আমাদের পশ্চিম বঙ্গের দিকে হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে আদানপ্রদান মেলামেশা একদম নেই । যদিও হিন্দুদের নিয়ে মুসলিমদের অভিজ্ঞতা বেশ তিক্ত-কারন অধিকাংশ হিন্দুই কোন না কোন সময় মুসলিমদের বাড়ি ভাড়া দিতে বা গাড়ি ভাড়া দিতে অস্বীকার করেন। অনেকে ঘৃণার কারনে মেলামেশা করতে চান না । মোদ্দা কথা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি হিন্দুদের ঘৃণা অতিরিক্ত রকমের বেশী এবং তা মানুষত্বের, সভ্যতার অপমান।

পাশাপাশি এই না মেলামেশার ফলে, সব থেকে বড়ক্ষতি মুসলমান মানসের সাথে হিন্দুদের একদম কোন পরিচয় নেই । মুসলমান মানসের সব থেকে দুর্বল দিক, নিজেদের ধর্মের ব্যপারে তাদের অযৌত্বিক অবস্থান। ইসলাম কেন- ধর্ম নিয়েই চর্চা করলে, যেকোন সুস্থ যুক্তিবাদি লোক অসুস্থ বোধ করবে। সুতরাং ধর্ম এবং নবীদের কঠোর সমালোচনা ছাড়া সুস্থ সমাজ বা রাষ্ট্র কোন কিছুই সম্ভব না । ইসলাম সহ সব ধর্মের ধর্মানুভূতির ওপর হাগামোতা নাকরতে পারলে সামনে আরো অনেক কালো সন্ত্রাসবাদি দিনের অপেক্ষা। কালোদিন এই জন্যেই আসবে যে মুসলমানদের ধর্মানুভূতির সুযোগ নিয়ে কিছু সুবিধাবাদি রাজনীতিবিদ দাঙ্গা লাগাবে-যাতে দাঙ্গার মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে তাদের কোষাগার লুন্ঠন করা সহজ হয়। যাতে আরো সহজে আদিবাসিদের অধিকার লঙ্ঘন করে দেশের সম্পদ লুঠ তরাজ করা যায়। উন্নয়নের রাজনীতি যারা করতেন, তারা ক্রমশ ব্যাকসিটে চলে যাচ্ছেন।

মুসলিম মানসিকতা বুঝতে, মার্ক জুকারবাগের সাম্প্রতিক স্টাটাসে মুসলিমদের কমেন্ট দেখুন। এরা নাকি “মডারেট” মুসলিম!! মার্ক খুব পরিস্কারভাবে বলেছেন ফেসবুক বাক স্বাধীনতার পক্ষে ছিল। থাকবে। এক্সিট্রিমিস্টদের কোন দাবীর কাছে ফেসবুক মাথা নোয়াবে না । ইসলাম নিয়ে কোন কটূ কথা বলেনি মার্ক। কিন্ত দেখুন ১০০% মুসলিম-যারা শিক্ষিত মডারেট, তারা মার্ককে খিস্তি মারছেন। তারা পরিস্কার জানিয়েছেন, তারা ইসলামের পক্ষে- বাক স্বাধীনতার পক্ষে না ।

হিন্দুদের মধ্যেও অনেকেই আছেন যারা বাক স্বাধীনতার পক্ষে না । হিন্দুত্বের পক্ষে। কিন্ত মুসলিমদের ক্ষেত্রে যেখানে সংখ্যাটা ৯৫% এর কাছাকাছি, হিন্দুদের ক্ষেত্রে সেটা ৫০-৬০% হবে। সুতরাং হিন্দু সমাজের মধ্যে থেকে লিব্যারাল লড়াইটা যাও বা করা চলে, ইসলামের বিরুদ্ধে করাটা অসম্ভব। কারন খুব মুস্টিমেয় কিছু মুসলিম আছেন, যারা তাদের ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস পাচ্ছেন। বা চান। ফলে সন্ত্রাসবাদি আর মৌলবাদিরাই আজ ইসলামের মুখ। আগা খানের দানশীলতা বা জালালুদ্দিন রুমির মানবিকতা ইসলামের মুখ না ।

মোদি ক্ষমতায় আসার পর এটা আর কোন তাত্ত্বিক লড়াই নেই । আচ্ছাদিন আসা ত দূরে কথা, লুঠেরাদের আচ্ছেদিন করার জন্য সব বিল অর্ডিন্যান্স আসছে। সব জায়গায় জিতছে বিজেপি। কারন ইসলামের ভয়টা বাস্তব। এই জন্যেই বাস্তব যে সোকলড এই মডারেট মুসলিমদের সাথে জঙ্গী বা মৌলবাদি মুসলিমদের মানসিকতায় কোন পার্থক্য নেই । সুতরাং স্বধর্মে নিধন শ্রেয় সেই মানসিকতায় ইচ্ছায়, অনিচ্ছায়, লোকে বিজেপিকেই ভোট দিচ্ছে। বামেদের কেও পাত্তা দিচ্ছে না ।

