যৌনতার প্রশ্নে কি স্বাভাবিক আর কি অস্বাভাবিক তার বিচার খুব কঠিন। যেমন বালকদের মধ্যে তাদের থেকে অনেক বেশী বয়সের মহিলাদের প্রতি যৌন আকর্ষন দেখা যায়। যা অসামাজিক মনে হলেও জৈবিক দিয়ে স্বাভাবিক।

সমকামি বিবাহ এবং সমকামীতাকে আইন সিদ্ধ করতে আগের দুই দশক ঘোরতর আন্দোলন হয়েছে। এবং এই বিতর্কে একটি ভরকেন্দ্র হচ্ছে সমকামিতা প্রকৃতিসিদ্ধ না প্রকৃতিবিরুদ্ধে? নাকি পরিবেশ জনিত শুধু একটি বিশেষ মানসিক গঠন? অর্থাৎ সমকামীদের মস্তিস্ক বা দেহের গঠন বা জেনেটিক্সে এমন কিছু আছে যার জন্যে তারা সমকামী? এটি যদি হয়ে থাকে তাহলে সমকামিতার আইগত অধিকার পাওয়া সহজ হয়। যদি না হয়, তাহলে প্রমানিত হবে, সমকামী লোকেদের স্বাভাবিক যৌন জীবনে ফেরানো সম্ভব।

এটি বিলিয়ান ডলারের প্রশ্ন। এই নিয়ে গত দুই দশকে বহু গবেষনা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। এই সাবজেক্ট নিয়ে লেখার সব থেকে বড় অসুবিধা হচ্ছে এই লাইনের অধিকাংশ গবেষনাই এক দশকের বেশী টেকে নি। পরবর্ত্তীতে দেখা গেছে সেই রেজাল্ট ভুল ছিল বা পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল গবেষনায়। সুতরাং কোথাও কোন জার্নালে পেপার ছাপিয়েছে মানেই সেটা ফ্যাক্ট এবং ট্রুথ-ধ্রুব সত্য-এমন না ভাবাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই ব্যাপারে ২০০৮ এর কাজ ২০০৯ সালে ভুল প্রমানিত হয়েছে এমনও আছে। পদ্ধতিগত সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে বিশুদ্ধ গে বা লেসবিয়ান পাওয়া। বিশেষত নারী সমকামীদের প্রায় সবাই উভকামী বা বাই-সেক্সুয়াল[১]। তাই সাবধানে আমরা দেখব আদৌ এই ব্যাপারে আমরা নির্দিষ্ট করে কিছু জানতে পেরেছি কি না। এই ব্যাপারে জেনেটিক্স, ফর্মোন, জমজ বালক-বালিকা , হমোসেক্সুয়ালদের মাতৃকূল নিয়ে গবেষনা, মস্তিস্কের গঠন-এবং আরো অনেক কিছু নিয়েই গবেষনা হয়েছে। এই প্রবন্ধে সব কিছু লেখা সম্ভব না। আমি একটি ওভারভিউ দেবার চেষ্টা করব মাত্র।

  • ফর্মোনঃ সুইডেনে এ ব্যাপারে সব থেকে বিখ্যাত নাম ডঃইভাঙ্কা স্যাভিক। ডঃ স্যাভিকের কাজ সমকামী আন্দোলনকারীরা খুব ব্যবহার করে থাকেন। সুতরাং সত্যটা জানা উচিত। ডঃ স্যাভিক ছেলেদের ঘাম আর মেয়েদের প্রশ্বাব থেকে এক জ়াতীয় জৈব আবিস্কার করেন। হর্মোনের নির্জাস এই জৈবকে উনি ফর্মোন বলছেন। দেখা গেছে গে এবং নারীরা পুরুষ ফর্মোনে একই ভাবে আকৃষ্ট হয়। এর থেকে উনি সিদ্ধান্তে আসেন সমকামিতা ‘অর্জিত ব্যাবহার’ নয়-তার জৈবিক ভিত্তি আছে [২]।
    এর পরে ডঃ ওয়ারেন থ্রম্পটন প্রশ্ন তোলেন কিভাবে এই পরীক্ষা থেকে সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব যে ফর্মন সিলেকশনের পেছনে অর্জিত জ্ঞান বা ব্যাবহারের ভিত্তি নেই? জন্মের থেকেই গে দের ওই ফর্মোনই পছন্দ ছিল? এই ব্যাপারে ডঃস্যাভিকও স্বীকার করেন-গে দের নারীরদের মতন ফর্মন প্রীতি জন্মগত না অর্জিত কিছুই বলা সম্ভব না। ফলে এতদ্বারা প্রমান হইল সমকামী ব্যাবহারের পেছনে জৈবিক ভিত্তি আছে-এমন সিদ্ধান্ত ডঃ স্যাভিকের কোন গবেষনা থেকেই আসা যায় না-এবং ডঃ স্যাভিক তা নিজে বারন করছেন! [৩] **********************
    Dr. Savic:
    The Associated Press story came out today about your study and I think they have reported it incorrectly.First I am wondering if you can help me understand things more clearly. I am enclosing a link to the AP report: http://www.forbes.com/entrepreneurs/feeds/ap/2006/05/08/ap2729698.html

