” রাণুর ভানুদাদা ” তৃতীয় পর্ব

লিখেছেন: সাত্যকি দত্ত কলকাতায় ফণিভূষণের চিকিৎসা সম্পূর্ণ হলে , তার বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল । রবীন্দ্রনাথ তখন ফণিভূষণকে শান্তিনিকেতনে এসে থাকবার জন্য আহ্বান করেন । বলা বাহুল্য , রাণুর সান্নিধ্য পাওয়ার স্বার্থবুদ্ধিও রবীন্দ্রনাথের আমন্ত্রণের পিছনে কাজ করেছিল । ফণীভূষণ কলকাতা থেকে সপরিবারে শান্তিনিকেতনে আসলেন ৪- ঠা জুন তারিখে , তাঁদের থাকার ব্যবস্থা হল মহর্ষি ভবনে [...]

জীবনানন্দের ব্যথিত মানচিত্র

লেখক: মাসুদ সজীব কলমীর গন্ধভরা রূপসী বাংলায় আপনি ফিরতে চেয়েছেন বারে বারে, কখনো ফিরতে চেয়েছেন শঙ্খচিল শালিখের বেশে, কখনো বা সোনালী ডানার চিল হয়ে। দেখতে চেয়েছিলেন কাঁঠালপাতা ঝরিয়া পড়িবে ভোরের বাতাসে; হয়তো দেখতে চেয়েছেন সুদর্শনা উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে। প্রিয় জীবনানন্দ, আপনাকে জানিয়ে রাখি দালান আর প্রাসাদের চাপায় কলমীর গন্ধ আজ হারিয়ে গেছে বাংলা থেকে, গন্ধহীন [...]

প্রাচীন ভারতবর্ষ ও আমাদের যেটুকু অহঙ্কার

সম্রাট আকবরকে ইসলামি পন্ডিতেরা ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী সহজাত বিশ্বাসের পক্ষে যুক্তি দেখালে তিনি বলেছিলেন, “ যুক্তিবিচারের অনুসরণ ও গতানুগতিকতা বর্জনের প্রয়োজন এমন জাজ্বল্যমানভাবে প্রতীয়মান যে, তার সপক্ষে সওয়াল করারও কোনো প্রয়োজন নেই। পরম্পরার অনুসরণই যদি সঠিক পন্থা হত তাহলে পয়গম্বরেরাও পূর্বসূরীদের অনুসরণ করেই ক্ষ্যান্ত হতেন, কোনো নতুন বার্তা নিয়ে আসতেন না”। আবার “সৎকর্ম পরজন্মের সুফল [...]

জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা: রাজনৈতিক বাস্তবতার চাকায় পিষ্ট জীবন!

লেখক: কে এইচ রুধির “উনিশ শ পঁচাশি সনে একদিন লক্ষ্মীবাজারে শ্যমাপ্রসাদ চৌধুরী লেনের যুবক আবদুল মজিদের পায়ের স্যান্ডেল পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি বিধানে ব্যর্থ হয়ে ফট করে ছিঁড়ে যায়। আসলে বস্তুর প্রাণতত্ত্ব যদি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতো, তাহলে হয়তো বলা যেত যে, তার ডান পায়ে স্পঞ্জের স্যান্ডেলের ফিতে বস্তুর ব্যর্থতার জন্য নয়, বরং প্রাণের অন্তর্গত সেই কারণে [...]

রাণুর ভানুদাদা (দ্বিতীয় অংশ)

লিখেছেন: সাত্যকি দত্ত রবীন্দ্রনাথ তখনও ভানুদাদা হয়ে ওঠেনি , রাণু তাঁকে সম্বোধন করে রবিবাবু বলে । সারা সকাল ধরে রবিবাবুর জন্য সুন্দর নকশা করা বাসন্তী রঙের কাগজে চিঠি লিখত রাণু । চিঠিতে তাঁর প্রিয় রবিবাবুকে কত করে সে বলে , " এ চিঠির উত্তর শিগগির দেবেন যেন "। কিন্তু রবিবাবু সে কথা রাখতে ভুলে যায় [...]