সুতরাং বাম লিব্যারাল শক্তি যদি বাঁচতে চায়, ইসলামের কঠোর এবং সামনাসামনি সমালোচনা করা ছাড়া কোন উপায় নেই । ইসলামিক মৌলবাদ না ঠেকাতে পারলে, কারুর সাধ্যি নেই মোদিকে ঠেকানোর। এটা বুঝতে হবে।

আর ইসলামের বিরুদ্ধে এই লড়াইএর অনুপ্রেরনা যদি কেও হতে পারেন-তিনি হজরত মহম্মদ নিজে ( যদিও তার জীবনীর প্রায় সবটাই কাল্পনিক) । ওই সময় মক্কাতে যারা শাসক দল ছিল, তারা ধর্মকে কাজে লাগিয়ে মক্কা-সিরিয়া ব্যবসার ওপর সম্পূর্ন কব্জা রেখেছিল। ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর কর এবং সুদের হার বাড়িয়ে যাচ্ছিল। যার প্রতিবাদে এক আর্থসামাজিক আন্দোলন হিসাবে ইসলামের জন্ম হয়। হজরত মহম্মদ নিজে প্রানের ভয়কে উপেক্ষা করে মক্কার স্বার্থান্বেশী গোষ্ঠি এবং তাদের ধর্মের ভ্রান্তির বিরুদ্ধে বলেছিলেন। শেষে লড়েছিলেন। সমসায়মিক ধর্ম যে মিথ্যা, তা যে শাসক গোষ্টির লুন্ঠন এবং লাম্পট্যের সহায় যেটা বলতে কি তিনি ভয় পেয়েছিলেন? তাহলে ইসলাম সহ সব ধর্মই যে আজ শাসক শ্রেনীর লুন্ঠনের হাতিয়ার এবং সম্পূর্ন কাল্পনিক গল্প-এটা বলতে আমরাই বা ভয় পাব কেন?

আজ ইসলামের মধ্যে দ্বিতীয় এক হজরত মহম্মদ দরকার যিনি দেখতে পাবেন ইসলাম এবং মুসলিমদের ধর্মানুভূতি কাজে লাগিয়ে সবাই রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে লুঠতরাজ করছে । সুতরাং ইসলামের অচলায়তনে আঘাত না করলে, মহম্মদের জীবনের এসেন্সটাই নষ্ট হবে।

জুকারবার্গের স্টাটাস ঃhttps://www.facebook.com/zuck?fref=ts

9 Comments

  1. ইসলামিক মৌলবাদ না ঠেকাতে পারলে, কারুর সাধ্যি নেই মোদিকে ঠেকানোর। এটা বুঝতে হবে। আর ইসলামের বিরুদ্ধে এই লড়াইএর অনুপ্রেরনা যদি কেও হতে পারেন-তিনি হজরত মহম্মদ নিজে ( যদিও তার জীবনীর প্রায় সবটাই কাল্পনিক) ।

    না বিপ্লবদা, আমার মনে হয় ইসলামকে আঘাত করে নয়, বা ইসলামী মৌলবাদকে ঠেকানো নয়। বরং মানুষের চিন্তার ঋজুতাকে কি করে ফিরিয়ে আনা যায়, কি করে মানুষকে যুক্তিনির্ভর করা যায সেই উপাযটা উদ্ভাবন করা দরকার। সরাসরি মৌলবাদকে ঠেকাতে গেলে সঙ্ঘাৎ অনিবার্য। উগ্রতাকে উস্কে দেবার মতো ব্যাপার ঘটবে। যা ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। এখন থেকেই মানুষের বিবেকের দরজায ক্রমাগত যুক্তির কড়াঘাত করা ছাড়া বিকল্প দেখছি না।

  2. কুমিড়াতে আছি January 9, 2015 at 9:31 pm - Reply

    ইহাই সত্যি ইহাই ঠিক

  3. লুনিক চৌধুরী January 10, 2015 at 2:28 am - Reply

    ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা দক্ষীণ এশীয়ার একটি বিশেষত্ব। কারণ নিরক্ষরতা। শিক্ষা ছাড়া মুসলিম/হিন্দু মৌলবাদ বা কাস্ট সিস্টেম দূর করা যাবে না।

  4. আযাবর January 10, 2015 at 9:40 am - Reply

    “আগা খানের দানশীলতা বা জালালুদ্দিন রুমির মানবিকতা ইসলামের মুখ না ।”

    এনারা কেউই ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা নন। এরা কিভাবে ইসলামের মুখ হতে পারবে। বেশীরভাগ মুসলিম মানস আল্লার ভয়ে ভীত। এটা একটা মানসিক রোগ। সহজে ছাড়ার নয়। মুসলিম ঘরে শিশুদের মাথায় এই ভয় মাতৃভাষা শেখানোর মতন করে ঢুকে যায়। যা পরে বার করা যায়না।

