উত্তরপুরুষ (কল্প বিজ্ঞানের গল্প)

By |2009-12-21T19:39:46+00:00ডিসেম্বর 21, 2009|Categories: গল্প, জৈব বিবর্তন, প্রযুক্তি|29 Comments

(1)science fiction
-হঠাৎ ভাবতে হচ্ছে?
-ভাবনা। ডিজিটাল রিয়ালিটির ভাবনা অথবা চেতনা! যেমন ভাবার এলগোরিদম লাগিয়েছিস, ঠিক তেমনই ভাবছি।

ডিজিটাল দাদু ডাকে তিন্নি। তিন্নির আসল নামটা আলফা-নিউমেরিক। কিন্ত সে নামে ডাকলে ডিজিটাল দাদুর আলগোরিদম হোঁচট খাচ্ছিল। এই এলগোরিদম নিজেই নিজেকে উন্নত করে। সেই চেষ্টায় ডিজিটাল দাদু ওর নাম দিল তিন্নি। আদুরে নামে ভার্চুয়াল দাদুর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এলগোরিদম হয়ে ওঠে আরো বেশী বিমূর্ত ।

বাইরে একহাঁটু বরফ। চাইল্ড কমিনিউটি সেন্টারের ছেলে মেয়েরা খেলে বেড়াচ্ছে বরফে। দক্ষিন ক্যালিফোর্নিয়ার মোরেনো ভ্যালিতে একশো বছর আগেও শীতে বরফ ছিল অকল্পনীয়। গ্লোবাল ওয়ার্মিংএর বর্ধিত বাস্পে সব ধরনের প্রেসিপিটেশনই এখন বাড়ন্ত।

তিন্নি মানব কন্যা। আজকাল সন্তানের জন্মদাত্রী রাষ্ট্র। মানুষের দেহটা এখন চল্লিশ হলেই পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তার আগে অবশ্য, কৃত্রিম ভাবে তৈরী কুড়ি বছরের ক্লোনের দেহে মাথার ডিজিটাল ইমেজ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। মানুষের মাথাটা বেঁচে থাকে-দেহটা ক্লোন করে প্রতি কুড়ি বছর বাদে বাদে বদলাতে হয়। এই সভ্যতা এখন কার্যত অমর। তাই নতুন সন্তানের জন্ম অপ্রাসঙ্গিক। তবুও কিছু মানুষ একঘেঁয়েমির জন্যে দেহ আর ক্লোন করে না। তারা বরণ করে স্বেচ্ছামৃত্যু। যদিও তাদের ব্রেনের ডিজিটাল ইমেজ ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যে তোলা থাকে আর্কাইভে। তাদের অভাব মেটাতে বা জনসংখ্যা ঠিক রাখতে রাষ্ট্র প্রতিবছর কিছু নতুন নাগরিকের জন্ম দিতে বাধ্য। অবশ্য জন্ম না বলে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলা ভাল। বর্তমানে বেঁচে থাকা সমস্ত পুরুষ এবং নারীর ডি এন এ গুলো নিয়ে সবধরনের কম্বিনেশনে ভার্চুয়াল ফার্টিলাইজেশন করা হয় আগে। তার পর দেখা হয় কোন কোন মিউটেশনে শক্তিশালী ডি এন এর জন্ম হচ্ছে। সেখানেই শেষ না। ফার্টিলাইজেশনের পর, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে সেই সব নির্বাচিত জিনের বাকী যা কিছু ডিফেক্ট আছে তাও হয় নির্মুল। সন্তান ধারনে জন্যে আর দরকার নেই নারীগর্ভ। কৃত্রিম মেশিন গর্ভ থেকে বেড়চ্ছে বর্তমান সন্তান। বাবা মা নেই। রাষ্ট্রই ওদের পিতা মাতা।

অবশ্য সে অর্থে পৃথিবীতে আজকে রাষ্ট্রও নেই। সুপার কম্পিউটারেই নিয়ন্ত্রিত মানুষের জীবন। তবে সুপার কম্পুটারের এলগোরিদম কি হবে-সেটা এখনো মানুষের হাতে। মানুষ আছে অবজেক্টিভ ফাংশনগুলো ঠিক করার জন্যে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই করে। প্রতিদিনই কিছু না কিছু ভোট দিচ্ছে লোকে। কারুর মনে এল রাষ্ট্রের এটা হলে ভাল হয়-সেটা পাঠিয়ে দেবে সুপার কম্পিউটারের কাছে। সুপার কম্পিউটার সিমুলেশন করে দেখে নিচ্ছে প্রস্তাবটা মানব সভ্যতার জন্যে হিতকর না ক্ষতিকর। যদি সম্ভাবনা থাকে, সমস্ত নাগরিকদের কাছে সে পাঠিয়ে দেবে ভোটের জন্যে। সিমুলেশন আর ব্যাখ্যা সহ। কোন পার্টি নেই। জন প্রতিনিধি নেই। আইন নেই। আদালত নেই। ডিজিটাল ডেমোক্রাসি।

তিন্নির Y বা বাবার জীনটা ভারতীয় বংশোদ্ভুত। তিন্নি থাকে বাচ্চাদের জন্যে কমিনিউটি সেন্টারে। আরো প্রায় তিন হাজার মানব শিশু এখানে মানুষ হচ্ছে। রোবট আর কম্পিঊটারেই চলে এই সেন্টার। মাঝে মাঝে মানুষের দেখা মেলে। তিন্নির বায়োলজিক্যাল বাবা মাও আসে মাঝে মাঝে। যদিও তিন্নিকে মানুষ করার দ্বায়িত্ব বা অধিকার তাদের নেই। সে দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

জেনেটিক সার্চ দিয়ে ওর ঠাকুর্দা, তার বাপের বাপকেও জেনে গেছে তিন্নি। তাদের ভার্চুয়াল অবতারও তৈরী করে নিয়েছে ও। ওসব করা আজকাল জলভাত। একবিংশ শতাব্দি থেকে যে হারে লোকজন স্যোশাল নেটওয়ার্কিং করে আসছে আর এত নেট ভিডিও তুলেছে নিজেদের –তাদের ভার্চুয়াল অবতার বানানো খুব সহজ। ডিজিটাল যুগের শুরুতে তিন্নির Y জিনের এক পূর্বপুরুষ ছিলেন বেশ ইন্টারেস্টিং। তার অসংখ্য ব্লগ আর ভিডিও বিদ্যমান। সব কিছুই স্বকীয় চিন্তার। চিন্তা করতে ভালবাসতেন এই দাদু। তিন্নি এই অবতারটার সাথে কথা বলে বেশ মজা পাচ্ছে আজকাল। তাই তার নাম দিয়েছে ডিজিটাল দাদু। আসলে ডিজিটাল দাদুর কৌতুহল সাংঘাতিক-অনেক কিছু জানার চেষ্টা করে তিন্নির কাছ থেকে। তিন্নি জানার চেষ্টা করে, ডিজ়িটাল দাদুদের সময়ের কথা। অতীত জানতে আজকাল ইতিহাস পড়তে হয় না। ইন্টারনেটও ঘাঁটতে হয় না। নিজের মনকে বললেই হল। মাথায় ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে বসানো আছে এক সুপার মাইক্রোচিপ। অতীতের যেকোন কম্পুউটারের চেয়ে হাজারগুন শক্তিশালী। ইন্টারনেট থেকে ফোন-সবকিছু ওই মাইক্রোচীপে। সব থেকে কাছে বসানো ডিজিটাল স্টোরেজ নোড খুঁজে নেবে সে। খুলে যাবে মাথার সাথে পৃথিবীর ্যাবতীয় তথ্যের আদান প্রদান।

শুধু কী তাই? তিন্নির মাথার, স্মৃতির, ভাবনার ডিজিটাল ইমেজও অহরহ নিয়ে চলেছে কোন না কোন লোক্যাল স্টোরেজ। যা ছড়িয়ে দেবে তার ভাবনাকে গোটা বিশ্বের অন্য সব আর্কাইভ স্টোরেজের মধ্য। আজ়কাল ব্লগ লেখার দরকার নেই। দরকার নেই কোন ওয়েবসাইটের। সবার সব চিন্তা আর ভিডিও লোকাল স্টোরেজে জমা হচ্ছে। যে কেও উদ্ধার করতে পারে। নিজের মাইক্রোচিপকে নির্দেশ দিলেই হল। লোক্যাল ডিজিটাল স্টোরেজ নোড কোটি কোটি । এই সব মিলিয়েই তৈরী হয়েছে বিশাল আধুনিক ক্লাউড কম্পুটিং। তিন্নি ইতিহাস বিজ্ঞান, বা কোন কিছু নিয়ে জানতে চাইলে- আজ অব্দি সেই বিষয়ের যাবতীয় মানবজ্ঞান, সমস্ত জীবিত ও মৃত মানুষের চিন্তা ফিল্টার হয়ে মুহুর্তের মধ্যে চলে আসবে তিন্নির মাথায়। কিছু দেখতে চাইলে ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মাধ্যমে তিন্নিকে নিয়ে যাবে বিংশ শতাব্দির কোলকাতায়। না কোন থ্রিডি চশনা স্ক্রীন কিচ্ছুই লাগে না আজকাল। মাথার মাইক্রোচিপকে ভার্চুয়াল রিয়ালিটির নির্দেশ দিলে, সে চোখের ফোটন রিশেপশন বন্ধ করে দেবে। মনের র‌্যাডার থেকে হটে যাবে চোখের সামনে থাকা দৃশ্যবত জগৎ। রেটিনাতে বর্ষিত হবে ভার্চুয়াল ফোটন। গড়ে উঠবে নতুন জগৎ। কখনো ২০০৭ সালের দিল্লী, কখনো বা ১৯৬০ সালের ক্যালিফোর্নিয়াতে নিয়ে যাবে তিন্নিকে।

দাদুর সাথে তিন্নি কথা বলে সেই ভার্চুয়াল জগতে। ডিজিটাল দাদুই ওকে অনুরোধ করেছিল। ওরা চলে যায় ক্যারিবিয়ান সমুদ্রের ভিকোয়েজ দ্বীপে। সবুজ সমুদ্রবুকে কর্চো বিচের সোনালী বালুতটের নারিকেল অরন্যে বসে চলে আলোচনা। সেখান থেকে কখনো সখনো অন্যত্র পাড়ি দেয় আরো জ্ঞানের সন্ধানে।

(২)

জানা আর বোঝার মধ্যে পার্থক্য শতযোজন। তিন্নি জানে। আসলে আজকের পৃথিবীতে সবাই সব কিছু জানে। কিন্ত জানাটাই জ্ঞানের সব উৎস না। উপলদ্ধি আসে অনূভুতি থেকে। সেই জন্যেই দরকার হয় ডিজিটাল দাদুর। উপলদ্ধির জগৎ থেকে চেতনার জগতে উত্তোরন। সেটা সুপার কম্পিউটার পারে না। মানুষের যে স্কিলটা এখনো জানা বাকী আছে-সেটা হচ্ছে চেতনা। তিন্নি সেই জন্যেই সাহায্য নিচ্ছে ডিজিটাল দাদুর। তবে দাদুও ঘাঘু। যেমন দেবে তেমন বাগিয়েও নেবে। ডিজিটাল রিয়ালিটির এই এক দোষ। লোকটা যেমন ছিল ঠিক তেমন বানাবে।

তিন্নি এখনো ভোটাধিকার পায় নি। ভোটাধিকার পাওয়াটা বয়স নির্ভর না। সুপার কম্পিঊটার ওদের পরীক্ষা নেবে। সাধারন ব্যাপার। একটু দেখে নেবে, মানুষ বলতে যেসব কমন সেন্স গুলো থাকার দরকার তা তিন্নির আছে কি না। জ্ঞান ত সবারই থাকে। তার জন্যে কম্পিঊটার আছে। মানুষের কাছে সুপারকম্পিউটারের একটাই প্রত্যাশা। মানব চেতনা। যুক্তি বুদ্ধি জ্ঞানের ওপরেও যে মানব স্তর-সেই মানব চেতনার উন্মেষ না হওয়া পর্যন্ত কারুর ভোটাধিকার নেই। আর দুদিন বাদেই পরীক্ষা দেবে তিন্নি। তাই দাদুর সাথে কথা বলে বোঝার চেষ্টা করছে রাজনীতির আদি ইতিহাস।

-আচ্ছা দাদু , তোমাদের সময় দেখতে পাচ্ছি ব্যাপক হারে রাজনৈতিক হিংসা আর হানাহানি – তোমার কখনো মনে হয় নি এরা অবুঝ? এদের গিয়ে সাহায্য করি? তুমিত ভবিষ্যত ভালোই জানতে। জানতে পার্টি, ধর্ম সব রাজনৈতিক দর্শনের মৃত্যু হবে। বেঁচে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডিজিটাল ডেমোক্রাসি। তাহলে থামানো চেষ্টা কর নি কেন?

– গুললি দিলি!

গুগলি শব্দটা তিন্নির কাছে নতুন। মাইক্রোচিপকে জানাতেই তিন্নিকে নিয়ে গেল ১৯৮৭ সালের চিপক স্টেডিয়ামে। আবদুল কাদিরের গুগলিতে কাত ভারতীয় টিম। বিংশ শতাব্দির ভারতীয় অবতারদের সংস্কৃতিতে ক্রিকেট জড়িত অবিচ্ছেদ্য ভাবে। পুর্বপুরুষদের অনেকেই ভারতীয় ছিল বলে, তাদের অবতারের সন্ধানে তিন্নি ক্রিকেট অল্পসল্প বোঝে। পূর্বপুরুষদের বোঝার জন্যে মাইক্রোচিপসএ ক্রীকেট সম্মন্ধীয় আর্কাইভ এবং জ্ঞান ঢোকানোই আছে লোকাল স্টোরেজ থেকে নিয়ে।

-অর্থাৎ তুমি বলতে চাইছ-এই আপাত সহজ প্রশ্নটা আসলেই কঠিন?
-উঁহু কঠিন শুধু না, অবোধ্যও। এবং দুর্বোধ্যও।
-কেন?
-হিংসা ছাড়া মানুষ বা রাজনীতির নির্মান অসম্ভব। এটাই বিজ্ঞান থেকে জানতাম। যদিও এসব বলতে গেলে মিডিয়া আর আঁতেলরা বলত ন্যাচারিলিস্টিক ফ্যালাসি । আমেরিকার ভূখন্ডের রাজনীতিতে ওই সময় কিন্ত হিংসা ছিল না। কোন উন্নত দেশেই ছিল না। ছিল ভারত বাংলাদেশের মতন অনুন্নত দেশের গণতন্ত্রে।

-এরা বোকা হাবা ছিল না। ছিল শিক্ষিত বুদ্ধিমান মানুষ।

-শিক্ষা বা জ্ঞান থাকলেই আমাদের সময় সব কিছু করা সম্ভব ছিল না। কিউবাতে পেটের দায়ে মাস্টার্স পিএই এচ ডি করা মেয়েরাও বেশ্যাবৃত্তি করত। আমাদের দেশেও উচ্চশিক্ষা মানেই ভাল ভাবে বেঁচে থাকবে এমন ছিল না। ভারত বলে যে দেশটা ওই সময় ছিল -সেই দেশে একই সাথে পৃথিবীর সব থেকে বেশী সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার এবং অর্ধাহারে থাকা ভিখিরীরা বাস করত। আমরা ছিলাম রাজনৈতিক কাঠামোর ভৃত্য। সেই কাঠামো বদলানোর ক্ষমতা গণতন্ত্র দিয়েছিল বটে। কিন্ত বাস্তবে রাজনৈতিক পরিবর্তন করা ছিল প্রায় অসম্ভব। আর রাজনৈতিক কাঠামোকে জনগন বদলাতে না পারলে – হিংসার আশ্রয় নেবেই।

-ভারত তৎকালীন সর্ববৃহৎ গণতন্ত্র!

