বিপ্লব, নারী ও কিছু প্রসঙ্গ

লেখাটির একটি ভুমিকা আছে। সাপ্তাহিক একতা – বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র এই লেখাটি ছাপাতে অস্বীকার করে। কারণ এটি নাকি তাদের ‘পলিসি’র বাইরে। যা হোক লেখাটি মুক্তমনায় পাঠালাম। ছাপালে খুশী হবো।

যিনাতুল ইসলাম জুঁই

:line:

বিপ্লব, নারী ও কিছু প্রসঙ্গ
* যিনাতুল ইসলাম

এই রচনায় আমি কোন ঐতিহাসিক আন্দোলন ও তার ধারাবাহিকতার বর্ণনা তুলে ধরবো না কিংবা বিপ্লবের পথে নারী অংশগ্রহণের ও নারী আন্দোলনের পথিকৃৎদের স্তুতি গাইবো না। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণের জন্য আমাদের তথাকথিত নারীনেত্রীদের মতো কোন মেয়েকে তাঁদের ভাষায় সজাগ ও সমঅধিকারের দাবিতে সোচ্চার হবার আহবান জানাবো না। যা সবার কাছে তুলে ধরতে চাই, তা হলো কিছু প্রাথমিক প্রস্তুতি যা একজন নারী তা সে মেয়ে, কিশোরী কিংবা যুবতী যেই হোক না কেন, তার জন্য হওয়া উচিত বিপ্লবের পা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রথম সোপান। বিপ্লব মানে সামাজিক আন্দোলন, সমাজের কাঠামোর পরিবর্তন যা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রকে পুরোনো জরাজীর্ণ রোগ থেকে মুক্তি দেবে। সেইসাথে নিশ্চিত করবে মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার। অর্থাৎ বিপ্লব মানুষের জীবনে বয়ে আনবে শুদ্ধ শোষণহীন সাংস্কৃতিক চর্চা। বিপ্লবের অন্যতম অংশ হলো সাংস্কৃতিক আন্দোলন। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় নারীকে নিজের মানসিক, মামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে অর্থাৎ সর্বোপরি তাকে ‘মেয়েমানুষ’ থেকে ‘মানুষ’ হতে হলে সর্বাগ্রে হতেহবে একজন বলিষ্ঠ বিপ্লবী। মানসিক দুর্বলতা, সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা ও রাজনৈতিক অসচেতনতা নারীর বর্তমান বৈশিষ্ট্য। জন্ম হতে শুরুকরে কৈশোর পেরিয়ে পূর্ণবয়ষ্ক নারী হওয়ার সময়টিতে বিবিধ উপায়ে তাকে শান্ত, স্থির, ধীর, কোমল হিসেবে গড়ে তোলার নামে তাকে দুর্বল, পরাধীন, ভীতু ও গৃহী করে রাখার সর্বাত্বক প্রচেষ্টা, অপপ্রয়াস চালানো হয়। প্রচলিত বিবাহ ব্যবস্থার নামে তার অভিভাবক পরিবর্তন কর্মসূচীর জন্যই তাকে উপযুক্তকরে গড়ে তোলা সমাজের অন্যতম দায়িত্ব মনে করে সমাজপতিরা। এইসব সমাজপতি ও পতœীবৃন্দ এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ধারক ও সমাজের নিয়মনীতিমালার বাহক। বিভিন্ন ধর্মীয় বিধিনিষেধ যা মতবাদ নামে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিদ্যমান, এইপুরো প্রক্রিয়ায় আগুনে ঘি ঢালার কাজটি করে যায়। এঙ্গেলসের মতে পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা নারীকে কেবল সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে পরিগনিত করে থাকে। এই কারণে আমরা সবাই তথা নারী-পুরুষ, ছাত্র-পেশাজীবী, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, বাবা-মা-সন্তান-আত্মীয়-বন্ধু-বান্ধব নির্বিশেষে নারীকে একজন আদর্শ বাধ্যগত মেয়ে সন্তান, প্রিয়তমা স্ত্রী এবং সবশেষে একজন আদর্শ মা হিসেবে দেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্ধ্য বোধ করি। এই নারীই যখন নিজেকে সবল, আত্মনির্ভরশীল, শৃঙ্খলমুক্ত, সমাজ-দেশ-জাতির স্বার্থ সচেতন এবং শোষণ ও অন্যায় তা সে নিজের কিংবা অন্য কারও ক্ষেত্রেই হোক না কেন- এসবের বিরুদ্ধে সজাগ, সোচ্চার ও দৃপ্ত হতে চায় তখনই সমাজ উঠেপড়ে লাগে তার দৃঢ়তাকে ভেঙ্গেচূড়ে দিতে। বিভিন্ন ধর্মীয় বিধিনিষেধ মনে করিয়ে দিয়ে, শ্লীলতা ও অশ্লীলতার প্যাঁচে আবদ্ধ করে রেখে সমাজব্যবস্থা তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে নারীকে কেবল মেয়েমানুষে আবদ্ধ করে রাখে। নারী সময়ের প্রয়োজনে, পরিবারের প্রয়োজনে, স্বামী-সন্তানের প্রয়োজনে, বাবা-মা’র প্রয়োজনে, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে মাঠে নেমে এসেছে। কিন্তু এখন সর্বাগ্রে প্রয়োজন বিপ্লবী নারী যে লড়াই করবে নিজের জন্য, নিজের ব্যক্তিত্ব তৈরি করার জন্য, নিজেকে সবল ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার জন্য যাতে সে শোষণ ও বঞ্চনাকে ক্ষীপ্রহস্তে দমন করতে পারে অন্য কারও সাহায্য ছাড়াই।