  5. অনিন্দ্য পাল January 10, 2015 at 2:25 pm - Reply

    @ বিপ্লব পাল,
    দুখের বিষয় এইটাই যে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষর চর্চা কেউ করলো না। এমনকি বামেরাও না। উত্তর প্রদেশের একজন সাংসদ সংসদ শেষ হলে জাতীয় সঙ্গীতের মাঝখানেই উঠে চলে গেলেন এই বলে যে আল্লাহ ছাড়া তিনি আর কারো কাছে মাথা নত করেন না এই অজুহাতে। কোনো রাজনৈতিক দল তাকে নিন্দা করলেন না। এমন কি বামেরাও না। আবার এই বামেরা বিখ্যাত মুসলিম চিত্রকর মকবুল ফিদা হোসেনের সমর্থনে পাশে দাড়ালো কিন্তু তসলিমার পাশে দাড়ালো না। উদাহরণ অজস্র আছে । মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে বলুন ?

  6. শিজি সেঁজুতি January 10, 2015 at 4:47 pm - Reply

    এটা ঠিক ইসলামের মধ্যে যারা তাদেরকেই এই অচলায়তন ভাঙতে হবে। শুধুমাত্র তাত্বিক আলোচনা মুসলমানদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারবে না। যেভাবেই হোক ইসলামের সমালোচনা বহমান রাখা প্রয়োজন। মহানবীকে মহামানব করতে তাঁর চরিত্রের অন্ধকার দিকগুলোকে মুছে ফেলা প্রয়োজন। মোহাম্মদ মিথকে যেভাবে অংকিত করা হয়েছে তাতে এই কাজটা খুব কঠিন সন্দেহ নেই। সবরকম সমালোচনার পথ বন্ধ ইসলামে। ইসলামের প্রচারকরা ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটা করেছে যাতে করে তাঁদের স্বার্থ চিরজীবন অটুট থাকে। ১৪০০ বছর আগের মোহাম্মদকে ঠিক সেভাবে অনুসরণ করা মানে মুসলমানদের সেই ১৪০০ বছর আগেই রয়ে যাওয়া। মানুষকে প্রাচীন কারাগারে আটকে রাখার সব চাইতে নিষ্ঠুর কৌশলের নাম ইসলাম।

