সংস্কারক আহমেদ মনসুরের কথা—-

By |2010-02-05T21:28:37+00:00ফেব্রুয়ারী 5, 2010|Categories: ধর্ম, রাজনীতি|12 Comments

আহমেদ মনসুর একজন ইসলামিক সংস্কারক হিসেবে পরিচিত। তিনি আল-আজহার বিশ্ব-বিদ্যালয়ের সহকারী প্রফেসর হিসেবে ছিলেন। কিন্তু প্রচলিত প্রথার ইসলামের কান্ডারীগণ তার এই সংস্কার বিষয়ক গবেষণাগুলো ভালমনে গ্রহণ করে নি। বরং সুন্নী মতানুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফতোয়া দেয়া হয় এবং একটি কমিটি গঠন (৫/৫/১৯৮৫)করে তাকে ইসলাম বিরোধী, ধর্মত্যাগী হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং তার লেখাগুলোকে কোরান বিরোধী আখ্যা দেয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে তার লেখাগুলোর বিষয়-বস্তু সুন্নী মতবাদ, যা ইসলাম ও কোরানের পরিপন্হী সে বিষয় নিয়েই বর্ণিত। প্রচলিত ধারার মুসলিম ধর্ম-বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ভাবে তাকে হয়রানী করে এবং কাজ থেকে অব্যহতি নিতে বাধ্য করে। এরপর তিনি বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে তার ইসলাম সংস্কারের বক্তব্য প্রদান করতে থাকেন। কিন্তু শেখ আস-শারাওয়ির ফতোয়া অনুযায়ী সেখানেও বাঁধা আসে এবং তাকে এরেস্ট করা হয়। তিনি এরপর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা শুরু করেন, সেই সাথে তার বিরুদ্ধে ধর্মত্যাগীর বিভিন্ন ফতোয়াও চলতে থাকে–তারমধ্যে অন্যতম ছিল শেখ আব্দুল গাফফার আজিজের মৃত্যূ ঘোষনা। এরপর আহমেদ মনসুর এবং ড. ফারাজ ফোঔদা আলাদা স্টেট গঠনের উদ্দেশ্য (যেখানে সকল জনগণ সম-অধিকারী) পলিটিকাল(আল-মাস্তিকবাল পার্টি) পার্টি গঠন করেন। ফতোয়া ঘোষনার কিছু দিন পর ১৯৯২ সালে ড. ফারাজ ফোঔদাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু এত বিপদ মাথায় নিয়েও তিনি থেমে থাকেননি। ১৯৯৬ সালের ২রা জানুয়ারী বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি গ্রুপ এবং হিউম্যান রাইটসের সাহায্যে তিনি ইবনে খালদুন সেন্টারে সাপ্তাহিক (মঙ্গলবার) সিম্পোজিয়াম শুরু করেন এবং এটা চলতে থাকে ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হবার পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত। এরপর তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতায় আমেরিকায় পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। আমেরিকায় অবস্হানের সময় তিনি The International Quranic Center প্রতিষ্ঠা করেন।

