“গোসাইখানা” কসাইখানা থেকে ধার করা টাইটেল! কসাই খানা হল যেখানে গরু-মহিষ জবাই করা হয়। সম্মানের ও সততার দিক থেকে গোঁসাই খানা আর কসাই খানা আমাদের সমাজে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। যেমন-কসাইগিরি একটি হালাল ও অপরাধহীন ব্যবসা হলেও অনেকে কসাই জিনিসটা গালি হিসেবে দেখে! অথচ কসাইরা আল্লাহ নামে গরু জবাই দিয়ে ব্যবসা করে! কোন ডাকাতি বা ঠগ-বাজিতে না গিয়ে নিজের পুঁজিতে ব্যবসা করে জীবন ধারণ করে। অন্যদিকে গোঁসাই খানার লোকজনের বিনা পুঁজিতে সম্মান পায় আকাশ চুম্বী। এছাড়া অনেকে ঠগ বাজিতে ধুম টু’র ভিলেনকেও হার মানায়। রাষ্ট্রকে কর প্রদান করে কসাইরা কিন্তু রাষ্ট্র সম্মান দেয় যারা কর দেয় না সেই সব গোঁসাইদের।

অনেকে হয়তো জানেন না গোঁসাই কী! গোঁসাই বলতে গুরু বোঝায়। মানে আপনি যে হুজুরের কাছ থেকে দীক্ষা নিয়েছেন। এই গোঁসাইরা সামাজিকভাবে খুব সম্মানিত। এরা ভক্তের বাড়িতে মাসের পর মাস কাটিয়ে দিতে পারেন। ক্লাস সেভেনে থাকতে এক লেডি গোঁসাই আমাদের পরিবারে আসেন। ওনার স্বামী ভারতে মারা যান। অতঃপর বাংলাদেশের শিষ্যদের দেখতে তিনি বাংলাদেশে আসেন। আসা যাওয়া ও থাকার সকল অর্থ ভক্তকুল বহন করে থাকেন। যাই হোক তিনি আমার কানে মন্ত্র দেবেন তাই কান বাড়িয়ে দিলাম; কী কী কানে বলেছেন তা আমি নিজেও শুনলাম না। মা বললেন মন্ত্র তো জোরে জোরে উচ্চারণ করে দিতি হয়। তবে এই কথাটি লেডি গোসাইয়ের সামনে বলার সাহস পান নি। বুঝলাম মা’র মনেও এই গোঁসাই নিয়ে সন্দেহ জন্মেছে। তিনি আমাদের বাসায় সাত দিন ছিলেন বাংলা কী হিন্দি সকল ছবি তিনি দেখতেন। মাঝে মধ্যে একটু ছোট কাপড়ের নাচানাচি আসলে আমি চ্যানেল ঘুরিয়ে দিতাম। তিনি পাশের খাটে শুয়ে আমাকে বকে দিতেন, কেন আমি চ্যানেল চ্যাঞ্জ করেছি। যাই হোক তিনি বিদায় হলে বাসার সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। এখানে বলে রাখা ভাল-তখন বিএনপির আমল পড়ি ক্লাস সেভেনে। ময়ূরী, কেয়া, পলির নাচে দুলছিল বাংলাদেশ। সরল মন মাঝে মধ্যে লুকিয়ে একটু নাচানাচি দেখতে চাইতাম। লক্ষ্য করলাম লেডি গোসাইয়ের তাতেও আপত্তি নেই। তিনিও শুয়ে শুয়ে নাচানাচি দেখছেন। যাই হোক সকলের গোঁসাই মোহ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। তবে গোঁসাই আসলে প্রথমে ভক্তরা তার পায়ে লুটাই পড়ে। তারপর ঘরের মেয়েরা গোঁসাইয়ের পায়ে তেল মেখে নিজের তুল দিয়ে পা ধুয়ে দেয়। ঐ পা ধোঁয়া পানি অনেকে খেয়ে আবার পুণ্যি অর্জন করেন। তবে গত জন্মে মনে হয় খুব বেশি পুণ্যি কাজ করি নি ফলে এই জন্মে গোঁসাইর পা ধোঁয়া পানি আমার খেতে হয় নি। তবে এই পা ধোয়ার দৃশ্য অসংখ্যবার দেখেছি। [আমি আমি করে নিতে পারলে কার না ভাল লাগে বলুন, গোঁসাইয়ের চামে আমিও করে নিলাম আর কী আলোচনা সাপেক্ষে আবারো আমি আমি আসতে পারে। অতিরিক্ত আমি আমি জন্য অগ্রিম দুঃখিত]