  7. তানভির January 11, 2015 at 3:09 am - Reply

    মুসলমানে সভ্য সমাজের হাড় জ্বালালো দেখছি। বিশ্বাসের কারণে রক্তপাতের দুর্নাম সব বড় ধর্মেরই আছে, তবে বিংশ শতাব্দীতে এসে কেবল মুসলমান ছাড়া অন্য সবাই এই বর্বরতা থেকে বিরত আছে। সভ্য সমাজের বিরুদ্ধে মুসলমানদের এই লড়াইয়ের দুটো নোংরা দিক আছে। এক হোল এরা নিরস্ত্র অপ্রস্তুত বেসামরিক মানুষের পেছন থেকে ছুরি মারে। দুই হোল সভ্য বিশ্বের ননি-মাখনের জাগতিক প্রলোভনে তাঁরা সেখানে হাজির হয় আর সেই সমাজের স্পিরিট ধারণ করবার যোগ্যতা অর্জন না করেই সেখানকার সমস্ত সুবিধা ও নিরাপত্তা দাবী করে। এবং তাদেরকেই পেছন থেকে ছুরি মারবার পরিকল্পনা করে। মুসলমানের ধর্মবোধ এতই বিকৃত যে তাঁরা যে দেশের মানুষকে খুন করবার পরিকল্পনা করে সে দেশে আসবার জন্যে তাঁরা ব্যাপকহারে মিথ্যাচার, জালিয়াতি, ও অন্যান্য অসৎ উপায় অবলম্বন করে থাকে।
    কিন্তু উন্মত্তের মতো নরহত্যা করে বেড়াচ্ছে যারা তারাও তো মরছে ঝাঁকে ঝাঁকে। তালেবানি আক্রমণগুলো বেশিরভাগই চালায় আত্বঘাতি বোমাবাজরা। আল কায়েদার যে সদস্যগুলো টুইন টাওয়ারে হামলা চালিয়েছিল তাঁরা নিজেদের জীবন দিয়েই তা করেছিলো। আত্মঘাতি হামলাকারী আমরা বাংলাদেশেও দেখেছি। যে পাকি-সন্ত্রাসীরা বোম্বেতে গণহত্যা চালিয়েছিল তাঁদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই আক্রমণ চলাকালীনই মারা গিয়েছিলো। বেঁচে যে গিয়েছিলো তাকেও পরে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। যে ইসলামী হামলাগুলো আত্বঘাতি নয় সেখানেও বেশীরভাগ হামলাকারী মারা যায়। আইসিসের যে যোদ্ধারা খেলাফত প্রতিষ্ঠার অলীক স্বপ্ন দেখছে তাঁদের নিজেদের জীবনও নিরাপদ নয়। তারাও মারা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে।
    এই আত্মঘাতি হামলাকারীরা কতকগুলো জরুরী প্রশ্ন উসকে দেয়। এরা কারা? কেন এরা মনে করছে তাঁদের নিজেদের জীবনটা বাঁচিয়ে রাখবার মতো মুল্যবান নয়? কেন নিজেদের জীবন দিয়ে দিতে হবে, মানুষকে বাঁচাবার মহৎ উদ্দেশ্যে নয়, বরং মানুষ মারবার ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে? কোথা থেকে এই শিক্ষা পাচ্ছে তাঁরা? এদেরকে থামানোর উপায় কি?
    ধর্মীয় পরিচয়ে ব্যাতিক্রমহীনভাবে এরা সবাই মুসলমান। জাতীয় পরিচয়ে এরা ব্যাপকহারে পাকিস্তানী ও আফগান, বহুল সংখ্যায় আরব, কিছু সোমালিয়, কিছু চেচেন, কিছু ইন্দোনেশীয়, বাংলাদেশি, ও ভারতীয়। এরা ইসলামে দৃঢ় বিশ্বাসী। কিন্তু ইসলাম ব্যাপারটা কি? এই ধর্মের ন্যুনতম সংজ্ঞা হোল আল্লার কর্তৃত্ব মেনে নেয়া আর তাঁর প্রতিভূ হিসেবে মহাম্মদকে স্বীকার করা। কিন্তু এটুকু করবার সাথে সাথেই ইসলাম তার সর্বগ্রাসী দাবিদাওয়া পেশ করে। ইসলামের অসংখ্য দাবীর যে কোনটা উপেক্ষা করা মানেই আল্লার সার্বভৌমত্ব ও আল্লার তরফে মহাম্মদের কর্তৃত্ব খাটো করা। অর্থাৎ কিনা ইমান দুর্বল হয়ে যাওয়া। ইসলাম ধর্মে গভীর বিশ্বাসীদের কাছে ইমান দুর্বল হওয়ার বড় কোন অপরাধ নেই। ইসলামের দাবীসকল মুমিন মুসলমানের কাছে পৌঁছানোর সাথে সাথেই তাঁরা সেগুলো পালন করবার জন্যে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন। এই দাবিনামা বিবৃত আছে কুরান ও হাদিস জুড়ে। কুরান বেশ বড় সাইজের একটা বই। প্রতি পৃষ্ঠায় একটা করে দাবির উল্লেখ থাকলেও কয়েকশো দাবী মেনে নিতে হয়। তবে কি না অনেকগুলো দাবীই একাধিকবার বিবৃত হয়েছে আর অনেকগুলোই একটা আরেকটার সাথে সাংঘর্ষিক। দাবিগুলোর কয়েকটা নমুনা দেখা যাক।
