আর্ডি – আমাদের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিল (২য় পর্ব)

প্রথম পর্বের পর…

“হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল ‘হাঁসজারু’ কেমনে তা জানি না।
বক কহে কচ্ছপে – “বাহবা কি ফুর্তি!
অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।”……
সিংহের শিং নেই, এই তার কষ্ট –
হরিণের সাথে মিলে শিং হল পষ্ট।“

আর্ডি নিয়ে পড়তে শুরু করার পর থেকেই খালি সুকুমার রায়ের খিচুড়ি কবিতাটা মনে পড়ছে। কেন যে পড়ছে তা আর্ডির খিচুড়ি মার্কা বৈশিষ্ট্যগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন। কি যে এক অদ্ভুত জিনিষ এই আর্ডি, যত পড়ছি ততই বুঝতে পারছি, কেন এতজন বিজ্ঞানী মিলে ১৪-১৫ বছর ধরে এই ফসিলগুলো নিয়ে রাত নেই দিন নেই কাজ করলেন। আর্ডির এই জগাখিচুড়ি সব বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে নিশ্চয়ই তাদের বিস্ময়ের সীমা পরিসীমা ছিল না। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাননি তারা। এই না বানর-না শিম্পঞ্জী- না শিম্পানুষ-না মানুষ ধরণের অদ্ভুতুড়ে প্রজাতিটাকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কিছু বলে কি বিপদে পড়বেন নাকি?

সে যাক এবার তাহলে আসল লেখায় ঢোকা যাক, আগেই বলে নেই, এবারের লেখাটা আগেরটার চেয়ে আরো অনেক ক্লান্তিকর, ফসিলের হাড্ডিগুড্ডি নিয়ে মজার কিইবা লেখার আছে! নিতান্তই আগের লেখাটা লিখে ফেলেছিলাম বলে, আর রায়হান কিংবা ফরিদ ভাইদের মত মানুষদের মিথ্যা প্রপাগান্ডা ভুল প্রমাণ করার জন্যও বাকিটা লিখতেই হল :)।

হ্যা, ঠিক, আর্ডি মানব বিবর্তনের কতগুলো খুব মৌলিক প্রকল্পকে চুরমার করে দিয়েছে…আর এখানেই বোধ হয় বিজ্ঞানের সার্থকতা। মানুষের ইতিহাসের বই-এর ক’টা পাতা আবার নতুন করে লিখতে হচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা দুঃখে ভেঙ্গে পড়ছেন না। বরং অত্যন্ত গৌরবের সাথে পৃথিবী জোড়া বিজ্ঞানীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এই নতুন আবিষ্কারের আলোকে পুরনো ভুল ধারণাগুলোকে ঝেরে ফেলে দিয়ে সঠিক তথ্যকে সামনে নিয়ে আসার কাজে। বেশ কয়েকটা পুরনো ধারণার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে আর্ডি, তবে আমার মতে এর মধ্যে দু’টো বিষয় বিশেষভাবে আলোচনার দাবী রাখে। আর্ডির এই প্রজেক্টের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী, ফসিলবিদ সি ওয়েন লাভজয় এর ভাষায়…

১) সাভানা বা তৃণভূমির কারণে মানুষ দ্বিপদী হয়ে উঠেছিল – আর্ডির আবিষ্কার এই প্রকল্পটিকে সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে দিচ্ছে… এবং

২) এতদিন যে ধারণা করা হত, মানুষ শিম্পাঞ্জীর মত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কোন সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়ে আজ এখানে এসে পৌঁছেছে তাও সম্পূর্ণভাবে গ্রহনযোগ্যতা হারাচ্ছে।[1]

প্রথমে দ্বিতীয় প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা করা যাক। আর্ডির আবিষ্কারের ফলে নতুন কি প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন বিজ্ঞানীরা এবং কেন তা করেছেন, সেটা ভালো করে বুঝলে প্রথম বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করা অপেক্ষাকৃত সহজ হয়ে যাবে।
আগের পর্বেই উল্লেখ করেছিলাম, সেই ডারউইনের সময় থেকেই ( বিশেষ করে হাক্সলীর বিভিন্ন লেখা থেকে) ভেবে আসা হচ্ছিল যে, মানুষ, শিম্পাঞ্জী এবং বনবোর সাধারণ পূর্বপুরুষদের মধ্যে আজকের বনমানুষদের মত বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান ছিল। তারপর ধীরে ধীরে ৬০-৭০ লক্ষ বছরের বিবর্তনের ফলশ্রুতিতে আজকের আধুনিক মানুষের উদ্ভব ঘটছে। কেন এটা ভাবা হত তা নিয়েও আগে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করেছিলাম। কিন্তু এখন পিছন ফিরে তাকালে (যদিও পিছনে ফিরে অতীতের ভুল বা সংশয়গুলো নিয়ে সমালোচনা করাটা সব সময়ই খুব সোজা একটা কাজ :)) ) বোঝা যায়, গুটিসংখ্যক বিজ্ঞানী যে এটা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেননি তা কিন্তু নয়। বিশেষ করে লুসির (Australopithecus afarensis) সম্পূর্ন দ্বিপদী বৈশিষ্ট্য অনেককেই অবাক করেছিল, ৩৭ লক্ষ বছর আগেই যদি মানুষের পূর্বপুরুষেরা দিব্যি খাড়া হয়ে হাটতে, চলতে শিখে গিয়ে থাকে তাহলে এই বিবর্তন ঘটল কবে ? ৬০ লক্ষ বছর আগে আমাদের সাধারণ পূর্বপুরুষরা যদি গরিলা, শিম্পাঞ্জীদের মত আঙ্গুলের গাটের উপর ভর করে হাটতো, (নাকল ওয়াকিং) তাহলে এত বড় পরিবর্তনটার সূচনা হয়েছিল কবে? তারা আমাদের সবচেয়ে কাছের আত্মীয় হলেও, এই ধরণের চলাফেরার জন্য আধুনিক বনমানুষদের শারীরিক গঠনে এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছে যার সাথে আমাদের পার্থক্যটা কিন্তু চোখে পড়া মত। আমরা কি কখনই মধ্যবর্তী কোন ফসিল খুঁজে পাবো যা থেকে আমাদের বিবর্তনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টির পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো বুঝতে পারবো?

হ্যা, আর্ডি সে কাজটাই অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে। কি যে হযবরল টাইপের একটা প্রাণী এই আর্ডি – না-শিম্পাঞ্জী, না-বানর, না-মানুষ – লুসি যদি ফসিলবিদদের জন্য একটা বিশাল পাওয়া হয়ে থাকে, আর্ডি হচ্ছে তাদের বহুকালের স্বপ্নের ফসল। এক শতাব্দীর চেয়েও বেশী সময় ধরে অপেক্ষা করেছেন তারা এরকম একটা ফসিলের জন্য! পেনসেলভিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্ম-নৃতত্ত্ববিদ আ্যলেন ওয়াকার লস এঞ্জেলেস টাইমসের সাথে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, এই ফসিলগুলো লুসির ফসিলের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। কারণ, সত্তরের দশকে লুসি যখন পাওয়া যায় তার অনেক আগেই এই প্রজাতির (Astrolopithecus aferensis)আরও অনেক টুকরো টুকরো ফসিল পাওয়া গিয়েছিল, যেগুলো থেকে আমরা এদের প্রধাণ বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে ইতোমধ্যেই মোটামুটিভাবে ওয়াকিবহাল ছিলাম। কিন্তু আর্ডি এবং তার সাথে পাওয়া ফসিলগুলো এক্কেবারে নতুন এবং অজানা এক জীব, লুসিদের চেয়েও অনেক বেশি অদ্ভুতুড়ে এবং আদিম (১)। শুধু তো তাই নয়, মানুষের বিবর্তনের সাক্ষী হিসেবে এখন পর্যন্ত খুব কমই এরকম পূর্নাঙ্গ ফসিল
পাওয়া গেছে, আসলে বিভিন্ন কারণেই মানুষের পূর্বসুরীদের ফসিল খুঁজে পাওয়া কিন্তু খুব একটা সহজ ব্যাপার নয়। নিয়ান্ডারথাল প্রজাতির বেশ কিছু পূর্ণাঙ্গ ফসিল পাওয়া গেলেও তার আগের বিভিন্ন আদি-মানব প্রজাতির হাতে গোনা ৩-৪ টা ফসিল ছাড়া তেমন কোন পুরো ফসিল পাওয়া যায়নি বললেই চলে (১)।

 ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে জীবাশ্ম-নৃতত্ত্ববিদ টিম হোয়াইটের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী আর্ডির এই ফসিল আবিষ্কার করেন ১৯৯৪ সালে। আর্ডিরটা একমাত্র প্রায়- পূর্নাঙ্গ ফসিল হলেও, এই একই প্রজাতির আরও ৩৬ টি স্বতন্ত্র ব্যাক্তির দেহের বিভিন্ন অংশের শতাধিক হাড় গোড় পাওয়া গেছে। এর সাথে আরও পাওয়া গেছে, ২৯ প্রজাতির পাখী, ২০ রকমের প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং বিভিন্ন ধরণের গাছ এবং বীজের ফসিল। এগুলো নিয়ে গত ১৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বিভিন্ন শাখার বিজ্ঞানীরা কাজ করে আসছেন। ‘সাইন্স’ জারনালটিতে যে ১১টা বৈজ্ঞানিক পেপার বের হয়েছে তা লিখতে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার ৪৭ জন বিজ্ঞানী অংশগ্রহণ করেছেন। জীববিদ্যা বা ফসিলবিদ্যায় এতজন বিজ্ঞানীর এত বছর ধরে সম্মিলিতভাবে কাজ করার এরকম নজির মনে হয় খুব কমই দেখা গেছে।