তার বিপক্ষ দল বলতে তিনি আল-আজহারের শেখদেরকেই শুধু বোঝাতেন না, সেই সাথে মিশর, সুদান, আশে-পাশের আরব রেজিম (শাসন-প্রণালী), সৌদি ওয়াহিবীগণ, চরমপন্হী, এবং আল কায়দার সালাফী সন্ত্রাসীগণকে, ও যারা তাদের সমর্থন করে তাদেরকেও বুঝিয়েছেন; এরা মডারেশনের নামে চরমপন্হাকে সমর্থন করে এবং হত্যা এবং সন্ত্রাসকে প্রশয় দেয়। আবার এই দলগুলো পরস্পর বিরোধী; যেমন, সৌদি এবং মুবারক রেজিম আল কায়দা এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের বিপক্ষে। কিন্তু তারা সবাই একটা বিষয়ে সংঘটিত, আর তা হচ্ছে, শুধু মাত্র (হাদিস ত্যাগী) কোরান অনুসরনকারীদের বিরুদ্ধে বিরুপ মনোভাব। কারণ, কোরান অনুসারীরা সুন্নী মতবাদের স্তম্ভে আঘাত হেনেছে এবং সুন্নীরা যে ইসলামের বা কোরানের পরিপন্হী জীবন-যাপন করছে এবং সেই সাথে কয়েক মিলিয়ন ধর্মপ্রাণ মুসলিমকে ধর্মের নামে প্রতারিত করছে, সে বিষয়ে প্রমাণ দিতে পেরেছে। আহমেদ মনসুর আরো মনে করেন যে, যখন-তখন এই ফতোয়া দেবার দুষ্টু শেকড় এই অত্যাচারী রেজিমগুলোই বয়ে বেড়াচ্ছে। যার ফলে তানতাওয়ি ও আয-যোয়াহরি, আয-যারকাওয়ি এবং হুসনে মোবারক, বিন লাদেন এবং সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ এদের কারো মধ্যেই কোন পার্থক্য নেই। এরা সবাই বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় এবং প্রসার করছে সুন্নী মতবাদের মাধ্যমে। তিনি রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাবানদের বিন লাদেন, আয-যোয়াহরি, আয-যারকাওয়ির চেয়ে খারাপ মনে করেন; কারণ আল কায়দা যা প্রমোট ও প্রচার করে সেই অনুযায়ী কাজ করে। আর এই অত্যাচারী ক্ষমতাবানরা ভন্ড এবং বহু চরিত্রের অধিকারী। তারা তাদের শত্রুকে গোপনে হত্যা করায় কিন্তু সামনে শোক প্রকাশ করে, তাদের ব্যবহার-শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তিগণ বিবেকহীন, তারা সবাই মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করে কিন্তু অন্যদিকে ইসলামের পরধর্ম বা পরমত সহিন্ষু্তার কথা বলে।

সাম্প্রতিক খবর যে, আল কায়দা আহমেদ মনসুরের মৃত্যূর ফতোয়া দিয়ে ওয়েবসাইটে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে। আহমেদ মনসুরের ভাষ্য অনুযায়ী এই সাইটে তারা কিছু আর্টকেলের কথা উল্লেখ করেছে যা তার নিজের লেখা নয়। আহমেদ মনসুরের কিছু কথা ইংরেজিতেই তুলে ধরা হলোঃ
…. Let it be known, and Allah, glory be to Him, knows…and suffice for Him to be a Witness and a Knower, that I wish and hope that I be murdered in the cause of my peaceful mission for reform….At that time, the greatest triumph would have been achieved for me, in this life and the Hereafter.

So come on all you Al-Qaeda rascals. I am in wait for you, with all your weapons and explosives…rest assured…I have nothing in my hands ….except the Book of Allah the Glorious Quran.

About the Author:

মন্তব্যসমূহ

  1. আতিক রাঢ়ী ফেব্রুয়ারী 10, 2010 at 1:35 অপরাহ্ন - Reply

    যারা জেলে থাকেন তারা এর সংস্কার চাইতেই পারেন। মুক্তজীবনের স্বাদ যে পেয়েছে তার আসলে একটাই চাওয়া, আর তা হলো, কয়েদিদের যদি একবার মুক্তজীবনটা দেখানো যেত
    তবে ওরা জেলের সংস্কার পরিবর্তে চেষ্টা করতো ওটা থেকে মুক্তির।

    আমদের ঢাকার ট্রাফিক জ্যামে যখন অমূল্য সময় ও গ্যালনে গ্যালনে জ্বালানীর অপচয় হয়
    তখন যেমন কষ্ট লাগে, তেমন জেলখানার কয়েদিদের যখন দেখি এটার সংস্কারের জন্য মেধা,
    শ্রম ব্যায় করছেন তখন অনুরূপ কষ্ট লাগে।

  2. বকলম ফেব্রুয়ারী 6, 2010 at 10:47 অপরাহ্ন - Reply

    বেশ কয়েকদিন পরে আবার মুক্তমনায় আসলাম। সময়হীনতায় ভুগছি। তাছাড়া কোরান হাদিস ধর্ম এসব অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে আমি এমনিতেও খুব মাথা ঘামাই না। তবে চরম অপ্রয়োজনীয় হলেও এটা স্বীকার করতে হবে যে একে এড়ানো মুশকিল। চারিদিকে বিভিন্ন ধর্মের ধুন্ধমার দক্ষযজ্ঞ লেগেই আছে।