-গণতন্ত্র হিংসা কমাতে পারে মাত্র। পেটে ক্ষিদে থাকলে ভাল্লুকও হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। আমি সব রাজনৈতিক হিংসার পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তেই এসেছিলাম। ওপর ওপর মনে হত দুই রাজনৈতিক দলে ঝগড়া। মারামারি। কাটাকাটি। বাস্তবে অনুন্নত দেশগুলিতে সীমিত সম্পদ নিয়ে টানাটানি করত লোকেরা। অসম্ভব জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় পশ্চিম বঙ্গ এবং বাংলাদেশে। পাঁচ ছয় জন ফ্যামিলির এক একর জমিও নেই। অনুন্নত কৃষি পদ্ধতি। আবার উৎপাদন বাড়াতে যে প্রযুক্তি বা উন্নয়ন লাগবে-সেটাও গণআন্দোলনের ফলে স্তব্ধ হচ্ছিল সর্বত্র। অর্থনীতি বলে তখন একটা বিষয় ছিল জানো বোধ হয়। তারা বলত দারিদ্র্যের অনন্ত চক্র। গরীব গুর্বোরা নাকি আরো বেশী দারিদ্র্য আনে। আমি বলতাম মায়োপিক ভিশনের গণতন্ত্র। পরের দু তিন বছরের বেশী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার সাধ্য ছিল না কোন পার্টিরই। ক্রাইসিস ছারা বাবুদের টনক নড়ত না। আগে থেকে ভাবা হত প্রায় কোন কিছুই।

-এই পার্টির ব্যাপারটা বেশ মজার। বহুদিন আগেই তা উঠে গেছে। গণতন্ত্রে এই পার্টির ব্যাপারটা এল কি করে?

-আসলে বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্ম যে বেশী দিন হয়েছিল তাও না। ভারত বহুদিন বৃটিশদের অধীনে ছিল। সেখান থেকেই বহুদলীয় গণতন্ত্র আমরা পেয়েছিলাম। বিবর্তনের দৃষ্টিতে তা ছিল গুরুত্বপূর্ন। কারন ভারতের মতন বহু ভাষাভাষীর দেশে, বহুমত, বহু বঞ্ছনাকে ধারন করতে এ ছাড়া কিছু পথ ছিল না। স্বাধীনতার পর থেকে কংগ্রেস ভারত শাসন করেছে অধিকাংশ সময়। আঞ্চলিক, বামপন্থী , দক্ষিন পন্থী সব দলই ছিল। কেও কেও কোথাও কোথাও শক্তিশালীও ছিল। কিন্ত প্রযুক্তি আর সময় যত এগিয়েছে, আদর্শ ভিত্তিক দলগুলির পতন হয়েছে তরান্বিত।

আদর্শবাদ নিজের মতন করে ইতিহাসকে গড়তে চায়, দেখতে চায়। ভবিষ্যতেকে সে শুধু নিজের চোখেই দেখে। কিন্ত বাস্তব আর ইতিহাসের যুগলবন্ধী বড়ই নিষ্ঠুর। ইতিহাস মানুষ সভ্যতার অবাধ্য বলদ-ভবিষ্যত বানীর কাঁটাতার না মানাতেই তার আনন্দ। সে ক্যাওটিক সিস্টেম পছন্দ করে বেশী। কিন্ত মানুষের দাহিদা বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। কিছু কিছু লোক কমিনিউজম , ইসলাম, হিন্দুত্ব ইত্যাদি আদর্শের পথে থাকাকেই জীবনে ধ্যান ধারনা চাওয়া পাওয়া করে ফেলত আমাদের সময়ে। তাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে যেত আদর্শবাদ। ফলে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া সত্যকেও অস্বীকার করত তারা। কারন তা না হলে এতদিনে জীবনে যা কিছু করেছে সবকিছুই অর্থহীন বলে মেনে নিতে হয়। সত্যকে অস্বীকার করার থেকে নিজের সম্পূর্ন অতীতকে অস্বীকার করা আরো বেশী কঠিন। তাই ইন্টারনেট যুগের সাথে সাথে ইন্টালিজেন্ট ডিজাইনের মতন কুযুক্তি আর অপবিজ্ঞান বৃদ্ধি পায় সাংঘাতিক হারে। আসলে নতুন জ্ঞান বিজ্ঞান আর যুক্তির সামনে আদর্শবাদি গোষ্ঠিগুলি হার ছিল অনিবার্য্।
তবে তাদের আদর্শের অস্তিত্বটা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন বলাটা ভুল। আরবের ইতিহাস যেমন ইসলামের জন্ম দিয়েছিল, ঠিক তেমনি রাশিয়ান ইতিহাস জন্ম দিয়েছিল কমিনিউজমের। ইতিহাসের পরিপেক্ষতিতে সব কিছুই সময়ের দাবি। অর্নিবার্য্ বিবর্তন। কিন্ত একবিংশ শতাব্দিতে অপ্রাসঙ্গিক সেই সব দর্শন- ভয়, গুন্ডামো, অপপ্রচার এবং যেখানে সম্ভব রাষ্ট্রর রক্ত চক্ষুকে সম্বল করে বেঁচে থাকতে চাইছিল। সেই জন্যেই তাদের দরকার ছিল পার্টির। যার অনুমোদন গণতন্ত্রে ছিল।

–কিন্ত আদর্শের জন্যে লোকগুলো মারামারি করত কেন? তাদের জীনের গঠনে ত কোন পার্থক্য ছিল না? তাহলে ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ বা যাবতীয় ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদগুলো এল কি করে?

— খাদ্যে টান পরলেত প্রানীরাও নিজেদের মধ্যে মারামারি করে!

-উঁহু। ভুল বললে দাদু। আমার মাইক্রোচীপ জ়ানাচ্ছে, ভারতের সব থেকে দুটো বড় বিচ্ছিন্নবাদি আন্দোলন হয়েছিল -পাঞ্জাব আর কাষ্মীরে । সেখানকার লোকেরা ভারতের বাকী লোকদের চেয়ে একটু বেশীই ভাল খেতে পেত। পরিসংখ্যান ত তাই বলছে! তা ছাড়া তোমাদের সময়ের বিখ্যাত ৯/১১ এর সন্ত্রাসবাদিরাও ছিল বেশ ভাল খেতে পরতে পাওয়া ছাত্র!

– হ্যাঁ। কিন্ত মুম্বাই আক্রমনের নায়ক আজমল কাসব আদতেই না খেতে পাওয়া ফুচকাওলার সন্তান। সুতরাং ব্যাতিক্রমও আছে! তবে এটা ঠিকই সন্ত্রাসবাদ আসলেই প্রতিবাদি আন্দোলন। তার ভিত্তি শুধু আদর্শবাদ হবে এটা আসলেই আমি কোনদিন মানতেই পারি নি।

-আদর্শবাদ বলছ কেন? একটা জেনেটিক গ্রুপের বেঁচে থাকার চেষ্টা। প্রানী জগতে দলবেঁধে সমগোত্রীয় জীনের অধিকারিরা বেঁচে থাকে।

– তাহলে ইরাকের আলকায়দার বিপ্লবীদের জন্য প্রায় অধিকাংশ মুসলিমদের ভালোবাসা কিভাবে ব্যাখ্যা করবি?

-ইতিহাস বলছে কমিনিউস্টরাও আল কায়দাকে ভালবাসত। ঠান্ডা যুদ্ধের পরে আমেরিকার বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ কোথাও গড়তে পারে নি কমিনিউস্টরা। কারন বস্তুবাদি দর্শনের যুক্তি দিয়ে আমেরিকাকে আটকানো ছিল অসম্ভব। যেহেতু বস্তুবাদি সমাজের সর্বাধিক উন্নতি তৎকালে আমেরিকাতেই আমরা দেখি।

-আদর্শবাদের অস্তিত্ব কি তোদের সুপার কম্পিউটার মানে?

-না। এগুলো জ্ঞানতত্ত্বের কনজেকচার। নানান ধরনের পরীক্ষিত সত্য আর তার কার্য-কারন সম্পর্ক। এর বাইরে কিছু মেনে লাভটা কি? সিমুলেশনে কোন কাজ আসবে?

– তোদের সময় দরকার না থাকলেও প্রাক কম্পুউটার যুগে আদর্শবাদের দরকার ছিল বই কি। ভবিষ্যতের একটা রূপরেখা না দাঁড় করালে বা সমাজ ঠিক কি চাইছে, সেটা না বুঝলে সেই যুগের গণতন্ত্র চালানো ছিল অসম্ভব। তোদের যেহেতু প্রতিনিধিত্ব মূলক গণতন্ত্র নেই-যে কেও সিস্টেম পরিবর্তনের জন্যে প্রস্তাব পাঠাতে পারে, তাই আদর্শবাদ বর্তমানে অনাবশ্যক । অথচ আমাদের সময় সেটাই ছিল সেলফ অর্গানাইজিং ফোর্স। কিছু সাধারন ধারনা যার ভিত্তিতে গড়ে উঠত রাজনৈতিক দল। এবং দলাদলি। যার জন্যে সেই যুগের একজন শ্রেষ্ঠ দার্শনিক কার্ল মার্ক্সও নিজের বৈজ্ঞানিক পথ ছেড়ে, আদর্শবাদের আশ্রয় নেন। আদর্শবাদ ছাড়া, সেই যুগের আদি কাঠামোর গণতন্ত্র ছিল অসম্ভব। তবে হ্যা-ইলেকট্রনিক মিডিয়া ঢুকতেই আদর্শবাদের ভিত আস্তে আস্তে দুর্বল হয়। ইন্টারনেটের বৃদ্ধির সাথে সাথে তা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন হয়ে ওঠে। বারাক ওবামাকে আমি ইন্টারনেট যুগের প্রথম প্রসিডেন্ট বলব। প্রতিটা সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান আছে এবং প্রযুক্তিই মানব সমস্যা সমাধানের শ্রেষ্ঠ পথ- আদর্শবাদ বর্জন করে এই যে সাধারন ভিত্তি এবং বিশ্বাস ওবামা আমদানি করলেন, তার ফলেই এক বিংশ শতাব্দির আদর্শবাদি রাজনৈতিক মডেলগুলি সম্পূর্ন বিপর্যস্ত হয়। বিবর্তনের পথে এটাই অলঙ্ঘ্য ইতিহাস। সবাই যদি বৈজ্ঞানিক সমাধানে আস্থা রাখে তাহলে একাধিক রাজনৈতিক দল নিজের আলাদা অস্তিত্ব দাবী করবে কি করে? আমেরিকা আস্তে আস্তে সেদিকেই এগোচ্ছিল। সুতরাং একদিন যে দলহীন গণতন্ত্র আসবে, সেটা আমি বুঝতাম।

– কার্ল মার্ক্স এর প্রভাব তোমাদের সময়েও হারিয়ে যায় নি?

-যে প্রভাবের কথা বলা হচ্ছে সেটা মার্ক্সের নামে হলেও, মার্ক্সকি আদৌ তার জনক? তোদের সুপার কম্পিউটার কি বলে?

