জ়য় শ্রীরাম! দেশটা কি এবার হনুমানেরা চালাবে?

By |2009-03-21T01:14:19+00:00জানুয়ারী 28, 2009|Categories: ভারত, রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি|13 Comments

জয় শ্রীরাম! দেশটা কি এবার হনুমানেরা চালাবে?

বিপ্লব পাল

ম্যাঙ্গালোরের এক পাবে ঢুকে-শ্রীরাম সেনা নামে এক জঙ্গী হিন্দুত্ববাদি সংগঠন, পাবে যেসব মেয়েরা এসেছিলেন, তাদের পিটিয়েছে। কারুর কারুর শ্লীলতাহানিও করেছে! তারপরে, শ্রীরাম সেনার প্রধান এক বীর হনুমান, প্রাসাদ আভভাতার বলেছেন-যেসব মেয়েরা “সনাতন শিষ্ঠাচার এবং ভারতীয়ত্ব” ভুলে পাবে মদ্যপান করতে ঢোকেন-তাদের তারা উচিত শিক্ষা দিয়েছেন। ভারতের নারীমন্ত্রী রেণুকা চৌধুরী অবশ্য খুবই কড়া হাতে পুলিশকে এদের গ্রেফতার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে গণতন্ত্রের প্রসব বেদনা-পুলিশের হাত এইসব হনুমানদের লেজ অব্দি পৌঁছাবে বলে মনে হয় না।

যাই হোক, প্রাসাদ আভভতারের সাথে তালিবানদের কোন পার্থক্য নেই সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আসলে ধর্মের নাম ত ইসলাম বা হিন্দুত্ব হয় না। মানুষের আসল ধর্ম দুটি-পুরুষ এবং নারী। পুরুষের ধর্মের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে নারীর গর্ভের অধিকার সুরক্ষা করা। সেই গর্ভের দাবীর জন্যেই সমস্ত ধর্মের সৃষ্টি। ফলে নারী ফল খাবে না মদ খাবে, বোরখা পড়বে না বিকিনি পড়বে-তা ঠিক করে পুরুষ। আর বিবর্তনজনিত কারনে, মেয়েরা যেহেতু জানে, তারা নিজেরাই সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম, সেহেতু তারা পুরুষের আধিপত্য মেনে নিয়েছে আবাহমানকাল থেকে। মানে যথেষ্ঠ এগ্রেসিভ নয় মেয়েরা। সাধে কি মার্গারেট মিড বলেছিলেন-রেখেছ রমণী করে, কারন তুমি ভেবে বসে আছ কোন পুরুষ এসে তোমার জৈবিক উত্তরাধিকারের প্রোটেকশন দেবে। পুরুষ কি সেই সুযোগ ছাড়ে? কি সুন্দর ধর্ম ধর্ম ধূপ ছড়িয়ে মেয়েদের স্বাভাবিক অধিকারগুলো-যা পশুকূলেও স্বীকৃত। মানবকূলে নেই। কারন এখানে বাবারা নিশ্চিত করতে চান, সন্তান তার নিজের। এই হ্যাপাটা পশুকূলে নেই-মানব সমাজেও আগে ছিল না। কৃষিভিত্তিক সমাজে যবে থেকে পুরুষের এই ইচ্ছা চেপেছে, তবে থেকে ধর্মটা মেয়েদের গলার ফাঁস।

এই হনুমান শ্রেষ্ঠ প্রাসাদ আভভাতারের কথাই ভাবুন। কি সুন্দর বলে দিল ভারতীয় সনাতন ঐতিহ্যে মহিলারা মদ্যপান করে না-তাই যারা পাবে মদ্যপান করতে ঢুকেছিল তাদের পিটিয়েছে। তা ভারতের সনাতন ঐতিহ্যটা কি? ঋকবেদ? তাহলে ত বাপু, ওটা সুরাপান করে টালমাটাল হওয়ার বই। ওই বেদটির অনেক ছত্রেই পাওয়া যাবে নারীরা সুরাপান করে ইন্দ্রকে বলছে, তোমার মতন পুরুষ দাও! শুতে লাগবে! কি গেরোরে বাবা! ঋকবেদের মেয়েরা শুধু মদ্যপানেই থামে নি-মাল খেয়ে টসকে আবার সুন্দর পুরুষের শয্যাশায়ী হতে চেয়েছে! একদম খুল্লাম খুল্লা ওয়েস্টার্ন স্টাইল ভাই! আসলে তখনো আর্য্যরা ধান ক্ষেত দেখে নি-যাযাবরের জীবনে আছে। তাই যৌনতা আর মদ্যপান নিয়ে মেদেদের ওখানে কোন ইনহিবিশন নেই। কোন ছুৎমার্গ নেই।