    সংস্কার কথাটা কিছুদিন আগে বাংলার রাজনীতি অর্থনীতিতে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল। অনেকে সংস্কারের ভয়েই অস্থির ছিল। সংস্কারপন্থীদের মোটা মুটি একঘরে করার আয়োজন হয়েছিল।
    সংস্কারের দরকার হয় কেন?
    আমার দাদা ৬০ দশকে একটা বাড়ি বানিয়েছিলেন। ৯০ এর এর শেষের দিকে সেই ঘরের অবস্থা জরাজীর্ণ। কাজেই তাকে আবার সংস্কার করা হল। নতুন করে ঠিক করে আবার চুনকাম করা হল। সোজা কথায় এটা হল সংস্কার । কোন কিছু জরা জীর্ণ হয়ে পড়লে বা যুগের সাথে কম্পিটিবল না হলে তাকে আবার ঝাড়মুছ করে রঙ লাগানো, নতুন দিনের সাথে তাল মিলিয়ে কিছু যোগ বা বিয়োগ করা। সেটা বাড়ির ক্ষেত্রে যেমন সত্যি, তেমনি শাসন ব্যবস্থা, বিভিন্ন মতবাদ, বৈজ্ঞানিক বা দার্শনিক থিওরি বা হাইপোথিসিস সবকিছুর ক্ষেত্রে সত্যি। বিষেশ করে বিঞ্জানেতো এরকম হর হামেশাই হচ্ছে। বরং এটাই বিঞ্জানের এগিয়ে যাবার অন্যতম কারণ বলে আমার মনে হয়। ধর্মেও মাঝে মাঝে আমরা সংস্কার দেখি। বিষেশ করে খ্রীষ্টধর্মে সংস্কার একটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    কিন্তু মানব জ়ীবনের শাস্বত জ়ীবন বিধান, একমাত্র সত্য এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মীয় মতবাদ কিংবা সকল যুগের শ্রেষ্ঠ মানুষ মহাম্মদের কাছে প্রেরিত একমাত্র টিকে থাকা প্রকৃত স্রষ্টার বানী এবং সেই শ্রেষ্ঠ (সকল যুগের জন্য) মানুষের কার্যাবলীর বিবরণ– এসবে সংস্কার কেন হতে হবে? শাস্বত সত্যের সংস্কার কি হতে পারে? রেস্টোরেশন হতে পারে কিন্তু রিফর্ম তো নয়।
    কি কি বিষয় এই সংস্কারের অন্তর্ভুক্ত হবে? সেই সংস্কারের পদ্ধতি এবং অথরিটি কে হবে? আর ইসলামের প্রকৃত সত্য অনুশাসনটিই বা কি যেটা সংস্কার করে আবার পুনরুদ্ধার করতে হবে?
    সংস্কারের মধ্যে কি কোরানও অন্তর্ভুক্ত? নাকি সংস্কার শুধু হাদিসের মধ্যেই হবে? সব হাদীস কি মিথ্যা? নাকি কিছু হাদীস মিথ্যা? কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা এটা যাচাই হবে কিভাবে?