এই যুগে ব্রাহ্মণের ছেলে ব্রাহ্মণ হয় না! মানে ঐ লাইনে যায় না বরং যায় ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ারের লাইনে। গ্রামের দরিদ্র ব্রাহ্মণ ছাড়া কেউ আর নিজের ছেলেকে পূজার কর্মে নিয়োগ করে না। গ্রামের ব্রাহ্মণটিও করে একেবারে নিরুপায় হয়ে। গীতায় ভগবান শ্রী কৃষ্ণ বলেছেন; চার বর্ণের কথা। সেই চার বর্ণকে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্ত্র হিসেবে ব্রাহ্মণরা বেশ করে খাচ্ছিল। বাঁধা আসল এই শালার ইউরোপের কোন এক রেনেসাঁস! শান্তিতে দুইটি ভাত খেতেও দিল না। কলেজে বোর্ড বৃত্তির ফরমে লেখা ছিল; কোন বর্ণ? কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে মেসের বড় ভাইকে বললাম কোনটা সবচেয়ে নিচু বর্ণ? ওটাই লিখে দিন। ব্রাহ্মণ না এটা নিশ্চিত কিন্তু শরীরে গৌর বর্ণের হলেও ধর্মে কোন বর্ণ তা তো জানি না। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র, ব্রহ্মার চার পা থেকে এই চার বর্ণের উৎপত্তি। যাই হোক শূদ্র হল মেহনতি মানুষ। বর্ণ প্রথার কারণে অধিক হারে দাস অথবা শ্রমিক পাওয়া সম্ভব হয়েছে যা সামন্তবাদী সমাজের খুব প্রয়োজন ছিল। যুগে যুগে মানুষকে শোষণের ভিন্ন ভিন্ন হাতিয়ারের একটা হল এই বর্ণ প্রথা।

জগন্নাথ হলে (ঢা.বি) প্রায় সময় একটা পোস্টার দেখা যায়-জাগো হিন্দু জাগো! OMG। হিন্দুদের জাগাতে গেলে পোস্টার না করে সমাজ থেকে বর্ণ প্রথা তুলে দিলেই তো হয়। তাহলেই তো হিন্দুরা অটোমেটিক জেগে উঠবে। অতীতের মতন এখন কিন্তু বর্ণ প্রথা মোটা দাগে দেখা না গেলেও সমাজ থেকে তা চলে যায় নি। এই বর্ণ প্রথা এখনো নীরবে বিদ্যমান। একটা মজার কথা শুনাই; বর্ণ প্রথারও বর্ণ প্রথা হিন্দু সমাজে বিদ্যমান! বুঝলেন না তাই তো? মানে ধরুন- শূদ্র হলেই কিন্তু আরেক শূদ্রের বিয়ে হয় না। মানে বিয়ে দিতে চায় না। যেমন-নাথরা নাথ সম্প্রদায় দেখে বিয়ে করে। দাশরা দাশ দেখে বিয়ে করে কিংবা করতে চায়। অর্থনৈতিক লেভেল অথবা প্রেমের বিয়ে না হলে ব্রাহ্মণের সাথে অন্যদের বিয়ে হয় না। প্রেমের বিয়ে হলেও তা খুব কম। বেশির ভাগ সময় ব্রাহ্মণ পরিবার বিষয়টা মেনে নেয় না। কারণ তারা ভাবে তারা নীল রক্তের অধিকারী লোক টাইপ। অন্যদের হীন জ্ঞান করে। এই যুগেও অন্যরা বিয়ের ক্ষেত্রে বর্ণ প্রথা ভেঙে ফেললেও ব্রাহ্মণরা খুব কট্টরপন্থী ধারণা নিয়েই আছে। একটা সহজ বুদ্ধি দিই-নব বিবাহিতা শিক্ষিত নর-নারীর নামগুলো ভাল ভাবে খেয়াল করলে বিষয়টা কিছুটা বুঝতে পারবেন। তারপরও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিষয়টা কিছুটা কঠিন ঠেকবে। ঐ যে বললাম বর্ণেরও বর্ণ হিন্দু সমাজ বাহির করে ফেলেছে। হিন্দুরা ধর্মীয়ভাবে ইসলামিকদের মতন গোঁড়া নাহ। মানে কথায় কথায় কল্লা ফেলে দেব কিংবা মেরে ফেলব এমন না (রাজনৈতিক হিসাব আলাদা) তবে সামাজিক-গত ভাবে হিন্দু সমাজ প্রচণ্ড গোরা। এই ক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায় অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশের হিন্দু সমাজে এখনো বিবাহ বিচ্ছেদ নেই। তার মানে কোন বনসাইকে মনের মানুষ জীবনে জুটলে ওরে ত্যাগ করার কোন সুযোগ আপনার নেই। তবে ভারতে এই সুযোগটা আছে।

