গণতন্ত্র নাকি অভিজাততন্ত্র?

By |2010-11-25T02:16:33+00:00মার্চ 21, 2010|Categories: দর্শন, বিতর্ক, রাজনীতি, সমাজ|7 Comments

আজ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই গণতন্ত্র বিদ্যমান এবং গণতন্ত্রকে আজ শাসন ব্যবস্থার মধ্য সর্বোৎকৃষ্ট মডেল বলে ধরা হয়। জনগণও খুশি এ কারণে যে অন্তত অন্ধকার যুগের দাসত্ব আজ তাঁদের সামনে নেই, নেই মধ্যযুগীয় কোন জমিদারী প্রথা কিংবা নেই কোন উপণিবেশিক শাসন অথবা কোন স্বৈরশাসন। জনগণ মুক্ত এবং স্বাধীন। আসলে কি তাই? বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানুষ আসলে কতটা মুক্ত এবং স্বাধীন নিজের ভাগ্য উন্নয়নে? রাষ্ট্র কতটা মনযোগী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে? কিংবা জনগনই কতটা সক্ষম নিজদের ভাগ্যের রচনায়? এই সব কিছুর প্রশ্নের উত্তর আজ এই লেখায় খুঁজে পাবার চেষ্টা করবো।

ডিরেক্ট বা সরাসরি গণতন্ত্র রাষ্ট্রের মত বৃহৎ পরিসরে তেমন কার্যকরী না হওয়ায়, রিপ্রেজেন্ট্যাটিভ বা প্রতিনিধিমুলক সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার আবিষ্কার গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই পদ্ধতিতে একদল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি জনগণের পক্ষ হয়ে জনগণের জন্য কাজ করবে। তবে এই পদ্ধতির সাফল্য নির্ভর করছে সঠিক জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থার উপর।

পরিসংখ্যানের নিয়ম অনুসারে যখন কোন বৈজ্ঞানিক গবেষনার জন্য কোন নমুনা (Sample) সংগ্রহ করা হয় তখন চেষ্টা থাকে যেন নমুনা উপস্থিত সকল বৈচিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। আবার দেখা যায় নমুনার সংখ্যা যত বেশি হয় প্রতিনিধিত্বের সম্ভাবনাও তত বেশি হয়। তবে নমুনা সংগ্রহের খরচ এর সংখ্যার সাথে সমানুপাতিক হওয়ায়, গবেষনার খরচ এবং প্রতিনিধিত্বের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করে নমুনার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এখানে যে উদাহরণ দিয়েছি সেটা আমরা জীবনের সকল ক্ষেত্রেই বুঝে বা না বুঝেই প্রয়োগ করে যাই। চাওয়া বা পাওয়া, হাসি বা কান্না, আয় বা ব্যায়ের মাঝে ভারসাম্য বজায় রেখেই জীবনকে চালিয়ে নিয়ে যাই। রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও আমাদের নির্ধারণ করতে হয় জনপ্রতিনিধির সংখ্যা ঠিক কত হলে তা জনগনের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করবে কিন্তু তা আবার রাষ্ট্রের জন্য বোঝা স্বরূপ হয়ে উঠবে না।

যত সহজে উদাহরণ দিয়েছি প্রকৃত ক্ষেত্রে তা খুব সহজ নয়। তেমন কোন নির্দিষ্ট সুত্র নেই যা দিয়ে সরাসরি বলে দেওয়া সম্ভব ঠিক কত জন জনপ্রতিনিধি একটি রাষ্ট্রে প্রয়োজন। এ ছাড়াও রয়েছে প্রতিনিধি নির্বাচনের নানান ক্ষেত্রগুলো। বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা হয় জনসংখ্যার অনুপাতে কিংবা অঞ্চল ভেদে। অঞ্চলগুলো মুলত ভাগ করা হয় জনসংখ্যার ভিক্তিতেই। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও মুলত এভাবেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়।