    শুধু কোরান দিয়ে কি ইসলাম এবং এর ইতিহাস বোঝা সম্ভব? মহাম্মদের ঞ্জাতি গোষ্ঠি, সময়কাল, কার্যকলাপ এসব কিছুতো কোরানে নাই। তার জন্য হয় প্রকৃত ইতিহাস বই বা হাদীসের সাহায্য নিতেই হবে। এই হাদীস সহকারেইতো ইসলাম গত ১৪০০ বছর ধরে বহাল তবিয়তে আছে এবং দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। কোন বড় সমস্যাতো হয়নি। তাহলে এখন কেন হাদীস বাদ দেয়া বা সংস্কারের দরকার? হয়ত অনেক আগে থেকেই হাদীস নিয়ে কিছু কিছু আলোচনা হচ্ছে। আইভি হয়ত তথ্য সুত্র সহকারে জানাতে পারবেন। কিন্তু হাদীসের কারনে ইসলামের জয়যাত্রা বা প্রসার বা অনুরাগ তো থেমে থাকেনি। আর হদীস সত্য কিনা এ নিয়ে যদি প্রশ্ন ওঠে তাহলে মিথ্যা কিনা এ নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কনক্লুসিভ সিদ্ধান্ত কি হতে পারে?
    ধরা যাক, হাদীস এবং তৎকালীন সিরাসমুহ (প্রাচীন ইস্লামী ইতিহাস) সবই ভুল। সমস্ত শরিয়া আইন এবং ফতোয়াগুলোও ইস্লামি (প্রকৃত) মতে হয়নি (যদিও এ ব্যপারে কোন সুপ্রিম অথরিটি নাই যে বলবে কোনটা প্রকৃত আর কোনটা নয়, সে হিসাবে আদিল ভাই যেটা বলেছেন সেটাই ঠিক যে–

    আমার মতে ধর্ম বিষয়ে সবাই ঠিক। এটা আসলে বিশ্বাসভিত্তিক দর্শন; যার কাছে যা ভাল লাগে তাই ঠিক।

    তাহলে আমাদের হাতে থাকল কোরান।
    কোরানতো সংস্কারের উর্ধে এবং কোরান সংস্কারের প্রশ্নই উঠতে পারেনা। কারন এটা সরাসরি স্রষ্ঠার বানী এবং শাস্বত জীবন বিধান।
    কোরান কি আজকের যুগের সব কিছুর সাথে কম্প্যাটিবল? সেখানেও নানা মুনির নানা মত। একেকজন যার যার যুগ ও চিন্তা অনুযায়ি অনুবাদ করে যাচ্ছেন। কিছু বিষয় আজকের যুগের মতবাদের সাথে না মিললে বলা হয় যে অনুবাদ হয়নি। কিংবা প্রকৃত আরবি ছাড়া এটা বোঝা যাবে না ইত্যাদি।
    কোরানের বৈজ্ঞানিক ভুলগুলো, নারীদের প্রতি অসম ট্রিটমেণ্ট, বিধর্মীদের এবং অবিস্বাশীদের প্রতি আচরন, বেহেস্ত ও দোজখের বিভিন্ন কুরুচীপূর্ণ বিবরণ- এসব কি সংস্কার করা সম্ভব? নাকি এসব আয়াতগুলোকে জোকের নায়কদের মত সুবিধানুযায়ি অনুবাদ করে নিতে হবে? নাকি সারা পৃথিবীর মুসলিমদের জন্য প্রাচীন আরবি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। তাহলে সবাই যার যার মত কোরান অনুবাদ করে যার যার মত ধর্ম পালন করতে পারবে। যার বুঝ যেরকম হবে তার ধর্ম পালনও সেরকম হবে।
    আমরা কি সংস্কার করতে চাইছি নাকি যে শাস্বত বিধান অলরেডি আছি তার কাছে ফিরে যেতে চাইছি? মানে রেস্টোরেশন। মহম্মদের সময়কি প্রকৃত ইসলাম ছিল এবং আমরা কি সেই ইসলামে যেতে চাইছি? এমন হতে পারে যে আল্লা শাস্বত জীবন বিধান দিয়ে রেখেছিলেন মহম্মদকে কিন্তু মানুষ সেটাকে বদলে ফেলেছে। আফটার অল, আল্লা সরাসরি ওনাকে নির্দেষ দিয়েছেন এবং উনিও সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। তাই তার ইসলামই প্রকৃত ইসলাম হওয়া উচিত।

    (অনেক কথা হয়ে গেল। কোন কিছুর নাম শান্তি হলেই সেটা শান্তির জিনিস হয়ে যায়না। ইসলাম মানে শান্তি যখন বলা হয় তখন আমার কেন জানি একাত্তরের শান্তি কমিটির কথা মনে হয়)

    • আকাশ মালিক ফেব্রুয়ারী 6, 2010 at 10:58 অপরাহ্ন - Reply

      @বকলম,

      কোন কিছুর নাম শান্তি হলেই সেটা শান্তির জিনিস হয়ে যায়না। ইসলাম মানে শান্তি যখন বলা হয় তখন আমার কেন জানি একাত্তরের শান্তি কমিটির কথা মনে হয়

