মুসলিম বিজ্ঞানী একটি এমন শব্দবন্ধ যা মুসলমানেরা গর্বের সাথে উচ্চারণ করে প্রমাণ করতে চায় যে ইসলাম বিজ্ঞান বিরোধী নয়। কিন্তু সত্যি কি তাই? এইসব মুসলিম বিজ্ঞানীরা কি সত্যই প্রকৃত মুসলমান ছিলেন? তারা কি প্রকৃত মুসলমানের মত কথা বলতেন? এই লেখায় তেমন কয়েকজন বিখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানীর উক্তি নিয়ে আলোচনা করব। আর দেখব যে মুমিনদের মত কথা তারা বলেন কিনা।

প্রথমে শুরু করি ইবন সিনা বা অভিসেনাকে দিয়ে। তিনি যে কত বড় বিজ্ঞানী তথা ডাক্তার ছিলেন একথা এখানে বিস্তারিত বলব না, এখানে শুধু তার উক্তিগুলি বিচার করব।
১] The knowledge of anything, since all things have causes, is not acquired or complete unless it is known by its causes.

কোনো জ্ঞান অর্জন ততক্ষণ সম্পন্ন হয় না যতক্ষণ না তার কারণ জানা যায়। বন্ধুরা কোনো সাচ্চা মুসলমান কি এই কথা বলে? তারা কি বলে না যে সব জ্ঞান কোরানে আছে? আর সেই জ্ঞানের কারণ জানতে চাওয়া উচিত নয়। এটাও কি তারা বলে না?

২] Now it is established in the sciences that no knowledge is acquired save through the study of its causes and beginnings, if it has had causes and beginnings; nor completed except by knowledge of its accidents and accompanying essentials.

কোনো জ্ঞান ততক্ষণ অর্জন করা যায় না যতক্ষণ পর্যন্ত তার কারণ না জানা যায়। আর সেই জ্ঞান অর্জন পূর্ণতা পায় না যতক্ষণ পর্যন্ত তার পরিনাম না জানা যায়। প্রথমত মুমিনরা কোরানের জ্ঞানের কারণ তো জানতেই চায় না। পরিনামও তারা জানতে চায় না, কারণ যদি চাইত তাহলে জিহাদের পরিনাম যে নিজের এবং বহু নিরীহ মানুষের মৃত্যু এবং পুরো মুসলমান জাতি তথা ইসলামের অপমান তা তারা বুঝতে পারত। সেই দিক থেকে বলা যায় যে মুমিনদের জ্ঞান অসম্পূর্ণ।

৩] The world is divided into men who have wit and no religion and men who have religion and no wit.

এই জগতে দুরকম মানুষ আছে : প্রথমজনের ধর্ম নেই কিন্তু বুদ্ধি আছে এবং দ্বিতীয়জনের বুদ্ধি নেই কিন্তু ধর্ম আছে। এখানে ইবন সিনা ধার্মিকদের বুদ্ধিহীন বলেছেন। কোনো মুমিন কোনদিন এই কথা বলবে না।

৪] So the forms of all things contained in the active intelligence are imprinted on his soul either all at once or nearly so, not that he accepts them merely on authority but on account of their logical order which encompasses all the middle terms.

সমস্ত বস্তুর জ্ঞান মানুষের আত্মায় অঙ্কিত আছে। মানুষ শুধু সেই জ্ঞান পায় যখন সে যুক্তিসঙ্গত ভাবে ধাপে ধাপে তাদের খোজ করে। এই কথাও কোনো মুমিন বলবে না। তাদের মতে সমস্ত বস্তুর জ্ঞান আল্লাহের কাছে আছে। তিনি সেই সব জ্ঞান তাদের দেন যারা আল্লাহের নাম মানুষের কল্লা কাটে: যার ভালো নাম জিহাদ।

সুতরাং ইবন সিনা মুসলমান ছিলেন না। থাকলে তিনি এই কথা বলতেন না।

আচ্ছা এবার আরেকজন মুসলিম বিজ্ঞানী কে দেখা যাক। তিনি ইবন রুশদ বা অভেরস। দেখা যাক তিনি কতটা মুসলমান?

১] God, the supreme being, is neither circumscribed by space, nor touched by time; he cannot be found in a particular direction, and his essence cannot change. The secret conversation is thus entirely spiritual; it is a direct encounter between God and the soul, abstracted from all material constraints.

আল্লাহ কে সময় বা কাল স্পর্শ করতে পারে না। তিনি কোনো একটা বিশেষ স্থানে নেই এবং তার মূলতত্ত্ব কখনো পরিবর্তন হয় না। গোপন বার্তালাপ পুরোটাই আধ্যাত্মিক। এটা আত্মা এবং আল্লাহের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগ। ইহা কি মুমিনদের মত কথা? মুমিনদের আল্লাহ তো দেশ কাল দ্বারা সীমাবদ্ধ। তিনি একটা বিশেষ স্থানে থাকেন। তার নাম বেহেশত। যেহেতু তিনি সীমিত সেহেতু তার মূলতত্ত্ব পরিবর্তিত হতে বাধ্য। শুধু অসীম সর্বব্যাপী সত্তার কোনো পরিবর্তন নেই। ইবন রুশদের আল্লাহ নিশ্চই কোরানে বর্ণিত আল্লাহ নন। অন্য কেউ।
আর দ্বিতীয় কথাটা তো ভয়ংকর। আল্লাহ আর আত্মা তথা নফসের প্রত্যক্ষ সংযোগ ? কোনো এমাম বা হুজুর ছাড়াই? তা কি করে সম্ভব? কোনো মুমিন কি এই কথা বলতে বা ভাবতে পারে? আমার মনে হয় না।

ইবন রুশদ তার রচনা “ভাগ্য এবং পূর্বনির্ধারিত গন্ত্যব্য” –তে বলেছেন :
• ২] This is one of the most intricate problems of religion. For if you look into the traditional arguments (Hadith) about this problem you will find them contradictory; such also being the case with arguments of reason। The contradiction in the arguments of the first kind is found in the Qur’an and the Hadith.