By | 2017-03-28T05:34:55+00:00 January 20, 2017|Categories: সাহিত্য আলোচনা|0 Comments

ভানুর রাণু

লিখেছেন: সাত্যকি দত্ত ( প্রথম পর্ব ) ১৩২৪ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসের দুপুরে রবীন্দ্রনাথ একটি চিঠি খুলে দেখলেন তাতে লেখা আছে - "প্রিয় রবিবাবু , আমি আপনার গল্পগুচ্ছের সব গল্পগুলি পড়েছি , আর বুঝতে পেরেছি কেবল ক্ষুধিত পাষাণটা বুঝতে পারিনি । আচ্ছা , সেই বুড়োটা যে ইরানী বাঁদির কথা বলছিল , সেই বাঁদির গল্পটা বলল না [...]

রবীন্দ্রনাথের ‘যুবরাজ’

লিখেছেনঃ সাত্যকি দত্ত অভিজিতের জন্ম হয়েছিল কলকাতায় । জন্মের প্রথম বার যখন সে শান্তিনিকেতনে আসলো , রবীন্দ্রনাথ তাকে স্নেহভরে কোলে তুলে নিয়ে বললেন - এর নাম রইল ' অভিজিত ' । শান্তিনিকেতনে তখন অভিজিতই একমাত্র শিশু - সকলের কোলে কোলে সে খুব আদরে বাড়তে লাগলো । একদিন দু পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে পা পা [...]

By | 2017-03-28T05:36:08+00:00 November 25, 2016|Categories: সাহিত্য আলোচনা|4 Comments

দিদিমার গল্প এবং অন্যান্য

০০ শিরোনামটা লেখার পর মনে হলো আমাদের বাংলাভাষায় কিছু কিছু শব্দ আছে যেগুলো ধর্ম-নিরপেক্ষ নয়। দিদিমা, ঠাকুরমা, ঠাকুরদিদি, ঠানদি, ঠাকুরদা, মাসি, পিসি, দাদা, দিদি, বৌদি ইত্যাদি সম্পর্কসূচক শব্দগুলো বাংলাভাষী মুসলমানরা দৈনন্দিন ব্যবহার করেন না। তেমনি নানা, নানি, দাদি, খালা, খালু, ফুফু, ফুফা, ভাবী ইত্যাদি শব্দগুলো বাংলাভাষী হিন্দু বা বৌদ্ধরা ব্যবহার করেন না। এরকম আরো কিছু [...]

জীবনানন্দের প্রতি রবীন্দ্রনাথ

লিখেছেনঃ সাত্যকি দত্ত ঝরা পালকের পাঠপ্রতিক্রিয়ায় রবীন্দ্রনাথ জীবনানন্দকে একটি চিঠি লিখেছিলেন , জীবনানন্দ তখন বরিশালে , চিঠির বক্তব্য - " তোমার কবিত্বশক্তি আছে তাতে সন্দেহমাত্র নেই । - কিন্তু ভাষা প্রভৃতি নিয়ে এত জবরদস্তি কর কেন বুঝিতে পারিনে । কাব্যের মুদ্রাদোষটা ওস্তাদিকে পরিহাসিত করে । বড় জাতের রচনার মধ্যে একটা শান্তি আছে , যেখানে তার [...]

হায় চিল…

রবীন্দ্রনাথের পরে জীবনানন্দ দাশই বাংলা কবিতার একমাত্র কবি যাঁর প্রভাবমুক্ত হ’তে গলদঘর্ম হ’তে হয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের কবিদের। কেউ কেউ সচেতন ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় উৎরে যেতে পেরেছেন কিছুটা কিন্তু প্রায় সবাই ওই জীবনানন্দীয় কাব্যকথা ও কাব্যভাবনার জালেই জড়িয়ে পড়েছেন। একমাত্র বুদ্ধদেব বসু ছাড়া জীবনানন্দ দাশের জীবনকালে কেউ জীবনানন্দের কবিতা নিয়ে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছেন ব’লে জানা যায় [...]