      😕 😕 :-/ :-/

    • আদিল মাহমুদ ফেব্রুয়ারী 6, 2010 at 11:43 অপরাহ্ন - Reply

      @বকলম,

      আপনার শেষ কথায় ঘৃণার সাথে সাথে হাসিও পেয়ে গেল। আলোর নীচেই তো সবচেয়ে অন্ধকারময় বিন্দুটি থাকে।

      আপনার লেখা আরেকটু ঘষে মেজে পুরো পোষ্ট আকারে দিলে ভাল করবেন। বেশ চিন্তা জাগানিয়া লেখা যাকে বলে তা হত। ফুয়াদ ভাই আইভি আপা কি বলেন শোনা যেত।

      আপনার দুয়েকটা প্রশ্নের জবাব আমি দিতে চেষ্টা করি।

      কোন হাদীস আসল আর কোনটা ভূয়া কিভাবে বুঝব? কে তার অথরিটি?

      আজকাল ব্লগে ব্লগেই হাদীস বিরোধীরা অনেক পোষ্ট দেন। তাদের কথা থেকে বুঝি যে তাদের মতে যে হাদীস কোরানের সাথে পরিপন্থী সেগুলি জালি, যেগুলি কোরানের সাথে সংঘর্ষিক নয় সেগুলি সত্য। যেমনঃ মূরতাদের মৃত্যুদন্ডের বিষয়ে হাদীস আছে। তবে কোরানে মুরতাদের পার্থিব শাস্তির ব্যাপারে তেমন কোন নির্দেশনা নেই। তাই এই হাদীস জাল ধরে নেওয়া যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত অথরিটি কার? জানি না, মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। আমার ধারনা এই হাদীশ গ্রহন বর্জন বিষয়ে আগামী কিছু দিনের মধ্যে আরো নুতন নুতন গ্রুপ তৈরী হবে। ব্যাপক গোলযোগের আশংকাও আছে।

      তবে হাদীস বর্জনকারীদের মধ্যে যারা আরেকটু হার্ডকোর টাইপ তারা আবার যাচাই বাছাই এর হ্যাপায় না গিয়ে সব হাদীসই বর্জনীয় বলে রায় দেন।

      আমি নিজেও জানি না হাদীস বা অন্যান্য ইসলামী সব সূত্র বাদ দিয়ে শুধু কোরান ভর করে ইসলাম কেমন করে টিকে থাকবে। নবী মোহাম্মদের কথাই কোরানে আছে মাত্র কয়েকটি যায়গায়।

      তবে সংস্কারপন্থী হোন আর ট্রাডিশনান যেই হন, কোরানের ব্যাপারে এখনো সবাই দৃঢ়ভাবে একমত। কোরানে কোন সংস্কারের প্রয়োযন কেউই দেখেন না। তাই স্বাভাবিক। যে গ্রন্থ মানুষের সাহায্যে সময়ের সাথে সংশোধন করতে হয় তার মাঝে অলৌকিকত্ব পাওয়া যাবে কেমন করে? সে বই মানুষে আর মানবেই বা কেন? তার চেয়ে স্মার্ট উপায় হল মূল আরবী ঠিক রেখে যথাসাধ্য যুগোপযোগী ব্যাখ্যা, সমাজ উচ্ছনে আবার হুমকি ধমকি প্রদর্শন।

      “এমন হতে পারে যে আল্লা শাস্বত জীবন বিধান দিয়ে রেখেছিলেন মহম্মদকে কিন্তু মানুষ সেটাকে বদলে ফেলেছে। ”

      আইভিসহ অনেকে এমনই কিছু বিশ্বাস করেন বলে জানি। জামিলুল বাশার নামের আরেকজন সদালাপে আগে লিখতেন। তিনি এখন বই বের করেছেন এ বিষয়ে। ওটা পড়তে পারেন।
      http://www.scribd.com/doc/9284214/The-Koran-vs-Shariat

