এক ভগবানের লিঙ্গান্তর ও সচিত্র কিছু ঈশ্বর সমাচার

এক ভগবানের লিঙ্গান্তর ও সচিত্র কিছু ঈশ্বর সমাচার

সমাচার ১ – ভগবানের লিঙ্গান্তর
বাংলাদেশে এই ভগবানটির নাম -তিন নাথ�। ইনি খুব বিখ্যাত ভগবান নন। ছোটবেলায় বাবা-কাকা ও পড়শীদের আড্ডার আসরে এঁকে নিয়ে গাওয়া গান শুনেছি।

দিন গেলে তিন নাথের নাম লইও।

আ-রে, অন্য কথা আর-অ না কহিও।।

গান শেষে তিন নাথের একই মহিমা বর্ণনা হত। এক কানা চোখে দেখতে পেত না। তিন নাথকে স্মরণ করল, আর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেল। এক ল্যাংড়ার পা ভাল হয়ে গেল। অনুষ্ঠান শেষ হত দৈ-মুড়ি খেয়ে। একই গান, একই কাহিনী, একই দৈ-মুড়ি। ছোটবেলার স্মৃতি রোমন্থন করার বাতিক আছে আমার। কত কথা মনে পড়ে। কিন্তু পঞ্চাশ বছরে একটিবারও এই ভগবানটির কথা মনে পড়ে নাই, কারও কাছে শুনিও নাই।

১১ই ডিসেম্বর, ২০০৮। দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি শহর। ঘুঘুমালী রোডে একটি দোকানে অপেক্ষা করছি নারায়নদার জন্য। ১৯৫০ দশক থেকে শুরু করে পূর্ব বঙ্গের প্রচুর উদ্বাস্তু পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে ঠাঁই নিয়েছে। চৌষট্টির রায়টের পর হিন্দুদের জমি বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। আফাজুদ্দিন মাষ্টার পুরো ফায়দা লুটতে থাকেন। হাতে কিছু টাকা দিয়ে নারায়নদাকে বিদায় করেন। নারায়ণদার বয়স এখন পচাত্তর। কিই বা বয়স! অথচ শরীর দুর্বল হয়ে এসেছে। দীর্ঘ বছর পর আমাকে দেখে আবেগে জড়িয়ে ধরে অনেক কাঁদলেন। তারপর এক কথায় রাজী হলেন – কোচবিহার এবং জলপাইগূড়ি জেলায় যে যেখানে আছে সবার সাথে দেখা করিয়ে দেবেন। অপেক্ষা করছি এই নারায়নদার জন্য। সামনে তাকিয়েই দেখি রাস্তার ওপাশে ছোট একটি দোকান। তার খোলা দরজা দিয়ে দেখা যাচ্ছে – এক পাল মশাই মাটির মূর্তি গড়ে চলেছেন। মশাইয়ের নাম – বাবু পাল।

পাল মশাই আমাকে ভগবানদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এক নম্বর চিত্রের ভগবানটি দেখে রীতিমত অবাক হলাম। ইনিই তিন নাথ। পশ্চিম বঙ্গে ইনার নাম �ত্রিনাথ�। তদানীন্তন পূর্বপাকিস্তানে উনাকে নিয়ে গান হত, কাহিনী হত। পূজা হত না। এখানে পদোন্নতি হয়েছে। উনার পুজা হয়। ত্রিনাথের মূর্তি গড়ার বায়না এল। মূর্তি গড়া পাল মশাইর জাত ব্যবসা। কিন্তু পাল মশাইর চৌদ্দ পুরুষের কেউ ত্রিনাথের মূর্তি গড়েনি। তিনিই প্রথম গড়লেন। ‘ত্রি’ মানে তিন। কাজেই তিনটি মাথা লাগালেন। তিন-দ্বিগুনে ছয়। ত্রিনাথকে ছয়খানা হাত দিলেন। লিঙ্গ বিচারে ‘নাথ’ পুংলিংগ। পাল মশাই মনে হয় বাংলা ব্যকরণ জানেন না। ত্রিনাথের লিঙ্গ খানি কেটে আলাদা করে দিলেন। কাদামাটি একটু বেশী খরচ বুকের মাঝে উন্নত দুটি স্তন যোগ করলেন। ত্রিনাথ নারী মূর্তি ধারণ করলেন। দেবতারা প্রয়োজনে রূপ বদলায়। পাল মশাইর হাতে পড়ে ভগবান ত্রিনাথের লিঙ্গান্তর ঘটে গেল আমার জীবদ্দশায়। বিশ্বাস না হলে নিজের চোখে ১নং ছবি দেখুন।