কিন্ত এই শ্রীরাম সেনার আছে। আদের আদর্শ নারী সীতা। সতী সাবিত্রী সাদ্ধী। তখন আর্য্যরা কৃষিকাজ শিখে গেছে। জমি তার সম্মপ্তি। সেই জমির উত্তরাধিকার কে পাবে? সুতরাং সন্তান বিশুদ্ধ না হলে চলে কি করে? শুধু তার সাথেই শোবে-বাকীদের বেলায় মাটিতে চোখ রাখবে। স্বামী মারাগেলে চিতায় না গেলেও বিধবা থাকতেই হবে! কারন বিধবার বিয়ে হলে সম্পত্তি নিয়ে সমস্যা! ফলে মনুবল্লেন বিধবাকে ভোগ কর-কিন্তু বিয়ে করতে দিও না! যাইহোক এই সতী সাবিত্রীর পবিত্রতার মূল কথা হল-সম্পত্তির উত্তরাধিকারের বিশুদ্ধতা। তাই চাই বিশুদ্ধ পুত্র। এতেব নারীকে ঘরে ঢোকাও। ছেলেদের সাথে মদ্যপান ত অনেক দূর।

যতদিন না নারী বুঝবে এই পৃথিবীতে ধর্ম দুটি-পুরুষ আর নারীর ধর্ম। হিন্দু-ইসলাম [বা অন্য ধর্ম] আসলেই নারীকে দাবিয়ে রাখার জন্যে একটি ধর্মের দুটি নাম। সেটি পুরুষের ধর্ম। ততদিন এই শ্রীরাম সেনাদের হাত থেকে আমাদের মুক্তি নেই। কারন মেয়েদের একটা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই, এই শ্রীরাম সেনারদের হাতে নিজেদের সমর্পিত সীতা বলে ভাবে। নারীর চেতনা আগে মুক্ত হৌক।


ড. বিপ্লব পাল, আমেরিকাতে বসবাসরত পদার্থবিদ, গবেষক এবং লেখক। এক সময় ভিন্নমতের মডারেটর ছিলেন, বর্তমানে www.fosaac.tv সম্পাদনার সাথে জড়িত।

About the Author:

আমেরিকা প্রবাসী আলোক প্রযুক্তিবিদ ও লেখক।

মন্তব্যসমূহ

  1. Miasaheb ফেব্রুয়ারী 1, 2009 at 10:13 অপরাহ্ন - Reply

    Yes now I agree with you, my intention is ‘communal’. Medinupur has already proven its secular character beyound doubt by not letting Taslima to attend Kobita sammelan. With such ‘seculars’ around, you don’t need BJP-Jamaat at all. When Mamata and CPM both gave hundred percent support to the eviction of Taslima why Muslims need Jamaat in Nandigram ?

