল, প্যালেষ্টাইন; বস্তুত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সব দেশ। তবে সম্প্রতি জার্মানী, ফ্রান্স, ও ইংল্যান্ডের ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটিতেও আশংকাজনক হারে এই কুপ্রথা বাড়ছে। এই তালিকায় সুইডেন ও ইটালীর নামও আছে। অনেকে বাংলাদেশ ভারতের যৌতূক প্রথার বলিদেরও অনার কিলিং এর পর্যায়ভুক্ত করেন। এ ছাড়াও ল্যাটীন আমেরিকার ব্রাজিল ও কলাম্বিয়াতেও আইনী শিথিলতার কারনে স্ত্রী হত্যার হার খুব বেশী (আমাদের দেশের মতই, তবে এদের ঠিক অনার কিলিং বলা যায় না)। তবে ভারতের সতী নারীর আত্মহনন প্রথার মত কালচারের জন্য অনার সুইসাইড নামে আরেকটি আলাদা পরিভাষা ব্যাবহার করা হয়। ইরাকে সম্পতি ৮০ জন ধর্ষিতা মহিলার অনার সুইসাইড স্কোয়াডের ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। পরে বের হয়েছিল যে এসব মহিলাকে সুইসাইড বোম্বার বানাবার জন্য পরিকল্পিতভাবেই ধর্ষন করা হয়েছিল, যাতে তারা নিজেদের সম্মানহানির কারনে সুইসাইডে বাধ্য হয়। ধর্ষিতা হওয়াও যে সেই কালচারে মহা অপরাধ। অনার কিলিং এর এমন নগ্ন রাজনৈতিক ব্যাবহার মনে হয় নজির বিহীন। আরো বিস্ময়কর যে একজন স্বদেশী মহিলাই এর মূল হোতা [২]।

অনার কিলিং প্রবন এই দেশগুলির একটা উল্লেখযোগ্য অংশ সনাতন ইসলামী রষ্ট্র বলে বিবেচিত। যেহেতু সনাতনী ইসলাম দেশগুলিতে সামাজিক সংস্কৃতি, প্রচলিত আইন কানুন বেশীরভাগই ইসলামী বিধিবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয় তাই মনে হওয়া খুব স্বাভাবিক যে অনার কিলিং এবং ইসলামী বিধি ব্যাবস্থার মাঝে হয়ত কোন সম্পর্ক আছে। পশ্চীমা দেশগুলিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু অনার কিলিং এর ঘটনা বিশেষ করে মুসলমান কমিউনিটিতে ঘটার পর অনেকে সরাসরি ইসলাম ধর্মকে দায়ী করছেন, অসংখ্য অয়েব সাইটও আছে এ প্রচারনার পক্ষে। এ বিষয়টাও কিঞ্চিত অনুসন্ধানের চেষ্টা চালিয়েছি, যদিও সিদ্ধান্ত নেওয়াটা বেশ জটিল।

এতে সন্দেহের কোনই অবকাশ নেই যে প্রকট ভাবে পুরুষ শাসিত সমাজেই এই বর্বর প্রথা প্রচলিত। নারীকে মানুষ হিসেবে ন্যূনতম মর্যাদা না দিয়ে পণ্য হিসেবে গন্য করাই এই সমস্যার আদিমূল। সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে মানবাধিকারেরও উন্নতি ঘটছে। ধর্ম এ ক্ষেত্রে কখনো কখনো সংস্কারকের ভূমিকা রাখলেও অনেক সময় আবার প্রাচীনপন্থী অমানবিক কালাকানুনকে বৈধতা দিয়েছে। ধর্মের ব্যাপ্তি যেহেতু সেই ধর্মের নাজিল হবার সময়কালে সীমাবদ্ধ, তার সমাজ সংস্কারকের ভূমিকাও সেই সময়কালেই অনেকটা সীমাবদ্ধ। এখানেই বাধে গোল। ধর্মীয় সংস্কারের বাইরে সমাজ সংস্কারমূলক অনেক কাজের পথেই ধর্মেকে বাধা হিসেবে দাঁড় করানো হয়। যারা বর্তমানে প্রাচীন কালের ধর্মীয় বা চরম পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে মুক্ত হতে পারছে না সেসব সমাজে ধর্ম মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নের সহায়ক না হয়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে বিপরীত ভূমিকাই রাখছে। এরই প্রকৃষ্ট উদাহরন পাকিস্তান সহ মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশগুলি ও ভারত। তবে বিশ্বের যাবতীয় অমানবিক কাজ কারবারই যে ধর্মের কারনে ঘটছে সেটাও সত্য নয়। অনার কিলিং এর বলি যে শুধু মহিলারা হয় সেটাও ঠিক নয়। পুরুষেরাও সম্মান হানির কারন বলে চিহ্নিত মহিলার ক্রাইম পার্টনার হিসেবে সাজা পেতে পারে। যদিও তাদের সাজা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই কম, তারা পালিয়ে গিয়ে বা অর্থের বিনিময়ে প্রান রক্ষা করতে পারে যে বন্দোবস্ত মহিলাদের বেলায় নেই। তাদের মৃত্যুই একমাত্র শাস্তি।

আগেই বলেছি যে অনার কিলিং এর মাত্রা সাধারনভাবে মুসলাম প্রধান দেশগুলি, বিশেষ করে যে সব দেশের আইন ও সামাজিক মূল্যবোধ কট্টর ইসলামী ধ্যান ধারনার ভিত্তিতে গঠিত সেসব দেশে খুব প্রকট, যদিও ইসলাম ধর্মে অনার কিলিং এর কোন অপশন তত্ত্বীয়ভাবে নেই। সে হিসেবে তুরষ্ককে ব্যাতিক্রম বলা যায়। ইউরোপীয় সেক্যুলার ছাঁচের হলেও বিস্ময়করভাবে তুরষ্কে অনার কিলিং এর মাত্রা খুবই ভয়াবহ। সবচেয়ে দূঃখজনক যেটা লেগেছে তা হল যে এ সব দেশের একটা বড় সংখ্যক জনসাধারন যেকোন কারনেই হোক এই বর্বর প্রথার সরব সমর্থক। তাদের কেউ কেউ ধর্ম রক্ষার কারনে এই প্রথার সমর্থক, কেউ আবার ধর্মের কথা সরাসরি না বলে সমাজ ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষার করার জন্য এটা দরকার বলে দাবী করে। কোন দেশের আইন আদালত তো নিয়ন্ত্রিত হয় সে দেশেরই মানুষদের দিয়ে। তাই অনেক ক্ষেত্রে পশ্চীমা দেশগুলির বা মানবাধিকার সংস্থাগুলির চাপে আইন কানুন বদলালেও বাস্তবতার তেমন পরিবর্তন হয় না। যেমন, এমনেষ্টির মতে পাকিস্তানে এসব নানান রকমের নারী নির্যাতনের সহায়ক আইন কানুন সরকার যতটা না বদলায় সে তূলনায় অপরাধের মাত্রা আরো অনেক বেশী বৃদ্ধি পায়।

আমরা এখন অনার কিলিং এর একটি অন্যতম চারন ভূমি পাকিস্তানের অবস্থা কিছুটা দেখার চেষ্টা করব। পাকিস্তানে সরকারী হিসেবে বছরে ১,২০০ মত অনার কিলিং এর ঘটনা ঘটে। এর স্থানীয় নাম কারো-কারি। কারি হল মহিলা ভিক্টিম, কারো হল পুরুষ। যদিও কোন কোন বেসরকারী গবেষনা মতে এই সংখ্যা আসলে ১০ হাজারেরও উপরে হতে পারে। এর একটা বড় অংশ অশিক্ষিত উপজাতীয় অধ্যূষিত এলাকায় হলেও শহরের শিক্ষিত সমাজের মাঝেও এই প্রথা ব্যাপক মাত্রায়ই আছে। অনার কিলিং এর সঠিক উপাত্ত কোন সময়ই পাওয়া যায় না তার একটা বড় কারন এটা অনেক সময় অপরাধ হিসেবেই কেউ রিপোর্ট করে না। নিহতের দেহ বেমালুম গায়েব করে ফেলা হয়। নিজ পরিবারের সম্মতিতে পরিবারের সদস্যরাই হত্যাকান্ডে অংশ নিলে কে আর ঘাটাবে? যেখানে থানা পুলিশ, সমাজ, এমনকি আদালতও সমর্থন দেয়? অনেক সময় আইনের আশ্রয় নেবার পরেও পুলিশ ঘটনা ধামা চাপা দিয়ে দেয়। তারাও তো সেই সমাজেরই লোক। খোদ পুলিশই কখনো কখনো ভিক্টিমকে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা অত্যাচারী পরিবারের কাছে তুলে দেয় অনার কিলিং এর জন্য। যেমন, ৯৯ সালে উত্তর পশ্চীম সীমান্তের লাল জামিলা নামের এক ১৬ বছরের এক বালিকা এক সরকারী অফিস কর্মচারি দ্বারা ধর্ষিতা হলে তার চাচা থানায় মামলা করে। এরপর পুলিশ তাকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেবার নাম করে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা জিরগার কাছে তাকে হস্তান্তর করে। সেই জিরগার সিদ্ধান্তে তাকে ধর্ষিতা হয়ে উক্ত গোত্রের সম্মানহানি হবার কারনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় [৩]।

ইসলামের সাথে অনার কিলিং এর সরাসরি কোন যোগ না থকলেও কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনের উপজাত হিসেবে একটি বড় সংখ্যাক ধর্মগুরু/ মোল্লারা এই প্রথার সমর্থনে সবসময়েই প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে আসছে। যে দেশে এই ধর্গুরুদের হাঁকডাক যত বেশী, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যত প্রভাব সে দেশেই ধর্মের নামে এসব কালো কালাকানুন বেশী। সেজন্যই মুসলিম প্রধান মধ্যপ্রাচ্য বা পাকিস্তানে অনার কিলিং এর স্বপক্ষে মোল্লা জোট সরব, ফলে অনার কিলিং চলে ব্যাপক মাত্রায়। আবার মুসলিম প্রধান বাংলাদেশ বা মালয়েশিয়ায় এসবের কথা তেমন শোনা যায় না (যৌতুকের জন্য হত্যা এ জাতীয় ঘটনাকে এক্ষেত্রে বিবেচনা করছি না)।

জিয়াউল হকের জমানায় ‘৭৯ সালে করে যাওয়া তথাকথিত ইসলামী আইনের নামে হুদুদ, কিয়াস, দিয়াত এ জাতীয় আইন যেগুলিতে নারী অধিকার চরম ভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে সেগুলিও অনার কিলিং এর হার বৃদ্ধির কারন। শুধু যে মোল্লা সমাজই সমর্থন দিচ্ছে তা নয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে সমর্থন এমনকি তাদের শিক্ষিত পার্লামেন্টের সদস্যরাও ব্যাপক পরিমানে দেয়। কার্যকারন একটাই, সমাজ রক্ষা। এ প্রসংগে ৯৯ সালের আরেকটি সাড়া জাগানো ঘটনার উল্লেখ করতেই হয়। এ ঘটনা কয়েকটি কারনে উল্লেখযোগ্য। তার একটি কারন, সাধারনভাবে ধরা হয় বা সরকার দাবী করে যে অনার কিলিং শুধু উপজাতীয় অশিক্ষিত গোত্রগুলির মাঝেই হয়, এ ঘটনা সে ধারনাকে সরাসরি নাকচ করে। দ্বিতীয়ত, অনার কিলিং যে কিরকম বেপরোয়া হতে পারে, আর প্রচ্ছন্ন আইনী সহায়তা পেতে পারে সেটাও এ ঘটনায় কিছুটা বোঝা যায়।