    এক জায়গায় বলা হয়েছে “তারা বলে আমরা (আল্লা ও মহাম্মদের প্রতি) অনুগত। কিন্তু দূরে গেলেই তাদের মধ্যে একদল ষড়যন্ত্র করতে শুরু করে। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের থেকে দূরে থাকো (অর্থাৎ তাদের শাস্তি দিও না)। আর আল্লার ওপর ভরসা রাখো। আল্লা সবকিছু করতে সক্ষম”। (কুরান ৪ঃ৮১; সুরা নিসা) [কোটেশনের অন্তর্ভুক্ত প্যারেন্থিসিসের মধ্যের কথাগুলো আমার নয়। মদিনার বাদশা ফাহাদ ইন্সটিটিউটের করা কুরানের ইংরেজি অনুবাদের]
    অন্যত্র বলা হয়েছে “তোমরা যদি যুদ্ধে তাদের ওপর প্রভুত্ব করতে সক্ষম হও তাহলে তাঁদেরকে কঠিন শাস্তি দিও যেন তাদের পেছনে যারা আছে তারা পালিয়ে যায়, আর তারা একটা শিক্ষা পায়”। (কুরান ৮ঃ৫৭; সুরা আল-আনফাল)
    একবার বলা হোল ষড়যন্ত্রকারীদের কিছু বোলো না, আবার বলা হোল তাঁদেরকে কঠিন সাজা দাও। মজার কথা অন্য এক জায়গায় বলা হয়েছে “এটা (কুরান) যদি আল্লা ছাড়া অন্য কেউ লিখত তাহলে কি এর মধ্যে তারা অনেক স্ববিরোধিতা খুজে পেত না”? (কুরান ৪ঃ৮২; সুরা নিসা)
    স্ববিরোধিতা আছে আরও। “ও বিশ্বাসীরা, তোমরা তোমাদের ধর্মের বাইরে কাউকে বন্ধু হিসেবে নিও না (ইহুদি, খ্রিষ্টান, ও পাগানদের কাউকে), কারণ তারা তোমাদেরকে নষ্ট করবার সর্বচ্চ চেষ্টাই করবে। তারা ইতোমধ্যে মুখে তোমাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করেছে। কিন্তু তাদের মনের মধ্যে যা আছে তা আরও ভয়ঙ্কর”। (কুরান ৩ঃ১১৮; সুরা ইমরান) মোহাম্মদের পরের কথাটা মুসলমানদেরকে নিশ্চিত বিপদে ফেলে “অবশ্যই তোমরা সবচে’ ভালো বন্ধু পাবে তাদের মধ্যে থেকে যারা বলে ‘আমরা খ্রিষ্টান’, কারণ তাদের মধ্যে আছে সাধু ও ধরমগুরুরা”। (৫ঃ৮২; সুরা মা’ইদাহ)
    বহুবার বলা হয়েছে মোহাম্মদ কেবলমাত্র একজন সংবাদবাহক। আল্লার বানী বহন করে আনবার জন্যে তিনি কোন মজুরী দাবী করেন না। (২৩ঃ৭২) অথচ বলা হোল যুদ্ধে পাওয়া সম্পদের (গনিমতের মাল) একটা অংশ মোহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের প্রাপ্য। (৮ঃ৪১) বলা হোল বিধর্মীরা যে ইশ্বরের পুজা করেন অসম্মান করো না, পাছে তারাও তোমার ঈশ্বরকে অসম্মান করে। (৬ঃ১০৮) অথচ খোদ মোহাম্মদই তাদের ঈশ্বরকে অসম্মান করেন। (২২ঃ৭৪)
    উদাহরণগুলো দেয়ার উদ্দেশ্য এটা দেখানো যে কুরান কোন ঐশ্বরিক বই নয়। কুরানের বাণীগুলো মহাম্মদের সৃষ্টি, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনের তাগিদে। মোহাম্মদ জানতেন তাঁর নিজের গ্রহণযোগ্যতা খুব বেশী নয়। তাই সে বাণীগুলো তিনি সেগুলো ইশ্বরের নামে চালিয়েছিলেন। মহাম্মদের মৃত্যুর পর যখন সেগুলো গ্রন্থিবদ্ধ করা হোল তখন তাদের অসঙ্গতিগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে। তবে ততদিনে ইসলামী সাম্রাজ্য দাঁড়িয়ে গেছে। ফলে মুসলিম শাসকেরা কুরানের বিরোধিতাগুলো কঠোর হাতে দমন করতে পেরেছিলেন। কুরানের শাসন জারি থাকার ফলে প্রাপ্ত জাগতিক ননি-মাখনের স্বাদ ততদিনে তারা বুঝে ফেলেছেন।