    • মিঠুন ফেব্রুয়ারী 6, 2010 at 11:47 অপরাহ্ন - Reply

      @বকলম,

      “কোন কিছুর নাম শান্তি হলেই সেটা শান্তির জিনিস হয়ে যায়না। ইসলাম মানে শান্তি যখন বলা হয় তখন আমার কেন জানি একাত্তরের শান্তি কমিটির কথা মনে হয়।”

      :guli: :guli: :guli:

  3. আনোয়ার জামান ফেব্রুয়ারী 6, 2010 at 9:42 অপরাহ্ন - Reply

    ‘চার্চ মানি না, বাইবেলই সব’ – এই ধারণা থেকেই প্রোট্যাস্টান্টদের উৎপত্তি; ক্যাথলিকদের হাতে কম হেপা পোহাতে হয় নি প্রোট্যাস্টান্টদের। মনসুর সাহেবের কথাবার্তাতেও একই ধরনের সুর মনে হল। যাই হোক, সুন্নীদের সাথে কোরানের কোথায় বিরোধ আছে জানতে পারলে ভাল লাগত।এক ধর্ম অন্য ধর্মকে তো স্বভাবজাতভাবেই বাতিল করে, কিন্তু একই ধর্মের মাঝে ভিন্ন মতবাদের উৎপত্তি হলে সন্দেহকারীর সন্দেহ কমে না, বরং বেড়েই যায়। ঈশ্বর প্রদত্ত সুস্পষ্ট বিধানে কেন এত অস্পষ্টতা? :-/

  4. আদিল মাহমুদ ফেব্রুয়ারী 6, 2010 at 11:14 পূর্বাহ্ন - Reply

    “আপনার বিরুদ্ধেও এরকম ফতোয়া আসার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে -আমাদের আশেপাশে থাকলেই বরং নিরাপদে থাকবেন ”

    – এক্কেবারে ঠিক ধরেছেন। আমি তো এই কারনেই দৈত্যকুলে প্রহলাদের মত আপনাদের ছত্রছায়ায় আছি।

    “আসলে প্রকৃত ইসলাম কোনটা আর এটা কার কাছ থেকে বা কোথা থেকে জানা যেতে পারে”

    – সোজা। ইসলাম মানে শান্তি। যিনি শান্তিময় কথাবার্তা বলবেন; অশান্তি সৃষ্টির কোন তরিকা করবেন না তার কাছ থেকেই জানা যেতে পারে।

  5. সৈকত চৌধুরী ফেব্রুয়ারী 6, 2010 at 1:22 পূর্বাহ্ন - Reply

    বরং সুন্নী মতানুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফতোয়া দেয়া হয় এবং একটি কমিটি গঠন (৫/৫/১৯৮৫)করে তাকে ইসলাম বিরোধী, ধর্মত্যাগী হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং তার লেখাগুলোকে কোরান বিরোধী আখ্যা দেয়া হয়।

    আপনার বিরুদ্ধেও এরকম ফতোয়া আসার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে -আমাদের আশেপাশে থাকলেই বরং নিরাপদে থাকবেন 🙂 ।

    কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে তার লেখাগুলোর বিষয়-বস্তু সুন্নী মতবাদ, যা ইসলাম ও কোরানের পরিপন্হী সে বিষয় নিয়েই বর্ণিত। প্রচলিত ধারার মুসলিম ধর্ম-বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ভাবে তাকে হয়রানী করে এবং কাজ থেকে অব্যহতি নিতে বাধ্য করে।

    আসলে প্রকৃত ইসলাম কোনটা আর এটা কার কাছ থেকে বা কোথা থেকে জানা যেতে পারে?