এটা ধর্মের খুব অন্তর্নিহিত সমস্যা। তুমি যদি এটার সমাধানে হাদিসের দিকে তাকাও তাহলে তুমি বিরোধ খুঁজে পাবে। এছাড়া কোরান ও হাদিসের যুক্তিগুলি স্ববিরোধী। বাহ। কোনো মুমিন কি কখনো এই কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারে? করান আর হাদিস স্ববিরোধী? এ কথা বললে মুমিনরা আর মাদ্রাসার মাতব্বররা তাকে কেটে ফেলাটা বাকি রাখবে। ইবন রুশদ ঠিক কি ধরনের মুসলিম ছিলেন আমার মনে হয় এ থেকে স্পষ্ট।

৩] To master this instrument the religious thinker must make a preliminary study of logic, just as the lawyer must study legal reasoning. This is no more heretical in the one case than in the other. And logic must be learned from the ancient masters, regardless of the fact that they were not Muslims

ধর্মীয় চিন্তাবিদকে লজিক তথা যুক্তিবিগ্জ্ঞান শিখতে হবে। আর তা শিখতে হবে প্রাচীন গুরুদের কাছ থেকে। এটা আরো সুন্দর। মুসলিম আলেম বা উলেমারা কোনদিন লজিকের ধার ধরেনি। তাদের কাছে কোরানই শেষ কথা। তা সে যেমন কথাই হোক। কোনো ইসলামী আলেম বা উলেমা বা ইমাম কি কখনো লজিকের ওপর নির্ভর করার কথা ভেবে দেখেছে? ইবন রুশদ ভেবেছেন। তাই তিনি তেমন ভালো মুসলমান নন। লজিকের কথা বলতে গিয়েই তো অভি দা,রাজীব হায়দার, ওয়াশিকুর বাবু আর অনন্তদা খুন হলেন। অন্তত ইবন রুশদ তাদেরই মত ছিলেন।

৪] For every Muslim the Law has provided a way to truth suitable to his nature, through demonstrative, dialectical or rhetorical methods.

প্রতিটি মুসলমানের জন্য ইসলাম একটা বিশেষ পথ নির্ধারণ করেছে যা তাকে সত্যের কাছে নিয়ে যাবে। সেই পথ তার চরিত্রের সাথে খাপ খেয়ে যায়। আর সেই পথ যুক্তি তর্ক মেনে কাজ করে। তাই নাকি। তা ভাই ইবন রুশদ, আমরা মুমিনরা তো জানি একটিমাত্র পথ সব মুসলমানের জন্য আছে। তোমার কথা মানলে তো অসংখ্য পথের সৃষ্টি হয়। যতরকম মানুষ তত রকম পথ। তাই না। আবার তা যুক্তি তর্ক মেনে চলে। নাঃ, তুমি ভালো মুসলমান না। এটা কি রামকৃষ্ণদেবের “যত মত তত পথ”-এর মত কথা হলো না? আর কে না জানে যে ইসলামে একটাই মত আর একটাই পথ।

ইবন রুশদ তার গ্রন্থ “THE DECISIVE TREATISE, DETERMINING THE NATURE OF THE CONNECTION BETWEEN RELIGION AND PHILOSOPHY” তে কি বলেছেন আসুন দেখা যাক:

৫] উক্ত গ্রন্থের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ( যার নাম: Philosophy Contains Nothing Opposed to Islam ) বলেছেন যে – If the apparent meaning of Scripture conflicts with demonstrative conclusions it must be interpreted allegorically, i।e। Metaphorically.
অর্থাত যদি কোরানের আপাত অর্থ বাস্তবের বিরুদ্ধ হয় তাহলে কোরানের অর্থকে রূপক ধরতে হবে। তাই নাকি। এটাও মুসলমানের মত কথা হলো না। মুসলমানরা কোরানের অর্থকেই আক্ষরিক ভাবে মানে। তা সে যত অবাস্তব হোক না কেন। মেয়েরা যতই কর্মঠ হোক না কেন মুসলিমরা তাদের নিষ্কর্মা ভেবে ঘরবন্দী করে রাখবেই কারণ কোরান তাদেরকে তাই করতে বলেছে। কাফেররা যতই মুসলিমদের ভাই বলুক না কেন বা তাদের উপকার করুক না কেন, মুসলিমরা তাদেরকে শত্রু বলে মানবেই কারণ কোরান বলেছে। ৪৭ এর দেশভাগে মুসলিমদের হিন্দুনিধনের মধ্যে দিয়ে এটা প্রমানিত। আবার মুসলিমদের মধ্যে যারা কোরানের সমালোচনা করে, কোরানের ভুলত্রুটি শুদ্ধ করতে চায় , অন্য মুসলিমরা তাদের কাফের বলবেই কারণ কোরান বলেছে। রাজীব হায়দার, হুমায়ুন আজাদ, ওয়াশিকুর বাবুদের হত্যা তার প্রমান। মুসলিমদের এই সকল ব্যবহার প্রমান করে যে তারা কোরানের অর্থকেই মেনে চলে তা সে যতই অবাস্তব হোক না কেন।
এ খানেও ইবন রুশদ মুসলমান হলো না। কাফেরই থেকে গেল।

এবারে আসুন আল রাজির কথায়। তিনিও একজন বিশ্ববন্দিত বিজ্ঞানী। তিনি কতটা মুসলমান ছিলেন? আসুন দেখা যাক :

১] Asked if a philosopher can follow a prophetically revealed religion, al-Razi frankly replies: How can anyone think philosophically while listening to old wives’ tales founded on contradictions, which obdurate ignorance, and dogmatism?