পত্রিকার পাতায়, বইপত্রে, দল বা সংগঠনভিত্তিক রাজনীতির ভাষায় নারীকে আমরা খুঁজে পাই সর্বহারা শোষিত-বঞ্চিতদের মাঝে। পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের দৌরাত্বের কারণে নারী আন্দোলন জিম্মি হয়ে পড়েছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে। নারী হয়েগেছে এখন উত্তর-আধুনিকতার পণ্য। নতুন নতুন পথ্য আবিষ্কৃত হচ্ছে নিয়মিত যাতে নারীকে কাবু ও পঙ্গু করে রাখা সহজ থেকে সহজতর হয়। বস্তুবাদ ও ভাববাদকে মিশিয়ে একাকার করে ফেলা হয় এই নিমিত্তে। আমাদের নারীনেত্রীবৃন্দ ও সুশীলসমাজের মানুষজন নারী-পুরুষ বৈষম্যে কারণ হিসেবে দাঁড় করান ধর্মীয় কুসংস্কারকে। এখানেই যত গণ্ডগোটি ঘটে। ধর্ম (ঐশ্বরিক বিশ্বাসভিত্তিক মতবাদ) হলো বস্তুবাদী স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ভাববাদী নিয়মাবলী প্রচলনের অন্যতম একটি কৌশল যা শোষণকে সমাজে সর্বদা বিরাজমান করে রাখার রণকৌশল। এই কৌশল অবলম্বন করে পুঁজিপতিরা নিজেদের হৃষ্টপুষ্ট করে চলেছে। নারী-পুরুষ বৈষম্য, নির্যাতন, পুরুষের কর্তৃত্ব ইত্যাদিকে সমস্যা মনে করে নারী আন্দোলনের এই নেত্রীরা যারা অন্যদিকে নিজেদের মুসলিম হিসেবেই পরিচয় দিয়ে থাকেন। কুরআনে পরিষ্কার বলা আছে, ‘… নারীর যেমন পুরুষের উপর ন্যায়সঙ্গত অধিকার, পুরুষেরও তেমনি নারীর উপর। তবে নারীর উপর পুরুষের মর্যাদা বেশি।’(-সুরা বাকারা, আয়াত: ২২৮)। এবং ‘তোমাদের স্ত্রী তোমাদের শস্যক্ষেত্র। সুতরাং যেভাবে ইচ্ছা তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যাও।’(-সুরা বাকার, আয়াত: ২২৩)। এছাড়া আরও রয়েছে- ‘পুরুষ নারীর কর্তা, আল্লাহ্ই তাদের একজনকে অন্যের উপর মর্যাদা দিয়েছেন। কারণ পুরুষ তাদের জন্য অর্থব্যয় করে। সুতরাং সতী নারীরা তাদের অনুগত হবে, তাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা করলে সদুপদেশ দাও, বিছানা ভিন্ন করো এবং তাদের মার দাও।’(-সুরা নিসা, আয়াত: ৩৪)। এতোকিছুর পরও মুসলিম নারীনেত্রীবৃন্দ ও অন্যান্য সুশীল সমাজের সদস্যরা নারী-পুরুষের সমঅধিকারের কথা বলেন কীভাবে আমি বুঝি না। বুঝি না কীভাবে তারা মুসলিম হয়েও আল্লাহ্র বিধানকে ধর্মীয় গোড়ামি ও কুসংস্কার বলে গালমন্দ করার সাহস করেন। পরিস্কারভাবে, এহেন স্ববিরোধী আদর্শের কারণে, ভাববাদী বস্তুবাদ প্রচলিত হবার কারণে অত্যন্ত ক্ষতিকর, মুমূর্ষু ও প্রতিক্রিয়াশীল এই পরিবেশ তৈরি হচ্ছে নারীর জন্য। আমার বক্তব্য হলো হয় আল্লাহ্র বিধান মেনে চলুন অথবা নারীকে মানুষ হতে দিন। মানুষ সামাজিক জীব, কিন্তু নারী এখনও ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীব রয়ে গেছে।

