এক ভগবানের লিঙ্গান্তর ও সচিত্র কিছু ঈশ্বর সমাচার

সমাচার ১ – ভগবানের লিঙ্গান্তর
বাংলাদেশে এই ভগবানটির নাম -তিন নাথ�। ইনি খুব বিখ্যাত ভগবান নন। ছোটবেলায় বাবা-কাকা ও পড়শীদের আড্ডার আসরে এঁকে নিয়ে গাওয়া গান শুনেছি।

দিন গেলে তিন নাথের নাম লইও।

আ-রে, অন্য কথা আর-অ না কহিও।।

গান শেষে তিন নাথের একই মহিমা বর্ণনা হত। এক কানা চোখে দেখতে পেত না। তিন নাথকে স্মরণ করল, আর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেল। এক ল্যাংড়ার পা ভাল হয়ে গেল। অনুষ্ঠান শেষ হত দৈ-মুড়ি খেয়ে। একই গান, একই কাহিনী, একই দৈ-মুড়ি। ছোটবেলার স্মৃতি রোমন্থন করার বাতিক আছে আমার। কত কথা মনে পড়ে। কিন্তু পঞ্চাশ বছরে একটিবারও এই ভগবানটির কথা মনে পড়ে নাই, কারও কাছে শুনিও নাই।

১১ই ডিসেম্বর, ২০০৮। দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি শহর। ঘুঘুমালী রোডে একটি দোকানে অপেক্ষা করছি নারায়নদার জন্য। ১৯৫০ দশক থেকে শুরু করে পূর্ব বঙ্গের প্রচুর উদ্বাস্তু পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে ঠাঁই নিয়েছে। চৌষট্টির রায়টের পর হিন্দুদের জমি বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। আফাজুদ্দিন মাষ্টার পুরো ফায়দা লুটতে থাকেন। হাতে কিছু টাকা দিয়ে নারায়নদাকে বিদায় করেন। নারায়ণদার বয়স এখন পচাত্তর। কিই বা বয়স! অথচ শরীর দুর্বল হয়ে এসেছে। দীর্ঘ বছর পর আমাকে দেখে আবেগে জড়িয়ে ধরে অনেক কাঁদলেন। তারপর এক কথায় রাজী হলেন – কোচবিহার এবং জলপাইগূড়ি জেলায় যে যেখানে আছে সবার সাথে দেখা করিয়ে দেবেন। অপেক্ষা করছি এই নারায়নদার জন্য। সামনে তাকিয়েই দেখি রাস্তার ওপাশে ছোট একটি দোকান। তার খোলা দরজা দিয়ে দেখা যাচ্ছে – এক পাল মশাই মাটির মূর্তি গড়ে চলেছেন। মশাইয়ের নাম – বাবু পাল।

পাল মশাই আমাকে ভগবানদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এক নম্বর চিত্রের ভগবানটি দেখে রীতিমত অবাক হলাম। ইনিই তিন নাথ। পশ্চিম বঙ্গে ইনার নাম �ত্রিনাথ�। তদানীন্তন পূর্বপাকিস্তানে উনাকে নিয়ে গান হত, কাহিনী হত। পূজা হত না। এখানে পদোন্নতি হয়েছে। উনার পুজা হয়। ত্রিনাথের মূর্তি গড়ার বায়না এল। মূর্তি গড়া পাল মশাইর জাত ব্যবসা। কিন্তু পাল মশাইর চৌদ্দ পুরুষের কেউ ত্রিনাথের মূর্তি গড়েনি। তিনিই প্রথম গড়লেন। ‘ত্রি’ মানে তিন। কাজেই তিনটি মাথা লাগালেন। তিন-দ্বিগুনে ছয়। ত্রিনাথকে ছয়খানা হাত দিলেন। লিঙ্গ বিচারে ‘নাথ’ পুংলিংগ। পাল মশাই মনে হয় বাংলা ব্যকরণ জানেন না। ত্রিনাথের লিঙ্গ খানি কেটে আলাদা করে দিলেন। কাদামাটি একটু বেশী খরচ বুকের মাঝে উন্নত দুটি স্তন যোগ করলেন। ত্রিনাথ নারী মূর্তি ধারণ করলেন। দেবতারা প্রয়োজনে রূপ বদলায়। পাল মশাইর হাতে পড়ে ভগবান ত্রিনাথের লিঙ্গান্তর ঘটে গেল আমার জীবদ্দশায়। বিশ্বাস না হলে নিজের চোখে ১নং ছবি দেখুন।