তাকে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে একজন বিজ্ঞানী /দার্শনিক কি ধর্মকে মেনে চলতে পারে? তিনি জবাব দিয়েছিলেন: কিভাবে কোনো বিজ্ঞানী ঠাকুরমার ঝুলির গপ্পকথা নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে চিন্তা করতে পারে, বিশেষ করে যে কথা গোড়ামী ভরা এবং অজ্ঞানতা ছড়ায় ? এই কথা কি ইসলামসম্মত? তিনি তো সরাসরি ইসলামকে ঠাকুরমার ঝুলির গল্পকথা বানিয়ে দিলেন। এতটা চাছাছোলা ভাষায় আজকের নাস্তিকরা কথা বলে থাকেন। তাহলে কি আল রাজি নাস্তিক ছিলেন? মুসলিম বিজ্ঞানী ছিলেন না?

২] Gentility of character, friendliness and purity of mind, are found in those who are capable of thinking profoundly on abstruse matters and scientific minutiae.

চারিত্রিক উদারতা, বন্ধুত্তপুর্ণতা, এবং মানসিক নির্মলতা তারই আসে যে বিজ্ঞানের বিষয়ে বা বিমূর্ত বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তন করতে পারে। নাঃ এ কথাটা মোটেই ইসলামসম্মত নয়। মুমিনরা তো চিন্তা করতেই পারে না , গভীরভাবে তো দুরের কথা সাধারনভাবেও নয়। যদি তারা তাই করত তাহলে জিহাদের করুন তথা বর্বর পরিনতি তারা বুঝতে পারত। আজকে এই জিহাদই মুসলিমদের তথা ইসলামকে কলঙ্কিত করেছে। এরই জন্য দুনিয়াজোড়া মুসলমানদের দুর্দশার অন্ত নেই। তারা বোরখার অসারতা বুঝতে পারত। তারা নারীদের ওপর যত হাদিস আছে তার অসারতা বুঝতে পারত। তারা দর্শন ও বিজ্ঞান চর্চার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারত। তারা হুজুর তথা ইমাম বা মৌলবিদের যা তা দাবি মানত না। মুসলমানদের মধ্যে যারা একটু চিন্তা করে তাদেরকে কাফের বলে তাদের হত্যা করত না। হুমায়ুন আজাদ, থাবা বাবা, ওয়াশিকুর বাবু, অভিদা : কেউই মরত না। মুসলিমদের চেহারাটাই অন্য রকম হত।
সুতরাং বন্ধুরা আল রাজি মোটেই মুসলমান ছিলেন না। থাকলে তিনি এই কথা বলতেন না।

তাহলে দেখা গেল যে এই সব বিজ্ঞানী কেবল নামে মুসলিম। কিন্তু তাদের কাজকর্ম, জীবনদর্শন কোনো কিছুই মুসলিমদের মত নয়। তাহলে এদের নিয়ে ইসলামী দুনিয়া এত গর্ব করে কোন যুক্তিতে? মুসলিম বিজ্ঞানী কথাটা vatican astronomar বা গে রিপাবলিকান-এর মত অসম্ভব শব্দবন্ধ।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার :
http://www।brainyquote।com/quotes/authors/a/avicenna।html#osSuMTDyQ5XMySQV।99
http://people।uvawise।edu/philosophy/phil205/Averroes।html
https://en।wikiquote।org/wiki/Avicenna

19 Comments

  1. শিক্ষানবিস July 14, 2015 at 9:00 pm - Reply

    ৮০০ থেকে ১৩০০ সালের মধ্যে যেসব মুসলমান মনীষী ছিলেন তারা নিঃসন্দেহে আজকের মুসলমানদের মতো ছিলেন না। কিন্তু আমার মতে আজকের মুসলমানদের “প্রকৃত মুসলমান” আর সেই সময়কার এই মনীষীদেরকে “অপ্রকৃত মুসলমান” বলার মধ্যে সমস্যা আছে। ইবনে সিনা, ইবনে রুশদ সবাই নিজেদেরকে যথার্থই প্রকৃত মুসলমান মনে করতেন, তো আমরা তাদেরকে যাই বলি না কেন। ইবনে সিনার যে উদ্ধৃতিগুলো আপনি দিয়েছেন (আমি এগুলোর যথার্থতা যাচাই করে দেখিনি) তার চেয়েও আপাত-অনৈসলামিক কথা তিনি বলেছেন। যেমন এরিস্টটলের কথা স্বীকার করে নিয়ে ইবনে সিনা বলেছিলেন যে মহাবিশ্বের কোনো শুরু নেই। এখন মহাবিশ্বের যদি কোনো শুরু না থাকে তাহলে তো তা সৃষ্টি করা সম্ভব নয়, তাহলে ঈশ্বর কিভাবে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করলেন? এমনকি ইবনে সিনা মনে করতেন মহাবিশ্ব ঈশ্বরের আবশ্যিক পরিণতি, যখন একটা আছে তখন আরেকটি আছে, যখন একটি নেই তখন আরেকটিও নেই। প্রথমে ঈশ্বর আবির্ভূত হয়ে তারপর একটা পরবর্তী সময়ে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে পারেন না। এগুলো সবই ইসলামবিরোধী মনে হয়, এবং আল-গাজ্জালি এসব কারণেই ইবনে সিনাকে ধর্মচ্যুত হিসেবে আখ্যায়িত করে তাকে হত্যা করাকে অবশ্য-কর্তব্য করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও কিন্তু এটা মানতেই হবে যে, ইবনে সিনা নিজে নিজেকে প্রকৃত মুসলমানই মনে করতেন এবং এরিস্টটলীয় দর্শনের সাথে তিনি ইসলামের মূলনীতির কোনো বিরোধ দেখতে পেতেন না। সুতরাং আমরা বলতে পারি ইবনে সিনা আজকের অধিকাংশ মুসলমানদের মতো ছিলেন না, কিন্তু তিনি “প্রকৃত মুসলমান” ছিলেন না বলাটা অর্থহীন।