গণতন্ত্রের যাত্রাকাল প্রায় ২৫০০ বছর আগে হলেও গনতন্ত্রের আধুনিক রুপের বয়স কয়েকশত বছরের বেশি নয়। তাই বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি নির্ভুল সেটা বলা সম্ভব নয়। গণত্নত্রের নির্দিষ্ট কোন ছাঁচ নেই যা স্থান/কাল/দেশ ভেদে একই রকম থাকবে। উন্নত বিশ্বে যে গণতান্ত্রিক মডেল কার্যকর, একই মডেল যে উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশেও কার্যকর হবে তা নয়। বর্তমান জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ব্যবস্থা পাশ্চাত্য দেশগুলোতে কার্যকরী বলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হলেও আমার মতে তা সঠিক নয়। যে কারণেই দেখি মানুষ আশাহত হয়ে বারংবার জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন করে কিন্তু মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্ত মানুষের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না।

দেশে বসে হয়তো মনে হয় বৈদেশে সবাই বেশ ভাল থাকে, কিন্তু বাস্তবতা দেশের থেকে ভিন্ন কিছু নয়। এখানেও মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তকে সারা জীবন কঠিন পরিশ্রমের মাঝে দিয়ে যেতে হয় শুধু মাত্র ভাল ভাবে বেঁচে থাকাটুকু নিশ্চিত করার জন্য, একটি বাড়ির জন্য, বুড়ো বয়সে একটু বিশ্রামের জন্য। কিন্তু যদি কোন কারণে আপনার উপার্জনের ব্যবস্থা চলে যায় কিংবা অসুস্থ হয়ে উপার্জনে অক্ষম হয়ে পড়েন তবে তার অবস্থা দেশের যে কোন মধ্যবিত্তের চেয়ে কন অংশেই ভাল নয়। এটা সত্য যে কিছু দেশে সরকারী ব্যবস্থা রয়েছে সেই সব মানুষের জন্য কিন্তু সে রকম দেশের সংখ্যা খুব বেশি নয়।

পাশ্চাত্যের আসল চিত্রটি তুলে ধরার উদ্দেশ্য এটা বুঝানো যে বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্তের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করে না, করে মুষ্টিমেয় লোকের ভাগ্য উন্নয়ন। গ্রীক দার্শনিক এরিষ্টটলের মতে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যস্থা হচ্ছে সকল শাসন ব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ব্যবস্থা। যুক্তি ছিল যে গনতন্ত্র হল সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন কিন্তু একই সাথে তা হল গরীব লোকের শাসন, কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেনী হচ্ছে মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত শ্রেনী। এরিষ্টটলের পছন্দ ছিল অভিজাত শ্রেনীর শাসন।

এবার তাহলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনপ্রতিনিধিদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক। যে কোন দেশেই আজ কারা হচ্ছে জনপ্রতিনিধি? যে কোন দেশের জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি যদি গড় করা হয় তবে তাঁদের সেই গড় আয় সেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের গড় আয়ের মাঝে কি পরে? আমি নিশ্চিত এর উত্তর এক কথায় নেতিবাচক। আর এই চিত্র আরো করুণ আকার ধারণ করে অনুন্নত কিংবা উন্নয়নশীল দেশেগুলোতে। সেসব দেশের জনপ্রতিনিধিদের গড় আয় সাধারণ জনগণের চেয়ে কয়েকশত গুণ বেশি হবে নিশ্চিত। তাহলে এই জনপ্রতিনিধিরা যে আইন প্রণয়ন করবে বা যে নীতি প্রণয়ন করবে তাতে যে নিজদের মত সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা করবে সেটা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে? এই জনপ্রতিনিধিরাই যে মুখে মানবতার কথা বলে, অন্য দেশে মরণাস্ত্র খোঁজার ছলে নিরীহ মানুষের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিবে সেটা কি বুঝতে খুব বেশি কষ্ট হয়? এরাই যে জনগণের সেবার নামে ক্ষমতার জন্য লাশের রাজনীতি করে তা কি আর বুঝার বাকি রাখে। বলে শেষ করার নয়। এই চিত্র যে শুধু বাংলাদেশে, সেটা ভেবে নিলে কিন্তু ভুল হবে। তাকিয়ে দেখুন বিশ্বের কোন দেশে ক্ষমতার জন্য এ রকম নির্লজ্জতা নেই। জনপ্রতিনিধি আজ একটি ভিন্ন শ্রেনী, এবং জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া আজ একটি লাভজনক পেশা হিসেবে দাড়িয়েছে। অথচ হওয়ার কথা ছিল উলটো। জনপ্রতিনিধি হওয়ার কথা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের পক্ষে কাজ করার জন্য।

বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া এমন যে নির্দিষ্ট একটি গোত্রের বাহিরে যে কেউ নির্বাচিত হয়ে আসতে পারে না। যদিও আইনগত ভাবে যে কারোরই নির্বাচনে অংশগ্রহনে বাধা নেই, কিন্তু মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে আমরা এমন একটি ব্যবস্থা করে রেখেছি যে সকল ক্ষেত্রে অর্থের কাছে বন্দী মানুষ। এই অর্থের সিংহ ভাগ নিয়ন্ত্রিত হয় ব্যবসায়ী শ্রেনীর দ্বারা। এর ফলে নির্বাচন ব্যবস্থাকে এক প্রকার এই ব্যবসায়ীরাই নির্ধারণ করে। রাজনীতিবিদদের এই দুরাবস্থার চিত্রটি কিছুটা তুলে ধরেছেন বারাক ওবামা তার “The Audacity of Hope” বইটিতে।

আমাদের দেশের অবস্থা আরো করূণ। আপনি যদি সরকারী চাকুরীজীবি হোন তবে আপনাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হলে আপনার পেশা ছেড়ে চলে আসতে হবে। আবার এমন না যে আপনার মেয়াদ শেষে আপনি আবার আপনার চাকুরীতে ফেরত চলে গেলেন। অর্থাৎ ব্যবস্থা এমনই যে যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে জন্মগ্রহন করেছে কিংবা জনপ্রতিনিধিদের ঘরে জন্মগ্রহন করেছে তারাই জনপ্রতিনিধি হবার ক্ষমতা রাখে। সাধারণ একজন কৃষক, শ্রমিক, কিংবা ছাত্র, শিক্ষক এর পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া সম্ভব নয়, অর্থের সমস্যা তো আছেই। বড়জোর তারা কোন দলীয় সংগঠনের লেজুরবৃত্তি করতে পারবে। এ কারণে নির্দিষ্ট কিছু পেশাজীবি (আইন কিংব ডাক্তার) শ্রেনীর বাহিরে অন্যান্য পেশাজীবিদের প্রতিনিধি হিসেবে সচারচর দেখা যায় না। আর এ সুযোগে সেই জায়গা গুলো নিচ্ছে ব্যবসায়ী শ্রেনী এবং রাজনীতিকে একটি পেশা হিসেবে নেওয়া এক শ্রেনীর, যাদের অধিকাংশই আবার মুলত ব্যবসায়ী।

তাহলে এ পর্যন্ত মুল যে বিষয়টি বলার চেষ্টা করেছি তা হল বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্তের প্রতিনিধিত্ব কোনভাবেই করে না। প্রতিনিধিত্ব করে সংখ্যালঘু অভিজাত এক শ্রেনীর যাদের গড় আয় মধ্যবিত্তের আয়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এরাই অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক, আবার এরাই এখন আইন প্রণয়নকারী। তাই এ রকম শাসন ব্যবস্থা আসলে গণতন্ত্রের নামের আড়ালে অভিজাত শ্রেনীর শাসন। প্রকৃত গণতন্ত্র আমরা তখনই বলতে পারি যখন সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেনীর প্রতিনিধি থাকবে সংখ্যাগরিষ্ঠ, অভিজাত শ্রেনীর নয়।

About the Author:

