আসলে এই লেখাটা মূলত বিবর্তন সম্পর্কে আমার ধারনা ও পড়াশোনার একটা বহিঃপ্রকাশ। এই লেখাকে কেউ সিরিয়াসলি নেবেন না। এটা মূলত আমি আমাদের বিবর্তন বিশেষজ্ঞদের কাছে একটা পরিক্ষা দিচ্ছি। মানুষ হিসাবে আমার ভূল ত্রূটি থাকা স্বাভাবিক। হয়তো দেখা যাবে আমি এই ব্লগে এসে এতদিনে কিছুই শিখিনি!!! তাই আমি আশা করব ঈশ্বরবাদীরা আমার এই পরিক্ষামূলক লেখাটা নিয়ে টানাটানি হতে বিরত থাকবেন। হতে পারে আমার জানা বা বোঝার পুরোটাই এতকাল ভূল ছিল। তাই তারই একটা পরিক্ষা হয়ে যাক। আমি ঝাড়ি খাওয়ার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি!!!!

আসুন বিবর্তনের কথা বাদ দিয়ে আমরা একটা খেলা খেলি। সহজ খেলা, অনেকটা জুয়া খেলার মতই উত্তেজনাপূর্ন খেলা।
খেলার উপকরনঃ

১- বেশ কিছু একই আকৃতির গোলাকার ছোট ছোট মার্বেল।
২- একটি ১.৫ বর্গ ফুট সাইজের হার্ডবোর্ড বা কাঠের বোর্ড, যার নিচে একটি shaking machine/ vibrating machine লাগানো থাকবে। বোর্ডটিতে ছড়ানো ছিটানো ভাবে ছোট বড় দশটি গোলাকার ছিদ্র থাকবে। ৩টি ছিদ্র হবে মার্বেল থেকে মোটামুটি বড়, যেগুলোর ভিতর দিয়ে সহজেই মার্বেল গলে বের হয়ে যাবে। ৪টি ছিদ্র হবে মার্বেল থেকে সামান্য বড়, যেগুলোর ভেতর দিয়ে মার্বেল সহজে পড়বে না কিন্তু পড়া অসম্ভব না। আর বাকি তিনটি ছিদ্র হবে মার্বেল থেকে সামান্য ছোট অথবা বরাবর মার্বেলের মাপে, যেগুলো দিয়ে মার্বেল পড়ে যাবে না কিন্তু আটকে থাকবে অথবা আবার উপরে উঠে আসবে।

এবার খেলা শুরু করা যাক। বোর্ডের তলে আটকানো যন্তটা চালু করে দেয়া হল। এতে করে বোর্ডটি একই সাথে অনিয়মিত ভাবে জোরে জোরে কাঁপতে ও ঝাকাতে শুরু করল। কোন নির্দিষ্ট দিক বা নিয়ম ছাড়াই বোর্ডটি কখনো কাঁপবে আবার কখনো ঝাকাবে এবন আবার কখনো বন্ধ হয়ে যাবে।
এবার বোর্ডের উপর এক এক করে মার্বেল গুলো ছাড়তে থাকি। তখন কি ঘটবে?

১- মার্বেলটি বেশি বড় গর্তগুলো দিয়ে সহজেই নিচে পরে যেতে পারে।
২- মার্বেলটি মোটামুটি বড় গর্তগুলো দিয়ে নিচে পড়তে পারে অথবা ধাক্কা খেয়ে উপরে ফিরে আসতে পারে।
৩- মার্বেলটি ছোট গর্তগুলোতে গিয়ে আটকে যেতে পারে অথবা না আটকে আবার বোর্ডে ফেরত আসতে পারে।
৪- মার্বেলটি বোর্ডের উপর দিয়ে গর্তে না পরে অনবরত চারপাশে ইতস্তত ঘুরতে থাকবে।
৫- সর্বশেষ সম্ভাবনা, মার্বেলটি অতিরিক্ত ঝাকুনির কারনে বোর্ডের বাইরে চলে যাবে।