    আসলে আমি ইবনে সিনার যে কথাটা বললাম সেটা আপাতদৃষ্টিতে অনেক ইসলামবিরোধী, কিন্তু আপনার দেয়া উক্তিগুলোর ইসলামবিরোধী হতেই হবে এমন কোনো কারণ নেই। যেমন ৩ নং উক্তিটা দেখিয়ে আপনি বলছেন, ইবনে সিনা না কি বলেছেন “ধার্মিকরা বুদ্ধিহীন”। কিন্তু আসলেই কি তিনি তা বুঝাতে চেয়েছেন? ইবনে সিনা নিজেও তো ধার্মিক ছিলেন, সেক্ষেত্রে কি তিনি নিজেকেই বুদ্ধিহীন বলছেন না? আসলে তিনি যেটা বুঝাতে চেয়েছেন সেটা হলো, “বাস্তবে” যারা বেশি ধর্মপরায়ণ তাদের মধ্যে বুদ্ধি দেখা যায় না; এটা বাস্তবতা বিষয়ক একটা উক্তি, কোনো পরম তত্ত্ব নয়। অধিকাংশ ধার্মিককে তিনি বুদ্ধিহীন দেখেছেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে ধার্মিক হলেই বুদ্ধিহীন হতে হবে, তেমন হলে তো তিনি নিজেও বুদ্ধিহীন।

    ইবনে রুশদ প্রথাগত ইসলামী বিচারপতি ছিলেন। তিনি কুরআন ও হাদিসে যেসব স্ববিরোধিতার কথা বলেছেন সেগুলো কুরআন ও হাদিসকে মিথ্যা বলার জন্য বলেননি, বরং এই স্ববিরোধিতার উৎস অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা বুঝানোর জন্য বলেছেন সম্ভবত। ইবনে রুশদও নিজেকে একেবারেই অধার্মিক মনে করতেন না। এদেরকে প্রকৃত মুসলমান না বলার কোনোই কারণ নেই। বরং ইবনে সিনা ও ইবনে রুশদ এর দৃষ্টিতে সম্ভবত আজকের মুসলমানরাই “প্রকৃত” মুসলমান হতো না।

    এবং পরিশেষে এটাও বলতে চাই যে “ভ্যাটিকান অ্যাস্ট্রোনমার” মোটেই কোনো অসম্ভব শব্দবন্ধ নয়। আমি জ্যোতির্বিজ্ঞানে মাস্টার্স করার সময় আমার সুপারভাইজার যে ছিলেন সেই জ্যোতির্বিজ্ঞানী গোঁড়া ধার্মিক ছিলেন এবং ভ্যাটিকানের সাথে তার সম্পর্ক ছিল। ভ্যাটিকান সিটির এমনকি একটা জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দিরও আছে। ভ্যাটিকান অবজারভেটরি’র সাথে অনেক অ্যাস্ট্রোনমারই জড়িত যাদেরকে ভ্যাটিকান অ্যাস্ট্রোনমার বলাই যায়। বাস্তবে যদি ভ্যাটিকান অ্যাস্ট্রোনমার আসলেই থেকে থাকে তাহলে আপনি কিভাবে শব্দটাকে অসম্ভব বলেন? শব্দটাতে সমস্যা আছে, কিন্তু সেটা অসম্ভব নয়।

    • তানভীর July 14, 2015 at 9:25 pm - Reply

      এটা একটা ইন্টারেস্টিং প্রশ্ন কোনো ব্যক্তি নিজেকে মুসলিম ভাবলে সে মুসলিম হবে নাকি তাকে কমিউনিটি স্টান্ডার্ড মেইন্টেইন করতে হবে (মানে কমিউনিটিকেও তাকে মুসলিম ভাবতে হবে)? বিশেষ করে এখানে যেহেতু, ঐ কমিউনিটি তার অর্জনগুলো নিজেদের দাবি করছে?

