goat

হ্যাঁ, এই হচ্ছে! দেশটা যেন হেফাজত চালাচ্ছে। কে জানত দেশের এই হাল হবে আওয়ামী সরকারের হাত ধরেই!

‘আমরা যা’ তার বেশির ভাগই গড়ে উঠে শিশুকালে। এই সময় আমাদের ভাষাজ্ঞান, আচার-আচরণ, মূলবোধ, বিশ্বাস, খাদ্যাভ্যাস, রুচিবোধ সব কিছু গড়ে উঠে যা অনেকটা অপরিবর্তনীয় হিসাবে থেকে যায়। তাই এই সময়ে বাচ্চাদের কী শেখানো হচ্ছে সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা লেখালেখির জগতে, ব্লগে, অনলাইনে বিভিন্ন ভাবে সক্রিয়, উদ্দেশ্য দেশটাকে একটু হলেও এগিয়ে নেয়া। আমরা দেশের উন্নয়ন চাই, মানবিক চেতনার বিকাশ চাই। কিন্তু শিশুদের মনকে শুরুতেই যদি সংকীর্ণ চিন্তা-চেতনা দিয়ে ভরিয়ে দেয়া হয় তবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সে ভাবনা এক ‘আকাশ-কুসুম চিন্তা’ হয়ে দাঁড়াবে।

আমাদেরকে শিশুকালে সাম্প্রদায়িকতা শেখানো হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় এক শিক্ষক ভারতে বিমান দুর্ঘটনায় বেশ কিছু লোক মারা যাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময়ই ব্যাপারটা এত অযৌক্তিক মনে হয়েছে যে আজও মনে আছে। আমরা শিখেছি মূর্তিপূজা কত বড় গুণাহ, এটা কতটা বোকামি। ইসলাম ধর্মশিক্ষায় পাতায় পাতায় কেন পৌত্তলিকদের নিয়ে বিষোদগার তা সহজেই অনুমেয়। আরো আছে কোরান-হাদিস দিয়ে ইহুদি আরা খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে সরাসরি কটূক্তি। ইসলাম ধর্ম শিক্ষায় ইব্রাহিমের কাহিনিতে পেয়েছি তিনি নাকি কয়েকটি প্রধান মূর্তি ভেঙ্গে একটা মূর্তির গলায় কুঠার ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। মুহাম্মদ কাবার ৩৬০ মূর্তি ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। ব্যাপারগুলো কতই না অনুসরণীয় আর প্রশংসনীয়! এগুলো শিখে যারা বড় হবে তারা নাসিরনগরের মত ঘটনাই তো ঘটাবে! যাদের শেখানো হয় মূর্তি ভাঙ্গা বিশাল পূণ্যের কাজ তারা কেন বড় হয়ে আইএস এ যোগ দেবে না? অনেকেই প্রশ্ন তুলেন, শুধু মাদ্রাসা না, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও জঙ্গিরা বের হচ্ছে। তো শিক্ষার যখন এই হাল তখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জঙ্গিরা বেরোবে না তো কী! অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে মাঝে মাঝে মনে হয় কোনো একদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখবো দেশে সংখ্যালঘু বলতে আর কারো অস্তিত্বই নাই। আজই গোপালগঞ্জে ৩ টি মন্দিরে হামলা হয়েছে, ২০টি মূর্তি ভাঙচুর হয়েছে।

প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘ইসলাম শিক্ষা’ থাকার পরও সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে বাংলা পাঠ্য বইয়ে নবির কাহিনি, সাহাবাদের কাহিনি, ইসলামের জয়গান ঢুকিয়ে দেয়া পাকিস্তানি মানসিকতা প্রসূত হীন ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই না। অমুসলিম শিশুদের বিব্রত করা, বিপর্যস্ত করা, তাদের মধ্যে মনোবৈকল্য সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই এগুলো করা হয়। অমুসলিম শিশুরা যখন মুহাম্মদ ও সাহাবিদের নাম মুখে নেয় তখন কি তারাও দরুদ পড়ে? আর না পড়লে কি তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় না? এটা পরিষ্কার অমানবিক শিশু-নির্যাতন। তদুপরি নবি, রসুল, সাহাবিদের যেসব কাহিনি দেয়া তা অনেকাংশেই মিথ্যা।