 নারী ঘর-সংসার সব মিলিয়ে টেলিভিশনে দেশের খবর দেখেন, সুখে পুলকিত হন, দুঃখে হা-হুতাশ করেন, পেশাজীবীরা অবশ্য কিছুটা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করার সুযোগ পান, কিন্তু এখনও তারা নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, মনুষত্বের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন নি। পারেন নি যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগকে নিজের বশে আনতে, নিজেকে যোগ্য করে তুলতে। এখনও দেরি হয় নি। আসুন, সত্য সুন্দর ও ন্যায়ের পথে সোচ্চার হতে নারীকে সাহস দিন। নিজেকে বিকশিত করার অনুপ্রেরণা দিন। আর নারী, আপনি বস্তুবাদী হোন। #

* গবেষক
সদস্য, চলচ্চিত্র ও চারুকলা বিভাগ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী
সাবেক শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ
০১৭৩০৩৫১১৫৬

Lecturer, Dept of Economics, University of Rajshahi, গবেষক, সদস্য, চলচ্চিত্র ও চারুকলা বিভাগ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সাবেক শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ

মন্তব্যসমূহ

  1. মুক্তমনা এডমিন জানুয়ারী 19, 2010 at 4:22 অপরাহ্ন - Reply

    ami bangla likhte etota expert noi. plus na dekhe likhte parina. amr basar keyboard e bangla letter visible na.

    যিনাতুল ইসলাম, বাংলা লেখা খুবই সোজা। আপনি তো ইংরেজী হরফে বাংলা লিখছেনই। সেই কাজটিই অভ্র ব্যবহার করে করুন। অভ্র ডাউনলোড করার লিঙ্ক আমাদের সাইটে দেয়া আছে। আপনি ডাউনলোড করে লেখার চেষ্টা করে দেখুন। খুব বেশি কঠিন কিছু নয়। আমাদের ব্লগের অনেকেই কিন্তু আগে আপনার মতোই বাংলায় লিখতে পারতেন না। কিন্তু একটু চেষ্টা করেই পেরেছেন। ইংরেজী হরফে যেভাবে লিখছেন, সেটা অভ্র খুলে রেখে করলেই দেখবেন বাংলা হয়ে গেছে।

    বিকল্প আরেকটা পথ হল, আপনি যদি বিজয় কিবোর্ডে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, তবে বিজয়ে টাইপ করার পর সেটাকে ইউনিকোডে রূপান্তরিত করে নিতে পারবেন। এই সাইটে যান –

    http://bnwebtools.sourceforge.net/

    নীচের টেক্সটবক্সে বিজয়ে লেখা পেস্ট করে ‘ইউনিকোডে বদলে উপরে নাও’ চাপ দিলেই দেখবেন ইউনিকোডভিত্তিক লেখা উপরের টেক্সটবক্সে চলে এসেছে। সেটাই ব্লগে ব্যবহার করতে পারেন।

