ঈশ্বর কী আছে? ক্রেইগ-ফ্লু বিতর্ক, পর্ব – ৪

By |2010-03-15T10:33:07+00:00মার্চ 14, 2010|Categories: ধর্ম, বিতর্ক|6 Comments

ঈশ্বর কী আছে? ক্রেইগ-ফ্লু বিতর্ক

 

ফরিদ আহমেদ

 

পর্ব

 

পর্ব

পর্ব

পর্ব

 

ক্রেইগের প্রথম বক্তব্য খণ্ডন

 

 

আপনাদের মনে আছে আমি আমার প্রথম সূচনা বক্তব্যে যুক্তি দিয়েছিলাম যে নাস্তিকতা যে সঠিক সে বিষয়ে কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই বরং আস্তকতা যে সত্যি সে বিষয়ে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। আমি আশা করবো ডক্টর ফ্লু এমন কিছু বলিষ্ঠ যুক্তি নিয়ে হাজির হবেন যাতে করে নিঃসন্দেহে প্রমাণ করা যাবে ঈশ্বর বলে কিছু নেই। তার সূচনা বক্তব্য শুনে আমার মনে হল যে, তিনি তিনটি যুক্তি হাজির করেছেন। প্রথম যুক্তি হচ্ছে যে, ঈশ্বর যদি সর্বশক্তিমাণ হয়ে থাকেন, তাহলে সবকিছু ঈশ্বরের ইচ্ছামাফিক চলছে না কেন? আমার  মতে এই প্রশ্নের উত্তর খুবই সহজ। ঈশ্বরের সর্বশক্তিমত্ত্বার মানে এই নয় যে তিনি যৌক্তিকভাবে সব কাজকর্ম করতে পারেন। যৌক্তিকভাবে যে সমস্ত কাজ করা সম্ভব তিনি শুধুমাত্র সেগুলোই করতে পারেন। ইচ্ছামত যা খুশি তাই করতে পারাটা যৌক্তিকভাবেই অসম্ভব। কেউ মুক্তভাবে সবকিছু করে ফেলতে পারে সেই বিষয়টাই আসলে অসম্ভব। মুক্ত স্বাধীনতাও কার্যকারণ সম্পর্ক দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। কাজেই, যদি আমরা সত্যিই স্বাধীন হই এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা থাকে স্বাধীন প্রাণী সৃষ্টির, তাহলে তিনি নিশ্চয়তা দিতে পারেন না কতখানি স্বাধীন প্রাণী বেছে নেওয়া হবে। অন্য কথায় বলতে গেলে, ডক্টর ফ্লু ভাবনার ত্রুটি হচ্ছে যে, যেহেতু ঈশ্বরের পক্ষে এমন এক জগত সম্ভব যেখানে সবাই ঈশ্বরের অনুগত হবে সেহেতু ঈশ্বরের পক্ষে ওই ধরণের জগত তৈরি করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এমন হতে পারে যে, ঈশ্বর যখনই ওই ধরনের অনুগত জগত তৈরি করতে যাবেন তখনই প্রাণীরা তাদের নিজস্ব স্বাধীনতায় ভুলপথে চলে যাবে এবং ঈশ্বর যা চাইবে সেরকম আচরণ করবে না। এমনকি একজন সর্বশক্তিমাণের পক্ষেও সম্ভব নয় কাউকে দিয়ে মুক্তভাবে কিছু করানো। কাজে, আমি মনে করি যে, তার প্রথম যুক্তিটা সম্পূর্ণ হেত্বাভাসমূলক (fallacious)।

 