৯৯ সালে সামিয়া সারওয়ার নামের উত্তর পশ্চীম সীমান্ত প্রদেশের এক মহিলা স্বামীর অত্যাচার দাম্পত্য জীবনের ১০ বছর সহ্য করার পর আর একজন লোকের প্রেমে পড়ে। এরপর একদিন মহিলা প্রসূতি অবস্থায় তার স্বামী তাকে লাথি দিয়ে সিড়ি থেকে নীচে ফেলে দেয়। এই ঘটনার পর সামিয়া ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেয় ও পালিয়ে লাহোরে দাস্তক নামের একটি মানবাধিকার সংস্থায় আশ্রয় নেয়। এই সংস্থার সাথে যুক্ত এডভোকেট হিনা জিলানী ও আসমা জাহাংগীর দুই বোন সুপরিচিত মানবাধিকার কর্মী, তারা জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি। সামিয়ার বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা তার নিজের পরিবারই সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। তাদের মতে এতে তাদের পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে। সামিয়ায় মা যিনি পেশায় একজন ডাক্তার; একদিন সামিয়াকে দেখার ছূতায় দাস্তকের লাহোর কেন্দ্রে যান। তিনি অসূস্থ হবার ভান করে সাথে ড্রাইভারকেও আনেন। এরপর সামিয়াকে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আনা হলে সেই ড্রাইভার উপস্থিত এডভোকেট হিনা জিলানীর সামনেই সামিয়ার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে গুলি করে। তার মৃত্যু হয় ততক্ষনাত। এরপর সেই হত্যাকারী হিনা জিলানীর দিকে আর একটি গুলি ছোঁড়ে, যা ভাগ্যক্রমে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় । এরপর হত্যাকারী গ্রুপ যেন কিছুই হয়নি এমনভাবে বেরিয়ে যায়। হিনা জিলানী পরে বলেছেন যে সামিয়ার মা মাটিতে লুটিয়ে পড়া মেয়ের রক্তাক্ত মৃতদেহ একবার দেখার দরকারও মনে করেননি। এই ঘটনা পাকিস্তানেও ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। নারী অধিকার সংস্থাগুলি প্রতিবাদে ফেটে পড়ে [৩] [৪]।

উপস্থিত আইনজীবিরা সামিয়ার মা, চাচা, ও সেই ড্রাইভারের নামে থানায় সুষ্পষ্টভাবে অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি। উত্তর পশ্চীম সীমান্তের সাধারন মানুষ এ ঘটনায় প্রকাশ্যে উল্লাস প্রকাশ করেছে। বিস্ময়করভাবে সামিয়ায় বাবা, যিনি পেশোওয়ার চেম্বার অফ কমার্সের ততকালীন সভাপতি, তিনি ও স্থানীয় মোল্লা গ্রুপ উলটো হিনা জিলানী ও আসমা জাহাঙ্গীরের ইসলামী আইনে মহিলাদের কুমন্ত্রনা দেওয়ার ও বহিঃবিশ্বে দেশের সম্মানহানির দায়ে গ্রেফতারের দাবী জানান। এই দুজন মহিলা আইনজীবিকে হত্যার ফতোয়া জারি করা হয় এবং মাথার দাম ঘোষনা করা হয়। আসমা জাহাংগীর এর বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় চেয়ে, ও ৯৮ সালের আরো ৩০০ অনার কিলিং ঘটনার সুষ্ঠূ তদন্তের দাবী চাইলেও সরকার কোন ভূমিকাই নেয়নি। এরপর সামিয়ার বাবা পেশোয়ারে এই দুই মানবাধিকার আইনজ়ীবির বিরুদ্ধে সামিয়াকে গুম ও খুনের অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করে বসেন। যদিও সে মামলা পরে হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায়।

এই ঘটনা ৯৯ সালের আগষ্টে পাকিস্তানী পার্লামেন্টের আপার হাউজে উঠলে ৮৭ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ৪ জন এই ঘটনার নিন্দা জানান ও এমন ঘটনার বিরুদ্ধে কঠিন আইন প্রয়োগের দাবী জানান। বাকিরা সরাসরি এই দাবীর বিরোধীতা করেন [৪]। আজমল খটক নামের এক সাংসদ মত দেন; যেখানে সম্মানের প্রশ্ন জড়িত সেখানে এমনকি কোনরকম আলোচনারও অবকাশ নেই। একই মত দিয়ে এই বিল এমনকি উত্থাপনেরও অযোগ্য ঘোষনা করেন স্পীকার ওয়াসীম সাজ্জাদ। বিরোধীতাকারিরা তাদের পক্ষে বলেন যে অনার কিলিং অবাধ যৌনতার বিরুদ্ধে সমাজ রক্ষার হাতিয়ার। হিনা জিলানী এ দিনটিকে তার জীবনের কালো দিবস হিসেবে অভিহিত করেন। দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক স্কলার ডঃ মাহমুদ আহমেদ গাজী বিবিসির কাছে এক সাক্ষাতকারে হত্যাকান্ড সরাসরি সমর্থন না করলেও মত দেন যে অনেকের কাছে অবৈধ যৌনাচার হত্যাকান্ডের চেয়ে বড় অপরাধ। কারন তার মতে ইসলাম নৈতিকতার অধপতনের জন্য স্ত্রীকে প্রহার করার অধিকার দেয় [৪]।

এ সময় পারভেজ মোশারফ তার মিত্র পশ্চীমাদের চাপে কিছু সংস্কারমূলক কাজে বাধ্য হন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে অবশেষে অনার কিলিং কে সাধারন হত্যা হিসেবে বিচারের আইন করা হয়, যদিও সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয় মাত্র ৭ বছর, কেবল চরম ক্ষেত্র বিশেষে মৃত্যুদন্ড। যদিও অনার কিলিং উতসাহিত করার জন্য দায়ী হুদুদ আইনের একটি ধারা; হত্যাকারীকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ছাড় দিলে সে বেকসুর মুক্তি পেয়ে যাবে এই ধারাটি বহাল রয়ে যায়।

হুদুদ আইনের এই অমানবিক ধারা রোধ করার জন্য একটি বিল ২০০৫ সালে আবারো পার্লামেন্টে উঠলে সেটাকে সংখাগরিষ্ঠের ভোটে ‘ইসলাম বিরোধী’ বলে বাতিল করে দেওয়া হয়। এই বিলটিতে অনার কিলিং কে সরাসরি চ্যালেনজ় করে ততকালীন সরকারী দল মুসলিম লীগের একজন মহিলা সদস্যা কাশমালা তারিক উত্থাপন করেছিলেন। আইনমন্ত্রী ওয়াসী জাফর ‘৭৯ সালের প্রবর্তিত হুদুদ আইনের আর কোনরকম সংশোধন সরাসরি বাতিল করে দেন। অনার কিলিং এর বিরুদ্ধে সরাসরি কোন আইন প্রনয়ন করা হলে তাদের দেশীয় ও সামাজিক ঐতিহ্য ক্ষুন্ন হবে বলে বক্তব্য দেন জেকোবাবাদ থেকে নির্বাচিত সাংসদ সর্দার সেলিম জান মাজারি [৫] [৬]।

অবশেষে ২০০৬ সালে পশ্চীমা মিত্রদের চাপে পারভেজ মোশারফ হুদুদ আইন সংশোধন করে নারী অধিকার রক্ষার বিল প্রস্তাব করেন (Women Protection Bill), কট্টর ইসলামপন্থী দলগুলির তীব্র বাধার মুখেও এ বিল পাশ হয়। পাকিস্তানের ইতিহাসে এ বিল নারী অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বলা যায় এক ম্যাগনা কার্টা। এই সংশোধনীর আওতায় ধর্ষন অপরাধ কে হুদুদ আইনের কব্জা থেকে মুক্ত করে সাধারন আইনের আওতায় আনা হয়। এ আইনের ফলে আর হুদুদ আইনের আওতায় মেয়েদের জিনার অভিযোগ এনে পুলিশে দেওয়া যাবে না। ধর্ষনের মামলা প্রমানের জন্য ৪ জন চাক্ষুস স্বাক্ষী হাজির করার প্রাচীন আইন ও তাতে ব্যার্থ হলে উলটা অভিযোগকারিনীকেই জিনার দায়ে প্রকাশ্যে পাথর ছুড়ে মৃত্যুদন্ড বা বেত্রাঘাতের উদ্ভট অমানবিক আইন বাতিল হয়। এ আইনের সুফল কতটা হয় তা জানতে আরো কিছু সময় লাগবে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলির মতে এই আইন আসলে হুদুদ আইনকে গ্রহনযোগ্য করবার আরেকটি প্রহসন বলে বর্ননা করেছে। বিখ্যাত ক্রিকেটার ও বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ইমরান খান ও অনুরুপ ধারনাই প্রকাশ করেন [৭]।

অনার কিলিং পাকিস্তানসহ যেসব দেশে রাষ্ট্রীয় মদদে চলে সেসব দেশে দূর্বল আইন ও তার ততোধিক দূর্বল প্রয়োগ এই প্রথার জনপ্রিয়তার একটি বড় কারন। এসব দেশের প্রচলিত আইনের কিছু ফাঁককে নারী বিদ্বেষী আদালতগুলি নিদারুনভাবে অনার কিলিং এর আসামীদের পক্ষে ব্যাবহার করে। অনার কিলিং কে পাকিস্তান, জর্ডানসহ আরো কিছু দেশের আদালত কায়দা করে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকান্ড হিসেবে বিবেচনা করে না। এসব হত্যাকান্ডকে তারা সাময়িক উত্তেজনার বশত হত্যা (পাশ্চাত্য দেশগুলিতে যা ম্যান স্লটার বলে বিবেচিত) বলে চালিয়ে দিয়ে অপরাধীকে লঘু শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেয় (পাকিস্তানের পেনাল কোডের ৩০০-১ ধারা)। হুদুদ আইনে আবার এসব অপরাধী ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ক্ষতিপূরনের টাকা দিলে বা অপরপক্ষ মামলা তুলে নিলে এই লঘু শাস্তিও আর পেতে হয় না। মানুষ খুন করে সম্পূর্ন আইনী উপায়েই দায়মুক্তির চমৎকার ব্যাবস্থা ছিল আগের হুদুদ আইনের ছত্রছায়ায়।

পাকিস্তানের আদালতগুলি, বিশেষ করে নিম্ন আদালতগুলি অনেক ক্ষেত্রেই নারী বিদ্বেষী হয়। আদালতগুলি মহিলাদের কি চোখে দেখতে পারে তার বোঝা যাবে এখান থেকে। পাকিস্তানের মেয়েরা সাবালক অবস্থাতেও নিজের পছন্দমত স্বামী বেছে নিলে বা কারো সাথে পালিয়ে গেলে মেয়ের বাবা মেয়েকে অপহরন করা হয়েছে বলে মামলা দিতে পারে। এক স্বামীর ঘর থেকে ডিভোর্স করে আরেক স্বামী বেছে নিলে আগের স্বামী জিনার দায়ে মামলা করতে পারে। সেক্ষেত্রে আদালত সেসব মেয়েদের মামলা নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নেয়। আদালতের ভাষায় এসব মেয়ের সরকারী নাম “ক্রাইম প্রোপার্টি”[৩]। মানুষকে সম্পত্তি হিসেবে এ যুগে আর কোন দেশের আদালত অভিহিত করে বলে আমার জানা নেই।