      যেমন আবদুস সালামের কথা ধরা যাক। সরকারি ডিক্রি জারি করে তাকে তাদের জনগণ ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করেছে। এর পর আবার তারাই মুসলিম বিজ্ঞানী হিসাবে তার অর্জন নিয়ে গর্ব করাটা হিপোক্রিটিক্যাল হবে না? সালাম কিন্তু নিজেকে মুসলিমই ভেবেছেন সারাজীবন।

      আমার মতে কমিউনিটির এই হিপোক্রেসি স্বরণ করিয়ে দেওয়া দরকার আছে। আজকে যে অতীত মনীষীদের নিয়ে মুসলিম গর্ব করছে তাদের চিন্তা ভাবনা কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেযব প্রগতিশীল চিন্তকদের আজ তারা কুপিয়ে মারছে (বা মারা সমর্থন করছে) তাদের কাছাকাছি ছিলো সেটাও হাইলাইট করা প্রয়োজন।

      • শিক্ষানবিস July 14, 2015 at 10:09 pm - Reply

        সমস্যাটা হচ্ছে ইবনে সিনা এবং ইবনে রুশদ যে কেবল প্রকৃত মুসলমান তা-ই নয়, ইসলামী দর্শন, ফিকহ, ধর্মতত্ত্বের ভিত্তি নির্মাণেও এই দুই জনের অবদান অনেক। ইবনে সিনারা যে আজকের গোঁড়া মুসলমানদের মতো ছিল না সেটা স্মরণ করিয়ে দেয়া খুবই দরকার, কিন্তু সেটা ইবনে সিনাদেরকে “প্রকৃত মুসলমান নয়” বলে করাটা ঠিক নয়।

        • অতিথি লেখক July 15, 2015 at 10:36 am - Reply

          কিন্তু তাই যদি হবে তাহলে সেই ধরনের প্রগতিশীল মুসলমানেরা কিভাবে আজকের গোড়া অবাস্তব ফিকহ ধর্মতত্ত্ব নির্ণয় করে গেলেন? তাদের নির্মিত ধর্মতত্বের দ্বারা কিকরে আজকের প্রগতিশীল মুসলমানেরা মারা যাচ্ছেন?

          • আকাশ মালিক July 17, 2015 at 4:01 pm - Reply

            লেখাটির বাক্যে বাক্যে মুমিন-মুমিনরা, মুসলমান-মুসলমানরা শব্দাবলীর ব্যবহার, ভুল বানান, ভাষা ও বাক্যের রূপ-রং বেশ চেনা চেনা লাগে। অতিথি লেখক হলেও লেখার নিচে লেখকের নাম সাধারণত থাকে, এখানে তা নেই। সেটা খুব একটা সমস্যা না, আমার জানতে ইচ্ছে করে –

            “ চারিত্রিক উদারতা, বন্ধুত্তপুর্ণতা, এবং মানসিক নির্মলতা তারই আসে যে বিজ্ঞানের বিষয়ে বা বিমূর্ত বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তন করতে পারে। নাঃ এ কথাটা মোটেই ইসলামসম্মত নয়। মুমিনরা তো চিন্তা করতেই পারে না , গভীরভাবে তো দুরের কথা সাধারনভাবেও নয়”।

            এই বাক্যটা লিখে কী বুঝাতে চেয়েছেন? আর যদি জানতে চান যে, আমি কী বুঝেছি তাহলে শুনুন- আপনি বলেছেন ও বিশ্বাস করেন মুসলমানের ঘরে জন্ম নেয়া মানুষ বা নিজেকে মুসলমান দাবী করে এমন কোন মানুষ মানুষই হতে পারেনা। মানুষ হতে হলে আগে ইসলাম ত্যাগ করতে হবে, ঠিক না? আমার যদি বুঝতে ভুল হয় তাহলে আপনি একটু বিস্তারিত বুঝায়ে দিন তো প্লিজ।

            আচ্ছা “ মুমিনরা তো চিন্তা করতেই পারে না, গভীরভাবে তো দুরের কথা সাধারনভাবেও নয়”।

            অন্যরা পারে তো, আই মিন ইহুদী, খৃষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধরা?

            • অতিথি লেখক July 20, 2015 at 10:11 am - Reply

              এই বাক্যটা লিখে আমি বুঝতে চেয়েছি যে কোনো ধার্মিক লোকই ভালোভাবে চিন্তা করতে পারেন না | তা সে যে ধর্মেরই হোক না কেন | আর আপনি যা বুঝেছেন দাদা সেটাও খুবই সত্যি কথা |

    • অতিথি লেখক July 14, 2015 at 9:31 pm - Reply

      কেউ যদি নিজেকে প্রকৃত মুসলিম মনে করে ইসলাম বিরোধী কথা বলে তাহলে তাদের অমুসলিম বলা যাবে না. এটাই তো আপনার কথার সার. সত্যি তাহলে যেসব মুসলিম ইসলাম বিরোধী কথা বলে অথচ নিজেদের প্রকৃত মুসলিম মনে করে তাদের কাফের কেন বলা হয়?

      আপনি বিজ্ঞানী আব্দুস সামাদের কথা শুনে থাকবেন. তিনিও নিজেকে মুসলিম বিজ্ঞানী বলতেন আর ইসলাম বিরোধী কথাও বলতেন. তাই মুসলিমরা টাকে কাফের বলেছিল. আপনি মুতাজিলি দার্শনিকদের কথা শুনে থাকবেন. তারাও নিজেদেরকে মুসলিম ভেবেছিলেন এবং যুক্তি দিয়ে ইসলামকে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন. তাদের কাফের তকমা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল এবং তাদের বই পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল.

      আমার মনে হয় মুসলিম দুনিয়ার গড়পরতা মুসলিমরা আপনার মত ভাবে না. তারা যে কেউ ইসলামবিরোধী কথা বলে, তাদের কাফের তকমা দিয়ে পুড়িয়ে মারে.