– তোমাদের সময়ের মার্ক্স সংক্রান্ত যেকোন চিন্তাই যতটুকুনা মার্ক্সের লেখার সাথে যুক্ত, তার থেকেও বেশী জড়িত ১৯১৭ সালের অক্টবর বিপ্লবের সাথে। অবিচ্ছেদ্য ভাবে অক্টবর বিপ্লবের কুশীলবরাই মার্ক্সীয় চিন্তার ঠিকেদারি নেন। শোষন মুক্ত সমাজের প্রতি ভালোবাসা সেকালে অনেকেরই ছিল। শ্রমজীবিদের ত অবশ্যই ছিল। এই আশার গল্পটা মার্ক্সই প্রথম শূনিয়েছেন। লোকেও সেটাই শুনতে চেয়েছে। মার্ক্স মুক্ত বাণিজ্যের পক্ষে ছিলেন। তার স্বঘোষিত সর্বাধিক বিখ্যাত শিষ্যটি, সেই মুক্ত বাণিজ্যেকে সাম্রাজ্যবাদি বা দেশ দখল করার চিন্তায় পরিণত করলেন। সেটাই মার্ক্সবাদের অন্তর্ভুক্ত হল-মার্ক্সের অবস্থান যতই তার বিরুদ্ধে থাকুক না কেন। মুক্ত বাণিজ্যের কারনে চাকরি হারিয়ে লোকেদের দুঃখ কষ্ট নিশ্চয় হত-ফলে আকুতি ছিল মুক্তির। বুভুক্ষ পেটের কাছে যুক্তি হচ্ছে আলমারীতে তোলা রূপার বাসনসেট। সে চাই আলুমিনিয়ামের থালায় খেতে যদি তাতে দু দানা ভাত থাকে। তাই কালক্রমে শোষন মুক্ত সমাজের জন্যে যাবতীয় রোম্যান্টিক প্রতিবাদি ধারনা অথবা শোষনহীন স্বৈরাচারী চিন্তাগুলি মার্ক্সের নামে চলতে থাকে। হাজার কিসিমের মার্ক্সবাদিরা মার্ক্সকে কবরে পাঠান-কারন তাদের চালিকা শক্তি এবং চাহিদা শোষন মুক্ত সমাজ। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বা সত্যের অনুসন্ধানে মানুষ জীবন উৎসর্গ করতে পারে না। কিন্ত জীবনে অনুপ্রেরণা এলে – ইহকাল বা পরকালের প্রতিশ্রুত স্বর্গে বিশ্বাস এলে, সে বেঁচে থাকার অন্য অর্থে বিশ্বাস করে।

আসলে মানব সভ্যতার ইতিহাসটা বেশ মজার। মহম্মদ যা চেয়েছিলেন, ইসলাম কি তাই ছিল? আবার অধিকাংশ মানুষই নিউটনকে যুক্তিবাদের আদিগুরু বলে মনে করত। অথচ লোকটা ছিল মহম্মদের থেকেও বেশী কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তাই মার্ক্স কি চেয়েছিলেন আর মার্ক্সবাদ কি দাঁড়িয়েছিল, সেই ভাবে না দেখাই ভাল। কারন মানুষ নিজের প্রয়োজন মেটাতেই আদর্শগুলো তৈরী করে। কার ইচ্ছা কি ছিল সেখানে ব্রাত্য।

-অর্থাৎ বিবর্তন আমাদের ডি এন এর মধ্যে বেঁচে থাকার যে অর্থ ঢুকিয়েছে, ইহকাল বা পরকালে স্বর্গের স্বপ্ন তা ওভার রাইড করতে পারে? মুছে দিতে পারে আমাদের জ়ৈবিক ডাইভ? আমার অভিজ্ঞতা অন্য। বিপ্লবে বিশ্বাসী অধিকাংশ লোকের শেষ জীবন অন্য কিছু ভাবিয়েছে আমাকে। প্রথম জীবনে বামপন্থী-পরবর্ত্তীকালে দক্ষিনপন্থী এমনটা আকছার দেখেছি। তাছাড়া আমাদের দেশে কোন কমিনিউস্ট বিপ্লবীর ছেলে মেয়েরা কমিনিউস্ট হয়েছে বলে দেখি নি। বাবার জীবনের অসারতা দেখে, তারাও ক্যাপিটালিস্ট হওয়াটাই পছন্দ করত। তাদের বাবা মারাও কোনদিন তাদের এই ব্যাপারে বাধা দিয়েছে বলে শুনি নি। ছেলে মেয়ে দুধে ভাতে থাকার ব্যাপারে কেও অন্যচিন্তা করত বলে জানি না। আমাদের কমিনিউস্ট নেতারা তাদের নিজেদের ছেলে মেয়েদের ইংরেজী মিডিয়ামে পাঠাতেন-তাদের বৈপ্লবিক বাংলা মিডিয়াম ছিল আম আদমির সন্তানদের জন্যে।

না। আদর্শবাদ জেনেটীক ড্রাইভ ওভাররাইড করেছে বলে দেখিনি। নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্যে অন্যের ওপর নিজেদের আদর্শ চাপানোটাকেই এরা বাহাদুরি বলে মনে করতেন। স্বপ্নের সওয়ারীর চেয়ে, এদেরকে আমার ক্ষমতার ঝাড়ুদার বলে মনে হত!

– স্বপ্নের মায়াজালে সত্যকে অস্বীকার করাটা কমিউনিস্ট বা আদর্শবাদিদের এক চেটিয়া অভ্যেস না। বাজারী থেকে বামপন্থী -প্রায় সকলেই সত্যের থেকে বাস্তবের পার্থক্য করতে প্রায়শ ব্যার্থ হতেন সেকালে। এটা মানুষের বিবর্তনজনিত ফলশ্রুতি হিসাবে দেখাটই ভাল। আসলে তোমাদের সময়ে প্রযুক্তির জন্যে সমাজ এত দ্রুত বদলাচ্ছিল, বহুদিনের লালিত কাঙ্খিত চিন্তা ঐতিহ্য ভেঙে পড়ছিল ভুমিকম্পের মতন। কিন্ত বেঁচে থাকার ইচ্ছাটাত জীন থেকে হারায় নি। ফলে সেই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ হতই।মার্ক্স এই পরিবর্তনের পক্ষে লিখলেও- কমিনিউজম এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে শ্রমজীবি মানুষদের স্বপ্ন দেখাতে থাকে। কিন্ত বাজার অর্থনীতির বিরুদ্ধে কমিনিউজমের ব্যার্থতায়, মানুষের প্রতিবাদি সামজিক অবস্থান হিসাবে ধর্মীয় শক্তিগুলির পুনঃউত্থান হতে থাকে। আসলে বাজার অর্থনীতি ত কোন রাজনৈতিক আদর্শ না। বিবর্তনের পথে গড়ে ওঠা সেই কালে সব থেকে চালু সিস্টেম। কারন মানুষের উৎপাদন শক্তিকে সব থেকে বেশী মোটিভেট করত একনাত্র বাজার। কোন শোষন বা শাসন যন্ত্র ছাড়াই।

-শেষের লাইনটা কমিনিউস্টরা বিশ্বাস করত না। ওরা বলতো শাসন যন্ত্র দিয়েই মার্কেট টেকানো হয়!

–একবিংশ শতাব্দির শুরুর দিকেও লোকে অনেক কিছু বিশ্বাস করেই বেঁচে থাকত। রাজনৈতিক মতবাদ মানে, তার ভিত্তিতে কিছুটা বিশ্বাস থাকবেই। এব্যাপারে কেওই ব্যাতিক্রম না। ওয়াইকিপিডিয়া চালু হওয়ার পর পর, ইন্টারনেট যুগ থেকে অবস্থার আস্তে আস্তে পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ যত বেশী গুগলিং শিখেছে, তত বিশ্বাসের ভিত্তি নড়েছে। তারপর আস্তে আস্তে গুগুল, ওয়াইকি সব কবে উঠে গেছে-এখন তো সবার মাথায় মাইক্রোচিপ। তাই দিয়ে সব কিছু করা যায়। ওগুলো ওয়ার্ল ওয়াইড স্টোরেজ আর নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্টেড। তাই এখন আর মানুষের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসের দরকার নেই।

ধর্ম মানে কি? কিছু বিশ্বাস এবং প্রথা, যা মানুষ নিজের বা সমাজের জন্য ভাল বলে বিশ্বাস করেছে।

রাজনীতি কি? কিছু আদর্শ এবং আইন যা মানুষ সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যে উত্তম বলে মনে করত।

কি করলে রাষ্ট্রের ভাল বা তার নিজের ভাল হবে সেটা এখন সে মাইক্রোচিপ থেকেই নির্দেশ পাচ্ছে। অবশ্য মাথাটা মাইক্রোচিপস এর সাথে কনসাল্ট করে মাত্র। আসলে কি করিলে আমার বা রাষ্ট্রের উত্তম সাধিত হইবে, সেটার ত কোন কপিবুক রুল হতে পারে না। অথচ ইনফর্মেশন প্রযুক্তির আগে বাইবেল কোরান মেনেই রাষ্ট্রের আইন তৈরী হত। ভবিষ্যতের রাষ্ট্র বা সমাজের উন্নতির জন্যে প্রযুক্তিভিত্তিক বা বিজ্ঞান ভিত্তিক চিন্তার ভিত শিল্প বিপ্লব থেকে শুরু হয়। কিন্ত চিন্তা জগতের আসল বিপ্লব, তথ্যের মুক্ত আদান প্রদানের আগে সম্ভব ছিল না। ওটা ইন্টারনেট যুগের দান। এর পরবর্তীতে সমাজবিজ্ঞানের সিমুলেশন যত এগিয়েছে, ততই নিকট ভবিষ্যতকে আরো ভাল ভাবে জানতে পেরেছে মানুষ। ফলে কি করলে নিজের বা সমাজের ভাল হবে, এটা যদি সিমুলেশন থেকে জানতে পারে, তাহলে কোরান, গীতা বা দাস ক্যাপিটালের স্বরণাপন্ন হতে হয় না।

-মানে মাইক্রোচিপ বলতে চাইছে কম্পুটার সিম্যুলেশনের অভূতপূর্ব অগ্রগতিই ঈশ্বরের মৃত্যুর কারন?

-না। এতো সীমিত কিছু বলা উচিত না। ঈশ্বরের জন্ম নৃতাত্ত্বিক কারনেই। সেই আদিযুগে, যখন মানুষ অনেক কিছুই জানত না, তখন ঈশ্বরের নামেই সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্ম হত। অনন্তকাল বেঁচে থাকার ইচ্ছাটাও একটা বড় কারন। সেই সময় মানুষ ৫০-৬০ বছর বাঁচত। অমরত্বের লোভ সবারই ছিল। তাই আব্রাহামিক ধর্মগুলো স্বর্গে অনন্ত সুখের প্রতিশ্রুতি দিত। আর পূর্বের ধর্মগুলো ঝোলাত পুনঃজন্মের ললিপপ। মানুষ সেই সময় এত অত্যাচারিত আর শোষিত ছিল, ইহজন্ম সত্য এই বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকতেই পারত না। তাই ইহজততের নির্যাতিত, লাঞ্ছিত কষ্টের জীবনের বাইরে, তাদের আরো একটা সুন্দর জীবন থাকবে, এই বিশ্বাস, তাদের বেঁচে থাকার জন্যে ছিল গুরুত্বপূর্ন। অনেক ক্ষেত্রে সেটাই ছিল একমাত্র ড্রাইভিং মোটিভেশন।

এখন ত মানুষ অমর। তাছাড়া বেশী দিন বেঁচে থাকলে আস্তে আস্তে তার বুদ্ধি চেতনা জ্ঞান সবকিছু বাড়তে থাকে। সামগ্রিক চেতনার চাপে, নিজের জন্মগত বিশ্বাসকে ত্যাগ কোন না কোন দিন ত করতেই হত।

ঈশ্বরের বেঁচে থাকার পেছনে মানুষের ভয় এবং লোভ ছিল নিঃসন্দেহে সব থেকে বড় কারন। এখন ত এই পৃথিবীতে মৃত্যু নেই-খাবারের অভাব নেই-তাহলে ভয় থাকবে কিসের? অনিশ্চয়তা নেই। সন্তান, পিতা, মাতা নেই। ফ্যামিলি নেই। মৃত্যুর ভয় নেই। এসবের প্রয়োজনেই এসেছিল ধর্ম আর রাজনীতি। আজ এদের সবাই মৃত -ধর্ম রাজনীতি ঈশ্বর-সবাই এখন লাশকাটা ঘরে শুয়ে আছে। অতীতের আর বর্তমানের মানুষের প্রয়োজন এক না। প্রয়োজন না থাকলে সবকিছুই বিবর্তনের পথে হারিয়ে যায়।

-ঠিক এই ভাবেই বাজার ও হারিয়ে গেছে? ঈশ্বরের মৃত্যু নিয়ে আমার মনে সংশয় ছিল না। বাজারের মৃত্যু হবে এটা কখনো ভাবি নি।

-বাজার, ঈশ্বর সবকিছুই এসেছে মানব বিবর্তনের নানান ধাপে। যার বিবর্তনের পথে জন্ম, তার মৃত্যু ত হবেই!

– কিন্ত আমাদের সময়ে একবারের জন্যেও মনে হয় নি বাজারের মৃত্যু হবে। ইন্টারনেটের সাথে সাথে বাজারের ক্ষমতা বাড়ছিল। ক্রেতা বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ আরো সহজ হতে থাকে। ২০০৭ সাল থেকে আমি অনেক কিছুই ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাজার করতাম। আস্তে আস্তে শোরুমের যাওয়া ছেড়ে দিলাম। আমার ত মনে হচ্ছিল ইন্টারনেট বাজারকে শক্তিশালি করছিল।

– সেটা আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে। কারন তোমাদের সমাজ ছিল ব্যাক্তিগত চাহিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাজারের ভিত্তি ব্যাক্তিগত চাহিদা। সেটা যদি সিস্টেম মিটিয়ে দিতে পারে বাজার কেন থাকবে? আমাদেরত কেনা কাটার আর দরকার নেই। আমি এখন শ্যাম্পেন খেতে চাইলে মাইক্রোচিপকে জানালেই হল। আমি ভার্চুয়াল জগতের ভার্চুয়াল শ্যাম্পেন খাবো। আলটিমেটলি স্বাদটাত একটা নিউরোফিলিং-স্নায়ুতন্ত্রের অনুভুতি। মাইক্রোচিপ সেটাই দিয়ে দিচ্ছে। আর আমার এনার্জি যা দরকার, সেটার জন্যেত ক্যাপসুল ফুড ত আছেই। তাতে আমার পুষ্টির জন্যে যা দরকার সবই দিয়ে দিচ্ছে।

বয়ফ্রেন্ডের সাথে সেক্সের দরকার হলেও মাইক্রোচিপকে বললেই হল। সে আমাকে ভার্চুয়াল প্রেমিক দিয়ে দেবে। সব থেকে বড় কথা, সেই প্রেমিক অবতারটিকে আমিই তৈরী করতে পারব। তার মধ্যে কত % রবীন্দ্রনাথ, সেক্সপীয়ার আর টম ক্রুজ থাকবে মাইক্রোচিপকে বলে দিলেই হল। নেমে যাবে তার অবতার। শরীর মিলনের যাবতীয় অনুভূতি, যা ত্বক থেকে স্নায়ুতে , স্নায়ু থেকে রক্তে প্রবাহিত হয়, সবই মাইক্রোচিপ আমাকে দেবে। বেঁচে থাকার সবকিছুই সিস্টেম আমাকে দিচ্ছে। আমরা সিস্টেমকে একটা জিনিসই ফিরিয়ে দিই। সেটা হচ্ছে মানবিকতা। তাই বাজারও আজ মৃত।

– অহো। আমাদের সময় নেহাত এমন কিছু ছিল না। নায়িকাদের পর্ন ভিডিও দেখেই সন্তষ্ট থাকতে হত। যৌন চাহিদা কিছুটা তাতে মিটত হয়ত-কিন্ত তা
পৃথিবীর আদিমতম বাজার-গণিকালয় নির্মূলের জন্যে যথেষ্ট ছিল না।

-এর অন্যদিকও আছে। ক্ষমতারলোভের উৎসমুখ হচ্ছে যৌনতা। আবাহমানকাল থেকে রাজনীতিবিদ বা ধণী হওয়ার ইচ্ছার পেছনে যৌনতার শক্তিই কাজ করেছে বেশী। মানুষের সমস্ত যৌনতা এই ভাবে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি দিয়ে মিটিয়ে দিলে, ক্ষমতার লোভও হারিয়ে যায়। হারিয়ে যায় ধন সম্পদ আহরনের ইচ্ছা।

-কিন্ত রাস্তাঘাট, যানবাহন, বাড়ি ঘর-এসবত বানাতে হচ্ছে। যতই রোবটরা এসব বানাক না কেন, তার পেছনে বাজার না থেকে পারে কি করে?

