ঈশ্বর কী আছে? ক্রেইগ-ফ্লু বিতর্ক

 

ফরিদ আহমেদ

 

পর্ব

 

পর্ব

পর্ব

 

প্রফেসর ফ্লুর সূচনা বক্তব্য

 

সক্রেটিস যেভাবে ক্ষমা চেয়ে শেষ করেছিলেন আমাকেও সেভাবেই শুরু করতে হচ্ছেঈশ্বর যে নেই সেটা আমি কোনভাবেই প্রমাণ করতে যাচ্ছি না। বরং আমি দেখাতে চাচ্ছি যে, ঈশ্বর যে আছে সেই বিশ্বাসের স্বপক্ষে পর্যাপ্ত যুক্তিপ্রমাণ উপস্থিত নেই। ডক্টর ক্রেইগ এর অবস্থান অবশ্য এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমার পক্ষে কোনভাবেই প্রমাণ করা সম্ভব হবে না যে ঈশ্বর নেই। কিন্তু, তিনি মনে করেন যে ঈশ্বর থাকার স্বপক্ষের পর্যাপ্ত পরিমাণ যুক্তি প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।

 

 

এন্টনি ফ্লু

 

তিনি তার বিশ্বাসের স্বপক্ষে এতো বেশি যুক্তিতর্ক প্রদর্শন করেছেন যে আমার পক্ষে, আমার বরাদ্দকৃত সময়ের মধ্যে সেগুলোর সব উত্তর দেওয়া সম্ভবপর নয়। উনি যে পরিমাণ যুক্তিতর্ক নিয়ে হাজির হয়েছেন তাতে বলতেই হবে যে, তিনি এবং তার সঙ্গী-সাথীরা সম্মিলিতভাবেই চিন্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাহসী এবং অগ্রসর।  কেননা, কী কারণে বিশ্বজগত সৃষ্টি হয়েছে তা তারা জানেন বা জানতে পেরেছেন । আমার মূল যুক্তি হচ্ছে যে, আমাদের সবার সম্পূর্ণ জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাটাই এসেছে বিশ্বজগত থেকে। এই বিশ্বজগত একটাই আছে এবং নিশ্চিতভাবে সেই একটাকেই আমরা অনুভব করছি। ফলে, কেনই বা কেউ ভাববে যে বিশ্বজগত কোথা থেকে এসেছে? এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারবে।

 

আসুন, ঈশ্বর বিগ ব্যাং ঘটিয়েছে অথবা বিশ্বজগত আপনাআপনিই তৈরি হয়েছে এই বিষয় দুটোকে দেখি। কেন আমরা মাত্র এই দুটো সম্ভাবনার কথা বলি? কেন আমরা মনে করি যে এ দুটোই হচ্ছে একমাত্র সম্ভাবনা?

 

আমি মনে করি এ বিষয়ে যে কারো দুটো বিষয় বলা প্রয়োজন। একটা হচ্ছে ব্যাখ্যার চুড়ান্ততা। কেন একটা জিনিষ কি রকম তার ব্যাখ্যা সবসময়ই দেওয়া হচ্ছে অন্য কিছুর প্রেক্ষিতে।  কিছু সাধারণ সূত্রকে এই মুহুর্তে চরম বাস্তবতা বলে মেনে নেওয়া হচ্ছে যা অন্য বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করছে। এটাই কোন কিছুর স্বভাব। চরম বাস্তবতা (brute fact) ছাড়া আর কোন ব্যাখ্যার শেষ আপনি খুঁজে পাবেন না। অবশ্য, কিছু কিছু লোক কোন কোন চরম বাস্তবতাকে সন্তোষজনক মনে করে এবং ভাবে যে, ওই পর্যায়েই থেমে যাওয়াটা মঙ্গল। কেউ বলতে পারছে না যে এখানে থেমে যাওয়াটা একেবারেই ভুল। কাজেই আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, এই সম্ভাবনাকে বাতিল করে দেয়া যাচ্ছে না যে, বিশ্বজগত সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বা সকল জ্ঞান বিং ব্যাং এর কাছে এসে থেমে যাচ্ছে।

 