 

ছবি ১ ।  লিঙ্গান্তরিত ত্রিনাথ। ইনসেটে সার্জন, বাবু পাল।

উপরের অংশটুকু লেখা হয়ে গেছে। কলেজ স্টেশনে জনৈক দাশদাকে ত্রিনাথের লিঙ্গান্তরের কাহিনীটি বলতেই বললেন � আরে, ত্রিনাথ তো আসলে মহাদেব � শিব।

কত কিছুই জানিনা। ত্রিনাথই যে শিব – জানলাম। কিন্তু প্রচন্ড একটি ধাক্কা খেলাম। বাবা ত্রিনাথের লিঙ্গান্তর হয়েছে, হোক। কিন্তু শিবের লিঙ্গান্তর কিভাবে সম্ভব! বাবু পাল কি জেনেশুনেই শিবের লিঙ্গচ্ছেদন করেছেন? আর কর্তিত লিঙ্গখানিই ভক্তরা পূজো করছে? কিন্তু লিঙ্গ পূজা তো বাবু পালের জন্মের বহু আগে থেকেই চলে আসছে! সে যাই হউক, বিলম্বে হলেও শিবের লিঙ্গ কেটে, বাবু পাল এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন। নমস্কার, বাবু পাল!

এবারে শিবের লিঙ্গ খানি দেখুন ২ নং ছবিতে। শিব নেই। শুধু আছে তাঁর কর্তিত লিঙ্গ। লিঙ্গখানি বড়ই বাহারি। শিবের কপালের তিনটি তিলকচিহ্ন আছে। আছে যত্নে আঁকা এক নর্তকীর চিত্র। লিঙ্গের মস্তকে ফুল ও বেল পাতা। লিঙ্গের কোন গলা হয়না, তাই শরীরেই ফুলের মালা পড়িয়ে দিয়েছে ভক্তরা। যে আধারে লিঙ্গটি স্থাপিত তা ফুল ও ফল দিয়ে সযত্নে সাজিয়েছে। এখানেই আমেরিকান সিকি ফেলে ভক্তরা হাত দিয়ে লিঙ্গ প্রণাম করে।

 

ছবি ২। অস্টিন শহরের দক্ষিন-পশ্চিম প্রান্তে বর্ষনাধামের রাধা মন্দিরে শোভিত শিবলিঙ্গ

৩ নং ছবির লিঙ্গটি হিউস্টন দূর্গাবাড়ী মন্দির থেকে নেয়া। এটি ভিন্ন রকম একটি পাত্রে অবস্থিত। পাত্রটি দেখতে লজ্জাজনক একটি বিশেষ জিনিষ বলে ভ্রম হয়। এই লিঙ্গটিকে দুধ ঢেলে স্নান করিয়ে দেওয়া হয়। লিঙ্গস্নাত দুধ যাতে মাটিতে না পড়ে তার বিশেষ ব্যবস্থা আছে। এই লিঙ্গটির মস্তক কিন্তু পূরোপুরি জ্যামিতিক নয়। মনে হয় পাশে কি একটা লেগে আছে।

 

ছবি ৩ । শিবলিংগ (ছবি � ডঃ আলী আজাদ চৌধুরী, স্থপতি, ভাস্কর, চিত্রশিল্পী। কলেজ স্টেশন, টেক্সাস)

ভক্তরা এই লিঙ্গকে প্রণাম করে। কোয়ার্টারের বিনিময়ে মঙ্গল কামনা করে। কারন লিঙ্গটিই তো একটি ভগবান, জগদীশ্বর, বিশ্বব্রহ্মান্ডের সৃষ্টিকর্তা, মালিক। তাঁর ঈশারায় প্রতিদিন সূর্য্য উঠে এবং ডুবে। বিশ্বব্রহ্মান্ড একদিন ধ্বংশ হবে এই লিঙ্গের ইচ্ছাতেই।

বিশ্বাস! সব ধর্মের আদি মন্ত্র এক এবং অদ্বিতীয় � বিনা তর্কে বিশ্বাস করতে হবে। বিশ্বাস না করলে – অবিশ্বাসী � nonbeliever, infidel. প্রচলিত বাজে একটি কথা আছে ‘বিশ্বাস করলে তাল গাছ, না করলে গাব গাছ।’  nonbeliever দের কাছে ভগবান সেই গাব গাছ।

 