  2. Biplab Pal ফেব্রুয়ারী 1, 2009 at 10:23 পূর্বাহ্ন - Reply

    মিঁয়া সাহেব,
    ছদ্দ নামে রক্ত গরম করা খবর দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে লাভ আছে। এটা ঠিক তসলিমাকে মেদিনীপুরেঢুকতে দেয় নি জেলা কংগ্রেস-যারা নিজেদের ধর্মনিরেপেক্ষ বলে দাবী করে। কিন্তু মেদিনীপুর শহরে স্বরস্বতী পুজোকরতে অনুমতি নেওয়ার কথা বলেছিলেন ডিএম-যেহেতু মহরমের সময় কম্যুন্যাল ক্ল্যাশ হয়-এগুলো জোর করে মৌলবাদিরা বাধানোর চেষ্টা করছে বিজেপি আর অধুনা রাজনীতি করতে নামা জামাত-ই-হিন্দ ( যা ভারতের জামাত)-তাতে দুপক্ষের ই লাভ। যদিও ভোট বাক্স তা বলে না- মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে যেখানে ৭০% মুসলান সেখানে জামাত পেয়েছে ৭০০ ভোট ( মোট ভোট ১,৪০,০০০), বিজেপি ২০০০ মোটে-এবং মিডিয়াতে অনেক হম্বিতম্বি করে কোন পক্ষই সুবিধা করতে পারে নি। জামান্ত জব্দ হয়েছে। এখন সাম্প্রদায়িক প্রচারে নেমেছে। দুর্ভাগ্য কিছু শহুরে লোকজন যারা কোন দিন পশ্চিম বঙ্গের গ্রাম বা প্রান্তিক শহর গুলোতে ঘোরে নি তা বিশ্বাস করছে। মেদিনীপুর শহরে হিন্দু ৮০%-কিন্তু শহরের মেয়র একজন মুসলিম। আমি ত ওই শহরে অনেক কবার গেছি-খরগপুর আই আই টি থেকে মোটে দশ মাইল। ওখানে এই ধরনের সাম্প্রদায়িকতার বীজ না বুনলে- মহরমের দিন এই ঘটনা ঘটত না। তবে এখন লোকজন অনেক সচেতন -কিছু শহুরে বাবু ছাড়া-আর কাওকে এই সব নিউজ দিয়ে প্রতারিত করা যাবে বলে মনে হয় না।

  3. Miasaheb জানুয়ারী 31, 2009 at 2:37 অপরাহ্ন - Reply

    While West Bengali media and Indian National (English) media are busy in breaking their heads on a small event in a pub in Mangalore, nobody exactly knows what happend in Medinipur (West Bengal, India) recently causing temporary ban on Saraswati puja (later withdrawn). Excepted Bangla Statesman (25th January, 2009) no newspaper mentioned about this event. Even Statesman did not give any details, only stated that Medinipur became a battlefield recently. Most probably Islamic goons went on rampage during Muharram. But don’t worry – this year you can perform Saraswati Puja. Probably because Medinipur is still in West Bengal. Hurry up – before the state is renamed as West Bangladesh. Remember secularists and Islamists of Medinipur did not allow Taslima Nasrin to attend a Kobita Sammelan there two years back. If Taslima is thrown out can Saraswati stay there?
    Our media and collumnists are naive or purposely shouting on Mangalore event only to cover up the crimes of Isamists ?

  4. arif জানুয়ারী 31, 2009 at 1:14 অপরাহ্ন - Reply

    avi dada, i love science, so i love you. science is great, and thinking science gives a lot of pleasure of mine. i think, the greaest philosopher of bangladesh, or all around the india is ARAJ ALI MATOBBAR of basrisal.

    • অভিজিৎ ফেব্রুয়ারী 1, 2009 at 1:27 অপরাহ্ন - Reply

      @arif,

      avi dada, i love science, so i love you.

      I love you too 🙂

      • Arif ফেব্রুয়ারী 3, 2009 at 3:50 অপরাহ্ন - Reply

        @অভিজিৎ, dada, ami vabtei paini tumi amar jabab debe. i’m extremely wondered and bonudless glad. u & araj ali matubber are my ‘prophet’. alo hate choliyachhe andharer jaatri is best. dada, ami notun user. ami bangla likhte pari na. dada, ami uttara university te pori. dada, tumi ki ekhon u.s.a te aso? dada, bonnya apu ki tomar bou? bonnya apu k amar sroddha o valobasha diyo. bibortoner poth dhore darun likhese apu. dada, ami ORIGIN OF SPIECES ta khuschi khub. ami kothai pabo ota? valo thakbe dada. tomra khub valo. ami r amar frnd aniruddha tomaderke khoob bhalobashi. Bye! ARIF.

