১)
একেকটা খুন হয়, আর কিছু মানুষকে কলম যুদ্ধ করতে হয় – খুন হওয়া মানুষদের বিরুদ্ধে তোলা ‘তার নিশ্চয় কোন দোষ ছিল’-ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে। একটা মেয়ে ধর্ষিত হওয়ার পর ‘মেয়েটার কাপড় নিশ্চয় ঠিক ছিলোনা’-ধরনের অভিযোগের মতো একেকটা অভিযোগ। প্রতিবারই একই অভিযোগ, আর প্রতিবারই আসে আমাদের প্রজন্মের ‘আদর্শের’ ঝান্ডাধারীদের কাছ থেকে। তুষার-ফারুকি-কিংবা-পিনাকিদের কাছ থেকে। আমাদের ফেসবুক প্রজন্ম এই ‘আদর্শের’ ঝান্ডাধারীদের স্ট্যাটাস শেয়ার দিয়ে ভাবে, আহা আমি কী আদর্শবাদী! আর আমরা তুষার-ফারুকিদের বিরুদ্ধে লড়তে-লড়তেই ক্লান্ত থাকি, বারংবার যুদ্ধ করেও ভুলোমনা মানুষকে ইতিহাস মনে করাতে পারিনা। আমাদের আর মূল প্রতিপক্ষ জংগীদের বিরুদ্ধে আসল লড়াই লড়া হয় না।

২)
আব্দুন নূর তুষারের বিষয়েই আসি। এ সেই ব্যক্তি যে গণজাগরণের মঞ্চের সাথে সংহতি জানানোর ক’দিন পরেই যায় অর্থের বিনিময়ে জামায়াতি ইসলামী ব্যাংকের ৩০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করতে। এরকম নীতিহীন লোকটা দাবি করে- ‘আমি আমার বিবেকের দলে।’ [১] স্বঘোষিত বিবেকের দলের লোকের এই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অভিজিৎ খুনের পর লিখে – “সন্ত্রাস কি কেবল শারীরিক? মোটেও তা নয়। সন্ত্রাস মানসিকও হতে পারে।” [১] শব্দের মারপ্যাঁচে অভিজিৎকে সন্ত্রাসী বানিয়ে দেন। অভিজিৎ বই লিখে সন্ত্রাস করেছেন, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তিপূর্ণ ও বিজ্ঞানসম্মত আর্টিকেল লিখে সন্ত্রাস করেছেন, তার মতো ইসলামী ব্যাংকের কাছে বিবেক বন্ধক না দিয়ে সন্ত্রাস করেছেন। আর একারণে তাকে খুন করা খুবই যুক্তিযুক্ত হয়ে গেছে ইসলামের ধ্বজাধারী খুনীদের জন্য।

আজ যখন তার চেনা দীপন খুন হয়েছে, সে বুঝতে পারে এর বিরুদ্ধে কথা বলার নৈতিক অধিকার নেই- কারণ এ যে অভিজিৎ-ওয়াশিকুর-অনন্ত-নিলয়দের একই সূত্রে গাঁথা। তাই নতুন পন্থা নিতে হলো – দীপনকে সহীহ্‌-মুসলিম হিসেবে দেখানোর। সুচিন্তিতভাবে শব্দচয়ন করলো – “দীপন হেসে বলল, সেটা তো আ্ল্লাহ জানে … রোজার সময় বন্ধুদের সাথে একসংগে সে রোজা রেখে ইফতার করবে … সে তো ধর্মীয় বইও প্রকাশ করেছিল … যে শুক্রবার দীপন আমার জন্মদিন উদযাপন করলো, সেদিনও সে নামাজ পড়ে আসল।” [২] তার আহা-উহু শুনে মনে হলো, যেন ইসলামের সেই ধ্বজাধারীদের কাছে আর্জি করছে, “আগের খুনগুলো করে ঠিক কাজ করেছিলে, কিন্তু এইবার তোমরা দীপনকে খুন করে ভুল করেছো, সেতো সহীহ্‌ মুসলিম ছিলো।” এরকম এক লোকের মায়াকান্না ও ‘বিবেক’-তাড়িত শব্দের উপস্থিতি দেখে আমার চারপাশের অনেকের চোখেই যেন জল চলে এলো। ভুলে গেলো ইসলামী ব্যাংকের অর্থের কাছে বন্ধক দেয়া বিবেকের কথা, হাজার-হাজার লাইক আর শেয়ারে ভরিয়ে তুললো বিবেক-বাবার পোস্ট।