মোহাম্মদ ইউনুস নামের এক ব্যাক্তি তার স্ত্রীকে অবৈধ যৌনাচারের দায়ে হত্যা করে। যদিও মেডিক্যাল রিপোর্ট, পারিপার্শ্বিক অবস্থা তার দাবীকে সরাসরি নাকচ করে দেয়, কিন্তু মাননীয় আদালত তার রায়ে বলেন; “অভিযুক্ত ব্যাক্তি নিহত মহিলার দুই সন্তানের জনক, যখন এই লোক তার স্ত্রীকে দেহের বিভিন্ন স্থানে উপুর্যুপুরি ছুরি মেরে হত্যা করেছে তখন বুঝতে হবে যে সেই মহিলা নিশ্চয়ই এমন গুরুতর কোন অন্যায় করেছে যা এই ব্যাক্তিকে ক্রোধান্বিত করেছে” [৩]।

’৯৪ সালে লাহোর হাইকোর্টে আরেকটি অনার কিলিং ঘটনায় লিয়াকত আলী নামের এক লোকের বিচার হচ্ছিল। সে তার নিজ বোনকে ছুরি মেরে গুরুতর আহত করে ও বোনের প্রেমিক বলে কথিত এক লোককে মেরেই ফেলে। তার উকিল আদালতে যুক্তি দেয়, “ইসলামী সমাজে জিনাকারী ধরা পড়লে তাকে প্রকাশ্যে তৎ ক্ষনাত হত্যা করার বিধান আছে, এসব হত্যা মূলত অপরাধ বলেই বিবেচনা করা উচিত নয়, এগুলি ধর্মীয় দায়িত্ব”। বিজ্ঞ জজ সাহেব এই যুক্তির পক্ষে ঐক্যমত প্রকাশ করেন [৩]।

মানবাধিকার সংস্থাগুলির মতে পাকিস্তানের সংঘটিত অনার কিলিং ঘটনাগুলি সবচেয়ে বেশী ঘটে নিজের পছন্দের স্বামী বেছে নেওয়ার কারনে। প্রাপ্ত বয়ষ্ক মেয়েরা নিজের পছন্দের লোকের সাথে বিয়ে করলে সেটাকেও জিনা হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এরপর মেয়ের বাবা বা ভাই সে মেয়ে এবং তার স্বামী উভয়কেই হত্যা করতে পারে। এসব মামলা আদালতে উঠলে জজ সাহেবরা অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীকে ঝোকের মাথায় হত্যা করেছে বিবেচনা করে লঘু দণ্ড দিয়ে ছেড়ে দেয়। পাঞ্জাবের মোহাম্মদ রিয়াজ এবং মোহাম্মদ ফিরোজ নামের দুই ভাইকে নিম্ন আদালত তাদের বোনকে হত্যা করার অপরাধে যাবদজীবন কারাদন্ড দেয়। বোনের অপরাধ ছিল নিজের পছন্দের লোককে বিয়ে করা। আসামী পক্ষ লাহোর হাইকোর্টে আপীল করলে আদালত দারুন বিবচেনা ও মহত্ব দেখিয়ে সাজার পরিমান ১৮ মাসে নামিয়ে দেয় (বিচারের প্রক্রিয়ায় যা তাদের ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েই গেছে)। আদালত তার রায়ে বলেন, “আমাদের সমাজে অনুমতির বাইরে মেয়ে বা বোন নিজের ইচ্ছানুযায়ী স্বামী বেছে নিলে তাদের কেউই ক্ষমা করতে পারে না” [৩]।

অনার কিলিং এর প্রতি রাষ্ট্রীয় মদদের আরেকটি উদাহরন হিসেবে জর্ডানের কথা উল্লেখ করা যায়। নারী অধিকার বিবেচনায় জর্ডান দেশটির সামগ্রিক ইমেজ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলির তূলনায় অনেক উন্নত। তবে সেখানেও অনার কিলিং এর প্রতি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিষ্কার স্বীকৃতি আছে। “According to Article 340 of the criminal code, “A husband or a close blood relative who kills a woman caught in a situation highly suspicious of adultery will be totally exempt from sentence [৮].” কি দারুন আইন। তবে আর্টিকেল ৯৮ আবার কিছুটা উদারতার পরিচয় দিয়ে অনার কিলিং এর জন্য যথাকিঞ্চিত শাস্তির ব্যাবস্থা করেছে। “Article 98, meanwhile, guarantees a lighter sentence for male killers of female relatives who have committed an “act which is illicit in the eyes of the perpetrator [৮].” তবে এই লঘুতর শাস্তির মাত্রা হল সাধারনত ৩ থেকে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদন্ড। তবে এই লঘু শাস্তি লঘুতর করারও মোক্ষম কায়দা আছে। খুনী যদি ১৮ বছরের নীচে হয় তবে আর নো চিন্তা, মাত্র দু’তিন মাস পরেই মুক্তি বা কিশোর সংশধোন কেন্দ্রে পাঠানো হয় যেখান থেকে তারা ক্লীন রেকর্ড নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। রানিয়া আরাফাত নামের ২১ বছরের এক মেয়েকে তার দুই খালা বেড়াতে নিয়ে যায় আম্মান শহরের নির্জন প্রান্তে। সেখানে তার ১৭ বছরের ভাই পরিকল্পিত ভাবে বেরিয়ে এসে বোনকে গুলি করে মারে। বোনের অপরাধ ছিল সে পারিবারিক পছন্দের বিয়েতে সায় দিতে পারেনি [৮]। মধ্যপ্রাচ্যে এভাবে অনেক সময়ই কায়দা করে জল্লাদের ভূমিকায় পরিবারের কনিষ্ঠতম সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

’৯৯ সালে বাদশাহ আব্দুল্লাহ ক্ষমতা নেবার পর অবশ্য বেশ চেষ্টা করেন এই বর্রর প্রথার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যাবস্থা নেবার। কিছু কাজও হয়। যথারীতি মোল্লা চক্র চরম ভাবে বাধ সাধে। ২০০০ সালে তাদের পার্লামেন্টে উপরে উল্লেখিত আর্টিকেল ৩৪০ বাতিল করার উদ্দেশ্যে উত্থাপিত একটি বিল মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় খারিজ হয়ে যায়। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল ইসলামিক একশন ফ্রন্ট এ বিলকে অভিহিত করে; “এ আইন আমাদের ইসলামী, সামাজিক, ও পারিবারিক মূল্যবোধ ধ্বংস করবে, এ আইনের দ্বারা স্বামীদের ক্রোধান্বিত হবার মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তাদের স্ত্রীদের অবৈধ যৌনাচারের কারনে স্বামীদের ক্রোধান্বিত হবার মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে”। এর মাত্র দশ দিন পর অভূতপূর্ব ভাবে ৫০০০ লোক বাদশাহর ভাই এ নেতৃত্বে রাস্তায় এই আইনের বিপক্ষে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে [৮]।

তবে তাতে লাভের লাভ তেমন কিছু হয়নি। বাদশাহ আবদুল্লাহ ২০০১ সালে নিজে উদ্যোগী হয়ে নিজের ক্ষমতায় একটি সাময়িক কঠোর আইন করেন, যা ২০০৩ সালে পার্লামেন্ট বাতিল করে দেয়। ২০০৩ সালে আবারো অনার কিলিং এর বিরুদ্ধে শক্ত আইন প্রনয়নের আরেকটি বিল কট্টরপন্থীদের কারনে বাতিল হয়ে যায়। এই বিল বাতিলের মাত্র একদিন পর এক পরিবারের তিন ভাই তাদের স্বেচ্ছায় স্বামী বেছে নেওয়া দুই বোনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মারে [৯]।

এখানে দুটি কথা বলে নেওয়া ভাল। কেউ কেউ হয়ত মনে করতে পারেন যে পরিবারের কোন মহিলার অনৈতিক বা অবৈধ যৌনাচারের কারনে হত্যা করাটা মাত্রাতিরিক্ত, তবে মহিলাও তো অপরাধী একথা মানতে হবে। তাদের জন্য খবর; কাগজে কলমে বা আদালতে অবৈধ যৌনাচার বা জিনা বলতে কি বোঝায় তা পরিষ্কার নয়। যেমন, পাকিস্তান বা মধ্যপ্রাচ্যে কোন প্রাপ্ত বয়ষ্ক মহিলাও নিজের ইচ্ছায় কোন ব্যাক্তিকে বিয়ে করলে সেটাকেও জিনা হিসেবে বিচার করা হতে পারে। পাকিস্তানের আদালতের উদাহরন আগে দিয়েছি। আদালতের কাছে অনেক সময়ই খুন হয়ে যাওয়া মহিলা জিনা করেছে এই অভিযোগই যথেষ্ট। স্ত্রীর সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে বা স্ত্রী তার পরিবারে বেড়াতে যেতে চেয়েছে এমন ঘটনাও স্বামী জিনার সমতূল্য অপরাধ ধরে নিয়েছে। এমন ঘটনাও আছে যে কোন লোকে রাতে স্বপ্ন দেখেছে যে তার স্ত্রী অন্য কোন লোকের সাথে সম্পর্কে করেছে তার কারনেও সে স্ত্রীকে মেরে ফেলেছে।

জর্ডানের মতই আরো বেশ কটি মধ্যপ্রাচ্যীয় ও উত্তর আফ্রিকার দেশ যেমন সিরিয়া, মরক্কো, তুরষ্কে অনার কিলিং এর পক্ষে এ ধরনের নমনীয় আইন আছে। তবে তুরষ্ক সম্প্রতি এ আইন কিছুটা বদল করেছে। মুসলমান প্রধান দেশগুলির বাইরেও ব্রাজিল, কলম্বিয়া, হাইতিতে একই ধরনের আইন আছে, ফলাফলও অন্যরূপ [১০]। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে পশ্চীমের দেশগুলির মাঝে ইটালীতেও এরকম আইন এই মাত্র সেদিন ‘৮১ সাল পর্যন্ত ছিল। কারন মনে হয় রাষ্ট্রের উপর চার্চের প্রভাব। তার একটি উদাহরন কিছুদিন আগেই সেখানে ঘটেছে। এক লোক তার স্ত্রীকে পিটিয়ে মৃত ভেবে ট্র্যাশ বীনে ফেলে দেয়। মহিলার অপরাধ ছিল সে স্বামীর পরগামিতায় বিরক্ত হয়ে ডিভোর্স চেয়েছিল। মহিলা কোনভাবে ভাগ্যক্রমে বেচে যায়। এই মামলা আদালতে উঠলে স্থানীয় চার্চের যাজক একে ভালবাসার কারনে হামলা বলে দাবী করেন ও তারা উলটা মহিলার বিরুদ্ধে স্বামীকে গ্রহন না করার অপরাধে মামলা ঠুকে বসেন [১১]।

ভারতেও অনার কিলিং এর বেশ কিছু ঘটনা প্রতি বছর ঘটে। এর অধিকাংশই মূলত ঘটে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, ও উত্তর প্রদেশের গ্রাম্য এলাকায়। এ ছাড়া বিহার রাজস্থান উল্লেখযোগ্য। সতী নারীর আত্মহনন (কিছু ক্ষেত্রে বলপূর্বক) যা দুয়েকটা ঘটে তার সবই রাজস্থানে। ভারতে অনার কিলিং ঘটে থাকে মূলত সনাতন হিন্দু ধর্মীয় জাত প্রথার কারনে। জাতপাতের কঠোর প্রথা ভংগ করে অন্য জাতে কেউ বিয়ে করলে অনেক ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় যে পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে, তখন পারিবারিক সিদ্ধান্তে ঘটানো হয় অনার কিলিং। সাধারনত কোন দেশে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেলে এসব গোড়ামী কমে। তবে আশংকার কারন হচ্ছে কিছু মানবাধিকার সংগঠন রিপোর্ট করছে যে বর্তমানে ভারতের বিপুল অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে অনার কিলিং বেড়ে যাচ্ছে। কারন তাদের মতে এর ফলে মানুষ বহির্মূখী হচ্ছে বেশী, ভিন্ন জাতের লোকের সাথে মেলামেশা বাড়ছে।