    কোন ধরনের অসুবিধা হলে মডারেটরদের জানান।

  2. আশরাফ আহমেদ জানুয়ারী 14, 2010 at 9:34 পূর্বাহ্ন - Reply

    উদ্ধৃতি: আসুন, সত্য সুন্দর ও ন্যায়ের পথে সোচ্চার হতে নারীকে সাহস দিন। নিজেকে বিকশিত করার অনুপ্রেরণা দিন। আর নারী, আপনি বস্তুবাদী হোন।

    নারীর অবশ্যই বস্তুবাদী ও বাস্তববাদী হওয়া প্রয়োজন। আমার এই লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন।

    • যিনাতুল ইসলাম জানুয়ারী 14, 2010 at 11:03 অপরাহ্ন - Reply

      Thank you ashraf vai…i ‘ll follow the write up you recommended. Wish me so that I can continue.

  3. স্নিগ্ধা জানুয়ারী 13, 2010 at 11:41 পূর্বাহ্ন - Reply

    যিনাতুল ইসলাম জুঁই, নারী বা নারীবাদ নিয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ – আমার পছন্দের বিষয় এটা 🙂 কিন্তু, কিছু মনে করবেন না – লেখাটা একটু অসম্পূর্ণ লাগলো, আর বেশ কিছু পরস্পরবিরোধী কথা রয়েছে বলেও মনে হলো। সেটা লেখার ভঙ্গির কারণে নাকি বক্তব্যটাই এমন, নিশ্চিত হতে পারছি না।

    যেমন ধরুন –

    তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণের জন্য আমাদের তথাকথিত নারীনেত্রীদের মতো কোন মেয়েকে তাঁদের ভাষায় সজাগ ও সমঅধিকারের দাবিতে সোচ্চার হবার আহবান জানাবো না। যা সবার কাছে তুলে ধরতে চাই, তা হলো কিছু প্রাথমিক প্রস্তুতি যা একজন নারী তা সে মেয়ে, কিশোরী কিংবা যুবতী যেই হোক না কেন, তার জন্য হওয়া উচিত বিপ্লবের পা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রথম সোপান।

    কিন্তু এখন সর্বাগ্রে প্রয়োজন বিপ্লবী নারী যে লড়াই করবে নিজের জন্য, নিজের ব্যক্তিত্ব তৈরি করার জন্য, নিজেকে সবল ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার জন্য যাতে সে শোষণ ও বঞ্চনাকে ক্ষীপ্রহস্তে দমন করতে পারে অন্য কারও সাহায্য ছাড়াই।

    এই ‘বিপ্লবী’ নারী হবার প্রাথমিক প্রস্তুতিগুলো কী? লেখার আর কোথাও ঠিক কোন ব্যাখ্যা বা উল্লেখ দেখলাম না কিন্তু। সজাগ এবং সমধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার না হয়ে কীভাবেই বা নিজেকে “সবল ও আত্মনির্ভরশীল” হিসেবে গড়ে তুলবে? মানে, এদুটো মিউচুয়ালী এক্সক্লুসিভ হলো কেন ঠিক বুঝতে পারছি না!

    পত্রিকার পাতায়, বইপত্রে, দল বা সংগঠনভিত্তিক রাজনীতির ভাষায় নারীকে আমরা খুঁজে পাই সর্বহারা শোষিত-বঞ্চিতদের মাঝে। পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের দৌরাত্বের কারণে নারী আন্দোলন জিম্মি হয়ে পড়েছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে। নারী হয়েগেছে এখন উত্তর-আধুনিকতার পণ্য। নতুন নতুন পথ্য আবিষ্কৃত হচ্ছে নিয়মিত যাতে নারীকে কাবু ও পঙ্গু করে রাখা সহজ থেকে সহজতর হয়। বস্তুবাদ ও ভাববাদকে মিশিয়ে একাকার করে ফেলা হয় এই নিমিত্তে।

    এই জায়গাটা কি একটু ব্যাখ্যা করবেন? বিশেষ করে বস্তুবাদ এবং ভাববাদকে এক করে কীভাবে (পূঁজিবাদী)পুরুষতন্ত্র তার আধিপত্য বজায় রাখে সেটা আরো একটু জানতে আগ্রহী।