সকল মৌলবাদীর মেজাজ এরকম হলেও সকল মৌলবাদী এক আদর্শের নয়। যেমন- আইএসআইএস আর আলকায়দা এক আদর্শের নাহ। তেমনি হেফাজত আর তাবলীগ দুটো মৌলবাদী গ্রুপ হলেও এদের মধ্যে ভিন্নতা আছে। তেমনি হিন্দু গোঁসাইরাও ভিন্ন ভিন্ন গোত্রে বিভক্ত। ভারতে গোঁসাই গোঁসাই খুনাখুনির ইতিহাসও আছে, আছে বিষ প্রয়োগের হত্যার ইতিহাস। জগন্নাথ হলে রুম থেকে হিন্দু সংগঠনের সংখ্যা বেশি। যখন হলে ছিলাম তখন সম্ভবত ২৭টি হিন্দু সংগঠন ছিল। ধর্ম পালন যার যার ব্যক্তিগত অধিকার এটা বলার কিছু নেই। কিন্তু মজার বিষয় হল এই সংগঠনগুলো একে অপরকে খুব ভাল চোখে দেখে না। মনে কে সহি সংগঠন তা নিয়ে মতবিরোধ আছে। যে সংগঠনের টাকা যতো বেশি সেই সংগঠনের জৌলুস ততো বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সকল সংগঠন যে খারাপ তাও না। কিছু সংগঠন আছে যারা শুধু নিজের মুক্তির জন্য সাধনা করে। সাম্প্রতিক সময়ে “ইসকন” নামক এক সংগঠন বেশ ফুলে ফেঁপে উঠছে। এই সংগঠনটির ফান্ড যেমন প্রচুর তেমনি এর আচরণ আচরণ ততোটাই অসামাজিক। আলোচনা করার যাক বর্তমান সেলিব্রেটি প্রভুপাদ সংগঠন ‘ইসকন’ নিয়ে।

ইসকন (ISKCON) প্রতিষ্ঠান হয় ১৯৬৬ সালে। সদর দপ্তর মায়াপুর, নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। গীতাকে তারা অনুসরণ করে “হরে কৃষ্ণ” আন্দোলন করে থাকেন। মানে ওনারা শ্রী কৃষ্ণের ভক্ত। এতেও কোন সমস্যা নেই সমস্যা হচ্ছে তাদের ইসকনিক নিয়ম-নীতিতে। ইসকনে যোগ দেওয়া একজন আরেক জনকে “প্রভু পাদ” বলে ডেকে থাকেন। আপনি চাইলেই ইসকেনের মুরিদ হতে পারবেন না। আপনি তাদের মন্দিরে যেতে পারবেন তবে ইসকনের মুরিদ হতে গেলে প্রথমে আপনাকে তাদের মন্ত্র নিতে হবে। মানে তাদের লাইনে আসতে হবে। তাদের লাইনে আসার পর আপনি কখনো আমিষ মানে মাছ, মাংস, পেঁয়াজ,রসুন, মসুরের ডাল খেতে পারবেন না। এতেও কোন আপত্তি নেই যে কেউ তার খাদ্যাভ্যাস সিলেক্ট করার ক্ষমতা রাখে। সমস্যা হল ওনাদের নিয়ম হল; যিনি মন্ত্র নেন নি মানে যিনি ইসকন না তার হাতে রান্না করা কোন কিছু তারা খাবে না। সেটা নিজের মা হলেও। তাই আমাদের এলাকার যুবক হঠাৎ করে লাইনে এসে গেল। এবং তারা তাদের মায়ের হাতের পানি খাওয়াও ত্যাগ করল। তাদের মা’রা কেঁদে কেঁদে বলতে লাগল এটা কেমন ধর্ম আবার! আমি জিজ্ঞেস করলাম খেলে কী হয়? জবাবে বলল- মা যেহেতু মন্ত্র নেয় নাই। সেহেতু তার খাদ্য যদি আমি খাই তাহলে তার শরীরের রাগ, দুশ্চিন্তা মানে মানবের নেগেটিভ জিনিস আমার মধ্যে চলে আসবে। এই উত্তর শুনে বুঝলাম; ইসকনদের তো দুঃখ, রাগ নেই। তাই সাইন্সটিফিকভাবে তারা আহার করে থাকে। আমি অধম তাই বাসায় বলে দিয়েছিলাম; বাসায় কোন ইসকনের লোক যেন না আসে। যে মানুষ আমার বাসার খাদ্য গ্রহণ করবে না সেই মানুষের খাদ্য আমিও খেতে রাজি নই। তারা নাকি মানব প্রেম করে। মানব প্রেম তা, যা মানুষকে ভালবাসতে শেখায়, কাছে টানতে শেখায়। ধর্মীয় বিধি নিষেধে দূরে ঠেলা দেওয়া নয়। হিন্দুদের ব্রাহ্মণরা অন্যের বাড়িতে খেত না। যুগের ঠেলায় পড়ে এখন ভাতও খাচ্ছে। তাহলে কী এই যুগের ইসকনরা নতুন ব্রাহ্মণ হিসেবে নিজেদের হাজির করতে চাচ্ছে? তারা তো ইসকনিক ছাড়া বিয়েও বসেন না। আমার এক আত্মীয় নতুন ইসকন হলেন। তবে ওনার দাঁত ভাল মতন পরীক্ষা করলে খাসির ও গরুর পায়া পাওয়ার যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতেও আপত্তির কিছু ছিল না। তিনি কৃষ্ণ প্রেমে ইসকন হতেই পারেন। ঝামেলা হল তার নাতি জন্মানোর পর ডাক্তার নাতিকে ডিম, মাংস খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তিনি নাতিকে তা খাওয়াবেন না। ওনার যুক্তি হল ডিম, মাংস ছাড়া কেউ কী বাঁচে না নাকি। কী আর করা! পুত্র বধূ বাধ্য হয়ে KFC তে গিয়ে গিয়ে পুত্রকে মাংস খাওয়ান। এই যদি হল মানব প্রেম এই যদি হল কৃষ্ণ প্রেম তাহলে এতো প্রেম আমরা রাখব কোথায়। শুধু তাই না। এই ইসকন ধারীরা উগ্র ধার্মিক হয়ে থাকে। এরা ছলে বলে নিজের পরিবারের অন্যদের এই পথে নিয়ে আসে। যতো মত তত পথ এই বাধ্য তারা মানতে রাজি না। উদ্বিগ্নের বিষয় হল বাংলাদেশের বর্তমানে এরাই রথ যাত্রাসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের লিড দিচ্ছে এই সংগঠনটি। বলে রাখা ভাল অন্য ধর্মের মানুষদের সম্পর্কে এদের ধারনা খুবই নিচু প্রকৃতির।