সমাচার ২ – বটগাছ ভগবান

আপনি কলকাতা শহর ঘুরে এসেছেন অথচ গাছ পূজো দেখেননি তা হয় না। এই শহর ও এর শহরতলীতে অজস্র বটগাছ ও পাকৈর গাছ লক্ষ্যনীয়। প্রতিটি গাছের গোড়ায় কোন না কোন ভগবানের পূজা হবেই। মূর্তি বা পাথর না থাকলে অন্তত গাছের কান্ডে সিঁদুরের সস্টিকাস চিহ্ন দেখতে পাবেন। ৪নং ছবিতে এমনই একটা দৃশ্য দেখা যাচ্ছে উত্তর কলকাতার বেলঘরিয়া রেল স্টেশনের পশ্চিম পাশে, নিমতা রোডে।

 

ছবি ৪ ।  বেদীর উপর হাঁড়ি-পাতিল, পাথর ও শিবের আবক্ষ মূর্তি

গাছটিকে কেন্দ্র করে একটি উচু বেদী করা হয়েছে। ফলে দেবতারা কুকুরের উতপাত্‌ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন। কুকুরের একটি বাজে অভ্যাস আছে। উঁচু জায়গা দেখলেই পেছনের একটি পা তুলে বিশেষ একটি কাজ সে করবেই। কুকুরগন নাস্তিক (infidel) জাতীয় প্রাণী। এরা ভগবানের অস্তিত্ত্বে বিশ্বাস করে না। কিন্তু নিজ প্রভুকে প্রান দিয়ে ভক্তি করে।

সমাচার ৩ – আল্লাহর নামে চলিলাম

বাংলাদেশে বাসে লেখা থাকে � �আল্লাহর নামে চলিলাম�, �এক রাকাত নামায না পড়িলে দুইকোটি ৮৮ লক্ষ বছর দোজখের আগুনে পুড়িতে হইবে� ইত্যাদি। পশ্চিম বঙ্গে বাসের দায়িত্বে থাকেন দেবতারা। ড্যাসবোর্ডে দেবতার আসনে বসে থাকেন লোকনাথ বাবা অথবা স্বয়ং মহাদেব – শিব। ৫ নং ছবি দেখুন।

বাবা লোকনাথকে স্মরণ করলে জলে, স্থলে, বনে-জঙ্গলে সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করেন। এমন ভাল ভগবান আর কয়টি আছে!

 

ছবি ৫ । বাসের ড্যাসবোর্ডে বসে আছেন দিব্যমূর্তি মহাদেব (রাতে তোলা ছবি)।

সমাচার ৪ – লম্বা একটি আচ্ছালামালাইকুম

১৩ মে ২০০৭। গ্রামের ভেতর দিয়ে হেটে যাচ্ছি। দীর্ঘ একটি আচ্ছালাআলাইকুম� তাকিয়ে দেখি ৬ নং ছবির হুজুর ছেলেটি। নাম – আব্দুর রহিম বা আব্দুল মালেক। কাছেই কোন মাদ্রাসার ছাত্র। কোরানে জ্ঞান কতটা জিজ্ঞেস করলাম। ওর হুজুর বলেছেন, �এখন অর্থ জানার দরকার নেই। আগে সবটা মুখস্থ কর। অর্থ পড়ে জানলেই চলবে।� সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১৯১ ইত্যাদির অর্থ আব্দুল মালেক এখনও জানেনা। স্বস্তি পেলাম।

 

চিত্র ৬ । লম্বা একটি আচ্ছালামালাইকুম

এবারে যেয়ে দেখি, আমার বাড়ির মাত্র এক মাইল উত্তরে নতুন মাদ্রাসা হয়েছে। মাইকের যন্ত্রনায় অসুস্থ হওয়ার যোগাড়। অবশ্য আমার মায়ের কোন অসুবিধা নেই। অভ্যাস হয়ে গেছে। শুনলাম এখানে জ়েএমবির সেনাদের প্রশিক্ষণ হত। রাতে মাদ্রাসা প্রাংগনে আগ্নেয়াস্ত্রের তালিম হত। এখন শুধু হুজুর তৈরীর প্রশিক্ষণ হয়। দুর-দুরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসে। ৫ জানুয়ারী ২০০৯। আমার বাড়ীর বাইরে এসে দেখি দুই ছোট হুজুর। চিত্র ৭ দেখুন।

 

চিত্র ৭ ।  আগামীদিনের হুজুর। জামাল আর কামাল।

জ়ামাল এসেছে পদ্মার ওপার বগুড়া থেকে ছয় মাস আগে। তার কোন ধারনা নেই ঢাকা থেকে বগুড়া কত দূরে। হয়তো তিন চার গ্রাম পরেই বগুড়া! জঙ্গি ট্রেনিং সে দেখেছে। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারেনি। বড় হয়ে জামাল আর কামাল কি করবে কে জানে! হয়তো একদিন আল-কায়দা বা হিরকুতুলের লোকেরা এসে নিয়ে যাবে কাশ্মীর, চেসনিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান অথবা ফিলিস্তিনে যুদ্ধ করতে। বুকে বোমা বেঁধে বেহেস্তের সহজ রাস্তা দেখিয়ে দেবে।