    First, in the report the reporter writes: “It’s a finding that adds weight to the idea that homosexuality has a physical underpinning and is not learned behavior.”

    THIS IS INCORRECT AND NOT STATED IN THE PAPER

    As I understand your article in PNAS, you specifically offer learning as a hypothesis for your findings. Isn’t this true? I believe the reporter is misleading on that point.

    THIS IS VERY UNFORTUNATE; AND YOU ARE ABSOLUTELY RIGHT

    Second, the AP report says: “In lesbians, both male and female hormones were processed the same, in the basic odor processing circuits, Savic and her team reported.” I understand that the study did show that AND (male condition) was processed akin to other odors by lesbians. But wasn’t there also some hypothalamic processing of EST (female condition) by lesbians?

    YES! AND ALSO CONJUNCTIONAL ANALYSIS SHOWED A COMMON HYPOTHALAMIC CLUSTER IN THE HYPOTHALAMUS:

    It was weaker and apparently not in the anterior hypothalamus but didn’t you also find dorsomedial and paraventricular hypothalamic activation? So it would be inaccurate, would it not, to say “both male and female hormones were processed the same?”

    YOU ARE FULLY CORRECT
    ্যাইহোক ফর্মনের সাথে সমকামীদের গঠন জ়ৈবিক কি না, তা নিয়ে কোন সম্পর্ক নেই। সেই রকম কিছু গবেষকরাও দাবী করেন নি।

  • গে জীনঃ জেনেটিক্সের সাথে সমকামিতার সম্পর্ক আরেক্ট ধোয়াশাপূর্ণ বিতর্ক। এই ব্যাপারে কোন প্রমানিত বৈজ্ঞানিক সত্য নেই। সবটাই হয় ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস বা হাইপোথিসিস। এই ব্যাপারে মূলত দুটী ব্যাপার নিয়ে গবেষনা হয়েছে ক) আইডেন্টিক্যাল টুইন খ) সমকামী পুরুষের মাতৃকূল নিয়ে। এই ব্যাপারে গে এবং লেসবিয়ানদের আলাদা করে নিয়ে গবেষনা করা হয়। কারন এই ধরনের এম্পিরিক্যাল স্ট্যাডি করে মেয়েদের মধ্যে কিছু পাওয়া যায় নি বা গেলেও সেহেতু মেয়েদের মধ্যে বাই সেক্সুয়ালের সংখ্যা অনেক বেশী নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। আইডেন্টিক্যাল টুইন এর ওপর গবেষনা নিয়ে কিছু আলোকপাত করা দরকার। এদের জেনেটিক গঠন একই রকম সুতরাং টুইনদের দুজনেই যদি গে হয়, তাহলে বোঝা যাবে হয় একই ধরনের জেনেটিক্স ফ্যাক্টর থেকে গে তৈরী হচ্ছে বা মাতৃজঠরে কোন পরিবর্তন থেকে এরা গে হচ্ছেন। এই ব্যাপারে সব থেকে বৃহত্তম স্যাম্পল নিয়ে কাজ হয়েছে কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে-প্রায় ১৪০০০ আইডেন্টিক্যাল টুইন নিয়ে। দেখা গেছে এক ভাই গে হলে অন্যভাই এর গে হওয়ার সম্ভাবনা ৩৪%। লেসবিয়ানদের ক্ষেত্রে এটা ৩০%। অন্যান্য স্টাডিতেও এর কাছাকাছি ফল পাওয়া গেছে [৪]। ১০০% বা তার ধারে কাছেও নেই এই সংখ্যা। তবুও ৩০% সংযোগ যথেষ্ঠ বেশী এবং ডঃ বেইলীর মত বিজ্ঞানীরা মনে করেন সেহেতু আইডেন্টিক্যাল টুইনরা একই ফ্যামিলি বা সমাজ বা যৌন পরিবেশে মানুষ হয়েছে, ৩০% ক্ষেত্রে দুই ভ্রাতাই সমকামী হয়েছে। এটি প্রমান করার জন্যে ডঃ বেইলী আরেকটি পরীক্ষা করেন। তাতে দুই জমজ ভ্রাতার মধ্যে একটি সমকামী এবং অন্যজন স্বাভাবিক ছিল। দেখা গেছে একই সমাজ এবং পরিবারে থেকেও তাদের শিশু বয়েসে বেড়ে ওঠার ঘটনা দুজনে আলাদা ভাবে নিয়েছে [৫]। অর্থাৎ দেখা আচ্ছে একই পরিবেশে মানুষ, একই জেনেটিক গঠনের হলেও দুজনের সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন আলাদা হতে পারে-শুধু যদি বিশেষ কোন ঘটনা-যেমন বয়স্ক পুরুষ দ্বারা ধর্ষন ইত্যাদি তাদের জীবনে আলাদা হয়। পৃথিবীর বৃহত্তম টুইন স্টাডিগুলি সমকামিতার সাথে জীনের সম্পর্ক নস্যাত করে [৬]।