দ্বিতীয়তঃ, ডক্টর ফ্লু যুক্তি দিয়েছেন যে, ঈশ্বরের ভালবাসা এবং ন্যায়বিচারের ধারণা (Doctrine), নরকের ধারণার সাথে সুসংগত নয়, বিশেষ করে যেখানে অপরাধের মাত্রার সাথে শাস্তির মাত্রা মোটেও সমানুপাতিক নয়। এ বিষয়ে আমি দুটো জিনিষ বলতে চাই। প্রথমতঃ এটা আজকের সন্ধ্যার এই বিতর্কের বিষয় নয়। বিতর্কের বিষয় হচ্ছে ঈশ্বরের অস্তিত্ব। এই যুক্তি যা দেখাতে চাচ্ছে তা হচ্ছে নরকের ধারণা ভুল, ঈশ্বর নেই তা নয়। তারপরও নরকের ধারণায় বিশ্বাসী খ্রীষ্টান আস্তিক হিসাবে এর সমর্থনে আমি কিছু বলতে আগ্রহী

 

প্রথমতঃ এই সমস্যা যার সাথে সম্পর্কযুক্ত সেটা একটু আগেই আমি উল্লেখ করেছি। মানুষই নিজের ইচ্ছায় ঈশ্বরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় চিরতরে। ঈশ্বর মানুষকে নরকে পাঠায় না। বরং মানুষই স্ব-ইচ্ছায় ঈশ্বরের মহানুভবতা, ক্ষমাশীলতাকে প্রত্যাখান করে ঈশ্বরের কাছ থেকে নিজেদেরকে চিরস্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এই জীবনের সসীম পাপের জন্য যদি অনন্তকাল শাস্তি ভোগ করতে হয়, সেক্ষেত্রে আমিও একমত যে, সেটা হবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু বাইবেলীয় দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে যে, মানুষ তার নিজস্ব ইচ্ছাতেই ঈশ্বর এবং তার ক্ষমাশীলতাকে প্রত্যাখান করে এবং এর মাধ্যমে নিজেদেরকে ঈশ্বরের কাছ থেকে সরিয়ে ফেলে চিরতরে।

 

দ্বিতীয় যে বিষয়টি আমি উল্লেখ করতে চাই তা হচ্ছে, যদি কোন ব্যক্তি অসীম সংখ্যক পাপ কাজ করে থাকে তাহলে তার অনন্তকাল শাস্তিটাও প্রাপ্য। তবে এটাও ঠিক যে, কেঊই ইহকালে অসীম সংখ্যক পাপ কাজ করবে না। কিন্তু পরকালে? পরকালে কি হবে? নরকের পাপীরা যদি তাদের ঘৃণা এবং ঈশ্বর প্রত্যাখান তখনও চালিয়ে যেতে থাকে তবেতো তারা আরো শাস্তি অর্জন করবে। আর এভাবে প্রকৃত অর্থে নরক আপনা-আপনিই তৈরি হচ্ছে। পাপ কাজ চলছে অনন্তকাল, সেই সাথে শাস্তিও চলছে অনন্তকাল।

 

সবশেষে আমি বলতে চাই যে, হয়তো অনন্ত মাত্রা এবং অনুপাতের পাপ আছে যার শাস্তি অনন্তকাল। ঈশ্বর এবং তার ক্ষমাশীলতাকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখান করা হয়তো সেই মাত্রার অপরাধ। আমার কাছে ঈশ্বর সৃষ্ট প্রাণীর ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার মুখে থুথু ছিটানো বা তাকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখান করা অসীম মাত্রার অপরাধ। এরকম ঘৃণ্য অপরাধের জন্য তার অনন্তকাল শাস্তিই সঠিক শাস্তি।

 

যদিও এটা আমাদের আজকের সন্ধ্যার বিতর্কের বিষয় নয়, তবুও আমি মনে করি যে এমন কোন যুক্তি নেই যা দিয়ে প্রমাণ করা যায় যে, নরকের ধারণা ঈশ্বরের ভালবাসা এবং ন্যায়বিচারের সাথে সুসংগত নয়। বাইবেলীয় দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে যে, ঈশ্বর চান প্রত্যেকটা ব্যক্তি তাকে চিনুক, তার ভালবাসায় সিক্ত হোক এবং তার অনুকম্পা গ্রহণ করুক। মানুষের স্বাধীনতার কারণেই সেই চাওয়া পূর্ণতা পায় না।

 