পরানের গহীন ভিতর এক নাট্যকার

"যদি মানবিক অনুভূতিগুলোকে স্থানভেদে, পাত্রভেদে, কালভেদে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রকাশ করতে না পারো তবে কবিতা নির্মাণ তোমার কাজ নয়।" আজ থেকে প্রায় ছাব্বিশ বছর আগে কথাগুলো বলেছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। না, ঠিক আমাকে নয় - বলেছিলেন আমার এক বন্ধুর বোনকে। কবিযশোপ্রার্থী তরুণীটি সেই সময় দৈনিক একাধিক 'কবিতা নির্মাণ' করছিল অসীম ধৈর্যের সাথে। মানবিক অনুভূতিগুলো সে প্রকাশ [...]

হৃদয়বৃত্তান্ত: আকর্ষণের অলিগলির বিবর্তনীয় অন্ধিসন্ধি

ডাউনলোড লিংকঃ পিডিএফ ই-পাব জন্মেরও আগে, ভ্রূণাবস্থাতেই বইটার সাথে আমার, আমাদের পরিচয়, তাঁর অন্য একাধিক বইয়ের মতনই। নতুন বই লেখার সিদ্ধান্ত নিলে সাধারণত তিনি ব্লগে লেখা শুরু করতেন, এবং এর আলোচনাসমালোচনার পারস্পরিক মিথষ্ক্রিয়ার ব্লগজাগতিক সুবিধে নিয়ে তিনি সম্ভাব্য বইটির পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংশোধন করতেন। কৃতজ্ঞতাপ্রকাশে অকুণ্ঠ ছিলেন তিনি। এমনকি বইয়ের ভূমিকা থেকে আরম্ভ করে পাতায় পাতায় [...]

হাত বাড়িয়ে দাওঃ এক মা আর এক ভ্রুণের উপাখ্যান

লেখকঃ কে এইচ রুধির ‘হাত বাড়িয়ে দাও’ ওরিয়ানা ফাল্লাচির অসাধারণ রচনাগুলোর একটি। মাত্র ৫৫ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসটি পড়ার সময় অসাধারণ এক মুগ্ধতায় বুঁদ হয়েছিলাম। এক বসায় পড়ে ফেলার মত একটি উপন্যাস। প্রচ্ছদঃ হাত বাড়িয়ে দাও- ওরিয়ানা ফাল্লাচি। অনুবাদঃ আনু মুহাম্মদ। এক মা আর এক ভ্রুণের উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে। বিশেষত এক মেয়ের গল্প যার [...]

ব্যোমকেশ, অজিত ও নারী

“শ্রীমৎ শংকরাচার্য বলেছেন নারী নরকের দ্বার। সনৎ নরকের অনেকগুলি দ্বার খুলেছিল, তাই শেষ পর্যন্ত তার নরকবাস অনিবার্য হয়ে পড়ল।” উদ্ধৃতিটি বাঙালি মাত্রেই অবিহিত হবেন আন্দাজ করা যায়। পাঁচ-দশ বছর আগেও কি হত বলা যায় না। তবে অধুনা বায়োস্কোপে প্রবল ব্যোমকেশ হাওয়ায় এরকম সব উদ্ধৃতি-ই উড়ো খৈ-এর মত আপনি-ই তাবৎ বাঙালির কানে ঢোকা উচিত। তবু এই [...]

ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোঃ আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী

লিখেছেনঃ কে এইচ রুধির “আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী। তুমি থাক সিন্ধু পারে ওগো বিদেশিনী।। তোমায় দেখেছি শারদপ্রাতে, তোমায় দেখেছি মাধবী রাতে, তোমায় দেখেছি হৃদি-মাঝারে ওগো বিদেশিনী। আমি আকাশে পাতিয়া কান শুনেছি শুনেছি তোমারি গান, আমি তোমারে সঁপেছি প্রাণ ওগো বিদেশিনী।” রবীন্দ্রনাথের এই গানের বিদেশিনী কে? কেউ কেউ ধারনা করেন যে, ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো [...]

Load More Posts