অবশ্য সমগ্র বিশ্বজগত আগামি বছরে ভিন্ন ধরনের হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আজ রাতে আমরা উইনকনসিনে বিতর্ক করছি। কাজেই এই সম্ভাবনাকে মেনে নিতেই হবে যে শূন্য থেকে বিশ্বজগত সৃষ্টি হওয়াটা আদৌ অসম্ভব কিছু নয়। সৃষ্টির শুরুতে কেউ ওখানে আগেই উপস্থিত থেকে পর্যবেক্ষণ করলে হয়তো অবাক হয়ে বলতো, কি সর্বনাশ!, এটা দেখি শূন্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মত অবস্থায় নেই। যেহেতু কি কারণে বিগ ব্যাং হয়েছিল তা বলা যাচ্ছে না, কাজেই শুধুমাত্র পদার্থবিজ্ঞানী ছাড়া অন্য কেউ বিগ ব্যাংকে ব্যাখ্যা করতে যাবে কেন? আবার পদার্থবিজ্ঞানও যদি সেখানে থেমে যায়, তবে কি সেটাই মানুষের জ্ঞানের সীমানা নয়?

 

আসুন, আমরা এখন বিকল্পটা বিবেচনায় আনি। চলুন, শুরুতেই আমরা ঈশ্বরের একটা সংজ্ঞা দেই। এই সংজ্ঞা দিয়েছিলেন রিচার্ড সোয়াইনবার্ন। তার এই সংজ্ঞাটি ইংরেজী ভাষা-ভাষী দেশগুলোতে ঈশ্বরের প্রমিত সংজ্ঞা হিসাবে মেনে নেওয়া হয়েছেঃ

 

শরীরবিহীন অস্তিত্ব (যেমন, আত্মা), সর্বত্র বিদ্যমান, বিশ্ব-ব্রক্ষ্মাণ্ডের স্রষ্টা এবং রক্ষাকর্তা, মুক্ত সঞ্চালক, সবকিছু করতে সক্ষম (অর্থাৎ সর্বশক্তিমান), সবকিছু জানেন, নিখুঁতভাবে শুভ, নৈতিকতার উৎস, অপরিবর্তনীয়, চিরন্তন, প্রয়োজনীয় ও পবিত্র সত্ত্বা এবং উপাসনার জন্য যোগ্য।

 

ঈশ্বর নামক সত্ত্বার জন্য অনেক বেশি বৈশিষ্ট্য। এখানে বসে থাকা কেউ একজন হয়তো ভাবতে পারেন যে, ইউরেকা! পেয়ে গেছি! এটাই নিশ্চয় সমস্ত মহাবিশ্ব তৈরির পিছনের কারণ। খুবই সম্ভব যে সর্বশক্তিমান এবং সর্বজ্ঞ কোন সত্ত্বা বিশ্বজগত তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই সত্ত্বা মানব আচরণ নিয়ে আগ্রহী নাও হতে পারে। অবশ্য আমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা মূলত জেনেসিসের প্রথম দুই চ্যাপ্টারের চিন্তারই ফসল। ঈশ্বর এই বিশ্ব-ব্রিক্ষ্মাণ্ড তৈরি করেছেন শুধুমাত্র তার নিজের আদলে মানুষ সৃষ্টি করার জন্য। কিন্তু কথা হচ্ছে, কেন আমরা ভেবে নিচ্ছি যে, এই ঈশ্বরের মানুষের আচরণ, নৈতিকতা এবং অন্যান্য বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে? ঈশ্বর যদি সর্বশক্তিমান এবং সর্বজ্ঞই হয়ে থাকেন এবং তিনি যদি চান যে মানুষ তার অভীষ্ট পথে থাকু্‌ক তাহলে সেটা কেন তিনি নিজেই করতে পারেন না? আপনি যদি সর্বশক্তিমানই হয়ে থাকেন তাহলে কী আপনি ফলাফল প্রত্যাশা করবেন না, আশা করবেন না যে লোকজন আপনি যেভাবে চান ঠিক সেভাবে চলুক? ঈশ্বরের সর্বজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে মানুষের আচরণ দেখে কী পরিষ্কার বোঝা যায় না যে তিনি মানুষের আচরণের প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহী নন? আপনি হয়তো যুক্তি দেখাতে পারেন যে, ঈশ্বরের সমস্ত বৈশিষ্ট্যের কিছু কিছুর অধিকারী কেউ কেউ থাকতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরের সকল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কেউ আছে তার স্বপক্ষে কোন যুক্তি কিন্তু আপনি দিতে পারবেন না।