ডক্টর ফ্লুর তৃতীয় যুক্তি অনুযায়ী কায়াহীন অস্তিত্বের ধারণা অসম্ভব। খেয়াল করে দেখুন তিনি এ ব্যাপারে কোন প্রমাণ দেননি। তিনি কোন যুক্তিও দেন নাই। শুধুমাত্র বলে গেছেন যে এটা অসম্ভব। আমি এ ব্যাপারে জ্বলন্ত প্রমাণ দেখতে চাই। শুধু মুখের কথায় চিড়ে ভিজবে না।

 

কাজেই আমি মনে করি না আজ রাতে নাস্তিকতার স্বপক্ষে যে সমস্ত যুক্তিতর্ক দেখলাম তার কোনটাকেই খুব একটা জোরালো বলে মনে হলো না। এগুলোর কোনটাকেই আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। ঈশ্বরের অস্তিত্বের স্বপক্ষের আমার যুক্তিগুলো দেখুন।  সেগুলো কী ডক্টর ফ্লুর যুক্তির চেয়ে উন্নততর নয়?

 

প্রথমেই আমি যুক্তি দিয়েছিলাম যে, বিশ্বজগতের সৃষ্টি ঈশ্বরের অস্তিত্বের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে এবং সেখান থেকে এই যুক্তি আসে যে, যা কিছুর শুরু হয়েছে তার অবশ্যই কোন কারণ রয়েছে। বিশ্বজগতের শুরু হয়েছে কাজেই বিশ্বজগতের পিছনেও কোন কারণ রয়েছে। এর উত্তরে ডক্টর ফ্লু বলেছেনঃ আমাদেরকে যে কোন জিনিষকে অন্য কোন জিনিষের, যেগুলো নির্ভেজাল তথ্য, তার সাপেক্ষে ব্যাখ্যা করতে হবে। কিন্তু আমার যুক্তি হচ্ছে যেহেতু বিশ্বজগতের অস্তিত্ব সূচনা হয়ছে, কাজেই সেটা নির্ভেজাল তথ্য হিসাবে আমাদের স্থির বিন্দু হতে পারে না। কেন পারে না? প্রথম ভিত্তিই হচ্ছে যা কিছুর সূত্রপাত হয়েছে তার অবশ্যই কারণ রয়েছে। ডক্টর ফ্লু যদি মনে করে থাকেন যে বিশ্বজগত হচ্ছে তার নির্ভেজাল তথ্য এবং স্থির বিন্দু তবে তাকে এই প্রথম ভিত্তিকে খণ্ডন করতে হবে। আমি মনে করি ওই প্রথম ভিত্তির পিছনে দুটো যুক্তি রয়েছে। প্রথমটা হচ্ছে অধিবিদ্যামূলক যুক্তি। কোন কিছু শূন্য থেকে সৃষ্টি হতে পারে না। শূন্য থেকে শুধু শূন্যই আসে। দ্বিতীয়টা হচ্ছে কার্যকারণ যুক্তিসমূহ প্রতি মূহুর্তেই আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে সমর্থিত হচ্ছে। এখানে শূন্য থেকে একটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা ইনুইট গ্রাম সুড়ুত করে জন্ম নেবে এটা কেউই বিশ্বাস করবে না। কাজেই আমার মনে হয় যে প্রথম যুক্তিটা খুবই যুক্তিসঙ্গতবিশ্বজগতের যদি শুরু থেকে থাকে তবে তার পিছনে অবশ্যই কোন না কোন কারণ রয়েছে

 

ডক্টর ফ্লু স্বীকার করেছেন যে বিশ্বজগতের সূত্রপাত আছে। তার গ্রন্থ Atheistic Humanism  এ তিনি বলেছেন, আমাদের ……… বিশ্বজগতের বিস্ফোরক সূচনা রয়েছে সে বিষয়ে বিশ্বাস করার এখন দারুণ প্রাকৃতিক বৈজ্ঞানিক কারণসমূহ রয়েছে। কাজেই এর পরে যৌক্তিক এবং অবশ্যম্ভাবীভাবে আসে যে বিশ্বজগতের পিছনে কারণ রয়েছে।