1_ardi_fossil
ছবি ১. আর্ডির ফসিলের বিভিন্ন অংশ [2]

আর্ডির শিম্পাঞ্জী, বানর, মানুষে একাকার হয়ে যাওয়া বৈশিষ্ট্যগুলোঃ

আর্ডি নিয়ে লেখাটার সবচেয়ে বিরক্তিকর অংশ হচ্ছে এটি, এখানে আর্ডির হাড়গোড়ের বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে আলোচনা করতে হবে। ‘এ আলোচনা করতেই হবে এমন কোন দিব্যি কেউ আমাকে দেয়নি, সেটা ঠিক, কিন্তু ৪৩ লক্ষ বছরের পুরনো একটা ফসিল নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এছাড়া আর কোন উপায় আছে বলেও আমার জানা নেই। অগত্যা কি আর করা… । তবে, আমি আমার নিজের এবং পাঠকের বিরক্তির কথা মাথায় রেখে, আলোচনাটাকে যথা সম্ভব সাধারণ বাংলায় সংক্ষিপ্তভাবে করার চেষ্টা করবো (আমি এখানে বাংলায় আর কোন টেকনিকাল কথাবার্তা উল্লেখ করলাম না, তবে ছবির ক্যাপশানের সাথে যুক্ত ইংরেজিটুকু রেখে দিলাম, কেউ যদি আরেকটু বিস্তারিত বুঝতে চান তাহলে সেটা পড়ে নিতে পারেন)।

আর্ডির যে বৈশিষ্ট্যটা বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বেশী অবাক করেছে সেটা দিয়েই শুরু করি। প্রায় ৪৩ বছর আগের মানুষের কোন সম্ভাব্য পূর্বপুরুষের মধ্যে আর যাই তারা প্রত্যাশা করে থাকুন না কেন, এর মধ্যে কোন মতেই দু’পায়ের উপর খাড়া হয়ে চলাফেরা করার ক্ষমতা যে অন্তর্ভুক্ত ছিল না তা হলফ করে বলা যায়।

এতদিন পর্যন্ত ফসিল রেকর্ডগুলো থেকে আমরা দ্বিপদী বৈশিষ্ট্যের বিবর্তনের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে তেমন কোন ধারণাই পাইনি। লুসির শ্রোণীচক্রের গঠন অনেকাংশে আমাদের মতই, তাদের মধ্যে ইতোমধ্যেই, অর্থাৎ ৩৭ লক্ষ বছর আগেই, অত্যন্ত অগ্রসর দ্বিপদী বৈশিষ্ট্যাবলীর অভিযোজন ঘটে গিয়েছিল। এ থেকে আমরা ঠিক কখন এবং কিভাবে সেই দ্বিপদী যাত্রা শুরু করেছিলাম তার প্রাথমিক স্তরগুলো সম্পর্কে কোন ধারণা পাই না। সে হিসেবে, আর্ডির প্রজাতি, Ardipithecus ramidus কিন্তু প্রথম প্রজাতি যার মধ্যে দ্বিপদী বৈশিষ্ট্যের বিবর্তনের প্রাথমিক ধাপগুলো দেখা যাচ্ছে।

আর্ডির শ্রোণীচক্র, পায়ের হাড় (ফিমার) এবং বুকের গঠণ থেকে শিম্পাঞ্জি ও মানুষের মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্যের এক অদ্ভুত সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। প্রাইমেটদের মধ্যে হোমিনিডের শ্রোণীচক্রের গঠন সবচেয়ে জটিল এবং বনমানুষদের থেকে তা আবার বেশ কিছুটা অন্যরকম। শ্রোণীচক্রের এই বিশেষ গঠনই তাকে দুপায়ের উপর হেটে চলে বেড়ানোর সময় প্রয়োজনীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। আর্ডির সাথে শিম্পাঞ্জীর শ্রোণীচক্রের অমিলগুলো কিন্তু বেশ প্রকট, আবার অন্যদিকে তা লুসির শ্রোণীচক্রের তুলনায় অনেক বেশী আদিম। আর্ডির ইলিয়ামের (ছবিতে দেখুন, শ্রোণীচক্রের এই বড় হাড়টাকেই ইলিয়াম বলে) উপরের অংশে এমন কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে যা দু’পায়ের উপর ভর করে চলার সময় ভারসাম্য রক্ষার জন্য

The Ar. ramidus pelvis has a mosaic of characters for both bipedality and climbing. Left to right: Human, Au. afarensis (“Lucy”), Ar. ramidus, Pan (chimpanzee). The ischial surface is angled near its midpoint to face upward in Lucy and the human (blue double arrows), showing that their hamstrings have undergone transformation for advanced bipedality, whereas they are primitive in the chimpanzee and Ar. ramidus (blue arrows). All three hominid ilia are vertically short and horizontally broad, forming a greater sciatic notch (white arrows) that is absent in Pan. A novel growth site [the anterior inferior iliac spine (yellow arrows)] is also lacking in Pan.

ছবি ২.মানুষ, লুসি এবং আর্ডির শ্রোণীচক্রের হাড় ইলিয়ামের তুলনামূলক গঠণ (ছবিতে ক্লিক করে বড় করে দেখুন) [3]

অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এর কোনটাই কিন্তু শিম্পাঞ্জি বা অন্য কোন আধুনিক বনমানুষের মধ্যে দেখা যায় না। ইলিয়ামের উপরের অংশের এই বিবর্তনের কারণে আর্ডি দু’পায়ে খাড়া হয়ে দিব্যি হেটে চলে বেড়াতে পারলেও খুব জোড়ে দৌড়াতে, বোধ হয়, সক্ষম ছিল না। দৌড়ে বেড়ানোর জন্য শ্রোণীচক্রের যে অগ্রসর গঠন দরকার তার বিবর্তন এই প্রজাতির মধ্যে তখনও কিন্তু ঘটেনি। আবার ইলিয়ামের নিচের অংশের গড়ণটা প্রায় সম্পূর্ণভাবেই বনমানুষের ইলিয়ামের নিচের অংশের সাথে মিলে যাচ্ছে, যা কিনা আবার গাছে চড়ার জন্য অপরিহার্য ছিল। ওদিকে লুসির ফসিলের সাথে তুলনা করলে বোঝা যায় আর্ডি্র গঠন আসলে কতটা আদিমতর ছিল। লুসির ইলিয়ামের শুধু উপড়ের অংশই নয়, নীচের অংশটাও সম্পূর্ণভাবে দৌড়ানোর উপযোগী হয়ে উঠেছিল। লুসির শ্রোণীচক্র, হাত ও পায়ের গঠণ থেকে এটাও পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয় যে বিবর্তনের প্রক্রিয়ায় তারা যে শুধু ৩৭ লক্ষ বছর আগে বেশ অগ্রসর দ্বিপদী বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছিল তাইই নয়, গাছে চড়ে বেড়ানোর ক্ষমতাও কিন্তু তারা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছিল।
আর্ডির হাতের গঠন দেখলে তাকে শিম্পাঞ্জীর চেয়ে বরং আদিম এক বানর প্রজাতি প্রকোনসুলের কাছাকাছি প্রাণী বলেই মনে হবে। বনমানুষদের হাতের তালু এবং আঙ্গুলের সন্ধিস্থল বা জোড়াগুলো তুলনামুলকভাবে অনেক শক্ত, গাছের ডালে ডালে চলাফেরার সময় হাতের উপর এত বড় শরীরের ভার বইতে হয় বলেই হয়ত এই

Two views of the left hand of Ar. ramidus showing primitive features absent in specialized apes. (A) Short metacarpals; (B) lack of knucklewalking grooves; (C) extended joint surface on fifth digit; (D) thumb more robust than in apes; (E) insertion gable for long flexor tendon (sometimes absent in apes); (F) hamate allows palm to flex; (G) simple wrist joints; (H) capitate head promotes strong palm flexion. Inset: lateral view of capitates of Pan, Ar. ramidus, and human (left to right). Dashed lines reflect a more palmar capitate head location for Ar. ramidus and humans, which allows a more flexible wrist in hominids
ছবি ৩.মানুষ, লুসি এবং আর্ডির হাতের তুলনামূলক গঠণ।[4]

অভিযোজনের প্রয়োজন পড়েছিল । তাদের হাতের তালু যতখানি লম্বাটে, বুড়ো আঙ্গুলটা ততখানিই খাটো। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই বনমানুষদের মাটিতে হাটার সময় আঙ্গুলের গাঁটে ভর করে চার হাত পায়ের সাহায্যে হাটতে হয়। প্রাইমেটদের মধ্যে শুধুমাত্র আফ্রিকান বনমানুষেরাই এভাবে চলাফেরা করে, বিভিন্ন প্রজাতির বানর কিন্তু আঙ্গুলের উপর নয় বরং হাতের তালুর উপর ভর করেই মাটিতে চলাফেরা করে থাকে। অন্যদিকে, মানুষের হাতের তালু তুলনামুলকভাবে বেশ ছোট এবং কব্জির গঠন অনেক নমণীয়। একারণেই আমরা খুব শক্ত করে জিনিষপত্র আঁকড়ে ধরতে পারি এবং তাতে চাপ প্রয়োগ করতে পারি। কব্জি থেকে যতই হাতের উপরের দিকে যাওয়া যায় ততই বনমানুষদের সাথে আমাদের পার্থক্য কমতে থাকে।