 

দ্বিতীয় যে জিনিষটা আমি বলতে চাই তা হচ্ছে এই বৈশিষ্ট্যগুলো অন্তত কিছুটা হলেও সুসংগত (Compatible)। কিন্তু ডক্টর ক্রেইগ আমার বোঝামতে যে ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে চান তাকে বর্ণনা করা হচ্ছে শুভ এবং উপকারী হিসাবে কিন্তু একই সাথে সেই ঈশ্বরকে বর্ণনা করা হচ্ছে এমনভাবে যিনি তার নিজের সৃষ্ট বেশিরভাগ জীবকেই অনন্তকাল শাস্তি দেবেন।  যদি ভেবে থাকেন যে, এই বৈশিষ্ট্যসমূহ হিতসাধনের সাথে সুসংগত, অনন্তকাল অত্যাচারের কথা না হয় বাদই দিলাম, কাউকে সামান্যতম অত্যাচার করাটাই যদি আপনার মূল্যবোধ মেনে নেয়, তাহলে বলতেই হবে আমাদের হিতসাধনের ধারণা খুবই ভিন্ন ধরনের।

 

আমি বলছি না যে এটাই বিশ্বজগত একজন অত্যাচারী ঈশ্বর পরিচালনা করছেন তা বিশ্বাস না করার কারণ। আমি বলতে চাচ্ছি যে এই দুইটা বৈশিষ্ট্য সুসংগত নয়। আমার মনে হয় এ বিষয়গুলো নিয়ে ডক্টর ক্রেইগও কিছুটা উদ্বিগ্ন। কারণ তিনি নিজেই বলেছেনঃ

 

আমরা যদি ধর্মীয় গ্রন্থকে আন্তরিকতার সাথে নেই, তাহলে আমাদেরকে স্বীকার করতেই হবে যে পৃথিবীর বেশিরভাগ লোকই দোষী এবং চিরদিনের জন্য শাস্তি ভোগ করবে, এমনকি কদাচিত কোন বিরল ঘটনায় কোন ব্যক্তি হয়তো

 

তিনি আরো একধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেছেন যে, কোন গোঁড়া খ্রীষ্টান নরকের ধারণা পছন্দ করে না বা কারো শাস্তিতে আনন্দ উপভোগ করে না। আমি অন্তর থেকে চাই যে সর্বজনীনতায় সত্যি হোক কিন্ত তা সত্যি নয়। আমি এটাকে শোভন আচরণ হিসাবে মেনে নিচ্ছি, কিন্তু তারপরেও আমাকে বলতে হবে যে, এই দুটো জিনিষ পুরোপুরিই অসুসংগত ভয়ংকর রকমের দুঃস্বপ্ন। ওই ধরনের শাস্তি যে ন্যায়বিচার এমন ধারণার ক্ষেত্রে বলবো আপনারা কি ন্যায় বিচার কি তা জানেন না? ঠিক আছে যে সঠিক ব্যক্তিই শাস্তি পাচ্ছে। কিন্তু ন্যায়বিচার শুধুমাত্র অপরাধের জন্য সঠিক ব্যক্তির শাস্তি পাওয়াটাই নয়। অপরাধারের গুরুত্ব বা মাত্রার উপর শাস্তির পরিমাণ আনুপাতিক হতে হবে। আমার কাছে কোনভাবেই বোধগম্য নয় যে, কিভাবে মানুষ তার স্বল্প আয়ুষ্কালে এমন কোন অপরাধ করতে পারে যে, তার জন্য তাকে আক্ষরিক অর্থেই অনন্তকাল শাস্তি ভোগ করতে হবে?