মানুষের অসহায়ত্ব, অনিশ্চয়তার সুযোগ প্রতিটি ধর্মীয় সংস্থা নিয়ে থাকে। যে দেশের মানুষ যতো বেশি দরিদ্র তারা তারা বেশি ভীত। ফলে ততো বেশি ঈশ্বর-মুখী। তবে ভারতবর্ষে অনেক সেলিব্রেটি তারকার অতিরিক্ত কুসংস্কার প্রীতি আছে। যেমন-সুপার স্টার অমিতাভ বচ্চন। এছাড়াও অসংখ্য তারকা রয়েছে যারা ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য অনেক কুসংস্কার বিশ্বাস করে থাকেন। পশ্চিম বঙ্গের আনন্দ বাজার পত্রিকা খুঁজলে গোঁসাই বা বাবাদের খেলা দেখা যায়। কেউ বিজ্ঞাপন দিচ্ছে; পাঁচ দিনে সমস্যার সমাধান কেউ বা পাঁচ ঘণ্টা। এবং আনন্দ বাজার পত্রিকার সবচেয়ে বেশি এ্যাড এই গোঁসাই মুখী বিজ্ঞাপন। বাংলাদেশে সনাতনীরা সংখ্যালঘু। আর সংখ্যালঘুর অনুভূতি ততোটা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ না। ফলে মুসলিমদের কুসংস্কার যতোটা চোখে পড়ে হিন্দুদেরটা ততোটা চোখে পড়লেও সংখ্যায় কম হওয়ার অনেকেই এড়িয়ে যাই। গত কাল শামীমা মিতুর একটি পোস্ট চোখে পড়ে- তিনি বলছেন এক গ্রামে স্বামী নববধূকে গোঁসাইয়ের কাছে রেখে আসলেন। গোঁসাই শুদ্ধ করে পরের দিন স্বামীর হাতে তুলে দেবেন। এই পোস্টের কারণে সনাতনীরা শামীমা মিতুর আইডি রির্পোট করে অফ করে দিল। কেউ বা মামলা করার হুমকি দিলে রাখল। অথচ এই প্রথা বা কুসংস্কার হিন্দু সমাজে আছে নাকি নেই সেই প্রশ্নের কেউ গেল না। স্থান কাল পাত্র ভেবে সমাজে কুসংস্কার জায়গা করে নেয়। তাই আপনার সমাজে এটা নেই মানে এই নাহ যে এরকম কুসংস্কার থাকতে পারে না। হ্যাঁ! খোঁজ নিয়ে এটার সত্য মিথ্যা যাচাই করা উচিত। কিন্তু তারা সেই লাইনে এগুলো নাহ। অন্য ধর্মের সময় তালগাছের মতন প্রগতিশীল কিন্তু নিজের ধর্মের বেলায় বনসাই এরা! বনসাই প্রজাতির কথা না হয় ধরেই নিলাম; শামীমা মিতু মিথ্যা বলেছে। তাহলে প্রশ্ন আসে শামীমা মিতু যেহেতু মিথ্যা বলেছে তা প্রমাণ করা। কিন্তু হেফাজতে হিন্দুরা সেই পথেও গেল না। ভারতে কয়েক শ বাবা অথবা গোঁসাইদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, ছলে বলে কৌশলে তরুণী দেহ ভোগের অভিযোগ, মিডিয়ায় নিউজ ও আদালতে অনেকে শাস্তিও হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন আসে ফেসবুকের কিছু সনাতনী হঠাৎ এতোটা প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠল কেন। এখানে দুইটি সম্ভাবনা আছে- এক. মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়ে শামীমা মিতু এর বিরুদ্ধে বলতে পারে না যেমনটি হেফাজতিরা অন্যদের বেলায় বলে থাকে। দুই. নিজের ধর্মীয় সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এরা কথা বলা পছন্দ করে না (অন্য ধর্মের বেলায় আবার টুইন টাওয়ারের মতন লম্বা প্রগতিশীল)। শামীমা মিতুকে যারা গালাগালি কিংবা মামলার হুমকি দিল তাদের নামের শেষে টাইটেল দেখে বুঝলাম এরা বেশির ভাগই অব্রাহ্মণ শ্রেণির ( কাউকে অপমান করা বা ছোট করার জন্য নয় বরং বর্ণ প্রথা বোঝানোর জন্য কথাটা বললাম)। কী এক যুগে এসে পড়লাম যেখানে কুসংস্কার রক্ষার জন্য ব্রাহ্মণ নয় বরং অব্রাহ্মণরাই বেশি সোচ্চার অথচ যুগে যুগে ধর্মীয় কুংস্ককারের বলি ছিল তারাই। যারা শামীমা মিতুর পোস্টে যাদের অনুভূতি আহত হয়েছে তাদের প্রতি এই শূদ্রের একটি প্রশ্ন- কোন ব্রাহ্মণ কী আপনাদের বাসায় ভাত খেয়ে রাত্রি যাপন করে এখন, আপনারা কী কোন ব্রাহ্মণ সন্তানকে বিয়ে করার সামাজিক অধিকার রাখেন এখন?