এই বিবেক-বাবার বিবেক-তাড়িত লেখার প্রতিবাদ করা মানুষদের একজন – চরম উদাস। উদাসের একেকটা লেখা বাবার বড্ড লাগে। তাকে কীভাবে ঘায়েল করা যায় তা ভেবে ভেবে কাহিল। যুঁৎসই একটা বুদ্ধিও পেয়ে গেলো। তার অনুসারী ইসলামের ধ্বজাধারীদের জানিয়ে দিলো চরম উদাসের পরিচয়। [৩] এখন আর ঠেকায় কে!

৩)
ফারুকি হলেন নব্য হুজুর। যিনি সবাইকে লিটনের ফ্ল্যাট চেনালেন, যিনি শুড়শুড়ি দেয়া নাটক দেখালেন, তিনিই আজ জ্ঞান বয়ান করেন। এ লাইনে উনি তুষার সাহেবের অনুসারী। সেই একই কথা, ইসলামের বিরুদ্ধে কথা কয়ে বড় অপরাধ করেছেন, এইবার ক্ষেমা দেন। অন্যদিকে ধর্মের রক্ষক ভাইদের অনুনয়-বিনয় করেন, উনারা যেন ধর্মের সম্মান বাড়াতে গিয়ে না কমান। মুক্তমনা আর ধর্মান্ধ খুনী উভয়েই পরিত্যাজ্য! [৪,৫] আহা, কী সাধু! কী নিরপেক্ষতা! তবে, ফারুকিদের নিরপেক্ষতার বলয়ে নিশ্চিন্তে থাকার সময় বুঝি ফুরিয়ে এলো। মুক্তমনা নিধনের পরই হয়তো নাটক-সিনেমার মতো বেশরীয়তি দিকে নজর দেবেন হুজুরেআলারা। শিয়াদের মিছিলে বোমা হামলা আর পুলিশ খুনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেছে সেই পর্ব। তাতে কি, যতদিন আছে ধ্বজাধারীদের সাফাইগারীকে আমরা লাইক দিয়েই যাবো।

৪)
‘মজা লস’-কে মনে আছে? নিশ্চয় মনে আছে এভাবে, ঐ যে সেই গ্রুপ যারা চলমান ঘটনা নিয়ে মজার-মজার কৌতুক করে? একদম বিবেক নাড়িয়ে দেয়, তাই না? আর কিছু কি মনে পড়ে এর সম্বন্ধে? মনে পড়ে না যে, এটা সেই পেজ যে ভারতীয় এক নাগরিকের ছবি জুচ্চোরি করে এডমিনের ছবি বলে চালিয়ে দিয়েছিলো? এবং ধরা পড়ে গিয়েছিলো? মনে পড়ে না যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে চুপ থাকা এ পেজের রাজীব হায়দার হত্যাকে সমর্থন করার কথা? মনে পড়ে না কৌতুক পোস্টের ফাঁকে-ফাঁকে প্রকাশ করা তাদের ঘূণে ধরার আদর্শের প্রচারের কথা? [৬,৭] আসলে কি, এতসব কি আর আমাদের মনে থাকে বলেন? আমাদেরত মজার খুব অভাব, তাই আমরা এদের পুরান কীর্তির কথা ভুলে যাই, আর বর্তমান বিবেক-পূর্ণ মজার স্বাদ আস্বাদন করি!