এ তো গেল বনমানুষ আর মানুষের হাতের গড়ণ। এখন তাহলে আর্ডির হাতের গঠনের দিকে চোখ ফেরান যাক। আর্ডির হাতের সবগুলো হাড় প্রায়-অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সে যে কোনভাবেই নাকল ওয়াকিং করতো না সেটা খুবই স্পষ্ট, এর জন্য হাত এবং আঙ্গুলের গঠনে যে অভিযোজনগুলোর প্রয়োজন তার কোনটাই আর্ডির মধ্যে নেই। শুধু তাই নয়, তার কব্জি এবং হাতের আঙ্গুলের জোড়াগুলোও অত্যন্ত নমনীয়, এমনকি আমাদের চেয়েও আরও বেশী নমনীয় ছিল বলেই মনে হয়। আর্ডির হাতের গঠন থেকে এটা অত্যন্ত পরিষ্কার যে, তার হাতের গঠন আধুনিক বনমানুষদের চেয়ে অন্যরকম ছিল। তাদের হাতের সাথে আমাদের হাতের মিলই বরং অনেক বেশী। অর্থাৎ, মানুষের পূর্বপুরুষেরা নাকল ওয়াকিং থেকে অভিযোজিত হয়ে এখানে আসেনি, আসলে ব্যাপারটা ঠিক তার উলটো। আধুনিক বনমানুষেরাই বরং ধীরে ধীরে নাকল ওয়াকিং এ অভিযোজিত হয়েছে আমাদের সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে পৃথক হয়ে যাওয়ার পরে। তাহলে ব্যাপারটা কি দাড়াচ্ছে? আর কিছুই নয়, আমাদের হাতের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো, যা দিয়ে আমরা খুব সহজেই হাতিয়ারের ব্যাবহার করতে শিখেছি, তার অর্জন করার জন্য আমাদের খুব বেশি কাঠ খড় পোড়াতে হয়নি। এই হাত আমরা অনেকাংশেই সরাসরি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকেই পেয়েছি, এর জন্য বুড়ো আঙ্গুলের আকার কিছুটা বড় হওয়া এবং আঙ্গুল্গুলো অপেক্ষাকৃত ছোট হয়ে যাওয়ার মত ছোট কিছু অভিযোজন ছাড়া আর তেমন কোন বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়েনি।

 আর্ডির পায়ে বনমানুষের মত বড় আঙ্গুল (বনমানুষদের গাছে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরার সময় ডাল-পালায় পায়ের ঠেক দেয়ার জন্য বা গাছের ডাল আঁকড়ে ধরার জন্য বিশেষভাবে অভিযোজিত oppsable thumb বা বৃদ্ধাঙ্গুলী) দেখা গেলেও বাকি হাড়ের গড়ণগুলো কিন্তু আবার এক্কেবারে অন্য কাহিনী বলছে। তার পায়ের পাতায় একটি ছোট্ট হাড় আছে (os peroneum) যা আবার বনমানুষদের মধ্যে নেই, শুধুমাত্র বানর এবং গিবনদের মধ্যে আছে, আর আছে আমাদের পায়ের পাতায়, সেই হাড়ের অবশিষ্টাংশ হিসেবে। এই হাড়টা না থাকার কারণে বনমানুষেদের পা বানরের পায়ের থেকে অনেক বেশী নমনীয় যা দিয়ে তারা বড় শরীর নিয়ে চলাফেরার সময় বা সোজা হয়ে গাছে ওঠার সময় শক্ত করে গাছের ডাল আঁকড়ে ধরতে পারে। আর্ডির পায়ের পাতায় যে শুধু এই হাড়টি আছে তাই নয়, এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলোও তার মধ্যে রয়ে গিয়েছিল। শিম্পাঞ্জী, গরিলা তে এই হাড়টি না-থাকা আর বানর এবং আমাদের মধ্যে এর অস্তিত্ব থেকে যাওয়া থেকে এটুকু অন্তত বলা যায় যে, আমাদের সাধারণ পূর্বপুরুষের মধ্যেও এর অস্তিত্ব ছিল। পরবর্তীতে বিবর্তনের প্রক্রিয়ার বনমানুষদের মধ্যে তা লুপ্ত হয়ে গেছে।

Foot skeleton of Ar. ramidus (bottom; reconstruction based on computed tomography rendering shown) lacked many features that have evolved for advanced vertical climbing and suspension
in extant chimpanzees (Pan, top left). Chimpanzees have a highly flexible midfoot and other adaptations that improve their ability to grasp substrates. These are absent in Ar. ramidus.

ছবি ৪. শিম্পাঞ্জী, মানুষ, আর্ডির পায়ের তুলনামূলক গঠণ।[5]

আর্ডির বাকি চারটা আঙ্গুলের বিশেষভাবে অভিযোজিত শক্ত গঠন থেকে একদিকে যেমন বেশ পরিষ্কারভাবে তার দেখা যাচ্ছে যে সে দুপায়ের উপর ভর করে হাটতে সক্ষম ছিল, অন্যদিকে তার বাঁকানো বুড়ো আঙ্গুল প্রমাণ করে যে, সে তখনো গাছে গাছে চড়ে বেড়াতেও বেশ অভ্যস্ত ছিল। এ যেন সেই বাংলা প্রবাদের মত অবস্থা – গাছেরটাও খাবো, তলারটাও কুড়াবো। কি যে এক অদ্ভুত ‘খিচুড়ি’ মার্কা বৈশিষ্ট্যের সমাহার এই আর্ডি! বানর, মানুষ, বনমানুষ আর তাদের সাধারণ পূর্বপুরুষদের এক অভুতপূর্ব মিশ্রণ। কে ভাবতে পেরেছিল, আমাদের ‘মানুষ হয়ে’ দু’পায়ের উপর ভর করে উঠে দাঁড়ানোর জন্য এরকম সব অদ্ভুত স্তর পার হয়ে আসতে হয়েছিল! তাই লাভজয় এবং তার সহকর্মীদের ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয়, এরকম ধরণের শংকরায়িত বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে দিয়ে পার হয়ে না আসলে আমাদের হয়তো কোনদিনও দু’পায়ের উপর ভর করে দাঁড়ানোই হয়ে উঠতো না।

আজ এ পর্যন্তই থাক, এত কাটছাট করে লেখার পড়েও লেখাটা আবারও অনিচ্ছাকৃতভাবেই বড় হয়ে যাচ্ছে… কাহাতক আর এই হাড্ডিগুড্ডির আলোচনা চালানো যায়… এর পরের পর্বে সাভানা প্রকল্প এবং আরও দুএকটা নতুন প্রকল্প (যেগুলো নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে বেশ ভালোই বিতর্ক শুরু হয়েছে) নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছে রইলো। সেই সাথে টিম হোয়াইট, ওয়েন লাভজয় এবং সাইন্স জারনালে প্রকাশিত বিভিন্ন বিজ্ঞানীর লেখাগুলোকে কিভাবে বিকৃত করা হচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা করে লেখাটা শেষ করবো, যদি এই লেখার ইচ্ছাটা ততদিন বেঁচে থাকে……

নোটঃ এই লেখাটার বিভিন্ন জায়গায় বানর, বনমানুষ বা মানুষের সাথে আর্ডির বৈশিষ্ট্যের মিলগুলো দেখাতে গিয়ে ‘হযবরল’, ‘খিচুড়ি’ বা ‘জগাখিচুড়ি’ ধরণের কিছু শব্দ ব্যবহার করেছি। লেখাটাকে খুব বড় বড় বৈজ্ঞানিক শব্দের হাতে হাইজ্যাক হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য ইচ্ছেকরেই এরকম শব্দগুলোর অবতারণা করেছি। পিছন ফিরে তাকালে এরকম মনে হলেও, আসলে তো, কালের গর্ভে যে কোন একটা নির্দিষ্ট সময়ে, একটা প্রজাতি তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগুণেই একক বা স্বাধীন প্রজাতি হিসেবে বিরাজ করে, এখানে মিশাল বা খিচুড়ির কোন ব্যাপার নেই। যে কোন প্রজাতির উপরেই অবিরাম বিবর্তনের প্রক্রিয়া ঘটে চলেছে। যেমন ধরুন, আমাদের এই আধুনিক মানুষের প্রজাতি homo sapiens ও অনবরত বিবর্তিত হচ্ছে। এক বা একাধিক প্রজন্মের সময়ের বেষ্টনীতে তা দেখা না গেলেও ফসিলগুলো দেখলে বা ডিএনএ রেকর্ড থেকে তা খুব সহজেই বোঝা যায়। যেমন ধরুন, আজ থেকে কয়েক লক্ষ বছর পরে মানুষের এখনকার প্রজাতির ফসিল বা ছবি দেখে মনে হতে পারে, আমরা আমাদের আগের, পরের কিংবা আশেপাশের নিকটাত্মীয় প্রজাতিগুলোর এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ বৈ আর কিছুই ছিলাম না।

তথ্যসূত্রঃ

[1] http://www.latimes.com/news/nationworld/nation/la-sci-fossils2-2009oct02,0,3420742.story

[2] Light on the Origin of Man, Introduction, VOL 326 SCIENCE www.sciencemag.org, Published by AAAS

[3] The Pelvis and Femur of Ardipithecus ramidus: The Emergence of Upright Walking, DOI: 10.1126/science.1175831, Science 326, 71 (2009), C. Owen Lovejoy, et al.

[4] Careful Climbing in the Miocene: The Forelimbs of Ardipithecus ramidus and Humans Are Primitive, DOI: 10.1126/science.1175827, Science 326, 70 (2009); C. Owen Lovejoy, et al.