      ভ্যাটিকান সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা আর নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা কি এক? যে কোনো অন্ধ গোড়ামী মানুষের জ্ঞান চক্ষু আবৃত করে. তাদেরকে সত্যের ধরে কাছে যেতে দেয় না. এই কারণেই ভাটিকানের গোড়ামী বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে বড় বাধা. তাই বলেছিলাম ভ্যাটিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী একটা অসম্ভব কথা.

      • তানভীর July 14, 2015 at 10:09 pm - Reply

        আপনি, অভ্র কীবোর্ড ব্যবহার করে লিখতে পারেন। তাহলে বাক্যের শেষে দাড়ি দিতে সমস্যা হবে না।

      • শিক্ষানবিস July 16, 2015 at 3:35 pm - Reply

        অন্য কোনো বিষয়ে তর্কে যেতে চাচ্ছি না যেহেতু এরকম কিছু উদ্ধৃতি সংকলনের পোস্টে সেটা করাটা অর্থহীন। ইবনে সিনাদের যুগ বুঝতে হলে পুরো ইতিহাস নিয়ে কথা বলতে হবে যার সুযোগ এখানে নেই। আমি শুধু আবারো ভ্যাটিকান সিটি প্রসঙ্গে আপনার ভুল ভাঙাতে চাই। ভ্যাটিকান মানমন্দির কিন্তু কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, ভ্যাটিকান অবজারভেটরিতে একেবারে পেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নাসা-র সমমানের বিজ্ঞান গবেষণাই করে থাকেন। বিশ্বাস না হলে আগামী বছর ভ্যাটিকান অবজারভেটরির উদ্যোগে আয়োজিত এই সামার স্কুলের ওয়েবসাইটটা দেখতে পারেন যাতে আমারও যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সময়ের অভাবে যাচ্ছি না।

    • PK December 1, 2016 at 11:35 pm - Reply

      কোন কিছু অসম্ভব হওয়া টা এক ধরনের সমস্যা। যারা কথা বলা সাপে বিশ্বাস করে ৬০০০ বছর বয়সী পৃথিবীর দাবী জানায়, আবার জ্যোতির্বিজ্ঞানের ১৩.৮ বিলিয়ন বছরের বিশ্বজগত আর ৪.৫৪ বছরের পৃথিবী নিয়ে কাজ করে, তারা বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে অসৎ। শব্দ এবং শব্দের ব্যাবহারকারি উভয়ের পক্ষেই সেটা সত্যি।

  2. Rakib Hasan July 14, 2015 at 9:16 pm - Reply

    কি বলবো ঠিক বুঝতে পারছি না, অাসলে যাদের জ্ঞানের সুস্পষ্ট অভাব রয়েছে তারাই এধরনের খোড়া যুক্তিবিদ্যার অাশ্রয় নেয়। যাদের বিশ্বতত্ত্ব সম্পর্কে কোন মৌলিক ধারণাই নেই, তাদেরকে যদি ১৫ দিন বা ১ মাস বিশ্বতত্ত্বের কিছু জনপ্রিয় বই পড়তে দেয়া হয়, বইগুলো পড়া শেষে তারা পদার্থবিজ্ঞানের অনেক ভুল ধরবে। যেমন: ফোটনের ভর না থাকা সত্ত্বেও তা কি করে কৃষ্ণবিবরের দিকে পতিত হতে পারে, দুটো ভিন্ন প্রসঙ্গ কাঠামোর গতিবেগ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও কি করে উভয় কাঠামোর পর্যবেক্ষকের কাছে অালোর বেগ ধ্রুব হয় ইত্যাদি। তোমাদের অবস্থাটাও সেরকমই। না তোমাদের ধর্ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অাছে, না বিজ্ঞান সম্পর্কে। এগুলো সম্পর্কে যেহেতু তোমাদের তেমন কোন ধারণাই নেই, সেজন্যই এমন সব উদ্ভট স্ট্যাটাস লিখে time pass করো। এর পরিবর্তে যদি বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে, মহাবিশ্বকে জানতে চেষ্টা করতে, হয়ত তোমাদের গবেষণায় দেশের কল্যান হতো। মনে রেখো, “যার শুরু অাছে, তার শেষও অাছে, অার যেখানে সৃষ্টি অাছে, সেখানে তার সৃষ্টিকর্তাও অাছেন”… অাফসোস তোমার মত নাস্তিকরা কখনোই উক্তিটির বিজ্ঞানময় তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারবে না, বরং এর অপব্যাখ্যাই করবে। তাই দর্শন চর্চা বাদ দিয়ে গবেষণামূলক বিজ্ঞানের পথে ফিরে অাসো…

    • অতিথি লেখক July 15, 2015 at 10:31 am - Reply

      মনে রেখো, “যার শুরু অাছে, তার শেষও অাছে, অার যেখানে সৃষ্টি অাছে, সেখানে তার সৃষ্টিকর্তাও অাছেন”… অাফসোস তোমার মত নাস্তিকরা কখনোই উক্তিটির বিজ্ঞানময় তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারবে না, বরং এর অপব্যাখ্যাই করবে।

      মুশকিলটা হচ্ছে যে মহাবিশ্ব বলতে আমরা ঠিক কি বুঝি? মহাকাশকে বুঝি না মহাকাশে ভাসমান গ্রহ নক্ষত্র সমষ্টিকে বুঝি. যদি মহাকাশকে বুঝি তাহলে দুক্ষের সঙ্গে জানাচ্ছি যে মহাকাশের কোনো শুরুও নেই আবার শেষ নেই. এই ব্রম্ভান্ডই আকাশের সীমা নয়. এর বাইরেও আকাশ আছে. এই আকাশের উত্পত্তিও নেই বিনাশ নেই. তবে এই মহাকাশে ভাসমান জগতসমূহের শুরু ও শেষ আছে. সুতরাং মহাকাশের কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই.