একটি ব্লগ লেখেছিলাম মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে। সেখানে বলতে চেয়েছিলাম একটি শিশু শুধু তাঁর পিতা-মাতার সন্তান নয়, সে সমাজের সন্তান। মাদ্রাসায় পড়িয়ে এদের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেয়ার অধিকার কারো নেই। হায় হায়! এখন দেখি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেই আস্তে আস্তে মাদ্রাসায় পরিণত করা হচ্ছে যেখানে বরং মাদ্রাসাগুলোকে সংকীর্ণতা থেকে ধীরে ধীরে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। কয়েক বছর আগে দেখলাম পাঠ্য-বইগুলোতে শিশুদের পোশাকের ইসলামায়ন করা হয়েছে, এখন সেই প্রথম শ্রেণীতেই শিশুরা ‘ও’ তে ওড়না চাচ্ছে।

অনেক হিন্দু, নাস্তিক লেখকের লেখা সরিয়ে দেয়া হয়েছে হেফাজতের দাবির মুখে। হুমায়ুন আজাদের ‘বই’ কবিতাটি ৫ম শ্রেনীর বাঙলা পাঠ্য বইয়ে ছিলো

হেফাজতিরা এর ব্যাখ্যা করল- কোরানে নাকি আল্লাহ ও দোজখের ভয় দেখানো হয়েছে তাই কবিতাটি ইসলাম সম্মত নয়, তাই সরিয়ে দিতে হবে। তাদের সে দাবি পূরণ হয়েছে।

কালের কণ্ঠে আজিজুল পারভেজ লেখেছেন,

২০১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের ‘আমার বাংলা বই’য়ে পরিমার্জন করা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘সবাই মিলে করি কাজ’, তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)’, চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘খলিফা হযরত ওমর (রা.), পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘বিদায় হজ’ ও ‘শহিদ তিতুমীর’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে কবি গোলাম মোস্তফা রচিত ‘প্রার্থনা’ কবিতার পরিবর্তে কবি কাদের নওয়াজ রচিত ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন আজাদ রচিত ‘বই’ কবিতা।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল মান্নান জানান, ‘সবাই মিলে করি কাজ’

[হজরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনচরিত), ‘খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)’, ‘খলিফা হযরত ওমর (রা.)’ শীর্ষক বিষয়গুলো বাংলা বইয়ে না থাকলেও ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ‘বিদায় হজ’ ও ‘শহিদ তিতুমীর’ শীর্ষক নিবন্ধ দুটি বাংলা বই থেকে বাদ পড়লেও বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ে ছিল। এগুলো পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়েনি।

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তক চারুপাঠ থেকে এস ওয়াজেদ আলীর ‘রাঁচি ভ্রমণ’ বাদ পড়েছে। যুক্ত হয়েছে সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’। সানাউল হকের কবিতা ‘সভা’ বাদ পড়েছে, যুক্ত হয়েছে জসীমউদ্দীনের ‘আসমানী’। আনন্দপাঠ থেকে বাদ পড়েছে সত্যেন সেনের গল্প ‘লাল গরুটা’, যুক্ত হয়েছে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র ‘সততার পুরস্কার’। এনসিসিসি সভার সিদ্ধান্তে ভ্রমণ কাহিনী ও গল্পের পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কবিতার পরিবর্তন হয়েছে ট্রাই-আউট রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে।

সপ্তম শ্রেণির বাংলা বই সপ্তবর্ণার গদ্যে হাবীবুল্লাহ বাহারের ‘মরু ভাস্কর’ যুক্ত হয়েছে এবং দ্রুতপঠন আনন্দপাঠ বই থেকে শরত্চন্দ্রের ‘লালু’ বাদ পড়েছে এনসিসিসি সভার সিদ্ধান্তে।

অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা থেকে কাজী নজরুল ইসলামের একটি গদ্য বাদ নিয়ে নতুন একটি যুক্ত হয়েছে ট্রাই-আউট রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশে। ট্রাই-আউট রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনটি পদ্য বাদ পড়েছে। তার জায়গায় একটি পদ্য যুক্ত করা হয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে, কিন্তু দুটি পদ্য কায়কোবাদের ‘প্রার্থনা’ ও কালিদাশ রায়ের ‘বাবুরের মহত্ত্ব’ যুক্ত করা হয়েছে ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত এনসিসিসি সভার সিদ্ধান্তে। বাংলা দ্রুতপঠন আনন্দপাঠ থেকে উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর ‘রামায়ণ-কাহিনী’ (আদিকাণ্ড) বাদ পড়েছে।