 

ছবি ১ ।  লিঙ্গান্তরিত ত্রিনাথ। ইনসেটে সার্জন, বাবু পাল।

উপরের অংশটুকু লেখা হয়ে গেছে। কলেজ স্টেশনে জনৈক দাশদাকে ত্রিনাথের লিঙ্গান্তরের কাহিনীটি বলতেই বললেন � আরে, ত্রিনাথ তো আসলে মহাদেব � শিব।

কত কিছুই জানিনা। ত্রিনাথই যে শিব – জানলাম। কিন্তু প্রচন্ড একটি ধাক্কা খেলাম। বাবা ত্রিনাথের লিঙ্গান্তর হয়েছে, হোক। কিন্তু শিবের লিঙ্গান্তর কিভাবে সম্ভব! বাবু পাল কি জেনেশুনেই শিবের লিঙ্গচ্ছেদন করেছেন? আর কর্তিত লিঙ্গখানিই ভক্তরা পূজো করছে? কিন্তু লিঙ্গ পূজা তো বাবু পালের জন্মের বহু আগে থেকেই চলে আসছে! সে যাই হউক, বিলম্বে হলেও শিবের লিঙ্গ কেটে, বাবু পাল এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন। নমস্কার, বাবু পাল!

এবারে শিবের লিঙ্গ খানি দেখুন ২ নং ছবিতে। শিব নেই। শুধু আছে তাঁর কর্তিত লিঙ্গ। লিঙ্গখানি বড়ই বাহারি। শিবের কপালের তিনটি তিলকচিহ্ন আছে। আছে যত্নে আঁকা এক নর্তকীর চিত্র। লিঙ্গের মস্তকে ফুল ও বেল পাতা। লিঙ্গের কোন গলা হয়না, তাই শরীরেই ফুলের মালা পড়িয়ে দিয়েছে ভক্তরা। যে আধারে লিঙ্গটি স্থাপিত তা ফুল ও ফল দিয়ে সযত্নে সাজিয়েছে। এখানেই আমেরিকান সিকি ফেলে ভক্তরা হাত দিয়ে লিঙ্গ প্রণাম করে।

 

ছবি ২। অস্টিন শহরের দক্ষিন-পশ্চিম প্রান্তে বর্ষনাধামের রাধা মন্দিরে শোভিত শিবলিঙ্গ

৩ নং ছবির লিঙ্গটি হিউস্টন দূর্গাবাড়ী মন্দির থেকে নেয়া। এটি ভিন্ন রকম একটি পাত্রে অবস্থিত। পাত্রটি দেখতে লজ্জাজনক একটি বিশেষ জিনিষ বলে ভ্রম হয়। এই লিঙ্গটিকে দুধ ঢেলে স্নান করিয়ে দেওয়া হয়। লিঙ্গস্নাত দুধ যাতে মাটিতে না পড়ে তার বিশেষ ব্যবস্থা আছে। এই লিঙ্গটির মস্তক কিন্তু পূরোপুরি জ্যামিতিক নয়। মনে হয় পাশে কি একটা লেগে আছে।

 

ছবি ৩ । শিবলিংগ (ছবি � ডঃ আলী আজাদ চৌধুরী, স্থপতি, ভাস্কর, চিত্রশিল্পী। কলেজ স্টেশন, টেক্সাস)

ভক্তরা এই লিঙ্গকে প্রণাম করে। কোয়ার্টারের বিনিময়ে মঙ্গল কামনা করে। কারন লিঙ্গটিই তো একটি ভগবান, জগদীশ্বর, বিশ্বব্রহ্মান্ডের সৃষ্টিকর্তা, মালিক। তাঁর ঈশারায় প্রতিদিন সূর্য্য উঠে এবং ডুবে। বিশ্বব্রহ্মান্ড একদিন ধ্বংশ হবে এই লিঙ্গের ইচ্ছাতেই।

বিশ্বাস! সব ধর্মের আদি মন্ত্র এক এবং অদ্বিতীয় � বিনা তর্কে বিশ্বাস করতে হবে। বিশ্বাস না করলে – অবিশ্বাসী � nonbeliever, infidel. প্রচলিত বাজে একটি কথা আছে ‘বিশ্বাস করলে তাল গাছ, না করলে গাব গাছ।’  nonbeliever দের কাছে ভগবান সেই গাব গাছ।