    নারী ঘর-সংসার সব মিলিয়ে টেলিভিশনে দেশের খবর দেখেন, সুখে পুলকিত হন, দুঃখে হা-হুতাশ করেন, পেশাজীবীরা অবশ্য কিছুটা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করার সুযোগ পান, কিন্তু এখনও তারা নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, মনুষত্বের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন নি। পারেন নি যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগকে নিজের বশে আনতে, নিজেকে যোগ্য করে তুলতে।

    নারী সময়ের প্রয়োজনে, পরিবারের প্রয়োজনে, স্বামী-সন্তানের প্রয়োজনে, বাবা-মা’র প্রয়োজনে, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে মাঠে নেমে এসেছে।

    বুঝতে পারছি আপনি বলতে চাইছেন নারী তার ‘নিজের’ প্রয়োজনে নয়, সময়ে সময়ে অন্য তাগিদে বাইরে বেরিয়ে এসেছে, আন্দোলনে (‘বিপ্লবে’ও নয় কি? 🙂 ) অংশ নিয়েছে, তবে এখন সেটা পাল্টানোর সময় এসেছে। কিন্তু, এমনকি পেশাজীবি, বাইরে বেরুনো নারীদেরও যদি আপনি মনে করেন তাদের এখনও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব বা মনুষ্যত্বের যোগ্যতা অর্জন হয় নি, সেটা ওই সময়ে সময়ে “মাঠে নেমে” আসার সাথে একটু সাংঘর্ষিক হয়ে গেলো না? নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ছাড়া, অর্থাৎ যথেষ্ট ব্যক্তিত্বপূর্ণ চিন্তার ক্ষমতা ছাড়া- অন্য কারণগুলো যদি বাদও দেই -দেশের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা কি সম্ভব?

    আপনি যে অর্থে সামাজিক আন্দোলন বা পরিবর্তনকে বিপ্লব বলছেন সেটা আমিও মানি। কিন্তু, এর পরেই আবার যখন বিপ্লব বয়ে আনবে “শুদ্ধ শোষণহীন সাংস্কৃতিক চর্চা” বলে আশা ব্যক্ত করছেন, তখন সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নারীর ‘অবস্থান’ বদলানোর চাইতে ঐ শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চাই বিপ্লবের মুখ্য উদ্দেশ্য বলে মনে হয়।

    কিছু সমালোচনা করলাম আপনার লেখার বিষয় নিয়ে আমি আগ্রহী বলেই, ছিদ্রান্বেষণ উদ্দেশ্য নয়। আরো লিখবেন 🙂

    • যিনাতুল ইসলাম জানুয়ারী 14, 2010 at 11:11 অপরাহ্ন - Reply

      I’m happy to see that you thoroughly went through the stuff. Since this is my very first write up, i was concerned about some incompleteness of my thought. Actually i planned for this write up as a continuing one. So in my next stuff you’ll hopefully get some clear idea on materialism, and fetishist weapon to execute materialistic interests regarding the emergence of traditional religions. Later on i’ll try to explain all your points. Thank you for encouragement.

  4. ইরতিশাদ জানুয়ারী 13, 2010 at 8:21 পূর্বাহ্ন - Reply

    যিনাতুল ইসলাম জুঁই,
    আপনার ব্যতিক্রমী এই লেখাটা পড়ে উৎসাহিত বোধ করলাম। ভুল বললাম, আসলে লেখাটা যতটা না ব্যতিক্রমী আপনাকে তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যতিক্রমী মনে হলো। অভিনন্দন জানাচ্ছি।
    একটা নিদারুণ সত্যিকথা আপনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরেছেন, ধর্ম আর নারী-স্বাধীনতার সহাবস্থান সোনার পাথরবাটির মতো, অবাস্তব। নারীরা এই সত্যটা যত বেশি, যত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবে ততই মঙ্গল। ধর্মকে ত্যাগ করে ‘সত্য, সুন্দর আর ন্যায়ের পথে সোচ্চার হতে’ এই সাহসটা নারীকে কিন্তু কেউ দিতে পারবে না, পুরুষেরাতো নয়ই, এই সাহসটা নারীকেই অর্জন করতে হবে। এই অর্জনের পথে আপনার সাহসী পদক্ষেপ প্রসংশনীয়।