 

এখন তিনি জিজ্ঞেস করছেনঃ বিশ্বজগত সৃষ্টির পিছনের কারণের কী ঈশ্বরের গুণাবলী রয়েছে? তিনি উত্তর দিচ্ছেন যে নেই। এ বিষয়ে আমার দুটো প্রতিক্রিয়া রয়েছে। প্রথম, আমি কপলস্টন রাসেল বিতর্কে ব্যবহৃত ঈশ্বরের সংজ্ঞাকে ব্যবহার করছি। সেই বিতর্কে কপলস্টন প্রস্তাব করেন যেঃ ঈশ্বর বলতে আমি বুঝি সর্বোচ্চ সত্ত্বা যা এই বিশ্বজগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এই বিশ্বজগতের স্রষ্টা। রাসেল জবাব দেন যে, আমি এই সংজ্ঞাকে মেনে নিচ্ছি। ওই সংজ্ঞায় আমি ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়েছি। দ্বিতীয়তঃ স্মরণ করুন আমি মূলত সমন্বিত যুক্তি দিচ্ছি। প্রথম যুক্তি আমাদেরকে বিশ্বজগতের নিরবয়ব, সময়হীন, অপরিবর্তনীয়, স্থানহীন, সূত্রপাতবিহীন, অকারণ, ব্যক্তিগত স্রষ্টাকে দিয়েছে। দ্বিতীয় যুক্তি আমাদেরকে দিয়েছে বিশ্বজগতের একজন বুদ্ধিমান নকশাবিকে। তৃতীয় যুক্তি দিয়েছে নৈতিক মূল্যবোধের উৎস এবং সব শুভ শক্তিকে। চতুর্থ যুক্তি আমাদেরকে একজন ঈশ্বরকে দিয়েছে যিনি সক্রিয় ছিলেন যীশুর ইতিহাসে। এবং শেষ যুক্তি দিয়েছে এমন একজন ঈশ্বরকে যাকে খুব কাছে থেকে জানা যাবে বা মুখোমুখি হওয়া যাবে। আমি মনে করি এই সকল যুক্তির সমন্বিত শক্তি  আমাদেরকে ঈশ্বরের গুনাবলীর অনেকগুলোকেই আমাদের সামনে তুলে ধরেছে।

 

আমার দ্বিতীয় যুক্তি বিশ্বজগতের জটিল বিন্যাসের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। আমি সেখানে যুক্তি দিয়েছিলাম যে, মহাবিশ্বের আদি অবস্থার ফাইন টিউনিং হয়েছিল হয় সূত্র, দৈবতা অথবা ডিজাইনের কারণে। সূত্র বা দৈবতার কারণে সূক্ষ্ণ-সমন্বিত হয়নি। কেননা, সেটা ছিল আদি অবস্থা এবং সেই অবস্থাকে বৈজ্ঞানিক সূত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। পল ডেভিস তার Mind of God গ্রন্থে বলেছেন যে এই অবস্থা যে জরুরী ছিল তার স্বপক্ষে কোন ধরনেরই প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি বলেন,

 

এমনকি পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রসমূহ যদি অনন্য হলেও প্রাকৃতিক বিশ্বজগত সেই অনন্যতাকে অনুসরণ করে নাই………… সূত্রসমূহ ………অবশ্যই সমৃদ্ধ হয়েছে মহাজাগতিক আদি অবস্থা দিয়ে…… আদি অবস্থার সূত্রসমূহের বর্তমান ধারণাসমূহে এমন কিছু নেই যা সামান্যতম ধারণা দেয় যে পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রসমূহের সাথে তাদের সামঞ্জস্যতা অনন্যতাকে ইঙ্গিত করবে। এটা বরং পুরোপুরি উলটো।

 