তবে আশার কথা হল, মধ্যপ্রাচ্যীয় বা পাকিস্তানের মত ভারতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এই বর্বর প্রথাকে উৎসাহিত করা হয় না। ভারতের আদালতে ওসব দেশের মত অনার কিলিং এর জন্য কোন আলাদা নমনীয় ব্যাবস্থা নেই, সাধারন হত্যা হিসেবেই বিচার করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় পঞ্চায়েত এসবে উৎসাহ দিলেও জাতীয় পর্যায়ে উগ্র ধর্মীয় নেতারা এসব প্রথার বিরুদ্ধে আইন আদালতকে হুমকি দেয় না। ‘৮৭ সালের বহুল প্রচারিত রুপকানওয়ারের চিতার আগুনে মৃত্যুর ঘটনার পর রাজ্য সরকার এর বিরুদ্ধে কঠোর আইন করে, কেন্দ্রীয় সরকারও সতী প্রতিরোধ আইন নামে নুতন আইন প্রনয়ন করে, ধর্মীয় কোন সংগঠন এসবে আপত্তি জানায়নি। সরকারের ভূমিকাও কঠোর। তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরন গত বছরই অনার কিলিংকে এই শতকের কলংক হিসেবে বর্ননা করেছেন। তিনি কঠোর ভাষায় স্থানীয় ধর্মীয় পঞ্চায়েতগুলির ভূমিকারও নিন্দা করেন [১২]।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে অনার কিলিং কোন নির্দিষ্ট ধর্ম বা দেশের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল ধর্মে নয়, তবে নি:সন্দেহে ধর্মের নামে বেশ ধর্মীয় নেতা মোল্লা পুরুত এসব কাজ সরবে সমর্থন করেন। সাধারন মানুষও ধর্মের নামে অন্ধ হয়, পুরুষতন্ত্রকে জিইয়ে রাখার জন্য নিজের বিচার বিবেকে হারিয়ে এমনকি ধর্মে আসলেই কি আছে তাও জানতে চায় না। যেমন, ইসলাম ধর্মে স্বেচ্ছায় স্বামী বেছে নেবার কারনে হত্যার কোন বিধান নেই। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের অনার কিলিং এর একটি বড় কারন হল এটি, যার পেছনে স্থানীয় মোল্লা গ্রুপের সক্রিয় সমর্থন আছে, সমাজ ও রাষ্ট্রেরও রয়েছে এ ধরনের হত্যার পেছনে প্রচ্ছন্ন সমর্থন। আজকের বিশ্বে অনার কিলিং এর সবচেয়ে বড় শিকার মুসলিম সমাজেই। এমনকি পাশ্চাত্য দেশে এর আমদানীও মূলত ঘটছে মধ্যপ্রাচ্য ও পাকিস্তানী অভিবাসীদের দ্বারা। যদিও আজকাল মুসলিমদের মাঝেই অনেকে এর বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন, ধর্মের চোখেই দেখাতে চেষ্টা করেছেন যে এই প্রথা কত বর্বর। ধর্মে এসব মোটেও বলা নেই, মাত্র গুটি কয়েক গ্রাম্য অশিক্ষিত মোল্লার কারনে ধর্মের নিন্দা করা অন্যায় এ জাতীয় দায় এড়ানো কথায় ক্ষতি হয় নিজেদেরই। মাত্র গুটি কয়েক লোকের কারনে বদনাম হলে তাদের সমর্থন না দিয়ে বর্জন করাটাই যুক্তিযুক্ত। তা না করে উলটা এসব বর্বর প্রথার সমালোচনাকারীদের গণহারে ধর্ম বিদ্বেষী এ ধরনের কথা বলা খারাপ ছাড়া ভাল ফল আনবে না। নিরপক্ষ মানুষ কোরান, হাদীস, বেদ, গীতা ঘেটে গবেষনা করতে যাবে না ধর্মে আসলেই কি বলা আছে তা দেখতে। সে ধর্মকে সেই ধর্মের কড়া অনুসারী বলে দাবীদারদের আচরন দিয়েই বিচার করবে। পাশ্চাত্য বিশ্বে সেটাই ঘটছে।

প্রশ্ন উঠতে পারে যে এই সমস্যার সমাধান কি? সমাধান বলা খুব সহজ, তবে কাজে পরিনত করা মোটেও সহজ নয়। কঠোর আিন প্রনয়ন অবশ্যই অতি অবশ্যই দরকার। তবে সাধারন অনার কিলিং প্রবন দেশগুলির সাধারন মানূষের মন থেকে মহিলাদের সনাতনী ধ্যান ধারনায় পণ্য হিসেবে গণ্য করার মারাত্মক সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হতে না পারলে কাগুজে আইন কানুন ও তেমন কিছু করতে পারবে না। এটা একটি সামাজিক বিপ্লবের সমতূল্য।

রেফারেন্সঃ
[১] http://www.telegraph.co.uk/news/worldnews/1583420/Saudi-woman-killed-for-chatting-on-Facebook.html
[২] http://www.timesonline.co.uk/tol/news/world/iraq/article5661466.ece
[৩] http://www.amnesty.org/en/library/info/ASA33/018/1999
[৪] http://news.bbc.co.uk/2/hi/programmes/correspondent/909948.stm
[৫] http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/4311055.stm
[৬] http://www.taipeitimes.com/News/world/archives/2004/07/24/2003180222
[৭] http://en.wikipedia.org/wiki/Hudood_Ordinance
[৮] http://www.gendercide.org/case_honour.htm
[৯] http://news.bbc.co.uk/2/hi/middle_east/3094736.stm
[১০] http://www.legalserviceindia.com/article/l243-Violence-against-woman—Issue-Of-Honor-killing.html
[১১] http://www.stophonourkillings.com/?q=node/4267
[১২]http://www.thaindian.com/newsportal/uncategorized/honour-killings-a-shame-on-india-chidambaram_100224214.html

মন্তব্যসমূহ

  1. সৈকত চৌধুরী মার্চ 26, 2010 at 10:42 অপরাহ্ন - Reply

    কোনো কু-প্রথাই একেবারে শূণ্য থেকে আসে না, এর জন্য পূর্ব থেকে একটা ভিত্তি থাকতে হয়। নারীর প্রতি ঋণাত্বক দৃষ্টিভঙ্গি আসলে পুরুষতন্ত্র থেকে এসেছে আর পুরুষরাই যেহেতু ধর্মের স্রষ্টা ও কর্ণধার তাই পুরুষতন্ত্রের নায়কেরা নারী-শোষণে ধর্মকে মোক্ষম অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে আসছে।

    আমার খুব দূঃখ লাগে যখন দেখি আমাদের দেশের বেশির ভাগ নারী তাদের সর্বনাশের মূল কারণ পুরুষতন্ত্র ও ধর্মকে তোষণে ব্যস্ত।

    আদিল ভাইয়ের গবেষণাধর্মী প্রবন্ধটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো।

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 26, 2010 at 11:18 অপরাহ্ন - Reply

      @সৈকত চৌধুরী,

      কথা সত্য।

      অনার কিলিং হল পুরুষতন্ত্রের বানানো একটা কালচার। মানুষের স্বাভাবিক বিচার বুদ্ধি যাতে এগুলির বিরদ্ধে মাথা তুলতে না পারে সেজন্য ব্যাবহার করা হয় ধর্ম বা সংস্কৃতিকে।

  2. leena মার্চ 26, 2010 at 8:59 অপরাহ্ন - Reply

    লেখাটা পড়ে মন মেজাজ এতো খারাপ হল যে লিখে বোঝাতে পারবনা। অনার কিলিং কিভাবে মানবতাকে ডিসঅনার করেছে এবং এখনো করে চলেছে ভেবে রাগ লাগছে। আমি অনার কিলিং বিষয়টা ভালভাবে জানতামনা। লেখাটি প্রকাশ করে আমার রাগ উঠানর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচছি।

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 26, 2010 at 9:43 অপরাহ্ন - Reply

      @leena,

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

      রাগের মাথায় লেখকের খোঁজে লাঠি হাতে যে বেরিয়ে পড়েননি সেজন্য ডবল ধন্যবাদ 🙂 ।

      তবে মানুষকে রাগানোটা এ জাতীয় লেখার একটি উদ্দেশ্য। ধর্ম, কালচার এগুলির নামে যে কত অমাবনিক বর্বরতা আমাদের চোখের সামনে এই শতকেও বিনা বাধায় চলছে তা কোন শুনলে যেকোন সূস্থ মাথার মানুষেরই রাগা উচিত।

      • leena মার্চ 27, 2010 at 10:36 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ,
        লাঠি নিয়ে বের হতে চেয়েছিলাম। আপনাকেও হয়তো খুঁজতাম, তবে লাঠির বাড়িগুলো শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা

        এবং আপনার লেখায় বণিত অন্যান্য ব্যক্তিদের জন্য যারা এই খুন থুক্কু সম্মাঞ্জনক প্রথা (!!!!)তাদের সমাজের জন্য জরুরি মনে করেন ও মনে প্রানে সমরথন করেন।
        :guli:

        • leena মার্চ 27, 2010 at 9:05 অপরাহ্ন - Reply

          অনভিজ্ঞতার কারণে উপরের মন্তব্যে কিছু ভুল হয়েছে। সংশোধন করে দিচ্ছিঃ
          লাঠি নিয়ে বের হতে চেয়েছিলাম। আপনাকেও হয়তো খুঁজতাম, তবে লাঠির বাড়িগুলো শুধুমাত্র তাদের জন্য
          যারা মনে করে

          এবং আপনার লেখায় বণিত অন্যান্য ব্যক্তিদের জন্য যারা এই খুন থুক্কু সম্মাঞ্জনক প্রথা (!!!!)তাদের সমাজের জন্য জরুরি মনে করেন ও মনে প্রানে সমরথন করেন।

    • সৈকত চৌধুরী মার্চ 26, 2010 at 11:04 অপরাহ্ন - Reply

      @leena,
      মুক্তমনায় আপনার নিয়মিত উপস্থিতি আমাদের কাম্য। অনেক ধন্যবাদ।

  3. আবুল কাশেম মার্চ 25, 2010 at 7:06 পূর্বাহ্ন - Reply

    লেখাটি খুব উঁচু মানের, বাস্তবিক, এবং আপ টু ডেট। আমাদের সংবাদ পত্রে এই লেখাটি প্রকাহ করা উচিত।

    তবে আমার সন্দেহ হয়, যেহেতু বাংলাদেশ এখন ইসলাম প্লবিত, তাই এ লেখা কোন সংবাদ অথবা কোন প্রধান মিডিয়াতে স্থান পাবে না; কারন এই লেখায় পরোক্ষ ভাবে হলেও ইসলাম কে ধরা হয়েছে।

    লেখককে সাধুবাদ জানাই, কঠোর পরিশ্রম করে এই লেখাটি উপহার দেবার জন্য।

    আবুল কাসে্ম

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 25, 2010 at 9:08 অপরাহ্ন - Reply

      @আবুল কাশেম,

      ধন্যবাদ।

      কেউ নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে আমার এই লেখা পড়লে আমি আমি ধর্ম বিরোধী কিছু লিখেছি মনে করার তেমন কারন নেই। আমি বরং উল্টাই করেছি। ধার্মিকদের কিছু আচরনের সমালোচনা করেছি, তার উপযুক্ত কারন দিয়েছি।

      তারপরেও জানি যে এ ধরনের লেখা আমাদের দেশের মূলধারার কোন পত্রিকা ছাপাবে না। শখ করে কে তোপের মুখে পড়তে চাইবে?