আরেকটি ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছেন ডীন হ্যামার। উনি ১৯৯৪ সালে ৭৬ টি গেএর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে সিদ্ধান্তে এসেছিলেন গে দের মাতৃকূলে সমকামীর সংখ্যা বেশী। উনারা সেই থেকে Xq28 একটি জেনেটিক মার্কার প্রস্তবনা করেন যা গে-জ়িন নামে জনপ্রিয় হয়। পরবর্ত্তীকালে বেইলী এবং ম্যাকনাইট একই পরীক্ষা চালিয়ে হ্যামারে রেজাল্ট পান নি এবং তারা এই গেজীন তত্ত্বকে ভুল বলে প্রমান করেন [৭]। রাইস এবং এন্ডারসন সায়েন্সে প্রকাশিত একটি পত্রে ৫৭ টি গের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে Xq28 জীনতত্ত্বকে সম্পূর্ণ বাতিল প্রমান করেন [৮]। পরবর্ত্তীকালে জেনোম প্রজেক্টে দেখা গেছে সমকামীদের মাতৃকূলের সাথে সম্পর্কের জন্যে Xq28 ছারা আরো অনেক মার্কার দায়ী-যেমন 8p12, 7q36 and 10q26। কিন্ত ইনারাও বলছেন এর থেকে মোটেও বলা যায় না এই মার্কার গুলির জন্যে সমকামিতা হয়ে থাকে! কারন তাদের স্ট্যাটিস্টিক্যাল সাম্পলিং স্পেস খুব ছোট! পরবর্ত্তীকালে এই নিয়ে হিউমান জেনোম প্রজেক্টে আরো কাজ হয়েছে-কিন্ত কোন সিদ্ধান্তে আসা যায় নি। হেরিডিটিক্যাল ট্রেটের ইনহেরিটান্স নিয়ে ডঃ কলিনস (২০০৭) জেনোম প্রজেক্টের ফলাফল বিশ্লেষন করতে গিয়ে মন্তব্য করেন-মানব জাতির সব অভিব্যাক্তির মধ্যেই (রাগ, গোয়াত্তুমি, আবগ) জেনেটিক্সের জটিল ছাপ খুঁজে পাওয়া যাবে-কিন্ত তার মানে এই নয়-এইসব অভিব্যাক্তির সব কিছুই জেনেটিক্স নিয়ন্ত্রন করছে। বরং তা পরিবেশ এবং সমাজ দ্বারাই বেশী নিয়ন্ত্রিত [৯]। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে ডঃ কলিন্স হিউম্যান জেনোম প্রজেক্টের অধিকর্তা ছিলেন বহুদিন।