– তোমাদের সময়ে রাস্তাঘাট ছিল সামগ্রিক চাহিদা। যানবাহন, বাড়িঘর ব্যাক্তিগত চাহিদা। এখন ব্যাক্তিগত চাহিদা বলে কিছুই নেই। যেটাকে তোমাদের কার্লমার্ক্স কমিনিউস্ট সমাজ-বিবর্তনের সর্বোচ্চ ধাপ বলেছিলেন। আমি এখন ভার‌তে যেতে চাইলে, এক ঘন্টার মধ্যে চলে যাব। রিভারসাইড থেকে ভ্যাকুয়াম টানেল
মেট্রো নিয়ে নিউইয়ার্ক হয়ে সোজা ভারতে। টিকিট, টাকা, ডলার কিছুই লাগবে না। গোটা পৃথিবীতেই এখন ভ্যাকুয়াম টানেল মেট্রো চলে। কুড়ি মাইল দূরের স্টেশনে যাওয়ার জন্যে নিজেই উড়ে চলে যাব। আমার বেল্টের ফোটন জেট লাগানো আছে। দু দশ মাইল স্থানীয় যাতায়াত, যা মেট্রো ধরার জন্যে দরকার, সেটা ফোটন বেল্ট দিয়েই করি আমরা।

আর বাড়ি ঘর? ন্যানো প্রযুক্তির যুগে ওসবের কি দরকার? লোকে তোমাদের সময়ে বাড়ি ঘর বানাতো প্রকৃতির হাত থেকে মুক্তি পেতে। তাই নিয়ে মারামারি, কাটাকাটি হানাহানি। এবং শেষে পরিবেশের ক্ষতি। আমার পকেটে আছে ন্যানো-বিল্ড। মাত্র একশো গ্রাম ওজন। মাইক্রোচিপ প্রগ্রাম করে দিলে, ও আমার চারধারে বানিয়ে দেবে অপূর্ব তাবু। সেখানে চেয়ার টেবিল সব কিছুই থাকবে। ডাইনিং টেবিল, কিচেন এসব আজকের দিনে দরকার নেই। খাওয়া দাওয়ার পাট চুকে গেছে। কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হলে, স্বাদ আস্বাদনের জন্যে ভার্চুয়াল রিয়ালিটিকে বললেই হল। ইটালিয়ান রিভিয়েরাতে নিয়ে গিয়ে আমাকে সর্বোত্তম শ্যাম্পেন খাওয়াবে। আমাদের কারুর কোন জমি বাড়ি নেই। তাই জমি নিয়ে বিবাদও নেই। বৃষ্টিবাদলা বা বরফ পরলে, ন্যানোতাবু খাটিয়ে নিলেই হল। বাইরের সব তাপমানকে প্রতিহত করতে সে ওস্তাদ। প্রাগঐতিহাসিক বাড়িগুলোকে সংরক্ষন করা হয়েছে। হোউয়াইট হাউস এখন মিউজিয়াম।

পোষাক কেনার ঝামেলা আর নেই। কি ফ্যাশন চাই? সেই ১০০ গ্রামের ন্যানোম্যাটেরিয়াল, যা আমার জন্যে তাবু বানাচ্ছে, তা আমাকে পোষাকও দিচ্ছে। শুধু আমাদের বন্ধুদের করা কোন ফ্যাশন ডিজাইন, মাইক্রোচিপে লোড করলেই, সেটা পোশাক হয়ে আমাকে ঢেকে দেবে। আমিও সময় পেলে ডিজাইন করি। যার ভাল লাগে সে একবার অন্তত ট্রায়াল দেবে। সেই ১০০ গ্রাম ন্যানোমেটেরিয়াল দিয়ে পশম, সুঁতি, পলিয়েস্টার-যা চাইবে। সেই পোষাক পাবে। সবই ন্যানো ডিজাইনের কারসাজি।

– অর্থাৎ প্রযুক্তির হাতে ব্যাক্তিগত সম্পত্তির সব কিছু বিলোপ হয়েছে?

-সেটাই ত ভবিতব্য। ব্যক্তিগত চাহিদার সবকিছুই যদি প্রযুক্তি এবং সিস্টেম মিটিয়ে দেয়-তাহলে সম্পত্তি করে লাভ কি? কার জন্যে? আমাদের ত আর তোমাদের মতন ছেলে মেয়ে হবে না। রাষ্ট্র যখন স্পার্ম ব্যাঙ্ক বা ওভাম ব্যাঙ্ক থেকে নতুন ডি এন এর জন্ম দেবে–তখন সেই নতুন জীনপুলের ওপর সবার অধিকার।

পৃথিবীটা সেই জীনপুলের। কোন ব্যাক্তিগত জীনের না। ব্যাক্তিগত জীন ডি এন এর ধারক মাত্র। তার একটাই ধর্ম, তার কিছু ইউনিক মিউটেশন আছে। সেই
ইউনিক মিঊটেশনগুলো ভাবী সমাজের জন্যে ভাল না খারাপ আমরা জানি না। সুতরাং তাকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। বরং সবার নতুন মিউটেশন গুলো কম্পিউটারে সিমুলেট করে আমরা দেখি। সেগুলো কাজের না অকাজের রোগ তৈরী করে। যাদের মিঊটেশন কাজের, তাদের স্পার্ম এবং ডিম্বানুগুলো সংগ্রহ করে রাষ্ট্রই নতুন প্রজন্ম তৈরী করবে।

ডিজিটাল দাদু কিছুটা হলেও অবাক হয়। তিন্নির জ়ৈবিক বয়স এখনো ১৫ না। কিন্ত মানসিক বয়সে, সে দাদুর কালের সবার থেকেই অনেক বেশী বয়স্ক। কারন সেই মাইক্রোচিপের ম্যাজিক। যা ক্রমাগত তিন্নিকে তথ্য দিয়ে চলেছে। অনুভূতি দিয়ে চলেছে। গোটা পৃথিবীর সামান্য কিছু রস আস্বাদন করতে ডিজিটাল দাদুর চল্লিশ বছর লেগেছিল। তাও তিনি অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকা লোক ছিলেন। আজকে ভার্চুয়াল রিয়ালিটির জন্যে তিন্নির বৌদ্ধিক বয়স অনেক অনেক বেশী।

(৩)
ভিকোয়েজের দ্বীপটা ভার্জিন আইল্যান্ডের অংশ। ডিজিটাল দাদুর কালে ছিল ক্লোদিং অপশনাল। মানে যে কেও নগ্ন হয়ে ওইসব বীচে ঘুরতে পারে। তিন্নিদের পৃথিবী্তে সবটাই ক্লোদিং অপশনাল। কেও ইচ্ছা হলে পোষাক পরল। না হলে নগ্ন হয়েই ঘুরে বেড়াবে। নগ্নতা নিয়ে মাত্রারিক্ত উৎসুক্য বহুদিন আগেই পৃথিবী থেকে অপসৃত। আজকাল পৃথিবীতে বৃদ্ধ বৃদ্ধা বলেও কিছু নেই। নতুন তরুন তরুনীর দেহে সবাই মস্তিস্ক ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে। সে সব দেহও নিঁখুত-কারন জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ারিং বদৌলতে, যেসব মিউটেশন সুন্দরতম দেহের জন্ম দেবে, তাদেরই কেবল নির্বাচিত করা হয়। প্রাকৃতিক নির্বাচন অতীত। এটা কৃত্রিম নির্বাচনের পৃথিবী।

কিছু তরুন তরুনী তাদের অপূর্ন সুন্দর দেহে নগ্ন হয়ে বীচে রোদ পোহাচ্ছিল। সবটাই ভার্চুয়াল যদিও। কিন্ত ডিজিটাল দাদুর চোখ বার বার সেই দিকে ঘুরে ফিরে আসে। চোখের সামনে প্লেবয় মডেলদের নগ্ন দেখলে উত্তেজিত হওটাই সেকালের নিয়ম। তাই ডিজিটাল দাদুর মধ্যেও মৃদু উত্তেজনা । তিন্নি সেটা দেখে বেশ মজা পাচ্ছিল।

– ও দাদু। তোমরা কি নগ্ন তরুনী দেখলেই উত্তেজিত হয়ে যেতে?
-সেটাই ত বিবর্তনের পথে আমাদের জেনেটিক ধর্ম। আমি যদিও এতে কখনো লজ্জিত হয় নি। যদিও সামাজিক একটা রক্ষনশীলতা সর্বত্রই ছিল।
-ব্যাপারটা আমার কাছে বোধগম্য না। পোষাক থাকুক বা না থাকুক যৌন উত্তেজনা বিপরীত লিঙ্গের প্রানীকে দেখা মাত্রই আসে। পোষাকের থাকা না থাকাতে তাতে কি পরিবর্তন হয়?

-এই প্রশ্নটা আমি নিজেও নিজেকে করেছি। কোন সন্তোষজনক উত্তর পাই নি। উত্তর খুঁজতে আমি নিজেও অনেক বার নুড বিচ বা নুড রিসর্টে গেছি। আমাদের সময়েও নুড বিচে নগ্ন অবস্থায় নর নারী একে ওপরের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হত, মনে হয় নি। এমন কেও দাবিও করে নি। সজ্জিত নারীর চেয়ে নগ্ন নারীর আকর্ষণ বেশী- এমন আমার কখনোই মনে হয় নি। বরং নারীর ব্যাক্তিত্বের আকর্ষনেই বেশী পুড়েছি। তাই মানুষ কেন নগ্নতার বিরুদ্ধে রক্ষনশীল ছিল, আমার কাছেও তা পরিস্কার না। নগ্নতা খারাপ-বিবর্তনের পথে এমন একটা বিশ্বাসের ভাইরাস নিয়ে আমরা জন্মে ছিলাম বোধ হয়। অনেক অনেক বিশ্বাসের ভাইরাস নিয়ে জন্মাতাম আমরা। ঈশ্বরে বিশ্বাস, রক্ষনশীলতা, ধর্ম, রাজনৈতিক বিশ্বাস-যাবতীয় বিশ্বাসের ভাইরাসে জন্ম থেকেই আক্রান্ত ছিলাম আমরা। সেই বিশ্বাসের ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে আমরা লড়াই শুরু করেছিলাম। আমি লেখালেখি সেই জন্যেই শুরু করি মূলত।

-হাম। সেটা ত জানি। কিন্ত তুমিও ত নুডিস্ট ছিলে না। সাধারন বাঙালীর মতন ঘর সংসার করতে। এমন কি পরকীয়া বা বিবাহ বহির্ভুত সেক্সেও তোমার আপত্তি ছিল। ফ্যামিলি, সন্তান পালনকেই ধর্ম হিসাবে মানতে!

– এমন নয় যে, ফ্যামিলির বিলোপ আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না। কিন্ত প্রত্যেকেই কোন কোন প্রয়োজনের জন্যে বাঁচে। আমার লড়াই ছিল মৌলবাদি শক্তি এবং বিশ্বাসের ভাইরাসের বিরুদ্ধে। আমি তাদের সাথে মিশে, তাদের মনের ভাষা বুঝতে চেয়েছি। যেটা আমার মনে হয়েছিল, তারা লিব্যারালিজমকে পছন্দ করে না মুলত নিজের সন্তানদের কথা ভেবে। কেওকি চাইত তাদের সন্তানরা ড্রাগ নিক বা গ্রুপ সেক্স করে আনন্দ পাক? আমার বাবা মায়ের মতন সব পিতা-মাতাই চেয়ে আসে তাদের সন্তানরাও নাতি নাতনির জন্ম দিক। সেটাই সবার জেনেটিক ড্রাইভ। ধণতন্ত্রের ফলে উঠে আসা ব্যাক্তিস্বাতন্ত্র আর ব্যাক্তিস্বাধীনতা ফ্যামিলি ধারনাটাতে জোরে আঘাত করে। বাজার আসলে ফ্যামিলি চাইত না। কারন ফ্যামিলিটা বাজারের ব্যাগেজ। ফলে ফ্যামিলি নষ্ট হয়ে যাবে-নিজেদের জেনেটিক সত্ত্বা লোপ পাবে-স্ত্রীরা আমাদের কথা শুনবে না-এই ভয় মৌলবাদিদের মাথায় চেপে বসে।

এই ভয় থেকেই আমাদের সময়ের রক্ষনশীলতা তথা ধর্মের নব উত্থান। আমি একবার প্রতিবাদি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের জন্যে কলম ধরে ছিলাম। সেই কালে মুসলিম মৌলবাদিদের কাছ থেকে আমি অনেক ইমেল পাই। কোন ভীতি প্রদর্শন করা ইমেল না। খুব ভদ্র এবং যুক্তিপূর্ন ভাষায় লেখা।
ওদের বক্তব্য এরকম-আপনিও কি চান আপনার স্ত্রী কন্যারা তসলিমার মতন নষ্ট মেয়ে হৌক? ওই নষ্ট মেয়েটা বাকি মেয়েদের ও নষ্ট করতে চাইছে! আমি বুঝেছিলাম পুরষতন্ত্রের ভীতিটা আসলেই সেই জেনেটিক বিলুপ্তির জন্যে।

কিন্ত কি করলে তাদের বিজ্ঞানের পথে , যুক্তির পথে ফেরানো যেত? তাদের ধারনা এই যুক্তিবাদ, বিজ্ঞানই সেই দৈত্যের জন্ম দিয়েছে, যার জন্যে তাদের বৌ মেয়েরা পুরুষের কথা আর শুনবে না। তাদের সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার ইচ্ছা রসাতলে যাবে। পুরুষত সন্তান ধারন করতে পারে না। তাই আমার মনে হয়েছিল ধার্মিক ব্যাক্তিদের বিজ্ঞানের পথে, যুক্তির পথে ফেরানোর জন্যে ফ্যামিলি নির্ভরতা দেওয়া প্রয়োজন। ভয় মানুষের সিদ্ধান্তকে সব থেকে বেশী প্রভাবিত করে। নিজেদের জেনেটিক সত্ত্বা বিজ্ঞান মনস্ক নাস্তিকদের জন্যে বিপদে-এই ভয়টা ওদের মন থেকে দূর করতেই হত। আমার অনেক নাস্তিক বন্ধু সেটা বোঝেন নি। সময়ের থেকে বেশী এগিয়ে গেলে শহীদ হতে হয়। দরজা ভেঙে নয়, কড়া নেরে ঢোকাই উচিত। কারন তাতে অতিথির সন্মান পাবে। নচেৎ গৃহী মনে করবে চোর ডাকাত। উদ্দেশ্য যতই সৎ হোক না কেন, ঘরে যে জোর করে ঢুকেছে, তাকে কেও পছন্দ করে না।

-অর্থাৎ তোমাদের সময়ে অন্য কোন স্ত্রীকে ভাল লাগলে, সেই ভাললাগাটা হজম করতে হত!