    এই উপমহাদেশে ইসলাম এনেছিলো ফার্সিভাষীরা। মুঘলরা (এরা ছিল ফার্সিভাষী) প্রতিষ্ঠা করেছিলো সাম্রাজ্য আর তাতে সুগম হয়েছিলো ফার্সি সূফীদের আগমন ও ধর্মপ্রচার। সূফীরা আরবদের মতো কঠোর প্রকৃতির ছিলেন না। ফলে কুরানের কঠোর বিধিগুলোর ব্যাপারে নীরব থেকে এর শান্তির বানীগুলোই তাঁরা ধর্মপ্রচারের হাতিয়ার করেছিলেন। ফলে এই উপমহাদেশে ইসলাম শান্তির ধর্ম হিসেবে নাম করে। কাজী নজরুল ইসলাম যে মহাম্মদকে শান্তির প্রবর্তক হিসেবে চিত্রিত করে গেছেন তা এই সূফীদের প্রভাবেই। পরে খ্রিষ্টান মিশনারিরাও একই কৌশল ব্যাবহার করেছিলেন। বাইবেলের বর্বর কথাগুলো ঢেকে রেখে এর ভালো অংশগুলো মিষ্টি কথায় তাঁরা প্রচার করেন।
    ইসলাম যে শান্তির ধর্ম এটা একটা মিথ। তা হোক, বেশীরভাগ মুসলমান এটাকে সত্যি বলে মনে করে। অন্তত এতদিন তাই করত। এই ধর্মটাকে খুনখারাবির কাজে ব্যাবহারের প্রবৃত্তি বেশিরভাগেরই ছিল না। কিন্তু এই প্রবণতাটা পালটাচ্ছে। ক্রমশ বেশী সংখ্যক মুসলমান মনে করছে ইসলামের খাতিরে মানুষ খুন করাটা জরুরী, এতই জরুরী যে নিজের জীবন রক্ষা করাটাও ততটা নয়। এই প্রবনতা শুরু হোল কেন?
    এখন মৃত্যু ব্যাপারটা সংক্ষেপে আলোচনা করে নেয়াটা প্রয়োজন। আমার দৃষ্টিতে মৃত্যু হচ্ছে দুনিয়াতে আমাদের সজ্ঞান উপস্থিতির চূড়ান্ত সমাপ্তি। আরও অনেকের দৃষ্টিতেও তাই। কিন্তু ধর্মের দৃষ্টিতে? সেমেতিক ধর্মগুলো টিকে আছে পরকালের ধারণার ওপর ভিত্তি করে। পরকালে একটা স্বর্গ আছে ও একটা নরক আছে। আমাদের ইহকালের করমফলের বিচার করে ইশ্বর আমাদেরকে স্বর্গ অথবা নরক মঞ্জুর করবেন। মৃত্যু তাই ধার্মিকদের মতে ইহকাল থেকে পরকালে প্রবেশের দরজা মাত্র, জীবনের শেষ নয়। কারণ অনন্ত জীবন আছে ওপারেই। ইসলাম ধর্মে এই হাইপোথিসিসটা খুব জর গলায় ঘোষণা করা হয়েছে। “যারা ইশ্বরের পথে লড়াইয়ে নিহত হয়েছে তাঁদেরকে মৃত ভেব না। না, তাঁরা তাদের প্রভুর সাথে আছে এবং প্রভুর নিয়ামত ভোগ করছে। আল্লা তার রহমত থেকে তাঁদেরকে যা দিয়েছেন তাঁরা সেটা তাদের নিজের জন্যে এবং তাদের যে বন্ধুরা এখনও তাদের সাথে স্বর্গে যোগ দেয়নি (অর্থাৎ এখনও শহীদ হয় নি) তাদের পক্ষে উপভোগ করছে। কোন ভয় ও দুঃখ তাদের কাছে আসবে না। তাঁরা উপভোগ করছে আল্লার রহমত ও নিয়ামত এবং আল্লা বিশ্বাসীদেরকে দেয়া কোন প্রতিশ্রুতি নষ্ট করবেন না”। (কুরান ৩ঃ১৬৯-১৭১; সুরা ইমরান) এখন যে মানুষটা গভীরভাবে ইসলামে বিশ্বাস করে, বিশ্বাস করে স্বর্গে ও নরকে, বিশ্বাস করে ইশ্বরে এবং ইশ্বরের পক্ষে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তায়, আর অবিশ্বাস করে মৃত্যুতে তার অত্মঘাতি জেহাদি হওয়াই আর কি বাঁধা থাকলো?
    একটা ছোট বাঁধা অবশ্য আছে। আর সেই কারনেই বেশীরভাগ মুসলমানই এখনও জেহাদি নয়। মুসলমান (কিম্বা যে কোন ধর্মের অনুসারী) হওয়া চলে জন্মসূত্রে। আমি নিজেও সেভাবেই মুসলমান ছিলাম। কিন্তু কুরানের মর্মার্থ জন্মসূত্রে জ্ঞাত হওয়া যায়না। ওটা পড়ে বা শুনে জানতে হয়। কুরান তেলাওয়াত করে নয়। ওটা অর্থহীন কাজ। আমি বার/তের বছর বয়সেই আগাগোড়া কুরান তেলাওয়াত করে ফেলেছি এক বর্ণ না বুঝেই। ধারনা করা যায় শিক্ষার হার কম এমন দেশ/অঞ্চলের মানুষের ইসলামী জ্ঞান তাই কুরান/হাদিস থেকে সরাসরি আহরিত নয়। এটা আসে মোল্লাদের ওয়াজ থেকে অথবা আশপাশের মানুষের কাছ থেকে শুনে। এই উৎসগুলো যে কোন বিষয়ের কেবল খণ্ডিত জ্ঞানই দিতে পারে। কোন ধরণের জ্ঞান দেওয়া হবে তা নির্ভর করে উৎসের উদ্দেশ্যের ওপর। আমাদের স্কুলের ইস্লামিয়াত বইয়ের পরিকল্পকদের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবে জাহির করা। ফলে ওই বইগুলোতে কুরান/হাদিসের শান্তির