নবম শ্রেণির বাংলা বই মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য থেকে একটি গদ্য ও পাঁচটি কবিতা বাদ পড়েছে এবং পাঁচটি কবিতা যুক্ত হয়েছে এনসিসিসি সভার সিদ্ধান্তে। বাদ পড়া ভ্রমণ কাহিনীটি হচ্ছে সজীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ’ এবং কবিতা হচ্ছে জ্ঞানদাসের ‘সুখের লাগিয়া’, ভারতচন্দ্রের ‘আমার সন্তান’, লালন শাহর ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্বাধীনতা’ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সাঁকোটা দুলছে’। যুক্ত হয়েছে শাহ মোহাম্মদ সগীরের ‘বন্দনা’, আলাওলের ‘হাম্দ’, আব্দুল হাকিমের ‘বঙ্গবাণী’, গোলাম মোস্তফার ‘জীবন বিনিময়’ ও কাজী নজরুল ইসলামের ‘উমর-ফারুক’।

যেসব কারণে হিন্দু ও মুক্ত চিন্তার লেখকদের লেখা বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁর একটা বিবরণ পাবেন এখানে

১. পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা বই থেকে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হুমায়ূন আজাদের ‘বই’ কবিতাটি বাদ দিয়েছে যে কারণে তা হলো – ‘যে বই তোমায় ভয় দেখায়/ সেগুলো কোন বই নয়/সে বই তুমি পড়বে না/যে বই তোমায় অন্ধকারে বিপথে নেয়’ !

হুমায়ূন আজাদ এখানে কোন বইয়ের নাম উল্লেখ করেনি ; অথচ মুসলমানরা ধরে নিয়েছে কুরআন শরীফকেই নাকি ইঙ্গিত করেছে । আর এতে নাকি কোমলমতি শিশুদের ইসলাম বিদ্বেষী করা হচ্ছে । যার পরিবর্তে ‘বিদায় হজ’ সংযুক্ত করেছে ।

২. ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা বইতে এস ওয়াজেদ আলীর ‘রাঁচি ভ্রমণ’ বাদ দেওয়ার কারণ ভারতের ঝাড়খন্ডের রাজধানী রাঁচি হিন্দুদের একটি তীর্থস্হান । যার পরিবর্তে সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নীলনদ আর পিরামিডের দেশ’ যুক্ত হয়েছে ।

৩. একই শ্রেণীর সত্যেন সেনের ‘লাল গরুটা বাদ দেওয়ার কারণ গরু মায়ের মতো উল্লেখ করে মুসলমান বাচ্চাদের নাকি হিন্দুত্ববাদ শেখানো হচ্ছে । যার পরিবর্তে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত ‘সততার পুরষ্কার’ যুক্ত হয়েছে । যেটা পুরোটাই ইসলামিক ধ্যান ধারণা নিয়ে রচিত ।

৪. সপ্তম শ্রেণীর বাংলা বইতে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘লাল ঘোড়া’ গল্পটি বাদ দেওয়ার কারণ – গল্পে লালু নামে একটি ঘোড়া ছিল । আর এতে মূলত পশুর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ পেয়েছে ; যাতে নাকি মুসলমানদের পশু কোরবানীতে বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে । যার পরিবর্তে হাবীবুল্লাহ বাহারের ‘মরু ভাস্কর্য’ যুক্ত হয়েছে । যেখানে প্রকাশ পেয়েছে মোহাম্মদের জীবন চরিত্র ।

৫. সুকুমার রায়ের ‘আনন্দ’ কবিতায় ফুলকে ভালোবাসার কথা বলেছে আর যেটা ইসলামের সাথে মেলে না – তাই বাদ পড়ে গেছে ।

৬. কালিদাস রায়ের ‘অপূর্ব প্রতিশোধ’ কবিতায় কত সুন্দর ভাবে ইসলামের প্রশংসা করা হয়েছে – ‘তার তাজা খুলে ওজু করে আজো নামাজ পড়িনি/আত্না তোমার ঘুরিছে ধরায় স্বর্গে পাইনি ঠাঁই ! তবুও কবিতাটি বাদ দেওয়া হয়েছে ।