 

সমাচার ২ – বটগাছ ভগবান

আপনি কলকাতা শহর ঘুরে এসেছেন অথচ গাছ পূজো দেখেননি তা হয় না। এই শহর ও এর শহরতলীতে অজস্র বটগাছ ও পাকৈর গাছ লক্ষ্যনীয়। প্রতিটি গাছের গোড়ায় কোন না কোন ভগবানের পূজা হবেই। মূর্তি বা পাথর না থাকলে অন্তত গাছের কান্ডে সিঁদুরের সস্টিকাস চিহ্ন দেখতে পাবেন। ৪নং ছবিতে এমনই একটা দৃশ্য দেখা যাচ্ছে উত্তর কলকাতার বেলঘরিয়া রেল স্টেশনের পশ্চিম পাশে, নিমতা রোডে।

 

ছবি ৪ ।  বেদীর উপর হাঁড়ি-পাতিল, পাথর ও শিবের আবক্ষ মূর্তি

গাছটিকে কেন্দ্র করে একটি উচু বেদী করা হয়েছে। ফলে দেবতারা কুকুরের উতপাত্‌ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন। কুকুরের একটি বাজে অভ্যাস আছে। উঁচু জায়গা দেখলেই পেছনের একটি পা তুলে বিশেষ একটি কাজ সে করবেই। কুকুরগন নাস্তিক (infidel) জাতীয় প্রাণী। এরা ভগবানের অস্তিত্ত্বে বিশ্বাস করে না। কিন্তু নিজ প্রভুকে প্রান দিয়ে ভক্তি করে।

সমাচার ৩ – আল্লাহর নামে চলিলাম

বাংলাদেশে বাসে লেখা থাকে � �আল্লাহর নামে চলিলাম�, �এক রাকাত নামায না পড়িলে দুইকোটি ৮৮ লক্ষ বছর দোজখের আগুনে পুড়িতে হইবে� ইত্যাদি। পশ্চিম বঙ্গে বাসের দায়িত্বে থাকেন দেবতারা। ড্যাসবোর্ডে দেবতার আসনে বসে থাকেন লোকনাথ বাবা অথবা স্বয়ং মহাদেব – শিব। ৫ নং ছবি দেখুন।

বাবা লোকনাথকে স্মরণ করলে জলে, স্থলে, বনে-জঙ্গলে সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করেন। এমন ভাল ভগবান আর কয়টি আছে!

 

ছবি ৫ । বাসের ড্যাসবোর্ডে বসে আছেন দিব্যমূর্তি মহাদেব (রাতে তোলা ছবি)।

সমাচার ৪ – লম্বা একটি আচ্ছালামালাইকুম

১৩ মে ২০০৭। গ্রামের ভেতর দিয়ে হেটে যাচ্ছি। দীর্ঘ একটি আচ্ছালাআলাইকুম� তাকিয়ে দেখি ৬ নং ছবির হুজুর ছেলেটি। নাম – আব্দুর রহিম বা আব্দুল মালেক। কাছেই কোন মাদ্রাসার ছাত্র। কোরানে জ্ঞান কতটা জিজ্ঞেস করলাম। ওর হুজুর বলেছেন, �এখন অর্থ জানার দরকার নেই। আগে সবটা মুখস্থ কর। অর্থ পড়ে জানলেই চলবে।� সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১৯১ ইত্যাদির অর্থ আব্দুল মালেক এখনও জানেনা। স্বস্তি পেলাম।

 

চিত্র ৬ । লম্বা একটি আচ্ছালামালাইকুম

এবারে যেয়ে দেখি, আমার বাড়ির মাত্র এক মাইল উত্তরে নতুন মাদ্রাসা হয়েছে। মাইকের যন্ত্রনায় অসুস্থ হওয়ার যোগাড়। অবশ্য আমার মায়ের কোন অসুবিধা নেই। অভ্যাস হয়ে গেছে। শুনলাম এখানে জ়েএমবির সেনাদের প্রশিক্ষণ হত। রাতে মাদ্রাসা প্রাংগনে আগ্নেয়াস্ত্রের তালিম হত। এখন শুধু হুজুর তৈরীর প্রশিক্ষণ হয়। দুর-দুরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসে। ৫ জানুয়ারী ২০০৯। আমার বাড়ীর বাইরে এসে দেখি দুই ছোট হুজুর। চিত্র ৭ দেখুন।