অর্থাৎ ব্যাপারটা দাঁড়াল এই-আমাদের রাগ ভালোবাসার জন্যেও নিশ্চয় জীনেরাই দ্বায়ী। কিন্ত সেটাই সব না। পরিবেশ এবং সমাজই শেষ নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়ায়। আরো ভাল ভাবে বললে-এই সমকামিতা ব্যাপারটা হয়ত সবার মধ্যেই সুপ্ত ভাবে আছে-বিশেষ কিছু সামাজিক পরিবেশ বা ঘটনা, তা ট্রিগার করতে পারে। আবার রাগ বা আবেগের মতনই এ চিরস্থায়ী নয়। চিকিৎসা করলে সেরে যাবে।

এছারাও আরো কিছু দাবী ঊঠেছে মস্তিস্কের গঠন এবং সমকামিতা নিয়ে। তৃতীয় ইন্টারস্টিয়াল নিউক্লিয়াস-এন্টারিয়াল হাইপোথ্যালামাস (INAH3) এর গঠনে মেয়ে এবং গেদের কিছু সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায় (সিমন ল্যাভে,১৯৯১) [৮]। কিন্তু বাইনের (২০০১) কাজ থেকে জানা যায় গেদের INAH3 ছোট হলেও নিউরনের সংখ্যা স্বাভাবিক পুরুষদের সমান যা নারীর ক্ষেত্রে কিছু কম থাকে [৮]। তাছাড়া সিমন ল্যাভের পরীক্ষায় স্যাম্পল সাইজ ছিল ৩৭-তার মধ্যে তিনজন গের INAH3 স্বাভাবিক পুরুষদের মতনই ছিল। আবার তিনজন স্বাভাবিক পুরুষের INAH3 মেয়েদের মতন ছোট ছিল। সুতরাং INAH3 স্টাডি থেকেও নিশ্চিত ভাবে কিছুই বলা যায় না। সব থেকে বড় কথা IANH3 মানুষের ব্যাবহারের ফলেও বদলায়।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে এখনো পর্যন্ত যতটুকু আবিস্কার হয়েছে, তার ভিত্তিতে বলা যায় সমকামীদের পেছনে জীন বা পরিবেশের চেয়েও, অর্জিত গুনাবলীর ভূমিকা বেশী। সমকামীদের এক্সক্লুসিভ জিন বলে কিছু নেই-সেটা জেনোম প্রজেক্ট থেকেই প্রমানিত। সুতরাং চিকিৎসার মাধ্যমে সমকামীদের স্বাভবিক যৌনজীবনের ফেরানো সম্ভব-এটির দিকেই বিজ্ঞানের পাল্লা আপাতত ভারী।

[১] Murray, B. (2000). Sexual identity is far from fixed in women who aren’t exclusively heterosexual. Monitor on Psychology, 32(3), pp. 64-67.
[২] http://www.nytimes.com/2005/05/10/science/10smell.html?_r=1&incamp=article_popular
[৩]http://www.narth.com/docs/smell.html
[৪]Bailey, JM; Dunne,MP; Martin,NG (2000): Genetic and Environmental influences on sexual orientation and its correlates in an Australian twin sample. J. Pers. Social Psychology 78, 524-536
[৫]Bailey, NM; Pillard,RC (1995): Genetics of human sexual orientation. Ann. Rev. Sex Research 6, 126-150.
[৬] Hershberger, SL (1997): A twin registry study of male and female sexual orientation. J. of Sex Research 34, 212-222.
[৭] Wilson, G.D., & Rahman, Q. (2005). Born Gay: The Biology of Sex Orientation. London: Peter Owen Publishers
[৮] Rice, Anderson, Risch and Ebers (1999) Male Homosexuality: Absence of Linkage to Microsatellite Markers at Xq28. Science 23(5414): pp. 665-667. Retrieved 2007-01-18
http://mypage.iu.edu/~bmustans/Mustanski_etal_2005.pdf
[৯] http://www.lifesitenews.com/ldn/2007/mar/07032003.html

[432 বার পঠিত]