৭. সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘মে দিনের কবিতা’ কেন বাদ দেওয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি ।

৮. স্বর্ণকুমারী দেবীর ‘উপদেশ’ কবিতাতে পিতামাতা এবং গুরুজনকে দেবতুল্য বলা হয়েছে ; জগতের সৃষ্টিকর্তা ভগবান । যার কারণে কবিতাটি বাদ দেওয়া হয়েছে ।

৯. রণেশ দাশগুপ্তের ‘মাল্যদান’ গল্পে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ; অথচ এটাকেও বাদ দেওয়া হয়েছে ।

১০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলাদেশের হৃদয়’ কবিতাটি বাদ দেওয়ার কারণ – ‘ডান হাতে তোর খড়গ জ্বলে, বাঁ হাত করে স্নেহের হাসি’ ! কবিতায় নাকি দেবী দুর্গাকে প্রশংসা করা হয়েছে ।

১১. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গল্প ‘লালু’ বাদ দেওয়ার কারণ কালীপূজা ও পাঁঠা বলির কাহিনী যুক্ত আছে ।

১২. অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বইতে বুদ্ধদেব বসুর ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতাটি বাদ দিয়ে কায়কোবাদের ‘প্রার্থনা’ যুক্ত করেছে ।

১৩. উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী রচিত ‘রামায়ণ কাহিনী-আদিখন্ড’ শীর্ষক গল্পটি বাদ দিয়েছে ; কারণ সেখানে রামকে প্রশংসিত করা হয় যেটা নাকি কোমলমতি মুসলমান শিশুদের আঘাত করবে ।

১৪. নবম শ্রেণীর বাংলা বইতে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ’ গল্পটি বাদ দেওয়ার কারণ এটি ভারতের পর্যটন স্পট বলে।

১৫. জ্ঞান দাস রচিত ‘সুখের লাগিয়া’ কবিতাটি বাদ দেওয়ার কারণ কবিতাদ্বয়ে রামকৃষ্ণের ভক্তি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । যার পরিবর্তে শাহ মোহাম্মদ সগীরের ‘বন্দনা’ যুক্ত করেছে । যেটা কিনা ইসলামিক চিন্তাধারার কবিতায় বটে ।

১৬. ভারতচন্দ্র গুণাকর রচিত ‘আমার সন্তান’ কবিতাটি বাদ দেওয়ার কারণ কবিতায় মঙ্গলকাব্যের অন্তভূক্তি, যা দেবী অন্নপূর্ণাকে প্রশংসা ও প্রার্থনা করার কথা বলা হয়েছে । যার পরিবর্তে আলাওলের ‘হামদ’ কবিতাটি যুক্ত করেছে ।

১৭. লালন শাহ রচিত ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ কবিতাটি বাদ দেওয়ার কারণ লালন সমাজকে প্রশংসিত করেছে । যার পরিবর্তে আব্দুল হাকিমের ‘বঙ্গবাণী’ কবিতাটি যুক্ত করেছে ।

১৮. রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়ের ‘স্বাধীনতা’ কবিতাটি কি কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে জানা যায়নি । যার পরিবর্তে গোলাম মোস্তফার ‘জীবন বিনিময়’ কবিতা যুক্ত করেছে ।

১৯. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সাঁকোটা দুলছে’ কবিতাটি বাদ দেওয়ার কারণ সাতচল্লিশের দেশভাগ কে নাকি হেয় করা হয়েছে । যার পরিবর্তে কাজী নজরুল ইসলামের ইসলামিক কবিতা ‘উমর ফারুক’ যুক্ত করেছে । – এমন আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়, সময় সল্পতার কারণে সব উল্লেখ করতে পারিনি । আপনারা নিজেরা প্রত্যেক শ্রেণীর বই হাতে নিয়ে একটু দেখবেন, কিভাবে হিন্দুদের পরিকল্পিত ভাবে ইসলামিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে ।

কী পরিমাণ সাম্প্রদায়িক ও পশ্চাৎপদ চিন্তা থেকে তা করা হয়েছে সেটা ভাবলে মাথা ঘুরে!

এ কোন অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম?

