অনুবাদকের কথা
প্রাচীন রোমান এবং গ্রীক সাহিত্যের প্রতি আমার ঝোক সেই ছাত্র জীবন থেকে । পড়ালেখার কারনে লাতিন থেকে ওলন্দাজে অনুবাদ করতে গিয়েই এ ঘটনাটি ঘটে। প্রাচীন রোমান কবি পাবলিউস অভিদিউস নাসো PABLIVS OVIDIVS NASO (খ্রীষ্টপুর্ব ৪৩ – ১৮ খ্রীষ্টাব্দ ) আমার সব চেয়ে প্রিয় কবি । তার লেখা ARS AMATORIA বা প্রেমকলা আমার সবচেয়ে প্রিয় সাহিত্যকর্ম। এবার আমি মুক্তমনা পাঠকদের জন্য এর ১ম অধ্যায়ের ১ম পর্ব প্রকাশ করলাম।
মূল লাতিন থেকে অনুবাদের সময় আমি , বাংগালী পাঠকদের অতিপরিচিত ইংরেজী উচ্চারনবিধির পরিবর্তে লাতিন ও গ্রীক উচ্চারনবিধি মেনে চলেছি ।

প্রেমকলা (ARS AMATORIA ) ১ম অধ্যায়ঃ ১ম পর্ব
পাবলিউস অভিদিউস নাসো PABLIVS OVIDIVS NASO (খ্রীষ্টপুর্ব ৪৩ – ১৮ খ্রীষ্টাব্দ )
(অনুবাদঃ বিজয়)

এখানে কেউ প্রেম কলা না জানলে ,
এটা পড় । আর পড়ে শিখ কি করে প্রেম করতে হয় ।
নৌকা ভাসাতে বিদ্যা লাগে , বৈঠা আর পালের প্রয়োজন ,
রথের ক্ষিপ্রতার জন্যেও চাই বিদ্যা আর বিদ্যা প্রেমের পরিচালক ।
আউতোমেদন ছিলো আখিলেউসের রথের লাগাম টানায় দক্ষ,
থেসালিয়ার তিফুস ছিলো আরগো জাহাজের নাবিক ,
প্রেম দেবী ভেনুস আমাকে তাই এখন বানিয়েছেন কোমল প্রেমের পথপ্রদর্শক ।
লোকে আমাকে এখন থেকে চিনবে প্রেমের তিফুস আর আউতোমেদন বলে।
এটা সত্য যে আমার কাছে প্রেম হোল বন্য এবং ডানপিটে খোকার মত ,
এমন অবাধ্য ছেলেরই দরকার কঠিন শাসন।
খেইরোন বানিয়েছিলেন আখিলেউসকে লুরা বাজনায় দক্ষ ,
আর সুশান্ত কৌশলে বশ করেছিলেন তার বন্য চেতনা ।
যে রাখত তাঁর শত্রু-মিত্র সবাইকে ভীত সন্ত্রস্ত ,
লোকে বলে সে কিনা বুড়ো কেন্তাউরয়কে পেতো ভীষন ভয়।
যে হাতে লেখা ছিল হেক্তরের নিয়তি ,
অটল , সেই হাত চাবকানো হয়েছিলো শিক্ষাগুরুর আদেশে ।
আমি প্রেমের শিক্ষক , যেমন খেইরন ছিল আখিলেউসের বেলায়,
দুজনই আদিম উন্মত্ত বালক , দুজনই একজন দেবীর সন্তান ।
এখনও বৃষের গ্রীবা জোয়ালের তলে নত হয়ে আসে ,
আর তুরপিনের বিঁধে ক্ষয়ে যায় তেজী ঘোড়ার দাঁত।
প্রেমও আমার বশ্যতা মানবে , যদিও তার বশ্যতা দিয়ে
সে আহত করে আমার হৃদয় , আমার দিকে নাড়াবে তার জলন্ত মশাল।
যত বেশী সে আমায় করে বিদ্ধ , তত বেশী হিংস্রতা করে দগ্ধ,
আর তার চেয়েও বেশী আমি হয়ে উঠি প্রত্যাঘাতের জন্য সংকল্প বদ্ধ ।
এ মিথ্যা দাবী করবো না আমি যে তুমি আমায় এ বিদ্যা শিখিয়েছ , আপোলো ,
কোন স্বর্গীয় পাখির কণ্ঠস্বর দেয়নি আমায় কোন উপদেশ,
আমি কখনও ক্লেও কিংবা তার বোন দের দিকে ক্ষণিক দৃষ্টিতেও তাকাইনি ,
পশুর পাল চরানোর সময় , আস্ক্রায় , তোমার উপত্যকায় :
অভিজ্ঞতাই এ কাজে যুগিয়েছে প্রেরণা : অভিজ্ঞ কবির কথা শুনুনঃ
আমি সত্যের গান গাইছি : ভেনুস , প্রশ্রয় দাও আমার এই স্পর্ধায় !
এখান থেকে অনেক দূরে , তুমি শালীনতার নিদর্শন,
মাথায় সরু বন্ধনী , পায়ের গোরালী ঢাকা বেশভুষা ।
আমি নিরাপদ প্রেমের গান গাইছি , অনুমোদনযোগ্য গোপন অভিসার ।
আর আমার গানে থাকবে না পাপ ময় কিছু ।
এখন নতুন ছাত্র হিসেবে যারা ভর্তি হয়ে আসবে তাদের প্রথম কাজ হবে
খুঁজে বের করা কাকে ভাল বাসতে চাও ।
পরবর্তী কাজ হোল এটা নিশ্চিত করা যে সে তোমায় পছন্দ করে :
তৃতীয়ত , এ প্রেম স্থায়ী হয় কিনা তা খতিয়ে দেখা ।
ওটাই আমার লক্ষ্য , ওই ভুমির ওপর দিয়েই আমার রথ ধাবমান হবে।
ওই চৌকির ওপর দিয়েই আমার বজ্র চক্রগুলো দাবিয়ে বেড়াবে । ( ক্রমশঃ)

[29 বার পঠিত]