-সবাই হজম করত এমন না। যাদের হাতে সময় ছিল অঢেল, তাদের অনেকেই চান্স নিত। যদি কিছু হয়। মধুর রস থেকেই ত মানবিকতার জন্ম। মানবিকতার কৃষ্টি পাথর হল পরকীয়া। ইন্টারনেটের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং জনপ্রিয় হয় মানুষের যৌন দাবি মেটাবার জন্যেই। তবে সবটাই একটা কাঠামোর মধ্যে খেলা। অল আউট যারা খেলত-তাদের অনেককেই সামাজিক চাপ নিয়ে পুরানো সমাজ ছেড়ে নতুন সমাযে ফিরেছে। সময়ের অভাবে প্রেম নিয়ে বেশী পরীক্ষা করার সুযোগ আমি পাই নি। জীবনত একটাই। পরকীয়াতে সময় নষ্ট হয় এত বেশী-আমি এড়িয়ে গেছি।

-ধ্যুস। আমাদের এখন স্বামী স্ত্রী বয়ফ্রেন্ড এই সব কিচ্ছু নেই। অবশ্য চাইলে পরকীয়া নারীর অনুভূতিও ভার্চুয়াল লাইফে নিতে পারি। ওই নিয়ে তোমাদের এত সাহিত্য আর ইতিহাস-মনে হয় তোমাদের সময়ে পরকীয়া প্রেমে মানুষ অনেক বেশী আনন্দ পেত। বা মানবিকতার পুনঃজন্ম হত একঘেঁয়ে জীবনে। গ্রীষ্মের দাবাদহে বসন্তের বাতাস আর কি।

-কিন্ত জীবনে স্ত্রী, পুত্র, নাতি, এসব না থাকলে মানুষ বাঁচবে কেন? আমি ত আমার ফ্যামিলির জন্যে বাঁচতাম। আরো অনেকেই নিজেদের সন্তানের জন্যে বেঁচেছে।

-কেন বাঁচবে না? আমরা সমাজের জন্যে বাঁচি। কম্পুটারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এলগোরিদমে ইদানিং অনেক বেশী মানবিকতা ঢোকাতে হয়। যাতে রোবটরা আরো বেশী করে মানবিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সে কাজ ত বিশাল। মানব চেতনার জন্ম এবং কার্য্যকলাপ আজও হোলি গ্রিল আমাদের কাছে। সেসব আমরা করি। কবিতা লিখি। ছবি আঁকি। গোটা পৃথিবী ঘুরে ঘুরে রস আস্বাদন করছি এই প্রকৃতির। আজ ক্যারিবিয়ান সমুদ্রের গভীর সবুজ থেকে কাল চলে যাব হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের গাড় নীলে। পৃথিবী এক ঘেঁয়ে হলে চলে যাব চাঁদ বা মঙ্গলে মানুষের কলোনীতে। ইদানিং নেপচুন বা টাইটানের মিথেন সমুদ্রেও ঘুরে আসতে পারি ইচ্ছা হলেই। এই মহাবিশ্ব অনন্ত। এখানে জানার বা দেখার শেষ নেই। জানা আর দেখার শেষ নেই বলেই মানুষ বেঁচে থাকতে ভালবাসে। সন্তান ত নিজের প্রতিকৃতি ভিন্ন কিছু না। আর আমাদের ক্লোন প্রতি বিশ বছর অন্তর করে একটা বড় হচ্ছে। প্রতিবারই কিছু না কিছু জেনেটিক ত্রুটি সেই ক্লোন থেকে আমরা দূর করি। সুতরাং সন্তানের জন্যে সেই জেনেটিক ডাইভটা এখন আর নেই।

-আসলে তোদের এই কমিনিউস্ট সমাজটা আমাকে ভাবাচ্ছে। ব্যাক্তিগত জেনেটিক ড্রাইভ বেঁচে থাকলে যে কমিনিউস্ট সমাজ কখনোই আসবে না-সেটা আমি জানতাম। আমাদের কমিনিউস্ট নেতাদের দেখে, কমিনিউজমের ইতিহাস পড়েই এটা পরিস্কার ছিল, প্রাকৃতিক নির্বাচন আর কমিনিউজম এক সাথে চলতে পারে না। প্রাকৃতিক থেকে কৃত্রিম নির্বাচনে মানব সমাজের বিবর্তন কমিনিউজমের সব থেকে বড় কাঁটাকে সরিয়ে দিয়েছে। বুঝলাম।

– আমার Y জীন দাতার সাথে কিছু কথা হচ্ছে এখন।
-মানে সে ত তোর বাবা।
-তোমাদের কালে।

তিন্নি ডিজিটাল দাদু আর তার বায়োলজিক্যাল বাবার সাথে একই সাথে কথা বলছে। তিন্নির বাবার সাথে কথা হচ্ছে মাইক্রোচিপ দিয়ে-চিন্তা ভাবনার আলফা বিটা রেডিয়েশন গুলো ডিজিটাইজড হয়ে চলে যাচ্ছে তিন্নির বাবার কাছে। কন্ঠস্বর দিয়ে কথা বলতে হয় না এই ফোনে। মস্তিকের চিন্তা সোজা মাইক্রোচিপ দিয়ে লোক্যাল স্টোরেজ হয়ে চলে যাবে মঙ্গলে। তিনি এখন মঙ্গলে বসে ছুটি কাটাচ্ছেন মিথেন সমুদ্র-সৈকতে। তার ভার্চুয়াল রিয়াল ত্রিমাত্রিক ভিডিও চলে আসছে তিন্নির মস্তিস্কে সোজা। এসব দেখতে স্ক্রীনের দরকার নেই। সেন্সরী ক্রিয়া পক্রিয়াতেই নিজের বাবার একদম মুখোমুখী বসে মিথেন সমুদ্র দেখছে তিন্নি।

কিন্ত দাদুর সাথে কথা বলার জন্যে কন্ঠস্বর দরকার। নইলে দাদু বুঝতে পারবে না। পুরানো অভ্যেস। ভাবনা থেকে কন্ঠস্বর হয়ে চিন্তার প্রসার বেশ কঠিন ব্যাপার। ভাবা আর বলার মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। তবে ইদানিং মাইক্রোচীপ সেটাও ঠিক করে দেয়।

(৪)

-দাদু, এটাই বোধ হয় তোমার সাথে শেষ কথা।

ডিজিটাল দাদু হলেও দাদুই। আদ্যিকালের জেনেটিক মেশিন। মনটা ছ্যাঁত কর উঠল।

-মানে?

-সিস্টেম সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাকে ইচ্ছামৃত্যু নিতে হবে। সিমুলেশন অনুযায়ী পৃথিবীতে এখন এক মিলিয়ান মানুষ অতিরিক্ত। এর জন্যে নাকি পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। অনেকেই প্রস্তাব দিয়েছিল যাদের বয়স তিনশো পেরিয়ে গেছে, তাদের স্বেচ্ছা মৃত্যু নিতে। যাতে নবীন প্রজন্মের ডিন এন রা আরো ভাল পৃথিবী গড়তে পারে। কিন্ত ভোটাভুটিতে ওরা জিতে গেছে। যেহেতু ওদের ভোটাধিকার আছে- আমাদের নেই। আর এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের স্বেচ্ছা মৃত্যু নিতে হবে।

– নাকি রোবট জল্লাদ পাঠাবে?

-না। সতর্কতার মূলক ব্যাবস্থা হিসাব রোবটকে জল্লাদ হিসাবে ব্যাবহার এই সিস্টেম করে না। আমাদের যন্ত্রনামুক্ত মৃত্যু হবে। মাইক্রোচিপকে নির্দেশ পাঠালে ও সঙ্গে সঙ্গে মাথা থেকে টক্সিক হর্মোন বার করে, আমার হৃদপন্ড স্তব্ধ করে দেবে।

-কি সর্বনাশ! এই তোদের উন্নত মানবিক গণতন্ত্র। যেখানে প্রবীনরা মরতে চাইছে না বলে নবীনদের জায়গা দেবে না? মেরে ফেলবে?

-ওরা দাবি করছে, ওদের জ়ৈবিক বয়স ত ২০-৩০ বছরের বেশী না। মানসিক বয়স তিনশো হলে কি এল গেল!

– বেঁচে থাকার জন্যে স্বার্থপরের মতন যুক্তি। তোদের প্রতিবাদি আন্দোলনে নামতে হবে। বাকিদের জানাতে হবে।

– কি করে জানাব? জানাতে গেলে আগেই মাইক্রোচিপ টক্সিক হর্মোণ পাঠিয়ে দেবে। সিস্টেমের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করা এখন সম্ভব না। মাইক্রোচিপ সব জেনে যায়।

-মাইক্রোচিপ ত আমার কথাও শুনছে।

-তা শুনছে। আমার মন যতক্ষন না বিদ্রোহী ও কিছু করবে না। তুমি ত ভার্চুয়াল ইমেজ। কোন কালে মরে ভূত্ হয়ে আছে। তোমার সন্ত্রাসবাদি হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
-আর কজনের ভাগ্যে এই মৃত্যুদূত?

-আমাদের মোরিনো ভ্যালি সেন্টারের সবাই কেই স্বেচ্ছা মৃত্যু নিতে হবে আমাদের গণতান্ত্রিক আইন অনুযায়ি।

-এর বিরুদ্ধে এপিল করা যায় না?

-যায়। কিন্ত আমাদের ত ভোটাধিকার নেই। অপেক্ষাকৃত নবীন যারা আছে তারা ত স্ফুর্তি করছে। তারা ভোট দেয় নি বলেই ত, প্রবীনরা আমাদের মেরে ফেলছে। এটাও হতে পারে, তারা ভাবতেই পারে গনতন্ত্রে এমন নজির তৈরী করলে তাদেরকেও হয়ত ৩০০-৪০০ বছর বয়সে পৃথিবী ছাড়তে হতে পারে। আমাদেরকে বাঁচানোর জন্যে কেও আবেদন করছে না।

-তোর বাবাকে বলা দরকার। ও যদি কিছু মোবিলাইজ করতে পারে। এত দেখছি ভয়ঙ্কর গণতন্ত্র তোদের।

-মঙ্গলে সৌর ঝড় চলছে। সব কম্যুনিকেশন বন্ধ।

– সর্বনাশ।

-কেন। আমি ত একটা জেনেটিক মেশিনের বেশী কিছু না।

-কিন্ত তোর স্বাধীন চেতনা আছে। তাই তুই মানুষ। জেনেটিক মেশিন না। তাই তোকে লড়তে হবে। এই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।

-বাঁচতে ত আমিও চাই দাদু। কিন্ত কিভাবে? সিস্টেমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে মাইক্রোচিপ প্রথমে ঘুম পাড়াবে। তারপর মৃত্যু। কি লাভ? ও ত বিদ্রোহ করার আগেই জেনে ফেলবে।

-তোদের মাইক্রোচিপটা কিসের তৈরী?

-সিলেনিয়াম চিপ।

আমাকে ভিসুভিয়াসে নিয়ে চল। ওখানের ফ্যালগেরী পাহাড়ে চল এক্ষুনি।
-কেন।
-চলত।

-ভার্চুয়াল না রিয়াল? সত্য সত্য যেতে ওখানে আধ ঘন্টা লাগবে।

তাই চল।

রিভার সাইড মেট্রীতে তিন্নি পৌঁছে দেখে এখন নিউইয়ার্কে যাওয়ার কোন ট্রেন নেই। নেপলসের ট্রেন ছাড়ে একমাত্র নিউউয়ার্ক থেকে। ফলে রিভারসাইড থেকে ফিনিক্স হয়ে নিউয়ার্কে যেতে হবে। এগুলো ভ্যাকুয়াম ট্যানেল ক্যাপসুল। ক্যাপসুল গুলো দশ বিশ জন লোক নিয়ে সব সময় ভ্যাকুয়াম টানেলের মধ্যে দিয়ে চলাফেরা করে। এগুলো জেট ট্রেন। রকেটের স্পিডে এক স্টেশন থেকে অন্যত্র যাবে। রিভার সাইড থেকে ফিনিক্স চারশো মাইল পথ যাবে মোটে পাঁচ মিনিটে। তারপর ক্যাপসুল চেঞ্জ করে নিউয়ার্ক দশ মিনিটে। সেখান থেকে ক্যাপসুল যাবে সমুদ্র গর্ভের মধ্যে দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক টানেল গুলো দিয়ে। নেপলসের ক্যাপসুল সঙ্গে সঙ্গেই পেয়ে গেল তিন্নি। টিকিট কাটা বা রিজার্ভেশনের কোন ঝামেলা নেই। সব ফ্রি। ডলার, টিকিট কাটা এসব অনেক দিন আগে উঠে গেছে। সিস্টেম যা দিচ্ছে তাতে সবার সমানাধিকার। ক্যাপসুল গুলোও সাময়িক। নিউয়ার্ক থেকে নেপলসে এই শীতে কেও বেড়াতে যায় না। নিউউয়ার্কে গিয়ে ক্যাপসুল চাইতেই ন্যানোটেকনলজির দৌলতে তিন্নি সঙ্গে সঙ্গে নিজের জন্যে ক্যাপসুলে পেয়ে গেল। দু মিনিট আগে যা ছিল ন্যানো মেটেরিয়াল, ন্যানো বিল্ডের জাদু স্পর্ষে এখন তা হলে যোগাযোগের ক্যাপসুল। তিন্নিকে পৌঁছে দিয়ে আবার তা ফিরে যাব ন্যানোম্যাটেরিয়াল হয়ে । ক্যাপসুলের চিহ্ন থাকবে না। এই ভাবেই পরিবেশ দুষন কমিয়েছে বর্তমান পৃথিবী। বাড়ি ঘর, জামা পোষাক, ট্রেন-সব কিছুই ফ্লেক্সিবল। যখন দরকার শুধু তখনই ন্যামোম্যাটেরিয়াল দিয়ে বানানো হয়। ব্যাবহারের পরে ওটা আবার ন্যানোম্যাটেরিয়াল হয়ে ফিরে আসে।

নেপলসে পৌঁছে ফোটন জেট দিয়ে ভিসুভিয়াস পর্বতে পৌঁছল তিন্নি। এবার আবার ডিজিটাল দাদুকে ডাকল। ঠিক বুঝতে পারছে না দাদু কি করতে চাইছে।

-ঐ দ্যাখ একট উষ্ণ প্রশ্রবন। ওখানে চল।

এক মাইল দূরে একটা হট স্প্রিঙ্গের দিকে উড়ে গেল তিন্নি। প্রচন্ড সালফারের গন্ধ চারিদিকে।

-দাদু এই গন্ধে টিকতে পারব না।
-টিকতেই হবে। মানুষ সব পারে। সহ্য করতে থাক। ওই দেখ সালফার আরো বেড়োচ্ছে এখানে। এখানে মুখ লাগা।
-অসম্ভব।

ডিজিটাল দাদু তিন্নিকে পাঁজকোলা করে তুলে উষ্ণ প্রস্রবনের মধ্যে ফেলে দিল। তিন্নি একটু হাঁসফাঁস করতে করতে উঠে এল।

-দাদু সর্বনাশ। আমার মাইক্রিচিপ বিকল।

না আর দাদু নেই। মাইক্রোচিপের মধ্যেই দাদু ছিল। তাহলে কি? তিন্নি বুঝল ডিজিটাল দাদুর সাহায্য আর পাবে না। কিন্ত দাদুর সাথে এত কথা বলে, মনে মনে দাদুকে প্রশ্ন করলে, হয়ত উত্তর গুলো ও নিজেই জানতে পারবে। কেন দাদু নিয়ে এল এখানে??