    • যিনাতুল ইসলাম জানুয়ারী 14, 2010 at 11:18 অপরাহ্ন - Reply

      Thanks a lot for your comment as well as encouragement. I was a little bit depressed since i finished this stuff quite a few months ago and could not see it published where i initially desired. But now feeling really enthusiastic checking the publish and your comments. Hopefully I’ll try to maintain the trend of thought I believe in.

  5. ব্রাইট স্মাইল্ জানুয়ারী 13, 2010 at 2:44 পূর্বাহ্ন - Reply

    লেখাটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু লেখাটি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির একটা পত্রিকায় ছাপানোর জন্য ‘পলিসি’র বাইরে’ কেন বুঝা গেলনা। লেখাটির বিষয়বস্তু অথবা মতামত কি কমিউনিস্ট নীতিমালার পরিপন্থী?

    • যিনাতুল ইসলাম জানুয়ারী 14, 2010 at 10:51 অপরাহ্ন - Reply

      I was wondering that Ekota did not allow my write up to be published in general segments. They asked me for women segment..but i did not agree with them on specialized publishing segment for this. And of course we had conflicts on women legends and specializing the interests of women.‍ Thank you for your response. this is really encouraging for me.

      • ব্রাইট স্মাইল্ জানুয়ারী 14, 2010 at 11:57 অপরাহ্ন - Reply

        @যিনাতুল ইসলাম,
        আমি মনে করি লিখাটি পত্রিকাটির general segment এ না যাওয়াটা আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চিন্তাধারার প্রতিফলন। সমাজে মেয়েদের যে সমস্যা তা আমাদের সমাজ বিচ্ছেন্ন ঘটনা হিসাবে দেখার পক্ষপাতী। মেয়েদের সমস্যা যে গোটা সমাজের সমস্যা, এই সহজ সত্যটা আমলে নেয়া হয়না। তার ফলে, পুরুষ-মেয়ে নির্বিশেষে সবাইকে এর ভুক্তভোগী হতে হয়। এই জগতে ধনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ইসলামতন্ত্র আরো কত তন্ত্র আছে, কিন্তু এমন কোন তন্ত্র আছে যা মেয়েদের, যারা গোটা দুনিয়ার ৫০% পপুলেশন তৈরী করে, সঠিক অধীকারকে নিশ্চিত করার কথা বলেছে?

      • ফরিদ আহমেদ জানুয়ারী 15, 2010 at 3:20 পূর্বাহ্ন - Reply

        @যিনাতুল ইসলাম,

        আমার ইংরেজী জ্ঞান খুবই কম। কাজেই আপনার উত্তরটা ঠিকঠাক মত বুঝতে পারছি কিনা জানি না। প্রবন্ধের ভূমিকায় লিখেছেন যে একতার পলিসির সাথে মেলে না বলেই নাকি তারা এটি ছাপাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আবার এখানে এসে বলছেন যে, তারা জেনারেল সিগমেন্টস এ প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে উইমেন সিগমেন্ট এ প্রকাশ করতে চেয়েছে, কিন্তু আপনি রাজী হননি। আমি এই জেনারেল সিগমেন্ট এবং উইমেন সিগমেন্টটা ঠিক বুঝলাম না। একতা কী মহিলাদের জন্য অন্য সব জাতীয় পত্রিকার মত আলাদা মেয়েদের পাতা বলে বিশেষ অংশ প্রকাশ করে? মেয়েদের লেখা হলেই সেখানে ঠেলে দিতে চায়?

        And of course we had conflicts on women legends and specializing the interests of women.

        উইমেন লিজেন্ড বলতে আসলে কী বুঝাতে চাচ্ছেন? আর যেখানে বলছেন মেয়েদের ইস্যু নিয়ে একতার সাথে আপনাদের পরিষ্কার দ্বন্দ্ব আছে, সেখানে আপনি কেন এই লেখা একতায় প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন?