[5] Combining Prehension and Propulsion: The Foot of Ardipithecus ramidus, DOI: 10.1126/science.1175832, Science 326, 72 (2009); C. Owen Lovejoy, et al.

চলবে…

গবেষক, লেখক এবং ব্লগার। প্রকাশিত বইঃ 'বিবর্তনের পথে ধরে', অবসর প্রকাশনা, ২০০৭।

মন্তব্যসমূহ

  1. যুক্তিবাদী মে 29, 2012 at 12:54 অপরাহ্ন - Reply

    শারিরীক সাদৃশ্যই কি পূর্বপুরুষ হবার শর্ত ?
    তাহলে ডাক্তাররা কেন তাদের ছাত্রকে ব্যাঙ কেটে ডাক্তারী শেখান ?
    দু একটা এই প্রাণী ধরে আনার ব্যাবস্থা করলেই হত । বাদর ও আমাদের দেশে হরহামেশা পাওয়া যায় ।
    কই বাদরও তো মেডিকেলের ছাত্রদের ডাক্তারী শেখাবার জন্য কোন দিন ধরে আনা হল না । 😉

    • রামগড়ুড়ের ছানা মে 30, 2012 at 11:44 পূর্বাহ্ন - Reply

      @যুক্তিবাদী,
      ডাক্তাররা ব্যাঙ কেটে ডাক্তারী শেখান নাকি? :-X । ওটাতো স্কুলে বায়োলজী ল্যাবে করানো হয়,মেডিকেল কলেজে মৃত মানুষ কাটাকাটি করানো হয়(সাথে ব্যাঙ,তেলাপোকা করানো হয় নাকি জানিনা)।

    • অনন্ত বিজয় দাশ মে 30, 2012 at 3:29 অপরাহ্ন - Reply

      @যুক্তিবাদী,

      মেডিকেল সায়েন্সে এবং অ্যানিমেল সায়েন্সে কম্পারেটিভ অ্যানাটমি (comparative anatomy) বলে একটা সাবজেক্ট আছে। সেখানে কি কি বিষয় পড়ানো হয়, তা একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন।

  2. মামুণ ফেব্রুয়ারী 24, 2012 at 5:28 অপরাহ্ন - Reply

    অনেক জিনিষ জানা হইল ।

  3. Anik Samiur Rahman ফেব্রুয়ারী 21, 2012 at 12:16 পূর্বাহ্ন - Reply

    পর্ব ১ পাওয়া যাচ্ছে না, link এ click করলে খালি পেজ আসছে, কোনো ভাবে পর্ব ১ টা চাই। শেষ চেষ্টার option হিসেবে এই হল আমার e-mail: [email protected]

  4. স্নিগ্ধা নভেম্বর 22, 2009 at 7:47 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমার পক্ষে এই লেখায় ভালো ভালো কথা বলা সম্ভব না! ‘লিখিয়ে’ হিসেবে বন্যা আহমেদ ভালো হতে পারেন, কিন্তু মানুষ হিসেবে মানে আর্ডির একজন উত্তরপুরুষ হিসেবে যে তিনি কী একখান জিনিষ সেটা হাড়ে হাড়ে জানি বলেই কিছু আর বললাম না! (অভি, রাগের ইমো কীভাবে দেয়??)

    • বন্যা আহমেদ নভেম্বর 22, 2009 at 8:21 পূর্বাহ্ন - Reply

      @স্নিগ্ধা, তুই যেভাবে আপ্নে তাপ্নে কইরা লিখলি তাতেই আমি ধন্য। আর্ডির স্বভাব বিটকিলে ধরণের ছিল, এইটা তুই কোন সাইন্টিফিক জারনালে পাইলি? বারবার কই, বৈজ্ঞানিক লেখায় রেফারেন্স দিয়া লিখবেন সবাই, কেউ দেখি কথা শোনে না!!

    • অভিজিৎ নভেম্বর 22, 2009 at 8:22 পূর্বাহ্ন - Reply

      @স্নিগ্ধা,

      অভি, রাগের ইমো কীভাবে দেয়??

      ক্যান – নীচে স্মাইলীর লিস্টে রাগে চুল ছিড়নের একটা ইমো আছে তো। ওইটায় টিবি দাও (অথবা টাইপ কর –

      : angry :) । এইডা দেখবা –

      :-X

      আর্ডির হাড্ডি নিয়াও একটা ইমো হাজির করতে হবে মনে হচ্ছে। হাড্ডি চিবাচ্ছে আর রস বের হচ্ছে…

  5. রায়হান আবীর নভেম্বর 22, 2009 at 1:03 পূর্বাহ্ন - Reply

    প্রথম কথা হলো, ছড়াটা দেওয়ার জন্য আমি একটা কথা বলতাম। পরে দেখি শেষ ডিস্ক্লেইমার দিসেন। 😀

    আপনার দাবীর ভিত্তিতে লেখা যে পুরা………………টা পড়েছি তার প্রমান নীচে দেওয়া হলো 😀 ,

    আর্ডির যে বৈশিষ্ট্যটা বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বেশী অবাক করেছে সেটা দিয়েই শুরু করি। প্রায় ৪৩ বছর আগের মানুষের কোন সম্ভাব্য পূর্বপুরুষের মধ্যে আর যাই তারা প্রত্যাশা করে থাকুন না কেন, এর মধ্যে কোন মতেই দু’পায়ের উপর খাড়া হয়ে চলাফেরা করার ক্ষমতা যে অন্তর্ভুক্ত ছিল না তা হলফ করে বলা যায়।

    ৪৩ লক্ষ বছর হবে 😀

    শেষ পর্বটা দিতে তিন বছর লাগায়েন না বলে দিচ্ছি 😀 সাভানা প্রকল্প সম্পর্কে এনকার্টায় পড়েছিলাম অল্পবিস্তর। এখন ভালু করে জানার অপেক্ষায় রইলাম।

    • বন্যা আহমেদ নভেম্বর 22, 2009 at 7:46 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রায়হান আবীর, আরে মিয়া তোমার কথার আর কোন ক্রেডিবিলিটি নাই। লেখা দেওয়ার আগ পর্যন্ত ঘ্যানঘ্যান কর, লেখেন, লেখেন…লেখার পরে আর পড়ার ধৈর্য থাকে না 🙂
      ‘ভালু কইরা জানবা’ কেমনে, ভালু খবর সব ওই বোরিং অংশগুলার মধ্যে থাকে, ওইগুলাই তো তুমি পড়তে পারো না!!

      • তানভী নভেম্বর 22, 2009 at 9:53 পূর্বাহ্ন - Reply

        @বন্যা আহমেদ,
        সত্য কথা আফা, ঐ বোরিং অংশগুলান পড়তে পারে নাই বইলা আমার বড় ভাই কয়পাতা পইড়াই শেষ,আর আগাইতে পাড়ে নাই। আমি বহুত কস্ট কইরা পড়সি,যেখানে আমি সাইন্সের ছাত্র সেখানে এত সব জটিল জিনিস পড়তে যাইয়া আমারো চুল ছিড়তে মনে লইসিল :-X আমার বড় ভাই তো কমার্সের। তার কথা আর নাই কইলাম
        কিন্তু শেষ কইরাই মজাটা টের পাইলাম। গ্যাপ দিয়া পড়লে হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস পড়েন।প্রথম দুইপাতা আর শেষ দুই পাতা পড়লে উপন্যাস শ্যষ 😛

        যাক হুদাই এত কথা কইলাম,আমি জানি রায়হান ভাই পুরা বইই পড়সেন।উনি যদি এইসব বই গ্যপ দিয়া পড়তেন তবে তার লিখা গুলান এত ভালু হইতো না।রায়হান ভাইরে :rose2:

      • রায়হান আবীর নভেম্বর 22, 2009 at 2:21 অপরাহ্ন - Reply

        @বন্যা আহমেদ,

        জানার কোন শ্যাষ নাই… জানার চেষ্টা বৃথা তা 😀

  6. আতিক রাঢ়ী নভেম্বর 21, 2009 at 8:42 অপরাহ্ন - Reply

    বিবর্তনের পথ ধরে- আমি এখনও শেষ করতে পারি নাই। 😀

    • রায়হান আবীর নভেম্বর 22, 2009 at 1:05 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আতিক রাঢ়ী,

      আমার মতো বোরিং পাতাগুলা বাদ দিয়া খতম দেন 😀

      • আতিক রাঢ়ী নভেম্বর 22, 2009 at 12:18 অপরাহ্ন - Reply

        @রায়হান আবীর,

        বোরিং পাতা গুলি কই? অর্ধেকের বেশীতো শ্যাষ কইরা ফালাইলাম। আমার তিন বছর সাইজের একটা পিচ্চি আছে, খালি পড়ার সময় জ্বালাতন করে।( এরার কুনো দোষ নাই, মায়ের ক্রমজম ডমিনেট করতিছে আরকি !) নাইলে কবে শ্যাষ দিয়া ফালাইতাম। 😎

      • ফরিদ আহমেদ নভেম্বর 22, 2009 at 6:19 অপরাহ্ন - Reply

        @রায়হান আবীর,

        আমি আরো সহজে খতম দিছি। বোরিং, নন-বোরিং সব পাতাই বাদ দিয়া পড়ছি আমি। 🙂

        ইরতিশাদ ভাই কি্নে আনছিলো বইটা দেশ থেকে। আমি ফ্রি ফ্রি হাতে নিয়ে ওজন মাপছি। প্রচ্ছদটা দেখছি ভাল করে। অনেক অজানা পশুপাখির ছবি আছে সেইখানে। আর ব্যাক ফ্লিপের ভিতরের পাতায় লেখকের পরিচিতি পড়ছি।