 

চিত্র ৭ ।  আগামীদিনের হুজুর। জামাল আর কামাল।

জ়ামাল এসেছে পদ্মার ওপার বগুড়া থেকে ছয় মাস আগে। তার কোন ধারনা নেই ঢাকা থেকে বগুড়া কত দূরে। হয়তো তিন চার গ্রাম পরেই বগুড়া! জঙ্গি ট্রেনিং সে দেখেছে। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারেনি। বড় হয়ে জামাল আর কামাল কি করবে কে জানে! হয়তো একদিন আল-কায়দা বা হিরকুতুলের লোকেরা এসে নিয়ে যাবে কাশ্মীর, চেসনিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান অথবা ফিলিস্তিনে যুদ্ধ করতে। বুকে বোমা বেঁধে বেহেস্তের সহজ রাস্তা দেখিয়ে দেবে।

সমাচার পাঁচ – ইস্কন

এবার বাংলাদেশে অবাক একটা জিনিষ দেখলাম। ধর্মীয় পাগলামীর নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ সংঘে হিন্দু যুবকেরা ঢুকে গেছে। জগাই-মাধাইরা ঘরে ঘরে কৃষ্ণনাম বিলাচ্ছে। চিত্র নং ৮ দেখুন। উত্তম এক কলেজ ছাত্র। হাতে বাহারি একটি থলে। থলের ভিতর কাঠের মালা। একবার কৃষ্ণ বলছে, আর একটি করে গুটি সরাচ্ছে। পাশে ঠাকুরমা। নাতির ধর্মে মতি-গতি দেখে আনন্দে আর ধরে না।

 

ছবি ৮। গুনে গুনে কৃষ্ণনাম জপছে।

ঠাকুরমাটি আমার মা। উত্তম আমার ভাতিজা। উত্তমের এই নতুন দীক্ষায় আমি আমার মায়ের মত মুগ্ধ হব, উত্তম তাই ভেবেছিল। ভাতিজার মাথায় ঘিলু তখনও কিছুটা অবশিষ্ট ছিল বলতে হবে। আমার দিকে তাকিয়েই আমার ভাষা বুঝতে পারল। আমেরিকাতে ফিরে এক সপ্তাহ পরে টেলিফোন করেছিলাম। উত্তম সব ছেড়ে দিয়েছে। শূধু তাই নয়, সব বন্ধুদেরকেও পথে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। বলা বাহুল্য উত্তম কোন বোমাবাজির মত ক্ষতিকর কোন দীক্ষায় দীক্ষিত ছিল না। বন্ধুদের পাল্লায় পরে সাময়িক পদস্খলন হয়েছিল মাত্র। নিজের ভাতিজা। তাই একটি মাত্র দৃষ্টি ফেলেই পথে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। কিন্তু অন্যের ভাতিজাকে মানুষ বানানোর ঝুকি তো আমি নিতে পারিনা।

সমাচার ছয় -সত্যেন্দ্র চক্রবর্তীর নাতনীর মাথায় ইসলামী পর্দা

ষাটের দশকে স্কুল শুরুর আগে পাকিস্তানী পাতাকার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন �পাকসার জমিন সাদবাদ� গাইতাম। তারপর, সহপাঠী আজিজ পকেট থেকে একটি টুপি বেড় করে মাথায় পড়ে সুর করে �আওজুবিল্লাহ হিমিনাশ্বাইতুয়ানীর রাজিম � পড়ত। পাকিস্তানী শাসনে অমুসলিমদের এই উতপাত টুকু নীরবে সহ্য করতে হত। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে অমুসলমানদের অনেক গুণ বেশী অত্যচার সহ্য করতে হয়। প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্য্যন্ত প্রতিটি শ্রেণীতে ইসলাম ধর্ম বিষয়ক অন্তত একটি সংকলন থাকবেই। অক্সিজেন আর হাইড্রোজেন মিলে এক অনু জল যেমন সত্য, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট মানব হজরত মুহম্মদ এটাও তেমনি সত্য! পৃথিবীর ৭৫% মানুষ মানুক বা না মানুক, যা ইচ্ছা ভাবুক। তোমার শিশু্ অমুসলমান তাতে কি? জন্ম তো বাংলাদেশে। কাজেই তাকে শিখতে হবে, মানতে হবে, হৃদয়ঙ্গম করতে হবে – পৃথিবীতে আসল ধর্ম একটাই, সেটি ইসলাম আর মুহম্মদ হল দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ মানব। সরল অংকের মতই সহজ ব্যাপার।