 

কাজেই আমি যা দেখানোর চেষ্টা করছি তা হচ্ছ্‌ ঈশ্বরে বিশ্বাস করার জন্য খুব শক্তিশালী কোন যুক্তি নেই। আমার মূল বক্তব্য হচ্ছে কারো পক্ষেই বিশ্বজগতের বাইরের জিনিষ সম্পর্কে জেনে ফেলার প্রত্যাশা করা উচিত না। আর আপনি যদি তাই চানই, তবে সেক্ষেত্রে যে বলছে যে সে ওই জিনিষগুলো জানে তার ঘাড়েই প্রমাণের দায়িত্ব পড়ে। কাজেই, আমি ডক্টর ক্রেইগের যুক্তির উত্তর দেইনি এমন কোন যুক্তিরই পর্যাপ্ত মালমশল্লা নেই যার ভিত্তিতে তিনি বলতে পারেন যে, ওগুলো কোন কাজে আসবে না। আমি এই সমস্ত যুক্তিতর্ক তুলে ধরেছি কিন্তু উনি সেগুলোর কোন উত্তর দেননি। তিনি যুক্তিতর্কের যে বিশাল তালিকা তুলে ধরেছেন তার উত্তর দেওয়ার মত সময় কারোরই নেই। আর বিশ্ব জগতের বাইরে কী ঘটছে (যদি কিছু আদৌ ঘটে থাকে) সে বিষয়ে উত্তর দেবার মত অবস্থায় আমরা এখনো এসে পৌঁছোইনি।

 

আসুন আমরা ডক্টর ক্রেইগের পছন্দের কালাম আর্গুমেন্টকে যাচাই করে দেখিঃ মহাবিশ্বের অবশ্যই সূত্রপাত রয়েছে, কেননা শুরু এবং শেষ ছাড়া কোন কিছুর অস্তিত্ব সম্ভব নয়। খুব ভাল কথা। আমি মনে করি এটা খুবই ভাল একটা যুক্তি। কিন্তু এটা কায়াহীন এক অস্তিত্ব ( এই কায়াহীন অস্তিত্ব বুঝতে আমার খুবই কষ্ট হয়। কেননা আমি যে সমস্ত লোককে চিনি তারা সবাই রক্তমাংসের তৈরি।) দ্বারা সৃষ্ট সৃষ্টির জন্য প্রযোজ্য যিনি নিজেই অসৃষ্ট এবং চিরন্তন। আমার এখন কোন সন্দেহই নেই যে বিশ্বজগতের সূচনা রয়েছে কেননা বর্তমানে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি এটাই। যা মনে হচ্ছে বিগ ব্যাং তত্ত্বের এই অংশটা আমাদের সাথে স্থায়ীভাবেই থেকে যাবে (কিছু কিছু অন্য বিষয় হয়তো আগামিতে যুক্ত হবে।)। কিন্তু সময়ের যদি শুরু থাকতেই হবে, তাহলে আমরা কিভাবে সেই শুরুকে ব্যাখ্যা করতে পারি এই কথা বলেঃ সময়ের সূচনা শুরু হয়েছে, সমগ্র বিশ্বজগত তৈরি হয়েছিল চিরন্তন কোন আস্তিত্বের দ্বারা? এই আর্গুমেন্ট যদি ধরেই নেয় যে, সময়ের অবশ্যই সুত্রপাত থাকতে হবে, তাহলে সেই একই জিনিষ ঈশ্বরের ক্ষেত্রে সত্যি নয় কেন? অবশ্য কেউ এর পালটা যুক্তি দিতে পারে এই বলে যে, ঈশ্বরের কোন আদি নেই এবং কোন অন্তও নেই। কিন্তু এই যুক্তি একেবাই কাজ করবে নাঃ সৃষ্টির পিছনে যে যুক্তিকে দাঁড় করানো হয় তার কাম্য ব্যাখ্যা একেবারেই সামঞ্জস্যহীন।

 

কাজেই, আমরা আবারো শোভন অজ্ঞতায় ফিরে এসেছি। আমাকে প্রায়শই উদ্ধত ধরনের মানুষ বলে অনেকেই ভেবে থাকে ( মানুষ কত ভুল করতে পারে!), কিন্তু আমি কখনোই বিশ্বাস করি নাই যে, আমি আপনাদেরকে বিশ্বব্রক্ষ্মাণ্ডের বাইরের কোন গাইডবুক দিতে পারতাম। আমি বিশ্বজগতের ভিতরের খুব ছোট্ট এলাকার গাইডবুক দিতেই হিমশিম খাচ্ছি। এই ভাবনাটা চরম অবাস্তব যে, আমরা কিছু যৌক্তিক মানুষজনকে জড়ো করতে পারি এবং শা করতে পারি যে তারা বিশ্বজগত কীভাবে শুরু হয়েছে বা বিশ্বজগতের ভিতরে কী রয়েছে সেই বিষয়কে চিহ্নিত করতে পারবে। আমি মনে করি না এই যুক্তি আদৌ কোন কাজে আসবে।