সমাচার পাঁচ – ইস্কন

এবার বাংলাদেশে অবাক একটা জিনিষ দেখলাম। ধর্মীয় পাগলামীর নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ সংঘে হিন্দু যুবকেরা ঢুকে গেছে। জগাই-মাধাইরা ঘরে ঘরে কৃষ্ণনাম বিলাচ্ছে। চিত্র নং ৮ দেখুন। উত্তম এক কলেজ ছাত্র। হাতে বাহারি একটি থলে। থলের ভিতর কাঠের মালা। একবার কৃষ্ণ বলছে, আর একটি করে গুটি সরাচ্ছে। পাশে ঠাকুরমা। নাতির ধর্মে মতি-গতি দেখে আনন্দে আর ধরে না।

 

ছবি ৮। গুনে গুনে কৃষ্ণনাম জপছে।

ঠাকুরমাটি আমার মা। উত্তম আমার ভাতিজা। উত্তমের এই নতুন দীক্ষায় আমি আমার মায়ের মত মুগ্ধ হব, উত্তম তাই ভেবেছিল। ভাতিজার মাথায় ঘিলু তখনও কিছুটা অবশিষ্ট ছিল বলতে হবে। আমার দিকে তাকিয়েই আমার ভাষা বুঝতে পারল। আমেরিকাতে ফিরে এক সপ্তাহ পরে টেলিফোন করেছিলাম। উত্তম সব ছেড়ে দিয়েছে। শূধু তাই নয়, সব বন্ধুদেরকেও পথে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। বলা বাহুল্য উত্তম কোন বোমাবাজির মত ক্ষতিকর কোন দীক্ষায় দীক্ষিত ছিল না। বন্ধুদের পাল্লায় পরে সাময়িক পদস্খলন হয়েছিল মাত্র। নিজের ভাতিজা। তাই একটি মাত্র দৃষ্টি ফেলেই পথে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। কিন্তু অন্যের ভাতিজাকে মানুষ বানানোর ঝুকি তো আমি নিতে পারিনা।

সমাচার ছয় -সত্যেন্দ্র চক্রবর্তীর নাতনীর মাথায় ইসলামী পর্দা

ষাটের দশকে স্কুল শুরুর আগে পাকিস্তানী পাতাকার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন �পাকসার জমিন সাদবাদ� গাইতাম। তারপর, সহপাঠী আজিজ পকেট থেকে একটি টুপি বেড় করে মাথায় পড়ে সুর করে �আওজুবিল্লাহ হিমিনাশ্বাইতুয়ানীর রাজিম � পড়ত। পাকিস্তানী শাসনে অমুসলিমদের এই উতপাত টুকু নীরবে সহ্য করতে হত। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে অমুসলমানদের অনেক গুণ বেশী অত্যচার সহ্য করতে হয়। প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্য্যন্ত প্রতিটি শ্রেণীতে ইসলাম ধর্ম বিষয়ক অন্তত একটি সংকলন থাকবেই। অক্সিজেন আর হাইড্রোজেন মিলে এক অনু জল যেমন সত্য, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট মানব হজরত মুহম্মদ এটাও তেমনি সত্য! পৃথিবীর ৭৫% মানুষ মানুক বা না মানুক, যা ইচ্ছা ভাবুক। তোমার শিশু্ অমুসলমান তাতে কি? জন্ম তো বাংলাদেশে। কাজেই তাকে শিখতে হবে, মানতে হবে, হৃদয়ঙ্গম করতে হবে – পৃথিবীতে আসল ধর্ম একটাই, সেটি ইসলাম আর মুহম্মদ হল দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ মানব। সরল অংকের মতই সহজ ব্যাপার।

সত্যেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী আমার অগ্রজ। তাঁর ছেলের নাম পিন্টু চক্রবর্তী। পিন্টুর মেয়ে পিনাকী চক্রবর্তীকে স্কুলে যেতে হচ্ছে মাথায় ইসলামী লেবাস লাগিয়ে। ছবি ৯ দেখুন।

 