এতে মনে হচ্ছে যে প্রাকৃতিক বিশ্বজগতকে এখন যে রকম আছে সে রকম নাও হতে পারে- এটা অন্য রকমেরও হতে পারতো। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বজগত ধারালো ছুরির ফলার উপর ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। এর জন্য কোন ধরণের ব্যাখ্যা অবশ্যই প্রয়োজন।  প্রাকৃতিক সূত্রসমূহ থেকে এটা হতে পারে না। দৈবতার কারণেও এটা হতে পারে না। কেননা দৈবতার কারণে এটা ঘটার সম্ভাবনা পুরোপুরি অসম্ভব। কাজেই সবচেয়ে সেরা ব্যাখ্যা হচ্ছে ডিজাইন।

 

এখন ডক্টর ফ্লু বলছেন, আমরা ডিজাইন অনুমান করি জটিলতার কারণে নয় আমরা ডিজাইন অনুমান করি এই জন্য যে সেই বস্তুটা মনুষ্য তৈরি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছেঃ আমরা কিভাবে কোন কিছুকে মনুষ্য সৃষ্ট বলে চিহ্নিত করি? আমরা সেটা করি সেই জিনিষের জটিলতার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু অসম্ভবতা চিহ্নিত করার মাধ্যমে। ধরা যাক দুজন প্রত্নতত্ত্ববিদ মাটি খুঁড়ে বর্শার ফলার মত পাথর খুঁজে পেলে বলবে না দেখো, কী আশ্চর্য! পলি পড়ে এবং ভূ-রূপান্তরের ফলে কি রকম উদ্ভট জিনিষ তৈরি হয়েছে! ওই বিশেষ জটিলতার অসম্ভাব্যতার কারণে তারা সাথে সাথেই বুঝে যাবে যে এটা ডিজাইন করা হয়েছে। অথবা ভিনগ্রহের প্রাণীদের অনুসন্ধানকে বিবেচনায় আনুন। আমরা যদি মহাকাশ থেকে প্রথম একশোটা মৌলিক সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে সন্নিবিষ্ট কোন মেসেজ পাই, তাহলে ততক্ষনাত আমরা বুঝে যাবো যে সেই মেসেজটা কোন বুদ্ধিমান প্রাণী পাঠিয়েছে (কন্টাক্ট চলচ্চিত্রের মত)। এই সমস্ত সুনির্দিষ্ট অসম্ভবতার মাধ্যমেই আমরা সাধারণ জীবন এবং অভিজ্ঞতায় ডিজাইনকে চিহ্নিত করি। ওই সমস্ত সুনির্দিষ্ট অসম্ভবতা বিগ ব্যাং এ উপস্থিত ছিল। আর সে কারণেই সুত্র বা দৈবতার ব্যাখ্যার অনুপস্থিতিতে আমার কাছে ডিজাইনের ব্যাখ্যাটাই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য।

 

আমার তৃতীয় যুক্তি (III) নৈর্ব্যক্তিক নৈতিক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে ছিল। আমি দেখিয়েছিলাম যে, ঈশ্বরের অনুপস্থিতিতে সবকিছুই সামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে আপেক্ষিক হয়ে পড়ে। যতক্ষন না সামাজিক-সাংস্কৃতিক সাপেক্ষবাদের প্রেক্ষিতে সর্বোকৃষ্ট কোন সীমা বিন্দু না থাকে ততক্ষন পর্যন্ত পরম ন্যায় বা পরম অন্যায় বলে কিছু নেই। ডক্ট্র ফ্লু এই যুক্তির বিষয়ে টু শব্দটিও করেননি।

 

আমি আমার চতুর্থ (IV) যুক্তিতেও দেখিয়েছি যে, খালি সমাধি, যীশুর আগমন এবং তার শিষ্যদের বিশ্বাসের উতসকে সবচেয়ে বেশি ভালভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যীশুর পুরুত্থানের হাইপোথেসিস দিয়ে। আমি অপেক্ষায় আছি তার চেয়ে যৌক্তিক কোন বিকল্প প্রাকৃতিক হাইপোথেসিসের জন্য।

 