  4. স্বাধীন মার্চ 24, 2010 at 10:32 অপরাহ্ন - Reply

    আদিল ভাইকে ধন্যবাদ এ রমকম পরিশ্রমসাদ্ধ (বানান ঠিক আছে কিনা বুঝতে পারছি না) একটি লেখা দেওয়ার জন্য। অভিজিৎ’দা যেমন বলেছেন, দাস প্রথা কিংবা পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থার ইতিহাস অনেক পুরোনো। নানান সময়ে ধর্ম সেগুলোকে ধারণ করেছে। শুধু ধর্ম নয় দর্শনেও দাস প্রথা কিংবা পুরুষ প্রধান সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে দেখতে পাই। সভ্যতার একটি সময়ে হয়তো পুরুষদের ঘরের বাহিরে আর মেয়েদের ঘরের ভেতরের কাজগুলো করতে হয়েছে এবং সেভাবেই সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। কিন্তু এখন একবিংশ শতাব্দীতে এসেও নারীদের সেভাবে বন্দী করে রাখার কোন যুক্তি নেই। আর অনার কিলিং তো নয়ই।

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 25, 2010 at 9:23 অপরাহ্ন - Reply

      @স্বাধীন,

      কিছু লোক নিজ স্বার্থে বা অন্ধবিশ্বাস বশতঃ এসন কুপ্রথা চিরজীনবন জিইয়ে রাখতে চায়। ক্ষেত্র বিশেষে সমাজ রাষ্ট্রের সহযোগিতা পায়। এটাই বাস্তবতা।

  5. বিজয় মার্চ 24, 2010 at 10:22 অপরাহ্ন - Reply

    নিষ্ঠূর ও অমানবিক অনার কিলিং প্রথার মুল খুঁজতে গেলে আপনাদের এ বিষয়টাকে ‘নৃতাত্ত্বিক এবং সামাজিক মনোবিজ্ঞানের’ আলোকে বিশ্লেষণ করতে হবে । যেসব জন গোষ্টীর মাঝে অনার কিলিং প্রথার প্রচলন রয়েছে তাদের সংস্কৃতি ও চিন্তা চেতনায় সব সময় কাজ করে চরম ভাবাপন্ন ‘গর্ব’ এবং ‘লজ্জার’ মধ্যকার এক সার্বক্ষনিক এবং চরম ভাবাপন্ন দ্বন্দ্ব । প্রাচীন গ্রীস এবং রোমে অনার কিলিং এর চর্চা ছিল ।
    জ়াপানী সংস্কৃতি অন্ত্রর্মুখী হওয়ায় সেখানে এখনো একই কারনে অন্যকে হত্যার পরিবর্তে আত্মহত্যা বেশী।নৃতাত্বিক এবং সামাজিক মনস্তত্বের বিবর্তনেই জাতিগোষ্ঠী পর্যায়ে পাশ্চাত্যে এ জিনিসটি অনেক আগেই ঈশ্বরের সাথে এক সঙ্গে বিলুপ্ত হয়েছে । তাই পাশ্চাত্যে এধরনের প্রথা আর নেই ।
    ‘গর্ব’ এবং ‘লজ্জার’ বাহিরেও মানুষ ভালোভাবে বাঁচতে পারে । দুটা ছোট উদাহরন দেয়া যাক ।
    গর্ব – পাশ্চাত্যের দেশ গুলিতে বিশেষ করে ,ইউরোপে জাতীয় সঙ্গীত স্কুল-কলেজে গাওয়া হয়না।
    লজ্জা – পাশ্চাত্যে বিবাহ বহির্ভুত সন্তান জন্মদান একটি অতি স্বাভাবিক ব্যপার ।

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 25, 2010 at 9:11 অপরাহ্ন - Reply

      @বিজয়,

      খুবই সত্য কথা। অনার কিলিং এর আদি মূল সমস্যা হল “অনার” কথাটি নিয়ে। অনার বলতে কি বোঝায় সেটাতেই গলদ।

  6. অভিজিৎ মার্চ 24, 2010 at 6:52 অপরাহ্ন - Reply

    লেখাটা আমার কাছে বেশ ভাল লাগল। শুধু ধর্ম নয়, ধর্মের বাইরেও মানবেতিহাসের দ্বার উন্মোচন করে অসঅংখ্য দৃষ্টান্ত হাজির করা হয়েছে। আদিল মাহমুদকে তার পরিশ্রমের জন্য সাধুবাদ জানাই। আদিল মাহমুদ ঠিকই বলেছেন, অনার কিলিং এর ইতিহাস প্রাচীন। সেগুলো সামাজিকভাবে কোন কোন জায়গায় মহান মনে করা হত বলেই ধর্ম প্রত্যক্ষ ইন্ধন যোগাতে পেরেছে। অনেকটা দাস ব্যবস্থার মতো। দাসব্যবস্থা প্রাচীন সংস্কৃতির অংশ ছিলো বহু আগেই, আর পরে ধর্ম যুগিয়েছে প্রত্যক্ষ ইন্ধন। কোন ধর্মেই দাসত্বপ্রথার বিরোধিতা করা হয়নি, বড় জোর দাসদের প্রতি ‘ভাল ব্যবহারের’ নির্দেশ আছে ক্ষেত্র বিশেষে। মানব সভ্যতাকে এগুতে হয়েছে এগুলোকে অতিক্রম করেই। তবে ধর্মের প্রত্যক্ষ ইন্ধন থাকলে বহুক্ষেত্রেই সেটা পেছনে ফেলে এগুনো কঠিনই হয়ে দাঁড়ায়। সেজন্যই ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রগুলোতে অনর কিলিং এর আধিক্য চোখে পড়ে। আসলে ধর্মের কুৎসিৎ আইনগুলো বরাবরই ব্যবহৃত হয়েছে সমাজের অগ্রগতির অন্তরায় হিসেবে।

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 24, 2010 at 8:52 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ,

      ধন্যবাদ।

      আপনাদের আশীর্বাদ হোক এই অধমের পাথেয়!

  7. আতিক রাঢ়ী মার্চ 24, 2010 at 5:37 অপরাহ্ন - Reply

    খুব সুন্দর লেখা। পড়তে ভাল লেগেছে। বেশ বড় লেখা, কিন্তু পড়ার সময় মনে হয়নি। এটা আমার কাছে ভাল লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট। আদিল ভাই কে তার পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ।
    পকিস্থান ও কিছু আরব দেশের এমন চিত্র ফুটে উঠেছিলো যে নীজের ভাগ্যকে ধন্য মনে হছিলো যে ওখানে আমকে জন্মাতে হয়নি বা থাকতে হচ্ছে না। তবে যারা অমন অন্ধকার উবস্থার মধ্যে দিয়ে এখনও যাচ্ছেন তাদের কথা ভেবে খুবই কষ্ট হচ্ছে।

    আমি রণদীপম দার কথার সাথে পুরিপুরি একমতঃ

    সভ্যতার এই লগ্নে এসে আমরা এখনো বুঝতে পারছি না যে ধর্মটা আক্ষরিক অর্থেই একটা বিষফোঁড়ার মতো অহেতুক (?) লটকে আছে ! এটাকে ছেঁটে ফেলতে পারলে সর্বগ্রাসী পুরুষতন্ত্রের মেরুদণ্ডটা ভেঙে যেতো। আর তখনই অনেক অনেক সামাজিক সমস্যা সুরাহার পথটা খুব সহজভাবেই খুলে যেতো।

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 24, 2010 at 7:11 অপরাহ্ন - Reply

      @আতিক রাঢ়ী,

      ধন্যবাদ। বড় করতে চাইনি, তাও কিছু উদাহরন দিতেই হয় নাহলে সমস্যা বোঝা যাবে না।

      পাকিস্তানের এসব ঘটনা যতই জানিন ততই মনে হয় যে স্বাধীনতার পুরো সুফল না পেলেও অন্তত পাকিস্তান নামক দেশের নাগরিকত্বের পরিচয় বহন করার জ্বালা থেকে সারা জীবনের জন্য বাচা গেছে। এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে!

      পাকিস্তানে এখনো আরো নানান পিলে চমকানো অমানবিক কার্যকলাপ চলে; যেমন শেকল বাধা কৃতদাস, ভানী, ব্লাড মানি এসব।

      • পথিক মার্চ 24, 2010 at 8:02 অপরাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ,

        পাকিস্তানের এসব ঘটনা যতই জানিন ততই মনে হয় যে স্বাধীনতার পুরো সুফল না পেলেও অন্তত পাকিস্তান নামক দেশের নাগরিকত্বের পরিচয় বহন করার জ্বালা থেকে সারা জীবনের জন্য বাচা গেছে। এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে!

        এক্কেবারে মনের কথাটা বলে দিলেন চাচা।তাদের পতাকাটাই অবৈজ্ঞানিক দেশটার কথা আর কি বলব!আপনার লেখাটাও দারুণ হয়েছে।অনেক কিছু জানতে পারলাম।এই রকম বিষয়গুলোতে আরও লেখা চাই।ধর্ম আসলে অনার কিলিং এর জন্য সরাসরি দায়ী নয়,তবে ধর্মের উপস্থিতি এই সব কু প্রথার গোড়ায় জল দেয় এবং একে জাস্টিফাই করতে ব্যবহৃত হয়।

        • আদিল মাহমুদ মার্চ 24, 2010 at 8:24 অপরাহ্ন - Reply

          @পথিক,

          ধণ্যবাদ।

          পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ আসলে আসল মজা টের পেতে পারেন। তাদের সুনাম এমনই যে আমেরিকা কানাডার পাসপোর্ট পাবার পরেও অনেক যায়গায় তাদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়।

          “ধর্ম আসলে অনার কিলিং এর জন্য সরাসরি দায়ী নয়,তবে ধর্মের উপস্থিতি এই সব কু প্রথার গোড়ায় জল দেয় এবং একে জাস্টিফাই করতে ব্যবহৃত হয়।”

          আমি আসলে একই কথাই বলতে চেয়েছি, সাথে এইটুকু যোগ করতে চেয়েছি যে বেশীরভাগ ধর্ম ওয়ালা লোকে এসব কুপ্রথার বিরুদ্ধে ধর্মের প্রতি বাড়াবাড়ি সংবেদনশীলতার জন্য সরব হতে চান না, উলটা নানান কুযুক্তি দেন ও আক্রমনাত্মক অবস্থান নিয়ে ফেলেন। এই মানসিকতা ত্যাগ করতে না পারলে ধর্ম মানুষের ভালর জন্য আছে এসব মহান বানী প্রহসনের মতই শোনাবে।

          • আকাশ মালিক মার্চ 24, 2010 at 8:38 অপরাহ্ন - Reply

            @আদিল মাহমুদ,

            আবারো ধণ্যবাদ?

            লেখা কিন্তু ভাল হয়েছে। :yes:

            • আদিল মাহমুদ মার্চ 24, 2010 at 8:47 অপরাহ্ন - Reply

              @আকাশ মালিক,

              স্বভাব কি আর যায়?