ছবি ৯ । পিনাকী চক্রবর্তীর মাথায় ইসলামী পর্দা

এখন স্কুলের সিলেবাস শুরু হয় � বিসমিল্লাহ দিয়ে। প্রতিদিন ইসলামী মন্ত্র নিয়ে ঘরে ফিরে পিনাকীরা। এই দেশে তোমার জন্ম। এই দেশের রাষ্ট্র মাছ ইলিশ তোমার মাছ, রাষ্ট্র ফুল শাপলা তোমার ফুল, রাষ্ট্র পশু বাঘ তোমার বাঘ, রাষ্ট্র ধর্মও তোমার ধর্ম। পিনাকীদের অভিভাবকের দায়িত্ব সময় মত ছাত্রবেতন দেওয়া। শিক্ষার দায়িত্ব শিক্ষকের। পিনাকীদের অভিভাবকের পছন্দ-অপছন্দের অবকাশ মাত্র নেই এখানে। এরা হিসেবের বাইরে।

সমাচার সাত – এই ভূবনে বিচিত্র মানুষও আছে

যত মত, তত পথ। যখন ভারতে জনসংখ্যা হয়তো তেত্রিশ হাজারও ছিল না, তখনই ভারতে তেত্রিশ কোটি দেবতা ছিল। যে কেউকে ধরেই ঈশ্বর লাভ সম্ভব। কারন সব নদী একই সাগরে মিশে। ১৯৬৮ সাল। ময়মনসিংহ শহরের কালিবাড়ি রোড। এক হিন্দু বৃদ্ধ, পরনে ধূতি। ধনুকের মত বাঁকা হয়ে গেছে শরীর, হাতে একটি ছড়ি। পানের দোকানে একটি টাকা ভাংতি করলেন। সামনে দরগাহ। একটি আধূলী দিয়ে মাথায় হাত ঠুকে প্রণাম করলেন। গজ তিরিশ দুরেই একটি কালী মন্দির। দ্বিতীয় আধূলীটি দিলেন সেখানে, প্রণাম করলেন একই কায়দায়। হৃদয়-ভর্তি গদগদ ভক্তি আর ভক্তি। দরগাহ এবং কালী তাঁর কাছে একই ভগবানের প্রতিচ্ছবি। তিনি ধার্মিক, কিন্তু ধর্মীয় ঘৃনাবোধ নেই।  

ছবি ১০ দেখুন। কিরন আলীর কপালে নামজের দাগ। কিন্তু হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যাবে একই রকম শ্রদ্ধা ভক্তি আর আবেগ সহকারে।

ছবি ১০ ।  কিরন আলি। ছবিঃ জানুয়ারী ৭, ২০০৯

এবারে ছবি ১১ দেখুন। পোশাক দেখলে তবলীগ জামাতী বা হাজী সাহেব মনে হবে। কৃষ্ণভক্তদের সাথে তিনিও একাকার হয়ে গেছেন। কৃষ্ণনাম শ্রবনে চোখে তাঁর শ্রাবনের বারিধারা!

 

 

চিত্র ১১ । গদ গদ হয়ে কষ্ণনাম শুনছেন এক মৌলভী সাহেব।

বাঘ একটি কি দুটি মানুষ খুন করে। ধর্ম খুন করে হাজারে, মিলিয়নে। ধর্ম মানুষকে ভেদাভেদ শিখায়। ছড়ায় মানুষের প্রতি মানুষের ঘৃনার বিষ। আবার এই ধর্মের মধ্যেও বিচিত্র মানুষ বাস করে। বিচিত্র মানুষের মন!

______

নৃপেন্দ্র নাথ সরকার, কলেজ স্টেশন, টেক্সাস। ১২-১০-২০০৯।

ড. নৃপেন্দ্র নাথ সরকার পেশায় শিক্ষক ও গবেষক। বর্তমানে তিনি টেক্সাসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, গবেষক এবং প্রোগ্রাম নিরীক্ষা সমন্বয়ক।