  5. Biplab Pal জানুয়ারী 30, 2009 at 7:46 অপরাহ্ন - Reply

    দেশটাকে মধ্যযুগে টানার চেষ্টা-এবং তার পেছনে শিক্ষিত শ্রেণির ভূমিকা আমাকে অবাক করে।

  6. Helal জানুয়ারী 30, 2009 at 7:29 অপরাহ্ন - Reply

    গরুর গো এর উপকারিতার লেখা পড়ে মনে হল খুব শীঘ্রই তারা গরুর গো খাওয়া বাধ্যতা মূলক করে দিবে। উও…য়াক ,উও..য়াক, থো্।

  7. অভিজিৎ জানুয়ারী 30, 2009 at 2:23 পূর্বাহ্ন - Reply

    হনুমানে ছেয়ে গেছে পৃথিবী। এক হনুমানের দল মেয়েদের পিটাচ্ছে, আরেকদল আবার গোবরের মধ্যে এন্টিসেপ্টিক খুঁজে বেড়াচ্ছে –

    http://mukto-mona.com/wordpress/?p=96

    এই না হলে কলিকাল!

  8. Helal জানুয়ারী 29, 2009 at 8:20 অপরাহ্ন - Reply

    লেখাটা সম্ভবত ভিন্নবাসর এ আগেই পড়েছি। এই হনুমান ও টুপিওলারা বেশি বারাবারি শুরু করছে। এদের ঠেঙ্গানো দরকার জরুরী ভিত্তিতে। মুক্তিযুদ্ধের গান যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের শ্পিরিট দিয়েছিল হানাদারদের টেংরি ভাংতে, বিপ্লব পালের লেখাও তেমনই শ্পিরিট দেয়। ওদের ছেচা খাওয়ার সময় হয়ে গেছে। তবে কাগজের পেদানিটা আরেকটো জোরালো হোক। আমি,আপনি না চাইলেও পত্রিকায় দেখা যাবে কোন কোন জায়গায় কাঠ-মোল্লাদের(হনুমানদেরও) দাড়ি সেভ করে টুপিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তরুণরা। অমুগ জায়গার মসজিদকে আধুনিক সিনেমা হলে রুপান্তর। আর বাইতুল মোকারমকে মুক্তমনার হেড অফিস রুপান্তর।হাসির কথা না। পরির্বতন যে হচেছ ,চোখে পড়ছে না?

  9. Biplab Pal জানুয়ারী 29, 2009 at 6:42 পূর্বাহ্ন - Reply

    লিঙ্ক না একদম ভিডিও পোস্ট করলাম [খবরটাও আছে]

    http://www.timesnow.tv/Newsdtls.aspx?NewsID=27576

    বীর হনুমানরা কিভাবে মেয়েদের পিটিয়ে মরাল পুলিশিং করে, সেটা সবাই সচক্ষে দেখুন!

  10. Avijit জানুয়ারী 29, 2009 at 2:16 পূর্বাহ্ন - Reply

    ম্যাঙ্গালোরের এক পাবে ঢুকে-শ্রীরাম সেনা নামে এক জঙ্গী হিন্দুত্ববাদি সংগঠন, পাবে যেসব মেয়েরা এসেছিলেন, তাদের পিটিয়েছে। কারুর কারুর শ্লীলতাহানিও করেছে! তারপরে, শ্রীরাম সেনার প্রধান এক বীর হনুমান, প্রাসাদ আভভাতার বলেছেন-যেসব মেয়েরা “সনাতন শিষ্ঠাচার এবং ভারতীয়ত্ব” ভুলে পাবে মদ্যপান করতে ঢোকেন-তাদের তারা উচিত শিক্ষা দিয়েছেন।

    সাথে খবরের লিঙ্কটাও দিয়ে দিলে বভাল করতে। ভারতের পেপার একদমই পড়া হয়ে উঠে না। আমাদের মুক্তমনায় এ ব্যাপারে তুমিই ভরসা।

  11. Keshab K. Adhikary জানুয়ারী 28, 2009 at 7:42 অপরাহ্ন - Reply

    বিপ্লব পাল,

    আপনি অসম্ভব ভালো লেখেন। আগেও পড়েছি আপনার লেখা। খুউব ভালো লাগে। আমাদের তরূণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এরকম আধুনিক বিঞ্গান মনষ্ক চেতনায়। আরো বেশী বেশী করে লিখুন এবং বহুল প্রচলিত দৈনিক গুলোতে।
    সুভেচ্ছাসহ,

    কেশব অধিকারী

মন্তব্য করুন