মুসলিম দেশের যত ভাস্কর্য

মুসলিম দেশের যত  ভাস্কর্য

আজাদুর রহমান চন্দন

সম্প্রতি এক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে গেল বাংলাদেশে। একদল (মাত্র শ’ দেড়েক) সাম্প্রদায়িক উগ্রপন্থির আপত্তির মুখে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে ‘অচিন পাখি’ নামের নির্মাণাধীন বাউল ভাস্কর্য ভেঙে সরিয়ে ফেলেছে সরকার। এ নিয়ে সঙ্গত কারণেই গত দু’সপ্তাহ ধরে দেশের নানা স্থানে নিন্দা-প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন অসাম্প্রদায়িক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী ক্ষুদ্র গোষ্ঠীটি হুংকার ছাড়ছেÑ তারা ক্ষমতায় গেলে নাকি দেশের সব ভাস্কর্য, স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার ভেঙে ফেলবে; নিভিয়ে দেবে ‘শিখা চিরন্তন’ ও ‘শিখা অনির্বাণ’।


বাংলাদেশে স্বার্থাল্পে^ষী ধর্ম ব্যবসায়ী এ চত্রক্রটি বরাবরই মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে আসছে। অথচ স্থাপত্য-ভাস্কর্য এসবের সঙ্গে ধর্মের কোনো বিরোধ দেখা যায় না বাস্তবে; বরং দেশে দেশে স্থাপত্য-ভাস্কর্য নির্মাণে মুসলমানদের অবদানও রয়েছে যথেষ্ট। এ উপমহাদেশের অধিকাংশ খ্যাতনামা স্থাপত্যই মুসলমান শাসকদের সৃ®িদ্ব। শুধু তা-ই নয়, ইরান, ইরাক, মিসর, সিরিয়াসহ অনেক মুসলিম দেশেই ভাস্কর্য রয়েছে। আফগানিস্টøানে তালেবান জঙ্গিরা যখন বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করে, তখন ইরানের পার্লামেন্ট তার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল।


যে যুক্তি দিয়ে এ দেশের মৌলবাদীরা ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে, সে যুক্তিতে কিন্তু মানুষের ছবি তোলাটাও ঠিক নয়। অথচ বাস্তবে ওই মৌলবাদীরাও ছবি তুলছেন নিজের স্বার্থে। এমনকি কট্টর রক্ষণশীল মুসলিম দেশ সৌদি আরবে খেলনা পুতুল বিত্রিক্র হয় বৈধভাবেই। ওই পুতুল সে দেশে খুবই জনপ্রিয়।


ইরান, মিসর, ইরাকের জাদুঘরে অসংখ্য ভাস্কর্য এবং প্রাচীন শাসক ও দেব-দেবীর মহৃর্তি তো রয়েছেই, সেসব দেশে উš§ুক্ত স্থানে রয়েছে অনেক ভাস্কর্য। ইরানে আছে একটি বিশাল স্বাধীনতাস্তম্ভ, যার নাম ‘আজাদী’। এ স্থাপত্যটির ডিজাইনার হোসেন আমানত একজন মুসলমান। কবি ফেরদৌসী, ওমর খৈয়াম, পারস্যের নেপোলিয়ন বলে খ্যাত নাদির শাহ্র মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিদের ভাস্কর্য রয়েছে ইরানে। মাশহাদ নগরীতে ভাস্কর্যসংবলিত নাদির শাহ্র সমাধিসৌধটি পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়।


ইরানের রাজধানী তেহরানে দু’বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয় সমকালীন ভাস্কর্য প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা। সর্বশেষ ও পঞ্চম দ্বিবার্ষিক প্রদর্শনীটি হয়েছে গত ফেব্র“য়ারি মাসে। এতে ১০৫ জন শিল্কপ্পীর ১১২টি ভাস্কর্য ঠাঁই পায়। তেহরান মিউজিয়াম অব কনটে¤ক্সরারি আর্টসে আয়োজিত এ প্রদর্শনী ¯ক্সন্সর করে সে দেশের সংস্ট‹ৃতি মšúণালয়।