৫)
ভুলে যাওয়া আমাদের ফেসবুক প্রজন্মের এক সাধারণ বৈশিষ্ট্য। প্রতিদিন এত ঘটনা ঘটে সব কি আর মনে রাখা যায়! সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলাইতো কষ্টের। দুয়েকদিন ফেসবুকে না বসলেই কত কিছু মিস করতে হয়। কোন কিছু নিয়ে একটা স্ট্যাটাস না দিলে নিজের স্ট্যাটাসই যে কমে যায়। অন্তত লাইকতো দিতেই হয়। তাই একবার পড়ে যে খবর ভালো লাগে, তাতেই লাইক দেই। কে সেই খবর শেয়ার করলো তা দেখার সময় কোথায়? দেরি হলে যে অন্য কেউ আগে সেই খবর শেয়ার করে ফেলবে! আমার স্ট্যাটাস যে কমে যাবে! তাই কখনো কখনো আমি নয়াদিগন্তের খবরও শেয়ার করি। নয়াদিগন্তের খবর শেয়ারে সমস্যাটা দেখতে পাচ্ছেন না তো? সমস্যা নেই, এটা অনেকেই দেখতে পায়না। নয়াদিগন্ত হলো জামায়াতি পত্রিকা। আর আমি কিছুদিন আগে জামায়াতি সব প্রতিষ্ঠান বর্জন করার খবরও শেয়ার করেছিলাম, বেশ কড়া কড়া কিছু স্ট্যাটাসও দিয়েছিলাম। কিন্তু ভুলে গেছি। আপনিই বলেন, দেশে কি কোন ভাল কিছু ঘটে? তাদের ভাল খবরগগুলো শেয়ার না দিলে শেয়ার দেয়ার মতো আর কি বাকি থাকে? তাদের খারাপ খবরগুলোতো আর শেয়ার দিচ্ছিনা!

৬)
ভুলে যাওয়া কেবল আমাদের ফেসবুক প্রজন্মেরই নয়, আমাদের পূর্বসূরি, আমাদের পথ-প্রদর্শকদের মাঝেও আছে। জনাব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কথা বলছি। কিছুদিন আগে অভিজিৎ -ওয়াশিকুর-অনন্ত হত্যার পরেও তিনি বলেছিলেন, বুদ্ধিজীবীরা নাকি খামোখাই মৌলবাদ নিয়ে কথা বলেন, শ্রেণী বৈষম্য নিয়ে কথা না বলে। উনার ভাষ্যমতে, গণজাগরণ মঞ্চ শিক্ষিত-ধনী শ্রেণীর সংগ্রাম যা রিক্সাওয়ালা-শ্রমিককে টানতে পারেনি। উল্টো উদাহরণটা দেখেন, হেফাজতে ইসলামীর অনুষ্ঠানে দরিদ্র-সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণীর কি ভরপুর উপস্থিতি! দীপন হত্যাকান্ডের পর উনার মত মনে হয়ে কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হয়েছে, উনি বলেন “একে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলার কোনো অজুহাতই নেই। এটা তো বোঝা যাচ্ছে যে, সুপরিকল্পিত। আর এরা যে নামেই আসুক, জঙ্গি বা অন্যকিছু এদের একটাই কাজ— রাষ্ট্রের মূলনীতিকে আঘাত করা।”। [৮,৯,১০] আসলেই উনার বোধোদয় হয়েছে, নাকি সংবাদপত্রের সাক্ষাতকারে এখন একথা না বললে স্ট্যাটাস হারাতে হবে ভেবে এই কথা বলা? কে জানে, সময়ই বলে দেবে, তার আগ পর্যন্ত সাবধান থাকাই ভালো। সিরাজুল ইসলামতো ভালো, সৈয়দ শামসুল হক সাহেবতো প্রধানমন্ত্রীর বেডরুম-পাহাড়ার আদলে বলেই দিয়েছেন, “পাঁচটা গুণ্ডা এসে একজনকে আক্রমণ করবে, রাষ্ট্র সেখানে কি রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাঁড়িয়ে থাকবে?” [৯] এভাবেই বিক্রি হয়ে দল-দাস হয়ে যান আমাদের পথ-প্রদর্শকরা।