        ব্যাস শ্যাষ, বিবর্তন বোঝা শ্যাষ আমার। :rotfl:

        • তানভী নভেম্বর 22, 2009 at 6:21 অপরাহ্ন - Reply

          @ফরিদ আহমেদ,
          মামু!!!!
          :lotpot: :hahahee: :clap2:

    • বন্যা আহমেদ নভেম্বর 22, 2009 at 8:17 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আতিক রাঢ়ী, শুরু যে করসেন এইতো বেশী। রায়হানের উপদেশ শোনেন, তাইলে শুরু আর শেষ একই জায়গায় এসে মিলে যাবে, এদের মধ্যে তেমন কোন টাইম ডিফারেন্স আর থাকবে না 🙂

      • আতিক রাঢ়ী নভেম্বর 22, 2009 at 12:37 অপরাহ্ন - Reply

        @বন্যা আহমেদ,

        সপ্তা খানেক যাইতে দ্যান। এমন সব প্রশ্ন ছাড়ুম, তখন বুঝবেন, আতিকরে উপদেশ দেওয়া আর খৈ খাইয়া প্যাট ভরার চেষ্টার মইধ্যে কুন ডিফারেন্স নাই। 🙂

    • তানভী নভেম্বর 22, 2009 at 10:01 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আতিক রাঢ়ী,
      ভাইয়া পুরাটা পড়েন,শেষ হইলে দেখবেন মজা।প্রথমে শেষ করার পড় দেখবেন মাথা ভন ভন করতেসে,তারপর ঐ দিন পুরাটা ঐটার পিছনে যাইবো গা।দুই দিন :-/ 😕 :-X এগুলার মতন করার পর তিন দিনের দিন :lotpot: এরকম মনে হইবো, যে এইটাতো পুরাই সোজা ,বন্যাপু হুদাই এত ত্যনা প্যচাইসে!!

      তারপর ও বন্যাপু কে বইটার জন্য :clap2: :guru: :rose2:

      • আতিক রাঢ়ী নভেম্বর 22, 2009 at 12:51 অপরাহ্ন - Reply

        @তানভী,

        পড়ুম ভাই, পড়ুম। প্রবলেম রায়হান ভাইরে কিঞ্চিৎ বলেছি। উনি বুঝবেন, ফরিদ ভাই আরো ভাল বুঝবেন ( উনার ল্যাপটপ কে বা কাহারা যেন চুলায় দিতে চায়, দৈনিক।)। আপনে ছুটো ভাই, বিয়া করনের আগে পুরাপুরি নাও বুঝতে পারেন। :-/

        • তানভী নভেম্বর 22, 2009 at 6:30 অপরাহ্ন - Reply

          @আতিক রাঢ়ী, 😀
          আপনের কান্দন আপনে কান্দেন 😥

    • পৃথিবী নভেম্বর 22, 2009 at 1:24 অপরাহ্ন - Reply

      @আতিক রাঢ়ী, বলেন কি, আমি তো বইটা ঘন্টার পর ঘন্টা পড়েছি আর কেঁদেছি(মনিটরের দিকে একভাবে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মাথা ব্যাথা, চোখ ব্যাথা, পেট ব্যাথা সব একসাথে আক্রমন করেছিল)

  7. তানভী নভেম্বর 21, 2009 at 8:06 অপরাহ্ন - Reply

    @বন্যাপু,
    আচ্ছা পু, আজকাল প্রায়ই ডিসকভারি আর ন্যশনাল জিওগ্রাফিতে স্টার চাইল্ড নামে একটা ডকুমেন্টারি দেখায়,যেটাতে এক আজিব মাথার খুলি নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা বলা হয়,আর বলা হয় ঐটা নাকি এলিয়েনের মাথার খুলি।আপনি কি ঐ আজিব জিনিসটা সম্পর্কে কিছু জানেন? জানলে একটু বলেন।

    আর একটা ফসিল দেখায় যেটা না ডাইনোসর না উটপাখি টাইপের একটা ফসিল। ঊড়তে পারেনা,ছোট দুইটা না-ডানা,না-হাত টাইপের আছে, ঠোট টার উপরের অংশ কিছুটা পাখির মত সরু,নিচের চোয়াল আবার টাইরানোসরাসের মত। এটাই বা কি?

    • বন্যা আহমেদ নভেম্বর 22, 2009 at 8:48 পূর্বাহ্ন - Reply

      @তানভী, স্টার চাইল্ডের ডিএনএ অ্যনালিসিস দিয়েছে এখানে, দেখতে পারেন। কি সব অদ্ভুত অদ্ভুত কথাবার্তা! কিসের এলিয়েন, ফেলিয়েন- কোন আউল ফাউল মাথার খুলিতে ব্যারাম আলা নেটিভ ইন্ডিয়ানের খুলি হবে হয়তো 🙂
      http://www.starchildproject.com/reports_dna.htm

      • তানভী নভেম্বর 22, 2009 at 9:40 পূর্বাহ্ন - Reply

        @বন্যা আহমেদ,
        হ্যা,আপু ওই ডকুতেও একজন প্রায় একই কথা বলেছিল।
        তবে যাই হোক,খুলিটা কেমন জানি ইকটু কেমন কেমন!! :-/

  8. রাশেদ নভেম্বর 21, 2009 at 6:38 অপরাহ্ন - Reply

    ইডা (Ida) নিয়ে কি আপনার কোনো লেখা আছে?

    • বন্যা আহমেদ নভেম্বর 22, 2009 at 8:12 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রাশেদ, ইডাতো দেখি সাড়ে চার কোটি বছর আগের লেজওয়ালা ভুত। মাত্র ৪৩ লক্ষ বছর আগের আর্ডির ভুত নিয়াই এখনো হিমসিম খাইতেসি, অতদুর এখনো আর যাওয়া হয় নাই। বিবর্তনের পথ ধরে বইটাতে ওই সময়ের ফসিল নিয়ে কিছু মনে হয় লিখেছিলাম, দেখতে হবে। তবে এটা মনে হয় এক্কেবারে নতুন আবিষ্কার। মানুষের পূর্বপুরুষেরা এমন পরিবেশে বাস করতো যেখানে খুব সহজে ফসিল হয় না, তাই এরকম ফসিল পেলে বেশ হৈ চৈ পড়ে যায়। ধন্যবাদ লিঙ্কটা দেওয়ার জন্য, মানুষের বিবর্তনের উপর বইটা যদি কোন্দিন লেখা হয় তাইলে কাজে লাগবে।

      • রাশেদ নভেম্বর 22, 2009 at 1:58 অপরাহ্ন - Reply

        @বন্যা আহমেদ, ডকুমেন্টরিটা সরাসরি দেখতে এখানে যেতে পারেন। আরো ভালো মানের জন্য Atheistmovies থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

  9. ফরহাদ নভেম্বর 21, 2009 at 12:30 অপরাহ্ন - Reply

    দুরো বন্যা (দি বা আপা বল্লাম না, আমার এখন মধ্য ৫০) কি সব ফাউল
    কথা বলেন, এই সব আর্ডি ফার্ডি ভূযা কথা । একদিন আল্লাহ আকাশ থেকে
    টুপ করে আদনকে পৃথিবীতে ফেলে দিরেছিল,কাপড় চোপড় পরা অবস্হায়।
    পরদিন সকালে জমি চাষ করতে মাঠে যেতে হলো (কি কস্ঠ কিস্ঠ!!),
    এই দিকে হাওয়া বিবি রান্না বান্না করে স্বামীর অপেক্ষায় বসেছিল (কি কস্ঠ্
    কি কস্ঠ)।আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম(জান্নাতে)।তারপর তাদের ছেলে মেয়ে
    হলো, তাদের নধ্যে বিয়ে হল,তাদের ছেলে নেয়ে হল,……………
    এত সোজা ব্যাখ্যা রেখে আনাদের ছাথাটা আউলাইয়া না দিলে চলে না?? :-X

    • তানভী নভেম্বর 21, 2009 at 7:59 অপরাহ্ন - Reply

      @ফরহাদ,
      আসলেই। বিবর্তন যতই পড়িবেন, ততই মাথার চুল ছিড়িতে ইচ্ছা হইবে,আর মনে হইবে ঈশ্বর থাকিলেই বোধহয় ভালো হইতো।তাইলে বিবর্তন ও পড়িতে হইতো না,মাথায় ও টাক পড়িত না!! :laugh:

    • বকলম নভেম্বর 21, 2009 at 9:56 অপরাহ্ন - Reply

      @ফরহাদ ভাই,
      আর আপনিও মধ্য পঞ্চাশে এসে এসব নিয়ে মাথা জটিল করছেন। আমাদের বাবা চাচা খালুদের মত রিটায়ারমেন্ট করে দাড়ি বড় করে (তাতে মাঝে মধ্যে মেহেদি মেখে) নিয়মিত নামাজ, রোজা ইত্যাদি করলে আর এতসব ঝঞ্জাটে পড়তে হতনা। আর একবার হজ্জ না করলে কেমন দেখায়? 😀

      • ফরহাদ নভেম্বর 22, 2009 at 1:00 অপরাহ্ন - Reply

        @বকলম, আপনারা অনেক ভাগ্যবান, কত বই, কত ওয়েব সাইট, ইসলাম
        আর মোহাম্মদ সম্পর্কে আসল কথা জানার জন্য।আজ থেকে ৩০ বছর
        আগে আমার এপোস্টেসির শুরু।নামাজ রোজা তখন থেকে বন্ধ।একটি মাত্র কোরানের অনুবাদ অবলম্বন করে শুরু।২৫ বছর হল পুরো নাস্তিক।ইসলাম চ্যাট রুমে এক পাকি মুসলিম আমার বিয়ে পর্য্যন্ত বাতিল বলে ফতোয়া দিয়েছে।তবে ইচ্ছে
        আছে একবার মক্কায় যাব (হজ্জ করতে নয়) 😀 ।

        (জনান্তিকে বলে রাখি, আমি দেখতে মোটেও মধ্য ৫০ এর মত নই।
        আল্লার( :laugh: ) ইচ্ছেয় এখনও অনেক শক্ত পোক্ত আছি) 😀

    • বন্যা আহমেদ নভেম্বর 22, 2009 at 7:57 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ফরহাদ, ভালো করলেন দিদি ফিদি হাবিজাবি না বলে। মনে হয়, ছাতা না, মাথা আওলানের কথা কইসেন। ছাতা আউলাইলেও অবশ্য কোন অসুবিধা নাই। উলটানো দিয়াই না কথা 🙂
      আপনার লেখায় অনেক টাইপো আসছে, আপনি কি অন্য কোন ফন্ট ব্যাবহার করছেন?