        আর একটা কথা। প্রবন্ধটি যেহেতু বাংলায় লিখেছেন, তার মানে বাংলা টাইপিং আপনি বেশ ভালভাবেই জানেন। এখানে যদি বাংলায় মন্তব্য করেন তবে খুব ভাল হয়। বাংলা ব্লগে ইংরেজী মন্তব্য শুধু দৃষ্টিকটুই নয়, নীতিগতভাবেও মনে হয় মেনে নেয়া যায় না এটা।

        • যিনাতুল ইসলাম জানুয়ারী 19, 2010 at 3:56 অপরাহ্ন - Reply

          ami bangla likhte etota expert noi. plus na dekhe likhte parina. amr basar keyboard e bangla letter visible na. nari bishayak subjects er janya ekota’y nari pata rayechhe jekhane shoshita banchita narider ke highlight kara hay. Legend balte historical women leaders. ami tader (leaders)pragatishilatar sathe dharmiyo anuvutir sathe akre thakar bishaytite kichhuta apatti tulechhilam, ebang abashyai ta bartaman abasthar prekshite. karan ami mane kari amader dialectic materialistic hoya uchit. tader tatkalin samayer sathe amder bartaman samaj ke miliye felle amra change karte parbona. ekotay chhapate cheyechhilam, karan ami chhatra union kartam Rajshahi University te abang kichhu samayer janya communist party’r group member chhilam. pare internal problem er karane amr tader sathe thaka samvab hayni. tarparo CPB’r sathe relation continue karte cheyechhilam, bcoz ami dialectic materialism e believe kari and. marx er dialectic materialism er theory samaje establish karar pakshapati through cultural revolution. sorry, ebaro english letter e answer dichchhi. drishti katu ami bujhte parchhi. but kichhuta helpless. tabe as early as possible keyboard e letters kothay konta achhe ta mukhasta karar try karbo.

        • ফরিদ আহমেদ জানুয়ারী 19, 2010 at 9:55 অপরাহ্ন - Reply

          @জুঁই,

          মুক্তমনার মন্তব্য জানালার নিচেই বাংলা কীবোর্ড সংযোজিত আছে। আপনি হয়তো খেয়াল করেননি। অভ্রতে ক্লিক করলেই অভ্র ফোনেটিক কীবোর্ড চালু হয়ে যাবে। কীবোর্ডে বাংলা অক্ষর কোথায় আছে সেটা মুখস্ত না করলেও চলবে।

          সিপিবি-র মত স্বঘোষিত বামপন্থী প্রগতিশীল একটি রাজনৈতিক দলের দলীয় পত্রিকায় মেয়েদের জন্য মহিলা অঙ্গন ধরেনের আলাদা পৃষ্ঠা বরাদ্দ আছে শুনে রীতিমত অবাক হলাম। মেয়েদের জন্য এরকম একটা অবমাননাকর ব্যবস্থা একতা দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছে আর দলের পুরুষ বা মহিলা কর্মীরা কিছু বলছে না সেটাও খুবই বিস্ময়কর। এতো দেখছি সেই সব ভন্ড নারী নেত্রীদের মত যারা ঘরের মধ্যে দুই চারটা চাকরানী রেখে, তাদের দিয়ে গা হাত পা টিপিয়ে, রাজ্যের কাজ করিয়ে নিয়ে, বাইরে এসে নারী মুক্তির কথা বলে।

          দান খয়রাত যেমন ঘর থেকেই শুরু করতে হয়, যে কোন আন্দোলন বা বিপ্লবও ঘর থেকেই শুরু করতে হয়। ঘরের মধ্যে নোংরা আবর্জনা রেখে বাইরের আবর্জনা পরিষ্কার করার হাঁকডাক চরমভাবে অশালীন।

          ami tader (leaders)pragatishilatar sathe dharmiyo anuvutir sathe akre thakar bishaytite kichhuta apatti tulechhilam, ebang abashyai ta bartaman abasthar prekshite.

          কম্যুনিষ্ট পার্টির নেতারা কী এখন ধর্মীয় অনুভূতিকেও আঁকড়ে ধরা শুরু করেছে নাকি? হায়! হায়!! বলেন কি? কই যাবো আমরা এখন?

মন্তব্য করুন