তাজউদ্দিন কন্যা শারমিন আহমেদ রীপির ভাষ্যে জেল হত্যাকান্ড

By |2009-11-04T21:09:43+00:00নভেম্বর 4, 2009|Categories: ব্লগাড্ডা|11 Comments

আমি শারমিন রীপির মুখে, এই ভাষ্য শুনি আজথেকে তিন বছর আগে। তিনি যখন লস এঞ্জেলেসে এসেছিলেন। সেটাও ছিল এই ৪ টা নভেম্বর। এই লেখাটা তখনই লিখেছিলাম। কিন্ত অডিওটা হারিয়ে গেছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে আমার জ্ঞান খুব ভাসা ভাসা। তাই নিজের কিছু বক্তব্য আমার এই ব্যাপারে নেই। হয়ত কোনদিন আরো গভীরে জানব কি কি ঘটেছিল-ঠিক কেন ঘটেছিল। এই পর্বে শুধু শারমিন রীপির মুখে যা শুনেছিলাম ঘন্টা চারেক, সেটা নিয়েই লিখেছিলাম।

এই লিংকে ক্লিক করুন।
:pdf:

About the Author:

আমেরিকা প্রবাসী আলোক প্রযুক্তিবিদ ও লেখক।

মন্তব্যসমূহ

  1. আদিল মাহমুদ নভেম্বর 4, 2009 at 7:43 অপরাহ্ন - Reply

    ঠিক।

    মোশতাক কোনদিন তাজুদ্দিনেকে পছন্দ করেনি, কারন জানত সে তার ধারে কাছেও নয়।

    ৭১ এ আমেরিকার মধ্যস্থাতায় পাকিস্তানের সাথে জয়েন্ট কনফেডারেশন করার বিনিময়ে বন্দী মুজিবকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মোশতাক পাকিস্তানী জান্তার সাথে দুতিয়ালী করেছিল, যার সরল অর্থ ছিল মুক্তিযুদ্ধে সেখানেই খতম। তাজুদ্দিনের দুর্দশীতায় সেদিন জাতি সেই মহাবিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছিল। তারপ্র থেকেই মোশতাক গং ছিল কোনঠাসা।

    এই পরাজয় ও অপমান মোশতাক কোনদিন ভুলতে পারেনি।

    বংগবন্ধুর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল তিনি আশে পাশের লোকদের ব্যাপারে শক্ত হতে পারতেন না, তারই মাষুল তাকে দিতে হয়েছে জীবন দিয়ে। মোশতাকের ৭১ এর ভূমিকা তিনি ভালই জানতেন।

  2. আদিল মাহমুদ নভেম্বর 4, 2009 at 9:36 পূর্বাহ্ন - Reply

    পোষ্টের কি আর অংশ আছে? টপিকের সাথে লেখা পুরো মেলে না। টপিক অনুযায়ী হত্যা পর্ব মূখ্য হবে ভেবেছিলাম। এখন মনে হল এটা তাজুদ্দিন সম্পর্কে অনেকটা আপনার মুল্যায়ন।

    অবশ্য শারমিন রিপির নিজ মুখে বলা হত্যা পর্ব ইউটিঊবে আছে।

    httpv://www.youtube.com/watch?v=SiWSaLy_qFE

    আমার কাছে ওনার বড় বোন সিমিন আহমেদ রিমির বাবাকে নিয়ে লেখা বইটি আছে। ওখানেও বিস্তারিত আছে।

    আমি ব্যক্তিগতভাবে কোণ মানুষকে আদর্শ ধরা বা দেবজ্ঞানে পূজো করায় মোটেও বিশ্বাসী না। কিন্তু তাজউদ্দিনের কথা আমি যখনই ভাবি তখনই মনে হয় যে এমন একটা অকৃতজ্ঞ জাতির মানুষ আমরা যারা এই মানুষটাকে তার প্রাপ্য সম্মান তো দুরের কথা, কুকুরের মত মেরেও ক্ষান্ত দেইনি। খুনীদের রাজকীয় সম্মান দিয়েছি। আইন করে বিচার নিষিদ্ধ করেছি। কোন ধর্ম বা নৈতিকতায় এমন আচরন জাষ্টিফাই করা যায়?