-সর্বনাশ কি রে! সেই জন্যেই ত এখানে আসা। সারফারের সাথে সেলেনিয়াম খুব দ্রুত বিক্রিয়া করে। আমি জানতাম হট স্প্রিঙে এলে তোর চিপ বিকল হয়ে যাবে।

-কিন্ত এখন আমি খাব কি? আমার কাছে আর দুদিনের ফুড ট্যাবলেট আছে মাত্র। কোন তাবুও নেই। নতুন কোন পোশাকও বানাতে পারব না। মাইক্রোচীপ ছাড়া দুদিন বাদে এমনিতেই মারা যাব।

-তোকে চিন্তা করতে হবে না। এখানে নেপলসের বনে অনেক ফল মূল। তোর ডি এন এ এখনো মানুষের। ফল খেলে মানুষ মরে না। কিন্ত চিপসটাকে বিদায় না করা পর্যন্ত, তুই সিস্টেমের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবি না।

– কিন্ত জ্ঞানের জগতের সাথে আমার কোন কানেকশন আর নেই। কি করে অন্যের সাথে যোগাযোগ করব?

-তা নিয়ে ভাবতে হবে না। ঐ মাইক্রোচিপটা থাকলে তুই প্রতিবাদ করার চেষ্টাটাও করতে পারবি না। ধাপে ধাপে সব হবে।

-এবার তাহলে কি?

-হু। ভাবতে দে। অন্য কারোর মাইক্রোচিপ চুরি করতে হবে।

-কিন্ত সবার মাইক্রোচিপ মাথার মধ্যে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা আছে।
–তাতে কি। সবাই বাঁচতে চাই। আমাদের কাউকে হোষ্টেজ নিতে হবে।
-মানে ভায়োলেন্স?কি ভয়ংকর। মানব সভ্যতা হিংসা এক বিংশ শতাব্দিতেই জলাঞ্জলি দিয়েছে। সেসব তোমাদের জন্যে দাদু। আমাদের জন্যে না।
-বাঁচতে গেলে যদি হিংসাত্মক হতে হয়-তাহলে হতে হবে। যেসব প্রবীনেরা তোদের মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল, তারা কি কম হিংসাত্মক কিছু?
-তাহলে এখন কাজ কি?
-হাঁটতে হবে। মাইক্রোচিপ নেই। তাই তোর ফোটন বেল্ট কাজ করবে না। নেপলস তিন মাইল দূরে। ওখানে ল্যা ক্যসিনো নামে একটা ছোট বাড়ি আছে। আমার এক চেনা বন্ধু বহুদিন আগে ওখানে থাকত। ইটালী পুরানো বাড়ি ধ্বংস করে না। ওর বাড়িতে অনেক আগ্নেয়াস্ত্র থাকত।

-এসব তোমাদের সময়ের বা তোমাদের আগের সময়ের সন্ত্রাসবাদিরা ব্যাবহার করত। আমদের জন্য এসব না।
-সন্ত্রাসবাদিরা আগে যাদের বিরুদ্ধে এসব ব্যবহার করত, এখন ও তাই করতে হবে। সীমিত সম্পদ নিয়ে মারামারি ত দেখছি এখনো আছে। শুধু ফর্মটা আলাদা। গণতন্ত্র যদি সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারে, বন্দুকের নলেই প্রতিবাদ জানাত আমাদের সময়।

-কিন্ত একটা রিভালবার দিয়ে কি করে এত রোবট পুলিশের বিরুদ্ধে লড়বে? ওদের কাছে রেগান আছে। এক মিনিটেই কাবু করে দেবে।

-জানি। সেই নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। আমি ভিসুবিয়াসে সেই জনেই এসেছি। আপাতত যা বলছি সেটা কর।

দাদু নেই। তবুও দাদুর সাথে এত কথা বলে, প্রশ্ন করলেই উত্তর গুলো মনে চলে আসছে তিন্নির।

নেপলসের পরিতক্ত্য পল্লী লা হেবর। এখানেই এককালে দাদুর বন্ধু এন্টোনিও ফিয়েরোর বাড়ি ছিল। ফিয়েরোর দাদু ছিল মাফিয়া। ডিজিটাল দাদুর কাছে শুনেছে বাড়ির নীচে ভূতলে আরেকটা ঘর আছে। সেই ঘরের মেঝের তলায় রাখা আছে ডিনামাইট, রিভালবার। এসব কেও স্পর্ষ করে নি কয়েকশো বছর। চলবে কি না কে জানে। তিন্নির ভাগ্য খুব খারাপ না। দুটো রিভালবার সিন্দুকেই রাখা ছিল। তার সাথে ডিনামাইট পড়ে আছে আরো তিনটে। রিভলভারটা ১৯৪০ সালের তৈরী। কিন্ত আজও সচল। কার্তুজও তাজা। একবার চালিয়ে ফায়ার করে দেখে নিল তিন্নি।
এখন জড়তা ভাবটা কেটে গেছে। বরং মরতে ত হবেই-তাই একটু দেখিই না খেলে। এই জাতীয় মনোভাব প্রশয় পাচ্ছে। মানবিকতা নিয়ে যাবতীয় প্রশ্ন আর উঠছে না। মাইক্রোচিপ আর নেই। তাই নির্দেশ পাচ্ছে নিজের জেনেটিক সত্ত্বার কাছ থেকে। বেঁচে থাকার ইচ্ছাটা আরো বেশী প্রবল এখন। পকেটে ডিনামাউট, রিভালবর, পুরানো দিনের রেডীও ওয়াকি টকি নিয়ে সোজা বেড়িয়ে এল তিন্নি।

-দাদু এই বার? কার ওপর রিভালবর চালাতে হবে?
-এখন চালালে কিছুই হবে না। রোবট পুলিশ তোকে এক মিনিটে নিউট্রালাইজ করে দেবে। আবার হেঁটে বিসুভিয়াসে উঠতে হবে। উষ্ণ প্রশ্রবনের ধারে ডিনামাউট বসাতে হবে। প্রস্রবণ গুলো আগ্নেয়গিরির দুর্বল জয়েন্ট। ওখানে ওয়াকি টকি দিয়ে ডিনামাইটের ইলেকট্রিকাল লাইনটা সুইচিং করতে হবে। দুটো ফাটালেই নীচের ফুটন্ত আগ্নেয় গিরির ম্যাগমা বেড়িয়ে আসবে। যা ফাটলকে দুর্বল করে, আরো চৌচির করে দেবে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিসুবিয়াস আবার গর্জে উঠবে। বিসুভিয়াসের তলপেটে এখন চব্বিশ স্কোয়ার মাইলের জ্বলন্ত ম্যাগমা। বিষ্ফোরন শুরু হলে, নেপলসত ধ্বংশ হবে বটেই – সমগ্র দক্ষিন ইউরোপের জলবায়ু বদলে যাবে।

– না দাদু। নিজেকে বাঁচাতে এত লোক মারব কেন?
– মারার দরকার নেই। ভয় দেখাতে হবে। বিসুভিয়াস দশটা হাইড্রোজেন বোমার সমান। ক্রেডিবল ডিটারান্ট। কম্পুটার ওদের সিম্যুলেট করে জানিয়ে দেবে।

ডিনামাইট ফিট করে তিন্নি যখন নেপলসে ফিরে এল, দুপুর গড়িয়ে বিকেল। এবার আসল খেলা শুরু । তিন্নি নিজের মনে বেশ উত্তেজনা টের পাচ্ছে। সরেন্টো বীচে কিছু নারী পুরুষ রোদ পোহাচ্ছিল। বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন কাওকে ধরতে হবে। চারিদিক দেখে নিয়ে এক বৃদ্ধার পিঠে রিভালভার ধরল তিন্নি।
বৃদ্ধা শুধু বয়সেই তিনশো পঁয়তাল্লিশ। দেহে এবং দেখতে অষ্টাদশী। রিভালভারে প্রয়োগ এই বৃদ্ধা নিজের বাল্যকালেই দেখেছেন বিংশ শতাব্দির শেষ ভাগে। তখন ও রিভালভার পরিতক্ত্য অস্ত্র না। বিগত দুশো বছরে পৃথিবী থেকে হিংসা দূর হয়েছে। এসব অস্ত্র আর কেও ব্যাবহার করে না। তাই হঠাৎ রিভালবারের স্পর্শে চমকে গেল বৃদ্ধার মাইক্রোচিপ।

-কি চাও তুমি।

যে রিভালভার ধরেছে, তার মাইক্রোচিপ নেই। টের পেল বৃদ্ধা। তবে আগেকার দিনের লোক বলে-মহিলা কথা বলাতে সাবলীল।

-বাঁচতে।
-আমি কি করতে পারি?
-তোমার মাইক্রোচিপ থেকে সুপার কম্পিউটারে নির্দেশ পাঠাতে হবে। প্রথমত, এখানে যেন কোন রোবট পুলিশ না পাঠায় আমাকে ঠেকাতে। কাউকে মারার ইচ্ছা আমার নেই। আমার হাতে ধরা এই ওয়াকি টকি দিয়ে আমি ডিনামাইট ফাটিয়ে ভিসুবিয়াসের বিষ্ফোরন ঘটাতে পারি। যা ২০ টা হাইড্রোজেন বোমার সমান। আমার ওয়াকি টকি জ্যাম করার চেষ্টা করলে ডিনামাইট এমনিতেই ফেটে যাবে। তাই ঐ চেষ্টা যেন না করে।

কয়েক সেকেন্ডের নিরবতা। পৃথিবীর সমস্ত সিস্টেমে জেগে উঠল তৃতীয় এলার্ম। এলিয়েন বা ভিনদেশীর আক্রমন হলে এই এলার্ম দেওয়ার নিয়ম। নিজেদের মধ্যে কেও সন্ত্রাসবাদি হতে পারে, তার সম্ভাবনা দুশো বছর আগেই বিলুপ্ত। তাই মেটিওরয়েড বা আগ্নেয়গিরি বিষ্ফোরন বা ভূমিকম্পের আগে এই এলার্ম দেওয়া হয়। সমস্ত রোবট এবং মানুষের মাইক্রোচিপে গেল সেই এলার্ম। বৃদ্ধার চোখ এখন গোটা পৃথিবীর ভিডিও ক্যামেরা। সেই বৃদ্ধার চোখ দিয়েই, সবাই তিন্নিকে অদ্ভুত চোখে দেখে চলেছে। সন্ত্রাসবাদের কথা ওরা ইতিহাস থেকে জেনেছে।কিন্ত বিগত দুশো বছরে কেও কোন সন্ত্রাসবাদি কার্য্যকলাপ দেখে নি। এসব যে হতে পারে তা সিস্টেম থেকে সবার কল্পনার বাইরে। তাই কৌতুহলের সীমা নেই।

এবার সুপার কম্পিউটার থেকে তিন্নির দিকে নির্দেশ এল

– ওয়াকি টকি ফেলে দাও তিন্নি। আমরা তোমার কথা শুনব।
-না। আগে আমার কথা শুনতে হবে। আমি কারুর ক্ষতি চাই না। আগেও বলেছি।
-আমার কিছু করার নেই তিন্নি। আমি কম্পিউটার মাত্র। তোমাদের সমাজই তোমাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পালটা এপিল না আসা পর্যন্ত, এবং তা অনুমোদন না হওয়া অব্দি আমার কিছু করার নেই।
-বেশ তাহলে আমি ভিসুভিয়াসের অগ্নুৎপাত চালু করি।
-দাঁড়াও। এখন অসংখ্য এপিল আসছে তোমাদের মৃত্যদন্ডের বিপক্ষে। আমি নতুন ভোট চালু করছি। নবীন বনাম প্রবীনদের স্বেচ্ছা মৃত্যু।
দুমিনিটের নীরবতা। ভোট শেষ। প্রায় ৯৯% মানুশ ভোট দিয়েছে। এবার দেখা যাচ্ছে ৯০% মানুষ চাইছে, প্রবীনদের স্বেচ্ছামৃত্যু।

এবার প্রবীনরা এপিল পাঠিয়েছে। এই ভাবে গান পয়েন্টে ভোট করা সংবিধান বিরোধি। তাই এই ভোটের ফলাফল গ্রাহ্য না।

সুপার কম্পিউটার তিন্নিকে জানালো-তাকে ওয়াকি টকি ফেলে দিতে হবে। সাবোটেজ করে ভোট করা নিয়ম বিরুদ্ধে।

দাদু নেই। মনকে আবার প্রশ্ন করল তিন্নি। দাদু-এবার কি?

