নব-নাস্তিক্যবাদ ও এর কাণ্ডারিরা

একবিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে লেখনীর মাধ্যমে নাস্তিক্যবাদী দর্শন প্রচার করে আলোচনায় উঠে আসা লেখকদের ‘নব-নাস্তিক্যবাদী’(New Atheists) বলে আখ্যায়িত করা হয়। এই লেখকদের মধ্যে রয়েছেন স্যাম হ্যারিস, রিচার্ড ডকিন্স, ড্যানিয়েল ড্যানেট এবং ক্রিস্টোফার হিচেন্স। এই লেখকেরা তাদের বইতে ধর্ম ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। সাংবাদিকতার ভাষায় এই লেখকদেরকে ‘নব-নাস্তিক্যবাদী’র তকমায় ভূষিত করা হয়। এরা নাস্তিক্যবাদের চার অশ্বারোহী [...]

স্যার সি ভি রামন

নোবেলবিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী ম্যাক্স বর্ন আরেক বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ডকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন, "Raman is a very able physicist, full of enthusiasm, as you say yourself. There is really no other Indian physicist who is of his rank... His European intensity alone would be enough to make Raman suspicious to the average Indian professor." সত্যিই তাই, [...]

ইওরোপে জগদীশ বসু: এবং নিবেদিতা ও রবীন্দ্রনাথ

১৯০০ সালের আগস্টে প্যারিসে পৌঁছেন জগদীশচন্দ্র ও অবলা বসু। বাংলা ও ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি প্যারিসে পদার্থবিজ্ঞান কংগ্রেসে যোগ দেন এবং জড়বস্তুর সংবেদনশীলতা বিষয়ে তাঁর পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ব্যাখ্যা করেন। তিনি তাঁর “On the similarity of effect of electrical stimulus on inorganic and living substance” প্রবন্ধে ম্যাগনেটিক আয়রন অক্সাইডের ওপর বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ ফেললে সময়ের সঙ্গে [...]

রবীন্দ্রনাথ এবং নিবেদিতার সাথে জগদীশচন্দ্রের বন্ধুত্ব

১৮৯৭ সালের এপ্রিলে নয় মাস ব্যাপী ইওরোপের বৈজ্ঞানিক মিশন শেষ করে দেশে ফিরে এলেন জগদীশচন্দ্র। ইওরোপে তাঁর বৈজ্ঞানিক সাফল্যের কাহিনি কলকাতার সংবাদপত্রেও প্রকাশিত হয়েছে। ভারতীয় বিজ্ঞানীর ইওরোপ জয়ের কাহিনি বাঙালির জন্য তো বটেই, যে কোন ভারতীয়র জন্য গৌরবের। বাঙালির মুখ উজ্জ্বল করা এই বিজ্ঞানীর সাথে পরিচিত হয়ে অভিনন্দন জানানোর জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন যুবক [...]

জগদীশচন্দ্র বসুর প্রথম বৈজ্ঞানিক সফর

১৮৯৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জগদীশচন্দ্র ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশানের বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বিদ্যুত-তরঙ্গ সম্পর্কে বক্তৃতা দিলেন। "Complete apparatus for studying the properties of electric waves" শীর্ষক বৈজ্ঞানিক বক্তৃতাটি বিপুল সমাদৃত হয়। দর্শকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্যার জে জে থমসন, লর্ড কেলভিন, স্যার অলিভার লজ প্রমুখ পদার্থবিজ্ঞানী। প্রথম বক্তৃতাতেই জগদীশচন্দ্র পৃথিবীবিখ্যাত ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের মনযোগ আকর্ষণ করতে সমর্থ হলেন। বক্তৃতা [...]

জগদীশ বসুর বৈজ্ঞানিক গবেষণার সূচনা

পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি জগদীশচন্দ্রের ভালোবাসা জন্মেছিল সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়ার সময় ফাদার লাঁফোর সংস্পর্শে এসে। তারপর তা আরো গভীর হয়েছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। কেমব্রিজে প্রফেসর লর্ড র‍্যালে ছিলেন তাঁর প্রিয় অধ্যাপক। লর্ড র‍্যালের পড়ানো এবং বোঝানোর স্টাইল জগদীশচন্দ্রও প্রয়োগ করেছিলেন তাঁর অধ্যাপনা জীবনে। লর্ড র‍্যালের আগে কেমব্রিজে পদার্থবিজ্ঞানের প্রধান অধ্যাপক ছিলেন জেম্‌স ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল। ম্যাক্সওয়েলের [...]

জগদীশচন্দ্র বসুর ঘর-সংসার

১৮৮৭ সালের ২৭ জানুয়ারি জগদীশচন্দ্রের বিয়ে হয় তাঁর বাবার বন্ধু দুর্গামোহন দাসের দ্বিতীয় কন্যা অবলা দাসের সাথে। বিয়ের পর অবলা দাস স্বামীর পদবী ব্যবহার করে হয়ে যান অবলা বসু। তৎকালীন অখন্ড বাংলার সমাজ-উন্নয়নে দুর্গামোহন দাসের অবদান ছিল ব্যাপক। বিক্রমপুরের সন্তান দুর্গামোহন বরিশালের ইংরেজি স্কুল থেকে পড়াশোনা করে বৃত্তি নিয়ে কলকাতার হিন্দু কলেজে পড়েন। সেখান থেকে [...]