বি:দ্র: ঈশ্বরকে কিছু জানাতে হলে বা ডাকার জন্য কী কোন গোঁসাই বা গোঁসাই খানার দরকার আছে? ঈশ্বর যদি সবার মনের কথা শুনতেই পান তাহলে পৃথিবীতে এতো ধর্মীয় এম্বাসী কিংবা এম্বাসেডর অথবা গোঁসাইখানার দরকার আছে কী?

11 Comments

  1. নুর নবী দুলাল July 26, 2015 at 12:37 pm - Reply

    চমৎকার লিখেছেন। গোসাই নিয়ে কথা বলায় দেখি দাদারা যথেষ্ঠ ক্ষেপে গেছেন। অথচ এই দাদারাই অন্য ধর্মের সমালোচনায় খুব তালি বাজান। পৃথিবীর সকল ধর্মই এই ধরনের ভন্ডামীতে ভরপুর। কিন্তু হিন্দু ধর্মের ভন্ডামীগুলোকে বেশি শিশুসূলভ মনে হয়।

    • আকাশ মালিক July 26, 2015 at 7:45 pm - Reply

      বাংলাদেশে হিন্দুরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ হতেন তাহলে দেখা যেতো তাদের ক্ষমতার দাপট, বুঝা যেতো তারা কেমন গোঁড়া ও মৌলবাদী। একসময় এই বাংলাদেশেই হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় হিন্দুবাড়ির পাশ দিয়ে যেতে মুসলমানদের মাথার উপর থেকে ছাতা নামিয়ে যেতে হতো।

      • সুব্রত শুভ July 26, 2015 at 8:33 pm - Reply

        @আকাশ মালিক

        ব্রাহ্মনের কলে অন্যরা পানি আনতে পারত না। এখনো কিছু কিছু জায়গায় এগুলো কিছুটা আছে। তবে ঠ্যালায় পড়ে অনেকে লাইনে চলে এসেছে। আমার এক বন্ধু কট্টর ব্রাহ্মণ! তবে বন্ধু ধর্ম-কর্ম মানে না । ব্রাহ্মণ পিতার আক্ষেপ সন্তানকে বেশি শিক্ষিত করে ফেলেছে।