মন্তব্যসমূহ

  1. অনির্বাণ ব্যানার্জি মে 19, 2012 at 11:12 অপরাহ্ন - Reply

    @আদিল মাহমুদ, কোনো দেশকে বা কোনো দেশের মানুষকে ঘৃণা করা অনুচিত। আমি ভারতীয় বাঙালি,বাংলাদেশ লাগোয়া আমার বাসভূমি।আমি মনে করি,বাংলাদেশ শুধু আমার প্রতিবেশী দেশ নয়,বাংলাদেশ একমাত্র বাঙালির দেশ যা আমার প্রাণের প্রদীপ। ৭১-এর যুদ্ধে তৎকালীন সময়ের ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধানের নির্দেশে ভারতীয় সেনারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য শুধুই মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতে গেছিল সেটা ভেবে নেওয়া ভুল হবে। এর পিছনে ছিল অন্য এক রাষ্ট্রনৈতিক উদ্দেশ্য,যা আমি এখানে উল্লেখ করতে পারব না। তার কারণ আমি একজন ভারতীয় নাগরিক,রাষ্ট্রদ্রোহীতার কলঙ্ক আমার ললাটে লেখা হয়ে যাবে। বাংলাদেশের জলবণ্টন নিয়ে যে কথা বলতে তা হল ভারত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্বলিত দেশ,তাই দেশের প্রধানমন্ত্রী এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে হয় রাষ্ট্রপ্রধানকে। এটাই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সেটা আপেক্ষিক,দু-দেশের সদ্ভাবনার মধ্যেই এর সমাধান লুকিয়ে আছে। বাংলাদেশকে বুঝতে হবে যত কিউসেক জল তাঁরা চাইছেন তাতে ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে কোনো ভৌগোলিক সংকট তৈরি হবে কি না,অন্যদিকে ভারতকেও ভাবতে হবে জলের (পানি) অভাবে বাংলাদেশ সংকটাপন্ন না-হয়। অর্থাৎ দু-দেশের স্বার্থই যাতে সুরক্ষিত থাকে,সেভাবেই ভাবতে হবে এবং অতি দ্রুত ভাবতে হবে।

  2. abrar hossain জুন 25, 2011 at 5:28 অপরাহ্ন - Reply

    আপনি ধর্মীয় গোড়ামির দিকটা তুলে ধরতে চেয়েছেন ভালো কথা। ধর্ম নিয়ে কোনো যুক্তিতে যাবো না। কিন্তু ইতিহাস যাকে স্বীকৃতি দেয় তাকে অস্বীকার করতে সমস্যা কোথায়। আপনি বলেছেন ৭৫% মানুষ মানুক না মানুক বাংলাদেশী অমুসলমানদের পড়তে হয় মুহাম্মদ (সঃ) সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। দয়া করে আমাকে গোড়া ভাববেন না প্লিজ। ঐতিহাসিকগণ তো (যাদের মধ্যে অমুসলিম ঐতিহাসিকও আছেন) স্বীকৃতি দিয়েছেন ৫৭০-৬২৩ সালে মুহাম্মদ (সঃ) নামে একজন ছিলেন যার মানবীয় গুনাবলী অনন্য। তিনি ওই সময়ে আরব দেশের অরাজকতা এবং মানবতা বিরোধী কার্যক্রম বন্ধ করেছেন নিজের উদ্যোগে। এছাড়া তার অন্যান্য গুনাবলীর (যেমন মিথ্যা না বলা,অসহায় মানুষকে সাহায্য করা, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা করা,রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা ইত্যাদি) জন্যও তাকে ঐতিহাসিকরা পৃথিবীর সেরা মানুষের তালিকায় প্রথম স্থানটি দিয়েছেন। ৭৫% মানুষ মানুক না মানুক আপনি একজন শিক্ষিত মানুষ হয়ে এটা মানতে সমস্যা কোথায়। মুহাম্মদ (সঃ) কে একজন ধর্ম প্রচারক হিসাবে চিন্তা না করে একজন মানুষ হিসেবেই নাহয় চিন্তা করুন, তাহলে দেখবেন এই বৈষম্যটা আর আসবে না। আর তাছাড়া আপনিতো ধর্ম নিরপেক্ষতার কথাই বলছিলেন, তাইনা?

    • রৌরব জুন 26, 2011 at 12:32 পূর্বাহ্ন - Reply

      @abrar hossain,
      সেরা মানুষের তালিকা, সেখানে আবার মেধা তালিকার মত স্থান-টান, এসব শিশুসুলভ ধারণা পরিত্যাগ করাই বাঞ্ছনীয়।

      • abrar hossain জুন 26, 2011 at 3:52 অপরাহ্ন - Reply

        @রৌরব, কথাটা আপনি নাহয় যারা এই তালিকাটা তৈরি করেছেন বা যারা “সেরা মনীষী” এই টাইপের বই লিখেছেন তাদের বললেই ভালো করবেন। ধন্যবাদ।

        • ইমন ডিসেম্বর 12, 2011 at 7:28 পূর্বাহ্ন - Reply

          @abrar hossain,
          কিছু মানুষ পবিত্র কুরআন কে ভুল ভাবে উপস্থাপন করে এক ধরনের অশালীন আনন্দ লাভ করেন। আপনি আপনার লেখায় সুরা বাকারা-১৯১ এর কথা বললেন কিন্তু ওই আকি সুরার ১৯০ নাম্বার লাইন কি আপনার চোখে পরে নাই?