 

আমার যেটা দ্বিমত তা হচ্ছে একজন সর্বশক্তিমান সত্ত্বা যদি চান যে লোকজন একটি নির্দিষ্টভাবেই আচরণ করবে (অনুরক্ত এবং অনুগত ছেলেমেয়েদের মত) তবে সেটা কী তিনি নিখুঁতভাবে করতে পারেন। সাধারণ লোকজনেরা দারুণভাবে খুশি হবে যদি তাদের ছেলেমেয়েরা অনুগত, শুদ্ধ এবং এইরকম আরো গুণের অধিকারী হয়। বাবা মা হিসাবে আমরা কি সবাই খুশি হব না? তবে আমার মনে হয় আমরা সকলেই এ বিষয়ে অসফল। কিন্তু আমার সর্বময় ক্ষমতা থাকলে আমার মনে হয় আমি সম্পূর্ণ অনুগত সন্তানাদি তৈরি করে ফেলতে পারতাম।

 

কিন্তু ডক্টর ক্রেইগ আমাদেরকে যে স্রষ্টায় বিশ্বাস করতে বলছেন, যিনি খুব করে চান যে লোকজন একটি নির্দিষ্ট ধারায় বিশ্বাস করুক এবং তিনি এটা এতই বেশি করে চান যে, তার প্রতি অনুগত না হওয়ার কারণে তাদেরকে চিরদিনের জন্য শাস্তি দিতেও প্রস্তুত। আমার কাছে মনে হচ্ছে যদি কেউ এই মহাজাগতিক সাদ্দাম হোসেন কি চান জেনে থাকেন তবে অবশ্য সাদ্দাম হোসেনের অনুগত প্রজার মত আচরণ করবে। তারা তার গুণাবলী এবং ভালত্ব নিয়ে সবকিছুই বলবে। এই অত্যাচারীর হাতে পড়লে আপনিও কি তা করবেন না? কিন্তু সর্বশক্তিমাণ এই বিষয়টা খুব সহজেই এড়িয়ে যেতে পারতেন যদি তিনি তাদেরকে এমনভাবে তৈরি করতেন যাতে তারা নিজেরাই অনুগত হওয়াটাকেই বেছে নিত। আমি আশা করি এই যুক্তি কিছুটা হলেও ডক্টর ক্রেইগকে স্তিমিত করবে।

 

প্রত্যেকেই ডিজাইনের স্বপক্ষের আর্গুমেন্টটা শুনেছেন জঙ্গলের মধ্যে একটা ঘড়ি খুঁজে পেলে আমরা ধরে নেব যে এটা নিশ্চয় ডিজাইন করা হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু কোন জিনিষ বুদ্ধিমান কেউ ডিজাইন করেছে সেটা যখন আমরা ধরে নেই, সেটা আসলে তার জটিল ডিজাইনের কারণে নয়। আমরা ঘড়ির ডিজাইনার আছে ধরে নেই শুধুমাত্র এই কারণে যে, ঘড়ি কোন প্রাকৃতিক প্রপঞ্চ নয় বরং মানুষের তৈরি জিনিষ বলে। পুরো মহাবিশ্বের সবচেয়ে জটিল এবং সফিস্টিকেটেড সত্ত্বা বলতে যা বুঝায় সেরকম প্রায় তিন হাজার সত্ত্বা আমি দেখি চারপাশে। এগুলো অন্তত এই মহাবিশ্বের মধ্যে কারো দ্বারা তৈরি হয়নি। এই মহাবিশ্বের অভ্যন্তরে তারা তৈরি হয়েছে অচেতন প্রাকৃতিক এবং যান্ত্রিক শক্তির কারণে।

[494 বার পঠিত]