সত্যেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী আমার অগ্রজ। তাঁর ছেলের নাম পিন্টু চক্রবর্তী। পিন্টুর মেয়ে পিনাকী চক্রবর্তীকে স্কুলে যেতে হচ্ছে মাথায় ইসলামী লেবাস লাগিয়ে। ছবি ৯ দেখুন।

 

ছবি ৯ । পিনাকী চক্রবর্তীর মাথায় ইসলামী পর্দা

এখন স্কুলের সিলেবাস শুরু হয় � বিসমিল্লাহ দিয়ে। প্রতিদিন ইসলামী মন্ত্র নিয়ে ঘরে ফিরে পিনাকীরা। এই দেশে তোমার জন্ম। এই দেশের রাষ্ট্র মাছ ইলিশ তোমার মাছ, রাষ্ট্র ফুল শাপলা তোমার ফুল, রাষ্ট্র পশু বাঘ তোমার বাঘ, রাষ্ট্র ধর্মও তোমার ধর্ম। পিনাকীদের অভিভাবকের দায়িত্ব সময় মত ছাত্রবেতন দেওয়া। শিক্ষার দায়িত্ব শিক্ষকের। পিনাকীদের অভিভাবকের পছন্দ-অপছন্দের অবকাশ মাত্র নেই এখানে। এরা হিসেবের বাইরে।

সমাচার সাত – এই ভূবনে বিচিত্র মানুষও আছে

যত মত, তত পথ। যখন ভারতে জনসংখ্যা হয়তো তেত্রিশ হাজারও ছিল না, তখনই ভারতে তেত্রিশ কোটি দেবতা ছিল। যে কেউকে ধরেই ঈশ্বর লাভ সম্ভব। কারন সব নদী একই সাগরে মিশে। ১৯৬৮ সাল। ময়মনসিংহ শহরের কালিবাড়ি রোড। এক হিন্দু বৃদ্ধ, পরনে ধূতি। ধনুকের মত বাঁকা হয়ে গেছে শরীর, হাতে একটি ছড়ি। পানের দোকানে একটি টাকা ভাংতি করলেন। সামনে দরগাহ। একটি আধূলী দিয়ে মাথায় হাত ঠুকে প্রণাম করলেন। গজ তিরিশ দুরেই একটি কালী মন্দির। দ্বিতীয় আধূলীটি দিলেন সেখানে, প্রণাম করলেন একই কায়দায়। হৃদয়-ভর্তি গদগদ ভক্তি আর ভক্তি। দরগাহ এবং কালী তাঁর কাছে একই ভগবানের প্রতিচ্ছবি। তিনি ধার্মিক, কিন্তু ধর্মীয় ঘৃনাবোধ নেই।  

ছবি ১০ দেখুন। কিরন আলীর কপালে নামজের দাগ। কিন্তু হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যাবে একই রকম শ্রদ্ধা ভক্তি আর আবেগ সহকারে।

ছবি ১০ ।  কিরন আলি। ছবিঃ জানুয়ারী ৭, ২০০৯

এবারে ছবি ১১ দেখুন। পোশাক দেখলে তবলীগ জামাতী বা হাজী সাহেব মনে হবে। কৃষ্ণভক্তদের সাথে তিনিও একাকার হয়ে গেছেন। কৃষ্ণনাম শ্রবনে চোখে তাঁর শ্রাবনের বারিধারা!

 

 

চিত্র ১১ । গদ গদ হয়ে কষ্ণনাম শুনছেন এক মৌলভী সাহেব।

বাঘ একটি কি দুটি মানুষ খুন করে। ধর্ম খুন করে হাজারে, মিলিয়নে। ধর্ম মানুষকে ভেদাভেদ শিখায়। ছড়ায় মানুষের প্রতি মানুষের ঘৃনার বিষ। আবার এই ধর্মের মধ্যেও বিচিত্র মানুষ বাস করে। বিচিত্র মানুষের মন!

______

নৃপেন্দ্র নাথ সরকার, কলেজ স্টেশন, টেক্সাস। ১২-১০-২০০৯।

[745 বার পঠিত]