      • সুভাষ সরকার March 26, 2016 at 3:42 pm - Reply

        আকাশ মালিকের বক্তব্যের সাথে আমি একমত। ইয়দূল গাজী নামে বাবার এক বন্ধু ছিলেন। আমার বয়স তখন ৫-৬ হবে। ওনার ছেলেরা বাজারে নিজ গাছের কলো জাম নিয়ে বেচতেন। বাবার সাথে হাটে যেতাম, গাজী জ্যেঠুর ছেলেরা পরম আদরে আমাকে বিনা পয়সায় এক কোচল জাম দিয়ে দিতেন। দেখতাম, জ্যেঠু যোগ পার্বনে নিমন্ত্রিত হয়ে আমাদের বাড়ী আসতেন। দেখতাম, তাঁকে থাওয়া দেয়া হতো ঘরের বাহিরে, উনি একাকি বসে খেতেন। তখন নির্বিকার চিত্তে দেখতিম। এখন ঐ ব্যপারটা ভাবলে খুবই থারাপ লাগে, হ্রদয় আলোড়িত হয়। এমনটা কিছুতেই মানতে পারছিনা। হিন্দু সমাজের গোঁড়ামীর বিস্তৃতি খুব বেশী। বিশেষ করে ব্রাম্মন আর পচা কায়েত গুলি এবিষয়ে অগ্রনী। এসব কি কখনো নির্মূল হবে? এবার ৩৫ বছর পরে দেশে গিয়েও গাজী দাদাদের সাথে দেখা করেছি। জ্যেঠু বেঁচে নাই। যথেষ্ঠ আপ্যায়ন পেয়েছি।

    • সুব্রত শুভ July 26, 2015 at 8:30 pm - Reply

      @নুর নবী দুলাল

      শামীমা মিতুর একটা ভুল আছে। সচেতনতার অভাবে প্রায়ই আমরা একই ভুল করি তা হল তিনি ভিকটিমের ছবি অস্পষ্ট করে দেন নি। কিন্তু কেউ সেই বিষয়ে নজর না দিয়ে কেউ বলছে মিথ্যা কেউ বলছে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এই সংবাদ শেয়ার দিয়েছেন। অথচ তিনি দাবী করছেন তিনি গ্রামবাসীর মুখে তা শুনেছেন। ভুল হলে তার শোনার কিংবা তাকে ভুল তথ্য দিয়েছে। তবে এগুলো যে হয় না তা তো নয়। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধান জরুরী। কিন্তু সমাজচ্যুত হওয়ার ভয়ে অনেকেই সামনাসামনি মুখ খুলবেন না।

  2. সৈকত চৌধুরী July 26, 2015 at 5:12 pm - Reply

    পড়লাম, ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ শুভ।

    • সুব্রত শুভ July 26, 2015 at 8:27 pm - Reply

      @সৈকত চৌধুরী

      ধন্যবাদ ভাই।

  3. অগ্নি July 26, 2015 at 9:40 pm - Reply

    আপনার আলোচনার মূল সুরের সাথে শতভাগ একমত।
    আমিও জগন্নাথ হলে থাকতাম। যদিও আপনাকে চিনতাম না। আপনার লেখা পরেই জানতে পারলাম।
    আমি যতদূর জানি জগন্নাথ হলে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ নামে এক সংগঠন আছে যারা এইসব নিয়ে সোচ্চার। আপনি কি কখনো গিয়েছিলেন ওদের ওখানে ?

    বর্ণবৈষম্যের ব্যাপারে হিন্দুরা এখনো ভীষণ গোঁড়া। এইগুলো লেখার চ্যে ব্যাক্তিগত জীবনে সোচ্চার হবার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান সম্ভব। তবে লেখারও দরকার আছে সচেতনতার জন্য। আসলে হিন্দুরা এখন ব্যাক্তিগত জীবনে তাদের সাংস্কৃতিক (আমি ধর্মের বদলের হিন্দু ধর্মকে সাংস্কৃতিক পরিচয় ভাবতে পছন্দ করি) শিক্ষা একদমই পায় না। এটাও একটা বড় কারণ হতে পারেন এই অন্ধ অনূকরণের । শুধু পাঠ্যবইয়ের গতবাঁধা কিছু গল্প ছাড়া আর তো কিছই জানা হয় না তাদের।