    এই তাজউদ্দিন মুক্তিযুদ্ধের নয়মাস কলকাতায় থাকা অবস্থায় একই শহরে নিজের পরিবারের সাথে দেখা করেছেন মাত্র হাতে গোনা কয়েকবার। তার সমগ্র ধ্যান জ্ঞান ছিল শুধু বাংলাদেশ। ২৫শে মার্চ রাতেই তিনি স্ত্রী দুধের বাচ্চাদের আল্লাহর হাতে সমর্পন করে ভারতের পথে পালিয়ে যান। এর বেশ কয়েকদিন পর আবার পরিবারের সাথে নানান ঘাত প্রতিঘাতের পর দেখা হয় কলকাতায়। কিন্তু তিনি ৫ মিনিটের বেশী সেই সাক্ষাতে ব্যায় করেননি। প্রিয় কন্যাদের শুধু ভাল থেকো বলেই চলে যান কর্তব্যে। এমনও দিন গেছে তিনি একই বিল্ডিং এ থাকা দলের অন্য নেতার সাথে দেখা করতে গেছেন, কিন্তু নিজ পরিবারের সাথে দেখা না করেই ফিরে এসেছেন। দুধের ছেলে, ছোট ছোট মেয়ে সবার থেকে বড় করে দেখেছেন নিজ দেশ। কারন ১৭ই এপ্রিল মুজিব নগর সরকার প্রতিষ্ঠার পর তারা চার নেতা প্রতিজ্ঞা করেছেন যতদিন না দেশ স্বাধীন হবে ততদিন তারা পারিবারিক জীবন যাপন করবেন না। অক্ষরে অক্ষরে কথা রেখেছেন এই মানুষটি। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটা রাত যে অল্প কিছুক্ষন ঘুমাতেন থাকতেন থিয়েটার রোডের নিজের অফিসেই (মীজান সাহেবের আজকের ইংরেজী লেখায় এ পর্ব আছে)। এমন মানুষ কয়জন হতে পারে?

    একবার তার স্ত্রী অন্য লোক মারফত খবর পান তিনি খুব অসূস্থ, অধিক পরিশ্রমে পুরনো ডায়াবেটিক বেশ ভোগাচ্ছে। তিনি ছুটে গেলেন তার অফিসে মেয়েদের নিয়ে। দেখলেন তিনি তার অফিসে নেই, জ্বর নিয়ে বাথরুমে কাপড় কাচছেন। জামা তো মোটে দুটি। পরদিন আবার টেড কেনেডীকে নিয়ে রনাংগনে যাবেন, তাই জ্বরের সূযোগে শার্ট কেচে নিচ্ছেন।

    যুদ্ধের সময় ঈদের দিন ভারত সরকারের কেউ তার অফিসে এক ঝুড়ি ফল উপহার দিয়েছিল, তার পরিবার তখন এক পেটা আধা পেটা খেয়ে দিন চালাচ্ছে। তিনি একটি ফলও নিজ বাড়িতে পাঠাননি, পুরো ঝুড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন ফ্রন্টে প্রিয় মুক্তিযোদ্ধা ছেলেদের জন্য।

    কলকাতা সময় তখন ঢাকা থেকে আধা ঘন্টা পেছনে। এই মহান লোকটি তার প্রিয় মাতৃভূমির সম্মানে পুরো নমাস নিজের হাতঘড়িতে ঢাকার সময়ই রেখে দিয়েছিলেন, ভারতীয় সময় বদলাননি।

    এমন মানুষের জন্য পৃথিবীর কোন ভাষায় উপযুক্ত কোন অভিধা আছে বলে আমার জানা নেই, তাই তাকে শুধু দেশপ্রেমিক মহান এসব বলে ছোট করতে চাই না।

    অথচ এই লোকটিকেও আমাদেরই দেশের বেশ কিছু লোকে বলে বেড়ায় ভারতের দালাল, সেক্যুলার নাস্তিক হেনতেন। এই দূঃখ রাখি কোথায়? কুলাংগার সন্তান কাকে বলে?