বড় গর্ত দিয়ে পড়লে ১০ পয়েন্ট, মাঝারি গর্ত দিয়ে পড়লে ৫ পয়েন্ট, ছোট গর্তে আটকে গেলে ২ পয়েন্ট, বোর্ডের উপর ঘুরতে থাকলে কোন পয়েন্ট নেই, এবং বোর্ডের বাইরে ছিটকে পড়লে ডিসকোয়ালিফাই বা বাদ।
যেসব মার্বেল বাদ পড়বে তাদের আর মূলখেলায় ফিরিয়ে আনা হবে না। আর যেসব মার্বেল পয়েন্ট নিয়ে টিকে যাবে, তাদের আবার বোর্ডে তুলে দেয়া হবে। এভাবে সর্বশেষ মার্বেল যখন বোর্ডের বাইরে চলে যাবে তখন খেলা শেষ হবে।

এবার আসুন মূল কথায় আসি। এই বোর্ডগেম মূলত বিবর্তন তত্ত্বেরই একটা চেহারা। আমি আমার ভাষায় বিবর্তনকে ব্যখ্যা করতে গিয়ে এই খেলার উৎপত্তি ঘটিয়েছি(এ খেলাটা আসলে মনে হয় অনেক পুরোনো খেলা।আমি শুধু চেহারা পালটে দিয়েছি।)।

বোর্ডটাকে ধরুন প্রকৃতি বা পৃথিবীর ভৌগলিক পরিবেশ হিসাবে। গর্তগুলো বিবর্তনের নিয়ামক বা বেঁচে থাকতে সাহায্য করার নিয়ামক। আর মার্বেলগুলোকে ধরুন এ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাণী রূপে।
বোর্ডের অনিয়মিত ঝাকুনিটা হচ্ছে প্রকৃতির অবিরাম ও অনিয়মিত শৃঙ্খলাবিহীন পরিবর্তনের রূপ। এই অবিরাম বিশৃঙ্খল পরিবর্তনশীল পৃথিবীরূপী বোর্ডে সকল প্রাণীদের বিচরণ সম্পূর্ন অসহায়। পুরোটাই জুয়া খেলা। কেউ কেউ বড় গর্ত গলে সহজেই অল্প সময়ের জন্য পার পেয়ে যাচ্ছে। কেউ সংগ্রাম করে মাঝারি গর্তে ঢুকে পড়ছে। কেউ ছোট গর্তে এসে আটকে যাচ্ছে এবং আবার বোর্ডে উঠে জীবন সংগ্রাম চালাচ্ছে। আর কেউ টিকতে না পেরে বোর্ডের বাইরে চলে যাচ্ছে। অর্থাৎ বিলুপ্তি।
যারা টিকে যাচ্ছে, তারাও কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছে না। পরবর্তীতে আবার তারা এই খেলায় ফিরে আসছে। শেষ পর্যন্ত কে যে টিকে যাবে সেটা কি কেউ জানে?

[ হতে পারে আমি ব্যপারটাকে অনেক বেশি খেলো করে ফেলেছি। হয়তো ব্যপারটা এত সহজ না, আরো কিছু জটিলতা আছে। কিন্তু আমি শুধুমাত্র আমার বেসিক কনসেপ্টের চিন্তা ভাবনাই এখানে তুলে দিলাম। কনসেপ্টটা যদি ঠিক থাকে তবে বুঝব যে, বাকি ব্যপারগুলোও যা জানি তা ভূল না বা আমার বোঝায় ভূল নেই। তাইই এই পোস্ট টা দেয়া। অনেক দিন ধরে ব্যপারটা মাথায় ঘুরছিল। কিন্তু ভয়ে ভয়ে আর আলসেমিতে এতদিন দেইনি। এবার সাহস করে দিয়েই দিলাম!! পিঠে নাহয় ছালা বেধে নিব আরকি!! ]

[68 বার পঠিত]