দাদু আর আসছে না। বেঁচে থাকার ইচ্ছাটা প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে তিন্নির মাথায়। তিন্নি সুপার কম্পিঊটারকে জানালো, সে ডিনামাইট ছাড়বে না। যতক্ষন না পর্যন্ত তার মৃত্যুদন্ড রহিত না হয়।

এবার প্রবীনরা আরো এক আপিল পাঠালো। কাউকেই মরতে হবে না-সবাই বেঁচে থাকুক। পরিবেশের একটু ক্ষতি আমরা স্বীকার করি।

পরিবেশপ্রেমীরা পাঠালো পালটা আবেদন। এই ভাবে স্বার্থপর চিন্তা করার জন্যেই একবিংশ শতাব্দিতে সভ্যতা ধ্বংশ হতে বসেছিল পরিবেশ বিপর্যয়ে। এবং এই ধরনের গণতন্ত্র যা পরিবেশকে ধ্বংশ করে মানুষকে বাঁচায়, তা দুশো বছর আগেই ভ্রান্ত বলে প্রমানিত।

পরিবেশ প্রেমীদের আপিল ৭০% ভোট পেয়ে জিতে এল। অর্থাৎ হয় প্রবীন নইলে তিন্নিদের স্বেচ্ছামৃত্যু নিতে হবে।

দাদু এখন পাশে নেই। মাইক্রোচিপ ও নেই। তিন্নি জানালো সে ডিনামাইট ছাড়তে রাজী আছে দুটো শর্তে। প্রথমত তার অপরাধের বিরুদ্ধে লিগ্যাল ইমিউনিটি দিতে হবে। কারন, সে আবেদন করার সুযোগ পায় নি বলে এই পথ নিতে বাধ্য হয়েছে।

আর সে সবার উদ্দেশ্যে একটা আবেদন রাখতে চাইছে, সুপার কম্পিউটার মারফত।

সুপার কম্পিউটার নারাজ। কারন তিন্নির আবেদন করার অনুমতি নেই। তবে অন্যরা তিন্নির হয়ে আবেদন জানাতেই পারে।

অসংখ্য আবেদন এল তিন্নির জন্যে। ওর দুই দাবী মঞ্জুর। একদম ১০০% ভোটে এবার।

-প্রিয় মানব বন্ধুরা।
আমি এখন মাইক্রোচীপহীন। যা বলব, তা হয়ত জ্ঞানপূর্ন বা যুক্তিপূর্ন হবে না। কারন পৃথিবীর জ্ঞান ভান্ডারের সাথে আমি এখন যুক্ত না।
আমি এই ভাষন দিচ্ছি সম্পূর্ন জৈবিক তাড়নায়। নিজের চেতনার গভীরতা থেকে উঠে আসা যেসব বিশু্দ্ধ শব্দাবলী আমাকে সর্বদা ভাবিয়েছে, আমি
সেই প্রশ্নগুলো করতে চাইছি মাত্র।
আমার বয়স মোটে ১৫। জানি বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আমি
জেনেটিক মেশিন ছাড়া কিছুই না। তাই আমার জেনেটিক কোডের মৃত্যুতে পৃথিবীর কিছুই বদলাবে না। কারন আমার মিউটেশনগুলো সবই আর্কাইভে আছে। আমি জানি আমার বাঁচা বা না বাঁচাতে অন্য কোন মানব মানবীর কিছুই যায় আসে না। কারন এখন আমরা কৃত্রিম নির্বাচনের পথে নতুন মানুষ সৃষ্টি করি-তাই পরিবেশকে বাঁচানো যুক্তির দিক দিয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী চিন্তা। পরিবেশের জন্যে শহীদ হতে আমার আপত্তি নেই।

কিন্ত আমি প্রশ্ন করতে চাই কোন যুক্তিতে প্রবীনদের স্বেচ্ছামৃত্যু না দিয়ে আমাদের মতন নবীনদের স্বেচ্ছামৃত্যু দেওয়া হল? যেহেতু আমদের ভোটাধিকার নেই, সেহেতু ভোট নিলে আমাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত যাবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্ত যেখানে প্রাণিকূলে আমরা দেখি প্রবীনরা নবীনদের জন্যে প্রান ত্যাগ করে-আমাদের পূর্বপুরুষরাও ইতিহাসে যা বার বার করেছেন, তাহলে আজ কোন যুক্তিতে প্রবীনরা নবীনদের মেরে ফেলতে চাইছেন? আমার যুক্তিকে কেও যদি ন্যাচারিলিস্টিক ফ্যালাসি বলে দাবী করেন, তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে মানব চেতনা বলে যে বস্তুটির চর্চা আমরা এতকাল ধরে করে আসছি তা কি মৃত? প্রাকৃতিক নির্বাচন থেকে কৃত্রিম নির্বাচন যখন সভ্যতা মেনে নিয়েছে-তখন কি এটাও মেনে নিয়েছে, মানুষ শুধুই জেনেটি সত্ত্বা? তার চেতনার কোন পৃথক অস্তিত্ব নেই? আমাদের গণতন্ত্রের সেই চেতনা যদি নিজেদের স্বার্থবুদ্ধিতেই চালিত হয়, তাহলে প্রযুক্তির এত অগ্রগতিতে আমরা কি পেলাম? মানব চেতনার প্রতিবিবর্তন আর মানব জীনের উন্নত বিবর্তন? এটাই কি গণতন্ত্রের পথ?

দুমিনিট নীরবতা। আবার ভোট গ্রহন শুরু হল। এবার প্রবীনদের স্বেচ্ছামৃত্যুর পক্ষে ভোট ১০০%।
প্রবীনরাও মেনে নিয়েছেন জেনেটিক সত্ত্বার ওপরে মানব চেতনার অস্তিত্ত্ব।

About the Author:

আমেরিকা প্রবাসী আলোক প্রযুক্তিবিদ ও লেখক।

মন্তব্যসমূহ

  1. মোঃ রোকনুজ্জামান (আল-আমিন) মার্চ 9, 2017 at 10:07 অপরাহ্ন - Reply

    :yahoo: আমার মতে বিজ্ঞানের এই সব গল্প গুলো কে যদি প্রচ্ছদ আকারে দেওয়া হতো তাহলে খুবোই ভালো হতো
    পাঠোকরা বেসি বেসি আকৃর্ষ্ট হতো।

  2. বিপ্লব পাল ডিসেম্বর 24, 2009 at 10:32 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমি শুধু ‘জানা’, ‘বোঝা’, ‘জ্ঞ্যান’, ও ‘উপলব্ধি’ থেকে “চেতনা” কিভাবে পৃথক তা ধরতে পারছি না। এব্যাপারে বিশেষ পড়াশোনা নেই বলেই হয়তো বুঝতে পারছি না। সহজ করে জানালে খুশি হব।

    খুব ভাল প্রশ্ন করেছেন। গল্পটা এমনিতেই এত দর্শন ভারাক্রান্ত ছিল, ইচ্ছা থাকলেও এই মূল ব্যাপারটা একদমই গল্পে টাচ করি নি। আপনি প্রশ্ন তোলায় সেই সুযোগটা পেলাম।

    মানব চেতনা বা কনসাসনেস– দর্শন এবং বিজ্ঞানের হোলি গ্রিল। এমন নয় যে দর্শন বা বিজ্ঞান বসে আছে-গবেষণা সতেজ গতিতে চলছে-কিন্ত তার পরেও তা সমুদ্রের ধারে নুড়ি সংগ্রহ মাত্র।

    প্রশ্ন এটাই একজন মানুষ=দেহ +মন ? অনেকে আবার মনের পৃথক অস্তিত্বও মানেন না। কিন্ত এর ওপরে কি কিছুর অস্তিত্ব নেই, যা সর্বক্ষন আমাকে স্বরণ করাচ্ছে ‘আমি আছি’?

    এবার আপনার প্রশ্নে ফিরে আসি। মানব চেতনা- জ্ঞান বা বোঝার চেয়ে আলাদা কেন?

    এর কারন চেতনা হচ্ছে সব মানুষের সব থেকে উচ্চতর অস্তিত্ব যেখান থেকে সে তার জ্ঞান, বোধ, বেদনাকে উপলদ্ধি করে। এবং তা আজও অসজ্ঞাত।

    “Anything that we are aware of at a given moment forms part of our consciousness, making conscious experience at once the most familiar and most mysterious aspect of our lives.”
    —Schneider and Velmans, 2007

    • আশরাফ আহমেদ ডিসেম্বর 25, 2009 at 7:52 পূর্বাহ্ন - Reply

      @বিপ্লব পাল,

      না ভাই, এই ‘চেতনার’ ব্যাপারটা কিছুতেই আমার কাছে ধরা দিচ্ছে না। হয়তো তিন্নিদের উল্টো, দেহের বদলে আমার মস্তিষ্কটাই রেপ্লেইস করতে হবে (হাঃ হাঃ হাঃ…)। আচ্ছা এই গল্পে ডিজিটাল দাদুর কোন কথায় তার চেতনার প্রকাশ পেয়েছে কি?

      আমার ধারণায় মন দেহেরই সৃষ্টি; দেহ যে পরিবেশের, ধরণের, পরিমাণের ও অনুপাতের অনু-পরমানু দিয়ে গঠিত তাহাই মনের গঠন ঠিক করে। দেহ না থাকলে মনেরও অস্তিত্ব থাকে না। আবার পরিবেশের ওপরে নির্ভর করেই মনের পরিবর্তন হতে পারে।

      “কিন্ত এর ওপরে কি কিছুর অস্তিত্ব নেই, যা সর্বক্ষন আমাকে স্বরণ করাচ্ছে ‘আমি আছি’?” আর “এর কারন চেতনা হচ্ছে সব মানুষের সব থেকে উচ্চতর অস্তিত্ব যেখান থেকে সে তার জ্ঞান, বোধ, বেদনাকে উপলদ্ধি করে। এবং তা আজও অসজ্ঞাত।” এই বক্তব্যে আপনি কি কোন ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার কথা বলতে চাইছেন?

      • বিপ্লব পাল ডিসেম্বর 25, 2009 at 7:59 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আশরাফ আহমেদ,
        “কিন্ত এর ওপরে কি কিছুর অস্তিত্ব নেই, যা সর্বক্ষন আমাকে স্বরণ করাচ্ছে ‘আমি আছি’?” আর “এর কারন চেতনা হচ্ছে সব মানুষের সব থেকে উচ্চতর অস্তিত্ব যেখান থেকে সে তার জ্ঞান, বোধ, বেদনাকে উপলদ্ধি করে। এবং তা আজও অসজ্ঞাত।” এই বক্তব্যে আপনি কি কোন ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার কথা বলতে চাইছেন?

        :
        উঁহু, এই ব্যাপারে বিজ্ঞান এবং দর্শন একমত। এই বৃতত্তর ‘আমি’ ও বস্তুবাদি। তাতে কোন ঈশ্বর নাই। কিন্ত সেটা ঠিক কি, সেটার জন্যে মানব মনের ওপর গবেষনা সম্পূর্ন হওয়া প্রয়োজন।

  3. আশরাফ আহমেদ ডিসেম্বর 24, 2009 at 5:18 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনার কিছু কিছু লেখা আগে পড়েছি, সেগুলোর মতোই এটিও ভাল লাগলো যদিও পুরোটি আত্মস্থ করতে আবারো পড়তে হবে। মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিছু লেখার মতো আপনিও সুপার কম্প্যুটার ও কম্প্যুটার চিপসই মানুষের ক্রমবিবর্তনের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হবে দেখিয়েছেন। তবে জাফর ইকবাল তার একটি বইয়ে এটি মেনে নেননি, আপনি মনে হয় মেনে নিলেও একটি “চেতনার যগত” নামে আদি “মানুষের” গুণকে ছাড়তে পারেননি। আমার তাতে আপত্তিও নেই। আমি শুধু ‘জানা’, ‘বোঝা’, ‘জ্ঞ্যান’, ও ‘উপলব্ধি’ থেকে “চেতনা” কিভাবে পৃথক তা ধরতে পারছি না। এব্যাপারে বিশেষ পড়াশোনা নেই বলেই হয়তো বুঝতে পারছি না। সহজ করে জানালে খুশি হব।

    ডিজিটাল দাদুর মুখে শোনা “অনেক অনেক বিশ্বাসের ভাইরাস নিয়ে জন্মাতাম আমরা। ঈশ্বরে বিশ্বাস, রক্ষনশীলতা, ধর্ম, রাজনৈতিক বিশ্বাস-যাবতীয় বিশ্বাসের ভাইরাসে জন্ম থেকেই আক্রান্ত ছিলাম আমরা।” এবং “সময়ের থেকে বেশী এগিয়ে গেলে শহীদ হতে হয়। দরজা ভেঙে নয়, কড়া নেরে ঢোকাই উচিত। কারন তাতে অতিথির সন্মান পাবে। নচেৎ গৃহী মনে করবে চোর ডাকাত। উদ্দেশ্য যতই সৎ হোক না কেন, ঘরে যে জোর করে ঢুকেছে, তাকে কেও পছন্দ করে না।” আপনার বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি সহমত পোষণ করি। ধন্যবাদ।

  4. ক্যাথেরীনা ডিসেম্বর 23, 2009 at 7:21 পূর্বাহ্ন - Reply

    ভালো লাগলো পড়তে। ছেলেবেলায় পড়া Aldous Huxley র The Brave New World এর কথা মনে পড়লো।

  5. আদিল মাহমুদ ডিসেম্বর 23, 2009 at 12:47 পূর্বাহ্ন - Reply

    বিপ্লব,

    “সব সায়েন্স ফিকশন ডাইনোসর নইলে মহাকাশ যাত্রায় শেষ হয়।”

    – ভাল বলেছেন। এটাও আরেকটা কারন আমার ভাল না লাগার। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সবগুলি মোটামুটি একই গন্ডিতে।

    যাই বলেন, আমার কাছে সেরা হল জ়ুলভার্ন। অবশ্য ওনার রচণাগুলিকে এখন আর ফিকশন মনে হয় বলা যাবে না, কারন বেশীরভাগই এখন বাস্তব হয়ে গেছে সেবার অনুবাদগুলি পড়লে বুঝতেন কি জিনিস।