সবশেষ যুক্তিতে (V) আমার ঈশ্বরের সন্নিহিত অভিজ্ঞতা আমাকে জানিয়েছে যে ঈশ্বর আছেন। নাস্তিকতার স্বপক্ষে শক্তিশালী যুক্তির অভাবে আমার ঈশ্বর সন্নিহিত অভিজ্ঞতা এবং তিনি যে আছেন সেই বিশ্বাসকে অস্বীকার করার কোন কারণই দেখছি না।

 

 

 

About the Author:

মন্তব্যসমূহ

  1. San মার্চ 15, 2010 at 9:16 অপরাহ্ন - Reply

    :no:

  2. একা মার্চ 15, 2010 at 3:19 অপরাহ্ন - Reply

    আপনার লেখাটা বেশ ভাল লাগল ।

  3. কবরি বটিু মার্চ 15, 2010 at 12:12 অপরাহ্ন - Reply

    ‍‍‍সকৈত ‍চৌধুর িযে পয়ন্টেগু‍‍লাে ধরছেনে তা আমারো চােখ েলগেছে
    েমন েহচ্ছ েএটা একট িসাজানাে বতির্ক।

  4. বন্যা আহমেদ মার্চ 15, 2010 at 6:18 পূর্বাহ্ন - Reply

    ফরিদ ভাই, ফন্টটা কি ইচ্ছে করে এত ছোট রাখলেন? পড়তে খুব কষ্ট হচ্ছে।

    • ফরিদ আহমেদ মার্চ 15, 2010 at 10:40 পূর্বাহ্ন - Reply

      @বন্যা আহমেদ,

      উঁহু, ইচ্ছে করে নয়। ফন্ট সাইজ আমাকে ভালই ভোগাচ্ছে। কোন সাইজটা যে মুক্তমনার ডিফল্ট সাইজ সেটাই বুঝতে পারছি না। তেরো দিয়েছিলাম বলেই মনে পড়ে। কীভাবে যে সেটা বারো হয়ে গেলো সেই রহস্যটাই বুঝতে পারছি না। একবার অবশ্য নিজেই বারো করে দেখার চেষ্টা করেছিলাম কেমন দেখায়। ছোট দেখায় দেখে তেরো করে দিলাম। এখন দেখছি আসলে তেরো হয়নি কোন কারণে। এখন ঠিক করে দিলাম। আশা করি আর পড়তে কোন সমস্যা হবে না।

  5. সৈকত চৌধুরী মার্চ 15, 2010 at 1:22 পূর্বাহ্ন - Reply

    বেশ মজা পেলাম। আচ্ছা বিদ্বান মানুষগুলো ঈশ্বরের মত আজগুবি বিশ্বাসকে কিভাবে বজায় রাখেন তা ভেবে পাই না।

    কিন্তু এমন হতে পারে যে, ঈশ্বর যখনই ওই ধরনের অনুগত জগত তৈরি করতে যাবেন তখনই প্রাণীরা তাদের নিজস্ব স্বাধীনতায় ভুলপথে চলে যাবে এবং ঈশ্বর যা চাইবে সেরকম আচরণ করবে না।

    ঈশ্বরের স্বাধীনতার সাথে প্রাণীদের স্বাধীনতা বিরোধ সৃষ্টি করবে? ঈশ্বরের আর কোনো বিকল্প নেই?

    কিন্তু পরকালে? পরকালে কি হবে? নরকের পাপীরা যদি তাদের ঘৃণা এবং ঈশ্বর প্রত্যাখান তখনও চালিয়ে যেতে থাকে তবেতো তারা আরো শাস্তি অর্জন করবে।

    কে কে তা করবেন হাত উঠান। 🙂

    ঈশ্বরবাদীরা ইশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে এমনভাবে বলেন যে মনে হয় ঈশ্বরের সাথে প্রতিদিন তাদের দেখা হয়। তারা ইচ্ছেমত ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করেন ও আরোপ করেন যাতে একজন অবুঝও বোঝতে পারে MAN CREATED GOD IN HIS OWN IMAGE.

মন্তব্য করুন