    তার নিজের বাক্যই আমরা সত্য প্রমান করেছিঃ

    “মুছে যাক আমার নাম, বেচে থাক বাংলাদেশ”।

    তার যুদ্ধকালের সহকর্মীদে তিনি বলতেনঃ

    “আসুন আমরা এমনভাবে কাজ করি ভবিষ্যতে যখন ঐতিহাসিকরা বাংলাদেশের ইতিহাস রচণা করবে তখন যেন আমাদের খুজে পেতে কষ্ট হয়”।

    • তানভী নভেম্বর 4, 2009 at 10:50 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ,
      কিছু বলার নেই,
      বই গুলো আমিও পড়েছিলাম,পড়ে মনে হল রাগে দুঃখে মরে যাই।

      হায়রে বাঙালী জাতি! হায়রে আওয়ামিলীগ!
      বঙ্গবন্ধুর নামে রাস্তা ঘাট,স্টেডিয়াম,ব্রীজ পারলে কয়দিন পরে গাছপালার নামও বঙ্গবন্ধুর নামে নাম রাখা হবে! কিন্তু আওয়ামিলীগের অন্যতম ভিত্তি,বঙ্গবন্ধুর ডান হাত, তাজউদ্দিনের নামে কোন কিছুরই নাম করন করা হলনা আজ পর্যন্ত! (আমার জানা মতে)

      আওয়ামিলীগের এই দৈন্য তারা কোথায় রাখবে! তাদের কাজকর্ম দেখলে মনে হয় তাজউদ্দিনের সাথে তাদের শত্রুতা আছে! নাইলে মুক্তিযুদ্ধের এই মহান নেতার প্রতি তাদের এত উদাসীনতা কেন? যেখানে বঙ্গবন্ধুর পরে সব সময় তার নাম আসার কথা,সেখানে তার নাম শুধু বছরে এক বার এই জেলহত্যা দিবসে আসে কেন?

      মাঝে মধ্যে বাঙালী হয়ে বাচঁতেও ঘেন্না হয়।

      • আদিল মাহমুদ নভেম্বর 4, 2009 at 6:37 অপরাহ্ন - Reply

        @তানভী,

        আমারো তাই মনে হয়। যে জাতি নিজের যোগ্য নেতাদের যোগ্যতার সম্মান দিতে জানে না তাদের কপালে যে খুব ভাল কিছু নেই বুঝতে বিরাট দার্শনিক হতে হয় না।

        তবে এসব নেতাকে শুধু আওয়ামী লীগের গন্ডিতে বেধে রাখতে হবে এ ধারনার আমি তীব্র বিরোধী।

        বংগবন্ধু, তাজুদ্দিন সহ মুক্তিযুদ্ধের সব নেতা এরা কেউই দলের নেতা নন। এরা সমগ্র জাতির গর্ব। এদেরকে দলীয় লেবেল লাগানো মানে খুব সংকীর্ণতার পরিচয়।

        অবশ্য তাই হয়েছে, জয় বাংলা ছিল সব মুক্তিযোদ্ধার শ্লোগান, বলা যায় মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় শ্লোগান। সেই জয়বাংলাকে ৭৫ এর পরে বানানো হয়েছে দলীয় শ্লোগান। এর কি জবাব জিয়া-এরশাদের সমর্থকরা দিতে পারেন তা আমি জানি না।

        ৭৫ এর পরে পুরো জাতিকে খুব সফলতার সাথে বড় স্থূলভাবে বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে। সবচেয়ে দূঃখের কথা এই বিভক্তিতে অনেকেই খুশী হয়েছে।

        এদেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মতন মানুষ খুব বেশী নেই।

      • সৈকত চৌধুরী নভেম্বর 5, 2009 at 2:11 অপরাহ্ন - Reply

        @তানভী,
        বন্ধু, আমিওতো একই কথা বলি।
        তোমার মন্তব্যগুলো আমি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে পড়ি।প্রায়ই দেখা যায় আমি যা বলতে চাচ্ছি তাই খুব গুছিয়ে তুমি বলেছ। ধন্যবাদ।

