একটি কবিতার প্রসব


‘আমাকে ততটুকু কষ্ট দাও, যতটুকু কষ্ট পেলে,
আমি কেষ্ট হয়ে যাব’,


কবিতা জিনিসটা বড় বেশী বিচিত্র, রহস্যময়, বোঝাদায় কখন আসে কখন যায়। এক এক সময় প্রগলভা নারীর মতো (নারীরাই কী শুধু প্রগলভা হয়? হায়রে পুরুষ শাসিত সমাজ, আমার অজান্তেই ক্রিয়া করে।) যা হোক, এসে যায় একের পর এক আবার এক এক সময় ঘন্টার পর টেবিলে বসে কলম কামড়ানো, আর চুলের ভেতর হতে নিড়ানো শেষে লবডঙ্কা। এই তো সেদিন হঠাৎ করে লাইন দুটো এল, “কষ্ট” এর সাথে “কেষ্ট” এর ধ্বনিযোগ, বেশ বেশ একটা জমিয়ে দেওয়া যাবে কিন্তু ধুস্ কোত্থেকে রাত দুটো পর্যন্ত কলম কামড়িয়ে প্যাকেটের সিগারেট গুলো শেষ করে, বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দিয়ে শেষে রণে ভঙ্গ দিয়ে, কায়ক্লেশে শরীরটাকে বিছানায় গড়িয়ে দিলাম।


‘সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে আমার মাথায় বেজে ওঠে;
আমাকে ততটুকু উষ্ণতা দাও, যতটুকু উষ্ণতা পেলে
আমি দহন হয়ে যাব
আমি পাথরে তৈরী চাই, আমাকে দহন করে ফেল’


আমি ভাবলাম এ আবার কী ? সকাল সকাল “বোধন” হলে তাও না হয় কথা ছিল। দুদিন পর দূর্গাপূজা, সেখানে কিনা ‘দহন’। আর এই জোলো জোলো প্রেম জ্ঞাপক সেকেলে লাইন গুলোই বা কেন রে বাবা। তখনই চোখ যায় টেবিলের দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ খেলে যায় বেশ তো মেলে, আমি যথারীতি আবার টেবিলে, আলতো করে একটা সিগারেট জ্বেলে নিই। আয়েশ করে বসি কিন্তু ঘন্টাখানেক পার করার পর বেশ বুঝতে পারি, এহলো অযাচিত প্রসবের মতো। ঘড়ি দেখে তড়াক করে লাফিয়ে উঠি, একটি টিউশনি মিস হয়ে গেছে এরই মধ্যে, বাকীগুলো সামলাতে আমি তটস্থ হয়ে বের হয়ে পড়ি, এক বাসা থেকে আবেক বাসায় ভিখিরির মতো বেল টিপি, ভেতর থেকে কর্কশ কন্ঠে প্রশ্ন আসে কে? আমি থতোমতো খেয়ে বলি, “আমি…আমি স্যার।” ছাত্রীটি এসে হাসি মুখে বলে, আজকাল যা ভিখিরির উৎপাত হয়েছে না স্যার। আমার অবশ্য লজ্জা করেনি এই পেশায় এলে এমন নিলর্জ হতেই হয়। যা হোক ছাত্রীর সাথে আমি বিজ্ঞানের বিশেষ আলোচনায় ব্যস্ত, ছাত্রী পুরোপুরি মনযোগী, ঠিক সেই মহেন্দ্র্ক্ষনে,


‘শশ্মানঘাটে চিতা জ্বালো, যত পার ঘৃত-চন্দন ঢালো
আমি মানুষ হয়ে আর আসবনা দ্বিতীয় বার
শুধু একবার বলো
এ চিতার আগুন তুমিই জ্বালিয়েছ’।


এদিকে আমার মাথার মধ্যে আগুন জ্বলছে, বিনা চিতায়, কারণ আমার স্মৃতিশক্তি ভয়াবহ দূর্বল, আমি ছাত্রীকে সমস্যাটা বুঝিয়ে, তাকে নিজে নিজে পড়ার কথা বলি, এই সুযোগে ব্যাগ থেকে প্যাডটা বের করে দ্রুুত লিখি। আমার দুষ্ট ছাত্রীটি প্রশ্ন করে বসে স্যার ‘তুমিটা’কে? এখন কেমন একটা বিপদে পড়া গেল?

 

About the Author:

রানা রায়।জার্মান প্রবাসী

মন্তব্যসমূহ

  1. ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা ডিসেম্বর 20, 2013 at 2:12 পূর্বাহ্ন - Reply

    ছাত্রীর সামনে বেশ বেকায়দায় পড়েছিলেন। ভাল লাগলো।

    • রতন কুমার সাহা রায় ডিসেম্বর 20, 2013 at 5:51 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা,
      ছাত্রী কি আর ছত্রী আপুনি সে হইল আমার নানি।

  2. মামুন সেপ্টেম্বর 26, 2009 at 7:11 অপরাহ্ন - Reply

    কবিতার যে সময়,দেশ,কাল নেই,না আছে জাত-বিজাত,দিন-রািএ,ভোর- সকাল বা বিকেল….সে তো অনন্ত সময়ের প্রতিনিধি যে শুধু কাল থেকে কালে খরশ্রোতা নদীর মতো আবহমানকাল বহমান।

    লেখাটি এককথায় চমৎকার ।

  3. মুজিব মেহদী সেপ্টেম্বর 26, 2009 at 2:39 পূর্বাহ্ন - Reply

    বলে দিন যে তুমি মানে ‘তুমি’!

মন্তব্য করুন