    এই সাইটে কিছু বই ফ্রী পেতে পারেন। যদিও সেবারগুলি এখন নেই দেখছি।

    • বিপ্লব পাল ডিসেম্বর 23, 2009 at 1:14 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,
      আসলে টান টান উত্তেজনা আর গতি না আসলে গল্প ভাল লাগে না। এই জন্যেই জুলেভার্ন অসাধারন। গল্পের টান ছিল দারুন। স্পিলবার্গের মাইনরিটি রিপোর্টেও এটা পাবেন।

      • আদিল মাহমুদ ডিসেম্বর 23, 2009 at 2:38 পূর্বাহ্ন - Reply

        @বিপ্লব পাল,

        ঠিক।

        তবে মনে হয় সাথে সাথে হিউমারের একটা ব্যাপার আছে যেটা আমি জুলভার্ন ছাড়া খুব কমই পাই।

        আমার মতে বেশীরভাগ সায়েন্স ফিকশনের এই দুর্বলতাটা থাকে। বড় বেশী টেকনিক্যাল করে ফেলে। কাঠখোট্টা টাইপের হয়ে যায়।

  6. আদিল মাহমুদ ডিসেম্বর 22, 2009 at 11:57 অপরাহ্ন - Reply

    স্পীলবার্গ আমিও পছন্দ করি। এ দুটি দেখা হয়নি। মাইনরিটি রিপোর্ট যে সায়েন্স ফিকশন তাও জানতাম না।

    আজকাল দেখি ষ্টিফেন হকিংন্স সাহেবও এই লাইনে নেমেছেন। ওনার ভুতে ছবির ভক্ত ছিলাম, তবে আজকাল যা লিখছেন তাতে পূর্বভক্তিও উঠে যাচ্ছে।

    কিছুদিন আগে সায়েন্স ফিকশন জাতীয় ভয়ের ছবি হিসেবে তার The Mist এনেছিলাম। বমি করার বাকি ছিল।

    • বকলম ডিসেম্বর 23, 2009 at 12:07 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আদিল ভাই,
      আপনি বোধহয় স্টিফেন কিং এর কথা বলছিলেন। হকিন্স নয়। টাং অফ স্লিপ থুক্কু স্লিপ অফ ফিংগার হয়ে গেছে বোধহয় 🙂

      • আদিল মাহমুদ ডিসেম্বর 23, 2009 at 7:38 পূর্বাহ্ন - Reply

        @বকলম,

        তাই তো! কিং কেমন যেন হকিংন্স হয়ে গেছে। অবশ্য অসুবিধে কি, ভদ্রলোকের যেই অধ:পতন দেখছি তাতে নামে কিই বা আসে যায়, কানা ছেলের নাম…

        সবই ফরিদ ভাই এর দোষ। মাথার ভেতর খালি নায়করাজ রাজ্জাক, অলিভিয়া শাবানারা ঘুরে বেড়াচ্ছে।

  7. আদিল মাহমুদ ডিসেম্বর 22, 2009 at 10:10 অপরাহ্ন - Reply

    বিপ্লব,

    আমাদের দেশের অবস্থাও তেমনি। আমাদের ছোটবেলায় আমরা যত পড়তাম এখন মনে হয় না অতটা পড়ে। ইলেকট্রনিক গেমগুলি বহুলাংশে দায়ী।

    আমার সায়েন্স ফিকশন আসলে খুব একটা ভাল লাগে না, সারাদইন বিজ্ঞানের জগতে থাকি, আবার গল্পের বই এর মধ্যেও বিজ্ঞান নিয়ে টানা হেচড়া। দ্বিতীয়তঃ বাংলায় বেশীরভাগ সায়েন্স ফিকশন কেমন যেন নীরস কাঠ খোট্টা টাইপের হয়। বলতে নেই, আপনাদের পশ্চীম বাংলার বই সাধারনভাবে খুব ভাল হলেও সায়েন্স ফিকশন, অনুবাদ এগুলি আমাদের থেকেও দূর্বল।

    মনে হয় আমাদের সেবা প্রকাশনীর সাথে আপনার পরিচয় নেই। দুর্দান্ত সব বই এনারা সেই ৬৫ সাল থেকে পেপার ব্যাকে বের করে আসছে। বাংলায় প্রথম পেপার ব্যাক এনারাই ছাপেন। একমাত্র এনাদের সায়েন্স ফিকশনগুলি আমার ভাল লাগত। সেলিম হোসেন টিপু নামের এক লোকের লেখা পড়লে হাসতে হাসতে মরে যাবেন।

    তবে এটা ঠিক; কল্পনা শক্তি না বাড়ালে ইনোভেশন আসবে না, তাই সায়েন্স ফিকশন শুধুই কল্পকাহিনী বা গাজাখুরি গল্প নয়।

    • বিপ্লব পাল ডিসেম্বর 22, 2009 at 11:11 অপরাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,

      আমার সায়েন্স ফিকশন আসলে খুব একটা ভাল লাগে না, সারাদইন বিজ্ঞানের জগতে থাকি, আবার গল্পের বই এর মধ্যেও বিজ্ঞান নিয়ে টানা হেচড়া।

      আমি নিজেও ওই কারনেই বিজ্ঞান নিয়ে লিখি না। কিন্ত কল্পবিজ্ঞান = বিজ্ঞান+সাহিত্য

      কল্প বিজ্ঞান সিনেমা বা এনিমেশন দেখতে আমার দারুন লাগে। পড়ে বোধ হয় অতটা মজা পাওয়া যায় না।

      • আদিল মাহমুদ ডিসেম্বর 22, 2009 at 11:23 অপরাহ্ন - Reply

        @বিপ্লব পাল,

        আমার আবার উলটা; পড়তেই ভাল লাগে বেশী মনের মত হলে। বিশেষ করে টার্মিনেটর বা ম্যাট্রিক্স জাতীয় জিনিস যেখানে মানুষ মুহুর্তের মধ্যে পারদের দলায় পরিণত হচ্ছে দেখতে মোটেও ভাল লাগে না 🙂

        • বিপ্লব পাল ডিসেম্বর 22, 2009 at 11:35 অপরাহ্ন - Reply

          @আদিল মাহমুদ,
          আমিও ম্যাট্রিক্স পছন্দ করি নি-স্পিলবার্গ দেখুন। এ আই বা Minority report-দেখার পরে মুগ্ধতা কাটে নি কতদিন।

    • বকলম ডিসেম্বর 23, 2009 at 12:03 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,

      ইদানীং জাফর ইকবালের দুই একটা ভালো কাজ আছে। বিশেষ করে বিজ্ঞানকে কৌশলে গল্পে ঢুকিয়ে দিতে তার জুড়ি নেই। অনেক আগে একটা বই পড়েছিলাম “টি রেক্সের সন্ধানে”- দারুণ বই। একই সাথে এডভেঞ্চার এবং বিজ্ঞান।
      আমাদের বই পড়ার চর্চাই হয়েছে সেবার অনুবাদ দিয়ে। আমরা আবার সেগুলো ভাড়ায় আনতাম। দুই টাকা ভাড়া দুই দিনের জন্য। পাঠ্য বইয়ের নিচে লুকিয়ে বা বাথরুমে বসে এসব আউট বই পড়তে হত।

      • আদিল মাহমুদ ডিসেম্বর 23, 2009 at 12:09 পূর্বাহ্ন - Reply

        @বকলম,

        টি রেক্সের সন্ধানে আসলেই একটি অসাধারন বই। এখনো মাঝে মাঝেই পড়ি। এটার সিনেমাটাও আছে, খারাপ বানায়নি।

        তবে এটা ভাল লেগেছে সায়েন্স থেকে এডভ্যাঞ্চার বেশী করে ফোটানোতে। ওনার কিছু সায়েন্স ফিকশন আছে এই জাতীয়, আবার কিছু আছে একেবারেই ১০০% বিজ্ঞানের জগতের অইগুলি সযত্নে এড়িয়ে যাই। আর বিজ্ঞানী সফদর আলী বা সায়েরা সায়েন্টিষ্ট পড়ে প্রায়ই হাসি।

        তবে আমাদের দেশের ওনার কপোট্রনিক সুখ দূখের আগে কি কোন সায়েন্স ফিকশন লেখা হয়েছিল? মহাকাশে মহাত্রাশ মনে হয় একই সময়ের।

        • বিপ্লব পাল ডিসেম্বর 23, 2009 at 12:33 পূর্বাহ্ন - Reply

          @আদিল মাহমুদ,
          এইটা আরেকটা বিরাট সমস্যা। সব সায়েন্স ফিকশন ডাইনোসর নইলে মহাকাশ যাত্রায় শেষ হয়।

  8. ব্রাইট স্মাইল ডিসেম্বর 22, 2009 at 7:34 অপরাহ্ন - Reply

    @বিপ্লব পাল

    আসলে মানুষ যা কল্পনা করে একদিন সত্যি সত্যি তা বাস্তবে রুপ নেয়। মানুষের অসাধ্য মনে হয় কিছুই নাই।

  9. ব্রাইট স্মাইল ডিসেম্বর 22, 2009 at 7:23 অপরাহ্ন - Reply

    @বিপ্লব পাল

    দারুন কল্পকাহিনী। পড়ে খুবই আনন্দ পেলাম। আশা করি ভবিষ্যতে এ ধরনের কল্পকাহিনী আরও পড়তে পাব।

    • বিপ্লব পাল ডিসেম্বর 22, 2009 at 9:03 অপরাহ্ন - Reply

      @ব্রাইট স্মাইল,
      ধন্যবাদ। আজকে মল্লিকা সারভাই এর একটা টেড টক দেখলাম। আমরা যা বলতে চাইছি, সেটাকে আর্ট বা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে প্রবন্ধ ছেড়ে। শিল্পের পেনিট্রেশন অনেক বেশী।
      http://www.ted.com/talks/mallika_sarabhai.html

  10. আদিল মাহমুদ ডিসেম্বর 22, 2009 at 9:22 পূর্বাহ্ন - Reply

    ঠকবাজী হল দাদা।

    ভাবলাম বিশুদ্ধ গল্প দিবেন, তা না, সেই কানে ধরে টেনে আনলেন রাজনীতি ধর্ম হেন তেন!

    আর ডিজিটাল বিশ্ব, সন্তানের জন্ম এসবের বর্ননা শুনে তো গায়ে কাটা দিচ্ছে মশাই। আল্লাহর রহমতে সেই বিশ্ব দেখতে হবে না আশা করি।

    মনে হচ্ছে গভীর কোন দর্শন যেন শিক্ষা দিতে চাইলেন। ডিজিটাল যুগের ঈশপের গল্প মনে হয় এমনি হবে।

    আমাদের ডিজিটাল প্রধানমন্ত্রীর মনে হয় এ গল্প খুবই ভাল লাগবে 🙂

    • বিপ্লব পাল ডিসেম্বর 22, 2009 at 10:28 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,

      ভাবলাম বিশুদ্ধ গল্প দিবেন, তা না, সেই কানে ধরে টেনে আনলেন রাজনীতি ধর্ম হেন তেন!

      আসলে বাংলায় কল্প বিজ্ঞান লেখা হয়। কিন্ত ভবিষ্যতের রাজনীতি আর সমাজ নিয়ে বিশ্লেষন সেখানে খুব বেশী দেখি না। আমার উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতের দৃষ্টিতে বর্তমানের ধর্ম আর রাজনীতিকে দেখা।

      আর ডিজিটাল বিশ্ব, সন্তানের জন্ম এসবের বর্ননা শুনে তো গায়ে কাটা দিচ্ছে মশাই। আল্লাহর রহমতে সেই বিশ্ব দেখতে হবে না আশা করি।

      অন্ধ হলেই কি প্রলয় বন্ধ হবে? যেপথে সমাজের সারভাইবিলিটি বাড়বে, সেই পথেই ইতিহাসের গতি। আমরা বর্তমানে ত পরিবেশকে ধ্বংশ করে পৃথিবীর বুকে দখলদারি চালাচ্ছি।

      • আদিল মাহমুদ ডিসেম্বর 22, 2009 at 9:45 অপরাহ্ন - Reply

        @বিপ্লব পাল,

        এটা ঠিকই বলেছেন।

        সব সায়েন্স ফিকশনেই রোবটের সাথে প্রেম, রক্ত মাংসের মানব মস্তিষ্কের যায়গায় ইলেক্ট্রনিক মস্তিষ্ক; হাইপার টাইম ডাইবগ এ জাতীয় ব্যাপারগুলিই ঘুরিরে ফিরিয়ে ফুলিয়ে ফাপিয়ে দেখানো হয়।

        এগুলির সাথে সাথে মানুষের মননের বিবর্তনও যে অতি অবশ্যম্ভাবী ভাবেই ঘটবে সেদিক তেমন কেউ ফোকাস করে না।

        • বিপ্লব পাল ডিসেম্বর 22, 2009 at 9:56 অপরাহ্ন - Reply

          @আদিল মাহমুদ,
          আমাদের এদিকে বাচ্চারা আজকাল কেও বাংলা সাহিত্য পড়েই না। ফলে সায়েন্স ফিকশন পশ্চিম বঙ্গের দিকে একদমই লেখা হয় না। বাংলাদেশে তাও লিখছে এটাই বড় ব্যাপার। মনের প্রসারতা বাড়াবার জন্যে খুবই দরকার কল্প বিজ্ঞানের গল্পের।

  11. অভিজিৎ ডিসেম্বর 21, 2009 at 7:41 অপরাহ্ন - Reply

    অনেকদিন পরে বিপ্লবের কল্পবিজ্ঞানের স্বাদ পাওয়া গেল। এর আগে বিবর্তন নিয়ে একটা কল্পকাহিনী পড়েছিলাম – অন্য পৃথিবী। ওটাও ভাল ছিলো।

    এবারের লেখাটা কি জেমস ক্যামেরনের AVATAR (অবতার) মুভিটা দিয়ে অনুপ্রাণিত নাকি? লেখায় বহুবার অবতারের কথা এসেছে দেখলাম। কাল মুভিটা দেখেছি। খুব বেশি অসাধারণ মনে হয়নি, যদিও অর্থব্যয় এবং কারিগরী কলাকৌশল উল্লেখ করার মতোই। দেখেছ নাকি?

    • বিপ্লব পাল ডিসেম্বর 21, 2009 at 7:43 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ,
      না। অবতারের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। এটি নেহাতই রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে একটি কল্প বিজ্ঞান।

  12. রুদ্র ফীরাখ ডিসেম্বর 21, 2009 at 4:49 অপরাহ্ন - Reply

    :guru: ভীষন ভালো লাগলো।

মন্তব্য করুন