৭)
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যখন এক ঝাঁক তরুণ প্রাণ জীবনযুদ্ধে পূর্ণাংগভাবে প্রবেশ করে। এখানে সমাবর্তন বক্তৃতা দেন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, যাদের দেখে যাদের কথা শুনে তরুণ প্রাণ অনুপ্রাণিত হবে। দু:খ, আমাদের সমাবর্তন বক্তৃতা দেন সেই সম্পাদক, যিনি সম্পাদকীয় নীতি অনুসারে তার পত্রিকার লেখকের মত-প্রকাশের পক্ষে শক্ত অবস্থান না নিয়ে বায়তুল মোকাররমের খতিবের পা ধরে বসে থাকেন, প্রতিক্রিয়াশীলদের কাছে মাথা নত করেন [১১], যিনি তার পত্রিকায় অদিতি ফাল্গুনি আর হাসনাত আব্দুল হাই কে দিয়ে গল্প লিখিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণজাগরণ মঞ্চে আর নারীর চরিত্রহনন করান [১২]। সেই সম্পাদকই আজ বলেন, তারা নাকি স্বাধীনভাবে সাহস নিয়ে চলে। [১৩] আমরা অবশ্য সেসব কথা আমরা বেমালুম ভুলে গিয়ে হাততালি দেই।

৮)
ভুলে যাওয়া আমাদের মজ্জাগত। পরিহাসের বিষয় হল, বাংলাদেশ নাকি বিশ্বের সবচেয়ে সহনশীল ২০ দেশের একটা। [১৪] হবেই না কেন, এত কিছু ভুলে গিয়ে আমরাইতো স্বঘোষিত বিবেকবানদের আমাদের পথ-প্রদর্শক বানাই, তাদের কাছে আমাদের বিবেকের ইজারা দেই।

আজ থেকে জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ ক্রিকেট শুরু। আমরা সব ভুলে গিয়ে খেলা দেখবো। খেলার মধ্যে রাজনীতি টেনে আনবোনা। সুযোগ পেলে আমাদের মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্যরা “মেয়েরা কেবলই খানে-বহুত-আচ্ছা-বানাতি-হ্যায়” বলা শহীদ আফ্রিদির মেয়েদের প্রতি মনোভাবের কথা ভুলে গিয়ে তার সাথে সেলফি তুলতেই থাকবে। [১৫, ১৬] নতুন কোন ঘটনা আসবে ফেসবুকে, পুরান কথা ভুলে গিয়ে আমরা নতুনগুলো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠবো। মাসখানেক পর আবার একটা খুন হবে, আবার তুষার-ফারুকিদের স্ট্যাটাসে লাইক দিয়ে নিজেদের স্ট্যাটাস বজায় রাখবো। আমরা যে ভুলে যাই, সে কথাই ভুলে যাবো।

সূত্র –
[১] http://www.banglatribune.com/%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%B2-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%98-%E0%A6%86%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%98

[২] https://www.facebook.com/abdun.n.tushar/posts/10154566738443973

[৩] http://www.sachalayatan.com/udash/53944, https://www.facebook.com/chorom.udash/posts/760861020708143

[৪] https://www.facebook.com/mostofa.farooki/posts/1077827348924086

[৫] https://www.facebook.com/mostofa.farooki/posts/1076753715698116

[৬] http://www.sachalayatan.com/shopnobaz/54669

[৭] https://www.facebook.com/arunabha.anjan/posts/766859420079138

[৮] http://www.alokitobangladesh.com/online/literature/2015/06/26/5272

[৯] http://arts.bdnews24.com/?p=7075

[১০] http://nirmanblog.com/mohammed-munim/10322

[১১] http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/7006528.stm

[১২] http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article613896.bdnews

[১৩] http://www.prothom-alo.com/opinion/article/675556/%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%9C%E0%A6%BE-%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87

[১৪] http://channelionline.com/news/details/%E0%A6%B6%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B7-%E0%A7%A8%E0%A7%A6-%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%A8%E0%A6%B6%E0%A7%80%E0%A6%B2-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2/10715