      • ফরহাদ নভেম্বর 22, 2009 at 10:46 পূর্বাহ্ন - Reply

        @বন্যা আহমেদ, “প্রিভিউ” না দেখে পোস্ট করার ফল। লিখতে চেয়েছি
        “মাথা” হয়ে গেছে “ছাতা”, আদম হয়ে গেছে আদন।আশা করছি বুঝতে ইতর
        বিশেষ হয়নি।বাংলা ফন্ট আগে ব্যবহার করিনি ।আপনাদের বাংলা কীবোর্ড
        টিপে টিপে লিখছি। ক্ষ্যেমা ঘেন্না করে দিবেন।

  10. ইরতিশাদ নভেম্বর 21, 2009 at 6:53 পূর্বাহ্ন - Reply

    বন্যা,
    হাড্ডিগুড্ডি নিয়েই যা সুন্দর করে লিখেছ, পড়ে মুগ্ধ হলাম। এই কঠিন ও জটিল বিষয়টা বাংলায় কেন ইংরেজিতেও এত পরিষ্কার করে কেউ লিখেছে কিনা সন্দেহ। ‘সায়েন্স’-এর আর্ডি সংক্রান্ত লেখাগুলোর ওপর একটু চোখ বুলাচ্ছিলাম, বেশির ভাগই মাথার ওপর দিয়ে গেছে। তবে যেটুকু বুঝেছি তাতে মনে হলো, মজাদার আর রসালো ব্যাপারগুলো বন্যার লেখায় এখনো আসে নি। যেমন, দু’পায়ে হাঁটতে শুরু করার পর থেকে নাকি নারী-পুরুষের সম্পর্কে ব্যাপক ‘উন্নতি’ ঘটে?

    কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা (!) করছি, তোমার লেখার ইচ্ছেটা যেন বেঁচে থাকে, আগামী পর্বগুলোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছি।

    • বন্যা আহমেদ নভেম্বর 21, 2009 at 7:51 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ইরতিশাদ, ইরতিশাদ ভাই, যেইটা নিয়ে ভয় পাচ্ছিলাম, সেটার কথাই কান ধরে টেনে নিয়ে আসলেন। সাইন্স এর লেখাগুলো্ যে আপনি শুধু চোখ বুলান নাই, ভালো করেই পড়েছেন এবং বুঝেছেনও এটাই তার প্রমাণ। এই ব্যাটা লাভজয় এক দাঁতের গঠণ থেকে যে সব তত্ত্ব দিয়েছে, তা নিয়ে তো রীতিমত বিতর্কের ঝড় উঠে গেছে বিজ্ঞানীমহলে।ওইটা নিয়ে লিখতে হবে ভেবেই কিন্তু এই পর্বটা আগেভাগে শেষ করে দিয়েছিলাম, কিন্তু তাতে আর শেষ রক্ষা হইলো কই 🙂

      • ইরতিশাদ নভেম্বর 21, 2009 at 8:42 অপরাহ্ন - Reply

        @বন্যা
        লাভজয় ব্যাটা মনে হয় love আর joy ছাড়া কিছুই বোঝে না। 😀
        যাই হোক, কাটছাট না করে তুমি বিস্তারিত লিখলেই আমি খুশি হই। কিছুই বাদ দিও না। বিজ্ঞানীদের মধ্যকার বিতর্কগুলো পড়তেই বেশি মজা লাগবে। ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের আজাইরা বিতর্ক আর কত পড়া যায়?

        না হয় একটা বই-ই হয়ে যাক আর্ডির ওপরে। এমনিতেই তোমার আর একটা বই লেখার সময় ক্বাজা হয়ে গেছে।

        • বকলম নভেম্বর 21, 2009 at 9:42 অপরাহ্ন - Reply

          বন্যা আপা,
          ইরতিশাদ ভাই ঠিক ই বলেছেন, কিছুই বাদ দেবেন না। আপনি হাড্ডিগুড্ডি র কথা বলে একে রসকষহীন ভেবে কাটছাট করছেন। হাড্ডিগুড্ডি যে কত রসালো সেটা যে আমরা কুরবানী ঈদেই টের পাই তা নয়, এখানেও পাব। হাড্ডি যতই চাবাইবে ততই রস বাহির হইবে। 😛 :

  11. নাস্তিকের ধর্মকথা নভেম্বর 21, 2009 at 4:10 পূর্বাহ্ন - Reply

    মুগ্ধতা নিয়ে পড়ে গেলাম…

  12. বিপ্লব পাল নভেম্বর 21, 2009 at 3:05 পূর্বাহ্ন - Reply

    কোরান ও জাকির নায়েকের পোষ্টে কমেন্টিং ডিসেবল করা আছে। এটা কি লেখক নিজে করেছেন?

    • নাস্তিকের ধর্মকথা নভেম্বর 21, 2009 at 4:09 পূর্বাহ্ন - Reply

      @বিপ্লব পাল,
      আমি জানি না, হতে পারে আমার দ্বারাই করা- তবে অনিচ্ছাকৃত। এডমিন ইতোমধ্যে ঠিক করে দিয়েছে।
      ধন্যবাদ।

  13. সিদ্ধার্থ নভেম্বর 21, 2009 at 1:05 পূর্বাহ্ন - Reply

    মুক্তমনায় এটাই আমার প্রথম কমেন্ট। বিবর্তন সম্পর্কে আমার যৎসামান্য জ্ঞানের বেশিরভাগই বন্যা আহমেদের ‘বিবর্তনের পথ ধরে’ বই থেকে অর্জিত, বাকিটুকু অনন্ত দার কাছ থেকে জানা।
    প্রবন্ধটি লেখিকার অন্যান্য লেখাগুলোর মতোই সুখপাঠ্য।
    মু্ক্তমনার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।
    সবাইকে ধন্যবাদ।

    • অভিজিৎ নভেম্বর 21, 2009 at 8:51 অপরাহ্ন - Reply

      @সিদ্ধার্থ,

      মুক্তমনায় স্বাগতম সিদ্ধার্থ। নিয়মিত লিখুন এবং মন্তব্য করুন। মু্ক্তমনার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  14. বকলম নভেম্বর 20, 2009 at 8:18 অপরাহ্ন - Reply

    আদিল ভাই,

    ডকিন্স একটা কথা বলেছিলেনঃ যেকোন ফসিল ই ইন্টারমিডিয়েটারি ফসিল। কারণ সেই ফসিল বিবর্তনের কোন না কোন একটি বিবর্তনয়মান (এটা কি ঠিক শব্দ?, আশাকরি বন্যা আপা চোখ পাকাবেন না) পর্যায়ের স্পেসিমেন।

    বিবর্তন বিরোধীরা উজবুকের মত ভাবে মাঝপথে বোধহয় এমন ফসিল পাওয়া যাবে অনেকটা সুকুমার এর খিচুড়ির মত। (ইসসিরে, বিদেশে বইসা খিচুড়ির কথা মনে হইতাছে)। যেমন অর্ধেক মাছ, অর্ধেক স্টার ফিস। (ঠিক এই উধাহরণটাই হারুন ইয়াহিয়া দিয়ে বলেছেন যে এরকম ফসিল তো পাওয়া যায়নি- বোঝেন অবস্থা)

    তবে হ্যা, বিভিন্ন বিবর্তনয়মান (আবারো) ফেইজ এর মধ্যেকার ফসিল হয়ত আরো পাওয়া বাকী আছে। সেগুলো আস্তে আস্তে আসছে। যেমন আর্ডি।

    কম জানি তাই ঠিক কইছি কিনা বুঝতাছিনা।
    (এডমিন, লগ ইন না করেই এই মন্তব্যটি করে ফেলেছিলাম, তাই ডবল হয়ে যেতে পারে)

    • আদিল মাহমুদ নভেম্বর 20, 2009 at 9:20 অপরাহ্ন - Reply

      @বকলম,

      ভাল কথা বলেছেন। ফসিল বিদ্যা বা বিবর্তনে নেগেটিভ বিদ্যা নিয়েও আমার সাধরন জ্ঞানও তাই বলে। যেকোন ফসিলই ত ইন্টারমেডিয়েট ফসিল কারন তা আদি ও বর্তমানের মাঝামঝি কোন একটা অবস্থা। হতে পারে সেটা ৩০%, ৫০%, বা ৭০% লেভেলে। আর পৃথিবী থেকে যত প্রানী বিলুপ্ত বা মারা গেছে তাদের শতকরা খুব কমই ফসিলভূত হয়েছে, শতকরা হিসেবে মনে হয় এটা টেন্ডস টু জিরো হবে। তাই সব বিবর্তনের সব স্তরের ফসিল পাওয়া যাবার থেকে না পাওয়ার সম্ভাবনাই অনেক বেশী হবার কথা।