বাণীগুলো জায়গা পেয়েছিলো। আফগানিস্তানে নাস্তিক সোভিয়েতদের দখল রদ করতে জেহাদি মুসলিমদের। আমেরিকার সাহায্যে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী (আইএসআই) তাই সত্তর/আশির দশকে তৈরি করে মুজাহিদিন। আইএসআইয়ের উদ্দেশ্য ছিল মারদাঙ্গা লড়াকু তৈরি করা। যে সরলপ্রাণ অশিক্ষিত বা অল্পশিক্ষিত আফগানরা মুজাহিদিন হয়েছিলো তাঁরা তাই দেখেছিল ইসলামের জঙ্গি চেহারা। বাংলাদেশের জামাতিরাও ধৌত হয়েছিলো ইসলামের জঙ্গি শিক্ষায়। কারণ ওদের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে বাঙালি খতম করে ইসলামী রাজত্ব ওরফে পাকি-সেনাশাসন কায়েম করা। জেহাদি চেতনায় উদ্বুদ্ধ অল্পশিক্ষিত মুসলিম তরুণদের উপযোগিতা উপলব্ধি করেছিলেন ওসামা বিন লাদেনও। তাঁর আমেরিকা বিরোধী লড়াইয়ে এঁদের ব্যাপক সার্ভিস পেয়েছিলেন তিনি। এরা খুব ভালো একটা জীবন্ত হাতিয়ার। সোভিয়েতরা আফগানিস্তান ত্যাগ করলেও আইএসআই হাতিয়ারটা ছাড়েনি। ওটাকে কাশ্মিরে বা ভারতের অন্যান্য জায়গায় ব্যাবহারের ভালো সম্ভাবনা দেখতে পেরেছিল তারা। এঁদের হাতে অবশ্য পাকিস্তানের বেসামরিক মানুষের রক্ত ঝরেছিল বহুবার। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যারা নিজেদেরকে দেশটার মালিক ভাবে তাদের কাছে বেসামরিক প্রাণ খুব দামী কোন বস্তু নয়। জামাত/বিএনপির শাসনামলে আইএসআই বাংলাদেশকেও ব্যাবহার করতে পেরেছিল জেহাদি মুসলিম তৈরি করতে। দেশ জুড়ে ব্যাপক সংখ্যক মাদ্রাসা গড়ে উঠেছিল গরিবের সন্তানদের জেহাদি শিক্ষা দিতে।
    অর্থাৎ জেহাদি মুসলমান আপনা থেকে তৈরি হয় না। তাঁদেরকে তৈরি করতে হয় পরিকল্পিতভাবে। এর জন্যে বাজেট এবং জেহাদি শিক্ষা প্রকল্পের অস্তিত্ব থাকতে হয়। যে সব মুসলমানরা দুনিয়া জুড়ে মানুষ মেরে বেড়াচ্ছে এবং নিজেরা মরছে তাদের এক বা একাধিক জন্মদাতা আছে। একজনকে আমরা চিনি। পাকিস্তানের আইএসআই। ইরাক/সিরিয়ার আইসিস হচ্ছে সৌদি পরিকল্পনায় তৈরি বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী বাহিনীর রূপান্তরিত চেহারা। বাশার একনায়ক হলেও ছিলেন জনপ্রিয়। তাই বিদ্রোহীরা নিষ্ঠুরতার চূড়ান্ত করেও ব্যর্থ হয়। বাশার ছিলেন রাশিয়া ও ইরানের বন্ধু। তাই এই কাজে পশ্চিমকে সাথে পেতে সৌদি আরবের কোন কষ্ট হয় নি। এখন পশ্চিমা বিশ্ব বুঝতে পারছে সৌদি আরবকে সমর্থন করার যন্ত্রণা। কিন্তু আইসিস ততদিনে অনেক বড় হয়ে উঠেছে। মজা হোল যে ইসলামী সন্ত্রাস পশ্চিমকে অস্বস্তিতে ফেলছে তার দুই পরিচিত জন্মদাতাই পশ্চিমের বন্ধু। পাকিস্তান আর সৌদি আরব। অতি সম্প্রতি জন কেরি ঘোষণা দিলেন যে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী ভূমিকায় তিনি মুগ্ধ এবং পাকিস্তান আরও আমেরিকান সাহায্যের প্রাপ্য হচ্ছে।
    আমার মনে হয় এখন আমরা জানি কারা এই সন্ত্রাসীরা এবং কেন তারা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও অন্যদেরকে খুন করার উৎসাহ পাচ্ছে। কোথা থেকে এই উৎসাহ আসছে সেটাও আমরা আলোচনা করলাম। সৌদি আরব পাকিস্তান হচ্ছে পালের গোদা। তারা জামাতি ইস্লামির মতো ছোট ছোট আঞ্চলিক এজেন্ট পোষে। মুসলিম সন্ত্রাস থামানোর উপায় হচ্ছে সন্ত্রাসীদের সৃষ্টিকর্তাকে থামানো। কিন্তু মনে হচ্ছে না পাকিস্তান বা সৌদি আরবকে কেউ থামাতে চাইছে। বরং ও দুটো দেশই শক্তিমান পশ্চিমা বিশ্বের বন্ধু। তাই আমাদেরকে অনির্দিষ্টকাল জেহাদ দেখে যেতে হবে।