              এবারে সহি ধন্যবাদ।

  8. একা মার্চ 24, 2010 at 11:12 পূর্বাহ্ন - Reply

    লেখক কে সাধুবাদ জানাই এমন একটা সুন্দর লেখা উপহার দেবার জন্য ,আর ঐ যে ,

    পল্টনের মোড়ে গিয়ে খালি একবার ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু বলে দেখেন, দেখবেন গুটিকয়েক মানে কি জিনিস। শিক্ষিত অশিক্ষিত নির্বিশেষে হামলে পড়বে। :yes:

    আমি ও একমত এই কথায় । 🙂

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 24, 2010 at 8:54 অপরাহ্ন - Reply

      @একা,

      ধন্যবাদ, মানবতার বিরুদ্ধে এ জাতীয় প্রথার বিরুদ্ধে সবারই সরব হওয়া উচিত।

  9. রণদীপম বসু মার্চ 24, 2010 at 2:53 পূর্বাহ্ন - Reply

    সভ্যতার এই লগ্নে এসে আমরা এখনো বুঝতে পারছি না যে ধর্মটা আক্ষরিক অর্থেই একটা বিষফোঁড়ার মতো অহেতুক (?) লটকে আছে ! এটাকে ছেঁটে ফেলতে পারলে সর্বগ্রাসী পুরুষতন্ত্রের মেরুদণ্ডটা ভেঙে যেতো। আর তখনই অনেক অনেক সামাজিক সমস্যা সুরাহার পথটা খুব সহজভাবেই খুলে যেতো।
    এজন্যেই বিজ্ঞানমনস্কতার সামাজিক আন্দোলন অবশ্যই প্রয়োজন। কেননা শিক্ষিত হলেই চক্ষুষ্মান হওয়া যায় না; এজন্যে প্রয়োজন মানবিক বোধ, যা কোনক্রমেই ধর্মীয় গোঁড়ামোর মধ্যে থাকে না।

    • ব্রাইট স্মাইল্ মার্চ 24, 2010 at 5:46 অপরাহ্ন - Reply

      @রণদীপম বসু,

      এটাকে ছেঁটে ফেলতে পারলে সর্বগ্রাসী পুরুষতন্ত্রের মেরুদণ্ডটা ভেঙে যেতো।

      পুরুষতন্ত্রের মেরুদণ্ডটা ভেঙে যাক এটা আসলে কতজন পুরুষমানুষ চায়? মেয়েদের সম্ন্মান, অধীকার ইত্যাদি হয়তো মানবিক বোধ সম্পন্ন যে কোন পুরুষমানুষই চায়, কিন্তু মেয়েদের স্বাবলম্বিতা, স্বনির্ভরতা এক কথায় স্বাধীনতা সত্যিকার অর্থে কতজন পুরুষমানুষের কাম্য সেটাও একটু ভাববার বিষয়।

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 24, 2010 at 6:15 অপরাহ্ন - Reply

      @রণদীপম বসু,

      ধন্যবাদ।

      ব্রাইট স্মাইলের নীচের কমেন্ট দেখুন। ধর্ম অমানবিক নির্যাতনের পেছনে ব্যাবহার করা হচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। ধর্মের এই বিষদাঁত কোনক্রমেই মুখ বুজে সওয়া যায় না। ধর্মহীন সমাজ রাতারাতি করা যাবে না।

      তবে ধর্ম চলে গেলেই যে নারী নির্যাতন বা যাবতীয় সব অনাচার চলে যাবে সেটা কিন্তু না। ধর্মের বিষদাঁতহীন পশ্চীমেও কিন্তু নারী নির্যাতন অতটা মারাত্মক না হলেও ভালই চলে।

      মেয়েদের সত্যিকার অর্থে স্বাধীন স্বাবলম্বী না করতে পারলে শুধু ধর্ম দূর করলেও সমস্যা থেকেই যাবে।

  10. আনাস মার্চ 23, 2010 at 11:42 অপরাহ্ন - Reply

    ধর্মের সাথে সরাসরি সংযোগ না থাকলেও পরোক্ষ সংযোগ অবশ্যই আছে। ইসলামে নারীর অভিভাবক একজন পুরুষ। মাহরাম ব্যাতীত নারীদের জন্য হজ করাও অবৈধ এবং অনেক দেশে ঘরের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ। ধর্ম নানাভাবে মেয়েদের অধীকারগুল পুরুষের অধীনস্ত করে দিয়েছে। পুরুষ যখন উপযুক্ত সময় মনে করবে, তখনি মেয়েরা অধীকারগুল পেতে পারে।

    নিজেকে দিয়েই বিচার করি। কয়েক বছর আগেও কল্পনা করতে পারতাম না যে কোন মুসলিম ভাই এর বোন নিজে পছন্দ করে জীবন সংগী খুজে নেবার অধীকার আছে। অথবা একা তার বাইরে যাবার অধীকার আছে। এসব ক্ষেত্রে নিরাপত্তার একটা ব্যপার থাকলেও ধর্মীয় অনুভুতিই প্রবল ভাবে কাজ করে। ধর্ম নানাভাবে এ অনুভুতি দিয়ে রেখেছে যে নারী কাচের একুরিয়ামে রাখা গোল্ডেন ফিশ মাত্র। একে খুব সাবধানে নড়াচড়া করতে হবে।

    এসব ক্ষেত্রে মুসলিম সমাজের মনভাবও অনেক নিচ ও জঘন্য প্রকৃতির। নারী মুক্তির কথা বললে এরা আপনাকে উত্তর দিবে আপনার মা বোন নষ্ট হতে দিতে পারেন কিন্তু আমরা আমাদের মা বোনদের সম্মান রক্ষা করব। এরা ভাবতে পারে না যে একটা পুরুষও নষ্ট হয়। নারীদেরকে এরা মানুষ মনে করলে এরকম ভাবতে পারত না।

    শিক্ষিত অনেকে ভাবেন ধর্মে এগুল বলা নেই, অথচ তারা ভুলে যান তাদের এ ধারনা ধর্মের শিক্ষা নয় বরং আধুনিক ও উন্নত সভ্যতার শিক্ষা লাভের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে। তাই মুক্তচিন্তার প্রসার না ঘটলে এসব অমানবিক প্রথার অবসান হবে না।

    আপনার এ লিখা পড়ার পরও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে এরকম অমানবিক ব্যাপার এ যুগেও এত ব্যপক ভাবে ঘটতে পারে!

    • আকাশ মালিক মার্চ 24, 2010 at 12:03 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আনাস,

      ধর্ম নানাভাবে এ অনুভুতি দিয়ে রেখেছে যে নারী কাচের একুরিয়ামে রাখা গোল্ডেন ফিশ মাত্র। একে খুব সাবধানে নড়াচড়া করতে হবে।

      সহমত :yes: :yes:

    • ফুয়াদ মার্চ 24, 2010 at 7:26 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আনাস,

      একেবারে স্বঘোষিত যুক্তিবাদী মানবতাবাদীদের মত যুক্তি দিয়েছেন, একেবারে সমস্যার মূলে কুঠারো আঘাত করেছেন। এবার সমস্যাটি আপনার বক্তব্য থেকেই ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

      ধর্ম নানাভাবে এ অনুভুতি দিয়ে রেখেছে যে নারী কাচের একুরিয়ামে রাখা গোল্ডেন ফিশ মাত্র। একে খুব সাবধানে নড়াচড়া করতে হবে।

      হা ঠিক-ই বলেছেন, একেবারে স্বঘোষিত যুক্তিবাদী মানবতাবাদীদের মনের কথা, নারী কে কাচের একুরিয়ামে রাখে দিয়েছেন, অন্যরা দেখে আনন্দ পায়, আর একুরিয়ামের মালিক রা, কিছু খাবার দিলে খায়, নাইলে খায় না। এই না হইলো স্বঘোষিত যুক্তিবাদী মানবতাবাদীদের আধুনিক নারী। গোল্ড ফিসের মত যারা তাদের প্রভুরা কিছু দিলে খায়, আর কাচের একুরিয়ামে ঘুরাঘুরি করে। লিলি এলানের দা ফেয়ার গানে,

      I am a weapon of massive consumption
      And its not my fault it’s how I’m programmed to function
      I’ll look at the sun and I’ll look in the mirror
      I’m on the right

      যাইহোক, আপনার শেষ আরটিক্যালে আপনি আমার সাহিত ট্রিপিক্যাল নাস্তিকদের মত আচরন করেছেন(সাবধান আমি আপনাকে নাস্তিক বলতেছি, এইটা ভাববেন না)

      তবে যাইহোক, ইসলাম চাইছিল তাদের কষ্ট করে নাকি রক্ষা করা যায়, কিন্তু ইসলামের এত বড় সাহস যে করপোরেট ব্যাবসায়ীদের ব্যাবসায় হাত দিয়ে দেয়, :guli: আজকে মুসলমানদের একদিন কি ব্যাবসায়ীদের একদিন, আজকে মুসলমানদের খাইছি। :guli:

      যাইহোক, আমার এই মন্তব্য পড়ে আনাস ভাই ছাড়াও মহাজ্ঞানীগন ক্ষেপে যাবেন, এতে আমার কথার চৌদ্ধ গুস্টি উদ্ধারে নামবেন। তাই এক কাপ চা :coffee: খেয়ে মাথা ঠান্ডা করে নেন। আগেই বলে রাখতেছি, কথা বাড়ালে অনেক বাড়ানো যায়। তাই আর বাড়ানোর ইচ্ছা নেই। সত্যমনা পাঠক নিজেই বুঝে নেবে, মুক্তমনারা না বুঝলে নাই 😀 ।

      • ফরহাদ মার্চ 24, 2010 at 3:58 অপরাহ্ন - Reply

        @ফুয়াদ, তার মানে বলতে চান মুক্তমনারা অসত্যমনা ? আর আপনার মত তথাকথিত বিশ্বাসিরা সত্যমনা ? :-Y :-Y

        • অভিজিৎ মার্চ 24, 2010 at 6:38 অপরাহ্ন - Reply

          @ফরহাদ,

          ফুয়াদ ঠিকই বলেছেন। উনারা মনে করেন জন্মের পর থেকেই ‘পরম সত্য’ পেয়ে বসে আছেন, আর মুক্তমনারা প্রতিনিয়ত সত্যের সন্ধান করে যান।

          কি আর বলব, এ নিয়ে? Gide, Andre র কথাতেই বলি-

          Believe those who are seeking truth, doubt those who find it.

      • আনাস মার্চ 24, 2010 at 11:41 অপরাহ্ন - Reply

        @ফুয়াদ,

        ধরে নেয়া যাক পশ্চিমে নারীদের প্রতি এ আচড়ন একটি খারাপ আচড়ন। তাহলে আমরা কি করতে পারি? প্রয়োজনে আইন করে এ আচড়নটি নিষিদ্ধ করতে পারি। কিন্তু ইসলাম অনুসারে নাবালিকা বিবাহ কি আমরা অবৈধ ঘোষনা করতে পারব? আমি তো শুনেছি যে এ ব্যপারটি নৈতিক তা প্রমাণে অনেক পিতা নিজেদের মেয়েকে এ পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিতে কার্পণ্য করেনি।

        যুগ বদলালেও এ ধরনের মানষিকতা বদলাচ্ছে না। আগের যুগে শক্তির মাধ্যমে নিজের মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করা হত। আজ আমরা বলছি যে যুক্তির মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠা করুন। আপনার প্যাকেজ মানুষের কাছে উপস্থাপন করুন। আমি আমারটা করি। মানুষকে স্বাধীনতা দেয়া হোক সে কোন বিষয়টি গ্রহন করবে। কিন্তু বাস্তবে মুসলিমদের মানষিকতা কি? ফেসবুকে যে কোন ইসলামী গ্রুপে যান। জিহাদ করে রক্তের বন্যা বইয়ে দেবার প্রতি আহবান। এবং রক্তপিপাসু স্রস্টার অক্ষ থেকে পুরস্কারের ঘোষনা।

        ইসলামতো শান্তির সমাজ উপহার দেবার কথা বলে। বাস্তবে পুর ইসলামী ইতিহাস ঘেটে ধর্ম মত নির্বিশেষে সবার জন্য পরিপুর্ণ ইসলামী শান্তিময় সমাজের একটা উদাহরন কি দিতে পারবেন?