  4. অকাল কুষ্মাণ্ড July 26, 2015 at 11:33 pm - Reply

    সংস্কার (রীতি নীতি অর্থে) নিজেই একটা রক্ষণশীল শব্দ বলেই আমার ধারণা। একটি নির্দিষ্ট প্রথা বা গতানুগতিকতা রক্ষা করার পদ্ধতিই মূলত সংস্কার। সংস্কার স্থবির বিশেষ। এতে গতিশীলতা নেই, নেই প্রগতি। এই রক্ষণশীল শব্দটিকে কু প্রত্যয় যোগ করে দিলে কি ভয়াবহ নেতিবাচক হতে পারে ভাবুন এবার! সংস্কার বাঁচিয়ে কুসংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নেয়াটাও তাই একধরণের স্থবিরতাকে অনুমোদন করার সামিল নয় কি? তারচে’ বরং সংস্কৃতি পজিটিভ শব্দ। সংস্কৃতি কখনো রীতি নীতি অর্থে ব্যবহৃত হয়না, ব্যবহৃত হয় বৃহৎ অর্থে। সংস্কৃতি ঋদ্ধ করার সুযোগ আছে, কিন্তু সংস্কারে সেটি নেই। যেমন ধরুন হিন্দুদের বিবাহোত্তর কাল রাত্রি। এটি সংস্কার। তেমনি চন্দ্র কিংবা সূর্য গ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীর কিছু না খেয়ে, ফ্রেশরুমে না গিয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ঠাকুর নাম জপাটাও সংস্কার কিন্তু পহেলা বৈশাখে হিন্দু বাড়িতে অতিথিকে মিষ্টিমুখ করানোটা সংস্কৃতি।

    ঘাপলাটা বাঁধে এই সংস্কার নিয়ে। যেমনটি বাঁধাল অনলাইনে শামীমা মিতুর একটি পোস্ট নিয়ে। ঘটনাটাকে দুইভাবে দেখার সুযোগ আছে। যেমন- এক-শামীমা মিতু যেমনটা ইঙ্গিত করেছেন এবং সেটি শেয়ার করে বাঁধন যেমনটা ইঙ্গিত করেছেন, দুই- অমি রহমান পিয়াল যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। শামীমা মিতু দাবি করেছেন উনি ভিক্টিম এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেছেন এটি পোস্ট করার আগে। আবার অমি রহমান পিয়ালের যুক্তির স্বপক্ষেও অনেকে বলছেন তাঁরাও খোঁজ নিয়েছেন। আমি কোনটিকেই খারিজ করছিনা। দুটোই সম্ভব। সময়ের ব্যবধানে নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসবে ঘটনা আসলে কী ছিলো। জাজমেন্ট না দিয়ে অপেক্ষা করি।

    আলোচনাটা অন্য যায়গায়। যারা আজকে মিতু কিংবা বাঁধনের ‘কৃতকর্মে’ বিরক্ত হচ্ছেন, আগ্রাসী হচ্ছেন, তাঁরা কিন্তু সংস্কারটা ছেড়ে দিতে রাজি নন। ‘কালরাত্রি’ এড়িয়ে বাসর রাত করার মুরোদ কোন হিন্দু ধর্মাবলম্বীর নেই। যে ধর্ম পালন করেনা তারও সাধ্য নেই এটাকে উড়িয়ে দেয়ার, যদি সে পরিবারের সাথে থেকে থাকে। ‘কালরাত্রি’ এক এক জায়গায় এক এক ভাবে পালিত হয়। যেমন আমাদের এলাকায় হিন্দুদের ক্ষেত্রে দেখেছি ঐ দিন বর-কনে দেখা করতে পারেনা, আলাদা ঘরে রাত্রি বাস করে। অন্য এলাকায় মন্দিরে বা গোঁসায়ালয়ে বা মন্দিরে রাত্রি বাসের প্রচলন থাকতে পারে। রাত্রি বাস মানেই যে গোঁসাইর সাথে যৌনতা করতে হবে এমন হতে পারে আবার নাও হতে পারে। ঐ স্থানে আরো লোকজনসহ ধর্মালাপ করে রাত কাটাতে পারে। ওপেন অপশনে যে কোন কিছু হওয়া সম্ভব। এটা একমাত্র যেই এলাকায় ঘটে সেই এলাকার কেউ যদি ক্লিয়ার করেন তবে ভালো হতো। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে ঐ এলাকার কেউ মুখ খুলবেনা, অন্তত প্রথম সন্দেহের স্বপক্ষে। ধর্মের বদনাম হবে। মা-বোনের বদনাম হবে। ফলে আসল ঘটনা জানার সুযোগ সীমিত। তারচে’ বরং ঘটনার পিছনে না ছুটে কারণের পিছনে ছোটাই সমীচীন হবে। অর্থাৎ যে সংস্কার রক্ষা করতে গিয়ে এই বিপত্তি সেই স্থবির সংস্কারে আঘাত করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

    বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের যে মিথ চালু আছে সেটা যে বেশ অসামঞ্জস্যপূর্ণ সেটা হিন্দুরাও জানে। কিন্তু মানে। অধিকাংশ মিথই তাই। মিথকে সম্মান করতে গিয়ে যখন বাস্তব জীবন বিপন্ন হয় বা প্রথা পালন করতে গিয়ে যখন বাস্তবতা কুৎসিত ভয়ঙ্কর হয়ে যায় তখন তা ছেঁটে ফেলা অতীতেও হয়েছে। যেমন সতীদাহ প্রথা। এই কালরাত্রি প্রথাও ছেঁটে ফেললে এমন কোন অসুবিধা হবার কথা নয়। এটিকে সতীদাহ প্রথার মতো অত ভয়ঙ্কর মনে নাও হতে পারে। কিন্তু মিতু যে ঘটনা ইঙ্গিত করেছে (আমি সত্য মিথ্যা জাজমেন্টে যাচ্ছিনা) সেটা কম ভয়ঙ্কর নয়। আপনি বড়জোর ভদ্ররূপ দিতে পারবেন আমাদের এলাকার হিন্দুদের প্রথা অনুসরণ করে কিন্তু কুসংস্কারাচ্ছন্ন কোন গ্রামে কোন ভণ্ড গোঁসাই যদি দাবি করে বসেন কন্যাকে শুদ্ধ করতে এবং বরের দীর্ঘায়ুর স্বার্থে গোঁসাই এর সাথেই তাঁকে রাত্রিবাস করতে হবে তবে সেটি মেনে নেবার মতো মানসিকতাও ভাইরাস আক্রান্ত মননের থাকতে পারে। অসম্ভব নয়। কিন্তু কালরাত্রির এই প্রথা বাদ পড়লে গোঁসাইয়ের ফতোয়ার সুযোগ থাকবেনা। তাই-জন্য বলছিলাম, ঘটনার পেছনে নয়, বরং কারণকেই আঘাত করি। সংস্কার বাদ দিয়ে সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করি।

  5. বিপ্লব রহমান July 27, 2015 at 12:03 pm - Reply

    ধর্মের নামে বজ্জাতিগুলো কি ভয়ংকর!

  6. ঋতব্রত July 31, 2015 at 7:06 pm - Reply

    আপনার লেখা পড়ে আনন্দ পেলাম। কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। ইসকন এর নাম এবং মন্দিরের সাথে পরিচিতি থাকলেও কিঞ্চিত ঘনিষ্ঠ পরিচয় হয় IIT Madras এ পড়ার সময়। আমার এক ধর্মপ্রাণ বন্ধু ভর্তির পরেই Vivakananda study circle, Veda society, Saibaba society ইত্যাদি যন্ত্রণার সদস্য হয়। (আর কিছু না হোক, এগুলোতে বেশ ভাল খাওয়ায়)। কিছুকাল পরে ইস্কন বাবাজিদের কিছু শিষয এরূপ একটি society খুললেন। মুস্কিল হল এরা শুরুতেই এত অসাধারন সব উপদেশ দিলেন যে বেশ কিছু ভক্ত কেটে পড়লেন। আমার বন্ধুটিও এদের মধ্যে একজন। উদাহরণ- কৃষ্ণ ব্যতীত অন্য কোন দেবতা নাই। শিবাদি অপরাপর দেবতাদের উপাসনা হল শয়তানের পূজা। এদের থেকে দূরে থাকা আবশ্যক, ইত্যাদি। That did not go well with the audience, though.

    শেষ অংশে আপনি যে আচারের কথা বলেছেন, তা গুরুপ্রসাদি বলে পরিচিত। হুতুম পেঁচার নক্সাতে আপনি এর বিবরণ পাবেন। বল্লভাচার্য সম্রদায়ের মধ্যে এই প্রথা একটু বেশি প্রচলিত ছিল। ১৮৬২ সালে মহারাষ্ট্রে (তৎকালীন বোম্বাই প্রেসিডেন্সি) আদালতে একটি নির্দেশে এটি আইনত বন্ধ হয়। ভারতের প্রবীণ আইনজীবী A. G. Noorani সম্প্রতি Frontline পত্রিকায় একটি অতিদীর্ঘ প্রবন্ধে এই ঘটনাটির সম্বন্ধে লেখেন। উৎসাহী পাঠকদের জন্য link টি নিচে দিলাম। একটু ধৈর্য ধরে পরলে মজা পাবেন।

    http://www.frontline.in/the-nation/godmen-and-libel/article7345822.ece

    ঋতব্রত

Leave A Comment