        • তানভী নভেম্বর 6, 2009 at 11:52 পূর্বাহ্ন - Reply

          @সৈকত চৌধুরী,
          ধন্যবাদ

      • আদিল মাহমুদ নভেম্বর 5, 2009 at 6:29 অপরাহ্ন - Reply

        @তানভী,

        যুদ্ধোত্তর বংগবন্ধু সম্পর্কে আমারো একই ধারনা হয়েছে।

        বিশেষ করে তাজউদ্দিনের সাথে তার সম্পর্ক অবনতি হবার একটা কারন ছিল ভারত বিষয়ে দুজনের দুধরনের দৃষ্টিভংগী যা আমি তাদের কাছের লোকদের থেকে শুনেছি। বংগবন্ধু চাইতেন ভারতের প্রভাব বলয় থেকে সরাসরি বেরিয়ে যেতে। অন্যদিকে তাজউদ্দিনের মতামত ছিল বেশ কিছুটা ভিন্ন। তিনি ছিলেন অনেক বেশী দূরদর্শী ও বাস্তববাদী। বান্ধবহীন এমনকি স্বীকৃতিহীন নব্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য যে একমাত্র নির্ভরযোগ্য মিত্র ভারতের সাথে সরাসরি কোন বিরোধে না গিয়ে অন্তত পায়েরে নীচের মাটি শক্ত না হওয়া পর্যন্ত মানিয়ে চলা ভাল এটা তিনি বুঝতেন

        এমনও নাকি বাক্য বিনবিনিময় হয়েছে যখন তাজউদ্দিন সৈয়দ নজরুল এরা বংগবন্ধুকে বলেছেন; আপনি তো নমাস জেলে ছিলেন বাস্তবতার কিছুই জানেন না। তাজউদ্দিনের এই মনোভাবের জন্য তাকে খুব সহজের ভারতের দালাল বলে উপাধি পেতে হয়েছে। এই সুযোগে বংবন্ধুর কান ভারী করে স্থান করে নিতে পেরেছে মোশতাক। সে বংবন্ধুকে বুঝিয়েছে যে আমেরিকার সাথে মিত্রতা ছাড়া গতি নেই, আর এজন্য দালালীর জন্য সেই সবচেয়ে উপযুক্ত লোক।

        বংগবন্ধু সম্পর্কে আগেই বলেছি, তিনি যত বড় মাপের নেতা ছিলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন ততই দুর্বল। তিনি বড় বেশী আবেগ নির্ভর, সবাইকে অতি আপন, তুই তোকারী, এভাবে কি প্রশাসন চলে? প্রশাসনের প্রধান শর্ত সবাইকে খুশী রেখে প্রশাসন চালানো যায় না। তাজউদ্দিনের এই গূনটি ছিল অতুলনীয়। ঢাল তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারকে যেভাবে তিনি আত্মমর্যাদার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাতে ইন্দিরার মত প্রবল ব্যক্তিত্বশালী নেতৃও তার ব্যক্তিত্ত্ব শ্রদ্ধা করতেন। চিন্তা করে দেখুন, ২৫ শে মার্চের পর প্রবল পরাক্রমধালী পাকিস্তানী সরকারের কছে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কিন্তু অনেকটা হাস্যকর থিয়েটারী ব্যাপারের মত।

        তাজুদ্দিন কিন্তু যুদ্ধের সময় ভারতীর নেতাদের ইস্পাত কঠিন দৃঢতার সাথে বলতেন যে এটা হল আমাদের যুদ্ধ, আমাদেরই লড়তে হবে। তোমাদের সাহায্য আমাদের অবশ্যই দরকার, তবে আমাদের যুদ্ধ আমরাই লড়ব। এটা খুবই দুরদর্শী নেতার লক্ষন।