লিংক

১। পাঠ্য বইয়ে এসব কী
২। অসংখ্য ভুলে ভরা পাঠ্যবই
৩। পাঠ্যপুস্তক তামাশা নিয়ে একটি সংক্ষেপিত পর্যালোচনা
৪। তারচেয়ে পাঠ্যবই হেফাজতই লিখুক
৫। পাঠ্যবইয়ের ছাগল গাছে উঠে আম খায়!
৬। বাংলাদেশে পাঠ্যবই: ‘ও-তে ওড়না’ বিতর্ক
৭। সাম্প্রদায়িকতাই কি শেষ ঠিকানা? কোন দিকে যাচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা!

By | 2017-03-28T05:35:07+00:00 January 5, 2017|Categories: বাংলাদেশ, শিক্ষা, সমাজ|Tags: , |18 Comments

Share This Story, Choose Your Platform!

18 Comments

  1. গীতা দাস January 6, 2017 at 12:26 am - Reply

    নিজের মাথার চুল ছেঁড়া ছাড়া কি আর কিছুই করতে পারবো না ?

    • সৈকত চৌধুরী January 6, 2017 at 12:32 am - Reply

      একেবারে ‘থ’ হয়ে বসে আছি। বাচ্চাগুলোকে এভাবে নষ্ট করে দিলে ভবিষ্যতে আর কিছুতেই কাজ হবে না, কিছুতেই না।

  2. কাজী রহমান January 6, 2017 at 6:31 am - Reply

    অনেকেই প্রশ্ন তুলেন, শুধু মাদ্রাসা না, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও জঙ্গিরা বের হচ্ছে। তো শিক্ষার যখন এই হাল তখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জঙ্গিরা বেরোবে না তো কী!

    সেখানে বলতে চেয়েছিলাম একটি শিশু শুধু তাঁর পিতা-মাতার সন্তান নয়, সে সমাজের সন্তান। মাদ্রাসায় পড়িয়ে এদের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেয়ার অধিকার কারো নেই। হায় হায়! এখন দেখি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেই আস্তে আস্তে মাদ্রাসায় পরিণত করা হচ্ছে যেখানে বরং মাদ্রাসাগুলোকে সংকীর্ণতা থেকে ধীরে ধীরে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। কয়েক বছর আগে দেখলাম পাঠ্য-বইগুলোতে শিশুদের পোশাকের ইসলামায়ন করা হয়েছে, এখন সেই প্রথম শ্রেণীতেই শিশুরা ‘ও’ তে ওড়না চাচ্ছে।

    এইগুলি হচ্ছে গিয়ে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। শিশুকাল থেকেই সুস্থ কোমল সুন্দর মন হত্যা করা হচ্ছে। শিশুর মন মেরে ফেলতে পারলে, মগজ ধোলাই করে দিতে পারলে আর কি চাই শাসক ও মৌলবাদীদের। পরিকল্পিত ভাবে সেই সবই চলছে। হ্যাঁ , সব ‘কিছু নষ্টদের অধিকারে’ চলে যাচ্ছে। মদত দিচ্ছে ক্ষমতাসীন শাসক দল।

    ক্রমান্বয়ে একটি জাতির সাংস্কৃতিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে এরাই দায়ী।

    এরা যুদ্ধাপরাধীর মত। এরা দুগ্ধাপরাধী।

    ছদ্মবেশী জনপ্রতিনিধি, ভন্ড, রাজ ঠিকাদার, ঘৃনাবাদ।
    ঘৃণাবাদ তোমাদের, অন্তর থেকে, শ্বাশত ঘৃনাবাদ।
    সুপ্রভাতের বদলে তোমাদের জানাই অসীম ঘৃনাবাদ।
    স্বাধীনতার চেতনার অপমানের চতুর ঠিকাদার, দুগ্ধাপরাধী।

  3. নীলাঞ্জনা January 6, 2017 at 6:52 am - Reply

    প্রশ্ন হলো, মদিনা সনদের রাষ্ট্রে মাদ্রাসাগুলিকে স্কুল কেন বলা হয়? আর কিছু দাবী-দাওয়া আছে।