      আজ এই মহাকাশে বহু লক্ষ্য কোটি জগত সৃষ্টি হচ্ছে , ভেসে আছে এবং ধংস হয়ে যাচ্ছে. এই প্রক্রিয়া আবহমান কাল ধরে চলে আসছে যার অংশমাত্রই জ্যোতির্বিজ্ঞান জানতে পেরেছে. সুতরাং মহাকাশে ভাসমান জগতসমূহের সৃষ্টিকর্তা আছেন. এই মহাকাশই তাদের সৃষ্টিকর্তা. সুতরাং আমার মনে হয় যে অ্যারিস্টট্ল কিছু দূর পর্যন্ত ঠিক.

  3. সৈকত চৌধুরী July 15, 2015 at 3:29 am - Reply

    ‘মুসলিম বিজ্ঞানী’ এই ধারণাটাই উদ্ভট। একজন মুসলমান যদি বিজ্ঞানী হন, অতীতে বা বর্তমানে, তাহলে তাকে আলাদাভাবে ‘মুসলিম বিজ্ঞানী’ বলতে হবে কেন?

    • Ebne Alam July 15, 2015 at 6:05 pm - Reply

      সৈকত ভাই ভাল যুক্তি দেখাতে নিসিলেন। আলাদা ভাবে মুসলিম বিজ্ঞানী তো ইসলামিক ফাউন্ডেশন ই বাড়ায়া ফাপর মারে। আর লেখক তো নিজে আগেই উল্লেখ করল যে আসুন দেখি এই বিজ্ঞানীদের ইতিহাস। এখন ভাল হয় আপনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অনুরোধ করেন যাতে আলাদা ভাবে মুসলিম বিজ্ঞানী না বলে। আর আপনিও বলেন যে আর কোন বিজ্ঞানী কে যেন মুসলিম বিজ্ঞানী বলা না হয়। তাহলেই হল।

  4. abeer July 15, 2015 at 5:16 am - Reply

    হাস্যকর, মাথা-লেজবিহীন প্রবন্ধ। ছোট বেলা একটা প্রবাদ প্রবচন সব পরীক্ষায় আসত “অল্প বিদ্যা ভয়ংকর”। তার উৎকৃষ্ঠ প্রমাণ। মজার বিষয় হলো আরেকটা প্রবাদ প্রবচনও আসত “আপনাকে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যারে বড় বলে বড় সেই হয়”। তখন এইসব ফালতু মনে হলেও আজ যতেষ্ট কার্যকর মনে হচ্ছে।

    • অতিথি লেখক July 16, 2015 at 1:09 pm - Reply

      ছোট বেলা একটা প্রবাদ প্রবচন সব পরীক্ষায় আসত “অল্প বিদ্যা ভয়ংকর”। তার উৎকৃষ্ঠ প্রমাণ।

      তার উত্কৃষ্ট প্রমান মুসলিম বিজ্ঞানী এই শব্দটা. মুসলিম কখনো বিজ্ঞানী হয় না আর বিজ্ঞানী কখনো মুসলিম হয় না. তারা শুধু এক একজন বিজ্ঞানী ছিলেন যাদের মুসলিম নাম ছিল. ধর্মকে বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করার এই প্রয়াস সত্যি হাস্যকর.

      আপনাকে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যারে বড় বলে বড় সেই হয়”।

      সেই লোক কারা? মুর্খ, বোকা নির্বোধ এবং ফালতুর কি? তাদের মতামতের কোনো মূল্য নেই কারো কাছে.

  5. তানবীরা July 16, 2015 at 3:05 am - Reply

    মুক্তমনাতে প্রিয় পোস্ট অপশনটা মিস করছি। সংগ্রহে রাখার জন্যে

  6. আদিল মাহমুদ July 16, 2015 at 8:51 am - Reply

    ধর্মীয় পরিচয় বিষয়টাই সম্পূর্ন ধোঁয়াশাপূর্ন। এটা এমনই এক উপাধী যা পেতে কোন সাধ্য সাধনা পেতে হয় না, পারিবারিক সূত্রে কিংবা আমি অমূক ধর্ম গ্রহন করলাম বললেই চলে, সাথে হয়ত প্রথম কিছুদিন সে ধর্মের সুনির্দিষ্ট কিছু রিচ্যূয়াল পালন করা। তেমনি কাউকে ধর্মচ্যূত ঘোষনাও অত্যন্ত সহজ, যার হামেশা প্রয়োগ মুসলমান মাজে দেখা যায়। একে অপরকে কথায় কথায় কাফের নাস্তিক মুরতাদ ঘোষনা ডালভাত। আসলে এসব ঘোষনার কি কোন অর্থ আছে? একজন বিজ্ঞানী সে কাফের কোক মুসলমান হোক কি নাস্তিক হোক তার আবিষ্কার থেকেই যাবে, সে আবিষ্কারের কোন ধর্ম নেই। যে যাকে যাইই বলুক চুড়ান্তভাবে কে নিজেকে কি মনে করে সেটাই মূখ্য।