        আমার কোন আচড়ন আপনার খারাপ লাগলে তা আমাকেও কষ্ট দিবে। আমাকে খুব সহজেই বুঝাতে পারবেন। সেটা হল আমি আমার খুব আপন কোন মানুষকে কোন খ্রীষ্টান রাজার দাসী হিসেবে আমার জীবদ্দশায় দেখতে পছন্দ করতে পারি না। যেটা আমি নিজের জন্য পছন্দ করতে পারছিনা। সেটা তাদের ক্ষেত্রেও যথার্থ মনে করতে পারছি না। আপনি কি এ অবস্থান কে অমানবিক মনে করেন? আপনি নিজের ক্ষেত্রে হলে কি করতেন? পছন্দকি করতেন?

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 24, 2010 at 5:52 অপরাহ্ন - Reply

      @আনাস,

      আমি খুব বেশী উদাহরন দিয়ে লেখা বড় করতে চাইনি, আর উদাহরনও বেছে বেছে ভাল বিতর্ক হইয়ে পারে না এমন কিছু সূত্রই ব্যাবহার করেছি। অনার কিলিং শুধু গুগল করে দেখেন বাস্তবিক অর্থেই হাজার হাজার উদাহরন বেরুরে। এর মাত্রা আসলেই ভয়াবহ, তেমনি কল্পনাতীত কিভাবে এই শতকেও শিক্ষিত বেশ কিছু মানুষ এর পক্ষে সাফাই গাইতে পারে, নমনীয় আইনও বানাতে পারে।

      মুসলমান সমাজের মূল সমস্যা আমার যেটা মনে হয় তা হল; তাদের ধর্মের অতীতে চালু সব বিধিবিধান যে আজকের যুগে চলে না তারা এই সত্যটা তত্ত্বীয়ভাবে স্বীকার করতে চান না। সম্ভবত এটা স্বীকার করে নিলে ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের দাবী বা জগতের একমাত্র পূর্নাংগ জীবন বিধান তাদের কব্জাগত এ জাতীয় দাবী দাওয়া লঘু হয়ে যাবে এ আশংকা করেন। এখান থেকেই শুরু হয় যুগের বাস্তবতা ও তত্ত্বের মাঝে সংঘাত। এই সংঘাতের অবশ্যম্ভাবী ফল হল একটি ঝুলন্ত বা বিভ্রান্ত মানসিকতা। যে মানসিকতার এক অংশ বলে যে যুগের দাবী মেনে কিছু ছাড় দেওয়া উচিত, আরেক অংশ আবার তাতে বাধ ছাড়ে। যদিও যেটা খুবই হাস্যকর ঠেকে তা হল যে ধর্মীয় সব আদেশ নির্দেশ নিজেরাই মানেন না, বা বলা ভাল মানতে পারেন না। কিন্তু তবুসো হাস্যকর গো ধরে থাকবেন যে সব নির্দেশ বিধান সব যুঘে সব দেশেই অতি অবশ্যই পালনীয়। এতে কোন আপোস নেই।

      অন্য ধর্মের লোকেরা এই ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে অনেক আগেই মোটামুটিভাবে মনস্থির করতে পেরেছে যা মুসলমানেরা এখনো পারেনি। একদিকে যুগের দাবীর বাস্তবতা, অন্যদিকে দোযখের কঠোর শাস্তির ভয়। যেমন ধরেন, মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে কিছু বললেন ৯০ ভাগ মুসলমান হাঁ হাঁ করে তেড়ে আসবেন। এর বিরুদ্ধে স্রব প্রতিবাদ তারা ঈমানী দায়িত্ব হিসেবেই নেন। কিন্তু নিজের ছেলে মেয়ে কে কি সেখানে পাঠাবেন? কখনোই না।

      একই কারনে মুসলমানেরা মোল্লা আলেমদের অযৌক্তিক উদ্ভট ফতোয়ার প্রকাশ্য প্রতিবাদও সেভাবে করতে পারেন না। কি জানি, কোন পাপ জানি হয়ে যায়। মসজিদে ফতোয়া শোনেন গান বাজনা হারাম, শয়তানের বাজনা। বিনা প্রতিবাদে ভক্তিভরে মাথা নীচু করে শোনেন। বাড়ী এসে তিনিই আবার সংগীত উপভোগ করেন। লাখো মানূষের উপস্থিতিতে কোন মাওলানা ঘোষনা দেন, দুই ঈদ বাদে আমাদের কোন আনন্দ ফূর্তি থাকতে পারে না, একজন মানুষও পাওয়া যায় না প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে। শিক্ষিত লোকেও দেখা যায় নিজের রক্ত দান করা যায় কিনা সে ব্যাপারে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পান, ইন্টারনেটে আলেম স্কলারের পরামর্শ চান। কে জানে বাবা, অজান্তে আবার না কোন পাপে পড়ে যান। এর অন্যথা না হলে কেবল বিলিয়ন বিলিয়ন সংখ্যাই বাড়বে, কিন্তু অবস্থা হবে আরো শোচনীয়।

      নারী স্বাধীনতা বা অধিকারের ক্ষেত্রেও তারা এই সরল সত্য স্বীকার করতে চান না যে নবীজির আমলের সমাজ আর আজকের সমাজ এক নয়। সামাজিক বিবর্তন বলে যে কিছু হতে পারে সেটা কট্টরপন্থীরা বুঝতে চান না। তারা আরো প্রাচীন কোন ধর্মে নারীকে আরো হেয় করা হয়েছে তার সাথে নিজের ধর্ম তূলনা করে আত্মপ্রসাদে ভোগেন। এরপরও যে সমাজ আরো পাল্টেছে, সততই পাল্টা্চছে তাও বুঝতে চান না। সে যুগের স্ত্রী পেটানো আইনকে আজকের যুগে সন্তান পেটানোর সাথে তূলনা করে হালাল করার চেষ্টা যে কতটা হাস্যকর ঠেকে তাও তারা বোঝেন না। পুরুষে নারীর উপর কর্তৃত্বশীল কারন সে উপার্জন করে এই তত্ত্ব যে আজকে কতটা ভ্রান্ত তাও বুঝতে চান না। আজকের বহু নারীর উপার্জন স্বামীর বেশী। কে কাকে বোঝাবে? নিজে নিজে অন্ধ সেজে থাকলে যুক্তির অভাব হয় না।

  11. রামগড়ুড়ের ছানা মার্চ 23, 2010 at 10:24 অপরাহ্ন - Reply

    নিষ্ঠূর ও অমানবিক অনার কিলিং প্রথা সম্পর্কে নন্দিনী ও রামগড়ুড়ের ছানা সম্প্রতি দুটি চমতকার নিবন্ধ লিখেছে।

    ধন্যবাদ আদিল চাচাজি 🙂

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 23, 2010 at 10:46 অপরাহ্ন - Reply

      @রামগড়ুড়ের ছানা,

      জানতাম এইটা লিখলেই ফিরি ধন্যবাদ পাওয়া যাবে।

      তবে অনেক সময় মানুষরে খুশী করতে মিথ্যা কথা একটু বলা লাগে, সভ্যতার নিয়মই এই 🙂 ।

      • ফুয়াদ মার্চ 24, 2010 at 7:08 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ,

        চাচা ভাতিজা, তো সিংগারা আর পুরি নিয়া থাকার কথা, আছেন ও মনে হয়।

        অনেক সময় মানুষরে খুশী করতে মিথ্যা কথা একটু বলা লাগে, সভ্যতার নিয়মই এই

        তবে, শাফায়েত ভাইয়ের চাচা মানে আদিল মাহমুদ ভাইকে 😀 একখানা সত্য কথা কই, ভাল কাজের ইচ্ছা থাকলে যে যায়গায় কাজ হবে ঐ জায়গায় ই করতেন, আর কাঊকো (কাদের কে) ছোট আর নিজেকে বড় করতে চাইলে , যা করেছেন তা ঠিক-ই আছে। 🙂 রাগ করবেন না, হাজার হোক আমি চাচা ভাতিজা দুইজনের ই ফ্রেন্ড। সত্য পরিচয় করিয়ে দিতে নিশ্চই দোষ নেই।

        • আদিল মাহমুদ মার্চ 24, 2010 at 7:39 পূর্বাহ্ন - Reply

          @ফুয়াদ,

          আপনার মারফতি কথাবার্তা বোঝার মতন বুদ্ধি আল্লাহ পাক আমাকে দেন নাই, ইহজীবনে দেবেন তেমন কোন ভরসাও হয় না।

          বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করতে চাইলে যত খুশী করেন, যুক্তি রেফারেন্স যাই হোক দিয়ে নিজের কি বলার আছে বলেন। দয়া করে অবান্তর কথা বলে সবার সময় নষ্ট করবেন না।

          সত্য কথা লেখায় কে বড় হল কে ছোট হল তাতো আমার দেখার বিষয় না। অবশ্য অজ্ঞানতাবশতঃ ভুল যে কারোই হতে পারে। আপনার যদি মনে হয় কোন অসত্য তথ্য দিয়েছি তাহলে সেটা জানাতে পারেন।

          আমার বয়স মোটামুটি ভালই হয়েছে, এই বয়সে বিনা পয়সায় শুধু কাউকে খুশী করে আমার এমন কিছু মোক্ষলাভ হবে না। এসব লেখা লিখতে সময় নেহায়েত কম লাগে না।

          • ফুয়াদ মার্চ 24, 2010 at 9:09 পূর্বাহ্ন - Reply

            @আদিল মাহমুদ,

            হঠাত করে ক্ষেপে গেলেন কেন? 🙂 আপনি মানুষকে সাধারনত একটি পরামর্শ দিয়ে থাকেন, ঐ পরামর্শ আপনাকেই ঘুরিয়ে পিছিয়ে বলেছিলাম। আপনার কষ্টেকে ছোট করতে চাই নি। আর আপনার লেখা সম্পর্কে আমার তেমন কিছু বলার নেই ।

            • আদিল মাহমুদ মার্চ 24, 2010 at 9:25 পূর্বাহ্ন - Reply

              @ফুয়াদ,

              আপনার সাথে আমি খেপি না। খেপার জন্য ন্যূনতম একটা মানসিক যোগ থাকা দরকার। সেটা না থাকলে খেপা যায় না, তবে অন্যরকম বোধ হয়।

              আপনি কি বলতে চেয়েছেন তা ভালই বুঝেছি, যা খুশী বলুন কোন অসুবিধে নেই।

              তবে এই ফোরাম পরামর্শ কেন্দ্র নয়, টপিকের ভেতর কোন কথা বলার না থাকলে মৌন ব্রত পালন করাই ভাল। পরামর্শ দরকার হলে বলব।

              আপনাকে দেওয়া আমার পরামর্শে কাজ তো ভালই হয়েছে দেখছি, বানান ভুল তো অন্তত বলতে গেলে নেইই দেখা যাছে।