    দাবী নাম্বার ১ – মদিনা সনদের রাষ্ট্রে সকল অমুসলিমকে বাধ্যতামূলক মুসলিম বানায়ে ফেলা হোক।
    দাবী নাম্বার ২ – মদিনা সনদের রাষ্ট্রে কোরান ও হাদিসই হোক মাদ্রাসার একমাত্র পাঠ্য কেতাব। আর কোনো কেতাব এই বাষ্ট্রের অভ্যন্তরে থাকতেই পারবে না। কেউ পড়তেও পারবে না। কাএউ পড়লে তার প্রতি প্রস্তরখণ্ড নিক্ষেপ করা হবে।
    দাবী নাম্বার ৩ – কোরান ও হাদিসের আয়াতগুলি মদিনাবাসীদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে হাতেকলমে শিক্ষা দিতেই হবে, দিতেই হবে।

  4. যেমন জাতি তেমন নেতৃত্ত্ব! ছাগুকূলের ছাগুকান্ড, সেটাইতো স্বাভাবিক!

  5. আহমেদ শাহাব January 6, 2017 at 12:46 pm - Reply

    ক্ষমতাকে ধরে রাখতে আওয়ামীলীগযে জামাতের আদর্শকে ধারণ করতেও প্রস্তুত তার প্রমাণ পাঠ্য পুস্তকে এই অমানবিক তুঘলকি কান্ড।নিছক ক্ষমতার সার্থে একদিকে তারা মাঠের জামাতকে ধ্বংস করছে অন্যদিকে হেফাজত চরমোনাইদের মাধ্যমে জামাতের আইডোলজিকে শিশুদের মগজে ঢুকিয়ে দিচ্ছে।একদিকে জঙ্গী মারছে অন্যদিকে পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের জঙ্গী বানানোর সবক দিচ্ছে।একদিকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে ঢাকঢোল পেঠাচ্ছে আরেকদিকে পাঠ্যপুস্তক থেকে হিন্দু লেখকদের রচনা ঝেটিয়ে বিদায় করে মুসলমান লেখকদের সাম্প্রদায়িক রচনা অন্তর্ভুক্ত করছে।কী বৈপরিত্ব! কী ভন্ডামী!আবার নির্লজ্জ্বতার চূড়ান্ত অপকর্মটি করেছে বইয়ের শেষে শেখ হাসিনার ছবির নীচে “শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ,শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ ক্যাপশন লিখে।এটা বই না ইলেকশনের পোষ্টার হলো? অবশ্য যে দেশে্র শিক্ষাবোর্ড হেফাজতি আর চরমোনাইয়ের মতো মূর্খ এবং ভন্ডদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে বাচ্চাদের পাঠ্য বই রচনা করে সে দেশে কত কিছুই না সম্ভব।

  6. সালমা January 7, 2017 at 6:11 am - Reply

    এসব লেখালিখি করে কাজ হবে না। এই ছাগলগুলোকে ছাই দিয়ে চেপে ধরতে হবে। এদের বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলন চাই।

  7. Chatgar Chale January 7, 2017 at 9:10 pm - Reply

    হায়রে এটা নাকি অম্প্রদায়িক দেশ। কিছু বলার নেই।

  8. ZM Juwel Rana January 8, 2017 at 7:50 pm - Reply

    কিছু বলার নেই

  9. পিন্টু January 9, 2017 at 3:58 am - Reply

    এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, প্লিজ কেউ থামানোর চেষ্টা করবেন না।
    যেভাবে এগোতে চায় এগোক।

  10. নৈকষ্য নূর January 10, 2017 at 1:45 pm - Reply

    মন্ত্রী বলেন সরকার বলেন ওরা যেমন যে মানের শিক্ষার মান কি তার মতো হবে না । এদেশে শিশুরা ভালো মানের ভালো কাগজের ভালো নির্ভুল বই যদি পায় কেমনে হবে সব ভালো তো শিখে ফেলবে তাহলে কিভাবে আপনি চাপাতির কুপাকুপি শেখাবেন । নেড়ি প্রাণী দিয়ে আপনি কি আশা করতে পারেন ।এতো ডিজিটাল আপনি বই ছাপাবার যোগ্যটা নেই বিদেশে আপনার নেড়ি সখাদের দিয়ে করতে হয় মন্ত্রী নেড়ি সখা নেড়ি সব তো ঠিক ই আছে ।কি ভাবে চাপাতি বানাতে হয় মোড়ে মোড়ে সন্ধ্যা হলেই সারারাত শিক্ষা দিচ্ছেন চাপাতি কি করে চালাতে হয় কুপাকুপি শেখাচ্ছেন বইয়ের দরকার আছে কি?