    • বিপ্লব পাল নভেম্বর 4, 2009 at 5:56 অপরাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ, আরেকটা পার্ট ও ছিল। আমি হারিয়ে ফেলেছি। আসলে উনার অডিওটা ছিল ১ ঘন্টার। আমি মূলত জানতে চেয়েছিলাম উনার সাথে বঙ্গবন্ধুর ফাটলটা ধরল কিভাবে। সেটা বেশ লম্বা ইতিহাস। অনেক অনেক কারন আছে-তবে, মুলত মুজিব মন্ত্রীসভাতে যে কোরাপশন ঢুকছিল, তা তিনি মেনে নিতে পারেন নি। কারন মুজিব এসব জেনেও যেকোন কারনেই হোক, কোন স্টেপ নিচ্ছিলেন না। এই নিয়ে নাকি তাদের অনেক বচসাও হয়। তবে তা ব্যাক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট করে নি। এগুলো বাকশালের অনেক আগের ঘটনা।

      তাজউদ্দিন কেন বঙ্গবন্ধু ক্যাবিনেট ছাড়লেন-সেই ইতিহাস যদি কেও ঠিক ঠাক জানে -তা বঙ্গবন্ধুর জন্যে খুব উজ্জ্বল অধ্যায় হবে না। আবার মুজিবের দিকের ইতিহাসটা আমি ঠিক ঠাক জানি না-কি কি কারনে উনি দুর্নীতি মেনে নিচ্ছিলেন। কারন সেই সময় বাংলাদেশকে অনেক দেশের সাহায্য নিয়ে চলতে হচ্ছিল। সেই সব দেশগুলি গুপ্তচর মারফত তার ওপর কি চাপ দিচ্ছিল, সেটাও জানার উপায় নেই। দেশের লোককে খাওয়ানোর তাগিদে মুজিবকে কি কি আপস করতে হয়েছে, সেই ইতিহাসও কিন্তু অজানা। ৭১-৭৬ বাংলাদেশের ইতিহাস আমার কাছে ধাঁধার মতন। অনেক প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাই না। হয়ত আপনারা জানেন, আমি জানি না। অথবা ইতিহাসটাই অসম্পূর্ন।

      • আদিল মাহমুদ নভেম্বর 4, 2009 at 6:50 অপরাহ্ন - Reply

        @বিপ্লব পাল,

        তাজুদ্দিনের শেষ দিনগুলি ভাল যায়নি। না, তিনি মন্ত্রীত্ব হারিয়ে দূঃখী হননি। তার মত মানুষে মন্ত্রীত্ত্ব নিয়ে মাথা ঘামায় না। তিনি চিন্তিত হয়েছিলেন দেশের ভবিষ্যত ভেবে। বিশেষ করে বাকশাল গঠন করার পর তার আর কোনই সন্দেহ ছিল না।

        মুজিব হত্যার পর তিনি নিজেই বলেছিলেন যে তাদেরও আর বেশী দেরী নেই। মুজিবের রাজনৈতিক সিদ্ধানের যতই অখুশী হন, ব্যক্তি মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধায় কোন ভাটা পড়েনি। তিনি প্রায়ই বলতেন; বংবন্ধুকে মেরে ফেলেছে, আমাদের বেচে আর কি হবে।

        তবে মুজিব সম্পর্কে আমার মূল্যায়ন অনেকটা আপনার মত। তিনি যত বড় জননেতা ছিলেন তত বড় রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না। তার প্রাশসসিক দূর্বলতা ছিল প্রকট। ব্যক্তি মুজিবের উপর উঠে প্রধানমন্ত্রী মুজিব হয়ে উঠতে তার খুবই সমস্যা হত। জিয়ার হাজার বদলান করলেও কিন্তু এই গুনটি ছিল। তিনি তার আশেপাশের লোকজনের ব্যাপারে কোনদিন কঠিন হতে পারেননি। নিজের পরিবারে প্রতিও কঠিন হতে পারেননি।

        তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে ৭১ বাংলাদেশ শুরু করতে হয়েছিল তাকে শুণ্য নয়, বলা যায় মাইনাস থেকে। সে অবস্থায় অন্য কেউ থাকলেও কতটা কি করতে পারেন সে বিতর্ক হাইপোথিটিকাল হলেও থেকেই যায়। তবে এ বিতর্কে না গিয়েও বলা যায় যা মুজিবের ব্যক্তিগত দূর্বলতা ছিল প্রবল, সাথে প্রচন্ড আত্নবিশ্বাস। একটা ঘটনা শুনেছিলাম কে এক লোকে তাকে মারার জন্য তার বাড়িতে ঢুকে যায়, প্রধানমন্ত্রী অবস্থাতেও তার নিরাপত্তা ছিল খুবই নাজুক। তিনি সেই লোককে নাকি নিজের কাছে বসিয়ে ঘাড়ে হাত দিয়ে বলেছিলেন আমাকে মেরে তোর কি লাভ, বল? এটা মাসক্যারেনহাস এর বইতে পড়েছি।

        তবে তাজউদ্দিনের সাথে তার বিভক্তি ঘটাতে খোন্দকার মোশতাকের হাত আছে বলে সবচেয়ে পপুলার থিয়োরী। হতেই পারে। আওয়ামী লীগে তাজউদ্দিন ছিলেন কিছুটা বাম ঘেষা, অন্যদিকে মোশতাক ছিল চরম ডানপন্থী গ্রুপের। বংগবন্ধুর দলীয় দূর্নিতিবাজদের প্রতি ব্যাবস্থা নেওয়ার দূর্বলআতয় তাজুদ্দিন ছিলেন ক্ষুব্দধ, এই সুযোগ নিয়েছিল মোশতাক চক্র।

        • বিপ্লব পাল নভেম্বর 4, 2009 at 7:04 অপরাহ্ন - Reply

          @আদিল মাহমুদ,

          আওয়ামী লীগে তাজউদ্দিন ছিলেন কিছুটা বাম ঘেষা, অন্যদিকে মোশতাক ছিল চরম ডানপন্থী গ্রুপের।

          উনাদের ব্যাক্তিগত শত্রুতার ইতিহাস প্রায় ২০ বছরের বলে শুনেছিলাম। মুজিব নগরে মোশতাক কে পাত্তা দেওয়া হত না বলে-মোসতাক না কি কিছুদিন পাকি মোল হিসাবে কাজ করেছেন বলে তাজউদ্দিন প্রমান সহ অভিযোগ বঙ্গবন্ধুর কাছে জানিয়েছিলেন পরের দিকে। বঙ্গবন্ধু সব কিছু জেনেও নতুন বাংলাদেশের জন্যে সবকিছু ভুলে নতুন করে শুরু করার কথা বলেছিলেন। এগুলো কোন রাষ্ট্রনায়ক করবে না। মনে হয় বঙ্গবন্ধু আবেগে কাজ করতেন, বুদ্ধিতে নয়।

        • তানভী নভেম্বর 5, 2009 at 10:42 পূর্বাহ্ন - Reply

          @আদিল মাহমুদ,
          অনেকের বইতেই পড়েছি যে,বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের নয়মাস জেলে সময় পার করার কারনে তার সাথে বাংলাদেশ ও বাঙালীদের একটা বড় গ্যাপ হয়ে যায়। জেলে যাবার আগেও তিনি বাঙালীদের কাছে ছিলেন দেবতার মত,জেল থেকে ফেরার পরও তাকে জনতা আবার দেবতার আসনে তুলে দেয়। যার ফলে দেশের সার্বিক অবস্থার সাথে তার জানা বা বোঝার একটা দুরত্ব সৃস্টি হয়।
          এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যার সৃস্টি করেছিল। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা,রক্ত,জীবন-মরণ সন্ধিক্ষন এসব ব্যপার থেকে দুরে ছিলেন।তাই তিনি প্রয়োজনীয় কঠোরতা অর্জন করতে পারেন নাই।

          যখন কেউ দেখে যে তার সামান্য আদেশেই সব বড় বড় কাজ হয়ে যাচ্ছে ,তখন স্বাভাবিক ভাবেই তার মন স্বেচ্ছাচারী হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের সাথে দুরত্ব হয়ে যাবার ফলেই তিনি স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছিলেন ,যার মাশুল তাকে ভয়ানক ভাবে দিতে হয়েছিল।

মন্তব্য করুন