      এ নিয়ে এত লাফালাফি করার কি আছে বুঝি না। ভাবছিলাম আমি হয়ত কিছু একটা ধরতে পারছি না।

    • অভিজিৎ নভেম্বর 20, 2009 at 9:22 অপরাহ্ন - Reply

      @বকলম,

      ডকিন্স একটা কথা বলেছিলেনঃ যেকোন ফসিল ই ইন্টারমিডিয়েটারি ফসিল। কারণ সেই ফসিল বিবর্তনের কোন না কোন একটি বিবর্তনয়মান (এটা কি ঠিক শব্দ?, আশাকরি বন্যা আপা চোখ পাকাবেন না) পর্যায়ের স্পেসিমেন।

      আসলে এটা খুবই ঠিক কথা। বিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া। যে কোন ফসিল বা স্পেসিমেনই আসলে ভবিষ্যৎ প্রজাতির জন্য মিসং লিঙ্ক কিংবা ট্রাঞ্জিশনাল ধাপ। যেমন, বিবর্তনের ধারা থেকে আমরা জানি, আমরা স্তন্যপায়ী জীবেরা বিবর্তিত হয়েছি নীচের ধারাবাহিকতায় –

      মাছ –> উভচর –> সরীসৃপ –> স্তন্যপায়ী প্রানী।

      কাজেই উভচর জীবগুলোকে যেমন মাছ আর সরিসৃপের মিসিং লিঙ্ক বলা যেতে পারে, তেমনি সরিসৃপগুলোকে আবার উভচর আর স্তন্যপায়ী প্রানীদের মিসিং লিঙ্ক বলা যেতে পারে। কাজেই কেউ মিসিং লিঙ্কের উদাহরোন চাইলে আমি বলি – যান আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ুন। 🙂

      তবে আরো ভাল মিসিং লিঙ্কের উদাহরণের জন্য এই প্রবন্ধটি দেখা যেতে পারে।

      বন্যার বইয়েও ‘মিসিং লিঙ্ক’ গুলো আর মিসিং নেই বলে একটা অধ্যায় আছে।

      • বকলম নভেম্বর 20, 2009 at 9:56 অপরাহ্ন - Reply

        @অভিজিৎ দা,

        আরেকবার ধন্যবাদ জানাতেই হচ্ছে। ল্যামার্কীয় ভূল ধারণাটি আমার মধ্যেও ছিল। প্রবন্ধটি বেশ ভাল।

      • লাইজু নাহার নভেম্বর 21, 2009 at 1:16 পূর্বাহ্ন - Reply

        @অভিজিৎ,

        আমার মনে হয়-

        মাছ –> উভচর –> সরীসৃপ –>পক্ষী -> স্তন্যপায়ী প্রানী।

        কিছু মনে করবেননা, জুলজী পড়েছিলাম তাই।
        ধন্যবাদ।

        • বন্যা আহমেদ নভেম্বর 21, 2009 at 2:33 পূর্বাহ্ন - Reply

          @লাইজু নাহার, পাখী সরীসৃপ থেকে এসেছে কিনা এটা নিয়ে বিতর্ক আছে, কারণ পাখির বিবর্তন ঘটেছে ডাইনোসর থেকে, আর ডাইনোসররা আসলেই সরীসৃপ কিনা – যতদুর জানি, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। আর পাখী থেকে স্তন্যপায়ী প্রানী আসেনি। পাখীর বিবর্তন ডাইনোসর থেকে আলাদা লাইনে ঘটেছে।

        • অভিজিৎ নভেম্বর 21, 2009 at 3:44 পূর্বাহ্ন - Reply

          @লাইজু নাহার,

          কিছু মনে করবেননা, জুলজী পড়েছিলাম তাই।

          না, কিছু মনে করিনি, তবে আপনার জুলজী বইটা আরেকবার ঝালাই করে নিতে হবে মনে হচ্ছে। 🙂 পাখি থেকে স্তন্যপায়ী প্রানী আসে নি। পাখিও সরিসৃপ থেকে বিবর্তিত হয়েছে, তবে আলাদা লাইনে।

          আমি যে ধারাটা দিয়েছি সেটা ঠিক আছে। আপনি এটা মার্ক রিডলীর ‘ইভলুশন’ বইয়ে পাবেন। এখানে অন লাইনে রাখা বইয়ের স্যাম্পল চ্যাপ্টার থেকে ছবিটা দিচ্ছি –

          [img]http://www.blackwellpublishing.com/ridley/images/evolutionary_inference.jpg[/img]

          মাছ –> উভচর –> সরীসৃপ –> স্তন্যপায়ী প্রানী — এইটাই ঠিক ধারা।

          মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  15. আদিল মাহমুদ নভেম্বর 20, 2009 at 6:50 অপরাহ্ন - Reply

    যা বুঝলাম তাতে মনে হল আর্ডি ভূমির মানুষ আর গাছের বনমানুষ দুইয়ের বৈশিষ্ট্যই আছে।

    তবে বুঝতে পারলাম না শুরুর ২ নং আর্গুমেন্টের যথার্থতাঃ

    “এতদিন যে ধারণা করা হত, মানুষ শিম্পাঞ্জীর মত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কোন সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়ে আজ এখানে এসে পৌঁছেছে তাও সম্পূর্ণভাবে গ্রহনযোগ্যতা হারাচ্ছে।”

    বিশেষ করে আর্ডি যখন “বানর, মানুষ, বনমানুষ আর তাদের সাধারণ পূর্বপুরুষদের এক অভুতপূর্ব মিশ্রণ” হয় তাহলে কি সেটা বরং এই পূর্বতন ধারনাকে দৃঢ়ই করে না? সাংঘর্ষিক কোথায়?

    আর বিবর্তনের বিরুদ্ধে একটা বড় আর্গুমেন্ট শোনা যায় মিসিং লিংক এর ব্যাপারে। যা বুঝি তাতে বিবর্তন অস্বীকার করারা দাবী করেন যে আজ পর্যন্ত কোন ইন্টারমেডিয়েট ফসিল পাওয়া যায়নি যা বিবর্তনকে নাকি সমর্থন করে। এ সম্পর্কে বন্যা বা আর কেউ কি একটু বিস্তারিত বলবেন?

    • বকলম নভেম্বর 20, 2009 at 8:13 অপরাহ্ন - Reply

      @আদিল ভাই,

      ডকিন্স একটা কথা বলেছিলেনঃ যেকোন ফসিল ই ইন্টারমিডিয়েটারি ফসিল। কারণ সেই ফসিল বিবর্তনের কোন না কোন একটি বিবর্তনয়মান (এটা কি ঠিক শব্দ?, আশাকরি বন্যা আপা চোখ পাকাবেন না) পর্যায়ের স্পেসিমেন।

      বিবর্তন বিরোধীরা উজবুকের মত ভাবে মাঝপথে বোধহয় এমন ফসিল পাওয়া যাবে অনেকটা সুকুমার এর খিচুড়ির মত। (ইসসিরে, বিদেশে বইসা খিচুড়ির কথা মনে হইতাছে)। যেমন অর্ধেক মাছ, অর্ধেক স্টার ফিস। (ঠিক এই উধাহরণটাই হারুন ইয়াহিয়া দিয়ে বলেছেন যে এরকম ফসিল তো পাওয়া যায়নি- বোঝেন অবস্থা)

      তবে হ্যা, বিভিন্ন বিবর্তনয়মান (আবারো) ফেইজ এর মধ্যেকার ফসিল হয়ত আরো পাওয়া বাকী আছে। সেগুলো আস্তে আস্তে আসছে। যেমন আর্ডি।

      কম জানি তাই ঠিক কইছি কিনা বুঝতাছিনা।

    • বন্যা আহমেদ নভেম্বর 20, 2009 at 9:31 অপরাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ, আদিল, ঠিকই ধরেছেন কোন সংঘর্ষ নেই এখানে। মানুষ আর আধুনিক বনমানুষেরা যে একই সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে তা নিয়ে কোন সংশয় নেই। ফসিল রেকর্ড আর জেনেটিক তথ্য থেকে যতদুর বোঝা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে এ নিয়ে কোন সমস্যা নেই। সমস্যাটা হচ্ছে, আমাদের অই সাধারণ পূর্বপুরুষের বৈশিষ্ট্য কেমন ছিল তা নিয়ে। এতদিন ভাবা হত যে, তারা শিম্পাঞ্জীর মত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ছিল, এবং তারপর সেখান থেকে বিবর্তিত হয়ে আমরা এখানে এসে পৌঁছেছি। এখন আর্ডির বৈশিষ্ট্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের সাধারণ পূর্বপুরুষেরা আসলে শিম্পাঞ্জীর থেকে অনেক বেশী বানরের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ছিল। তারপর ভাগ হয়ে যাওয়ার পর শিম্পাঞ্জীরা আলাদাভাবে বিবর্তিত হয়ে নাকল ওয়াকিং এর মত বৈশিষ্ট্যগুলোতে অভিযোজিত হয়েছে। সেকথাটাই বারবার বলার চেষ্টা করেছি লেখাটাতে, হয়ত ঠিকমত পরিষ্কার হয়নি……
      আর হ্যা বকলম ঠিকই বলেছেন, অনেকে বিজ্ঞানীই মিসিং লিঙ্ক কথটা পছন্দ করেন না। আসলেই তো, কালের কোন একটা নির্দিষ্ট মূহূর্তে যে কোন প্রজাতি স্বয়সম্পূর্ন। কিন্তু বিবর্তন যেহেতু অনবরত সব প্রজাতির উপর কম বা বেশি ঘটে চলেছে, কয়েক হাজার বা লক্ষ বছর আগে বা পিছে তাকালে সব প্রজাতিকেই অন্তবর্তী কিছু একটা বলে মনে হবে, একথাটাই আসলে বলার চেষ্টা করেছিলাম লেখাটার নীচে নোট সেকশানে।
      আর মিসিং লিঙ্ক পাওয়া যায়নি, একথাটা শুধু ভুলই নয়, বরং যারা বলে তারা হয় মহা মিথ্যুক না হলে মহা অজ্ঞ। ফসিল রেকর্ডের ইতিহাসই তো মিসিং লিঙ্কে ভরা। তিমির মাটি থেকে পানিতে অভিযোজিত হওয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় সব মধ্যবর্তী ফসিল পাওয়া গেছে। মানুষেরও তো লুসি, আর্ডি সহ আরো বেশ কিছু ফসিল পাওয়া গেছে, মাছ থেকে ডাঙ্গায় বিবর্তনের মধ্যবর্তী ফসিলেরও তো অভাব নেই। আমার বইটার ‘মিসিং লিঙ্কগুল আর মিসিং নেই’ অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলাম এ নিয়ে, ডিটেইলস চাইলে ওটা পড়তে পারেন।