  11. নৈকষ্য নূর January 10, 2017 at 2:04 pm - Reply

    কবিতা কেন কোন মানবিক কথাই ইসলাম সম্মত হবে না , সত্য আর রূপক কবিতা এক নয় ।
    মানকিব সত্য মানুষের অধিকারের কথা যে কবিতা বলে তা ইসলাম সম্মত হয় কি করে ?, ধর্ম তো খুনাখুনির অমানবিক বর্বর । সত্য কবিতা বর্বর হতে পারবে না ।

  12. মনজুর মুরশেদ January 11, 2017 at 6:59 am - Reply

    আমাদের দেশে নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে শুরু করে বিমানবন্দর পর্যন্ত নামকরণে আরব ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করা হয়; বাস-ট্রাক-ফেরী, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি বাদই দিলাম। এসব দেখে মনে হয় যেন বাঙ্গালী জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে নাম রাখার মত কোন যোগ্য ব্যক্তি কখনই ছিল না (বঙ্গবন্ধু ব্যতিক্রম)। একইভাবে পাঠ্যপুস্তকেও আরবী চরিত্র আর ঘটনার বিবরণের ছড়াছড়ি। অন্ততপক্ষে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাকে পুরোপুরি ধর্ম-নিরপেক্ষ রাখা এখন সময়ের দাবী। এই সময়টাতে আজকের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকার সহায়ক জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের যতটা সম্ভব যুক্তি-তর্কের ব্যবহার শেখাতে হবে, সুনাগরিকের কর্তব্য আর ন্যায়-অন্যায়ের প্রভেদ শেখাতে হবে এবং দেখতে হবে তারা যেন কোন বিশেষ মতবাদে অন্ধভাবে দীক্ষিত না হয়। নারী-পুরুষ, আস্তিক-নাস্তিক কিংবা বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী বা জাতের মধ্যে বিভেদ তৈরী করে এমন শিক্ষা যতটা সম্ভব বর্জন করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা পাওয়ার জায়গা পরিবার; কিন্তু সরকার নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা পদ্ধতিতে ধর্মীয় শিক্ষার কোন স্থান থাকা উচিত নয়।

  13. আলমগীর কবির January 11, 2017 at 1:20 pm - Reply

    অংক, বিজ্ঞান, ইংরেজী সব বাদ দিয়ে দিতে হবে। বাদ দিয়ে হেফাজতের দেওযা সিলেবাস নিয়ে বই প্রকাশ করলেই তো হয়…

  14. আপনার লেখার কারনেই হোক বা অন্য কারো প্রতিবাদের কারনেই হোক ছাগলের গাছে উঠার ছবি আঁকিয়ে বরখাস্ত হয়ে বলির ছাগল হয়ে গেল। সম্পাদক, লেখক এদের কারো কি কোন দায় নেই?

  15. বিপ্লব রহমান January 12, 2017 at 12:28 pm - Reply

    পাকিস্তান জিন্দাবাদ! :yahoo:

  16. Mohammad S H Maruf January 19, 2017 at 8:19 pm - Reply

    আমাদের দেশ মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশ। এইখানে স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের ধর্মীয় ব্যাপার গুলো শিক্ষা দেয়া হবে। মুষ্ঠিমেয় কিছু ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর জন্য অবস্যয় আমরা আমাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন থেকে বিরত থাকবো না। আপনাদের এই লিখাটা শুধু মাত্রই হিংসাত্ত্বক মনে হয়েছে আমার কাছে। একটা শিশু যদি ওড়না পরে আপনাদের সমস্যা কোথায় একটু জানতে পারি???? আরেকটা ব্যাপার, এখন অনেক ছোট গাছেই আম ধরে। বিজ্ঞান এর উন্নতির কারনেই এমনটা হয়েছে। তো এমন একটা কলপ করা গাছের আম ছাগল খেতেই পারে। হিংসাত্ত্বক কথা না বলে একটু ভাল কথা বলুন পড়তেও ভাল লাগবে।

  17. বিধান January 27, 2017 at 10:13 pm - Reply

    সরকার আস্তে আস্তে সাম্প্রদায়িকতার দিকে জাচ্ছে

Leave A Comment