    • ফুয়াদ ফেব্রুয়ারী 6, 2010 at 11:26 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সৈকত চৌধুরী,

      যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান. – সূরা আল-যুমার, আয়াত ১৮

      • আদিল মাহমুদ ফেব্রুয়ারী 6, 2010 at 7:57 অপরাহ্ন - Reply

        @ফুয়াদ,

        আপনাকে একটু খোচানোর এই সুবর্ন সুযোগ হারাতে পারলাম না।

        এই আয়াত অনুসারে আলোচ্য মনসুর সাহেব মনে হচ্ছে ঠিক ই করেছেন। উনি কোন অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী না হয়ে নিজে বোঝার চেষ্টা করেছেন যা তার কাছে উত্তম মনে হয়েছে তারই অনুসরন করেছেন।

        আপনি তার কাজকে কি চোখে মূল্যায়ন করবেন? আপনাকে যতটুকু চিনেছি তাতে তো মনে হয় ট্র্যাডিশনার ইসলামের বাইরের কোন কিছুই আপনার কাছে গ্রহনযোগ্য নয়। আইভির বেশীরভার তত্ত্বই আপনি মানেন না। মনসুর সাহেব তো মনে হয় ঐ ধরনের কথাবার্তাই বলেন।

        • ফুয়াদ ফেব্রুয়ারী 6, 2010 at 8:22 অপরাহ্ন - Reply

          @আদিল মাহমুদ,

          এই লিখাতে “দা মুস্লিম” সাহেবের মত কঠিন ট্রেডিশনাল ব্যাক্তি ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আপনি এখানে দেখতে পারেন।

          আমিও তার ঘটনা নিয়ে দুঃখিত। কিন্তু এর মানে এই নয় যে তিনি ঠিক। আমি তাদের কথা শুনেছি, পড়েছি, দেখেছি, এই দেখুন এখানে আমি তাদের উদ্দোশ্য করে লিখে ছিলাম। তারা আমার সরাসরি আয়াতের নিজেদের ব্যক্ষা দিয়ে অন্য বক্তব্য দিয়েছেন, কিন্তু আমার সাপোর্টে সরাসরি কোন ব্যক্ষা ছাড়া আল কুরান। তারপর কলিমা তাইয়িবা এ কে ভেংগে দেখিয়েছি, যার জবাব ফারুক ভাই দিবেন বলেছেন। কিন্তু অন্য আয়াত গুলির নিজস্ব ব্যাক্ষা দিয়ে জবাব দিতে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কলিমা তাইয়িবা কে পারেন নি। তাই শাহাদাহ নামে এক পোষ্ট দিয়েছেন, হযরত আবু হুরাইয়া রাঃ কে উদ্দোশ্য করে, কলিমা তাইয়িবা বাতিল করার নিয়তে। কিন্তু সাহাবীদের পক্ষে আল কোরানের সরাসরি আয়াত আছে। হাদিস সম্পর্কে আমার কি মত, তা নিয়ে আমি পোষ্ট দিব ভাবতেছি ইনশি-আল্লাহ। আর ৭৩ ফিরকাহ নিয়েও আমি একটি পোষ্ট দিব ইনশি-আল্লাহ। আমি আপনাকে লিংক দিয়ে দিব।

          • আদিল মাহমুদ ফেব্রুয়ারী 6, 2010 at 8:57 অপরাহ্ন - Reply

            @ফুয়াদ,

            আমি অন্য কারো কথা জানতে চাইনি। আপনার মতামতই শুনতে চাচ্ছিলাম। সদালাপে আমি আজকাল পারতপক্ষে ঢুকি না। হাতে অঢেল সময় তো নেই ওসব পড়ার।

            তিনি ঠিক না বেঠিক তা আমিও জানি না। আমার মতে ধর্ম বিষয়ে সবাই ঠিক। এটা আসলে বিশ্বাসভিত্তিক দর্শন; যার কাছে যা ভাল লাগে তাই ঠিক। সেটা বড় কথা নয়। তবে বিশ্বাসের কারনে কাউকে হিটলারী কায়দায় সীমাহীন নির্যাতনের কোন মানে নেই। আপনি দূঃখিত হয়েছেন এটা জানাই মূখ্য ছিল। ওনার কথা না মানেন তাতে কিছু যায় আসে না।

            আপনি দূঃখিত হয়েছেন, অন্য অনেকেই হয়ত হবে। তবে আপনাকে বা আর নির্দিষ্ট কাউকে বলছি না, ধর্মের নামে এ ধরনের মৌখিক দূঃখপ্রকাশ বহু দেখেছি। এ ধরনের দূঃখিত মন থেকে সবাই হতে পারলে ধর্মের নামে এত অসহিষ্মুতা থাকত না।

মন্তব্য করুন