          আসলে কিচু মানুষের কছে ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে হলে নিজের ধর্ম কে “Safe Side” এ রেখে অন্য ধর্ম কে ছোটো করা।

          মাথায় কাপর দেয়াই যদি মুসলমানদের ড্রেস হয় তাহলে সার্ট-প্যান্ট মানে কি খ্রীষ্টান হোয়ে যাওয়া?

  3. রাইহাব জুন 4, 2010 at 4:53 অপরাহ্ন - Reply

    আমার খুব ভাল ‍লগেছে, খোদা তোমা‍ক দীর্ঘায়ু করুক…………………….

  4. bablu মে 12, 2010 at 7:55 অপরাহ্ন - Reply

    অাপনার ভাতিজাকে ফি‍রি‍‍য়ে

  5. স্নিগ্ধা ডিসেম্বর 14, 2009 at 9:37 পূর্বাহ্ন - Reply

    পোস্টটা ভালো লাগলো খুব! ‘পিনাকী’ নামটা সাধারণত ছেলেদের হয় বলে ধারণা ছিলো, সেটা ঠিক নয় দেখা যাচ্ছে।

    • নৃপেন্দ্র সরকার ডিসেম্বর 15, 2009 at 7:23 পূর্বাহ্ন - Reply

      @স্নিগ্ধা,
      পিনাকী বোধ হয় শিবের একটি নাম। যারা মেয়েটির নাম পিনাকী রেখেছে বোধ হয় এতকিছু ভেবে রাখেনি। নামের শেষে ‘ঈ’ দেখে ধরে নিয়েছে এটি একটা সুন্দর মেয়েলী নাম। আবার ঢাকাস্থ ভারতীয় এক হাই কমিশনারের নাম পিনাক রঞ্জন। কাজেই পিনাকী মেয়েদের নাম হতে পারে।

      সবিতা মেয়েদের নাম। অথচ সবিতা নাকি সূর্যের একটি নাম। (সূর্যকে পূরুষ হিসেবে দেখা হয়।) আমি বাণী নামে এক অধ্যাপককে তাঁর নিজের নাম নিয়ে মজা করতে দেখেছি। অজানা অনেকেই তাঁকে মেয়ে মনে করে ভুল করে।

  6. বিপ্লব পাল ডিসেম্বর 13, 2009 at 11:46 অপরাহ্ন - Reply

    আমার কাছে ধর্মর বর্তমান কাজ রিভার্স ইভ্যলুশন। বিপরীত মুখী বিবর্তন। আসলে ১% লোকের জ্ঞানে গোটা পৃথিবীটা এগোচ্ছে-এখন বাকি ৯৯% এর সেই জ্ঞান টা না জানলেও বেঁচে থাকতে অসুবিধা হচ্ছে না। কিন্ত সমস্যা হচ্ছে নতুন এই জ্ঞান এবং বিজ্ঞান, সমাজের চলে আসা প্রথা এবং ধর্মগুলিকে যে ভাবে হাস্যকর প্রতিপন্ন করছে, তাতে এই ৯৯% লোক ভীষন ভাবে নার্ভাস ফিল করছে। ফলে প্রতিক্রিয়া স্বরূপ ধর্মকেই আরো জরিয়ে ধরে অজ্ঞানের অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে।

  7. নৃপেন্দ্র সরকার ডিসেম্বর 13, 2009 at 11:25 অপরাহ্ন - Reply

    নাস্তিকের ধর্মকথা, তানভী, আদিল মাহমুদ এবং অভিজিত
    — লেখাটির প্রশংসা শুনে খুবই ভাল লাগছে।
    বিনয়াবনত,
    নৃপেন

    আমি কখনো খন্ড’ত’ লিখতে পারলাম না।

    • আদিল মাহমুদ ডিসেম্বর 13, 2009 at 11:46 অপরাহ্ন - Reply

      @নৃপেন্দ্র সরকার,

      “আমি কখনো খন্ড’ত’ লিখতে পারলাম না।”
      🙂

      – আমিও না, অভ্রের নিয়ম মেনে লিখতে গেলে কেন যেন বাক্স দেখা যায় বা ৪ গুন বড় হয়ে দেখা দেয়।

      • অভিজিৎ ডিসেম্বর 14, 2009 at 2:28 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আদিল মাহমুদ,

        খন্ডত লিখার জন্য অভ্র যে নিয়ম বলেছে সেই নিয়মই পালন করুন। tt` ।

        এখন পুরোনো কিছু বাংলা ফন্টে সেটা দেখা যাবে না (যেমন Vrinda, Rupali etc.)। এর কারন হচ্ছে যখন বাংলাভাষাকে ইউনিকোডের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছিলো তখন বুদ্ধিমান কর্ণধরেরা খন্ডত এর জন্য কোন আলাদা নম্বর নির্ধারিত করেননি। ফলে তখনই সসস্যাটি তৈরী হয়ছে। উইন্ডোস-এর ডিফলট বাংলা ফন্ট হিসেবে যেহেতু এখনো Vrinda ব্যবহৃত হয়, সেহেতু খণদত লেখার চেষ্টা করলে চৌকনা বাক্স দেখায়!