নিজের সম্পর্কে তেমন বলার মত কিছু নেই। একদম সাধারণ মানের জীব। রাজনৈতিক দর্শন বিষয়ে আগ্রহ আছে, সেটা নিয়েই নাড়াচড়া করি সময় পেলে। পছন্দ করি খেলাধুলা করতে, বই পড়তে, মুভি দেখতে, ব্লগ পড়তে। সময়ের বড় অভাব, আর কিছুর অভাব নেই।

মন্তব্যসমূহ

  1. স্বাধীন মার্চ 24, 2010 at 4:10 পূর্বাহ্ন - Reply

    সবাইকে মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

  2. আতিক রাঢ়ী মার্চ 23, 2010 at 2:20 অপরাহ্ন - Reply

    শ্রেনী বিভক্ত সমাজে রাষ্ট্র কাজ করে একটা বল প্রয়োগকারী সংস্থার মত। আর বলা বাহুল্য যে এটি কাজ করে শাষক শ্রেনীর পক্ষে। লেনিন বহু আগেই তাঁর রাষ্ট্র গ্রন্থে এই কথাগুলো বলে গেছেন। জনগন যদি মুক্তি খোঁজে তখন রাষ্ট্র কল্যান রষ্ট্রের লেবাস ধরে। কিন্তু সুযোগ পেলেই সে তার শ্রেনী চরিত্র বুঝিয়ে দিতে দেরি করে না। সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন আর কিছু না হোক রষ্ট্রকে কল্যানকামী চরিত্র ধারন করতে বড় প্রভাবকের ভূমিকা রেখেছে।

    দেখুন অস্ত্র শিল্পে যারা বিপুল বিনীয়োগ করেছে, তাদের দরকার যুদ্ধ। আমেরিকা, ইরান আক্রমনের পায়তারা করছে। আমেরিকার সরকার এখন জনগনের টাকায় অস্ত্র কিনবে।
    অস্ত্রে যারা বিনীয়োগ করেছে, সেই সব ধনকুবেরদের পুঁজির নিশ্চয়তা দিতেই এখন যুদ্ধের প্রয়োজন।এই যুদ্ধে জনগনের কিছুই পাবার নেই।

    ফলে আমি মনে করি বিকল্প রাজনীতি, ক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য খুবই প্রয়োজন।
    যে রাজনিতী কোন নিদৃষ্ট শ্রেনী নয় বরং বৃহত্তর জনগনের কথা বলবে।

  3. আদিল মাহমুদ মার্চ 21, 2010 at 7:00 অপরাহ্ন - Reply

    রাজনীতি সম্পর্কে আমার মৌলিক দর্শন হল যে শুধু সিষ্টেম দিয়েই দেশের অবস্থা ভাল হইয়ে যাবে এমনটা ভাবা খুবই ভুল। কতটা ভাল ফল পাওয়া যাবে তা নির্ভর করে ব্যাবহারকারীদের উপর। যার জন্যই গনতন্ত্রের মধু আমাদের পাশের দেশ ভারতও যতটা পেয়েছে আমরা তার কানাকাড়িও এখনো তুলতে পারিনি।

    রাহাত খানের কথাও ১০০ শত ভাগ সঠিক। বর্তমানে সবখানেই মনে হয় গনতন্ত্র করোপরেট বিশ্বের হাতে জিম্মী হয়ে আছে। এর কুফল মনে হয় উন্নত বিশ্বও এখনো পুরো ধরতে পারছে না, আমেরিকা এই বিশাল অর্থনৈতিক মন্দায় কিছুটা আঁচ পেয়েছে তবে পুরো শিক্ষা এখনো হয়নি।

    আমাদের দেশে পৃথিবীর ম আমারো মাঝে মাঝে মনে হয় যে গনতন্ত্রের মূল্য কতটা? বিরাট সংখ্যক মানুষ মার্কা দেখে ভোট দেয়, ৫০ টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায়। সেও নাহয় হল, গনতন্ত্রের বহুদলীয় মত ব্যাবস্থ্যার যে কেন্দ্র সংসদ সেই সংসদে ৯১ সালে থেকে আজ পর্যন্ত কয়টি সূস্থ আলোচনা হয়েছে? সরকারের যা সিদ্ধান্ত সেগুলি তো সব সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে স্বৈরাচারী কায়দায়ই নেওয়া হচ্ছে।