    যাদের কথা এখানে বলা হয়েছে তারা নিজেদের মুসলমান বলেই মনে করতেন যতটা জানি। নিঃসন্দেহে তারা এ যুগে জন্মগ্রহন করলে যেভাবে চিন্তা ভাবনা করতেন সেসব প্রকাশের কারনে তাদেরও নাস্তিক কাফের মুরতাদ এসব উপাধী দেওয়া হত, দিতেন ফেলো মুসলিম ব্রাদাররাই। ইমাম গাজ্জালী ইবনে সিনাকে কাফের ঘোষনা করেছিলেন। মুসলমানদের মাঝে ধর্মের অহংকার সবচেয়ে তীব্র, সেই গাজ্জালীর আমল থেকে তার পরিবর্তন হয়নি। আজকে যদি কোনভাবে জাফর ইকবাল স্যার জাতীয় কেউ নোবেল পান নিঃসন্দেহে দেশে বিদেশে মুসলমানরা উল্লসিত হবে, মুসলমান বিজ্ঞানীর নোবেল বিজয় হিসেবে সেটা শেয়ার করবে। অন্যদিকের ঘটনা হল তার নিজ দেশের বড় বড় আলেম মোল্লা থেকে শুরু করে বহু উচ্চ শিক্ষিত মডারেট তাকেই নাস্তিক মুরতাদ হিসেবে চিহ্নিত করে। জাফর ইকবাল নিজে ইসলাম ত্যাগ বা অন্য কোন ধর্ম গ্রহনের ঘোষনা দেননি। আগেকার দিনের বিজ্ঞানীদের ঘটনাও অনেকটা তেমনই। কবি নজরুলের ব্যাপারটাও তেমন। অনেকের দাবী উনি বিশাল মুসলমান কবি, আবার অনেকের দাবী তিনি কালীভক্ত কাফের………

    মুসলমান বিশ্ব বর্তমান দিনে জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় ধর্ম হিসেবে ধরা হলে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে। সে হিনমন্যতার কারনে তারা অতীতের মুসলমান বিজ্ঞানীদের কথা গর্বভরে স্মরন করে। আসলে এর তেমন কোন দরকার নেই। মুসলমান হবার কারনে তারা জ্ঞানবিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়েছে এমন নয় যে সেটা ভুল প্রমান করতে অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে হবে।

    তারা কেউ মুসলমান ছিলেন না এই আর্গুমেন্টা আসলে খুবই দূর্বল, অনেকটাই অর্থহীন, এবং নেভার এন্ডিং বিতর্কের ফাঁদে পাড়া দেওয়া। কে সহি মুসলমান এই প্রশ্নের বিচারের কোন যৌক্তিক জবাব সম্ভব নয়। হাইলাইট হওয়া উচিত ধর্ম পরিচয়ের সীমাবদ্ধতা, ধর্মীয় পরিচয় যে কতটা অর্থহীন সেটা আলোচনা, এবং সাথে ধর্ম নিয়ে যারা গর্ববোধ করেন সময়ে সময়ে তাদের সুবিধেবাদী দাবীর কারনে তাদের কিঞ্চিত নাড়া দেওয়া। তা একই ব্যাক্তির পরস্পর বিরোধী দুই ধরনের ধর্মীয় পরিচয় থেকেই প্রমান পাওয়া যায়।

  7. মনজুর মুরশেদ July 24, 2015 at 7:00 pm - Reply

    “মুসলিম বিজ্ঞানী কথাটা vatican astronomar বা গে রিপাবলিকান-এর মত অসম্ভব শব্দবন্ধ।”

    এমন ঢালাও মন্তব্যে আমার দ্বিমত আছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় জানি, এমন অনেক বিজ্ঞানী আছেন যারা ইসলামের মূল অনুশাসনগুলো মেনে চলেন, নিজেদের মুসলিম দাবী করেন, আবার সেই সাথে বিজ্ঞানীও বটেন। এদের একজন আমার শিক্ষক প্রফেসর মাসুদ আহমেদ (ছবি আর কাজের বিবরণঃ http://www.amu.ac.in/dshowfacultydata.jsp?did=38&eid=3808) যার কাছে আমার জিনতত্ত্ব শিক্ষার হাতেখড়ি। নিজের বিষয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে। এমন উদাহরণ আরও দেয়া যাবে।

    আসলে কে মুসলিম আর কে মুসলিম নয় তা বাইরে থেকে বিচার করাটাও জটিল। আবার মানুষের ধর্ম-বিশ্বাসের সাথে তার পেশা বা নেশার যোগাযোগ সবসময় সরলরৈখিক হবে এমন মনে করারও কোন কারন নেই। প্রথাগত ধর্মগুলো বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল যা অপরিবর্তনীয়, অন্যদিকে বিজ্ঞান নির্ভর করে পরীক্ষালব্ধ তথ্যের যুক্তিসঙ্গত বিশ্লেষণের উপর; কাজেই শেষ পর্যন্ত ধর্ম আর বিজ্ঞানের সংঘাত এড়ানো মুশকিল। তারপরেও আংশিক বা পুরোপুরি ধর্মবিশ্বাসী বিজ্ঞানীর অভাব নেই। এনারা কোন একভাবে দুটি পরস্পর বিরোধী ধারাকে একসাথে ধারণ করছেন, যা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তবে আপনার আলোচনার বিষয়বস্তু কেবল মুসলিম নয় সব ধর্মবিশ্বাসীদের জন্যই প্রযোজ্য।

Leave A Comment