        আপনি সোলায়মানলিপি ফন্ট এখান থেকে ডাউনলোড করে আপনার পিসিতে ইন্সটল করুন। খন্ডত এর সমস্যা মিটে যাবে। ইউনিকোডের এরকম নতুন ফণ্ট গুলোতে খণদত দেখা যায়।

  8. অভিজিৎ ডিসেম্বর 13, 2009 at 11:15 অপরাহ্ন - Reply

    নৃপেনদা, লেখাটা চমৎকার লাগলো। লেখাটির পাশাপাশি ছবিগুলোর সংযোজন লেখাটিকে আরো হৃদয়গ্রাহী করেছে। এধরণের আরো লেখা ভবিষ্যতে আপনার কাছ থেকে আশা করছি।

    আপনার লেখাটির শেষ ক’টি লাইন অসাধারণ–

    বাঘ একটি কি দুটি মানুষ খুন করে। ধর্ম খুন করে হাজারে, মিলিয়নে। ধর্ম মানুষকে ভেদাভেদ শিখায়। ছড়ায় মানুষের প্রতি মানুষের ঘৃনার বিষ। আবার এই ধর্মের মধ্যেও বিচিত্র মানুষ বাস করে। বিচিত্র মানুষের মন!

  9. আদিল মাহমুদ ডিসেম্বর 13, 2009 at 8:44 অপরাহ্ন - Reply

    খুব ভাল লাগল।

    বিশেষ করে ধার্মিক মানেই যে অন্য ধর্মের প্রতি খড়গহস্ত এই প্রচলিত ধারনার বাইরেই যে কিছু মানুষ আছেন তার কিছু চমতকার উদাহরন লেখক দিয়েছেন।

  10. তানভী ডিসেম্বর 13, 2009 at 7:38 অপরাহ্ন - Reply

    দারুন লাগলো।

  11. নাস্তিকের ধর্মকথা ডিসেম্বর 13, 2009 at 2:45 অপরাহ্ন - Reply

    ভালো লেগেছে ………

  12. মুক্তমনা এডমিন ডিসেম্বর 13, 2009 at 3:55 পূর্বাহ্ন - Reply

    নৃপেন্দ্র সরকার,

    আপনি লেখা পোস্ট করার সময় অনুগ্রহ করে কোন স্পেশাল ফন্ট ব্যবহার করবেন না। ফন্ট যদি আমাদের সিস্টেম সাপোর্ট না করে, তবে ফন্টের আকার খুব ছোট দেখাবে। আপনি এই লেখায় সম্ভবত আহরণী নামে একটি ফণ্ট ব্যবহার করেছেন। যেহেতু এই ফন্টটি আমাদের সিস্টেম সাপোর্ট করে না – লেখা খুব ছোট দেখাচ্ছে। মডারেটরের পক্ষ থেকে ঠিক করে দেয়া হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে খেয়াল রাখার অনুরোধ রইলো।

  13. রাহাত খান ডিসেম্বর 13, 2009 at 3:35 পূর্বাহ্ন - Reply

    কি যে অবস্থা সারা পৃথিবী জুড়েই, ভাবলেও মনটা খারাপ হয়ে যায়। একদিকে ধর্মের নামে হানাহানি, আরেকদিকে সাম্রাজ্যবাদের ধংসাত্মক কর্মকান্ড। আসলে মাঝে মাঝে ভাবি, এরকমই বোধ হয় ছিল সব সময়ই, ইতিহাস পড়লে বোঝা যায় কখনই এর চেয়ে ভালো কিছু ছিল না তথাকথিত মানব সভ্যতা। ইতিহাসের ছোট ছোট সময়ের পকেটগুলোতে হয়তো আমরা এগিয়ে গেছি, তারপর আবার যেইকার সেই। কিন্তু আশার কথা হচ্ছে বোধ হয় এইটুকুই…তারপরও আমরা গুণগতভাবে সামনের দিকেই আগাই, ছোট ছোট অসংখ্য পাওয়ার সমষ্টি থেকে গুণগত উত্তরণ ঘটে চলে ক্রমাগতভাবেই।

মন্তব্য করুন