[১৫] https://www.youtube.com/watch?v=TQDrroQ9m9U

[১৬] http://www.dawn.com/news/1211292

By | 2015-11-07T13:51:09+00:00 November 7, 2015|Categories: ব্লগাড্ডা|2 Comments

2 Comments

  1. সৈয়দ জাহেদ হোসেন November 7, 2015 at 2:47 pm - Reply

    ভুলে যাওয়াটা আমাদের শুধু স্বভাবই নয়, এখন আমি বলব অপরাধও বটে।

    আমরা অনেক কিছু ভুলেছি। আমরা ভুলে গেছি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে মতিয়ার ডুগডুগি বাজানোর ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর ইনুর উল্লাসের কথা, আমরা আরও অনেক কিছু ভুলে গেছি…। পুলিশের আইজি যখন তখন ব্লগারদের শাসিয়ে দেন, কমরেড ইনু নতুন নতুন আইন বানান, বর্ণচোরা তুষাররা একেক মঞ্চে একেক কথা বলেন। ব্লগারদের নাম বিক্রি করে কেউ রাষ্ট্র থেকে নিরপত্তা নিচ্ছেন, কেউ টাকা খেয়ে সরকারের এজেন্ডা বাস্থবায়ন করছেন। এক গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙ্গে তিনটা করেছেন। আমাদের আর কি বাকী আছে?

    এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজি, পাই না, পাবো না জানি, তবুও মনের মাঝে উঁকি দেয়ঃ

    ১) রানা প্লাজার ভিলেন রানার মামলার বর্তমান অবস্থা কি? তাঁর গডফাদার মুরাদ জং কে কি আওয়ামীলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে?
    ২) তাজরিন ফ্যাশন এ ১৩০ জন শ্রমিককে পুড়িয়ে মারা হল, মুল হোতা দেলোয়ারের বিচারের কি অবস্থা?
    ৩) সাগর রুনির হত্যা মামলার কি অবস্থা? প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের সন্তান মেঘ কেমন আছে?
    ৪ পুড়িয়ে মারা হল, মুল হোতা দেলোয়ারের বিচারের কি অবস্থা?
    ৩) সাগর রুনির হত্যা মামলার কি অবস্থা? প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের সন্তান মেঘ কেমন আছে?
    ৪) হলমার্ক তানভীর, বেসিক ব্যাংক এর লুটপাট কারীদের মামলার কি খবর?
    ৫) নারায়নগঞ্জের শিশু রাব্বির হত্যাকারী কি গ্রেফতার হয়েছে? সাতখুনের মামলার কি খবর?
    ৬) জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলার বিচার আর কতদিন লাগবে? খুনি এরশাদের কি বিচার হবে না?
    ৭) জামাতে থাকা যুদ্ধ অপরাধীরা গ্রেফতার হল। সরকারের ভিতরে থাকা যুদ্ধ অপরাধীরা কখন গ্রেফতার হবে?
    ৮) আহমেদ রাজিব হায়দারের খুনের মামলার কি অবস্থা?
    ৯) অভিজিৎকে খুন করার সময়, নিষ্ক্রিয় পুলিশদের কর্তব্য অবহেলার জন্য কোন বিচার হবে?
    ১০) আরও অনেক।

    জানি অভিজিৎ, দীপন এর হত্যা মামলা অন্য মামলার মতই হবে। তবে আইনের সুশাসনের জন্য প্রতীক্ষায় থাকি। এই প্রতীক্ষার অবসান হবে কি?

  2. নীলাঞ্জনা November 8, 2015 at 1:20 am - Reply

    রাষ্ট্র যেখানে এই ক্রমাগত হত্যাকাণ্ডগুলির কোনো বিচার করছে না, কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না এই হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে সেখানে অন্য সাধারণ নাগরিক কী বললো তাতে কী এসে যায়? সবাইকে ত মানিয়ে চলতে হয়, নিজের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করতে হয়। খুন হয়ে যাওয়া লেখক ও প্রকাশকদের বিচারের দাবি করলে যদি উনারাও খুন হয়ে যান!

Leave A Comment