আলফ্রেড নোবেলের উইল এবং নোবেল পুরষ্কার

পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানজনক এবং শক্তিশালী পুরষ্কারের নাম জিজ্ঞেস করলে বেশিরভাগ মানুষ নোবেল পুরষ্কারের কথাই বলেন। ১৯০১ সাল থেকে শুরু হয়ে প্রতিবছর পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে অবদানের জন্য নোবেল পুরষ্কার দেয়া হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, ও রসায়নের গবেষণায় সাফল্যের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি নোবেল পুরষ্কার। সাহিত্যে যিনি নোবেল পুরষ্কার পান - তাঁর পাঠকপ্রিয়তা এই সময় হঠাৎ করেই [...]

মেঘনাদ সাহা- একজন বিজ্ঞানী ও বিপ্লবী

বৃটিশ শাসনামলে মেঘনাদ সাহা ভারতবর্ষ তথা সারা বিশ্বে একজন খ্যাতিমান পদার্থবিদ হিসেবে সমাদৃত হয়েছিলেন। ১৯২০ এর দশকে তিনি নক্ষত্রের বর্ণালী বিশ্লেষণে তাপীয় আয়নীকরণ তত্ত্বে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ভারতের স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে আমৃত্যু তিনি বিজ্ঞানের জন্য এবং বিজ্ঞানমনষ্কতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিরন্তর কাজ করে গেছেন। তাঁর জীবনী আমাদের উৎসাহীত করবে নানা ভাবে। প্রথমতঃ তিনি বাংলাদেশের [...]

জগদীশচন্দ্র বসু: বিশ্বের প্রথম জীবপদার্থবিজ্ঞানী

[জগদীশচন্দ্র বসুকে নিয়ে এর আগে দুটো প্রবন্ধ আমি লিখেছি। মুক্তমনায় তা প্রকাশিত হয়েছে। একটা প্রবন্ধ আমার "উপমহাদেশের ১১ জন পদার্থবিজ্ঞানী" বইতে প্রকাশিত হয়েছে। এবার জগদীশচন্দ্রকে নিয়ে একটা পুরো বই লিখে ফেলেছি। ২০১৬ সালের বইমেলায় তা প্রকাশিত হচ্ছে। মুক্তমনার পাঠকদের জন্য বইটির কিছু অংশ।] "অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ- [...]

লুডভিগ বোল্টস্‌মান – ২

[গত পর্বের পর] অস্ট্রিয়া ছেড়ে জার্মানিতে হতাশা থেকে উত্তরণকল্পে বোল্টস্‌মানের প্রথম চিন্তা ছিল গ্রাৎস ত্যাগ করা। গ্রাৎসে তার প্রতি তার সহকর্মীদের আচরণ পাল্টে গিয়েছিল; তিনি নিজেও মনে করতেন তার আরও ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার যোগ্যতা রয়েছে। এছাড়া গ্রাৎসের সাথে জড়িয়ে আছে তার সন্তানের মৃত্যুর স্মৃতি। সব মিলিয়ে গ্রাৎস তার কাছে বিষাক্ত হয়ে উঠেছিল। ১৮৮৮ সালের [...]

আইনস্টাইনের খাবার-দাবার

কবি-সাহিত্যিকদের ব্যক্তিগত খাবার-দাবার সম্পর্কিত গবেষণা প্রায়ই হয়ে থাকে। রবীন্দ্রনাথের খাদ্যরুচি কেমন ছিল, কয়টি পদ দিয়ে তিনি রাতের ভোজন সারতেন, প্রাতঃরাশে রুটি খেতেন নাকি লুচি, ইত্যাদি প্রসঙ্গও খুবই গুরুত্ব পায় রবীন্দ্র-আলোচনায়। হুমায়ূন আহমেদ খেতে ভালোবাসতেন, খাওয়াতে ভালোবাসতেন, রান্না ও খাবারের প্রতি তাঁর বিশাল আগ্রহের কথাও খুব জানা যায়। ড. আনিসুজ্জামান কিংবা আবু হেনা মোস্তফা কামালের কঠিন-পানীয় [...]

লুডভিগ বোল্টস্‌মান – ১

ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে বিংশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত একশ বছর পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে বৈপ্লবিক সময়। এই কালসন্ধিক্ষণ রচনায় অনেকের অবদান আছে, কিন্তু যদি মাত্র কয়েকজনের নাম বলতে হয় তাহলে চারজনের নামই সবার আগে মনে আসে: জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল, লুডভিগ বোল্টস্‌মান, মাক্স প্লাংক এবং আলবার্ট আইনস্টাইন। বোল্টসমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটা চমৎকার বই লিখেছেন ইতালীয় [...]

গালিলেও গালিলেই – ২

[গত পর্বের পর...] ১৬১৬ সালে ভ্যাটিকান থেকে কোপার্নিকাসের বই সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকার ঘোষণা আসার পর সদা আশাবাদী গালিলেও একটুও হতোদ্যম হননি। কারণ প্রথমত, তার বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা তখনও জারি হয়নি, এবং কোপার্নিকাসের বইয়ের তথাকথিত সংশোধনগুলোও আসলে অত গুরুতর ছিল না। ঘোষণাটির পরও গালিলেও তিন মাস রোমে ছিলেন এবং সেই সময়টাতে ঠিক আগের [...]

গালিলেও গালিলেই – ১

আগে লিখে রেখেছিলাম এমন সবকিছু একে একে মুক্তমনাতে দিয়ে দিচ্ছি। অনেক কিছু একসাথে শুরু করা হয়ে গেছে বুঝতে পারছি। কোনটা শেষ হবে আর কোনটা হবে না জানি না। এ নিয়ে দুঃখ নেই, কারণ স্বয়ং লেওনার্দো দা ভিঞ্চিও যত কাজ শুরু করেছিলেন তার ১ শতাংশও শেষ করে যেতে পারেননি। এই লেখাটি মূলত William H. Cropper এর [...]

Load More Posts