          • রামগড়ুড়ের ছানা মার্চ 24, 2010 at 10:41 পূর্বাহ্ন - Reply

            আপনার মারফতি কথাবার্তা বোঝার মতন বুদ্ধি আল্লাহ পাক আমাকে দেন নাই, ইহজীবনে দেবেন তেমন কোন ভরসাও হয় না।

            আদিল মাহমুদ আল্লাহপাকের কথা বললেন, আমি একটু অন্যভাবে বলি। আপনার মারফতি কথাবার্তা বোঝার মতন বুদ্ধি বিবর্তনের মাধ্যমে এখ্নও মানবজাতি অর্জন করতে পারেনি, সূর্যের নিউক্লিয়ার ফিউসান শেষ হওয়ার আগে পারবে বলেও মনে হয়না।

            • ফুয়াদ মার্চ 24, 2010 at 10:53 পূর্বাহ্ন - Reply

              @শাফায়েত,

              আপনার না হলেও আমার হয়েছে, তিনি যতটুকু আমাকে জন্য বুঝিয়েছেন, সেই অংশ আমি ঠিকই বুঝেছি, এখন, আপনার অংশ আপনার বুঝার পালা। সেটা তিনি চাইলে পারলেও পারতে পারেন। 🙁 🙁 🙁

  12. বকলম মার্চ 23, 2010 at 8:35 অপরাহ্ন - Reply

    হতে পারে যে অনার কিলিং সরাসরি ধর্মীয় অনুশাসন থেকে আসেনি তবে ধর্মের সাথে তার একটা সখ্যতা পাওয়া যায়। ময়লা পানিতে যেমন রোগ জীবানু ছড়াবার আশংকা বেশি থাকে, তেমনি ধর্মীয় বেড়াজালে এসব প্রথার বিস্তার লাভেরও সম্ভাবনা বেশি। ওষুধ দিয়ে রোগ সারানো হয়ত যাবে কিন্তু সেই ময়লা পানি যতক্ষণ আছে ততক্ষণ রোগীর মিছিলও চলতে থাকবে।
    তাছাড়া, ইসলাম ধর্ম তাত্বিক এবং ব্যবহারিক উভয় দিক থেকেই প্রচণ্ড পুরুষতান্ত্রিক — অনার কিলিং এর জন্য আদর্শ পরিবেশ।

    মডারেট মুসলিমরা শান্তির ধর্মের পক্ষে বলতে গিয়ে ধর্মের নামে সমস্ত অনাচারের জন্য সেই গুটিকয়েক- এর উপর দোষ চাপান। সাধারণ মানুষ ধর্ম নিয়ে গবেষণা করেনা বলেই এখনো ভালো আছে, কিছুটা মানবিক আছে। ইসলামকে কোরান হাদীস অনুসারে মানলে তারাও আর “মডারেট” থাকবেনা। পল্টনের মোড়ে গিয়ে খালি একবার ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু বলে দেখেন, দেখবেন গুটিকয়েক মানে কি জিনিস। শিক্ষিত অশিক্ষিত নির্বিশেষে হামলে পড়বে।

    • ব্রাইট স্মাইল্ মার্চ 23, 2010 at 8:44 অপরাহ্ন - Reply

      @বকলম,

      তাছাড়া, ইসলাম ধর্ম তাত্বিক এবং ব্যবহারিক উভয় দিক থেকেই প্রচণ্ড পুরুষতান্ত্রিক — অনার কিলিং এর জন্য আদর্শ পরিবেশ।

      একদম ঠিক কথা।

    • আকাশ মালিক মার্চ 23, 2010 at 11:10 অপরাহ্ন - Reply

      @বকলম,

      পল্টনের মোড়ে গিয়ে খালি একবার ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু বলে দেখেন, দেখবেন গুটিকয়েক মানে কি জিনিস। শিক্ষিত অশিক্ষিত নির্বিশেষে হামলে পড়বে।

      :yes: :yes:

      এটাই প্রমাণ করে জগতে ধর্মের নামে যত নির্যাতন, অত্যাচার অবিচার হয় তাতে সকল ধার্মিকের সমর্থন থাকে।

      গুটিকয়েক এর দোহাই দিয়ে ইসলাম সহ আর কোন ধর্মকেই বাঁচানো সম্ভব নয়।

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 24, 2010 at 12:43 পূর্বাহ্ন - Reply

      @বকলম,

      ধর্মের সাথে প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষ যাই বলা হোক, একটা যোগ আছে তা আমি অস্বীকার করিনি। অক্ষরে অক্ষরে হাদীস কোরান মানা সমাজে এই রোগের প্রকোপ বেশী হতে পারে সেটা অনস্বীকার্য।

      “মডারেট মুসলিমরা শান্তির ধর্মের পক্ষে বলতে গিয়ে ধর্মের নামে সমস্ত অনাচারের জন্য সেই গুটিকয়েক- এর উপর দোষ চাপান। “

      একমত। আমি নিজেরও ধর্মওয়ালা লোকজনদের এই ঊটপাখি নীতিতে প্রচন্ড বিরক্ত লাগে। ধর্মের নামে এসব অত্যাচার অনাচারের সমালোচনা এনারা সহজভাবে নিতে পারেন না, উলটা সমালোচকদের দিকে তেড়ে আসেন।

  13. ব্রাইট স্মাইল্ মার্চ 23, 2010 at 7:53 অপরাহ্ন - Reply

    ইসলাম ধর্মে স্বেচ্ছায় স্বামী বেছে নেবার কারনে হত্যার কোন বিধান নেই।

    আক্ষরিক অর্থে নেই হ্য়তো, কিন্তু ইসলামে স্ত্রীর উপর স্বামীর যে অধীকার ও কতৃত্বের আইন আছে এবং পুরুষ নারীর থেকে সুপেরিওর এই কনসেপ্ট যখন ইসলামে স্বীকৃত, তখন যতক্ষন মানুষ এই ধর্ম বুঝে বা না বুঝে পালন করবে, অনার কিলিং চলতেই থাকবে। কারন মানুষ তখন ধর্মের অন্যান্য অনুশাসন দিয়েই স্বেচ্ছায় স্বামী বেছে নেবার কারনে হত্যার বিধানকে যুক্তিযুক্ত করবার চেষ্টা করবে। এটা অবশ্য সব ধর্মের বেলায়ই প্রযোজ্য।

    প্রশ্ন উঠতে পারে যে এই সমস্যার সমাধান কি? সমাধান বলা খুব সহজ, তবে কাজে পরিনত করা মোটেও সহজ নয়। কঠোর আিন প্রনয়ন অবশ্যই অতি অবশ্যই দরকার।

    ইসলামী বিশ্বে কঠোর আইনতো সেই ইসলামী আইনই, তার মানে ইসলামী আইনকেই আরো কঠোরতর করতে হবে? কিনতু ইসলামী আইনতো সংশোধন করার অধিকার কারো নেই।

    অনার কিলিং প্রবন দেশগুলির সাধারন মানূষের মন থেকে মহিলাদের সনাতনী ধ্যান ধারনায় পণ্য হিসেবে গণ্য করার মারাত্মক সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হতে না পারলে কাগুজে আইন কানুন ও তেমন কিছু করতে পারবে না।

    যতক্ষন মানুষ অন্ধ্বভাবে ধর্ম মানবে ততক্ষন এই সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হওয়া যাবে বলে আমার মনে হয়না।

    • আদিল মাহমুদ মার্চ 23, 2010 at 8:44 অপরাহ্ন - Reply

      @ব্রাইট স্মাইল্,

      “আক্ষরিক অর্থে নেই হ্য়তো, কিন্তু ইসলামে স্ত্রীর উপর স্বামীর যে অধীকার ও কতৃত্বের আইন আছে এবং পুরুষ নারীর থেকে সুপেরিওর এই কনসেপ্ট যখন ইসলামে স্বীকৃত, তখন যতক্ষন মানুষ এই ধর্ম বুঝে বা না বুঝে পালন করবে, অনার কিলিং চলতেই থাকবে”

      – অনেকটা একমত। আমি এমন একটা কিছু বলতে চাচ্ছিলাম, তবে সঠিক ভাষা খুজে পাইনি। আক্ষরিক অর্থে নেই, তবে সামগ্রিকভাবে ধর্মের নামে যে নারী বিদ্বেষী পরিবেশ গড়ে তোলা হয় তাতে আক্ষরিক নির্দেশের খুব বেশী দরকার পড়ে না। কেউ যদি তার ধর্ম প্রদত্ত স্ত্রী পেটানোর অধিকার বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে চান তবে সেই পেটানো হত্যায় পরিনত হতে তেমন বেশী কিছু লাগে না।

      তবে এও মনে রাখতে হবে যে একই ইসলামী বাংলাদেশ বা ইন্দোনেশীয়া/মালয়েশিয়ায় কিন্তু এতটা বাড়াবাড়ি নেই। এসব দেশেও মানূষ একই ধর্ম পালন করে কিন্তু অনার কিলিং করে না। যদিও নারী নির্যাতন অত্যন্ত ব্যাপক।

      “ইসলামী বিশ্বে কঠোর আইনতো সেই ইসলামী আইনই, তার মানে ইসলামী আইনকেই আরো কঠোরতর করতে হবে? কিনতু ইসলামী আইনতো সংশোধন করার অধিকার কারো নেই।

      – এটা একটু কনফিউজিং। কট্টর ধর্মওয়ালারা তেমন দাবী করেন। তবে বাস্তবের চোখে দেখেন যেসব দেশ ধর্মের নামে শরিয়া জাতীয় আইন বানায় তারাও কিন্তু বেগতিক দেখলে আইন ঠিক ই বদল করে বা করতে বাধ্য হয়। তবে মান বাচানোর জন্য কিছু স্বান্তনা সূচক কথাবার্তা বলে থাকে যে ধর্মের সাথে বিরোধ আছে এমন কিছু করা যাবে না। পাকিস্তানের উদাহরনই দেখেন না। কি বিপুল জোশে শরিয়া আইন জারী করে যখন দেখল যে এসব আইন আজকের যুগে নিতান্তই হাস্যকার ও অমানবিক তখন ঠিকই বদল করতে বাধ্য হল।

      অনার কিলিং বন্ধের জন্যও কিন্তু ইসলামী আইনের ভিত্তীতে চলার দাবীদার দেশগুলি কিছুটা হলেও আইন বদল করছে।

      “যতক্ষন মানুষ অন্ধ্বভাবে ধর্ম মানবে ততক্ষন এই সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হওয়া যাবে বলে আমার মনে হয়না।”

      – অনার কিলিং এর জন্য হয়ত সঠিক। তবে সাধারনভাবে নারী নির্যাতন বা হত্যা মনে হয় না তার সাথে তেমন সম্পর্ক আছে। ব্যাপক পরিমানে নারী নির্যাতন, হত্যা এসবে সামগ্রিকভাবে ধার্মিক অধার্মিক কারোরই তেমন অরুচি নেই। অনার কিলিং হল এর একটি অংশ মাত্র।

      • ব্রাইট স্মাইল্ মার্চ 23, 2010 at 9:03 অপরাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ,

        ইসলামী বাংলাদেশ বা ইন্দোনেশীয়া/মালয়েশিয়ায় কিন্তু এতটা বাড়াবাড়ি নেই।

        এইসব দেশ বাড়াবাড়ি করেনা মডারেটেড ইসলামীতন্ত্রের জন্য না, আসল কারন আপনি বললেন যে

        বেগতিক দেখলে আইন ঠিক ই বদল করে বা করতে বাধ্য হয় ।

        সেটাই কারন। ইসলামীতন্ত্র, সে মডারেট হউক আর উগ্রই হউক অনার কিলিং-এর পক্ষে যুক্তি দাড় করাবেই।

মন্তব্য করুন