      • আদিল মাহমুদ নভেম্বর 20, 2009 at 11:17 অপরাহ্ন - Reply

        @বন্যা আহমেদ,

        ধণ্যবাদ সুন্দর করে ব্যাখ্যা করার জন্য।

        বুঝতে না পারার দায় আপনার নয়, আমার। আমার মোটা মাথায় যা বানর তাই শিম্পাঞ্জী, তাই বেবুন কিংবা গরিলা লেমুর এ জাতীয় ধারনা আগে থেকেই গেড়ে ছিল বলে আমি ব্যাপারটা প্রথমে ধরতে পারিনি। জীববিজ্ঞানীদের কাছে যে বানর শিম্পাঞ্জীর তফাত অনেক বড় তা আমার মাথায় এজন্য আসেনি।

        মিসিং লিংকের কথামালার প্যাচও এখন পরিষ্কার বুঝতে পারছি। বকলম সাহেব নিজের নামের স্বার্থকতা প্রমান করতে পারেননি। অভিজিতের ঐ চমতকার আর্টিকেলটাও আগে পড়িনি কারন মাত্র কিছুদিন আগেও আমার বিবর্তনে কোন আগ্রহই ছিল না। আপনার বই এর সেই চাপ্টার পড়েছিলাম, তবে তারপরেও খটকা ছিল যেভাবে বিরোধীতা একে পুজি করে গলাবাজি করেন তা শুনে।

  16. সংশয় নভেম্বর 20, 2009 at 2:21 অপরাহ্ন - Reply

    আর রায়হান কিংবা ফরিদ ভাইদের মত

    ফরিদ না ফুয়াদ ভাই ????? 😕

    • ফরিদ আহমেদ নভেম্বর 20, 2009 at 6:21 অপরাহ্ন - Reply

      @সংশয়,

      আর রায়হান কিংবা ফরিদ ভাইদের মত মানুষদের মিথ্যা প্রপাগান্ডা ভুল প্রমাণ করার জন্যও বাকিটা লিখতেই হল ।

      এ্যাঁ!!! বন্যার কোন পাকা ধানে মই দিয়েছিলাম আমি? :-X

      • অভিজিৎ নভেম্বর 20, 2009 at 6:52 অপরাহ্ন - Reply

        @ফরিদ আহমেদ,
        ঠিক শিওর না ম্যাডামে রায়হান আর ফরিদ ভাইয়ের পেছনে লাগছে ক্যান, তবে যতদূর বুঝতেছি এই প্রপাগান্ডাগুলোর কথা কইতেছে মনে হয়-

        তাড়াতাড়ি পরের পর্ব দিবেন আশা করি। তিন বছর লাগায়েন না।

        রায়হান আবীর

        বাংলা ব্লগে একটা কথা বহুল প্রচলিত আছে। যদি কোন লেখার শেষে লেখা থাকে যে চলবে, তবে ধরে নিতে হবে যে এই লেখার এখানেই ইতি।

        ফরিদ আহমেদ

        ছোটবুদ্ধিতে আমার তাই মনে হইলো। বন্যা আরেকটি পর্ব (তিন বছরের আগেই) লিখিয়া প্রমাণ করিলো লেখার এখানেই ইতি নহে। ঠিক না?

        • ফুয়াদ নভেম্বর 20, 2009 at 7:11 অপরাহ্ন - Reply

          @অভিজিৎ,

          তাহলে ফরিদ ভাই ঈ ধরা খাইলেন । আমি না । :laugh: :laugh: :laugh: 🙂 :laugh: :laugh: 😀

      • বন্যা আহমেদ নভেম্বর 20, 2009 at 7:15 অপরাহ্ন - Reply

        @ফরিদ আহমেদ, ফরিদ ভাই, ডরাইলেন নাকি? কি মুশকিল, ফাজলামিও বুঝতেসেন না আজকাল 🙂 । না পাকা ধানে মই দেন নাই, তবে একখান ভবিষদবানী করসিলেন, ওইটার কথা কই।
        যাক, অভি শেষ পর্যন্ত আমার ডিফেন্সে আগায় আসছে, এই প্রথম… হ্যা এই দুইটা মন্তব্যের কথাই বলসিলাম।

    • ফুয়াদ নভেম্বর 20, 2009 at 7:26 অপরাহ্ন - Reply

      @সংশয়,
      আপনি ফরিদকে প্রিডিকশন করে যেভাবে ফুয়াদ বানাই য়া ফেললেন । ঠিক সেভাবেই কিছু বিজ্ঞানীরা আর্ডিকে মানুষের পুর্বপুরুষ বানাইয়া দিয়াছেন । ভবিষত্‌ এ বিজ্ঞানীরা অন্য কথাও বলতে পারেন । ধন্যবাদ ।

      • বন্যা আহমেদ নভেম্বর 20, 2009 at 7:43 অপরাহ্ন - Reply

        @ফুয়াদ, একটা অনুরোধ করি আপনাকে, যাতে এই এ লেখাটাও আবার আগের পর্বের মত ক্যাচালে পরিণত না হয়। শোনেন, এটা একটা বৈজ্ঞানিক লেখা, আপনি মন্তব্য করবেন, খুবই ভালো কথা। কিন্তু যে কোন সিদ্ধান্ত দেবার আগে তা কোন বৈজ্ঞানিক লেখা, বই বা জারনালের পরিপ্রেক্ষিতে করছেন, তা দয়া করে একটু বলে দেবেন। তা যদি করতে না পারেন তাহলে এই লেখাতে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

      • আদিল মাহমুদ নভেম্বর 20, 2009 at 8:09 অপরাহ্ন - Reply

        @ফুয়াদ,

        বন্যার উপদেশ কিন্তু খুবই যুক্তিসংগত। আপনার ব্যক্তিগত ধারনা থাকতেই পারে, তাতে কারোই আপত্তি নেই। কিন্তু বৈজ্ঞানিক লেখায় শুধু ধারনা, আমার মনে হয় এ জাতীয় কথাবার্তার কোন মূল্য নেই। খামোখাই সময় নষট করে।

        আমিও আর্ডির বিরুদ্ধে কি বলার আছে শুনতে খুব আগ্রহী, তবে কোনরকম প্রলাপ নয়। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে উপযুক্ত ও সম্পর্কযুক্ত রেফারেন্সহ শুনতে চাই। বৈজ্ঞানিক আলোচনার নামে কোন মহানাস্তিক আস্তিকে পরিণত হল, এভিস হতে ম্যামালের বিবর্তন কেউ চোখে দেখেনি বা ভাল্লুক থেকে তিমি মাছের আবির্ভাবের কোন ভিডিও টেপ নেই বা ল্যাবরেটরিতে করে দেখাতে পারা যাবে না এ ধরনের যুক্তি নয়।

        আর্ডির বিরুদ্ধে কোন কোন জীব বিজ্ঞানী কোন কোন প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নালে বলেছেন রেফারেন্সহ আমাদের জানান, সত্য সত্যই সাদরে গ্রহন করব।

        দার্শনিক দৃষ্টিতে আপনার কথা ঠিক। বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে অন্য কথা বলতেও পারেন। আমরা জানি পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। কিন্তু সম্ভাবনা আছে যে কোন মহাজাগতিক বিপর্যয়ে এ নিয়মের বাত্যয় ঘটতে পারে। অর্থাত পৃথিবী আর ঘুরল না, আমরা সবাই মারা যাব ঠিক সে প্রসংগে যাচ্ছি না। তবে এর ফলে কি আমরা বলতে পারি যে বিজ্ঞানীরা এতদিন যা বলে আসছিলেন তা ভুল ছিল?

        মানুষ ৩৭ লক্ষ, ৬০ লক্ষ নাকি ২ কোটী বছর আগে বিবর্তিত হয়েছে সে বিভ্রান্তির জন্য কি বিবর্তন তত্ত্ব ভুল বলা যায়? এমনকি মানুষ বানর শ্রেনী নয়, অন্য কোন ম্যামাল থেকে এসেছে এটাও পরে আবিষ্কার হয় তাও কি বিবর্তনকে ভুল বলা যায়?

মন্তব্য করুন