মাহমুদ মোখতারের বিখ্যাত ভাস্কর্য ‘মিসরের রেনেসাঁ’।


ইরানের মাজানদারান প্রদেশে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় বালির তৈরি ভাস্কর্য প্রদর্শনীর। এটি একটি উৎসবÑ স্যান্ড স্ট‹ালপচার ফে¯িদ্বভ্যাল। ২০০৫ সালের ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর মাজানদারান প্রদেশের বাবলসার নগরীতে অনুষ্ঠিত হয় বালির তৈরি ভাস্কর্যের প্রথম প্রদর্শনী। দ্বিতীয়বার হয় ২০০৬ সালের ৬ থেকে ২১ আগষ্ট বাবলসার, সারি ও রামসার নগরীতে। এতে ২৭৫টি ভাস্কর্য ঠাঁই পায়। ২০০৭ সালের সেপ্টেল্টল্ফ^রে মাজানদারান প্রদেশে বালির তৈরি ভাস্কর্যের সপ্তাহব্যাপী তৃতীয় জাতীয় প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রভিন্সিয়াল কালচার অ্যান্ড ইসলামিক গাইডেন্স ডিপার্টমেন্টের সহযোগিতায়।


পিরামিডের জন্য দুনিয়াজোড়া খ্যাতি মিসরের। বিরাটÍে^র দিক থেকে বিখ্যাত হলো জোসার বা ¯েদ্বপ (সোপান) পিরামিড ও গিজা পিরামিড। পাথরের তৈরি ¯িম্ফংসের মহৃর্তিসংবলিত গিজা পিরামিড সারা দুনিয়ার পর্যটকদের অতি প্রিয়। শুধু ইসলামপহৃর্বই নয়, অনেক অনেককাল আগের তথা খ্রিষ্টপহৃর্ব আড়াই হাজার অ¦েন্ধর এসব মহৃর্তি মিসরের মুসলমানরা ধ্বংস করেনি, গর্বের সঙ্গে রক্ষা করে। সম্প্রতি আফগানিস্টøানে যে তালেবানরা বামিয়ানের জগদ্বিখ্যাত বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করেছে তারা মৌলবাদী, বিশে^র সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের সঙ্গে তাদের মিল নেই। কায়রো বিশ^বিদ্যালয়ে আছে মাহমুদ মোখতারের বিখ্যাত ভাস্কর্য ‘মিসরের রেনেসাঁ’।


ইরাকেও আছে অনেক ভাস্কর্য। বাগদাদ আন্ত্ররজাতিক বিমানবন্দরের সামনে ডানার ভাস্কর্যটি সবার নজর কাড়ে। বাগদাদের পাশে আল-মনসুর শহরে আছে মনসুরের একটি বিশাল ভাস্কর্য। আছে অনেক সাধারণ সৈনিকের ভাস্কর্য। সাদ্দাম হোসেনের বিশাল আকারের ভাস্কর্যটি মার্কিন আগ্রাসনের পর ভেঙে ফেলে সাদ্দামের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, যারা মার্কিন বাহিনীর মদদপুষ্ট। এটা ভাঙা হয় রাজনৈতিক কারণে, ধর্মীয় কারণে নয়।

 

মুক্তমনা এডমিন। মুক্তমনার মডারেটর এবং পরিচালক।

মন্তব্যসমূহ

  1. nil নভেম্বর 19, 2008 at 2:17 পূর্বাহ্ন - Reply


    Shame Shame Shame on bangladesh govt! Please do not use religion as a tool of your dirty politics. We are proud to show our culture in front of the world. Let’s start to build “Ochin Pakhee.”

  2. Talat নভেম্বর 17, 2008 at 5:05 অপরাহ্ন - Reply


    Shudhu dhormo babshayi der dosh diye lav hobe na.. dhormer o renovation korar dorkar hoye porse. je jai boluk na kanoo vaskorjo, murti egula islam dhorme negative hisebei dakha hoi… noile musolmander prophet kano kaba ghor theke 360 ta murti remove korsilo? bigot muslim ra zia airport er shamne theke murti namiyeche. er jonno jodi blame korte hoi taile islam kei blame kora uchit. karon dhormer moddhei main problem. religion & religious fundamentalism ei dui er moddhe ami kono difference dekhi na.. Onnanno muslim deshe vaskorjo ache kina seta kotha na. akjon manush jokhon islam dhormo okkhore okkhore mana suru korbe tokon sha murti birodhi monovab dakhabei. taile vaskorjo birodhi der blame korte hole dhormokei blame korun

  3. anandomela নভেম্বর 17, 2008 at 3:35 পূর্বাহ্ন - Reply


    Ekti jati jhokon shoto shoto bosorer dormio oo artonoitik shosoner birudde juddo kore joi hoye-oo aabar porajito shoktir kache porabhoto hoy tokhon she-i jatir kopale moddo juger borborota chara aar ki ache ?? Dhik khomotar name shob pandara oo shate dormer name shob moddo jogiyo molla- borborera. Bhalo thakon.

মন্তব্য করুন