  4. পৃথিবী মার্চ 21, 2010 at 1:12 অপরাহ্ন - Reply

    :yes:

    বাংলাদেশের মত অল্পশিক্ষিতের দেশে গনতন্ত্র কোনই উপকার করতে পারবে বলে মনে হয় না। আমার বাসার কাজের বুয়াটা খালেদা জিয়াকে পছন্দ করে, কেন পছন্দ করে সে নিজেও জানে না। অশিক্ষার দেশে এরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে এদের একটা বড় ভূমিকা থাকে। আমার প্রায়ই মনে হয় বাকশাল যদি জন্মতেই মৃত্যুবরণ না করত, তবে আজ দেশ কোথায় থাকত?

    • বিজয় মার্চ 21, 2010 at 1:44 অপরাহ্ন - Reply

      @পৃথিবী,

      আমার বাসার কাজের বুয়াটা খালেদা জিয়াকে পছন্দ করে, কেন পছন্দ করে সে নিজেও জানে না।

      আমার প্রায়ই মনে হয় বাকশাল যদি জন্মতেই মৃত্যুবরণ না করত, তবে আজ দেশ কোথায় থাকত?

      দেশে বাকশাল থাকলে বাসার কাজের বুয়া পেতেন কোথায় ? মজার মজার রান্না শিখতেন আর রান্না করেও মজা পেতেন ।

      • পৃথিবী মার্চ 21, 2010 at 3:37 অপরাহ্ন - Reply

        @বিজয়, দেশের স্বার্থে কাজের বুয়া বিসর্জন দিতে আপত্তি নাই 😛

  5. রাহাত খান মার্চ 21, 2010 at 9:49 পূর্বাহ্ন - Reply

    যদিও আইনগত ভাবে যে কারোরই নির্বাচনে অংশগ্রহনে বাধা নেই, কিন্তু মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে আমরা এমন একটি ব্যবস্থা করে রেখেছি যে সকল ক্ষেত্রে অর্থের কাছে বন্দী মানুষ। এই অর্থের সিংহ ভাগ নিয়ন্ত্রিত হয় ব্যবসায়ী শ্রেনীর দ্বারা।

    শুধু ব্যাবসায়ী শ্রেনী বললে কম বলা হবে, আজকের গনতন্ত্র বন্দী বড় বড় কর্পোরেট পুঁজিরে হাতে। এবারের অর্থনৈতিক ধ্বসের সময় ব্যাপারটা খুব সহজে বোঝা গেছে। সাধারণ জনগনের ক্ষতি হয়েছে কিন্তু দু’দিক থেকেই। জটিল কিছুতে না ঢুকে, খুব সাধারন একটা উদাহরণ দেই – একদিকে, ধ্বসের আগে বড় বড় ব্যাঙ্কের টোপে পড়ে বিভিন্নভাবে ঋণ নিয়েছে , বড় বড় বাড়ি বেশী দামে কিনে তারপর হাউজিং মার্কেট পড়ে যাওয়ার পর সেই পয়সা হারিয়েছে, আবার ওদিকে যখন এই বড় বড় কোম্পানীগুলো ব্যাংক্রাপ্ট হয়েছে তখন জনগনের ট্যাক্সের পয়সা দিয়েই আবার তাদের বেইল আউট করা হয়েছে। এখন আমরা বলতে পারি, জনগন তাদের টোপে পা দিল কেন, কিন্তু একটু চিন্তা করলেই বোঝা যাবে যে, এই ‘গনতান্ত্রিক’ রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থাটা খুব কমই সাধারণ জনগনের স্বার্থ দেখে, বরং তারা রক্ষা করে এই কর্পোরেট পুঁজির মালিকদের স্বার্থ।

মন্তব্য করুন