  8. চলেপথিক January 12, 2015 at 1:53 pm - Reply

    ৭ম শতাব্দীতে ইসলামের আলেকজান্দ্রিয়া বিজয়ের পর এমন কথা প্রচলিত ছিল যে হজরত উমর বলিতেছেন ক/ আলেকজান্দ্রিয়া পুস্তকালয়ে যে লক্ষ্য লক্ষ্য পুস্তক সঞ্চিত আছে সে গুলি যদি আল- কুরআনে নিহিত জ্ঞানরাশির অতিরিক্ত কিছু না দেয় তবে সে গুলি বাহুল্য মাত্র । খ/ আর ঐ সকল পুস্তক যদি কুরআনের বাহিরে কোন জ্ঞান যদি মানুষকে শিক্ষা দেয় তবে ঐ গুলি হারাম । তবে কোন ভাবেই ঐ গুলি বাঁচাইয়া রাখা যায় না ।
    ইসলামের মূল সমস্যাটাই এই যায়গায়, কুরআন আর হাদিস ব্যতিত আর কোন জ্ঞান অর্জন ইসলামের আলেম সমাজ পছন্দ করেনা । কারণ জ্ঞান মানুষকে যুক্তিবাদী করে তুলে এতে ধর্মের অসারতা খুব সহজেই প্রমান হয়ে যাবে এ ভয়ে । এর উৎকৃষ্ট প্রমান হছে ৯ম শতাব্দীর মুসলিম তরুণরা তখন কেবল মাত্র লজিক ও বিজ্ঞান সম্মত প্রমাণকেই সত্যাসত্য নির্ধারনের কষ্টি পাথর বলে নির্ধারণ করেছিলেন । তাঁদের চিন্তার বৈশিষ্ঠ ছিল প্রমানিগতা যা প্রমানিত হয় না এমন কিছুই গ্রহণ করতে তারা প্রস্তুত ছিলেন না ।
    তাদের মধ্য অন্যতমরা ছিলেন আল-কেন্দী, আল-ফারাবী, আবু-সিনা, উমর খৈয়াম, ইবনে রুশদ,
    প্রমুখ পণ্ডিতগণ । সে সময়কার শরীয়ত-পন্থী শাস্ত্রকারদের দ্বারা তারা নানান ভাবে লাঞ্চনা ও দুর্ভোগের শিকার হয়ে ছিলেন । কিন্তু এ সকল বিপদ তারা গ্রাজ্য করতেন না, যা প্রমানিত হয়না এমন কিছু তারা গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলেন না । মুসলিম দার্শনিকদের এই মনোবল কোথা থেকে
    আসলো তা অনুসন্ধান করলে দেখা যায় ,তাদের সাংসারিক জীবন যাত্রার প্রণালীতেই এর কারণ নিহিত রয়েছে । এ সকল দার্শনিকরা কেউ যাজক শ্রেণীর ছিলেন না । এদের অধিকাংশই হাকিম
    ছিলেন এবং চিকিৎসা সেবা দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করতেন ।
    সে সময় শরীয়ত পন্থীদের কু-কর্মই মুসলমানদের জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চাকে থামিয়ে দিয়ে ছিল । যার পরিণতিই হচ্ছে আজকের এই মৌলবাদের আস্ফালন , এদের থামাতেই হবে ।

  9. মানবিক মানব January 28, 2015 at 5:16 pm - Reply

    কিন্ত দেখুন ১০০% মুসলিম-যারা শিক্ষিত মডারেট, তারা মার্ককে খিস্তি মারছেন। তারা পরিস্কার জানিয়েছেন, তারা ইসলামের পক্ষে- বাক স্বাধীনতার পক্ষে না ।

    মুসলমানরা একটু গোঁড়ামীপূর্ন মানুষ । এরা নিজেদের চিন্তা ভাবনার বাইরে যেতেই পারে না । তারা নিজেরা যেটা বুঝে সেটাকেই পরম সত্য মনে করে । এটা তাদের ধর্মের ক্ষেত্রে প্রকট । এই গোঁড়ামীটাই বড় সমস্যা । এরা তাদের ধর্মীয় গোঁড়ামীর বাইরেও আসতে পারবে না, তাই সন্ত্রাসীপনা থেকেও মুক্তি মিলবে না ।
    স্বাধারণ মুসলমানগুলো তাও একটু উদার ও মানবিক; কিন্তু মাদ্রাসার মুসলমানগুলো ১০০% গোঁড়ামীপূর্ন এবং সাম্প্রদায়িক । এরা দৈনন্দিন স্বাধারণ ব্যাপারগুলোতেই তাদের গোঁড়ামী দেখায় । সব সময়ই একটা রগ ত্যাঁড়া থাকে এদের । আর ধর্মের ব্যাপারে এরা শতভাগ উগ্রতা দেখায় ।
    এই মানষিকতা থেকে এদের বের করে না আনতে পারলে বাকী স্বাধারণ মুসলমানদেরও সমস্যা । কারণ তারা ঝামেলা চায় না, শান্ত ভাবে তাদের ধর্ম কর্ম করতে পারলেই বাঁচে ।
    স্বাধারণ মুসলমানদের নিয়ে কোন সমস্যা নেই কিন্তু এই গোঁড়ামীপূর্ন মুসলমানগুলোকে নিয়েই যত সমস্যা ।

Leave A Comment